১৯৮৩ সালের ২৪ জুন ‘সত্যযুগ’ পত্রিকা এবং ২৫ জুন ‘যুগান্তর’ পত্রিকা একটা দারুণ চাঞ্চল্যকর খবর ছাপল – জলের তলায় বারো ঘণ্টা। খবরের বিবরণে জানা গেল কৃষ্ণনগর ষষ্ঠীতলার ২১ বছরের তরুণ প্রদীপ রায় কোনও যান্ত্রিক সাহায্য ছাড়া জলের তলায় একনাগাড়ে বারো ঘটনা থাকতে পারে। অবশ্যই একটা বিশ্ব রেকর্ড, কারণ জলের তলায় থাকার আগেকার বিশ্ব রেকর্ড ক্যালিফোর্নিয়ার রবার্ট ফস্টারের। তিনি কোনও কিছু যান্ত্রিক সাহায্য ছাড়া ১৩ মিনিট ১৫ সেকেন্ডের মতো জলের তলায় ছিলেন।

প্রদীপ রায় জানিয়েছিলেন –  বছর সাতেক আগে আগরতলায় দাদার কাছে থাকার সময় জলে ঝাঁপাতে গিয়ে বুকে আঘাত পান। তারপর থেকেই তাঁর এই অলৌকিক ক্ষমতা এসে গেছে। মাছের মতোই জলের থাকতে আর অসুবিধে হয় না।

প্রদীপ রায় পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী সুভাষ চক্রবর্তী সঙ্গে দেখা করে তাঁকে দেখালেন নিজের অলৌকিক ক্ষমতার সপক্ষে একগাদা সার্টিফিকেট। এগুলো নাকি দিয়েছেন পশিম দিনাজপুরের জেলাশাসক, কাটোয়ার মহকুমা শাসক এবং আরও অনেক হোমরা-চোমরা।

সমস্ত ঘটনা শুনে এবং নথিপত্র দেখে সুভাষ চক্রবর্তী ঠিক করলেন প্রদীপ রায়ের অলৌকিক ক্ষমতার পরীক্ষা নেবেন। পরীক্ষার দিন ঠিক হল ১৬ জুলাই। ১৬ জুলাই সরকারি পরীক্ষকদের চোখকে যাতে প্রদীপবাবু ফাঁকি না দিতে পারেন, তার জন্যে এই পরীক্ষা ব্যবস্থাকে সহযোগিতা করার জন্য বেসরকারিভাবে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে আমি প্রস্তুত হই। আমাকে সহযোগিতা করার জন্যে আমার দুই বন্ধুকেও তৈরি রাখি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রদীপ রায় ১৬ জুলাই-এর পরীক্ষায় হাজির হননি। পরিবর্তে ১৫ জুলাই প্রদীপবাবুর পক্ষ থেকে জানানো হয় ১৬ জুলাই প্রদীপ রায়ের জন্মদিন, অতএব সেই দিনের পরীক্ষায় হাজির হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

জানি না পরবর্তীকালে ‘সত্যযুগ ও যুগান্তর’ –এ প্রকাশিত খবরটি নিজের অতীন্দ্রিয় ক্ষমতার অকাট্য প্রমাণ হিসেবে কত জায়গায় হাজির করেছিলেন প্রদীপ রায়।

 

জলপরী (পুং) রূপরাজ

১৯৮৯-এর ফেব্রুয়ারী। শীত-শীত সন্ধ্যা। কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে কিছু প্রয়োজনীয় কথায় ব্যস্ত হলাম। কলিংবেল বাজল। সমিতির এক সদস্য উঠে গেলেন। এসে জানালেন, “আপনার সঙ্গে একজন দেখা করতে চাইছেন। খুব নাকি জরুরি প্রয়োজন।“ বললাম, ‘দেখছই তো প্রচন্ড ব্যস্ত আছি। রবিবার সকাল ১০টায় আসতে বল।“ সদস্যটি কথা বলে আবার ফিরে এলেন, ‘বলছেন, এর আগেও একদিন এসেছিলেন। আপনার দেখা পাননি। খুবই প্রয়োজন। দু-চার মিনিটের বেশি সময় নেবেন না জানালেন।“ নিয়ে আসতে বললাম।

