১৯৮৭-র ২০ আগস্ট আজকাল পত্রিকায় ‘চিটিং ফাঁক’ সিরিজে ‘ছুড়ি-কাঁচি ছাড়া অপারেশন’ শিরোনামে জাদুকর পি.সি. সরকার (জুনিয়র)-এর একটি লেখা প্রকাশিত হয়। লেখাটি প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণের মধ্যে তীব্র বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। শ্রীসরকার ‘ফেইথ হিলার’কে ‘স্পেশাল ডাক্তার’ নামে অভিহিত করে তাঁর প্রতিবেদনে জানান, রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচারের সময় স্পেশাল ডাক্তার তাঁর নিজের আঙ্গুলের ফাঁকে একটা আলপিন ঢুকিয়ে নিজের শরীর থেকে রক্ত বের করে। সাধারণ মানুষ স্পেশাল ডাক্তারের শরীর থেকে বের হওয়া রক্তকেই রোগীর শরীর থেকে অস্ত্রোপচারের জন্য বেড়িয়ে আসা রক্ত বলে ভুল করেন। কলকাতা পুলিশের গোয়ান্দা বিভাগ তাই রোগীর দেহে লেগে থাকা রক্তের নমুনা ফরেনসিক পরীক্ষা করে স্পেশাল ডাক্তারের অস্ত্রোপচার ধাপ্পা কি না ধরতে গিয়ে ঠকে গেছেন। কারণ ফরেনসিক রিপোর্টে দেখা গেছে রক্তটা মানুষেরই।

শ্রীসরকারের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হওয়ার এক মাস আগে ২০ জুলাই ৮৭-এ আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘কুলকাতার কড়চা’ কলমে ‘লৌকিক-অলৌকিক’ শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হয়, তাতে জানান হয়েছিলঃ

অজ্ঞান না করে, স্রেফ খালি হাতে, ব্যথাহীন অস্ত্রোপচারে রোগ সারানোর কৌশল জানা আছে বলে দাবী করেন ‘ফেইথ হিলার’রা। সেই ফেইথ হিলার-দের নিয়ে সারা পৃথিবী জূড়ে চলছে রীতিমত হৈ-চৈ। সম্প্রতি ম্যানিলা থেকে গৌহাটি হয়ে কলকাতায় এসে রোমিও পি গ্যালার্ডো আর তাঁর স্ত্রী রোজিও গ্যালার্ডো অলৌকিক চিকিৎসা হিসেবে আসর জমিয়ে বসেছিলেন। ওঁরা দুজনে মিলে নাকি দুশোজন পর্যন্ত রোগীর রোগমুক্তি ঘটাচ্ছিলেন। একেকজনের অস্ত্রোপচারে সময় লাগছিল মাত্র তিন থেকে পাঁচ মিনিট। আর ফি মাত্র পাঁচ হাজার টাকা। অস্ত্রোপচার শেষে রোগীর দেহে সামান্যতম দাগও নাকি খুঁজে পাচ্ছিলেন না কেউ। বেশ চলছিল এসব অবিশ্বাস্য কাজকর্ম। এমন সময়ে আসরে এলেন ‘র‍্যাশনালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া’র সম্পাদক প্রবীর ঘোষ। নিজের আসল পরিচয় লুকিয়ে তিনি উঠলেন গ্যালার্ডোর অপারেশন টেবিলে। অপারেশনের পুরো দৃশ্যটা ভিডিও ক্যামেরায় ধরে রাখলেন তাঁর দুই সঙ্গী। আর অস্ত্রোপচারের পর প্রবীর বাবু নিজের শরীরে লেগে থাকা রক্ত তুলোয় মুছে, তা তুলে দিলেন দুঁদে পুলিশ অফিসার সুবিমল দাশগুপ্তের জিম্মায়। রক্তাক্ত তুলো ‘সীল’ করা হল ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য। ব্যাপার-স্যাপার দেখে গ্যালার্ডো দম্পতি তড়িঘড়ি কলকাতা থেকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে পালালেন ম্যানিলায়। ইতিমধ্যে ফরেনসিক রিপোর্টে মিলেছে এক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। রক্তের নমুনা মানুষের নয়। পশুর। যুক্তিবাদী প্রবীর বাবু বিভিন্ন সমাবেশে দেখিয়ে বেড়াচ্ছেন অলৌকিক বলে প্রচারিত লোক ঠকানো ‘ফেইথ হিলিং’ বা ‘সাইকিক সারজারি’র কৌশল। আর এ কাজে প্রবীর ঘোষকে চিঠিপত্রে প্রায়শই উৎসাহ যোগাচ্ছেন অলৌকিক-বিরোধী জনপ্রিয় মার্কিন লেখক জেমস র‍্যান্ডি।

