০০৭. সূরাঃ আল আ’রাফ

আয়াত নং অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ২০৬
রুকূঃ ২৪
১৫১ قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ ۖ وَأَنتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ
তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ হে আমার প্রভু! আমাকে ও আমার ভাইকে ক্ষমা করুন! আর আমাদেরকে আপনার রহমতের মধ্যে প্রবেশ করান! আপনি সবচেয়ে বড় দয়াবান।
১৫২ إِنَّ الَّذِينَ اتَّخَذُوا الْعِجْلَ سَيَنَالُهُمْ غَضَبٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَذِلَّةٌ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُفْتَرِينَ
(উত্তরে বলা হল) নিশ্চয়ই যারা গো-বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছে, অবশ্যই তারা এই পার্থিব জীবনে তাদের প্রতিপালকের গযব ও লাঞ্চনায় নিপতিত হবে, মিথ্যা রচনাকারীদেরকে আমি এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।
১৫৩ وَالَّذِينَ عَمِلُوا السَّيِّئَاتِ ثُمَّ تَابُوا مِن بَعْدِهَا وَآمَنُوا إِنَّ رَبَّكَ مِن بَعْدِهَا لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর যারা খারাপ কাজ করে, অতঃপর তাওবা করে ও ঈমান আনে তবে নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক আল্লাহ এর পরেও ক্ষমাশীল ও দয়াময়।
১৫৪ وَلَمَّا سَكَتَ عَن مُّوسَى الْغَضَبُ أَخَذَ الْأَلْوَاحَ ۖ وَفِي نُسْخَتِهَا هُدًى وَرَحْمَةٌ لِّلَّذِينَ هُمْ لِرَبِّهِمْ يَرْهَبُونَ
মূসা (আঃ)-এর ক্রোধ যখন প্রশমিত হল তখন তিনি ফলকগুলো তুলে নিলেন, যারা তাদের প্রতিপালকের ভয় করে তাদের জন্যে তাতে যা লিখিত ছিল তা ছিল হেদায়েত ও রহমত।
১৫৫ وَاخْتَارَ مُوسَىٰ قَوْمَهُ سَبْعِينَ رَجُلًا لِّمِيقَاتِنَا ۖ فَلَمَّا أَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ قَالَ رَبِّ لَوْ شِئْتَ أَهْلَكْتَهُم مِّن قَبْلُ وَإِيَّايَ ۖ أَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ السُّفَهَاءُ مِنَّا ۖ إِنْ هِيَ إِلَّا فِتْنَتُكَ تُضِلُّ بِهَا مَن تَشَاءُ وَتَهْدِي مَن تَشَاءُ ۖ أَنتَ وَلِيُّنَا فَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا ۖ وَأَنتَ خَيْرُ الْغَافِرِينَ
মূসা (আঃ) তার সম্প্রদায় হতে সত্তরজন নেতৃস্থানীয় লোক আমার নির্ধারিত সময়ে সমবেত হওয়ার জন্যে নির্বাচন করে নিলেন, অতঃপর যখন এই লোকগুলো একটি কঠিন ভূকম্পনে আক্রান্ত হল তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আপনি ইচ্ছা করলে এর পূর্বেও ওদেরকে ও আমাকে নিপাত করতে পারতেন, আমাদের মধ্যকার কতক নির্বোধ লোকের অন্যায়ের কারণে কি আপনি আমাদেরকে নিপাত করবেন? সেই ঘটনা তো ছিল আপনার পরীক্ষা, যা দ্বারা আপনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন, আপনিই তো আমাদের অভিভাবক, সুতরাং আপনি আমাদেরকে ক্ষমাকরুন এবং আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন, ক্ষমাশীলদের মধ্যে আপনিই তো উত্তম ক্ষমাশীল।
১৫৬ وَاكْتُبْ لَنَا فِي هَـٰذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ إِنَّا هُدْنَا إِلَيْكَ ۚ قَالَ عَذَابِي أُصِيبُ بِهِ مَنْ أَشَاءُ ۖ وَرَحْمَتِي وَسِعَتْ كُلَّ شَيْءٍ ۚ فَسَأَكْتُبُهَا لِلَّذِينَ يَتَّقُونَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَالَّذِينَ هُم بِآيَاتِنَا يُؤْمِنُونَ
