০০২. সূরাঃ বাকারাহ

আয়াত নং অবতীর্ণঃ মদিনা
আয়াত সংখ্যাঃ ২৮
রুকূঃ ৪০
০০১ الم
আলিফ-লাম-মীম
০০২ ذَٰلِكَ الْكِتَابُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ
এটা ঐ গ্রন্থ যার মধ্যে কোনরূপ সন্দেহ নেই; আল্লাহ ভীরুদের (পরহেজগারদের) জন্যে এ গ্রন্থ হিদায়াত বা মুক্তিপথের দিশারী।
০০৩ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْغَيْبِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَمِمَّا رَزَقْنَاهُمْ يُنفِقُونَ
যারা অ-দৃষ্ট বিষয়গুলোতে বিশ্বাস স্থাপন করে, এবং নামায প্রতিষ্ঠিত করে ও আমি তাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা হতে ব্যয় করে থাকে।
০০৪ وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ وَبِالْآخِرَةِ هُمْ يُوقِنُونَ
এবং যারা তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ করা হয়েছে ও তোমার পূর্বে যা অবতীর্ণ করা হয়েছিল, তদ্বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং পরকালের প্রতি যারা দৃঢ় বিশ্বাস রাখে।
০০৫ أُولَـٰئِكَ عَلَىٰ هُدًى مِّن رَّبِّهِمْ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
এরাই তাদের প্রভুর পক্ষ হতে প্রাপ্ত হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং এরাই সফলকাম।
০০৬ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا سَوَاءٌ عَلَيْهِمْ أَأَنذَرْتَهُمْ أَمْ لَمْ تُنذِرْهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
নিশ্চয় যারা অবিশ্বাস করেছে, তাদেরকে তুমি সতর্ক কর বা না কর, উভয়টা তাদের জন্যে সমান, তারা বিশ্বাস স্থাপন করবে না।
০০৭ خَتَمَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَعَلَىٰ سَمْعِهِمْ ۖ وَعَلَىٰ أَبْصَارِهِمْ غِشَاوَةٌ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহের উপর ও তাদের কর্ণসমূহের উপর মোহরাংকিত করে দিয়েছেন এবং তাদের চক্ষুসমূহের উপর আবরণ পড়ে আছে এবং তাদের জন্য রয়েছে গুরুতর শাস্তি।
০০৮ وَمِنَ النَّاسِ مَن يَقُولُ آمَنَّا بِاللَّهِ وَبِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَمَا هُم بِمُؤْمِنِينَ
আর মানুষের মধ্যে এমন লোক আছে যারা বলে, আমরা আল্লাহর উপর এবং বিচার দিবসের উপর ঈমান এনেছি, অথচ তারা মোটেই ঈমানদার নয়।
০০৯ يُخَادِعُونَ اللَّهَ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَمَا يَخْدَعُونَ إِلَّا أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ
তারা আল্লাহ ও মু’মিনদের সঙ্গে প্রতারণা করে, প্রকৃত অর্থে তারা নিজেদের ব্যতীত আর কারও সঙ্গে প্রতারণা করে না, অথচ তারা এ সম্বন্ধে বোধি রাখে না।
০১০ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ فَزَادَهُمُ اللَّهُ مَرَضًا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ
তাদের অন্তরে ব্যাধি (রোগ) রয়েছে, উপরন্তু আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন এবং তাদের জন্যে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি রয়েছে যেহেতু তারা মিথ্যা বলতো।
০১১ وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ لَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ قَالُوا إِنَّمَا نَحْنُ مُصْلِحُونَ
এবং যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করো না তখন তারা বলে আমরা তো শুধু সংশোধনকারী।
০১২ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ الْمُفْسِدُونَ وَلَـٰكِن لَّا يَشْعُرُونَ