বিভ্রান্তির কারণ তিনটি। প্রথমতঃ প্রতিদিন একশো থেকে দুশোজন রোগীর শরীরে অস্ত্রোপচার করার ক্ষেত্রে নিজের শরীরের রক্তকে রোগীর শরীরের রক্ত বলে বিশ্বাস স্থাপন করাতে কম করেও যে পরিমাণ রক্ত নিজের শরীর থেকে বের করা প্রয়োজন সেই পরিমাণ রক্ত বের করার পরও স্পেশাল ডাক্তারের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব কি না? বিশেষত স্পেশাল ডাক্তার যেহেতু প্রতিদিনই এই সংখ্যক রোগীদের শরীরে অস্ত্রোপচার করে চলেছেন।

দ্বিতীয়তঃ আঙ্গুলের ফাঁকের অংশে শরীরের ভিতর আলপিন ফুটিয়ে অত বিপুল রক্ত বের করা আদৌ বাস্তবসম্মত চিন্তার ফসল নয়, বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তৃতীয়তঃ কলকাতার গোয়েন্দা দপ্তর যে রক্তের নমুনা অস্ত্রোপচারকালীন সংগ্রহ করেছিল তার ফরেনসিক রিপোর্ট বিষয়ে শ্রীসরকার বলছেন- রক্তের নমুনা ছিল মানুষেরই। আমার বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে- ফরেনসিক রিপোর্ট ছিল রক্তের নমুনা পশুর। আমাদের দুজনের পরস্পর বিরোধী কথায় উভয় পত্রিকার পাঠকরা বিভ্রান্ত হয়েছেন। ফরেনসিক রিপোর্ট বিষয়ে আমাদের দুজনের মধ্যে একজন কেউ নিশ্চয়ই ভুল বা মিথ্যে তথ্য পরিবেশন করেছি।

জানতাম, আমার উপর মিথ্যে সন্দেহের বোঝা বিচ্ছিন্নভাবে শুধু আমার ক্ষেত্রে নয়, আমাদের সমিতির সততা বিষয়টিও আসতে বাধ্য, যা যুক্তিবাদী আন্দোলনকে ক্ষতিগ্রস্থ করবে, ব্যাহত করবে। এক্ষেত্রে আমার পক্ষে নীরবতা পালন বিভ্রান্তিই বাড়াবে মাত্র। তাই বিজ্ঞান আন্দোলনের স্বার্থে, যুক্তিবাদী আন্দোলনের স্বার্থেই শ্রীসরকারের প্রসঙ্গকে টেনে আনতে বাধ্য হলাম।

বিভ্রান্ত পাঠক-পাঠিকাদের কাছ থেকে বেশ কিছু চিঠি এই প্রসঙ্গে পেয়েছি। তাঁদের প্রত্যেকেরই মূল বক্তব্য ছিল- আমাদের দুজনের মধ্যে কে সত্য কথা বলছি। আমার বক্তব্য যদি সত্যি হয়, তবে মুখ খুলছি না কেন? বহু চিঠির ভিতর থেকে এখানে দেবদর্শন চক্রবর্তী, তথাগত চট্টোপাধ্যায় ও আদৃতা মুখোপাধ্যায়ের স্বাক্ষরিত চিঠিটির উল্লেখ করছি। চিঠিতে তাঁরা জানিয়েছেনঃ

