০১৬. সূরাঃ নাহল

আয়াত অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১২৮
রুকূঃ ১৬
১০১ وَإِذَا بَدَّلْنَا آيَةً مَّكَانَ آيَةٍ ۙ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا يُنَزِّلُ قَالُوا إِنَّمَا أَنتَ مُفْتَرٍ ۚ بَلْ أَكْثَرُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
আমি যখন কোন এক আয়াত পরিবর্তন করে তার স্থলে অন্য এক আয়াত উপস্থিত করি আর আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেন তা তিনিই ভাল জানেন, তখন তারা বলেঃ তুমি তো শুধু মিথ্যা উদ্ভাবনকারী; কিন্তু তাদের অধিকাংশই জানে না।
১০২ قُلْ نَزَّلَهُ رُوحُ الْقُدُسِ مِن رَّبِّكَ بِالْحَقِّ لِيُثَبِّتَ الَّذِينَ آمَنُوا وَهُدًى وَبُشْرَىٰ لِلْمُسْلِمِينَ
তুমি বলঃ তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে রুহূল-কুদুস (জিব্রাঈল আঃ) সত্যসহ কুরআন অবতীর্ণ করেছে, যারা মু’মিন তাদেরকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত করার জন্যে এবং হিদায়াত ও সুসংবাদ স্বরূপ আত্মসমর্পণকারীদের জন্যে।
১০৩ وَلَقَدْ نَعْلَمُ أَنَّهُمْ يَقُولُونَ إِنَّمَا يُعَلِّمُهُ بَشَرٌ ۗ لِّسَانُ الَّذِي يُلْحِدُونَ إِلَيْهِ أَعْجَمِيٌّ وَهَـٰذَا لِسَانٌ عَرَبِيٌّ مُّبِينٌ
আমি তো জানিই, তারা বলেঃ তাকে শিক্ষা দেয় এক মানুষ; তারা যার প্রতি এটা সম্বন্ধ করে তার ভাষা তো আরবী নয়; কিন্তু কুরআনের ভাষা স্পষ্ট আরবী ভাষা।
১০৪ إِنَّ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ لَا يَهْدِيهِمُ اللَّهُ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
যারা আল্লাহর নিদর্শনে বিশ্বাস করে না, তাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত করেন না এবং তাদের জন্যে আছে বেদনাদায়ক শাস্তি।
১০৫ إِنَّمَا يَفْتَرِي الْكَذِبَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِ اللَّهِ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْكَاذِبُونَ
যারা আল্লাহর নিদর্শনে বিশ্বাস করে না তারা তো শুধু মিথ্যা উদ্ভাবক এবং তারাই মিথ্যাবাদী।
১০৬ مَن كَفَرَ بِاللَّهِ مِن بَعْدِ إِيمَانِهِ إِلَّا مَنْ أُكْرِهَ وَقَلْبُهُ مُطْمَئِنٌّ بِالْإِيمَانِ وَلَـٰكِن مَّن شَرَحَ بِالْكُفْرِ صَدْرًا فَعَلَيْهِمْ غَضَبٌ مِّنَ اللَّهِ وَلَهُمْ عَذَابٌ عَظِيمٌ
কেউ ঈমান আনার পরে আল্লাহকে অস্বীকার করলে; কিন্তু যে, কুফরীর জন্য তার হৃদয়কে উন্মুক্ত করে দিল তাদের উপর আল্লাহর গজব আর তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। তবে তার জন্যে নয়, যাকে কুফরীর জন্যে বাধ্য করা হয়েছে; কিন্তু তার চিত্ত ঈমানে অবিচল।
১০৭ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمُ اسْتَحَبُّوا الْحَيَاةَ الدُّنْيَا عَلَى الْآخِرَةِ وَأَنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
এটা এজন্যে যে, তারা দুনিয়ার জীবনকে আখেরাতের উপর প্রাধান্য দেয় আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে হিদায়াত করেন না।
১০৮ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ طَبَعَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ وَسَمْعِهِمْ وَأَبْصَارِهِمْ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ
ওরাই তারা আল্লাহ যাদের অন্তর, কর্ণ ও চক্ষুসমূহে মোহর করে দিয়েছেন এবং তারাই গাফিল।
১০৯ لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْخَاسِرُونَ
নিশ্চয় তারা আখেরাতে হবে ক্ষতিগ্রস্থ।
১১০ ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ هَاجَرُوا مِن بَعْدِ مَا فُتِنُوا ثُمَّ جَاهَدُوا وَصَبَرُوا إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
