০১১. সূরাঃ হূদ

আয়াতঅবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১২৩
রুকূঃ ১০
০০১الر ۚ كِتَابٌ أُحْكِمَتْ آيَاتُهُ ثُمَّ فُصِّلَتْ مِن لَّدُنْ حَكِيمٍ خَبِيرٍ
আলিফ-লাম-রা। এটা (কুরআন) এমন কিতাব যার আয়াতগুলি (প্রমাণাদি দ্বারা) মজবুত অকাট্য করা হয়েছে, অতঃপর বিশদভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞাতার পক্ষ হতে।
০০২أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۚ إِنَّنِي لَكُم مِّنْهُ نَذِيرٌ وَبَشِيرٌ
এই (উদ্দেশ্যে) যে, আল্লাহ ছাড়া কারো ইবাদত করো না; আমি (নবী সঃ) তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদেরকে ভয় প্রদর্শনকারী ও সুসংবাদদাতা।
০০৩وَأَنِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُمَتِّعْكُم مَّتَاعًا حَسَنًا إِلَىٰ أَجَلٍ مُّسَمًّى وَيُؤْتِ كُلَّ ذِي فَضْلٍ فَضْلَهُ ۖ وَإِن تَوَلَّوْا فَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ كَبِيرٍ
আর এই (উদ্দেশ্যে) যে, তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, তৎপর তাঁর প্রতি নিবিষ্ট থাকো, তিনি তোমাদেরকে সুখ-সম্ভোগ দান করবেন, নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত এবং প্রত্যেক অধিক আমলকারীকে অধিক সওয়াব দিবেন, আর যদি তোমরা মুখ ফিরাতেই থাকো, তবে আমি তোমাদের জন্য কঠিন দিনের শাস্তির আশঙ্কা করি।
০০৪إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ ۖ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আল্লাহরই নিকট তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে এবং তিনি প্রত্যেক বস্তুর উপর পূর্ণ ক্ষমতা রাখেন।
০০৫أَلَا إِنَّهُمْ يَثْنُونَ صُدُورَهُمْ لِيَسْتَخْفُوا مِنْهُ ۚ أَلَا حِينَ يَسْتَغْشُونَ ثِيَابَهُمْ يَعْلَمُ مَا يُسِرُّونَ وَمَا يُعْلِنُونَ ۚ إِنَّهُ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
জেনে রাখো, তারা কুঞ্চিত করে নিজেদের বক্ষকে যাতে নিজেদের কথাগুলি আল্লাহ হতে লুকাতে পারে; জেনে রেখো, তারা যখন নিজেদের কাপড় (নিজেদের দেহে) জড়ায়, তিনি তখনও স্ব জানেন যা কিছু তারা চুপে চুপে আলাপ করে এবং যা কিছু প্রকাশ্যে আলাপ করে, নিশ্চয় তিনি তো মনের ভিতরের কথাগুলিও জানেন।
০০৬وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ إِلَّا عَلَى اللَّهِ رِزْقُهَا وَيَعْلَمُ مُسْتَقَرَّهَا وَمُسْتَوْدَعَهَا ۚ كُلٌّ فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
আর ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই যে, তার রিযিক আল্লাহর যিম্মায় না রয়েছে, আর তিনি তার আবাস (এ জীবদ্দশায়) সম্পর্কে আর তাকে যেখানে সোপর্দ করা হবে (মৃত্যুর পরে) তিনি অবহিত। সবই এক সুস্পষ্ট কিতাবে (লাওহে মাহফুযে) লিপিবদ্ধ রয়েছে।
০০৭وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ وَكَانَ عَرْشُهُ عَلَى الْمَاءِ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۗ وَلَئِن قُلْتَ إِنَّكُم مَّبْعُوثُونَ مِن بَعْدِ الْمَوْتِ لَيَقُولَنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَـٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
আর তিনিই আসমান ও যমীনকে সৃষ্টি করেছেন ছ’দিনে এবং সেই সময় তাঁর আরশ পানির উপরে ছিল যেন তোমাদেরকে পরীক্ষা করে নেন যে, তোমাদের মধ্যে উত্তম আমলকারী কে? আর যদি তুমি বলঃ নিশ্চয়ই তোমাদেরকে মৃত্যুর পর জীবিত করা হবে, তখন যে সব লোক কাফির তারা বলেঃ এটা তো নিছক স্পষ্ট যাদু।