আমরা যৌথভাবে আনন্দবাজার পত্রিকার ‘সম্পাদক সমীপেষু’ বিভাগে এবং আজকাল পত্রিকার ‘প্রিয় সম্পাদক’ বিভাগে দুটি চিঠি পেয়েছি। চিঠি দুটির প্রতিলিপি আমার কাছে পাঠালাম। এই বিষয়ে আপনার মতামত আমরা প্রকাশ্যে জানতে আগ্রহী, আপনি নীরব থাকলে আমরা অবশ্যই ধরে নেবো, আপনি মিথ্যা প্রচারের সুযোগ নিয়ে যশ, প্রতিপত্তি বৃদ্ধিতে ইচ্ছুক একজন ধূর্ত ভন্ড ও প্রতারক। এই একই ধরনের চিঠি আমরা জাদুকর পি.সি. সরকার (জুনিয়র)-কেও পাঠিয়েছি। আশা রাখি, আমাদের এই সত্যকে জানার যুক্তিনিষ্ট প্রচেষ্টাকে আপনারা দুজনেই স্বাগত জানিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন।

যে দুটি চিঠি তাঁরা পাঠিয়েছিলেন তার প্রতিলিপি এখানে তুলে দিচ্ছি –

‘প্রিয় সম্পাদক’                                          ৩১ আগস্ট ১৯৮৭

আজকাল

৯৬, রাজা রামমোহন সরণি

ক্লকাতা-৭০০ ০০৯

জাদুকর পি.সি. সরকার (জুনিয়র) ‘চিটিং ফাঁক’-এর নামে যে সব তথ্য ও তত্ত্ব পরিবেশন করছেন, সেগুলোর বিশুদ্ধতা সম্বন্ধে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যাচ্ছে। জাদুকর সরকারকে বিনীত অনুরোধ, জাদু নিয়ে থাকুন, জাদু নিয়ে লিখুন, কিন্তু রাতারাতি বিজ্ঞানমনস্ক সাজতে যাবেন না। বিজ্ঞানমনস্ক সাজা যায় না, হতে হয়।

জাদুকর সরকার একজন অলৌকিকত্বের ধারক-বাহক। তাঁর কথায় – আমার মতে আত্মা জিনিসটা সম্পূর্ণ বাস্তব, কিন্তু চলতি বিজ্ঞান এখনো তাকে ঠিক মতো সমঝে উঠতে পারেনি। তিনি আর এক জায়গায় বলেছেন, “ভূত সম্পর্কে আমরা জানি না বুঝি না বলে উড়িয়ে দেওয়া মোটেই ঠিক নয়। বড় বড় বৈজ্ঞানিকেরা কেউই কিন্তু উড়িয়ে দেননি।” আরও সুন্দর কথাও তাঁর কলমে আমরা পড়েছি-  “আজকে যেটাকে ভৌতিক ভাবছি, আগামী দিনে সেটা হয়ত পরিষ্কার বিজ্ঞান বলে পরিচিত হবে।”

এই তিনটি উক্তি তোলা হয়েছে, ‘কিশোর মন’ পত্রিকায় “অমর আত্মার কাহিনী” রচনা থেকে।

জাদুকর সরকারের এইসব বিজ্ঞান বিরোধী কথার এখানে শেষ নয়। তিনি নিজেও নাকি এক ভূতের কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন।

জাদুকর সরকার ঈশ্বরের
অস্তিত্বেও বিশ্বাসী; অলৌকিকত্বে
বিশ্বাসী। তারও বহু উদাহরণ ছড়িয়ে আছে তাঁরই
বহু লেখায়। তাঁর মত এমন একজন বিজ্ঞান-বিরোধী
শিবিরের মানুষকে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে
বিজ্ঞানমনস্কদের পক্ষে প্রচার
চালাতে দেখতে শঙ্কিত হই।