আগন্তুক ঘরে ঢুকলে তাঁর দিকে একঝলক তাকালাম। মাঝারি উচ্চতার স্বাস্থ্যবান যুবক। বয়স তিরিশের কাছাকাছি। মুখে স্বল্প দাড়ি-গোঁফ। পরনে চকোলেট রঙ্গের ট্রাউজার, হালকা রঙ্গের হাফ হাতার বুশ সার্ট ও চটি। শিশুর সারল্যে আমাকে জানালেন, আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে চান। তবে একটি শর্ত আছে। আমাকে ৫০ হাজার টাকার পরিমাণটা বাড়াতে হবে।

বিস্মিত হলাম। বাড়াতে হবে মানে? ইচ্ছা হলেই তাকার পুঁজি বাড়ানো যায় না কি? অথবা আমাকে কি দস্তুরমতো আমির ঠাউরেছেন?

বললাম, “দেখুন ভাই, অনেক কষ্টে ৫০ হাজার টাকা জমিয়েছি। আপনি চাইলেই বাড়াই কি করে বলুন?

আমার উত্তরটা যে তরুণটার কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি তা তরুণটির পরবর্তী কথায় বুঝতে অসুবিধা হল না।

বললাম, “দেখুন, আপনার নামটাই জানা হল না। আপনার কি ক্ষমতা দেখাবেন, তাও বললেন না। শুধু টাকার পরিমাণ বাড়াতে অনুরোধ করছেন। জানেনতো চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হলে আপনাকেও জমা রাখতে হবে পাঁচ হাজার টাকা?”

ছড়িয়ে হাসলেন। “অবশ্যই জানি। আপনি রাজি হলে আগামী রবিবার ৫ ফেব্রুয়ারী আমার তরফের মানতের টাকা পেয়ে যাবেন। কিন্তু আপনার তরফে টাকাটা বাড়াতে হবে। আমি যা দেখাব, তা সাঁইবাবার বিভূতি বা সোনার টাকা করার মতো বুজরুকি নয়, ডাইনি ইপ্সিতার মত মিথ্যে প্রচারের ঢাক পেটানো নয় বা পারমিতা, শকুন্তলাদেবী, অসিত চক্রবর্তী, নরেন্দ্র মাহাতোর মতো জ্যোতিষশাস্ত্রকে বিজ্ঞান বলে প্রমাণ করার আহাম্মুকি নয়। আমি জানি এঁরা প্রত্যেকেই আপনার কাছে পরাজিত বা পলাতক। এঁরা প্রত্যেকেই প্রচারের ফানুস, তাই প্রয়োজনের মুহূর্তে প্রমাণ রাখতে পারেননি, ফেঁসে গেছেন। প্রচারের আড়ালে বিজ্ঞানের বাইরেও অলৌকিক বলে যে কিছু আছে, সেটা আপনার মত একজন যুক্তিবাদীকে অন্তত একবারের জন্য দেখানো প্রয়োজন, আপনাকে বাস্তব সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।“

তরুণটির কাব্যময় কথাগুলো আমাকে শুধুমাত্র ক্লান্তই করছিল। বললাম, “দু-চার মিনিট কিন্তু আমরা অনেকক্ষণ আগেই পার হয়ে এসেছি। আপনার অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণ রাখতে আপনি ঠিক কি দেখাবেন যদি দয়া করে সে কথায় আসেন তো বাধিত হই।“