অতএব আমাদের জন্যে এই দুনিয়ায় ও পরকালে কল্যাণ লিখে দিন, আমরা আপনার নিকটই প্রত্যাবর্তন করেছি। তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ যাকে ইচ্ছা আমি আমার শাস্তি দিয়ে থাকি, আর আমার করুণা ও দয়া প্রতিটি জিনিসকেই পরিব্যপ্ত করে দিয়েছে, সুতরাং কল্যাণ আমি তাদের জন্যেই লিখবো যারা পাপাচার হতে বিরত থাকে, (তাকওয়া অবলম্বন করে) যাকাত দেয় এবং আমার নিদর্শনসমূহের প্রতি ঈমান আনয়ন করে।
১৫৭ الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِندَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنجِيلِ يَأْمُرُهُم بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ ۚ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنزِلَ مَعَهُ ۙ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
(এই কল্যাণ তাদেরই প্রাপ্য) যারা সেই নিরক্ষর রাসূল নবী (সঃ)-এর অনুসরণ করে চলে, যার কথা তারা তাদের নিকট রক্ষিত তাওরাত ও ইঞ্জিল কিতাবে লিখিত পায় (সেই নিরক্ষর নবী সঃ) মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দেয় ও অন্যায় কাজ করতে নিষেধ করে, আর তিনি তাদের জন্যে পবিত্র বস্তুসমূহ বৈধ করে দেন এবং অপবিত্র ও খারাপ বস্তুকে তাদের প্রতি অবৈধ করেন, আর তাদের উপর চাপানো বোঝা ও বন্ধন হতে তাদেরকে মুক্ত করেন, সুতরাং তাঁর প্রতি যারা ঈমান রাখে, তাকে সম্মান করে ও সাহায্য সহানুভূতি করে, আর সেই আলোককে (কুরআনকে) অনুসরণ করে চলে যা তার সাথে অবতীর্ণ করা হয়েছে, তারাই (ইহকাল ও পরকালে) সাফল্য লাভ করবে।
১৫৮ قُلْ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ جَمِيعًا الَّذِي لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ يُحْيِي وَيُمِيتُ ۖ فَآمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ النَّبِيِّ الْأُمِّيِّ الَّذِي يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَكَلِمَاتِهِ وَاتَّبِعُوهُ لَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি ঘোষণা করে দাওঃ হে মানবমণ্ডলী! আমি তোমাদের সকলের জন্যে সেই আল্লাহর রাসূলরূপে প্রেরিত হয়েছি, যিনি আকাশমণ্ডল ও ভূমণ্ডলের সার্বভৌম একচ্ছত্র মালিক তিনি ছাড়া আর কোন (সত্য) মা’বূদ নেই, তিনি জীবিত করেন ও মৃত্যু ঘটান, সুতরাং আল্লাহর প্রতি এবং তাঁর সেই বার্তাবাহক নিরক্ষর নবী (সঃ)-এর প্রতি ঈমান আনয়ন কর, যে আল্লাহতে ও তাঁর কালামে বিশ্বাস স্থাপন করে থাকে, তোমরা তারই অনুসরণ কর, আশা করা যায় তোমরা সরল সঠিক পথের সন্ধান পাবে।
১৫৯ وَمِن قَوْمِ مُوسَىٰ أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ
মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন একদল লোক রয়েছে যারা সঠিক ও নির্ভুল পথ-প্রদর্শন করে এবং ন্যায় বিচার করে।
১৬০ وَقَطَّعْنَاهُمُ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ أَسْبَاطًا أُمَمًا ۚ وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ إِذِ اسْتَسْقَاهُ قَوْمُهُ أَنِ اضْرِب بِّعَصَاكَ الْحَجَرَ ۖ فَانبَجَسَتْ مِنْهُ اثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ۚ وَظَلَّلْنَا عَلَيْهِمُ الْغَمَامَ وَأَنزَلْنَا عَلَيْهِمُ الْمَنَّ وَالسَّلْوَىٰ ۖ كُلُوا مِن طَيِّبَاتِ مَا رَزَقْنَاكُمْ ۚ وَمَا ظَلَمُونَا وَلَـٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ
আর আমি বানী ইসরাঈলকে বারটি বংশে বিভক্ত করে প্রত্যেককে আলাদা আলাদা গোত্রে স্থির করেছি, মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের লোকেরা যখন তার কাছে পানি দাবী করলো, তখন আমি মূসা (আঃ)- এর কাছে প্রত্যাদেশ পাঠালামঃ তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর, ফলে সাথে সাথে ওটা হতে বারটি ঝরণা উৎসারিত হল, আর প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পান-স্থান জেনে নিলো, আর আমি তাদের উপর মেঘ দ্বারা ছায়া বিস্তার করলাম, আর তাদের জন্যে (আকাশ হতে) ‘মান্না’ ও ‘সালওয়া’ খাদ্যরূপী নিয়ামত অবতীর্ণ করলাম, সুতরাং (আমি বললাম) তোমাদেরকে যা কিছু পবিত্র জীবিকা দান করা হয়েছে তা আহার কর, (কিন্তু ওরা আমার শর্ত উপেক্ষা করে জুলুম করলো) তারা আমার উপর কোন জুলুম করেনি; বরং তারা তাদের নিজেদের উপরই জুলুম করেছে।
১৬১ وَإِذْ قِيلَ لَهُمُ اسْكُنُوا هَـٰذِهِ الْقَرْيَةَ وَكُلُوا مِنْهَا حَيْثُ شِئْتُمْ وَقُولُوا حِطَّةٌ وَادْخُلُوا الْبَابَ سُجَّدًا نَّغْفِرْ لَكُمْ خَطِيئَاتِكُمْ ۚ سَنَزِيدُ الْمُحْسِنِينَ
(স্মরণ কর সেই সময়টির কথা) যখন তাদেরকে বলা হয়েছিল এই (ফিলিস্তিন ও তৎসংশ্লিষ্ট) জনপদে বসবাস কর এবং যথা ইচ্ছা আহার কর, আর তোমরা বলঃ (হে প্রভু!) ক্ষমা চাই, আর (শহরের) দ্বারদেশ দিয়ে নতশিরে প্রবেশ কর, (তাহলে) আমি তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করবো এবং সৎকর্মশীল লোকদের জন্যে আমার দান বৃদ্ধি করবো।
১৬২ فَبَدَّلَ الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ قَوْلًا غَيْرَ الَّذِي قِيلَ لَهُمْ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمْ رِجْزًا مِّنَ السَّمَاءِ بِمَا كَانُوا يَظْلِمُونَ
কিন্তু তাদের মধ্যে যারা যালিম ও সীমালঙ্ঘনকারী ছিল, তারা সেই কথা পরিবর্তন করে ফেললো যা তাদেরকে (বলতে) বলা হয়েছিল, সুতরাং তাদের সেই সীমালঙ্ঘনের কারণে আমি আসমান হতে তাদের উপর শাস্তি প্রেরণ করলাম।
১৬৩ وَاسْأَلْهُمْ عَنِ الْقَرْيَةِ الَّتِي كَانَتْ حَاضِرَةَ الْبَحْرِ إِذْ يَعْدُونَ فِي السَّبْتِ إِذْ تَأْتِيهِمْ حِيتَانُهُمْ يَوْمَ سَبْتِهِمْ شُرَّعًا وَيَوْمَ لَا يَسْبِتُونَ ۙ لَا تَأْتِيهِمْ ۚ كَذَٰلِكَ نَبْلُوهُم بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ
আর তাদেরকে সেই জনপদের অবস্থাও জিজ্ঞেস কর যা সমুদ্রের তীরে অবস্থিত ছিল, (স্মরণ কর সেই ঘটনার কথা) যখন তারা শনিবারের ব্যাপারে সীমা লঙ্ঘন করেছিল, শনিবারের দিন মাছ পানিতে ভেসে তাদের নিকট আসতো; কিন্তু যেদিন তারা শনিবার উদযাপন করতো না (অর্থাৎ শনিবার ছাড়া বাকি অন্য দিন) সেদিন ওগুলো তাদের কাছে আসতো না, এইভাবে আমি তাদের নাফরমানীর কারণে তাদেরকে পরীক্ষা করছিলাম।
১৬৪ وَإِذْ قَالَتْ أُمَّةٌ مِّنْهُمْ لِمَ تَعِظُونَ قَوْمًا ۙ اللَّهُ مُهْلِكُهُمْ أَوْ مُعَذِّبُهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا ۖ قَالُوا مَعْذِرَةً إِلَىٰ رَبِّكُمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
(স্মরণ কর সেই সময়টির কথা) যখন তাদের একদল লোক অপর দলের নিকট বলেছিলঃ ঐ জাতিকে তোমরা কেন উপদেশ দিচ্ছ যাদেরকে আল্লাহ ধ্বংস করবেন অথবা কঠিন শাস্তি দিবেন? তারা উত্তরে বললঃ তোমাদের প্রতিপালকের নিকট দোষ মুক্তির জন্যে ও অক্ষমতা পেশ করার জন্যে, এবং এই জন্যে যে হয়তো বা এই লোকেরা তাঁর নাফরমানী হতে বেঁচে থাকবে।
১৬৫ فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ أَنجَيْنَا الَّذِينَ يَنْهَوْنَ عَنِ السُّوءِ وَأَخَذْنَا الَّذِينَ ظَلَمُوا بِعَذَابٍ بَئِيسٍ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ
সুতরাং তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তা যখন তারা ভুলে গেল, তখন যারা অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতো তাদেরকে তো আমি বাঁচিয়ে নিলাম, আর যালিমদেরকে তাদের অসৎ কর্মপরায়ণতার কারণে কঠোর শাস্তি দ্বারা পাকড়াও করলাম।
১৬৬ فَلَمَّا عَتَوْا عَن مَّا نُهُوا عَنْهُ قُلْنَا لَهُمْ كُونُوا قِرَدَةً خَاسِئِينَ
অতঃপর যখন তারা অবাধ্য হয়ে নিষিদ্ধ কাজগুলো করতে থাকলো যেগুলো থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল তখন আমি বললামঃ তোমরা ঘৃণিত ও নিকৃষ্ট বানর হয়ে যাও।
১৬৭ وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لَيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَن يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ ۗ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ ۖ وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
(এবং ঐ সময়ের কথা স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করলেন যে, তিনি তাদের (ইয়াহূদীদের) উপর কিয়ামত পর্যন্ত এমন সব লোককে (শক্তিশালী করে) প্রেরণ করতে থাকবেন, যারা তাদেরকে কঠিনতর শাস্তি দিতে থাকবে (এবং তারা সর্বত্র নির্যাতিত ও নিপীড়িত হবে), নিঃসন্দেহে তোমার প্রতিপালক শাস্তি দানে ক্ষীপ্রহস্ত, আর নিশ্চয়ই তিনি ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহশীল।
১৬৮ وَقَطَّعْنَاهُمْ فِي الْأَرْضِ أُمَمًا ۖ مِّنْهُمُ الصَّالِحُونَ وَمِنْهُمْ دُونَ ذَٰلِكَ ۖ وَبَلَوْنَاهُم بِالْحَسَنَاتِ وَالسَّيِّئَاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
(অতঃপর) আমি তাদেরকে খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন দলে-উপদলে দুনিয়ায় বিস্তৃত করেছি, তাদের কতক লোক সদাচারী আর কিছু লোক ভিন্নতর (অনাচারী), আর আমি ভাল ও মন্দের মধ্যে নিপতিত করে তাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি, যাতে তারা আমার পথে ফিরে আসে।
১৬৯ فَخَلَفَ مِن بَعْدِهِمْ خَلْفٌ وَرِثُوا الْكِتَابَ يَأْخُذُونَ عَرَضَ هَـٰذَا الْأَدْنَىٰ وَيَقُولُونَ سَيُغْفَرُ لَنَا وَإِن يَأْتِهِمْ عَرَضٌ مِّثْلُهُ يَأْخُذُوهُ ۚ أَلَمْ يُؤْخَذْ عَلَيْهِم مِّيثَاقُ الْكِتَابِ أَن لَّا يَقُولُوا عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ وَدَرَسُوا مَا فِيهِ ۗ وَالدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
অতঃপর তাদের পর এমন অযোগ্য লোক তাদের স্থলাভিষিক্ত হয় যে তারা কিতাবেরও উত্তরাধিকারী হয় তারা এই নিকৃষ্ট দুনিয়ার মাল-সম্পদ নিয়ে নেয় আর বলে আমাদেরকে ক্ষমা করা হবে; এমনকি যদি ওর অনুরূপ মাল-সম্পদ তাদের নিকট আসে তবে তারা ওগুলোও নিয়ে নেবে, তাদের নিকট হতে কি কিতাবের প্রতিশ্রুতি নেয়া হয়নি যে, তারা আল্লাহর নামে সত্য ছাড়া কিছুই বলবে না? আর কিতাবে যা রয়েছে তা তো তারা অধ্যায়নও করেছে, আর মুত্তাকী লোকদের জন্যে পরকালের ঘরই উত্তম, তোমরা কি এতটুকু কথাও অনুধাবন করতে পার না।
১৭০ وَالَّذِينَ يُمَسِّكُونَ بِالْكِتَابِ وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ إِنَّا لَا نُضِيعُ أَجْرَ الْمُصْلِحِينَ
যারা আল্লাহর কিতাবকে দৃঢ়ভাবে ধারণ করে (অর্থাৎ আনুগত্য করে) এবং নামায কায়েম করে (তারা অবশ্যই তার প্রতিদান পাবে), আমি তো সৎকর্মশীলদের কর্মফল নষ্ট করি না।
