(৩)

দেশের দশটা জায়গা জুড়ে আজ ও আগামীকাল আমাদের কর্মকাণ্ড; একযোগে আমরা কাজ করবো দিনাজপুর, ঠাকুরগাও, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সিলেট, বরিশাল, ভোলা, মাইজদি, লালমনিরহাঠ, নারায়ণগঞ্জ, আর আমার মদিনাতুন্নবি অঞ্চলে–এক সঙ্গে আমরা জিহাদ শুরু করবো।

আমাদের আজকের দিনটির নাম দিয়েছি। আমরা ‘ওমর দিবস’, আগামী কালের নাম ‘আলি দিবস’। দুটি পবিত্র দিবস। ওমর দিবসে আমরা ভৈরবের নাম বদলে রাখবো ‘ওমরপুর’, আলি দিবসে শ্যামসিদ্ধির নাম বদলে রাখবো ‘আলিগঞ্জ’, বদলে দেবো সব কিছু।

দিবস দুটির আর জায়গা দুটির নাম আমার মাথা থেকে বেরোয় নি।

বেরিয়েছে আমার দু-নম্বর মোঃ হাফিজুদিনের মগজ থেকে; আমি ক্রমশ ওর সম্পর্কে একটু একটু সাবধান হচ্ছি, খুনে আর নামকরণে ওর অলৌকিক প্রতিভা রয়েছে, যা আমাকে মুগ্ধ ও ভীত করে। ওর সম্ভবত কোনো জিনের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, যেটি খুবই শক্তিশালী, যেটি অসম্ভবকে সম্ভব করতে পারে; ওর দিকে তাকালে আমার মনে হয়ে একটি অসম্ভব সম্ভব হয়ে আছে। একদিন ও আমাদের ওসামা বিন লাদেন হয়ে উঠতে পারে, তখন ও আমাকে কানা মোল্লা উমর করে রাখবে না, আমাকে কাফের বলে আমার মাথায় কয়েকটি বুলেট ঢুকোবে।

আমাকে সাবধান হ’তে হবে।

আমি অবশ্য সাবধান, সাম্যবাদ ও সর্বহার করে করে আমাকে সাবধান হতে হয়েছে; এখন জামাঈ জিহাদে ইছলাম করতে এসে আমাকে আরো সাবধান হতে হচ্ছে। হোলি টেরর আনহোলি টেরারের থেকে ভয়ঙ্কর।

জিহাদি হাফিজুদিনটা একটু বেতমিজ, মুখে চমৎকার চাপদাড়ি, স্বাস্থ্যটাও ভালো; একাই দু-তিনটি দোকান ভাঙতে পারে, কয়েকটিতে আগুন লাগাতে পারে, গুলি চালাতে পারে, ‘আল্লাহু আকবর’, ‘আলি আলি জুলফিক্কার’ বলে ছুরি ঢুকোতে পারে; ফিরে এসে একটির পর একটি এক্সএক্সএক্স দেখতে পারে, সবই ইন্ডিয়ান, বড়ো দুধ আর বড়ো মাজা ওর পছন্দ, চাকরানিটাকে ডেকে এনে ঘন্টাখানেক ধীরে অরাল-অ্যানাল-ভ্যাজাইনাল করতে পারে, তারপর উঠে গিয়েই মধুর স্বরে ওয়াজ করতে পারে, ফতোয়া দিতে পারে।

ও একটি সাংঘাতিক প্রতিভা, আমি তার প্রতিভায় মুগ্ধ ও সন্ত্রস্ত।

‘ওমর দিবস’-এ আমরা কী করবো, সেটা আমি আলোচনা করি।

আলোচনা করতে বাধ্য হই, মোঃ হাফিজুদিনের সঙ্গে–আগের সন্ধ্যায় মাগরেবের নামাজটা সোরে, একটা এক্সএক্সএক্স দেখতে দেখতে, একটু ব্ল্যাক লেবেল একটু সিভাস রিগ্যাল খেতে খেতে। এই কাজটাও মোঃ হাফিজুদ্দিন পারে বেশ, আমাকে সহজেই ছাড়িয়ে যায়, ঢাকাঢািক ক’রে পানি ছাড়াই গিলে ফেলে, তখন ওকে অলৌকিক মনে হয়; ওর দাড়ি আর সুরমামাখ্যা চোখ দেখে এটা কেউ বুঝবে না, আমিই অনেক সময় বুঝতে পারি না।

দাড়ি অবশ্য আমিও রেখেছি, তবে আমার দাড়িটা ওর দাড়ির মতো কিছুতেই লম্বা হচ্ছে না, তাই মাঝেমাঝে আমি দাড়িগুলো টানি; এটা আমাকে একটা হীনম্মন্যতা বোধ দেয়, কিন্তু আমি এটা ওকে বুঝতে দিই না।

হাফিজুদ্দিন বলে, ‘কাউলকা দুই চাইরড লাশ ফেলতে অইব, মালাউনগো পাঁচ সাতটা দোকানো আগুন লাগাইতে হইব, ওগো দালালগো দোকান ঘরবাড়ি পুড়তে হইব, আর বিরিজটার পুব দিকটা চুরমার কইর‍্যা ফ্যালতে হইব।‘

আমি একটু চমকে উঠি ব্রিজটার কথা শুনে।

ব্রিজটা সব সময়ই আমাকে বিস্মিত করেছে, অনেকদিন মনে হয়েছে ওটির ওপর আমি শুয়ে থাকি, শুয়ে নদী দেখি; নিজেকেই আমার ব্রিজ মনে হয়েছে। এতো বড়ো একটি ব্রিজ কাফেররা কীভাবে বানিয়েছে, সেটা ভেবেও আমি অবাক হয়েছি। একটি দোয়া পড়ে কি আমরা এমন একটি ব্রিজ বানাতে পারি না? হজরত মুসাকে আমার মনে পড়ে, তবে তাঁর রাস্তাটি ছিলো ক্ষণস্থায়ী, আর ওইটা ছিলো ইহুদিদের জন্যে, তাই রাস্তাটিকে আমি একটি অপচয় মনে করি।

আমি বলি, ‘খুন তিন চারটা করলেও ক্ষতি নেই, সারা বাজারে আগুন লাগালেও ক্ষতি নেই, তাতেই আমাদের জিহাদ সফল হবে, আমরা ইছলামের দিকে পাক স্তানের দিকে বেশি এগিয়ে যাবো, আমাদের দলের শক্তি বাড়বে, তবে ব্রিজটা চুরমার করা ঠিক হবে না, মানুষের অসুবিধা হবে।’

মোঃ হাফিজুদিন বলে, ‘মাইনষের কথা ভাবনের সময় এইটা না, এইটা আসল কামের সময়, পাকিস্থান ভাঙ্গনের জইন্যে যেমন এই বিরিজ ভাঙছিল, আবর পাকিস্থান বানানের জইন্য এই বিরিজ ভাঙতে হইব।’

ব্রিজটার জন্যে আমার মায়া লাগে; আমি বলি, ‘ব্রিজ ভাঙার সময় পরেও পাবো, আগামীকালই দরকার নেই।’

মোঃ হাফিজুদিন হুইস্কির গেলাশে একটি বড়ো চুমুক দিয়ে, এক্সএক্সএক্স ছবিটার একটি দৃশ্য রিওয়াইন্ড করে, বলে, ‘হুজুর, জিহাদি জোশে আপনার দিল আইজও ভাইর‍্যা ওঠে নাই। তয় আপনের কতার ওপর কতা নাই, কয়ড ডিনামাইট মাডির নিচে জমা কইর‍্যা রাকাছি, পরে কামে লাগাম, ইনশাল্লা।’

আমি বলি, ‘মোঃ হাফিজুদিন ব্রিজটা তুমি ভাঙতে চাও, তা খুবই উত্তম। তারপর কি একটি দোয়া পড়ে ওটি বানাতে পারবে?’