“আমি বিনা অক্সিজেনে থাকতে পারি।“

“এ আর নতুন কি? আজকাল অলৌকিক বিরোধী বিভিন্ন প্রদর্শনীতে বহু ছেলে-মেয়েই কবরের তলায় দু-চার ঘণ্টা কাটিয়ে বহাল তবিয়তে বেরিয়ে আসছেন। কবরের ভেতরে অক্সিজেনে যতক্ষন থাকা সম্ভব ততক্ষণ অথবা বাইরে থেকে গোপনে অক্সিজেনের সরবরাহ চালু রেখে বহুক্ষণ থাকা সম্ভব। কিন্তু সে সবই কৌশলের ব্যাপার। আপনিও কি ঐ ধরনের কিছু করে থাকেন? তাই যদি হয়, তবে আর জামানতের টাকা খোয়াবেন কেন? আমারও সময় নষ্ট করাবেন কেন?”

তরুণটি এ-বার উত্তেজিত হলেন। ‘আপনি পুরো ব্যাপারটাকেই হালকাভাবে নিতে চাইছেন। আমি কোন বুজরুক বা প্রতারক নই। বিনা অক্সেজেনে চব্বিশ ঘণ্টা আপনার সামনে থেকে দেখাব।‘

জিজ্ঞেস করলাম, “আগে কখনো দেখিয়েছেন?”

“অবশ্যই এবং জেলাপ্রশাসক, এম. এল. এ. অধ্যাপক থেকে শুরু করে বহু বিদগ্ধ মানুষই আমার এই অলৌকিক ক্ষমতা প্রত্যক্ষ করেছেন।“

“তাঁদের সামনে আপনি পরীক্ষা দিলেন কেমন করে?” আমি তখন রীতিমতো বিস্মিত।

“জলের তলায় ডুবে থাকলে তো একজন মানুষের পক্ষে কৌশল ছাড়া দশ-বারো ঘণ্টা থাকা সম্ভব হয়, আমি সেই অসম্ভবকেই সম্ভব করে দেখিয়েছি।“

তরুণের কথায় একটা কাজ হল। বললাম, “বেশ, আমি আপনার অনুরোধ মত আমার দেয় টাকার পরিমাণ সাধ্যমতো বাড়াবার চেষ্টা করব। আপনি আপনার আইনজ্ঞ ও জমানতের টাকা নিয়ে আগামী রবিবার আসুন। আবার একটা কথা আপনাকে মনে করিয়ে দিচ্ছি। আমি আমাদের সমিতি আইনজ্ঞের উপদেশ মতো আপনাকে দিয়ে লিখিয়ে নেব, অলৌকিক ক্ষমতার পরীক্ষা দিতে গিয়ে আপনি মারা পড়লে দায়ী নই। প্যাঁচ-ঘোঁচ তেমন বুঝি না, কাউকে কোনও প্যাঁচ কষতেও দিই না। তেমন কিছু প্যাঁচোয়া পরিকল্পনা থাকলে আপনি বেঘোরে মারা পড়বেন, এটা মনে রেখেই আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করবো।“

“সে লিখে দেব। আর হ্যাঁ, আমার নাম জানতে চাইছেন না? রূপরাজ। রূপরাজ ঘোষ। ঠিক আছে আর আপনাকে বিরক্ত করব না। রবিবারই দেখা হবে।“

এই মুহূর্তে আমার মাথায় যে চিন্তাটা ঢুকল তা হল, রূপরাজের অক্সিজেন গ্রহণের কৌশলটা কি হতে পারে? অক্সিজেন ছাড়া যোগের সাহায্যে বেঁচে থাকা গল্প-গাছাতেই সম্ভব, বাস্তবে নয়। অতএব?

রূপরাজকে অনুরোধ করলাম, “কিছু মনে না করলে আমাদের সামনে অক্সিজেন ছাড়া দশ মিনিট থেকে দেখাবেন?”

রূপরাজ জিজ্ঞেস করলেন, “পরীক্ষা করবেন কেমন করে?”

