অনেক ওঝা বা গুণীন রোগী দেখে জানায়, কেউ রোগীকে তুক করে শিকড় খাইয়ে দিয়েছে, তাতেই এই ভোগান্তি। রোগীকে বা রোগীর বাড়ির লোকের হাতেই ধরিয়ে দেওয়া হয় একটি পিতল বা কাঁসার ঘটি। বলে পাশের পুকুর, কুয়ো, টিউবকল বা জলের হাঁড়ি থেকে জল ভরে আনতে,

জল ভরা ঘটি গুণীনের হাতে দিতে সে রোগীর পেটে জল ভরা ঘটি বসিয়ে মন্ত্র পড়তে থাকে। এক সময় ঘটি নামিয়ে গুণীন রোগী বা রোগীর বাড়ির লোককে ঘটির জল পরীক্ষা করতে বলে। বিস্ফারিত চোখে রোগী ও তাদের বাড়ির লোক দেখতে পায় শিকড় বা ওই জাতীয় কিছু। খালি ঘটিতে শিকড় এলো কোথা থেকে? জল তো গুণীন বা তার কোনও লোক আনেনি? তবে?

দু-ভাবে এমন ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকে। কখনো পিতল কাঁসার ঘটির ভিতরের

পেট থেকে শিকড় তুলছেন জনৈক পুরোহিত

গলার দিকে (সে দিকটা সাধারণভাবে দৃষ্টির আড়ালে থাকে) আটার আঠা ও ওই ধরনের কিছু দিয়ে শিকড়টা জল আনতে দেওয়ার আগেই আটকে রাখে গুণীন। মন্ত্র-পরার মাঝে সুযোগ বুঝে আটকে রাখা শিকড়কে মুক্ত করে। বিষয়টা ছবিতে বোঝাবার চেষ্টা করলাম।

কখনো বা মন্ত্র-পড়ার ফাঁকে গুণীন সবার চোখের আড়ালে একটা শিকড় জলে ফেলে দেয়।

এ সত্ত্বেও অনেক সময় রোগী কিছুটা সুস্থবোধও করেন। বিশ্বাসবোধকে কাজে লাগিয়ে বহু অসুখই সারান সম্ভব। মনোবিজ্ঞানী, মনোরোগ চিকিৎসক এমনকি

ভিতরের দিকে শিকড় লাগানো আছে।

চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতেও তার প্রচুর উদাহরণও আছে। ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’ গ্রন্থটির প্রথম খন্ডে এই নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা রয়েছে। কোন কোন অসুখের ক্ষেত্রে বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অসুখ সারান সম্ভব এবং কেন তা সারে- এই প্রসঙ্গ নিয়ে তাই আবার পুরোন আলোচনায় ফিরলাম না।