০০৮وَلَئِنْ أَخَّرْنَا عَنْهُمُ الْعَذَابَ إِلَىٰ أُمَّةٍ مَّعْدُودَةٍ لَّيَقُولُنَّ مَا يَحْبِسُهُ ۗ أَلَا يَوْمَ يَأْتِيهِمْ لَيْسَ مَصْرُوفًا عَنْهُمْ وَحَاقَ بِهِم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
আর যদি আমি কিছু সময়ের জন্যে তাদের থেকে শাস্তিকে মুলতবী করে রাখি তবে তারা বলতে থাকে, সেই শাস্তিকে কিসে আটকিয়ে রাখছ? স্মরণ রেখো, যেদিন ওটা তাদের উপর এসে পড়বে, তখন তা কিছুতেই নিবারিত হবে না, আর যা নিয়ে তারা উপহাস করছিল তা এসে তাদেরকে ঘিরে নেবে।
০০৯وَلَئِنْ أَذَقْنَا الْإِنسَانَ مِنَّا رَحْمَةً ثُمَّ نَزَعْنَاهَا مِنْهُ إِنَّهُ لَيَئُوسٌ كَفُورٌ
আর যদি আমি মানুষকে স্বীয় অনুগ্রহ আস্বাদন করিয়ে তার হতে তা ছিনিয়ে নেই, তবে সে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।
০১০وَلَئِنْ أَذَقْنَاهُ نَعْمَاءَ بَعْدَ ضَرَّاءَ مَسَّتْهُ لَيَقُولَنَّ ذَهَبَ السَّيِّئَاتُ عَنِّي ۚ إِنَّهُ لَفَرِحٌ فَخُورٌ
আর যদি তাকে কোন নিয়ামত আস্বাদন করাই কোন কষ্টের পর যা তার উপর আপতিত হয়েছিল, তখন বলতে শুরু করে, আমার সব দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে গেল; সে গর্ব করতে থাকে, আত্ম প্রশংসা করতে থাকে।
০১১إِلَّا الَّذِينَ صَبَرُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ أُولَـٰئِكَ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ كَبِيرٌ
কিন্তু যারা ধৈর্য ধরে ও ভাল কাজ করে, তারা ব্যতীত। এমন লোকদের জন্যে রয়েছে ক্ষমা এবং বিরাট পুরস্কার।
০১২فَلَعَلَّكَ تَارِكٌ بَعْضَ مَا يُوحَىٰ إِلَيْكَ وَضَائِقٌ بِهِ صَدْرُكَ أَن يَقُولُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ كَنزٌ أَوْ جَاءَ مَعَهُ مَلَكٌ ۚ إِنَّمَا أَنتَ نَذِيرٌ ۚ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ
ফলে হয়তো তুমি অংশ বিশেষ বর্জন করতে চাও ঐ নির্দেশাবলী হতে যা তোমার প্রতি ওহী যোগে প্রেরিত হয়, আর তোমার মন সংকুচিত হয় এই কথায় যে, তারা বলেঃ তার প্রতি কোন ধনভান্ডার কেন নাযিল হল না? অথবা তার সাথে কোন ফেরেশতা কেন আসলো না? (হে নবী সঃ)! তুমি তো শুধু ভয় প্রদর্শক আর আল্লাহই হচ্ছেন প্রত্যেক বস্তুর উপর পূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণকারী।
০১৩أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ ۖ قُلْ فَأْتُوا بِعَشْرِ سُوَرٍ مِّثْلِهِ مُفْتَرَيَاتٍ وَادْعُوا مَنِ اسْتَطَعْتُم مِّن دُونِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
তবে কি তারা বলে যে, ওটা সে নিজেই রচনা করেছে? তুমি বলে দাওঃ তাহলে তোমরাও ওর অনুরূপ রচিত দশটি সূরা আনয়ন কর এবং আল্লাহ ছাড়া যাকে যাকে পার ডাক, যদি তোমরা সত্যবাদী হও।
০১৪فَإِلَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا أُنزِلَ بِعِلْمِ اللَّهِ وَأَن لَّا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّسْلِمُونَ
অতঃপর যদি তারা তোমাদের ফরমাইশ পূর্ণ করতে না পারে তবে তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখো যে, এই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে আল্লাহরই জ্ঞান (ক্ষমতা) দ্বারা, আর এটাও যে, তিনি ছাড়া আর কোন সত্য মা’বূদ নেই, তবে এখন তোমরা আত্মসমর্পণ করবে কি?