মোঃ হাফিজুদ্দিন খুব বিব্রত হয়, বলে, ‘হুজুর, এমুন দোয়া অহনও পাই নাই।’

আমি বলি, ‘এমন দোয়া কি নেই?’

মোঃ হাফিজুদিন বলে, ‘হুজুর, আল্লার কিতাবে নিচই আছে, তয় অইডা খুঁইজ্যা দোকতে অইব।’

আমি বলি, ‘এখনো খোঁজো নি কেনো?’

মোঃ হাফিজুদিন বলে, ‘অহন থিকা খুজুম, হুজুর।’

আমি বলি, ‘এতো দেরি করলে কেনো?’

মোঃ হাফিজুদ্দিন বলে, ‘দোয়াডা খোজনের কতা মনে আছিল না, হুজুর।’

আমি বলি, ‘কোন কোন দোকানে আগুন লাগাতে চাও?’

মোঃ হাফিজুদ্দিন বলে, ‘গোডা দশেকের কমে হইব না; কয়ড়া মালাউনগো দোকানে আর কয়ড়া মালাউনগো দালালগো দোকানে; মালাউনগো আর তাগো দালালগো বাইচা থাকতে দিমুনা।’

আমি বলি, ‘বেশ, আলহামদুলিল্লা।’

আমার মোবাইল বেজে ওঠে, ঢাকা থেকে আমার বড়ো খলিফা।

খলিফা বলেন, ‘কাইল হইব ইছলামের জিহাদের, আমাগো পাকিস্থানের জইন্যে একটা বড় দিন, সেইভাবে কাজ করবা, ডরাইও না, আল্লার রহমত তোমাগো উপরে আছে।’

আমি বলি, ‘হুজুর, ডরানের কোন কারণই নেই, আল্লার রহমতে দেখবেন কালকে আমরা ইখতিয়ারউদ্দিন বিন বকতিয়ার খিলজিকেও ছাড়িয়ে গেছি, পরের দিন পত্রিকা ভ’রে আমরাই থাকবো, ইনশাল্লা।’

খলিফা বলেন, ‘মাশাল্লা, থাকার সঙ্গে আমরা কতা বইল্যা রাখছি, আর পাওয়ারফুল তিন চাইরডা মিনিস্টারগো সঙ্গেও কতা বলছি, তারা এক সোম আর আমাগো প্যাট্রন এমবেছেডারগো লগেও কতা কইছি, ডোনারগো সঙ্গেও কতা বলছি। তারাও তোমাগো দিকে তাকাই আছে।’

আমি বলি, ‘আমরা সব ট্যাকটিক্স ঠিক ক’রে ফেলেছি, আল্লার রহমতে কোনো চিন্তা নাই, ইনশাল্লা কালকে দেখবেন। হুজুর, আপনি মেইন পাটিরে বোঝাবেন।’

খলিফা বলেন, ‘মেইন পার্টিরে বুজাইতে হইব না, তারাই এইখন আমাগো কাছে বুজতেছে। যেইর লিগা ফোন করলাম সেই কথাটা শোনো, ঘণ্টা দুইয়ের মইদ্যেই তোমার কাছে বিশ তিরিশজন ট্রেনিং পাওয়া জিহাদি যাইব, তাগো তালেবানের ট্রেইনিং আছে, আপগানিস্থানে এক বছর আছিল, তাগো পাঠাই দিছি, লগে দশ লাক ট্যাকাও দিছি তোমারে দেওনের জইন্যে।’

আমি বলি, ‘আলহামদুলিল্লা, সোভানাল্লা।‘

খলিফা বলেন, ‘মনে রাইখ্যো আমাগো মিডিল ইস্টের ভাইগো আমরিকার ইহুদিরা শ্যাষ কইর‍্যা দিতেছে, সেইজন্য এইখানে নতুন মিডিল ইস্ট বানাইতে হইব, আমাগো ডোনাররা আমাগো দিকে চাইয়া আছে।’

আমি বলি, ‘ইনশাল্লা, কাল আর পরশু হবে আমাদের দিন, আমেরিকারে আমরা বুঝিয়ে দেবো জিহাদ কাকে বলে। অগো অ্যামবেসিটাকে একদিন জ্বালিয়ে দিতে হবে।’

খলিফা বলেন, ‘সেইটা পরে হইব, ইনশাল্লা, অখন আমরিকারে খোপান আক্কেলের কাম হইব না, তা তো তুমি বুঝ।’

আমি বলি, ‘হুজুর, আমাদের দোয়া করবেন।‘

খলিফা বলেন, ‘তোমার জইন্য দোয়া রইল, আইজ রাইতে ছুরা ইয়াছিন পাচবার পইর‍্যো; আল্লা হাফেজ।’

মোঃ হাফিজুদিনের সঙ্গে আরো আলোচনা করি, কিন্তু আমরা জিহাদের ও পাটির নিয়ম মেনে চলি, নেতার ওপর আর কোনো কথা নেই, তাই আমি যা বলবো, তাই হবে। কৌশল আমি আগেই ঠিক করে রেখেছি, তাতে জিহাদি মোঃ হাফিজুদিনের কৌশলগুলোও আছে, আর আমার নিজের কৌশলগুলো।

কালকের দিনটিকে জিহাদের শ্রেষ্ঠ দিন ক’রে রাখতে হবে, যাতে বছর বছর তা আমরা পালন করতে পারি, আমাদের একটি চিরস্মরণীয় শহিদাও দরকার।

আমাদের কাটা এম-১৬ গুলো, রাইফেলগুলো, পিস্তলগুলো, গ্রেনেডগুলো, দাও, শরকিগুলো ঠিক আছে, কয়েক শো বোমাও প্রস্তুত আছে; কে কী করবে: তাও ঠিক করা আছে। তীক্ষ ক্ষুদ্রগুলোও আছে; ওগুলো গোখরোর জিভের মতো, ভেতরের দাঁতের মতো, কিন্তু কাজ করে মনোরমভাবে হাত আর পায়ের রাগ কাটে নিঃশব্দে, আমাদের রয়েছে একদল দক্ষ ক্ষৌরকার। সব কাজে এটম হাইড্রোজেন বোমা দরকার হয় না, আমাদের নানা কাজে ক্ষুর এটম হাইড্রোজেন বোমার থেকেও শক্তিশালী আর নিপুণ; ওগুলো আমাদের পকেটে রাখা এটম হাইড্রোজেন বোমা দরকার হয় না, আমাদের নানা কাজে ক্ষুর এটম হাইড্রোজেন বোমার থেকেও শক্তিশালী আর নিপুণ; ওগুলো আমাদের পকেটে রাখা এটম হাইড্রোজেন বোমা। আমাদের জিহাদিরা সবাই খালেদ ইবনে ওয়ালিদ, মুহম্মদ বিন কাশিম, ইখতিয়ারউদ্দিন বিন বখতিয়ার, তারিক, ওসামা লাদেন, তাদের ওপর আমার ভরসা আছে; যাকে যা কাজ দিয়েছি, তা ঠিক মতো করবে। এইটাই পছন্দ আমার জামাঈদ জিহাদে ইছলামের।

আমরা সব এলাকার নেতারাই থাকি মাদ্ৰাছায়।

এখানে নদীর পারে লম্বা একটি মাদ্ৰাছা ক’রে দিয়েছে আমাদের দলেরই এক মহান সেবক আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারি, ইছলাম আর পাকিস্থান যার প্ৰিয় ধন, যে গার্মেন্টস, কন্ট্রাকটরি, এনজিও, সোনা ও অন্যান্য সোনার থেকে দামি জিনিশ চোরাচালানি করে কোটি কোটি টাকা করেছে; প্রত্যেক বছরই হজে যায়, আমি গেছি। একবার। মাদ্ৰাছটির নাম মাদ্ৰাছা-ই-মদিনাতুন্নবি; সে অবশ্য তার জান্নাতবাসিনী মায়ের নামেই এটির নাম রাখতে চেয়েছিলো, কিন্তু আমার পরামর্শে সে এ-নামটি রাখে, রেখে ধন্য হয়।

