০১১. সূরাঃ হূদ

আয়াতঅবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১২৩
রুকূঃ ১০
০৫১يَا قَوْمِ لَا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ أَجْرِيَ إِلَّا عَلَى الَّذِي فَطَرَنِي ۚ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
হে আমার কওম! আমি এর জন্যে তোমাদের কাছে কোন বিনিময় চাই না, আমার বিনিময় শুধু তারই যিম্মায় রয়েছে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন; তবুও কি তোমরা বুঝ না?
০৫২وَيَا قَوْمِ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُم مِّدْرَارًا وَيَزِدْكُمْ قُوَّةً إِلَىٰ قُوَّتِكُمْ وَلَا تَتَوَلَّوْا مُجْرِمِينَ
আর হে আমার কওম! তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই পানে নিবিষ্ট হও, তিনি তোমাদের উপর প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন এবং তোমাদেরকে আরো শক্তি প্রদান করে তোমাদের শক্তিকে বর্ধিত করে দেবেন, আর তোমরা অপরাধী হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না।
০৫৩قَالُوا يَا هُودُ مَا جِئْتَنَا بِبَيِّنَةٍ وَمَا نَحْنُ بِتَارِكِي آلِهَتِنَا عَن قَوْلِكَ وَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ
তারা বললোঃ হে হূদ (আঃ) তুমি তো আমাদের সামনে কোন প্রমাণ উপস্থাপন কর নাই এবং তোমার কথায় তো আমাদের উপাস্য দেবতাদেরকে বর্জন করতে পারি না, আর আমরা কিছুতেই তোমার প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী নই।
০৫৪إِن نَّقُولُ إِلَّا اعْتَرَاكَ بَعْضُ آلِهَتِنَا بِسُوءٍ ۗ قَالَ إِنِّي أُشْهِدُ اللَّهَ وَاشْهَدُوا أَنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ
আমাদের কথা তো এই যে, আমাদের উপাস্য দেবতাদের মধ্য হতে কেউ তোমাকে দুর্দশায় ফেলে দিয়েছে; তিনি বললেনঃ আমি আল্লাহকে সাক্ষী করছি এবং তোমরাও সাক্ষী থেকো, আমি ঐ সব কিছু থেকে মুক্ত যাদেরকে তোমরা শরীক সাব্যস্ত করছো।
০৫৫مِن دُونِهِ ۖ فَكِيدُونِي جَمِيعًا ثُمَّ لَا تُنظِرُونِ
তাঁকে (আল্লাহকে) ছেড়ে, অনন্তর তোমরা সবাই মিলে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালাও, অত:পর আমাকে সামান্য অবকাশও দিয়ো না।
০৫৬إِنِّي تَوَكَّلْتُ عَلَى اللَّهِ رَبِّي وَرَبِّكُم ۚ مَّا مِن دَابَّةٍ إِلَّا هُوَ آخِذٌ بِنَاصِيَتِهَا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
আমি আল্লাহর উপর ভরসা করেছি, যিনি আমারও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক, ভূ-পৃষ্ঠে যত বিচরণকারী রয়েছে সবারই ঝুঁটি তাঁর মুষ্টিতে আবদ্ধ; নিশ্চয় আমার প্রতিপালক সরল পথে অবস্থিত।
০৫৭فَإِن تَوَلَّوْا فَقَدْ أَبْلَغْتُكُم مَّا أُرْسِلْتُ بِهِ إِلَيْكُمْ ۚ وَيَسْتَخْلِفُ رَبِّي قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّونَهُ شَيْئًا ۚ إِنَّ رَبِّي عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ حَفِيظٌ
অতঃপর যদি তোমরা ফিরে যাও, তবে আমাকে যে পয়গাম দিয়ে তোমাদের প্রতি পাঠানো হয়েছে, আমি তো ওটা তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি; আর আমার প্রতিপালক (ভূ-পৃষ্ঠে) তোমাদের স্থলে অন্য লোকদের আবাদ করে দিবেন, এবং তোমরা তাঁর কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না; নিশ্চয় আমার প্রতিপালক প্রত্যেক বস্তুর রক্ষণাবেক্ষণ করে থাকেন।