শঙ্কা আরও বাড়ে যখন দেখি ভেজাল ধরতে গিয়ে তিনি নিজেই ভেজাল দিচ্ছেন।

২০শে আগস্টের লেখায় যাদের তিনি “স্পেশাল ডাক্তার” বলেছেন, তাঁদের প্রকৃত টার্মটা তাঁর জানা ছিল না বলেই কি তাঁদের ওই নামে অভিহিত করেছেন? এনসাইক্লোপিডিয়ায় চোখ বুলোলে তিনি ‘ফেইথ হিলার’দের কথা নিশ্চয়ই পেতেন। তিনি কি জানেন পৃথিবীর বহু দেশ ফেইথ হিলারদের নিয়ে তথ্যচিত্রও তুলেছে? ফেইথ হিলাররা ঠিক সেই ধরনের চিটিংবাজ নয়,  অতিসরলীকরণ করে যে ভাবে জাদুকর সরকার তাঁদের চিত্রিত করেছেন।

জাদুকর সরকারের মতে, নিজের আঙ্গুলে আলপিন ফুটিয়ে স্পেশাল ডাক্তার অপারেশনের রক্ত বার করেন। এই পদ্ধতিতে কোন রকম ভাবেই এক নাগাড়ে মাত্র পাঁচজন রোগীর উপরও অস্ত্রোপচার চালানো সম্ভব নয়; অথচ ফেইথ হিলাররা দিনে একশোর উপরও অপারেশন করে থাকেন। শ্রীসরকারকে বিনীত অনুরোধ, কোন বিষয় না জেনে সে সম্পর্কে অন্যকে জানাবার বাসনা সংযত করুন।

জাদুকর পি সি সরকারের যে বক্তব্যের সার অনুসন্ধানের জন্য মূলত আমাদের এই চিঠি লেখা, তা হল, শ্রীসরকার তাঁর লেখাটিতে জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ রোগীর দেহের লেগে থাকা রক্তের নমুনার ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখেছেন, এটি মানুষের রক্ত।

২০ জুলাই আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘কলকাতার কড়চা’য় ‘লৌকিক – অলৌকিক’ নামে একটি ফিচার প্রকাশিত হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, র‍্যাশনালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সম্পাদক প্রবীর ঘোষ নিজের পরিচয় গোপন করে, খালি হাতে ব্যথাহীন অস্ত্রোপচারের পর প্রবীরবাবুর শরীর থেকে বেড়িয়ে আসা রক্ত সংগ্রহ করেন পুলিশ অফিসার সুবিমল দাশগুপ্ত। ফরেনসিক নমুনায় দেখা যায় রক্তের নমুনা পশুর। ব্যাপার দেখে গ্রেপ্তার এড়াতে গ্যালার্ডো দম্পতি কারবার গুটিয়ে পালিয়েছেন ম্যানিলায়।

ফেইথ হিলারদের ফরেনসিক রিপোর্ট নিয়ে যুক্তিবাদী প্রবীর ঘোষ ও জাদুকর পি সি সরকার (জুনিয়র)-এর মধ্যে যে কেউ একজন ভুল বা মিথ্যে খবর পরিবেশন করেছেন। যুক্তিবাদী ও বিজ্ঞানমনস্ক লক্ষ লক্ষ মানুষের কাছে শ্রীঘোষের বিজ্ঞানসম্মত যুক্তিগুলো জাদুকর সরকারের অতীন্দ্রিয় বিষয়গুলির ব্যাখ্যার চেয়ে অনেকবেশি গ্রহণযোগ্য মনে হয়। যুক্তিবাদী মানুষ হিসেবে আমরা প্রকৃত সত্যের মুখোমুখি হতে চাই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সকলে সহযোগিতা করলে বাধিত হবো।

স্বাক্ষরঃ দেবদর্শন চক্রবর্তী

(রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ)

স্বাক্ষরঃ তথাগত চট্টোপাধ্যায়

(অর্থনীতি বিভাগ)

স্বাক্ষরঃ আদৃতা মুখোপাধ্যায়

(ইংরাজী বিভাগ)