সে অবশ্য নিজের টাকায় মাদ্ৰাছা করে নি, লিবিয়া, ইরাক, আর সৌদি এনজিও থেকে টাকা পেয়েছে, এটা আমি জানি, আল কায়েদার টাকা পেয়েছে কি না জানি না; যতো টাকা পেয়েছে ততোটা খরচও করে নি, আমাকে বেশ কিছু দিয়েছে, এখানকার অন্যরা জানে না; তাই সে আমাকে মান্য করে। মাদ্ৰাছার সঙ্গেই আছে মসজিদ, সেটিও কোরবান আলি ব্যাপারিই করেছে। এতো পরহেজাগার, ঈমানদার, ও পাক স্তান প্ৰিয় আদমি কমই আছে।

ব্ল্যাক লেবেল, ব্যালেনটাইন, সিভাস রিগ্যালের সাপ্লাইটাও সাধারণত সেই দেয়, এক্সএক্সএক্সও সেই নিয়ে আসে, আমার সঙ্গে পান করতে করতে এক্সএক্সএক্স দেখতে তার ভালো লাগে; তার পছন্দ আবার ব্যাংককের মেয়েগুলো, তার মতে মেয়েগুলোকে চেপে ভর্তা বানালেও তারা বাধা দেয় না, তারা রসগোল্লার মতো নরম, জিভের নিচে রেখে চিপলে রস বেরোয়।

সে একটু মুশকিলে পড়েছিলো, সেটা থেকে তাকে আমি বঁচিয়েছি।

আল্লায়ই আপদ দেন, আর মহান আল্লাতালাই তার বান্দাদের আপদমছিবত থেকে বাঁচান; তার জন্যে সে আমাকে মাঝেমাঝে ‘হুজুর’ বলে পায়ে হাত দিয়ে সালাম করে। একেকবার একেকটি পাজেরো নিয়ে আসে, আমার মাত্র একটি পাজেরো, তাও পুরোনো মডেলের। একটি নতুন মডেল চাইলেই পাবো, তবে চাইতে ইচ্ছে করে না।

বুড়ো বিবিটিকে তালাক দিয়ে সে একটি মডার্ন যুবতী বিবি নিতে চেয়েছে, বুড়ো বিবিটার মস্তান ছেলেটি, মুহাইমেন বিন কোরবান, তা মেনে নিতে রাজি হয় নি, তাই কোরবান আলি ব্যাপারি একটু মছিবতে পড়েছিলো।

আমি মস্তানটিকে রাজি করিয়েছি, কোটি পাঁচেক লেগেছে তাতে; আমারও কিছু থেকেছে। আমার চাইতে হয় নি, আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারি নিজেই আমার পায়ের কাছে রেখে গেছে, যা রেখেছে তিন লক্ষ বছর সাম্যবাদ করলেও আমি তা চোখেও দেখতে পেতাম না। জিহাদ আমাকে দিচ্ছে আর দিচ্ছে, আল্লার রহমতে আরো দেবে। মডার্ন বিবিটা বিএ পাশ, আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারির ফার্মে গিয়েছিলো একটি চাকুরির জন্যে; মিস লাইলাতুল কদর আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারির মুখোমুখি চেয়ারে বসতেই কোরবান আলি ব্যাপারি উত্তেজনা বোধ করে, তার ঠোঁট, আর ব্রেস্টের উচ্চতা আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারিকে ছহবতের জন্যে উত্তেজিত করে। এটা শয়তানের কাজ; পুরুষ আর মেয়েলোক কাছাকাছি বসলে শয়তান কাজ করবেই, এসে মাঝখানে বসবেই, কোরবান আলির ফার্মেও শয়তান গন্ধম ফল নিয়ে হাজির হয়। আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারির ফার্মে কোন মেয়েলোক কাজ করে না, এটা নিয়মবিরুদ্ধ, কিন্তু মিস লাইলাতুল কদরকে সে একটি চাকুরি দিতে চায়।

কোরবান আলি ব্যাপারি জিজ্ঞেস করে, ’আপনের নামটা আমার কাছে পাক মনে অইতেছে, আপনি কি বোরখা হিজাব পইর‍্যা আসতে পারবেন, মিস লাইলাতুন কদর?’

লাইলাতুন কদর বলে, ‘তা পারবো, ইনশাল্লা।‘

কোরবান আলি বলে, ‘তাইলে তুমি আইজই কামে জয়েন কইর‍্যা হালাও, রাহমানির রাহিম চান তুমি এইখানে কাম কর।’

লাইলাতুন কদর বিস্মিত হয়, ‘আজই?’

কোরবান আলি, ‘দেরি করনের কাম কি?’

লাইলাতুল কদর ওই দিনই কাজে যোগ দেয় ১৫,০০০ টাকা বেতনে।

ছুটির সময় কোরবান আলি লাইলাতুন কদরকে বলে, ‘থাউক, মিস লাইলাতুল কদর, তোমার বোরখা হিজাব পরন লাগব না, তোমার এই রকমেই সোন্দর দেহায়।‘

লাইলাতুন কদর বলে, ‘আপনে সত্য বলতেছেন? আমারে সোন্দর দেহায়?’

কোরবান আলি বলে, ‘মিছা কামু ক্যা? তোমার দেহডা নুরজাহানের মতন, হ্যামা মালিনির মতন, তোমারে এইভাবে দেখতেই আমার সুক লাগিব, আল্লার রহমতে আমি সোন্দর জিনিস দ্যাকতে পছন্দ করি।‘

লাইলাতুন কদর বলে, ‘তাহলে দেইখ্যেন।‘

কোরবান আলি কয়েক দিন সুন্দর জিনিশ দেখে, দেখে বেচইন হয়ে ওঠে।

কয়েক দিন পরই মহামান্য শক্তিধর শয়তান সন্ধ্যার একটু পর এসে ঢোকে আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারির অফিস রুমে, সে মিস লাইলাতুল কদরকে একটুখানি জোর ক’রে অফিসের সোফার ওপর ফেলে বিছমিল্লা বলে ছহবত করে। বেশি জোর করতে হয় নি, লাইলাতুল কদর রাজিই ছিলো অনেকটা; বহুদিন পর ছহবতে দিল ভরে কোরবান আলি ব্যাপারির।

ছহবতের পরই মিস লাইলাতুন কদর বলে, ‘আমারে কাইলই বিয়া করতে হবে, দেরি করন যাইব না।‘

কোরবান আলি বলে, ‘বিয়া ত করুমই তয় আমার বুড়া বিবিটার মত লইতে হইবে, নাইলে করুম কেমনে?’

মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘আইজ আমি প্ৰেগনেন্ট হইতে পারি, কাইলই বিয়া করতে হবে, বুড়ির মতের দরকার নাই।’

কোরবান আলি বলে, ‘বুড়ি বিবির মত লইয়া লই।‘

মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘তারে তালাক দেও।’

কোরবান আলি বলে, ‘তালাক দিতে হইব?’

মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘হ।’

কোরবান আলি বলে, ‘আইচ্ছা, তারে তালাক দিমু; তয় আমার একটা গুণ্ডা পোলা আছে, সেইডা যে কি করব।’

মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘সেইটারে তুমি সামলাও।’

কোরবান আলি বলে, ‘হ, দেহি।‘

মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘নাইলে তোমার বিপদ হইব, আমারও বিপদ হইব, তোমার কোটি কোটি ট্যাকা ধইর‍্যা টান দিমু।‘

কোরবান আলি বলে, ‘আইজ রাইতে বুদ্ধি বাইর করতে হইব।‘

কোরবান আলি আরেকবার ছহবত করতে করতে বলতে থাকে, ‘অ, আমার লাইলাতুন কদর, এমুন সুক আর আমি পাই নাই, তুমি আবার বিবি, বুড়িডারে তালাক দিমু, তোমার দ্যাহ ভইর‍্যা মদু।‘

মিস লাইলাতুল কদর বলে, মদু পাইবা, কাইলই বিয়া করতে অইব মদু খাইতে চাইলে, নাইলে মদু বিষ হইয়া যাইব।’

কোরবান আলি বলে, ‘তোমার মদু ছাড়া আমি বাচুম না, তুমি চিন্তা কইর‍্য না, কাইল নাইলে পরশুই তোমারে শান্দি করুম।’

মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘তাইলে আরেকটু মদু খাও, দরজাটা আটকাইয়া লও, ভাল কইর‍্যা খাও, জানি আমিও মদু পাই।’

কোরবান আলি বলে, ‘ক্যান, লায়লাতুল কদর, তুমি মদু পাও নাই?’