“কেন, স্রেফ আপনার নাক-মুখ টিপে রেখে।“

রূপরাজ সোফায় বসলেন। আমি ওর নাম-মুখ আমার হাতের তালু ও আঙ্গুলের সাহায্যে চাপা দিলাম। দেওয়ালের ব্যাটারিচালিত ঘড়ির লাল সেকেন্ডের কাঁটা ঘুরতে শুরু করল এক-দুই-দশ-কুড়ি… ত্রিশ…পঞ্চাশ…ষাট…। না, আমার উৎকণ্ঠাকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে দিলেন রূপরাক। দমবন্ধ ইঁদুরের মতো বারকয়েক হাঁস-ফাঁস করে এক ঝটকায় আমার হাত সরিয়ে দিলেন।

“সে কি রূপরাজবাবু; চব্বিশ ঘণ্টার কথা বলে মাত্র এক মিনিটেই মাত হয়ে গেলেন? এই ক্ষমতা নিয়ে আপনি আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে এসেছিলেন।“

রূপরাজ মুহূর্তের জন্য কিছুটা বিভ্রান্ত ছিলেন। সেটা কাটিয়ে উঠে বললেন, “ঠিক আছে আমি পারিনি হেরে গেছি, আপনার চ্যালেঞ্জ আর গ্রহণ করতে আসছি না, হল তো?

“হল আর কোথায়? এই কথাগুলোই যে আপনাকে লিখে দিতে হবে ভাই। নতুবা আবার কোথায় গিয়ে যে আপনি প্রতারনা করবেন তার ঠিক কি?”

“ক্ষমা তো চেয়ে নিয়েছি। পরাজয় মেনে নিয়েছি। আবার কি, আপনার অনেক দামি সময়ের কিছুটা নষ্ট করলাম বলে দুঃখিত।“ উঠে দাঁড়ালেন রূপরাজ। “দরজাটা খুলে দিন।“

“না লিখে দিলে তো আপনাকে ছাড়ছি না।“

ঘরের মধ্যে খাঁচা-বন্দী বাঘের মতো পায়চারি করতে করতে রূপরাজ বললেন, ‘বেশ তো, ধরে রেখে দিন যতক্ষণ খুশি যতদিন খুশি।“

“আপনি আমার সহজ সরল শর্তে রাজি না হলে কিন্তু আখেরে আপনাকেই পস্তাতে হবে। আপনার বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে প্রতারণার অভিযোগ আনতে বাধ্য হব।“

“অভিযোগ শেষ পর্যন্ত প্রমাণ করতে পারবেন তো?” রূপরাজ-এর কথায় ব্যঙ্গের সুর।

অতি বিনয়ের সঙ্গে বললাম, “তা পারব বই কি। আপনাদের মতো বিখ্যাতদের সঙ্গে সাক্ষাতের বিশেষ মুহূর্তগুলো ধরে রাখার জন্য আধুনিক বিজ্ঞানের সাহায্য নিতে হয়েছে। এই যে আপনি এলেন, কথা বললেন, এ-সবই ক্যামেরা ও টেপে বন্দি করে রেখেছি।“

“তাই না কি? বাঃ বাঃ, আপনার তো সব মডার্ন অটোমেটিক ব্যবস্থা দেখছি।“ আমার কথাগুলোকে উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টার মধ্য দিয়ে রূপরাজ টেনশন মুক্ত হতে চাইলেন।