সাবধান! তারাই অশান্তি সৃষ্টিকারী; কিন্তু তারা বুঝে না।
০১৩ وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ آمِنُوا كَمَا آمَنَ النَّاسُ قَالُوا أَنُؤْمِنُ كَمَا آمَنَ السُّفَهَاءُ ۗ أَلَا إِنَّهُمْ هُمُ السُّفَهَاءُ وَلَـٰكِن لَّا يَعْلَمُونَ
এবং যখন তাদেরকে বলা হয়, লোকেরা যেরূপ ঈমান এনেছে তোমরাও অনুরূপ ঈমান আন; তখন তারা বলেঃ নির্বোধেরা যেরূপ ঈমান এনেছে আমরাও কি সেরূপ ঈমান আনবো? সাবধান! নিশ্চয় তারাই নির্বোধ কিন্তু তারা তারা অবগত নয়।
০১৪ وَإِذَا لَقُوا الَّذِينَ آمَنُوا قَالُوا آمَنَّا وَإِذَا خَلَوْا إِلَىٰ شَيَاطِينِهِمْ قَالُوا إِنَّا مَعَكُمْ إِنَّمَا نَحْنُ مُسْتَهْزِئُونَ
এবং যখন তারা মু’মিনদের সাথে মিলিত হয় তখন তারা বলেঃ আমরা ঈমান এনেছি এবং যখন তারা নিজেদের দলপতি ও দুষ্ট নেতাদের সাথে নির্জনে মিলিত হয়, তখন বলেঃ আমরা তোমাদের সঙ্গেই আছি, আমরা তো শুধু ঠাট্টা-বিদ্রুপ করে থাকি।
০১৫ اللَّهُ يَسْتَهْزِئُ بِهِمْ وَيَمُدُّهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ
আল্লাহ তাদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করছেন এবং তাদেরকে তাদের নিজেদের অবাধ্যতার মধ্যে বিভ্রান্ত হয়ে ফিরার জন্য ঢিল দেন।
০১৬ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ اشْتَرَوُا الضَّلَالَةَ بِالْهُدَىٰ فَمَا رَبِحَت تِّجَارَتُهُمْ وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ
এঁরা তারাই, যারা সুপথের পরিবর্তে বিপথকে ক্রয় করেছে, সুতরাং তাদের বানিজ্য লাভজনক হয়নি এবং তারা সঠিক-সরল পথে পরিচালিত হয়নি।
০১৭ مَثَلُهُمْ كَمَثَلِ الَّذِي اسْتَوْقَدَ نَارًا فَلَمَّا أَضَاءَتْ مَا حَوْلَهُ ذَهَبَ اللَّهُ بِنُورِهِمْ وَتَرَكَهُمْ فِي ظُلُمَاتٍ لَّا يُبْصِرُونَ
এদের দৃষ্টান্ত ঐ ব্যক্তির দৃষ্টান্তের ন্যায় যে অগ্নি প্রজ্বলিত করলো, অতঃপর অগ্নি যখন তার পার্শ্ববর্তী সমস্ত স্থান আলোকিত করলো, তখন আল্লাহ তাদের আলো ছিনিয়ে নিলেন এবং তাদেরকে অন্ধকারের মধ্যে ছেড়ে দিলেন, সুতরাং তারা কিছুই দেখতে পায় না।
০১৮ صُمٌّ بُكْمٌ عُمْيٌ فَهُمْ لَا يَرْجِعُونَ
তারা বধির, মূক ও অন্ধ অতএব তারা (সঠিক পথের দিকে) প্রত্যাবর্তন হবে না।
০১৯ أَوْ كَصَيِّبٍ مِّنَ السَّمَاءِ فِيهِ ظُلُمَاتٌ وَرَعْدٌ وَبَرْقٌ يَجْعَلُونَ أَصَابِعَهُمْ فِي آذَانِهِم مِّنَ الصَّوَاعِقِ حَذَرَ الْمَوْتِ ۚ وَاللَّهُ مُحِيطٌ بِالْكَافِرِينَ
অথবা আকাশ হতে পানি বর্ষণের ন্যায় যাতে অন্ধকার, গর্জন ও বিদ্যুৎ রয়েছে, তারা বজ্রধ্বনি বশতঃ মৃত্যু ভয়ে তাদের কর্ণসমূহে স্ব-স্ব অঙ্গুলি গুঁজে দেয় এবং আল্লাহ অবিশ্বাসীদের পরিবেষ্টনকারী।
০২০ يَكَادُ الْبَرْقُ يَخْطَفُ أَبْصَارَهُمْ ۖ كُلَّمَا أَضَاءَ لَهُم مَّشَوْا فِيهِ وَإِذَا أَظْلَمَ عَلَيْهِمْ قَامُوا ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَذَهَبَ بِسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
যেন বিদ্যুৎ তাদের দৃষ্টি হরণ করে ফেলবে, যখন তিনি তাদের জন্যে একটু আলো (বিদ্যুত) প্রজ্বলিত করেন তখন, তাতে তারা চলতে থাকে এবং যখন তাদের উপর অন্ধকারাচ্ছন্ন করেন তখন তারা দাঁড়িয়ে থাকে এবং যদি আল্লাহ ইচ্ছা করেন নিশ্চয় তাদের শ্রবন শক্তি ও তাদের দর্শন শক্তি হরণ করতে পারেন। নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ের উপর শক্তিমান।