মিস লাইলাতুল কদর বলে, ‘বুড়ির লগে হুইতে হুইতে তুমি মদু খাইতে আর খাওয়াইতে ভুইল্যা গ্যাছ, তোমারে শিখাই দিমুনে। তোমার শাবলডা চিলা অইয়া গ্যাছে, ওইডারে শক্ত করতে অইব, নইলে খুড়বা ক্যামনে?’

কোরবান আলি বলে, ‘হ, ঠিকই কইছা, বিবি লায়লাতুল কদর, ওই বুড়িডা ভাল কইর‍্যা চিৎ অইতে পারে না, কোনমতে কাম সারতে অয়।’

লাইলাতুল কদর বলে, ‘আর আমার কাম?’

কোরবান আলি ব্যাপারি বলে, ‘তুমি বিবি হগুরগো ছারাই গেছো। তোমার জান্নাতুল ফেরদাউসে আমি দিনরাইত ঢুইকা থাকুম।’

 

আলহজ কোরবান আলি ব্যাপারি আমার সাহায্যের জন্যে ছুটে আসে। আমি সাহায্য করি; সাচ্চা মুছলমান হয়ে আরেকজন সাচ্চা পরহেজাগার পাক স্তান, সার জমিন সাদ বাদ, দিওয়ান মজনু মুছলমানকে সাহায্য করা আমার কর্তব্য। এতে তার কয়েক কোটি ব্যয় হয়, কিন্তু ওটা তার কাছে সামান্য টাকা; লাইলাতুল কদরের সঙ্গে ছহবত করার জন্যে এটা কিছু নয়। তারা ছহি ছালামতে আছে, লাইলাতুল কদরকে এ-পর্যন্ত সে তিনবার গর্ভবতী করেছে; তার জান্নাতুল ফেরদাউসকে সে সব সময় ভরে রাখে; সে প্রোডাকশনে বিশ্বাস করে, প্রোডাকশন ছাড়া ফরিন করেন্সি আসে না।

আলহজ বেগম লাইলাতুল কদর এখন আর অফিসে যায় না, বোরখা হিজাব পরে পাজেরোতে চেপে পেট ফুলিয়ে সে ইস্টার্ন প্লাজা থেকে ওয়েস্টার্ন প্লাজা থেকে সাউদার্ন প্লাজায় ছোটাছুটি করে, সিঙ্গাপুর যায়, লণ্ডন যায়, বছরে বছরে হজ করে, হজ থেকে ফেরার সময় বস্তা ভরে সোনা নিয়ে আসে। শুধু দ্বিনের কাজ করলে তো চলে না, মমিন বান্দাকে দুনিয়ার কাজও করতে হয়।

মাদ্ৰাছা-ই-মদিনাতুন্নবি শক্ত দেয়াল দিয়ে ঘেরা; তালেবানরা কোরান হাদিছ পড়ে–ওদের গলায় মধুর সুর, লতামঙ্গেশকারের মতোই–আমার ঘর থেকে বেশ দূরে, অন্য দিকে থাকে আমার দু-নম্বর নেতা মোঃ হাফিজুদ্দিন, খুবই শানশওকতের সঙ্গে। আমাদের দুজনেরই বডিগার্ড আছে, পাঁচটি তালেবান আমার বডিগার্ড, তিনটি তালেবান হাফিজুদিনের বডিগার্ড; তারা আমাদের ঘর পাহারা দেয়, বাইরে গেলে আমাদের পাহারা দেয়; আর আমাদের একান্ত গোপন পাক জিহাদি কাজের সময় পাহারা দেয়।

তারা আল কোরান ছুঁয়ে শপথ করেছে–তাদের খুন না ক’রে আমাদের কেউ খুন করতে পারবে না; আর আমরা যখন একটু পাক আনন্দ ফুর্তি করবো, তখন তারা একটি কাককেও ঢুকতে দেবে না, কাউকে কিছু কখনো বলবে না।

ওদের ঈমান আছে, ঈমানের জন্যে ওরাও যা পায়, তা কম নয়।

আমার বাপমা আমার একটি বড়ো ক্ষতি করেছে, তারা হাবিয়া দোজগে যাবে এর জন্যে, তারা আমাকে মাদ্ৰাছায় না পাঠিয়ে হাইস্কুলে কলেজে পাঠিয়েছিলো, তাই জীবনের শুরুতে আমি পাক জ্ঞান লাভ করি নি, নাছারা কাফেরদের বিদ্যা শিখেছি–নাউজুবিল্লা। তবে আল্লার রহমতে আর জামাঈ জিহাদে ইছলাম পার্টির দয়ায় আমি তা কাটিয়ে উঠেছি। আসল বিদ্যা, প্রকৃত বিদ্যা শেখানো হয় মাদ্ৰাছায়। মাদ্ৰাছা-ই-মদিনাতুন্নবি একটি ফোরাকানিয়া হাফেজিয়া মাদ্ৰাছা, এখানে ছহিহ কোরান তিলাওয়াত ও কোরান মজিদ হিফজ করানো হয়। এতে যার যতো বছর লাগে, ততো বছর থাকতে দেয়া হয়। তারা হয় খাঁটি মুছলমান।

এখানে আমরা শেখাই জিহাদ, জিহাদের জ্ঞান যার আছে, সেই শ্ৰেষ্ঠ মুছলমান। দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল আমরা শেখাই না; শেখাই ছোরা মারা, বোমা তৈরি, গ্রেনেড মারা, পিস্তল চালানো, ক্ষৌরকর্ম–রাগাকাটা ইত্যাদি জ্ঞান, যা ছাড়া জিহাদ সম্ভব নয়। তবে দাখিল, আলিম, ফাজিল, কামিল একত্রে শেখানোর দায়িত্ব আমিই নিয়েছি; এই তত্ত্বগুলো আমি তাদের বোঝাই আবু আলা মওদুদ আর আয়াতুল্লা রুহুল্লা খোমেনির কিতাব থেকে। আমরা শেখাই হোলি টেরর, ডিভাইন টেরর, বেহেশতি সন্ত্রাস।

আসল জ্ঞান হচ্ছে জিহাদ, আসল শিক্ষা হচ্ছে।আবার পাকিস্থান।

সন্ধ্যা পেরিয়ে যেতে থাকে, একটির পর একটি এক্সএক্সএক্স দেখতে দেখতে ও জিহাদের আলোচনা করতে করতে, আবু আলা মওদুদি, রুহুল্লা খোমেনি, ওসামা লাদেন, মদিনার ইহুদিদের নিয়ে কথা বলতে বলতে, আমরা দুজনেই ছহবতের জন্যে উত্তেজিত হই। এই কয়েক মাস আগে মালাউনদের বাড়িঘরে মাঝরাতে ঢুকে ছহবত করেছি, দরকার হলে আবারও করবো; তবে এখন বাড়িঘরে ঢুকে হাল্কা ছহবতে আমার সুখ হয় না, আমার সারারাত লাগে।

মোঃ হাফিজুদিনের অবশ্য কোনো চিন্তা নেই, আজ তার গেলমানের রাত; তার কয়েকটি গেলমান আছে এখানেই, অন্য মাদ্ৰাছা থেকেও আসে, কিন্তু আমি যাকে আসতে বলেছি, সে এখনো এলো না।