০১৫مَن كَانَ يُرِيدُ الْحَيَاةَ الدُّنْيَا وَزِينَتَهَا نُوَفِّ إِلَيْهِمْ أَعْمَالَهُمْ فِيهَا وَهُمْ فِيهَا لَا يُبْخَسُونَ
যারা শুধু পার্থিব জীবন ও ওর জাঁকজমক কামনা করে, আমি তাদেরকে তাদের কৃতকর্মগুলি (-র ফল) দুনিয়াতেই পরিপূর্ণরূপে প্রদান করে দেই এবং দুনিয়াতে তাদের জন্যে কিছুই কম করা হয় না।
০১৬أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ لَيْسَ لَهُمْ فِي الْآخِرَةِ إِلَّا النَّارُ ۖ وَحَبِطَ مَا صَنَعُوا فِيهَا وَبَاطِلٌ مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
এরা এমন লোক যে, তাদের জন্যে আখেরাতে জাহান্নাম ছাড়া আর কিছুই নেই, আর তারা যা কিছু করেছিল তা সবই আখেরাতে অকেজো হয়ে যাবে এবং যা কিছু করছে তাও বিফল হবে।
০১৭أَفَمَن كَانَ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّهِ وَيَتْلُوهُ شَاهِدٌ مِّنْهُ وَمِن قَبْلِهِ كِتَابُ مُوسَىٰ إِمَامًا وَرَحْمَةً ۚ أُولَـٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۚ وَمَن يَكْفُرْ بِهِ مِنَ الْأَحْزَابِ فَالنَّارُ مَوْعِدُهُ ۚ فَلَا تَكُ فِي مِرْيَةٍ مِّنْهُ ۚ إِنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يُؤْمِنُونَ
অতঃপর যে তার রবের পক্ষ থেকে আসা সুস্পষ্ট প্রমাণের উপর রয়েছে এবং তাঁকে তেলাওয়াত করেন তাঁর পক্ষ থেকে একজন সাক্ষী (মুহাম্মদ সঃ) এবং তাঁর পূর্ববর্তী মুসার কিতাব যা পথ প্রদর্শক ও রহমত স্বরূপ। এমন লোকেরাই এর (কুরআনের) প্রতি ঈমান রাখে; আর অন্যান্য সম্প্রদায়ের যে ব্যক্তি এই কুরআন অমান্য করবে, তবে দোযখ হবে তার প্রতিশ্রুতি স্থান, অতএব তুমি এই (কুরআন) সম্পর্কে সন্দেহে পতিত হয়ো না, নিঃসন্দেহে এটা সত্য কিতাব তোমার প্রতিপালকের সন্নিধান হতে; কিন্তু অধিকাংশ লোক ঈমান আনয়ন করে না।
০১৮وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا ۚ أُولَـٰئِكَ يُعْرَضُونَ عَلَىٰ رَبِّهِمْ وَيَقُولُ الْأَشْهَادُ هَـٰؤُلَاءِ الَّذِينَ كَذَبُوا عَلَىٰ رَبِّهِمْ ۚ أَلَا لَعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
আর ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক অত্যাচারী কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করে? এরূপ লোকদেরকে তাদের প্রতিপালকের সামনে পেশ করা হবে এবং সাক্ষীগণ (ফেরেশতাগণ) বললেনঃ এরা ঐ লোক যারা নিজেদের প্রতিপালকের সম্বন্ধে মিথ্যা কথা আরোপ করেছিল, জেনে রেখো, এমন অত্যাচারীদের উপর আল্লাহর অভিশাপ।
০১৯الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ
যারা অপরকে আল্লাহর পথ হতে নিবৃত্ত রাখতো এবং ওতে বক্রতা বের করার চেষ্টায় লিপ্ত থাকতো; আর তারা পরকালেরও অমান্যকারী ছিল।
০২০أُولَـٰئِكَ لَمْ يَكُونُوا مُعْجِزِينَ فِي الْأَرْضِ وَمَا كَانَ لَهُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِنْ أَوْلِيَاءَ ۘ يُضَاعَفُ لَهُمُ الْعَذَابُ ۚ مَا كَانُوا يَسْتَطِيعُونَ السَّمْعَ وَمَا كَانُوا يُبْصِرُونَ
তারা (সমগ্র) ভূ-পৃষ্ঠে আল্লাহকে অক্ষম করতে পারে নাই, আর না তাদের জন্যে আল্লাহ ছাড়া কেউ সহায়কও হল, এরূপ লোকদের জন্যে দ্বিগুণ শাস্তি হবে, এরা না শুনতে সক্ষম হচ্ছিল, আর না তারা (সত্যপথ) দেখতে ছিল।
