এক সময় আমি খুব ঘর-কুনো স্বভাবের ছিলাম। কোথাও যেতে ভালো লাগতো না। নিজের অতি পরিচিত জায়গা ছেড়ে দু’দিনের জন্যে বাইরে যাবার প্রয়োজন হলেও গাড়ে জ্বর আসতো। সেই আমাকে সাত বছরের জন্য দেশ ছেড়ে আমেরিকা যেতে হল। সাত বছর পার করে ফিরে আসার পর পরিচিত সবাই আমার কাছ থেকে শুধু আমেরিকার গল্প শুনতে চায়। আমি গল্প শোনাই। যাই বলি তাই দেখি সবার ভালো লাগে। শেষ পর্যন্ত ঠিক করলাম, গল্পগুলি লিখে ফেলবো। লেখা হল ‘হোটেল গ্রেভার ইন’। দীর্ঘ দিন দেশে কাটানোর পর আবার তিন মাসের জন্যে আমেরিকা গেলাম। দেখি আগের আমেরিকা বদলে গেছে। কিংবা কে জানে হয়তো আমিই বদলে গেছি। চঞ্চল চোখে দেখা আমেরিকা নিয়ে লিখলাম ‘মে ফ্লাওয়ার’। তারপর মনে হল আমার নিজের জীবনটাও তো বেশ মজার। লিখে ফেললে কেমন হয়? নিতান্ত ব্যক্তিগত গল্প সবাইকে বলা কি ঠিক হবে? ভাবতে ভাবতে লিখে ফেললাম, ‘অনন্ত অম্বরে’, ‘আমার আপন আঁধার’, ‘এই আমি’। একই ভাবে লেখা হল ‘আমার ছেলেবেলা’ প্রায়ই আমাকে প্রশ্ন করা হয়, ব্যক্তিগত হিসেবে আমি যা লিখছি, সবই কি সত্যি?

প্রতিনিয়ত এই প্রশ্নের জবাবে হ্যাঁ বলেছি, আবারো বললাম। ক্ষেত্র ধর্মী এ লেখা আমার পাঠকরা আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করেছেন, এই আমার জীবনের পরম পাওয়া।

উৎসর্গ

বড়মামা শেখ ফজলুল করিম যিনি এই পৃথিবীতে খুব অল্প আয়ু নিয়ে এসেছিলেন সেই অল্প আয়ুর সবটাই খরচ করে গেলেন আমাদের পেছনে।