মালাউনগুলো কথা দিয়ে কথা রাখে না; ওদের গায়ের গন্ধ আমি পছন্দ করি, এটা ওদের সৌভাগ্য; আজ কথা না রাখলে কালকে ওর দোকানটা পাক পবিত্ৰ আগুনে ছাই হয়ে যাবে।

গেলমান জিনিশটা জিহাদি মোঃ হাফিজুদিনের খুব পছন্দ।

বাড়িতে ওর একটি বিবি আছে, এর আগে একটি বিবিকে তালাক দিয়েছে, ওর পছন্দ গেলমান; হয়তো জিনিশটা খুবই ভালো, আমি কখনো পরখ ক’রে দেখি নি, দেখতে আমার ইচ্ছে করে না; আমি পছন্দ করি প্রথাগত জিনিশ, তবে মোঃ হাফিজুদ্দিনের মতে সকল জিনিসের সেরা, আসল জিনিস, হলো গেলমান, সোভানাল্লা। ও খুব কচি গেলমান পছন্দ করে, ন-দশ বছরের; একটু একটু ক’রে সে তাদের ট্রেনিং দেয়, নানা রকম ক্রিম সে কেনে ঢাকা গিয়ে।

গেলমানরাও রোজগার ভালোই করে।

হাফিজুদ্দিন বলে, ‘আইজ রাইতে একটা গেলমান ছহবত কইর‍্যা দেখেন, এইটাই আসল জিনিশ, এইজন্যে বেহেশতেও গেলমান আছে, সোভানাল্লা।’

আমি বলি, ‘না, এটা আমি পারবো না।’

হাফিজুদিন বলে, ‘হুজুর, আপনে আইজও খাটি মুছলমান হইতে পারেন নাই, একবার কইর‍্যা দেখেন, পরে আর মাইয়ামাইনষের দিকে চোকও দিতে ইচ্ছা হইব না।’

আমি বলি, ‘এই দুনিয়ায় মালাউন উর্বশী আমি পছন্দ করি, ওরা যখন কাপড় তুলে চনচন ক’রে প্রস্রাব করে সেই শব্দটাও আমার ভালো লাগে। মহান পাক রাহমানির রাহিম আমাকে এইভাবেই সৃষ্টি করেছেন।’

হাফিজুদ্দিন বলে, ‘আগে জানলে মহা আল্লাহতাআলা আদমের বদলে আপনারেই সৃষ্টি করতেন।‘

আমি হাফিজুদ্দিনকে একটু বিব্রত করতে চাই, যাতে সে আরো বেশি করে আমার অধীনে থাকে; তাই আমি বলি, ‘নাউজুবিল্লা।’

হাফিজুদিন বলে, ‘হুজুর, মাপ কইর‍্যা দেন; এইটা আপনের আমার মইদ্যে ক’তা, হুজুর, কারে কোন দিন বইল্যেন না।’

আমি বলি, ‘তুমি আমাকে সন্দেহ করো?’

হাফিজুদিন বলে, ‘না, হুজুর, আপনে সব সন্দেহের বাইরে।’

আমি বলি, ‘মোঃ হাফিজুদ্দিন, তুমি গোলমানের কথা বলেছে, এতে আমি নাখোশ হইনি।’

মোঃ হাফিজুদিন বলে, ‘বুক থিকা আমার একটা পাত্থর নাইম্যা গেল।’

আমি বলি, ‘তুমি কি সক্রেটিসের নাম শুনেছো?’

মোঃ হাফিজুদ্দিন বলে, ‘না, হুজুর।‘

আমি বলি, ‘সে দুনিয়ার এক মহাজ্ঞানী ব’লে পরিচিত, তাঁরও দুটি কচি গেলমান ছিলো, তাদের মধ্যে তাকে নিয়ে মারামারি লাগতো।’

মোঃ হাফিজুদ্দিন বলে, ‘হুজুর, আমারগুনি মারামারি করে না।’

 

মালাউনটার আসার কথা ছিলো, সে এলো না; কাল ওর দোকান আর চাউল কল কীভাবে পুড়বে, সে দৃশ্য আমি দেখতে থাকি।

এমন সময় দেখি মালাউনটা কথা রেখেছে, দশটার দিকে সে এসেছে, সঙ্গে তার মেয়ে কণকলতা।

কণকলতাকে আমি প্ৰথমে চিনতে পারি নি, হরিপদর সঙ্গে বোরখাপরা একটি মেয়েলোক দেখে চমকে উঠেছিলাম। হরিপদ পাল আর মূর্তিটুর্তি বানায় না, ওতে আর পয়সা নেই, দুর্গাটুর্গা বানালেই তো রাতে গিয়ে আমার জিহাদিরা ভেঙে দেয়। বাজারে ওর বড়ো দুটি দোকান রয়েছে, একটি চাউল কলও আছে; আমি জানি হুণ্ডি করে সে টাকা পাঠায় চন্দননগরে, আমাকেও বেশ দেয়; না দিয়ে ওর উপায় নেই। তাই ভালো আছে।

হরিপদীর বিধবা মেয়েটির ওপরই আমার প্রথম চোখ পড়েছিলো।

তার ওপর সবারই চোখ পড়ে, যেমন রাস্তার পাশে কালীমূর্তির ওপর চোখ না পড়ে পারে না। মোটাগোটা, দারুণ মাজা, দারুণ দুধ, দারুণ ঠোঁটযুক্ত শক্ত কালো ঝকঝকে তাজা মেয়ে; একটা মারাত্মক কালী, কাজেও কালীর মতোই, জিভ দিয়ে বুকের সব রক্ত শুষে নিতে পারে; বাইশ-তেইশ বছর হবে। ওকে দেখে আমার মনে হয় ও যদি রাস্তার পাশে কালীমন্দিরে নগ্ন হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতো, তাহলে ও আসল কালীকেও ছাড়িয়ে যেতো; তখন পুজোরীর সংখ্যা বহুগুণে বেড়ে যেতো। তবে আমরা কালীমন্দিরগুলো চুরমার করে দিয়েছি, দেশে কোনো মন্দির থাকবে না; তাই ও মন্দিরে না দাঁড়িয়ে চাউল কল দেখাশোনা করছে। দেবীরা এখন নানা পেশায় নিয়োজিত।

একদিন হরিপদার চাউল কলেই ওকে প্রথম দেখি।

হরিপদ নাম রাখতে শ্ৰী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাহেবের মতোই প্ৰতিভাবান, ফুল পুষ্প মালা লতা ছাড়া আর কিছু সে বোঝে না; এই মেয়েটার নাম রেখেছে সে বকুলমালা, ওকে দেখলেই ওর গায়ে কালো বকুলের গন্ধ পাওয়া যায়। আমি কখনো কৃষ্ণবকুল দেখি নি, কিন্তু বকুলমালা হচ্ছে কৃষ্ণ বকুলের মালা, হয়তো আফ্রিকায় বা দক্ষিণ ইন্ডিয়ায় ফোটে। বকুলমালা বিএ পাশ, যেটা আমি সাম্যবাদে সর্বাহারায় যোগ দেয়ার জন্যে করতে পারি নি, একটা মুর্খ বুড়োর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিলো, সেটা ওর ওপর উঠতে পেরেছিলো কি না জানি না, না পারারই কথা, ওর ওপরে উঠতে হলে হিলারি তেনজিং দরকার, তবে বছরখানেকের মধ্যেই চিতায় ওঠে।

বকুলমালা এখন রক্তজবার মতো লাল টকটকে শাড়ি পরে চাউল কলি দেখাশোনা করে; রক্তজবার লাল আর ওর কালীর কালো মিলে এক রোজকেয়ামতের রঙ সৃষ্টি হয়; কলের ভেতরে একপাশে তার ছোটো অফিস ঘর, বেশ আছে মনে হয়। ওকে ঠিক রাখার জন্যে, সুখে রাখার জন্যে একটা কলই দরকার, হরিপদ তা বুঝতে পেরেছে।

আমি ঢুকতেই সে দাঁড়িয়ে বলে, ‘আচ্ছালামুয়ালাইকুম, আসেন হুজুর।’

আমি বলি, ‘ওয়ালাইকুমছালাম।‘

বকুলমালা বলে, ‘হুজুর, আপনে একদিন আসবেন, এইটা আমি জানতাম; কত দিন আপনের দিকে চাইয়া রাইছি, একবারও আপনে চান নাই। আপনে কি সব সোম আল্লার দিকেই চাইয়া রন নি?’