১৭১ وَإِذْ نَتَقْنَا الْجَبَلَ فَوْقَهُمْ كَأَنَّهُ ظُلَّةٌ وَظَنُّوا أَنَّهُ وَاقِعٌ بِهِمْ خُذُوا مَا آتَيْنَاكُم بِقُوَّةٍ وَاذْكُرُوا مَا فِيهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ
(ঐ সময়টিও স্মরণযোগ্য) যখন আমি পাহাড়কে উঠিয়ে নিয়ে ছায়ার ন্যায় তাদের (বানী ইসরাঈলের) মাথার উপর তুলে ধরি তখন তারা মনে করছিল যে, ওটা তাদের মাথার উপর পড়ে যাবে, (এমতাবস্থায় আমি বললাম) তোমাদেরকে যা (যে কিতাব) দিয়েছি তা দৃঢ়ভাবে শক্ত হাতে ধারণ কর এবং ওতে যা রয়েছে তা স্মরণ রাখো, আশা করা যায় যে, তোমরা মুত্তাকী হয়ে যাবে।
১৭২ وَإِذْ أَخَذَ رَبُّكَ مِن بَنِي آدَمَ مِن ظُهُورِهِمْ ذُرِّيَّتَهُمْ وَأَشْهَدَهُمْ عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ أَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ ۖ قَالُوا بَلَىٰ ۛ شَهِدْنَا ۛ أَن تَقُولُوا يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِنَّا كُنَّا عَنْ هَـٰذَا غَافِلِينَ
(হে নবী সঃ)! যখন তোমার প্রতিপালক বানী আদমের পৃষ্ঠদেশ হতে তাদের সন্তানদেরকে তাদের উপর সাক্ষী বানিয়ে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি কি তোমাদের প্রতিপালক নই? তারা সমস্বরে উত্তর দিলো হ্যাঁ। আমরা সাক্ষী থাকলাম; (এই স্বীকৃতি ও সাক্ষী বানানো এই জন্যে যে,) যাতে তোমরা কিয়ামতের দিন বলতে না পার- আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ অনবহিত ছিলাম।
১৭৩ أَوْ تَقُولُوا إِنَّمَا أَشْرَكَ آبَاؤُنَا مِن قَبْلُ وَكُنَّا ذُرِّيَّةً مِّن بَعْدِهِمْ ۖ أَفَتُهْلِكُنَا بِمَا فَعَلَ الْمُبْطِلُونَ
অথবা তোমরা যেন কিয়ামতের দিন এ কথা বলতে না পার, আমাদের পূর্ব পুরুষরাই তো আমাদের পূর্বে শিরক করেছিল, আমরা ছিলাম তাদের পরবর্তী বংশধর, সুতরাং আপনি কি আমাদেরকে সেই ভ্রান্ত ও বাতিলদের কৃতকর্মের দরুন ধ্বংস করবেন।
১৭৪ وَكَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
এভাবেই আমি বাণী সমূহকে ও নিদর্শনাবলীকে বিশদভাবে বিবৃত করে থাকি, যাতে তারা (কুফরী হতে তাওহীদের দিকে) ফিরে আসে।
১৭৫ وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ الَّذِي آتَيْنَاهُ آيَاتِنَا فَانسَلَخَ مِنْهَا فَأَتْبَعَهُ الشَّيْطَانُ فَكَانَ مِنَ الْغَاوِينَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি এদেরকে সেই ব্যক্তির বৃত্তান্ত পড়ে শুনিয়ে দাও, যাকে আমি আমার নিদর্শন দান করেছিলাম; কিন্তু সে (এর দায়িত্ব পালন করা হতে) সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসে, ফলে শয়তান তার পিছনে লেগে যায়, আর সে পথভ্রষ্টদের মধ্যে শামিল হয়ে যায়।
১৭৬ وَلَوْ شِئْنَا لَرَفَعْنَاهُ بِهَا وَلَـٰكِنَّهُ أَخْلَدَ إِلَى الْأَرْضِ وَاتَّبَعَ هَوَاهُ ۚ فَمَثَلُهُ كَمَثَلِ الْكَلْبِ إِن تَحْمِلْ عَلَيْهِ يَلْهَثْ أَوْ تَتْرُكْهُ يَلْهَث ۚ ذَّٰلِكَ مَثَلُ الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا ۚ فَاقْصُصِ الْقَصَصَ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ
আর আমি ইচ্ছা করলে তাকে এই আয়াতসমূহের সাহায্যে উন্নত করতাম; কিন্তু সে দুনিয়ার প্রতি অধিক ঝুঁকে পড়ে এবং স্বীয় কামনা-বাসনার অনুসরণ করতে থাকে, তার উদাহরণ একটি কুকুরের ন্যায়, ওকে যদি তুমি ধমক বা কিছু দ্বারা আঘাত করে তাড়িয়ে দাও, তবে জিহ্বা বের করে হাঁপায়, আবার যদি ওকে কিছু না করে ছেড়ে দাও তবুও জিহ্বা বের করে হাঁপাতে থাকে, যারা আমার আয়াতসমূহে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, এই উদাহরণ হল সেই সম্প্রদায়ের তুমি কাহিনী বর্ণনা করে শুনাতে থাকো, হয়তো তারা এটা চিন্তা-ভাবনা করবে।