০২১أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
এরা সেই লোক যারা নিজেরা নিজেদের সর্বনাশ করে ফেলেছে, আর তারা যা কিছু রচনা করেছিল তা সবই তাদের নিকট হতে হারিয়ে গেছে।
০২২لَا جَرَمَ أَنَّهُمْ فِي الْآخِرَةِ هُمُ الْأَخْسَرُونَ
এটা সুনিশ্চিত যে, আখেরাতে এরাই হবে সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্থ।
০২৩إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ وَأَخْبَتُوا إِلَىٰ رَبِّهِمْ أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং সৎ কার্যাবলী সম্পন্ন করেছে, আর নিজেদের প্রতিপালকের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে, এরূপ লোকেরাই হচ্ছে জান্নাতবাসী, তাতে তারা অনন্তকাল থাকবে।
০২৪مَثَلُ الْفَرِيقَيْنِ كَالْأَعْمَىٰ وَالْأَصَمِّ وَالْبَصِيرِ وَالسَّمِيعِ ۚ هَلْ يَسْتَوِيَانِ مَثَلًا ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
দু’টি সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত এরূপ- যেমন এক ব্যক্তি যে অন্ধ ও বধির এবং আর এক ব্যক্তি যে দেখতেও পায় ও শুনতে পায় এই দু’ব্যক্তি কি তুলনায় সমান হবে? (কখনও নয়) তবুও কি তোমরা বুঝ না?
০২৫وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ إِنِّي لَكُمْ نَذِيرٌ مُّبِينٌ
আর আমি নূহকে (আঃ) তাঁর কওমের নিকট রাসূলরূপে প্রেরণ করেছি, (নূহ বললেন) আমি তোমাদের জন্যে স্পষ্ট ভয় প্রদর্শনকারী।
০২৬أَن لَّا تَعْبُدُوا إِلَّا اللَّهَ ۖ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ أَلِيمٍ
যে, তোমরা আল্লাহ ছাড়া আর কারো ইবাদত করো না, আমি তোমাদের উপর এক ভীষণ যন্ত্রণাদায়ক দিনের শাস্তির আশঙ্কা করছি।
০২৭فَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ مَا نَرَاكَ إِلَّا بَشَرًا مِّثْلَنَا وَمَا نَرَاكَ اتَّبَعَكَ إِلَّا الَّذِينَ هُمْ أَرَاذِلُنَا بَادِيَ الرَّأْيِ وَمَا نَرَىٰ لَكُمْ عَلَيْنَا مِن فَضْلٍ بَلْ نَظُنُّكُمْ كَاذِبِينَ
অনন্তর তার সম্প্রদায়ের মধ্যে যেসব নেতৃস্থানীয় লোক কাফির ছিল তারা বলতে লাগলোঃ আমরা তো তোমাকে আমাদেরই মতো মানুষ দেখতে পাচ্ছি, আর আমরা দেখছি যে, শুধু ঐ লোকেরাই তোমার অনুসরণ করছে যারা আমাদের মধ্যে নিতান্তই হীন ও গরীব, তাও আবার শুধু স্থুল বুদ্ধি অনুসারে; আর আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব আমরা দেখছি না; বরং আমরা তোমাদেরকে মিথ্যাবাদীই মনে করছি।
০২৮قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَآتَانِي رَحْمَةً مِّنْ عِندِهِ فَعُمِّيَتْ عَلَيْكُمْ أَنُلْزِمُكُمُوهَا وَأَنتُمْ لَهَا كَارِهُونَ
তিনি বললেনঃ হে আমার কওম! আচ্ছা বলতো আমি যদি স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রমাণের উপর থাকি এবং তিনি আমাকে নিজ সন্নিধান হতে রহমত (নবুওয়াত) দান করে থাকেন, অতঃপর ওটা তোমাদের বোধগম্য না হয়, তবে কি আমি ওটা তোমাদের উপর জোরপূর্বক চাপিয়ে দেবো, অথচ তোমরা ওটা অবজ্ঞা করতে থাকো?