আমি বলি, ‘তুমি আমাকে চেনো না কি? আর এতো সুন্দর ছালাম দিতে কখন শিখলে?’

বকুলমালা বলে, ‘আপনেরে চিনিব না, কী যে কন। ভগবানরে না চিনতে পারি, আপনেরে না চিন্না পারি না।’

আমি বলি, ‘কেনো?’

বকুলমালা বলে, ‘আপনে জামাঈ জিহাদে ইছলামের বড় নেতা, বড় হুজুর, আপনেরে চিনুম না? আর ছালামের কতা কন, এখন ত আমরা বারো আনি মুছলমান হয়েই গেছি–লাই লাহা ইল্লাল্লা মুহম্মদের রছুলুল্লা। আরো শোনবেন?–আলিফ লাম মিমা জালোকাল কিতাবা লা রায়বা ফিহা হুদাল্লিল মুত্তাকিন।’

বছর দশেক আগে এটা আমি বলতে পারতাম না।

আমি বলি, ‘মাশাল্লা, চমৎকার, মারহাবা।’

বকুলমালা বলে, ‘হুজুর আপনেরে আমি পছন্দ করি, আপনে দেখতে অন্য জিহাদিগো মতন না, আপনে হিরোগো মতন।’

বকুলমালা রক্তজবার মতো হাসতে থাকে, মেয়েটিকে অসামান্য মনে হয়, আমার সঙ্গে এতো সহজে কেউ রসিকতা করতে পারে না।

আমি বলি, ‘তোমার কথায় বড়ো রস, তুমি বড়ো সরস।‘

বকুলমালা বলে, ‘হুজুর, আল্লার রহমতে আমার সব কিছুতেই রস, চাউল কলের ঝকঝক্কিার মইদ্যে তা বোজন যাইব না।’

আমি বলি, ‘তোমার পুরো মুছলমানই হওয়া উচিত, তোমার মুখে কালাম শুনে আমি মুগ্ধ হচ্ছি, মুছলমান হয়ে যাও না কেনো? আল্লা তোমাকে রহমত দেবেন।’

বকুলমালা বলে, ‘তা ত হইতে চাইছিলামই, ভাইগ্যে হইল না। আল্লা ত রহমত দিল না।’

আমি বলি, ‘কেনো? আল্যা সব সময়ই রহমত দেন।‘

বকুলমালা বলে, ‘কলেজে পড়নের সময় একটা মুছলমান ক্লাশমেটের সঙ্গে প্যাট ভইর‍্যা এক বছর প্রেম করছিলাম, ভাবছিলাম মুছলমান হইয়া যামু, নিজের নাম রাকুম মোছাম্মৎ উজমাতুন্নেছা।’

আমি বলি, ‘বেশ চমৎকার নাম রেখেছিলে, রাখলে না কেনো?’

বকুলমালা বলে, ‘আহা, আমার লাভার মোহাম্মদ তমিজুদ্দিন মিয়া, যে আমারে অনেকগুনি কালাম শিগাইছিল, সে আমার প্যাট বানাই দিয়া কাঁইট্যা পড়লো, আমি একলা গিয়া চিৎ অইয়া এম আর করলাম। তারপর একটা মূর্খ খোজা বুড়ার সঙ্গে বিয়া হইল, সেইটার ত জোর আছিল না, দারাইত ত না, তবে হে আমারে বেশি কষ্ট দেয় নাই, আমারে মইর‍্যা বাচাইলো।’

আমি বলি, ‘তুমি ও তোমার দেহখানা আল্লাপাকের অদ্ভুত সৃষ্টি।’

বকুলমালা তার চাউল কলের চাকার থেকেও প্রখরভাবে চোখ ঘুরিয়ে বলে, ‘আল্লাপাকের অদ্ভুত সৃষ্টিটা পুরাপুরি দেখনের সাধ হইছে হুজুরের?’

আমি বলি, ‘খালি দেখলে কি হবে?’

বকুলমালা বলে, ‘আল্লাপাকের অদ্ভুত সৃষ্টি কি খালি দেখনের লিগা, সেইটার একটু রস না খাইলে আল্লাপাক বোজার হইব। হুজুরের কি ইচ্ছা?’

আমি বলি, ‘আল্লার ইচ্ছাই আমার ইচ্ছা। তোমার রস তোমাদের খেজুর গাছের রসের থেকেও মিঠা হবে।’

বকুলমালা বলে, ‘হুজুররে কি খাজুরের রস খাওয়ান যায়?’

আমি বলি, ‘কিসের রস খাওয়াবে?’

বকুলমালা বলে, ‘খাড়ি আঙ্গুর বেদানার রস, পাক পাকিস্থানেও এই রকম আঙ্গুর বেদানার রস পাইবেন না, হুজুর।’

আমি বলি, ‘কয়েক গেলাশ খাওয়ার তিয়াষ হচ্ছে।’

বকুলমালা বলে, ‘তাইলে সন্ধ্যার পর আইসেন, কোনো অসুবিদা হইব না; তয় হুজুর, একটা কতা দিতে হইব।’

আমি বলি, ‘কী কথা?’

বকুলমালা বলে, ‘বাবার দোকান দুইডা আর চাউল কনডা একটু দেকবেন, হুজুর, আমাগো বাড়িডাও একটু দেখবেন, তাইলেই অইব।’

আমি বলি, ‘আমি কি দেখছি না?’

বকুলমালা বলে, ‘হুজুর, আপনে দেকছেন। বইল্যাই ত অহনও টিইকা আছি আপনের রহম থাকলে কোনো ডর নাই; এখন তা দিকে দিকে আপনের তালেবানরা মালাউনগো বাড়ি পুড়তেছে, মাইয়ালোকগো জিনা করতেছে, আর আপনেগো মেইন পার্টির সৈন্যদের কতা না অয় ছাইর‍্যাই দিলাম।’

আমি বলি, ‘তোমাদের বাড়িতে তো তা হয় নি।’

বকুলমালা বলে, ‘না, হয় নাই, বাবায় অবশ্য বলছে আমাগো ডর নাই, আপনের লগে বাবার খাতির আছে, বাবায় সামান্য কিছু আপনেরে দিছে, নাইলে আমিই আপনের কেছে যাইতাম।’

আমি বলি, ‘আল্লার রহমতে তোমাদের ডর নাই, আমি আছি; তবে তুমি আমার কাছে যদি আগেই যেতে তোমার বাবার একটি কড়িও দিতে হতো না।’

বকুলমালা বলে, ডরে যাই নাই, হুজুর, আপনের বকুলমালা পছন্দ না ট্যাকার থলি পছন্দ, তা বুজতে পারি নাই।’

আমি বলি, ‘আমি দুটোই পছন্দ করি, তবে তুমি গেলে তোমার বাবার থলেটা হয়তো নিতাম না, আমি দয়া করতেও পছন্দ করি।’

বকুলমালা বলে, ‘আইজ রস খাইতে আইসেন, হুজুর।’

সেই সন্ধ্যায় বডিগার্ড নিয়ে হরিপদর বাড়ি যাই, বকুলমালা আমাকে তার ঘরে নিয়ে যায়; ঘরটি বকুলমালার মতোই। মালাউনগুলো এতো বালামছিবতের মধ্যেও সব কিছু গুছিয়ে রাখে, এটা বেশ বিস্ময়কর।