০২১ يَا أَيُّهَا النَّاسُ اعْبُدُوا رَبَّكُمُ الَّذِي خَلَقَكُمْ وَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
হে মানব মণ্ডলী! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের ইবাদত কর যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তীদেরকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা ধর্মভীরু (পরহেজগার) হও।
০২২ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الْأَرْضَ فِرَاشًا وَالسَّمَاءَ بِنَاءً وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَّكُمْ ۖ فَلَا تَجْعَلُوا لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
যিনি তোমাদের জন্যে জমিনকে শয্যা ও আকাশকে ছাদ স্বরূপ করেছেন এবং যিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেন, অতঃপর তার দ্বারা তোমাদের জন্য উপজীবিকাস্বরূপ ফলপুঞ্জ উৎপাদন করেন, অতএব তোমরা জেনে শুনে আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না।
০২৩ وَإِن كُنتُمْ فِي رَيْبٍ مِّمَّا نَزَّلْنَا عَلَىٰ عَبْدِنَا فَأْتُوا بِسُورَةٍ مِّن مِّثْلِهِ وَادْعُوا شُهَدَاءَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
এবং আমি আমার বান্দার প্রতি যা অবতীর্ণ করেছি, তাতে তোমরা যদি সন্দিহান হও তবে তৎ সদৃশ একটি সূরা তৈরি করে নিয়ে এসো এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের সাহায্যকারীদেরকেও ডেকে নাও; যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
০২৪ فَإِن لَّمْ تَفْعَلُوا وَلَن تَفْعَلُوا فَاتَّقُوا النَّارَ الَّتِي وَقُودُهَا النَّاسُ وَالْحِجَارَةُ ۖ أُعِدَّتْ لِلْكَافِرِينَ
অনন্তর যদি তোমরা তা করতে না পার এবং তোমরা তা কখনো করতে পারবে না, তাহলে তোমরা সেই জাহান্নামকে ভয় কর যার ইন্ধন মানুষ ও প্রস্তরপুঞ্জ যা অবিশ্বাসীদের জন্যে প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে।
০২৫ وَبَشِّرِ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أَنَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۖ كُلَّمَا رُزِقُوا مِنْهَا مِن ثَمَرَةٍ رِّزْقًا ۙ قَالُوا هَـٰذَا الَّذِي رُزِقْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَأُتُوا بِهِ مُتَشَابِهًا ۖ وَلَهُمْ فِيهَا أَزْوَاجٌ مُّطَهَّرَةٌ ۖ وَهُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
আর যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে ও সৎকার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে, তাদেরকে সুসংবাদ প্রদান কর যে, তাদের জন্যে এমন বেহেস্ত রয়েছে যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হতে থাকবে; যখন তা হতে তাদেরকে উপজীবিকার জন্যে ফলপুঞ্জ প্রদান করা হবে তখন তারা বলবে- আমাদের এটা তো পূর্বেই প্রদত্ত হয়েছিল এবং তাদেরকে এর দ্বারা ওর সদৃশ প্রদান করা হবে এবং তাদের জন্যে তন্মধ্যে পবিত্র সহধর্মিণীগণ থাকবে এবং সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।
০২৬ إِنَّ اللَّهَ لَا يَسْتَحْيِي أَن يَضْرِبَ مَثَلًا مَّا بَعُوضَةً فَمَا فَوْقَهَا ۚ فَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا فَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۖ وَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَيَقُولُونَ مَاذَا أَرَادَ اللَّهُ بِهَـٰذَا مَثَلًا ۘ يُضِلُّ بِهِ كَثِيرًا وَيَهْدِي بِهِ كَثِيرًا ۚ وَمَا يُضِلُّ بِهِ إِلَّا الْفَاسِقِينَ