১৭৭ سَاءَ مَثَلًا الْقَوْمُ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَأَنفُسَهُمْ كَانُوا يَظْلِمُونَ
এই উদাহরণটি সেই সম্প্রদায়ের জন্যে কতই না মন্দ উদাহরণ যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা মনে করে থাকে এবং তারা নিজেরাই নিজেদের উপর অত্যাচার করতে থাকে।
১৭৮ مَن يَهْدِ اللَّهُ فَهُوَ الْمُهْتَدِي ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
আল্লাহ যাকে হেদায়েত করেন সে-ই হেদায়েতপ্রাপ্ত হন, আর যাকে তিনি বিভ্রান্ত করেন সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্থ হয়।
১৭৯ وَلَقَدْ ذَرَأْنَا لِجَهَنَّمَ كَثِيرًا مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ ۖ لَهُمْ قُلُوبٌ لَّا يَفْقَهُونَ بِهَا وَلَهُمْ أَعْيُنٌ لَّا يُبْصِرُونَ بِهَا وَلَهُمْ آذَانٌ لَّا يَسْمَعُونَ بِهَا ۚ أُولَـٰئِكَ كَالْأَنْعَامِ بَلْ هُمْ أَضَلُّ ۚ أُولَـٰئِكَ هُمُ الْغَافِلُونَ
আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্যে সৃষ্টি করেছি, তাদের হৃদয় রয়েছে; কিন্তু তারা তা দ্বারা উপলব্ধি করে না, তাদের চক্ষু রয়েছে; কিন্তু তারা তা দ্বারা দেখে না, তাদের কর্ণ রয়েছে; কিন্তু তা দ্বারা তারা শোনে না, তারাই হল পশুর ন্যায়; বরং তা অপেক্ষাও অধিক বিভ্রান্ত, তারাই হল গাফিল বা অমনোযোগী।
১৮০ وَلِلَّهِ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ فَادْعُوهُ بِهَا ۖ وَذَرُوا الَّذِينَ يُلْحِدُونَ فِي أَسْمَائِهِ ۚ سَيُجْزَوْنَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
আর আল্লাহর অসংখ্য সুন্দর সুন্দর ও ভাল নাম রয়েছে, সুতরাং তোমরা তাঁকে সেসব নামেই ডাকবে, আর তাদেরকে বর্জন কর যারা তাঁর নাম বিকৃত করে, সত্বরই তাদেরকে তাদের কৃতকর্মের প্রতিফল দেয়া হবে।
১৮১ وَمِمَّنْ خَلَقْنَا أُمَّةٌ يَهْدُونَ بِالْحَقِّ وَبِهِ يَعْدِلُونَ
আর আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন একটি দলও রয়েছে যারা সত্য (অর্থাৎ দ্বীন ইসলাম)- এর অনুরূপ হিদায়াত করে এবং ওরই অনুরূপ ইনসাফও করে।
১৮২ وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُم مِّنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُونَ
যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আমি তাদের অজ্ঞাতে তাদেরকে ধীরে ধীরে পাকড়াও করবো।
১৮৩ وَأُمْلِي لَهُمْ ۚ إِنَّ كَيْدِي مَتِينٌ
আমি তাদেরকে অবকাশ দিচ্ছি, নিশ্চয় আমার কৌশল বা ষড়যন্ত্র অতি শক্ত।
১৮৪ أَوَلَمْ يَتَفَكَّرُوا ۗ مَا بِصَاحِبِهِم مِّن جِنَّةٍ ۚ إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيرٌ مُّبِينٌ
তারা কি এটা চিন্তা করে না যে, তাদের সঙ্গী পাগল নয়? তিনি তো একজন সুস্পষ্ট সতর্ককারী!
১৮৫ أَوَلَمْ يَنظُرُوا فِي مَلَكُوتِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا خَلَقَ اللَّهُ مِن شَيْءٍ وَأَنْ عَسَىٰ أَن يَكُونَ قَدِ اقْتَرَبَ أَجَلُهُمْ ۖ فَبِأَيِّ حَدِيثٍ بَعْدَهُ يُؤْمِنُونَ
তারা কি আকাশসমূহও পৃথিবীর রাজত্ব সম্পর্কে কোন গভীর চিন্তা করে না? আর আল্লাহ যা কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের জীবনের নির্দিষ্ট মেয়াদটি পূর্ণ হবার সময়টি হয়তো বা নিকটে এসে পড়েছে তারা কি এটাও চিন্তা করে না? সুতরাং কুরআনের পর তারা কোন কথায় ঈমান আনবে?