তার দেহটি মালাউনদের কষ্টি পাথরের শিলামূর্তির মতো, আর তার শক্তি কালীমাতার থেকেও বেশি। ভাগ্য ভালো আমি তার স্বামী নই, নইলে সে আমার কলজেটা ছিড়ে রক্ত খেতো, তার জিভটা দিয়ে সে সারা দুনিয়ার রক্ত চেটে খেতে পারে, আমার কলজেটা তো সামান্য। বকুলমালা এখন আমার প্রিয় রক্ষিতা, স্বেচ্ছাবন্দিনী, এমনকি বাদি বলাই ভালো; এতে দোষ নেই, আমি পাক বইপত্র পড়ে দেখেছি, এতে কোনো গুনাহ নেই, এটা জায়েজ। তার কালো রঙটার প্রতি আমার একটা মোহ আছে, সৌন্দৰ্য শুধু শাদায়, এটা আমি বিশ্বাস করি না, বকুলমালার রঙ কালো কিন্তু দেহখানি তেলতোলে, আর সেটি মরা লাশের মতো নয়, ওই দেহের সংস্পর্শে দেহে কুয়ৎ জন্মে।

বকুলমালার সঙ্গে সঙ্গম করা ভৈরবীর সঙ্গে সঙ্গমের সমান।

বকুলমালার ছোটাবোন কণকলতাটিকে লতার মতো দুলতে ঝুলতে বুলতে ফুলে ফুলে ভরে উঠতে দেখতে দেখতে ওই লতার প্রতিও আমার একটু আগ্ৰহ জন্মে, গাছের ডালে ঝুলে থাকা স্বর্ণলতা চিরকালই আমাকে ব্যাকুল করেছে; তাই বকুলমালার সামনেই জড়িয়ে ধ’রে তাকে আমি আদর করি, এতেও কোনো দোষ নেই, বকুলমালাও এতে দোষ দেখে না; সতেরো বছরের কণকলতা বকুলমালার থেকে ভিন্ন; বকুলমালা রক্ত খেতে চায়, ও হয়তো ওদের দেবী কালীর বকুলমালারূপ, জিভা ভরে রক্ত, আর কণকলতা রক্ত খেতে দিতে চায়, কণকলতা গা বেয়ে ঝুলে থাকতে চায় স্বৰ্ণলতার মতো, ওর রঙটাও কণকলতার, ও সঞ্চারিণী পল্লবিনী লতা।

বকুলমালা হচ্ছে মহাকালী, আর কণকলতা লক্ষ্মী বা সরস্বতী বা দুৰ্গা, হয়তো মরুভূমি থেকে বিতাড়িত লাৎ বা মানৎ।

তাই আজি কণকলতাকে নিয়ে আসতে বলেছিলাম হরিপদকে। কালীদেবীকে অনেক দেখেছি, একটু লক্ষ্মী সরস্বতী দুৰ্গা দেখার সাধ হয়।

হরিপদকে আমি বাইরের ঘরে বসিয়ে রাখি, আমার বডিগার্ডরা তাকে কোক পান সিগারেট দিয়ে আপ্যায়ন করবে।

হরিপদ বলে, ‘হুজুর, একটা কতা আছে আপনের লগে।‘

আমি অন্য দিকে নিয়ে জিজ্ঞেস করি, ‘বলো, কী কথা?’

হরিপদ বলে, ‘দেইখ্যেন, হুজুর, মাইয়াডার জানি প্যাট না অয়।‘

আমি বলি, ‘পিল খাওয়াও না?’

হরিপদ বলে, ‘কি কইলেন, হুজুর?’

আমি বলি, ‘পিল, মায়াবড়ি না সতী বড়ি, কী যেনো নাম। এখন মালাউন মাইয়াদের জন্মের দিন থেকেই পিল খাওয়া দরকার, নইলে তাদের পেট থেকে একের পর এক মমিন বেরোবে।’

হরিপদ বলে, ‘তা তা জানি না।’

আমি বলি, ‘তোমারই তো ওগুলো কিনে আনা উচিত, পিতার কর্তব্য পালন করা উচিত।‘

হরিপদ বলে, ‘বাপ হইয়া কি কইর‍্যা আমি মাইয়াগো খাইতে দেই?’

আমি বলি, ‘অসুবিধা কী? এটাই তো এখন প্ৰধান খাদ্য।‘

হরিপদ বলে, ‘হুজুর, কি যে কন।’

আমি বলি, ‘চিন্তা করো না, আমার ঘরে সুলতান আছে।‘

হরিপদ সুলতান চেনে না মনে হয় বা হয়তো চেনে, সে খুশি হয়।

হরিপদ বলে, ‘হুজুর, চৈদ্দ পুরুষের দ্যাশে আর থাকতে পারুম না মনে অয়। বাপদাদার ভিড়ামাডি ছাইরা চইল্যা যাইতে অইব মনে অয়।’

আমি বলি, ‘কেনো পারবে না? আমি তো আছি।’

হরিপদ বলে, ‘হুজুর, আরো কহন নিতে আসুম?’

আমি বলি, ‘ফজরের আগে, আজানের আগে এসো।‘

হরিপদ বলে, ‘আচ্ছালাতু খাইরুম মিনাননাইউম শোননের আগেই আমি আসুম হুজুর, রাইতে আমার ঘোম হইব না।’

আমি বলি, ‘তোমার মেয়ের ঠিকই ঘুম হবে, তাকে আমি ভালো করে ঘুম পাড়াবো, তোমার মেয়ের কথা তুমি কতোটা জানো? বাপের কাজ মেয়ে জন্ম দেয়া, মেয়েকে নিয়ে আসা, দিয়ে যাওয়া, মেয়ে কীভাবে ঘুমোবে তা বাপের জানার কথা নয়।’

হরিপদ বলে, ‘জি, হুজুর; আমার কলডারে একটু দেইখ্যেন, দোকান দুইডারে দেইখ্যেন, ঘরবাড়িড়া একটু দেইখ্যেন, আপনের আতেই সব সাইপ্যা দিলাম।’

আমি বলি, ‘তোমার কল, মেয়ে, দোকান, বাড়ি নিয়ে চিন্তা কোরো না; তোমার মেয়ে সুন্দর ঘুমোবে, পারলে এখন তুমি গিয়ে ঘুমোও।’

হরিপদ চ’লে যায়, ঘরে ঢুকে দেখি কণাকলতা বোরখা পরেই দাঁড়িয়ে আছে, মুখটিও খোলে নি। আমি ঢুকতেই সে নাচের ভঙ্গিতে মুখের পর্দাটি সরিয়ে বলে, ‘জাহাপনা, আমারে দেখতে কেমন লাগছে?’

আমি বলি, ‘তুমি বোরখা পেলে কই?’

কণকলতা বলে, ‘কি যে কন, হুজুর, একটা ক্যান, আমার তিনটা বোরখা আছে, হিজাব আছে; আর হুজুরের বিবি হওনের জন্যে আসছি, বেশিরম বেলেহাজ হয়ে ত আসতে পারি না। আমারে বিবিজান মনে হইতেছে না?’