০৫৮وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا هُودًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَنَجَّيْنَاهُم مِّنْ عَذَابٍ غَلِيظٍ
আর যখন আমার (শাস্তির) হুকুম এসে পৌঁছলো তখন আমি হূদকে (আঃ) এবং যারা তাঁর সাথে ঈমানদার ছিল তাদেরকে স্বীয় অনুগ্রহে রক্ষা করলাম, আর তাদেরকে বাঁচিয়ে নিলাম অতি কঠিন শাস্তি হতে।
০৫৯وَتِلْكَ عَادٌ ۖ جَحَدُوا بِآيَاتِ رَبِّهِمْ وَعَصَوْا رُسُلَهُ وَاتَّبَعُوا أَمْرَ كُلِّ جَبَّارٍ عَنِيدٍ
আর এরা ছিল আ’দ সম্প্রদায়, যারা নিজেদের প্রতিপালকের নিদর্শনগুলিকে অস্বীকার করলো এবং তাঁর রাসূলদেরকে অমান্য করলো এবং তারা সম্পূর্ণরূপে এমন লোকদের কথামত চলতে লাগলো যারা ছিল যালিম হঠকারী।
০৬০وَأُتْبِعُوا فِي هَـٰذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ أَلَا إِنَّ عَادًا كَفَرُوا رَبَّهُمْ ۗ أَلَا بُعْدًا لِّعَادٍ قَوْمِ هُودٍ
আর এই দুনিয়াতেও অভিসম্পাত তাদের সঙ্গে সঙ্গে রইলো এবং কিয়ামতের দিনেও; ভালরূপে জেনে রেখো! আ’দ (সম্প্রদায়) নিজ প্রতিপালকের সাথে কুফরী করলো; আরো জেনে রেখো, দূরে পড়ে গেল আ’দ (রহমত হতে) যারা হূদের (আঃ) কওম ছিল।
০৬১وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُ ۖ هُوَ أَنشَأَكُم مِّنَ الْأَرْضِ وَاسْتَعْمَرَكُمْ فِيهَا فَاسْتَغْفِرُوهُ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي قَرِيبٌ مُّجِيبٌ
আর আমি সা’মূদ (সম্প্রদায়) এর নিকট তাদের ভাই সালেহ (আঃ)-কে প্রেরণ করলাম (নবীরূপে), তিনি বললেনঃ হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া কেউ তোমাদের সত্য মা’বূদ নেই। তিনি তোমাদেরকে যমীন হতে সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদেরকে তাতে আবাদ করেছেন, অতএব তোমরা তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর মনোনিবেশ কর তাঁরই দিকে; নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক একান্ত নিকটবর্তী, ডাকে সাড়া দানকারী।
০৬২قَالُوا يَا صَالِحُ قَدْ كُنتَ فِينَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هَـٰذَا ۖ أَتَنْهَانَا أَن نَّعْبُدَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِي شَكٍّ مِّمَّا تَدْعُونَا إِلَيْهِ مُرِيبٍ
তারা বললোঃ হে সালেহ তুমি তো ইতোপূর্বে আমাদের মধ্যে আশা-ভরসাস্থল ছিলে, তুমি কি আমাদেরকে ঐ বস্তুর উপাসনা করতে নিষেধ করছো; যাদের উপাসনা আমাদের পিতৃপুরুষেরা করে এসেছে? আর যে ধর্মের দিকে তুমি আমাদেরকে ডাকছো বস্তুতঃ আমরা তো তৎসম্বন্ধে গভীর সন্দেহের মধ্যে রয়েছি, যা আমাদেরকে দ্বিধাদ্বন্দ্বে ফেলে রেখেছে।
০৬৩قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَآتَانِي مِنْهُ رَحْمَةً فَمَن يَنصُرُنِي مِنَ اللَّهِ إِنْ عَصَيْتُهُ ۖ فَمَا تَزِيدُونَنِي غَيْرَ تَخْسِيرٍ
হে (সালেহ আঃ) বললোঃ হে আমার কওম! আচ্ছা তোমরা ভেবে দেখেছ কি, যদি আমি নিজ প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রমাণের উপর থাকি এবং তিনি আমার প্রতি নিজের রহমত (নবুওয়াত) দান করে থাকেন; আর আমি যদি আল্লাহর কথা না মানি, তবে আমাকে আল্লাহ(-র শাস্তি) হতে কে রক্ষা করবে? তবে তোমরা আমার ক্ষতির মধ্যে নিক্ষেপ ছাড়া আর কিছুই বৃদ্ধি করতে পারবে না।
০৬৪وَيَا قَوْمِ هَـٰذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً فَذَرُوهَا تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابٌ قَرِيبٌ