১৮৬ مَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ ۚ وَيَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ
যাদেরকে আল্লাহ বিপদগামী করেন, তাদের কোন পথ প্রদর্শক নেই, আর আলাহ তাদেরকে তাদেরই বিভ্রান্তির মধ্যে দিশেহারার (বিভ্রান্তির) ন্যায় ঘুরে বেড়াতে ছেড়ে দেন।
১৮৭ يَسْأَلُونَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ رَبِّي ۖ لَا يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلَّا هُوَ ۚ ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۚ لَا تَأْتِيكُمْ إِلَّا بَغْتَةً ۗ يَسْأَلُونَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا ۖ قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِندَ اللَّهِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করছে যে, কিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? তুমি বলে দাওঃ এই বিষয়ে আমার প্রতিপালকই একমাত্র জ্ঞানের অধিকারী, শুধু তিনিই এর নির্ধারিত সময়ে প্রকাশ করবেন, তা হবে আকাশ রাজ্য ও পৃথিবীতে একটি ভয়ংকর ঘটনা, তোমাদের উপর তা আকস্মিকভাবেই আসবে, তুমি যেন এ বিষয়ে পুরোপুরি অবগত, এটা ভেবে তারা তোমাকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছে, তুমি বলে দাওঃ এর সম্পর্কে জ্ঞান একমাত্র আল্লাহর কাছেই রয়েছে; কিন্তু অধিকাংশ লোকই এ সম্পর্কে কোনই জ্ঞান রাখে না।
১৮৮ قُل لَّا أَمْلِكُ لِنَفْسِي نَفْعًا وَلَا ضَرًّا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۚ وَلَوْ كُنتُ أَعْلَمُ الْغَيْبَ لَاسْتَكْثَرْتُ مِنَ الْخَيْرِ وَمَا مَسَّنِيَ السُّوءُ ۚ إِنْ أَنَا إِلَّا نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি ঘোষণা দিয়ে দাওঃ আল্লাহ যা ইচ্ছা করেন তা ছাড়া আমার নিজের ভাল-মন্দ, লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি বিষয়ে আমার কোন অধিকার নেই, আমি যদি অদৃশ্য তত্ত্ব ও খবর জানতাম তবে আমি অনেক কল্যাণ লাভ করতে পারতাম আর কোন অমঙ্গল ও অকল্যাণই তোমাকে স্পর্শ করতে পারতো না। (অতএব অদৃশ্যের কোন খবরই আমি রাখি না,) আমি শুধু মু’মিন সম্প্রদায়ের জন্যে একজন সতর্ককারী ও সুসংবাদবাহী।
১৮৯ هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ وَجَعَلَ مِنْهَا زَوْجَهَا لِيَسْكُنَ إِلَيْهَا ۖ فَلَمَّا تَغَشَّاهَا حَمَلَتْ حَمْلًا خَفِيفًا فَمَرَّتْ بِهِ ۖ فَلَمَّا أَثْقَلَت دَّعَوَا اللَّهَ رَبَّهُمَا لَئِنْ آتَيْتَنَا صَالِحًا لَّنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ
তিনিই আলাহ যিনি তোমাদেরকে এক ব্যক্তি (আদম আঃ) হতে সৃষ্টি করেছেন এবং সেই ব্যক্তি হতেই তাঁর সঙ্গিনী (হাওয়া আঃ)-কে সৃষ্টি করেছেন যেম তিনি তার নিকট থেকে প্রশান্তি লাভ করতে পারেন, অতঃপর যখন সে তার (স্ত্রীর) সাথে মিলনে প্রবৃত্ত হয় তখন সেই মহিলাটি এক গোপন ও লঘু গর্ভধারণ করে, আর (এই অবস্থায় সে দিন কাটাতে থাকে এবং) তা নিয়ে চলাফেরা করতে থাকে, অতঃপর যখন তার গর্ভ গুরুভার হয় তখন তারা উভয়েই তাদের প্রতিপালকের কাছে দু’আ করেঃ যদি আপনি আমাদেরকে সৎ সন্তান দান করেন তবে আমরা আপনার কৃতজ্ঞ বান্দা হবো।
১৯০ فَلَمَّا آتَاهُمَا صَالِحًا جَعَلَا لَهُ شُرَكَاءَ فِيمَا آتَاهُمَا ۚ فَتَعَالَى اللَّهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
অতঃপর তিনি যখন তাদেরকে সৎ ও সুস্থ সন্তান দান করেন তখন তারা আল্লাহর দেয়া এই দানে অংশী স্থাপন করে; কিন্তু তারা যাকে অংশী করে আল্লাহ তা অপেক্ষা অনেক উন্নত ও মহান।
১৯১ أَيُشْرِكُونَ مَا لَا يَخْلُقُ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ
তারা কি এমন বস্তুকে (আল্লাহর সাথে) অংশী করে থাকে যারা কোন বস্তুই সৃষ্টি করে না বরং তারা নিজেরাই (আল্লাহর দ্বারা) সৃষ্টিকৃত?