নিশ্চয় আলাহ মশা অথবা তদপেক্ষা ক্ষুদ্রতার দৃষ্টান্ত বর্ণনা করতে লজ্জাবোধ করেন না, সুতরাং যারা ঈমান এনেছে তারা তো বিশ্বাস করবে যে, এ উপমা তাদের প্রভুর পক্ষ হতে খুবই স্থানোপযোগী হয়েছেঃ আর যারা কাফির হয়েছে, সর্বাবস্থায় তারা এটাই বলবে এসব নগণ্য বস্তুর উপমা দ্বারা আল্লাহর উদ্দেশ্যই বা কি? তিনি এর দ্বারা অনেককে বিপথগামী করে থাকেন এবং এর দ্বারা অনেককে সঠিক পথ প্রদর্শন করেন, আর এর দ্বারা তিনি শুধু ফাসিকদেরকেই (পাপীষ্ট, অনাচারী) বিপথগামী করে থাকেন।
০২৭ الَّذِينَ يَنقُضُونَ عَهْدَ اللَّهِ مِن بَعْدِ مِيثَاقِهِ وَيَقْطَعُونَ مَا أَمَرَ اللَّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে এবং ঐসব সম্বন্ধ ছিন্ন করে যা অবিচ্ছিন্ন রাখতে আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন এবং যারা ভূপৃষ্ঠে বিবাদ সৃষ্টি করে, তারাই পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্থ।
০২৮ كَيْفَ تَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَكُنتُمْ أَمْوَاتًا فَأَحْيَاكُمْ ۖ ثُمَّ يُمِيتُكُمْ ثُمَّ يُحْيِيكُمْ ثُمَّ إِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
কিরূপে তোমরা আল্লাহকে অবিশ্বাস করছো? অথচ তোমরা নির্জীব ছিলে, পরে তিনিই তোমাদেরকে সঞ্জীবিত করেছেন, পুনরায় তিনি তোমাদেরকে নির্জীব করবেন, পরে আবার জীবন্ত করবেন, অবশেষে তোমাদেরকে তাঁরই দিকে প্রতিগমন করতে হবে।
০২৯ هُوَ الَّذِي خَلَقَ لَكُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ثُمَّ اسْتَوَىٰ إِلَى السَّمَاءِ فَسَوَّاهُنَّ سَبْعَ سَمَاوَاتٍ ۚ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
তিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে যা কিছু আছে- সমস্তই সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তিনি আকাশের প্রতি মনঃসংযোগ করেন, অতঃপর সপ্ত আকাশ সুবিন্যস্ত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী।
০৩০ وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي جَاعِلٌ فِي الْأَرْضِ خَلِيفَةً ۖ قَالُوا أَتَجْعَلُ فِيهَا مَن يُفْسِدُ فِيهَا وَيَسْفِكُ الدِّمَاءَ وَنَحْنُ نُسَبِّحُ بِحَمْدِكَ وَنُقَدِّسُ لَكَ ۖ قَالَ إِنِّي أَعْلَمُ مَا لَا تَعْلَمُونَ
এবং যখন তোমার রব ফেরেস্তাগণকে বললেনঃ নিশ্চয় আমি পৃথিবীতে প্রতিনিধি সৃষ্টি করবো, তারা বললোঃ আপনি কি জমীনে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে, তারা সেখানে বিবাদ সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত করবে? আর আমরাই তো আপনার প্রশংসা গুণগান করছি এবং আপনারই পবিত্রতা বর্ণনা করে থাকি। তিনি বললেনঃ নিশ্চয় আমি যা পরিজ্ঞাত আছি তা তোমরা অবগত নও।
০৩১ وَعَلَّمَ آدَمَ الْأَسْمَاءَ كُلَّهَا ثُمَّ عَرَضَهُمْ عَلَى الْمَلَائِكَةِ فَقَالَ أَنبِئُونِي بِأَسْمَاءِ هَـٰؤُلَاءِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
এবং তিনি আদমকে সমস্ত নাম শিক্ষা দিলেন, অনন্তর তৎসমুদয় ফেরেস্তাদের সামনে উপস্থাপিত করলেন; তৎপর বললেনঃ যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে আমাকে এসব বস্তুর নাম সমূহ জানাও।
০৩২ قَالُوا سُبْحَانَكَ لَا عِلْمَ لَنَا إِلَّا مَا عَلَّمْتَنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ الْعَلِيمُ الْحَكِيمُ