আর হে আমার কওম! এটা হচ্ছে আল্লাহর উষ্ট্রী যা তোমাদের জন্যে নিদর্শন। অতএব ওকে ছেড়ে দাও, যেন আল্লাহর যমীনে চরে খায়, আর ওকে খারাপ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করো না, অন্যথায় তোমাদেরকে আকস্মিক শাস্তি এসে পাকড়াও করবে।
০৬৫فَعَقَرُوهَا فَقَالَ تَمَتَّعُوا فِي دَارِكُمْ ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ ۖ ذَٰلِكَ وَعْدٌ غَيْرُ مَكْذُوبٍ
অনন্তর তারা ওকে মেরে ফেললো, তখন সে বললো; তোমরা নিজেদের ঘরে আরো তিনটি দিন সুখভোগ করে নাও এটা এমন ওয়াদা যাতে বিন্দুমাত্র মিথ্যা নেই।
০৬৬فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا صَالِحًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَمِنْ خِزْيِ يَوْمِئِذٍ ۗ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ الْقَوِيُّ الْعَزِيزُ
অতঃপর যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছলো, আমি সালেহকে (আঃ) এবং যারা তার সাথে ঈমানদার ছিল তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে রক্ষা করলাম, আর বাঁচালাম সেই দিনের বড় লাঞ্ছনা হতে; নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক শক্তিমান, পরাক্রমশালী।
০৬৭وَأَخَذَ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ
আর সেই যালিমদেরকে এক প্রচন্ড ধ্বনি এসে আক্রমণ করলো, যাতে তারা নিজ নিজ গৃহে (মৃত অবস্থায়) উপুর হয়ে পড়ে রইলো।
০৬৮كَأَن لَّمْ يَغْنَوْا فِيهَا ۗ أَلَا إِنَّ ثَمُودَ كَفَرُوا رَبَّهُمْ ۗ أَلَا بُعْدًا لِّثَمُودَ
যেন তারা সেই গৃহগুলিতে কখনো বসবাস করে নাই; ভালরূপে জেনে রাখো! সামূদ সম্প্রদায় নিজ প্রতিপালকের সাথে কুফরী করলো; জেনে রাখো, সামূদ সম্প্রদায়কে দূরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। (ধ্বংস হয়ে গেছে)।
০৬৯وَلَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُنَا إِبْرَاهِيمَ بِالْبُشْرَىٰ قَالُوا سَلَامًا ۖ قَالَ سَلَامٌ ۖ فَمَا لَبِثَ أَن جَاءَ بِعِجْلٍ حَنِيذٍ
আর আমার প্রেরিত রাসূলগণ (ফেরস্তারা) ইব্রাহীমের (আঃ) নিকট সুসংবাদ নিয়ে আগমন করলেন, (এবং) তাঁরা বললেন সালাম, ইব্রাহীমও (আঃ) সালাম করলেন, অতঃপর অনতিবিলম্বে একটা কবাব করা গো বৎস আনয়ন করলেন।
০৭০فَلَمَّا رَأَىٰ أَيْدِيَهُمْ لَا تَصِلُ إِلَيْهِ نَكِرَهُمْ وَأَوْجَسَ مِنْهُمْ خِيفَةً ۚ قَالُوا لَا تَخَفْ إِنَّا أُرْسِلْنَا إِلَىٰ قَوْمِ لُوطٍ
কিন্তু যখন তিনি দেখলেন যে, তাঁদের হাত সেই খাদ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে না, তখন তাঁদেরকে অদ্ভুত ভাবতে লাগলেন এবং মনে মনে তাঁদের থেকে শঙ্কিত হলেন; (এ দেখে) তারা বললেনঃ ভয় করবেন না, আমরা লূত সম্প্রদায়ের প্রতি প্রেরিত হয়েছি।
০৭১وَامْرَأَتُهُ قَائِمَةٌ فَضَحِكَتْ فَبَشَّرْنَاهَا بِإِسْحَاقَ وَمِن وَرَاءِ إِسْحَاقَ يَعْقُوبَ
আর তাঁর স্ত্রী দন্ডায়মান ছিলেন, তিনি হেঁসে উঠলেন, তখন আমি তাকে (ইব্রাহীমের (আঃ) স্ত্রীকে) সুসংবাদ দিলাম ইসহাকের (আঃ) এবং ইসহাকের (আঃ) পর ইয়াকুবের (আঃ)।
০৭২قَالَتْ يَا وَيْلَتَىٰ أَأَلِدُ وَأَنَا عَجُوزٌ وَهَـٰذَا بَعْلِي شَيْخًا ۖ إِنَّ هَـٰذَا لَشَيْءٌ عَجِيبٌ
তিনি বললেনঃ হায় আমার কপাল! এখন আমি সন্তান প্রসব করবো বৃদ্ধা হয়ে; আর আমার এই স্বামী অতি বৃদ্ধ! বাস্তবিকই এটা তো একটা বিস্ময়কর ব্যাপার!