০২৯وَيَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ مَالًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى اللَّهِ ۚ وَمَا أَنَا بِطَارِدِ الَّذِينَ آمَنُوا ۚ إِنَّهُم مُّلَاقُو رَبِّهِمْ وَلَـٰكِنِّي أَرَاكُمْ قَوْمًا تَجْهَلُونَ
আর হে আমার কওম আমি এতে তোমাদের কাছে কোন ধন-সম্পদ চাচ্ছি না; আবার বিনিময় তো শুধু আল্লাহর যিম্মায় রয়েছে, আর আমি তো এই মু’মিনদেরকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতে পারি না; নিশ্চয়ই তারা নিজেদের প্রতিপালকের সমীপে গমনকারী, পরন্তু আমি তোমাদেরকে নির্বোধ কওমরুপে দেখছি।
০৩০وَيَا قَوْمِ مَن يَنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِن طَرَدتُّهُمْ ۚ أَفَلَا تَذَكَّرُونَ
আর হে আমার কওম! আমি যদি তাদেরকে বের করেই দেই তবে আল্লাহর পাকড়াও হতে কে আমাকে রক্ষা করবে? তোমরা কি এতটুকু বুঝ না?
০৩১وَلَا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ إِنِّي مَلَكٌ وَلَا أَقُولُ لِلَّذِينَ تَزْدَرِي أَعْيُنُكُمْ لَن يُؤْتِيَهُمُ اللَّهُ خَيْرًا ۖ اللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا فِي أَنفُسِهِمْ ۖ إِنِّي إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ
আর আমি তোমাদেরকে এই কথা বলছি না যে, আমার নিকট আল্লাহর সকল ধন-ভান্ডার রয়েছে এবং আমি (একথা বলছি না যে আমি) অদৃশ্যের কথা জানি। আর আমি এটাও বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আর যারা তোমাদের চোখে হীন আমি তাদের সম্বন্ধে এটা বলতে পারি না যে, আল্লাহ কখনো তাদেরকে কোন নিয়ামত দান করবেন না। তাদের অন্তরে যা কিছু আছে তা আল্লাহ উত্তমরূপে জানেন, আমি তো এরূপ বললে অন্যায়ই করে ফেলব।
০৩২قَالُوا يَا نُوحُ قَدْ جَادَلْتَنَا فَأَكْثَرْتَ جِدَالَنَا فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
তারা বললঃ হে নূহ আঃ)! তুমি আমাদের সাথে বিতর্ক করেছো, অনন্তর সেই বিতর্ক অনেক বেশি করেছো, সুতরাং যে সম্বন্ধে তুমি আমাদেরকে ভয় দেখাচ্ছ তা আমাদের সামনে আনয়ন কর, যদি তুমি সত্যবাদী হও।
০৩৩قَالَ إِنَّمَا يَأْتِيكُم بِهِ اللَّهُ إِن شَاءَ وَمَا أَنتُم بِمُعْجِزِينَ
তিনি বললেনঃ ওটা তো আল্লাহ তোমাদের সামনে আনয়ন করবেন যদি তিনি ইচ্ছা করেন এবং তোমরা তাঁকে অক্ষম করতে পারবে না।
০৩৪وَلَا يَنفَعُكُمْ نُصْحِي إِنْ أَرَدتُّ أَنْ أَنصَحَ لَكُمْ إِن كَانَ اللَّهُ يُرِيدُ أَن يُغْوِيَكُمْ ۚ هُوَ رَبُّكُمْ وَإِلَيْهِ تُرْجَعُونَ