১৯২ وَلَا يَسْتَطِيعُونَ لَهُمْ نَصْرًا وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ
এই শরীরকৃত জিনিসসমূহ যেমন তাদের কোন সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না, তেমনি নিজেদেরকেও কোন সাহায্য করতে পারে না।
১৯৩ وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَىٰ لَا يَتَّبِعُوكُمْ ۚ سَوَاءٌ عَلَيْكُمْ أَدَعَوْتُمُوهُمْ أَمْ أَنتُمْ صَامِتُونَ
তোমরা যদি ওদেরকে সৎপথে ডাকো তবে তারা তোমাদের অনুসরণ করবে না। তাদেরকে ডাকতে থাকা অথবা তোমাদের চুপ করে থাকা উভয়ই তোমাদের পক্ষে সমান।
১৯৪ إِنَّ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ عِبَادٌ أَمْثَالُكُمْ ۖ فَادْعُوهُمْ فَلْيَسْتَجِيبُوا لَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা তো তোমাদেরই ন্যায় বান্দা, সুতরাং তোমরা তাদেরকে ডাকতে থাকো, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তারা তোমাদের ডাকে সাড়া দেবে।
১৯৫ أَلَهُمْ أَرْجُلٌ يَمْشُونَ بِهَا ۖ أَمْ لَهُمْ أَيْدٍ يَبْطِشُونَ بِهَا ۖ أَمْ لَهُمْ أَعْيُنٌ يُبْصِرُونَ بِهَا ۖ أَمْ لَهُمْ آذَانٌ يَسْمَعُونَ بِهَا ۗ قُلِ ادْعُوا شُرَكَاءَكُمْ ثُمَّ كِيدُونِ فَلَا تُنظِرُونِ
তাদের কি পা আছে যা দ্বারা তারা চলছে? তাদের কি হাত আছে যা দ্বারা কোন কিছু ধরে থাকে? তাদের কি চক্ষু আছে যা দ্বারা দেখতে পারে? তাদের কি কর্ণ আছে যা দ্বারা শুনে থাকে? (হে নবী সঃ)! তুমি বলে দাওঃ আল্লাহর সাথে তোমরা যাদেরকে অংশী করেছো, তাদেরকে ডাকো, তারপর (সকলে একত্রিত হয়ে) আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে থাকো, আমাকে আদৌ কোন অবকাশ দিও না।
১৯৬ إِنَّ وَلِيِّيَ اللَّهُ الَّذِي نَزَّلَ الْكِتَابَ ۖ وَهُوَ يَتَوَلَّى الصَّالِحِينَ
আমার অভিভাবক হলেন সেই আল্লাহ যিনি কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, আর তিনিই সৎকর্মশীলদের অভভাবকত্ব করে থাকেন।
১৯৭ وَالَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَسْتَطِيعُونَ نَصْرَكُمْ وَلَا أَنفُسَهُمْ يَنصُرُونَ
আল্লাহ ছাড়া তোমরা যাদেরকে ডাকো, তারা তোমাদের সাহায্য করার কোন ক্ষমতা রাখে না এবং তারা নিজেদেরকেও সাহায্য করতে পারে না।
১৯৮ وَإِن تَدْعُوهُمْ إِلَى الْهُدَىٰ لَا يَسْمَعُوا ۖ وَتَرَاهُمْ يَنظُرُونَ إِلَيْكَ وَهُمْ لَا يُبْصِرُونَ
যদি তুমি তাদেরকে হিদায়াতের পথে ডাকো, তবে সে ডাক তারা শুনবে না, আর তুমি দেখবে যে, তারা তোমার দিকে তাকিয়ে রয়েছে, আসলে তারা কিছুই দেখছে না।
১৯৯ خُذِ الْعَفْوَ وَأْمُرْ بِالْعُرْفِ وَأَعْرِضْ عَنِ الْجَاهِلِينَ
(হে নবী সঃ)! তুমি বিনয় ও ক্ষমা পরায়ণতার নীতি গ্রহণ কর এবং লোকদেরকে সৎকাজে নির্দেশ দাও, আর মূর্খদেরকে এড়িয়ে চল।
২০০ وَإِمَّا يَنزَغَنَّكَ مِنَ الشَّيْطَانِ نَزْغٌ فَاسْتَعِذْ بِاللَّهِ ۚ إِنَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
শয়তানের কুমন্ত্রণা যদি তোমাকে প্ররোচিত করে তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা কর, তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x