০৭৩قَالُوا أَتَعْجَبِينَ مِنْ أَمْرِ اللَّهِ ۖ رَحْمَتُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ عَلَيْكُمْ أَهْلَ الْبَيْتِ ۚ إِنَّهُ حَمِيدٌ مَّجِيدٌ
তারা (ফেরেশতারা) বললেনঃ আপনি (ইব্রাহীমের স্ত্রীকে) কি আল্লাহর কাজে বিস্ময় বোধ করছেন? (হে) এই পরিবারের লোকেরা! আপনাদের প্রতি তো আল্লাহর রহমত ও তাঁর বরকতসমূহ (নাযিল হয়ে আসছে); নিশ্চয় তিনি প্রশংসার যোগ্য, মহামহিমান্বিত।
০৭৪فَلَمَّا ذَهَبَ عَنْ إِبْرَاهِيمَ الرَّوْعُ وَجَاءَتْهُ الْبُشْرَىٰ يُجَادِلُنَا فِي قَوْمِ لُوطٍ
অতঃপর যখন ইব্রাহীমের (আঃ) সেই ভয় দূর হয়ে গেল এবং তিনি সুসংবাদ প্রাপ্ত হলেন, তখন আমার সাথে লূত-কওম সম্বন্ধে তর্ক-বিতর্ক করতে শুরু করলো।
০৭৫إِنَّ إِبْرَاهِيمَ لَحَلِيمٌ أَوَّاهٌ مُّنِيبٌ
বাস্তবিক ইব্রাহীম (আঃ) ছিলেন বড় সহিষ্ণু প্রকৃতির, ইবাদত গুজার ও প্রত্যাবর্তনকারী।
০৭৬يَا إِبْرَاهِيمُ أَعْرِضْ عَنْ هَـٰذَا ۖ إِنَّهُ قَدْ جَاءَ أَمْرُ رَبِّكَ ۖ وَإِنَّهُمْ آتِيهِمْ عَذَابٌ غَيْرُ مَرْدُودٍ
হে ইব্রাহীম (আঃ)! একথা ছেড়ে দাও, তোমার প্রতিপালকের ফরমান এসে গেছে এবং তাদের উপর এমন এক শাস্তি আসছে যা কিছুতেই টলবার নয়।
০৭৭وَلَمَّا جَاءَتْ رُسُلُنَا لُوطًا سِيءَ بِهِمْ وَضَاقَ بِهِمْ ذَرْعًا وَقَالَ هَـٰذَا يَوْمٌ عَصِيبٌ
আর যখন আমার ঐ ফেরশতারা লূতের (আঃ) নিকট উপস্থিত হলেন, তখন তিনি তাঁদের কারণে (তাঁদের নিরাপত্তার জন্যে) বিষন্ন হয়ে পড়লেন এবং সেই কারণে অন্তর সংকুচিত হল, আর বললেনঃ আজকের দিনটি অতি কঠিন।
০৭৮وَجَاءَهُ قَوْمُهُ يُهْرَعُونَ إِلَيْهِ وَمِن قَبْلُ كَانُوا يَعْمَلُونَ السَّيِّئَاتِ ۚ قَالَ يَا قَوْمِ هَـٰؤُلَاءِ بَنَاتِي هُنَّ أَطْهَرُ لَكُمْ ۖ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَلَا تُخْزُونِ فِي ضَيْفِي ۖ أَلَيْسَ مِنكُمْ رَجُلٌ رَّشِيدٌ
আর তাঁর কওম তার কাছে ছুটে আসলো এবং তারা পূর্ব হতে কুকার্যসমূহ করেই আসছিল; লূত (আঃ) বললেনঃ হে আমার কওম! আমার (সমাজের) এই কন্যারা রয়েছে, এরা তোমাদের জন্যে অতি পবিত্র। অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমাকে আমার মেহমানদের সামনে অপমানিত করো না। তোমাদের মধ্যে কি ভালো লোক কেউই নেই?