হাত বাড়ালাম। একটা সুইচ টিপতে যে কন্ঠস্বর ঘরে ভেসে বেড়াতে লাগল সেটা রূপরাজের। সামান্য শব্দের কি শক্তি তা টের পেলাম। রূপরাজের চেহারা পাল্টে গেল। সোফায় ধপাস করে বসে পড়ে পায়ের তলার কার্পেটে পা ঘষতে ঘষতে পাগলের মতো মুঠো করে করে নিজের চুল টানতে লাগলেন। সেই সঙ্গে গোঙ্গানো কান্না, “আমি ক্ষমা চাইছি। সত্যিই ভুল হয়ে গেছে।“ তারপর হঠাৎ উঠে এসে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে আমার পায়ের পাতা দুটি সবল দুটি হাতে ধরে নিজের মাথাটা বার-বার ঠুকতে লাগলেন। “আমাকে ক্ষমা করে দিন। আমি আপনাকে বুঝতে পারিনি। বুঝলে কখনো আসতাম না। আপনি দয়া করে আমার সম্বন্ধে কোনও পত্রিকায় কিছু লিখবেন না। লিখলে বরবাদ হয়ে যাবে। আমার এতদিনের সম্মান শেষ হয়ে যাবে। মুখ দেখাতে পারব না। কথা দিচ্ছি, আর কোনও দিন কোথাও বিনা অক্সিজেনে থাকার ঘটনা ঘটিয়ে দেখাব না।“

বললাম, “এই মুখের কথাগুলোই আপনাকে লিখে নিতে হবে। আপনাকে ক্ষমা করার কোনও প্রশ্নই আসে না। এর আগে বহুজনকে ঠকিয়েছেন, আমাকে ঠকাতেই এসেছিলেন। আপনার কৌশল আমি ধরতে না পারলে, আপনার কাছে আমি হেরে গেলে আপনি কি আমাকে কোনও দয়া দেখাতেন? কোনও প্রতারকই তা দেখায় না। আপনি আমাকে শুধু আর্থিক ও মানসিকভাবেই বিপর্যস্ত করতেন না, আমাদের দেশে সদ্য গড়ে উঠতে শুরু করা কুসংস্কার বিরোধী আন্দোলনকেও এক ধাক্কায় অনেকটা পিছিয়ে দিতেন।“

অনেক টাল-বাহানার পর রূপরাজ লিখে দিলেন একটি অঙ্গীকার পত্র। তাতে এও লিখলেন, “প্রবীরবাবুর কাছে আমি এক মিনিটের বেশি বিনা অক্সিজেনে থাকতে পারিনি। টাকার পরিবর্তে প্রবীরবাবুর পায়ে হাত দিয়ে মার্জনা চেয়েছি। প্রবীরবাবুকে কথা দিচ্ছি, আর কোনদিন এই ধরনের প্রতারণা করব না।“

সাক্ষী হিসেবে স্বাক্ষর করলেন বহরমপুর কলেজের অধ্যাপক ও মুর্শিদাবাদ বিজ্ঞান পরিষদের সম্পাদক ডঃ মিহিরকুমার দত্ত ও সিঁথি অঞ্চলের জনৈক বিজ্ঞান কর্মী বিশ্বজিৎ ঘোষ।

রূপরাজকে বললাম, “চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে এসে হেরে গেলেন। তবু আপনার পাঁচ হাজার টাকা বেঁচে গেল। পরিবর্তে বিদায় নেবার আগে আমাদের একটু আনন্দ দিয়ে যান। তিনবার কান ধরে ওঠ-বস করুন।“

বিখ্যাত ব্যক্তির কান ধরে ওঠ-বস করার মত একটা রোমাঞ্চকর ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হওয়ার লোভ সামলাতে না পেরে সীমা (স্ত্রী) ও পিনাকী গুটি গুটি পায়ে বসবার ঘরে হাজির হল।

হ্যাঁ। শেষ পর্যন্ত তিনবার কান ধরে ওঠ-বস করার পরেই রূপরাজ ওরফে বিশ্বরূপ ওরফে প্রদীপ ঈপ্সিতা, শকুন্তলাদেবী, সাঁইবাবার, পারমিতা, পাগলাবাবাদের দলেই নাম লিখিয়ে বিদায় নিলেন। ‘প্রবীর’ বিজয় হল না।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x