আর আমার দিক নির্দেশনা (নসীহত) তোমাদের উপকারে আসতে পারে না, আমি তোমাদের যতই মঙ্গল কামনা করতে চাই না কেন, যদি আল্লাহরই তোমাদেরকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা হয়; তিনিই তোমাদের প্রতিপালক, আর তাঁরই কাছে তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে।
০৩৫أَمْ يَقُولُونَ افْتَرَاهُ ۖ قُلْ إِنِ افْتَرَيْتُهُ فَعَلَيَّ إِجْرَامِي وَأَنَا بَرِيءٌ مِّمَّا تُجْرِمُونَ
তবে কি তারা বলেঃ সে (মুহাম্মদ সঃ) এটা (কুরআন) নিজেই রচনা করেছে। তুমি বলে দাওঃ যদি আমি তা নিজে রচনা করে থাকি তবে আমার এই অপরাধ আমার উপর বর্তিবে, আর আমি তোমাদের এই অপরাধ হতে সম্পূর্ণ মুক্ত।
০৩৬وَأُوحِيَ إِلَىٰ نُوحٍ أَنَّهُ لَن يُؤْمِنَ مِن قَوْمِكَ إِلَّا مَن قَدْ آمَنَ فَلَا تَبْتَئِسْ بِمَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
আর নূহের (আঃ) প্রতি ওহী প্রেরিত হল, যারা ঈমান এনেছে তারা ছাড়া তোমার কওম হতে আর কেউ ঈমান আনবে না, কাজেই যা তারা করছে তাতে তুমি মোটেই দুঃখ করো না।
০৩৭وَاصْنَعِ الْفُلْكَ بِأَعْيُنِنَا وَوَحْيِنَا وَلَا تُخَاطِبْنِي فِي الَّذِينَ ظَلَمُوا ۚ إِنَّهُم مُّغْرَقُونَ
আর তুমি আমার চোখের সামনে ও আমার নির্দেশক্রমে নৌকা নির্মাণ কর, আর আমার কাছে যালিমদের সম্পর্কে কোন কথা বল না, তাদের সকলকে নিমজ্জিত করা হবে।
০৩৮وَيَصْنَعُ الْفُلْكَ وَكُلَّمَا مَرَّ عَلَيْهِ مَلَأٌ مِّن قَوْمِهِ سَخِرُوا مِنْهُ ۚ قَالَ إِن تَسْخَرُوا مِنَّا فَإِنَّا نَسْخَرُ مِنكُمْ كَمَا تَسْخَرُونَ
তিনি নৌকা নির্মাণ করতে লাগলেন, আর যখনই তাঁর কওমের সরদারদের মধ্যে যে তাঁর নিকট দিয়ে গমন করতো, তখনই তাঁর সাথে উপহাস করতো, তিনি বলতেনঃ যদি তোমরা আমাদেরকে উপহাস কর তবে আমরাই (একদিন) তোমাদের উপহাস করবো, যেমন তোমরা আমাদেরকে উপহাস করছো।
০৩৯فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَيَحِلُّ عَلَيْهِ عَذَابٌ مُّقِيمٌ
সুতরাং সত্বরই তোমরা জানতে পারবে যে, সে কোন ব্যক্তি যার উপর এমন আযাব আসার উপক্রম হয়েছে যা তাকে লাঞ্ছিত করে দেবে এবং তার উপর চিরস্থায়ী আযাব নাযিল হবে।
০৪০حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَمْرُنَا وَفَارَ التَّنُّورُ قُلْنَا احْمِلْ فِيهَا مِن كُلٍّ زَوْجَيْنِ اثْنَيْنِ وَأَهْلَكَ إِلَّا مَن سَبَقَ عَلَيْهِ الْقَوْلُ وَمَنْ آمَنَ ۚ وَمَا آمَنَ مَعَهُ إِلَّا قَلِيلٌ
অবশেষে যখন আমার ফরমান এসে পৌঁছলো এবং যুলা (হতে পানি) উথলিয়ে উঠতে লাগলো, আমি বললাম, প্রত্যেক জীবের এক-এক জোড়া, দু’দুটি করে তাতে (নৌকাতে) উঠিয়ে নাও এবং নিজ পরিবার বর্গকেও, তাকে ছাড়া যার সম্বন্ধে পূর্বে নির্দেশ হয়ে গেছে এবং অন্যান্য মু’মিনদেরকে; আর অল্প কয়েকজন ছাড়া কেউই তাঁর সাথে ঈমান আনে নাই।