যারা নির্যাতিত হবার পর হিজরত করে, পরে জিহাদ করে এবং ধৈর্যধারণ করে; তোমার প্রতিপালক এই সবের পর, তাদের প্রতি অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১১১ يَوْمَ تَأْتِي كُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلُ عَن نَّفْسِهَا وَتُوَفَّىٰ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَهُمْ لَا يُظْلَمُونَ
(স্মরণ কর সে দিনকে) যে দিন আত্মপক্ষ সমর্থনে যুক্তি উপস্থিত করতে আসবে প্রত্যেক ব্যক্তি এবং প্রত্যেককে তার কৃতকর্মের পূর্ণ ফল দেয়া হবে এবং তাদের প্রতি যুলুম করা হবে না।
১১২ وَضَرَبَ اللَّهُ مَثَلًا قَرْيَةً كَانَتْ آمِنَةً مُّطْمَئِنَّةً يَأْتِيهَا رِزْقُهَا رَغَدًا مِّن كُلِّ مَكَانٍ فَكَفَرَتْ بِأَنْعُمِ اللَّهِ فَأَذَاقَهَا اللَّهُ لِبَاسَ الْجُوعِ وَالْخَوْفِ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ
আল্লাহ দৃষ্টান্ত দিচ্ছেন এক জনপদের যা ছিল নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত যেথায় আসতো সর্বদিক হতে প্রচুর জীবনোপকরণ; অতঃপর তারা আল্লাহর নিয়ামতসমূহকে অস্বীকার করলো; ফলে তারা যা করতো তজ্জন্যে আল্লাহ তাদেরকে স্বাদ গ্রহণ করালেন ক্ষুধা ও ভীতির আচ্ছাদন দ্বারা।
১১৩ وَلَقَدْ جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِّنْهُمْ فَكَذَّبُوهُ فَأَخَذَهُمُ الْعَذَابُ وَهُمْ ظَالِمُونَ
তাদের বিকট তো এসেছিলেন এক রাসূল তাদের মধ্য হতে; কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করেছিল; ফলে যুলুম করা অবস্থায় শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করলো।
১১৪ فَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا وَاشْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ إِن كُنتُمْ إِيَّاهُ تَعْبُدُونَ
আল্লাহ তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তন্মধ্যে যা বৈধ ও পবিত্র তা তোমরা আহার কর এবং তোমরা যদি শুধু আল্লাহরই ইবাদত কর তবে তাঁর অনুগ্রহের জন্যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
১১৫ إِنَّمَا حَرَّمَ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةَ وَالدَّمَ وَلَحْمَ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ ۖ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আল্লাহ তো শুধু মৃত, রক্ত, শূকরের গোশত এবং যা যবাহ কালে আল্লাহর পরিবর্তে অন্যের নাম নেয়া হয়েছে তা-ই তোমাদের জন্যে অবৈধ করেছেন; কিন্তু কেউ আকাঙ্ক্ষিত কিংবা সীমালঙ্ঘনকারী না হয়ে অনন্যেপায় হলে আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১১৬ وَلَا تَقُولُوا لِمَا تَصِفُ أَلْسِنَتُكُمُ الْكَذِبَ هَـٰذَا حَلَالٌ وَهَـٰذَا حَرَامٌ لِّتَفْتَرُوا عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَفْتَرُونَ عَلَى اللَّهِ الْكَذِبَ لَا يُفْلِحُونَ
তোমাদের জিহ্বার দ্বারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে তোমরা বলো না, এটা হালাল এবং এটা হারাম, যারা আল্লাহর সম্বন্ধে মিথ্যা উদ্ভাবন করবে তারা সফলকাম হবে না।
১১৭ مَتَاعٌ قَلِيلٌ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
(তাদের) সুখ-সম্ভোগ সামান্য এবং তাদের জন্যে রয়েছে বেদনাদায়ক শাস্তি।
১১৮ وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا مَا قَصَصْنَا عَلَيْكَ مِن قَبْلُ ۖ وَمَا ظَلَمْنَاهُمْ وَلَـٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ
ইয়াহূদীদের জন্যে আমি তো শুধু তাই নিষিদ্ধ করেছিলাম যা তোমার নিকট আমি পূর্বে উল্লেখ করেছি এবং আমি তাদের উপর কোন যুলুম করি নাই; কিন্তু তারাই যুলুম করতো তাদের নিজেদের প্রতি।