আমি বলি, ‘কণকলতা, তুমি বেহেশতের হুর, তুমি উর্বশী।’

কণকলতা বলে, ‘তাইলে আমারে বিবি কইর‍্যা লন, হুজুর।’

আমি বলি, ‘তোমার রঙ্গ আমার পছন্দ তোমার দেহটির মতোই।‘

কণকলতা বলে, ‘জাহাপনা, আপনে ত সব দেখেন নাই, আইজ আপনে পাগল হইয়া যাবেন। তয় আমারে একটু সুরা পইরা আপনের বিবি বানান।’

কণকলতা আমাকে চেনে, আমিও কণকলতাকে চিনি।

ওর ঠোঁট আর বুক দুটি আমার ভালোভাবেই চেনা, ওগুলো আমি খেয়েছি, সেদ্ধ ডিমের ভর্তা বানিয়েছি, ভর্তা আমি ভালোই বানাতে পারি; দাঁত দিয়ে কেটেছি, আমার দাঁতগুলো স্নায়ুহীন নয়, ওগুলোরও বোধ আছে, স্তনে দাঁতের লাল দাগ আমার চুনির থেকেও সুন্দর লাগে, আর সব সৌন্দৰ্যই আমার খেয়ে দেখতে ইচ্ছে করে, শুধু দেখে আমার সুখ হয় না; আর মহান আল্লাই জানেন আমার কোনো যেনো মালাউনদের গন্ধ ভালো লাগে, ওর গন্ধ নিয়েছি, কোনো ফুলের সঙ্গে ওই গন্ধ মেলাতে না পেরে আমি বিহবল হয়েছি।

শুধু সারাদেহটি আর নিচের মধুঝর্নাটি চিনি না; বকুলমালার ঘরে অতোটা দেখতে আমার খারাপ লেগেছে। আজই ওকে আমি ভালো করে দেখবো, ওর ঝর্নধারায় ভাসবো; বকুলমালার গাঙটা একটু বেশি প্রশস্ত, অনেকটা মেঘনার মতো; কণকলতারটি দিনাজপুরের কাঁকড়া নদীটিার মতোই হবে, ওর কথা ভাবলেই আমার কাঁকড়া নদীটার কথা মনে পড়ে।

ওর ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে? দুই ধার উঁচু তার ঢালু তার পাড়ি?

আমি সালোয়ার পাঞ্জাবি খুলে লুঙ্গি পরি, লুঙ্গি পরার সময় আমার লুঙ্গিটা টেনে ফেলে খিলখিল করে হেসে ওঠে। কণকলতা।

কণকলতা জীবনকে সুন্দরভাবে নিয়েছে, আমাকে ও সামান্য ক’রে ফেলেছে। কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আপনের আলহজ মওলানা ছাহেব হুজুরট দেখি এখনই খাড়া তালগাছ হইয়া আছে।’

আমি বলি, ‘খাঁটি মমিনের হুজুর এমনই হয়, তার কোনো অবসর নেই, আর এখন তো আমাদের সব সময় দণ্ডায়মান থাকা দরকার।’

কণকলতা হাসতে হাসতে বলে, ‘হুজুর, জাহাপনা, আপনে আমারে বিছমিল্লা আলহামদুলিল্লা রাহমানের রাহিম শয়তানের রাজিম বইল্যা শাদি কইর‍্যা লন; আমি আপনের চাইরডা বিবির একটা হইয়া থাকি, আপনেরে আমার ভাল লাগে, আপনের সঙ্গে পেয়ার করতে আমি সুখ পামু, আমার দেহডা সুন্দর, আপনের দিলডা সুন্দর, আমারে বউ পাইলে আপনের দিলও সুক পাইব।’

আমি বলি, ‘আমার কোনো বিবি নেই।’

কণকলতা খিলখিল করে হাসে. বলে, ‘তাইলে আমারেই আপনের এক নম্বর বিবি কইর‍্যা লন, হুজুরের বিবি হইতে আমার ভাল লাগবো, আমার নাম রাইখ্যেন বিবি রহিমা।‘

আমি বলি, ‘কণকলতা।’

কণকলতা বলে, মালাউন হইয়া থাকতে আমার ভাল লাগে না, আইজ এইডার লগে কাইল অইডার লগে হুইতে হইতে আমি বেশ্য হইয়া যামু, বেশ্যা অইতে আমার ভাল লাগবে না, দৌলতদিয়া গিয়া আমি থাকতে পারুম না।’

আমি বলি, মুছলমান হ’তে চাইলে পরে আমার কোনো জিহাদির সঙ্গে তোমার শাদি দিয়ে দেবো, সে তোমাকে খাঁটি মুছলমান বানাবে।’

কণকলতা বলে, ‘সে কি আপনের মতন পারব? আমি ত আপনের হুজুররেই চাই, ওই হুজুররেই আমি ছেজদা করতে চাই, পারবেন হুজুর? আর আপনের জিগাদিগো দেকলে আমার বমি আহে।‘

আমি বলি, ‘তারা মমিন মুছলমান, বমি আসবে কেনো?’

কণকলতা বলে, ‘মমিন মালাউন দেকলেও আমার বমি আহে, মমিন মুছলমান দেকলেও আমার বমি আহে।’

আমি জিজ্ঞেস করি, ‘তুমি কি পিল খাও?’

কণকলতা খিলখিল ক’রে বলে, ‘পিল খামু ক্যান?’

আমি বলি, ‘যদি পেট হয়ে যায়?’

কণকলতা বলে, ‘তাইলে তা আলহামদুলিল্লা। আইজ আমি আইছি প্যাডে একটা পাক মমিন নেওনের জন্যে, হুজুরের পোলা নেওনের জন্যে, যে এক সময় পাহাড়ের মতন মুছলমান হইয়া দুনিয়ায় ইছলাম কায়েম করব, যে দ্যাশটারে পাকিস্থান বানাইব।’

আমি বলি, ‘এখন আমি পোলা চাই না।‘

কণকলতা খিলখিল করে বলে, ‘আল্লায় না কইছে একটা বীজও নষ্ট অইতে দেওন যাইব না? প্ৰত্যেকটা বীজ থিকা মমিন মুছলমান বানাইতে হইব, যাতে জীবন ভইর‍্যা জিহাদ করতে পারে? আইজ আমি একটা মমিন পোলা চাই।‘

আমি বলি, ‘তুমি এসব জানলে কী করে?’

কণকলতা বলে, ‘হুজুর, জানুম না ক্যা? এই পাক দ্যাশে থাকুম আর ইছলাম জানুম না, তা কি কইর‍্যা অয়? আউজুবিল্লাহি মিনাশ শাইতোয়ানির রাজিম, লাই লাহা ইল্লাল্লা মুহম্মদের রছুলুল্লা। আলহামদুলিল্লাহে রাব্বিল আলামিন, আররাহমনির রাহিম, মালিকি ইয়াওমিদ্দিন, ইয়াকানা বুদু ওয়া ইয়াকানাস্তাইন।’

আমি বলি, ‘তুমি কাফের নও, খাটি মুছলমান, বেহেশতের আওরাত।’

কণকলতা বলে, ‘হুজুর, আমার বাপের দোকান দুইডা আর কলডা জানি না পোড়ে, আমাগো ঘরবাড়ি জানি না পোড়ে।’

আমি বলি, ‘পুড়বে না, আল্লার রহমতে পুড়বে না।‘

কণকলতার দেহটি কণকলতার মতোই; একবার ছেঁড়াফাড়া ভাঙাচোরার পরই ও ঘুমিয়ে পড়ে, মেয়েটির মনে হয় এইবারই প্ৰথম, আমার হুজুরকে প্রবেশ করাতে বেশ পেরেশান হ’তে হয়, তবে ওই পেরেশানিটাই হলো বেহেশতের সুস্বাদ, মেয়েটা কণকলতার মতোই নরম, শুধু গলতে জানে, গলতে গলতে কণকলতার ধারা হয়ে যায়। বকুলমালা শুধু চায়, আমার রক্ত শুষে খায়, ও জীবন্ত কালী, আমি না পারলেও পারার চেষ্টা করি, বকুলমালা হেসে বলে, ‘একবারেই কাহিল হুজুর? আমার যে আরও দশবার লাগিব’; এই কণকলতা কিছু চায় না; একে শেফালি ফুলের মতো পিষে ফেলা যায়, ওকে নিয়ে শিউলির বিছানায় ঘুমোনো উচিত। পিষে ফেলেছি, ও এখন ঘুমোচ্ছে, ঘুমোলেও ক্ষতি নেই, আমার কাজ আমি করেছি, আবার যদি পারি তখন আমার কাজ আমি করতে পারবো–কয়েকবার পাকিস্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারবো। মনে মনে পাক সার জমিন সাদ বাদ গানটা গাইবো, যদিও গানটা আমার ঠিক মনে নেই; শাইতোয়ানির রাজিম বলে কিছু বললেও চলবে।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x