তারা বলেছিল- আপনি পরম পবিত্র; আপনি আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তদ্ব্যতীত আমাদের কোনই জ্ঞান নেই; নিশ্চয়ই আপনি মহাজ্ঞানী, প্রজ্ঞাময়।
০৩৩ قَالَ يَا آدَمُ أَنبِئْهُم بِأَسْمَائِهِمْ ۖ فَلَمَّا أَنبَأَهُم بِأَسْمَائِهِمْ قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكُمْ إِنِّي أَعْلَمُ غَيْبَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَأَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا كُنتُمْ تَكْتُمُونَ
তিনি ব্লেছিলেন হে আদম, তুমি তাদের ঐসকলের নামসমূহ জানিয়ে দাও; অতঃপর যখন সে তাদেরকে ঐগুলোর নামসমূহ জানিয়ে দিল, তখন তিনি বলেছিলেনঃ আমি কি তোমাদেরকে বলিনি যে, নিশ্চয় আমি ভূমণ্ডল ও নভোমণ্ডলের অদৃশ্য বিষয় অবগত আছি এবং তোমরা যা প্রকাশ কর ও যা গোপন কর আমি তাও পরিজ্ঞাত আছি।
০৩৪ وَإِذْ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ وَاسْتَكْبَرَ وَكَانَ مِنَ الْكَافِرِينَ
এবং যখন আমি ফেরেস্তাগণকে বলেছিলাম যে, তোমরা আদমকে সিজদা কর, তখন ইবলিশ ব্যতীত সকলে সিজদা করেছিল; সে অগ্রাহ্য করলো এবং কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
০৩৫ وَقُلْنَا يَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ وَكُلَا مِنْهَا رَغَدًا حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَـٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ
এবং আমি বললাম হে আদম! তুমি ও তোমার সধর্মিণী জান্নাতে অবস্থান কর এবং তা হতে যা ইচ্ছা স্বচ্ছন্দে ভক্ষণ কর; কিন্তু ঐ বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না- অন্যথা তোমার অত্যাচারীগণের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
০৩৬ فَأَزَلَّهُمَا الشَّيْطَانُ عَنْهَا فَأَخْرَجَهُمَا مِمَّا كَانَا فِيهِ ۖ وَقُلْنَا اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ
অনন্তর শয়তান তাদের উভয়কে সেখান থেকে পদস্ফলিত করলো, তৎপরে যারা যেখানে ছিল তথা হতে তাদেরকে বহির্গত করলো; এবং আমি বললাম- তোমরা নীচে নেমে যাও, তোমরা পরস্পর পরস্পরের শত্রু; এবং পৃথিবীতেই তোমাদের জন্যে এক নির্দিষ্টকালের অবস্থিতি ও ভোগ-সম্পদ রয়েছে।
০৩৭ فَتَلَقَّىٰ آدَمُ مِن رَّبِّهِ كَلِمَاتٍ فَتَابَ عَلَيْهِ ۚ إِنَّهُ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
অনন্তর আদম স্বীয় প্রতিপালক হতে কতিপয় বাক্য শিক্ষা করলেন, আল্লাহ তখন তাঁর তওবা কবুল করে তাঁকে ক্ষমা করলেন। নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, করুণাময়।
০৩৮ قُلْنَا اهْبِطُوا مِنْهَا جَمِيعًا ۖ فَإِمَّا يَأْتِيَنَّكُم مِّنِّي هُدًى فَمَن تَبِعَ هُدَايَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
আমি বললামঃ তোমরা সবাই এখান (জান্নাত) হতে নিচে নেমে তোমাদের নিকট যে হেদায়েত উপস্থিত হবে পরে যে আমার সেই হেদায়েতের অনুসরণ করবে বস্তুতঃ তাদের কোনই ভয় নেই এবং তারা চিন্তিত হবে না।
০৩৯ وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
আর যারা অবিশ্বাস করবে ও আমার নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করবে তারাই জাহান্নামের অধিবাসী, সেখানে তারা সদা অবস্থান করবে।
০৪০ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَوْفُوا بِعَهْدِي أُوفِ بِعَهْدِكُمْ وَإِيَّايَ فَارْهَبُونِ
হে ইসরাঈল বংশধর, আমি তোমাদেরকে যে নিয়ামত দান করেছি তা স্মরণ কর এবং আমার অঙ্গীকার পূর্ণ কর, আমিও তোমাদের অঙ্গীকার পূর্ণ করবো এবং তোমরা শুধু আমাকেই ভয় কর।