০৪১وَقَالَ ارْكَبُوا فِيهَا بِسْمِ اللَّهِ مَجْرَاهَا وَمُرْسَاهَا ۚ إِنَّ رَبِّي لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর তিনি (নূহ আঃ) বললেনঃ তোমরা এতে (নৌকায়) আরোহণ করো, এর গতি ও এর অবস্থান আল্লাহরই নামে; নিশ্চয় আমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল, দয়াবান।
০৪২وَهِيَ تَجْرِي بِهِمْ فِي مَوْجٍ كَالْجِبَالِ وَنَادَىٰ نُوحٌ ابْنَهُ وَكَانَ فِي مَعْزِلٍ يَا بُنَيَّ ارْكَب مَّعَنَا وَلَا تَكُن مَّعَ الْكَافِرِينَ
আর সেই নৌকাটিই তাদেরকে নিয়ে পর্বত তুল্য তরঙ্গের মধ্যে চলতে লাগলো, আর নূহ (আঃ) স্বীয় পুত্রকে ডাকতে লাগলেন এবং সে ছিল ভিন্ন স্থানে, হে আমার পুত্র! আমাদের সাথে সওয়ার হও এবং কাফিরদের সাথে থেকো না।
০৪৩قَالَ سَآوِي إِلَىٰ جَبَلٍ يَعْصِمُنِي مِنَ الْمَاءِ ۚ قَالَ لَا عَاصِمَ الْيَوْمَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ إِلَّا مَن رَّحِمَ ۚ وَحَالَ بَيْنَهُمَا الْمَوْجُ فَكَانَ مِنَ الْمُغْرَقِينَ
সে বললোঃ আমি এখনই কোন পাহাড়ে আশ্রয় গ্রহণ করবো যা আমাকে পানি হতে রক্ষা করবে। তিনি (নূহ আঃ) বললেনঃ আজ আল্লাহর শাস্তি হতে কেউই রক্ষাকারী নেই; কিন্তু যার উপর তিনি দয়া করেন, ইতিমধ্যে তাদের উভয়ের মাঝে একটি তরঙ্গ অন্তরাল হয়ে পড়লো, ফলে সে নিমজ্জিত লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।
০৪৪وَقِيلَ يَا أَرْضُ ابْلَعِي مَاءَكِ وَيَا سَمَاءُ أَقْلِعِي وَغِيضَ الْمَاءُ وَقُضِيَ الْأَمْرُ وَاسْتَوَتْ عَلَى الْجُودِيِّ ۖ وَقِيلَ بُعْدًا لِّلْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
আর আদেশ হলঃ যে যমীন স্বীয় পানি গিলে নাও এবং হে আসমান! থেকে যাও, তখন পানি কমে গেল ও ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটলো, আর নৌকা জুদী (পাহাড়)- এর উপর এসে থামলো, আর বলা হলঃ অন্যায়কারীরা আল্লাহর রহমত হতে দূরে।
০৪৫وَنَادَىٰ نُوحٌ رَّبَّهُ فَقَالَ رَبِّ إِنَّ ابْنِي مِنْ أَهْلِي وَإِنَّ وَعْدَكَ الْحَقُّ وَأَنتَ أَحْكَمُ الْحَاكِمِينَ
আর নূহ (আঃ) নিজ প্রতিপালককে ডাকলেন এবং বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমার এই পুত্রটি আমার পরিবারবর্গেরই অন্তর্ভুক্ত আর আপনার ওয়াদাও সম্পূর্ণ সত্য এবং আপনি সমস্ত বিচারকের শ্রেষ্ঠ বিচারক।