প্রেসিডেন্সী কলেজ, কলকাতা।

স্মাপদক সমীপেষু                                     ৩১ আগস্ট ১৯৮৭

আনন্দবাজার পত্রিকা

৬, প্রফুল্ল সরকার স্ট্রীট

কলকাতা-৭০০ ০০১

২০শে জুলাই আনন্দবাজার পত্রিকায় ‘কলকাতার কড়চা’য় ‘লৌকিক – অলৌকিক’ নামে একটি ফিচার প্রকাশিত হয়েছে। তাতে বলা হয়েছিল, র‍্যাশনালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার সম্পাদক প্রবীর ঘোষ নিজের পরিচয় গোপন করে খালি হাতে ব্যথাহীন অস্ত্রোপচারের জন্য ফেইথ হিলার গ্যালার্ডোর অপারেশন টেবিলে ওঠেন। অস্ত্রোপচারের পর প্রবীর ঘোষের শরীর থেকে বেড়িয়ে আসা রক্ত সংগ্রহ করে ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠান পুলিশ অফিসার সুবিমল দাশগুপ্ত। ফরেনসিক পরীক্ষায় দেখা যায় রক্তের নমুনা মানুষের নয়, পশুর।

২০ আগস্ট ‘আজকাল’ পত্রিকার ‘চিটিং ফাঁক’ কলমে ফেইথ হিলারের উপরে ‘ছুড়ি কাঁচি ছাড়া অপারেশন’ শীর্ষক একটি লেখা প্রকাশিত হয়। লেখক জাদুকর পি সি সরকার (জুনিয়র)। শ্রীসরকার জানিয়েছেন, কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ রোগীর দেহে লেগে থাকা রক্তের নমুনার ফরেনসিক পরীক্ষা করে দেখেছেন, এটি মানুষের রক্ত।

দুই পত্রিকার দুই বিপরীত বক্তব্যে আমরা বিভ্রান্ত। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পত্রিকা দুটি এবং শ্রী ঘোষ ও শ্রী সরকারের সহযোগিতা কামনা করি।

প্রেসিডেন্সি কলেজের পক্ষে

আদৃতা মুখোপাধ্যায় (ইংরাজী বিভাগ)

তথাগত চট্টোপাধ্যায় (অর্থনীতি বিভাগ)

দেবদর্শন চক্রবর্তী (রাষ্টবিজ্ঞান বিভাগ)

আবারও বলি এই জাতীয় বক্তব্যের প্রচুর চিঠি আমি পেয়েছি। এর উত্তরে অতি স্পষ্ট করে বক্তব্য রাখার একান্ত প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে জানাচ্ছিঃ

১। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা দপ্তর কলকাতায় আসা ফিলিপিনো ফেইথ হিলার বা ‘স্পেশাল ডাক্তার’-এর অস্ত্রোপচার করার সময় একবারই মাত্র রক্ত সংগ্রহ করেছিলেন।

২। রক্ত সংগ্রহ করেছিলেন সেই সময়কার কলকাতা পুলিশের যুগ্ম-কমিশনার সুবিমল দাশগুপ্ত।

৩। আমার শরীরে অস্ত্রোপচারকালে বেরিয়ে আসা রক্তই সুবিমল দাশগুপ্ত সংগ্রহ করেছিলেন।

৪। রক্তের নমুনার ফরেনসিক পরীক্ষার ফল আগেই তুলে দিয়েছি। তাতে স্পষ্টতই জানানো হয়েছে রক্তের নমুনা ছিল পশুর।

৫। পি সি সরকার (জুনিয়র)-এর ‘আজকাল’ পত্রিকায় প্রকাশিত ফেইথ হিলার সম্পর্কিত লেখাটির বিষয়ে সুবিমল দাশগুপ্ত অবহিত হয়েছিলেন। এবং শ্রীসরকারের বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন এবং একই সঙ্গে আন্তরিকভাবে দুঃখিত হয়েছিলেন।

প্রসঙ্গত জানাই, ফিলিপিন বেতার ও দূরদর্শন থেকে ফেইথ হিলার প্রসঙ্গে আমাকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান প্রচারিত হয় ১৯৯০ সালে।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x