০৪১ وَآمِنُوا بِمَا أَنزَلْتُ مُصَدِّقًا لِّمَا مَعَكُمْ وَلَا تَكُونُوا أَوَّلَ كَافِرٍ بِهِ ۖ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ
এবং আমি যা অবতীর্ণ করেছি তৎপ্রতি বিশ্বাস স্থাপন কর, তোমাদের সাথে যা আছে তা তারই সত্যতা প্রমাণকারী এবং এতে তোমরাই প্রথম অবিশ্বাসী হয়ো না এবং আমার আয়াতসমূহের পরিবর্তে সামান্য মূল্য গ্রহণ করো না এবং তোমরা বরং আমাকেই ভয় কর।
০৪২ وَلَا تَلْبِسُوا الْحَقَّ بِالْبَاطِلِ وَتَكْتُمُوا الْحَقَّ وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ
আর তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশ্রিত করো না এবং সে সত্য গোপন করো না যেহেতু তোমরা তা অবগত আছ।
০৪৩ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ وَارْكَعُوا مَعَ الرَّاكِعِينَ
আর তোমরা নামায প্রতিষ্ঠিত কর ও যাকাত প্রদান কর এবং রুকু’কারীদের সাথে রুকু কর।
০৪৪ أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنسَوْنَ أَنفُسَكُمْ وَأَنتُمْ تَتْلُونَ الْكِتَابَ ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
তবে কি তোমরা লোকদেরকে সৎকার্যে আদেশ করছো এবং তোমাদের নিজেদের ভুলে যাচ্ছ- অথচ তোমরা গ্রন্থ পাঠ কর; তবে কি তোমরা হৃদয়ঙ্গম করছো না?
০৪৫ وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ
এবং তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে প্রার্থনা কর এবং অবশ্যই তা কঠিন; কিন্তু বিনীতগণের পক্ষে নয়।
০৪৬ الَّذِينَ يَظُنُّونَ أَنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَأَنَّهُمْ إِلَيْهِ رَاجِعُونَ
যারা ধারণা করে যে, নিশ্চয় তারা তাদের প্রতিপালকের সাথে সম্মিলিত হবে এবং তারা তাঁরই দিকে প্রতিগমন করবে।
০৪৭ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ
হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে যে নিয়ামত দান করেছি তা স্মরণ কর এবং নিশ্চয় আমি তোমাদেরকে সমগ্র পৃথিবীর উপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
০৪৮ وَاتَّقُوا يَوْمًا لَّا تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةٌ وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ
এবং তোমরা সে দিবসকে ভয় কর, যেদিন কোন ব্যক্তি অন্য ব্যক্তি হতে কিছুমাত্র উপকৃত হবে না এবং কোন ব্যক্তি হতে কোন সুপারিশও গৃহীত হবে না, কোন ব্যক্তি হতে কোন বিনিময়ও গ্রহণ করা হবে না এবং তাদেরকে সাহায্য করাও হবে না।
০৪৯ وَإِذْ نَجَّيْنَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ يُذَبِّحُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ ۚ وَفِي ذَٰلِكُم بَلَاءٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ
এবং যখন আমি তোমাদেরকে ফির’আউনের সম্প্রদায় হতে বিমুক্ত করেছিলাম- তারা তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করতো, তোমাদের পুত্রগণকে হত্যা করতো ও তোমাদের কন্যাগণকে জীবিত রাখতো এবং এতে তোমাদের প্রতিপালক হতে তোমাদের জন্যে মহাপরীক্ষা ছিল।
০৫০ وَإِذْ فَرَقْنَا بِكُمُ الْبَحْرَ فَأَنجَيْنَاكُمْ وَأَغْرَقْنَا آلَ فِرْعَوْنَ وَأَنتُمْ تَنظُرُونَ
এবং যখন আমি তোমাদের জন্য সমুদ্রকে বিভক্ত করেছিলাম, তৎপর তোমাদেরকে উদ্ধার করেছিলাম ও ফির’আউনের স্বজনবৃন্দকে নিমজ্জিত করেছিলাম এমতাবস্থায় তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x