০৪৬قَالَ يَا نُوحُ إِنَّهُ لَيْسَ مِنْ أَهْلِكَ ۖ إِنَّهُ عَمَلٌ غَيْرُ صَالِحٍ ۖ فَلَا تَسْأَلْنِ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ ۖ إِنِّي أَعِظُكَ أَن تَكُونَ مِنَ الْجَاهِلِينَ
তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ হে নূহ! এই ব্যক্তি তোমার পরিবারের অন্তর্ভুক্ত নয়, সে অসৎ কর্মপরায়ণ, অতএব, তুমি আমার কাছে এমন বিষয়ের আবেদন করো না, যে সম্বন্ধে তোমার জ্ঞান নেই; আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি যে, তুমি অজ্ঞ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
০৪৭قَالَ رَبِّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أَسْأَلَكَ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ ۖ وَإِلَّا تَغْفِرْ لِي وَتَرْحَمْنِي أَكُن مِّنَ الْخَاسِرِينَ
সে (নূহ আঃ) বললোঃ হে আমার প্রতিপালক! আমি আপনার নিকট এমন বিষয়ের আবেদন করা থেকে আশ্রয় চাচ্ছি, যে সম্বন্ধে আমার জ্ঞান নেই, আর যদি আপনি আমাকে ক্ষমা না করেন এবং আমার প্রতি দয়া না করেন, তবে আমি সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
০৪৮قِيلَ يَا نُوحُ اهْبِطْ بِسَلَامٍ مِّنَّا وَبَرَكَاتٍ عَلَيْكَ وَعَلَىٰ أُمَمٍ مِّمَّن مَّعَكَ ۚ وَأُمَمٌ سَنُمَتِّعُهُمْ ثُمَّ يَمَسُّهُم مِّنَّا عَذَابٌ أَلِيمٌ
বলা হলঃ হে নূহ (আঃ)! অবতরণ কর আমার পক্ষ হতে সালাম ও বরকতসমূহ তোমার উপর এবং সেই দলসমূহের উপর যারা তোমার সাথে রয়েছে; আর অনেক দল এরূপও হবে যাদেরকে আমি (কিছুকাল দুনিয়ার) সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করবো, তৎপর তাদেরকে স্পর্শ করবে আমার পক্ষ হতে কঠিন শাস্তি।
০৪৯تِلْكَ مِنْ أَنبَاءِ الْغَيْبِ نُوحِيهَا إِلَيْكَ ۖ مَا كُنتَ تَعْلَمُهَا أَنتَ وَلَا قَوْمُكَ مِن قَبْلِ هَـٰذَا ۖ فَاصْبِرْ ۖ إِنَّ الْعَاقِبَةَ لِلْمُتَّقِينَ
এটা হচ্ছে গায়েবী সংবাদ সমূহের অন্তর্ভুক্ত, যা আমি তোমার (হে মুহাম্মদ সঃ) কাছে ওহী মারফত পৌঁছিয়ে দিচ্ছি, ইতিপূর্বে এটা না তুমি জানতে, আর না তোমার কওম; অতএব, তুমি ধৈর্য ধারণ কর; নিশ্চয় শুভ পরিণাম মুত্তাকীদের জন্যেই।
০৫০وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُ ۖ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا مُفْتَرُونَ
আর আ’দ (সম্প্রদায়)-এর প্রতি তাদের ভাই হূদ (আঃ)-কে (রাসূলরূপে প্রেরণ করলাম;) তিনি বললেনঃ হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের কোন সত্য মা’বূদ নেই, তোমরা শুধু মিথ্যা উদ্ভাবনকারী।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x