১১৯ ثُمَّ إِنَّ رَبَّكَ لِلَّذِينَ عَمِلُوا السُّوءَ بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابُوا مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ وَأَصْلَحُوا إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
যারা অজ্ঞতাবশতঃ মন্দ কর্ম করে অতঃপর তাওবা করে ও নিজেদেরকে সংশোধ্ন করে নেয় তাদের জন্যে তোমার প্রতিপালক অবশ্যই অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১২০ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ كَانَ أُمَّةً قَانِتًا لِّلَّهِ حَنِيفًا وَلَمْ يَكُ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
নিশ্চয় ইব্রাহীম (আঃ) ছিলেন (একাই) এক উম্মত, (একটি জাতির জীবন্ত প্রতীক) আল্লাহর অনুগত, একনিষ্ট এবং তিনি ছিলেন না মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত।
১২১ شَاكِرًا لِّأَنْعُمِهِ ۚ اجْتَبَاهُ وَهَدَاهُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
তিনি ছিলেন আল্লাহর অনুগ্রহের প্রতি কৃতজ্ঞ; আল্লাহ তাকে মনোনীত করেছিলেন এবং তাকে পরিচালিত করেছিলেন সরল পথে।
১২২ وَآتَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً ۖ وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ
আমি তাঁকে দুনিয়ায় দিয়েছিলাম মঙ্গল এবং আখেরাতেও নিশ্চয়ই তিনি হবেন সৎকর্মপরায়ণদের অন্যতম।
১২৩ ثُمَّ أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ أَنِ اتَّبِعْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا ۖ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
অতঃপর আমি তোমার প্রতি প্রত্যাদেশ করলাম, তুমি একনিষ্ঠভাবে ইব্রাহীমের (আঃ) ধর্মাদর্শ অনুসরণ কর; এবং তিনি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
১২৪ إِنَّمَا جُعِلَ السَّبْتُ عَلَى الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيهِ ۚ وَإِنَّ رَبَّكَ لَيَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
শনিবার পালন তো শুধু তাদের জন্যে বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল, যারা এ সম্বন্ধে মতভেদ করতো; যে বিষয়ে তারা মতভেদ করতো তোমার প্রতিপালক তো অবশ্যই কিয়ামতের দিন সে বিষয়ে তাদের বিচার মীমাংসা করে দিবেন যে বিষয়ে তারা মতভেদ করতো।
১২৫ ادْعُ إِلَىٰ سَبِيلِ رَبِّكَ بِالْحِكْمَةِ وَالْمَوْعِظَةِ الْحَسَنَةِ ۖ وَجَادِلْهُم بِالَّتِي هِيَ أَحْسَنُ ۚ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِمَن ضَلَّ عَن سَبِيلِهِ ۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
তুমি মানুষকে তোমার প্রতিপালকের পথে আহ্বান কর হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে যুক্তিতর্ক কর সদ্ভাবে; তোমার প্রতিপালক, তাঁর পথ ছেড়ে কে বিপদগামী হয় সে সম্বন্ধে সবিশেষ অবহিত এবং কে সৎপথে আছে তাও সবিশেষ অবহিত।
১২৬ وَإِنْ عَاقَبْتُمْ فَعَاقِبُوا بِمِثْلِ مَا عُوقِبْتُم بِهِ ۖ وَلَئِن صَبَرْتُمْ لَهُوَ خَيْرٌ لِّلصَّابِرِينَ
যদি তোমরা প্রতিশোধ গ্রহণ কর, তবে ঠিক ততখানি প্রতিশোধ গ্রহণ করবে যতখানি অন্যায় তোমাদের প্রতি করা হয়েছে; তবে তোমরা ধৈর্যধারণ করলে ধৈর্যশীলদের জন্যে ওটাও তো উত্তম।
১২৭ وَاصْبِرْ وَمَا صَبْرُكَ إِلَّا بِاللَّهِ ۚ وَلَا تَحْزَنْ عَلَيْهِمْ وَلَا تَكُ فِي ضَيْقٍ مِّمَّا يَمْكُرُونَ
তুমি ধৈর্যধারণ করো, তোমার ধৈর্য তো হবে আল্লাহরই সাহায্যে; তাদের দরুন দুঃখ করো না এবং তাদের ষড়যন্ত্রে তুমি মনক্ষুন্ন হয়ো না।
১২৮ إِنَّ اللَّهَ مَعَ الَّذِينَ اتَّقَوا وَّالَّذِينَ هُم مُّحْسِنُونَ
নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরই সঙ্গে আছেন, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে এবং যারা সৎকর্মপরায়ণ।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x