শুধু আদিবাসী সমাজেই নয় বিভিন্ন গ্রামে-গঞ্জে অদ্ভুত পদ্ধতিতে চোর ধরা হয়। ওঝা মন্ত্র শক্তিতে চোরের নাম বলে দিতে পারেন, এই বিশ্বাস নিয়ে যখন কেউ নিজের চুরি যাওয়া জিনিস উদ্ধার করতে ওঝার দ্বারস্থ হন, তখন ওঝা জেনে নেন সন্দেহজনকদের নাম। অনেক ক্ষেত্রেই নাম জানার পর ওঝার এজেন্টরা এই বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে আরও কিছু তথ্য সরবরাহ করে ওঝাকে।

দক্ষিণার বিনিময়ে ওঝা চোর ধরতে নানা ধরনের অং-বং-চং মন্ত্র আওড়ায়। তারপর একটা কাগজে লিখে ফেলে সম্ভাব্য চোরেদের নাম। সেই কাগজ পুরিয়ে তৈরি করা হয় ছাই। সেই ছাই ওঝা নিজের হাতে বা সহকারী কারও হাতে ঘষে ছাই ঝেড়ে ফেলতেই উপস্থিত দর্শকরা দেখতে পান ছাই ঘসা হাতে কালো হরফে ফুটে উঠেছে একটা নাম। যার নাম উঠেছে সে সন্দেহভাজন একজন। তার ওপর চাপ পড়লো কখনো-সখনো চাপে পরে স্বীকার করে চুরির কথা। কখন চুরির মাল ফেরৎ পাওয়া যায়। কখনও বা জরিমানা দিয়ে উদ্ধার পেতে হয়। ঘোষিত চোর কেন অপরাধ স্বীকার করে? সে প্রসঙ্গে গেলে, বার বার একই কথা শোনাতে হবে বলে নীরব রইলাম। বরং আসি, কি করে ওঝা ছাই ঘষে হাতে নাম ফুটিয়ে তোলে।

ঘন সাবান জল অথবা রুটির আটা অথবা ওই জাতীয় কিছুকে কালির মত ব্যবহার করে কাঠি জাতীয় কিছু দিয়ে হাতে চোর হিসেবে যার নাম ঘোষণা করা হবে, তার নামটি লিখে রাখা হয়। অর্থাৎ হাতে লেখা হল আঠা-জাতীয় জিনিস দিয়ে। ছাই ঘষতেই লেখার আঠা ছাইগুলোকে ধরে নেয়। মুখের ফুঁয়ে বা হাতের ঝাপটায় উড়ে যায় বাঁকি ছাই। তাই পরবর্তী পর্যায়ে দর্শকদের দৃষ্টিতে ধরা পড়ে ছাইয়ে লেখা নামটি।