০৭৯قَالُوا لَقَدْ عَلِمْتَ مَا لَنَا فِي بَنَاتِكَ مِنْ حَقٍّ وَإِنَّكَ لَتَعْلَمُ مَا نُرِيدُ
তারা বললোঃ তুমি তো অবগত আছ যে, তোমার (সমাজের) এই কন্যাগুলিতে আমাদের কোন আবশ্যক নেই, আর আমাদের অভিপ্রায় কি তাও তোমার জানা আছে।
০৮০قَالَ لَوْ أَنَّ لِي بِكُمْ قُوَّةً أَوْ آوِي إِلَىٰ رُكْنٍ شَدِيدٍ
তিনি (লূত আঃ) বললেনঃ কি উত্তম হতো যদি তোমাদের উপর আমার কিছু ক্ষমতা চলতো, অথবা আমি কোন দৃঢ় স্তম্ভের আশ্রয় নিতাম।
০৮১قَالُوا يَا لُوطُ إِنَّا رُسُلُ رَبِّكَ لَن يَصِلُوا إِلَيْكَ ۖ فَأَسْرِ بِأَهْلِكَ بِقِطْعٍ مِّنَ اللَّيْلِ وَلَا يَلْتَفِتْ مِنكُمْ أَحَدٌ إِلَّا امْرَأَتَكَ ۖ إِنَّهُ مُصِيبُهَا مَا أَصَابَهُمْ ۚ إِنَّ مَوْعِدَهُمُ الصُّبْحُ ۚ أَلَيْسَ الصُّبْحُ بِقَرِيبٍ
তাঁরা (ফেরাশতারা) বললেনঃ হে লূত (আঃ)! আমরা তো আপনার রবের প্রেরিত, তারা কখনো আপনার নিকট পৌঁছতে পারবে না, অতএব, আপনি রাত্রির কোন এক ভাগে নিজের পরিবার বর্গকে নিয়ে চলে যান, আপনাদের কেউ যেন পিছনের দিকে ফিরেও না দেখে; কিন্তু হ্যাঁ, আপনার স্ত্রী যাবে না, তার উপরও ঐ আপদ আসবে যা অন্যান্যদের প্রতি আসবে, তাদের (শাস্তির) অঙ্গীকারকৃত সময় হচ্ছে প্রাতঃকাল; প্রভাত কি নিকটবর্তী নয়?
০৮২فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِّن سِجِّيلٍ مَّنضُودٍ
অতঃপর যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছলো, আমি ঐ ভূ-খন্ডের উপরিভাগকে নীচে করে দিলাম এবং ওর উপর পাকা মাটির পাথর বর্ষণ করতে লাগলাম, যা একাধারে ছিল।
০৮৩مُّسَوَّمَةً عِندَ رَبِّكَ ۖ وَمَا هِيَ مِنَ الظَّالِمِينَ بِبَعِيدٍ
যা বিশেষ চিহ্নিত করা ছিল তোমার প্রতিপালকের নিকট; আর তা (জনপদগুলি) এই যালিমদের হতে বেশি দূরে নয়।
০৮৪وَإِلَىٰ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا ۚ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُ ۖ وَلَا تَنقُصُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ ۚ إِنِّي أَرَاكُم بِخَيْرٍ وَإِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ مُّحِيطٍ
আর আমি মাদইয়ানের (অধিবাসীদের) প্রতি তাদের ভ্রাতা শুআইবকে (আঃ) প্রেরণ করলাম; তিনি বললেনঃ হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া আর কেউ তোমাদের সত্য মা’বূদ নেই; আর তোমরা মাপে ও ওজনে কম করো না, আমি তোমাদেরকে স্বচ্ছল অবস্থায় দেখতে পাচ্ছি। আর আমি তোমাদের প্রতি এক বেষ্টনকারী দিবসের শাস্তির ভয় করছি।
০৮৫وَيَا قَوْمِ أَوْفُوا الْمِكْيَالَ وَالْمِيزَانَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
আর হে আমার কওম! তোমরা মাপ ও ওজনকে পুরোপুরিভাবে সম্পন্ন কর এবং লোকদের তাদের দ্রব্যাদিতে ক্ষতি করো না, আর ভূ-পৃষ্ঠে ফাসাদ সৃষ্টি করে সীমা অতিক্রম করো না।
০৮৬بَقِيَّتُ اللَّهِ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ ۚ وَمَا أَنَا عَلَيْكُم بِحَفِيظٍ
আল্লাহ প্রদত্ত যা অবশিষ্ট থাকে, তাই তোমাদের জন্যে অতি উত্তম- যদি তোমাদের বিশ্বাস হয়, আর আমি তো তোমাদের পাহারাদার নই।
০৮৭قَالُوا يَا شُعَيْبُ أَصَلَاتُكَ تَأْمُرُكَ أَن نَّتْرُكَ مَا يَعْبُدُ آبَاؤُنَا أَوْ أَن نَّفْعَلَ فِي أَمْوَالِنَا مَا نَشَاءُ ۖ إِنَّكَ لَأَنتَ الْحَلِيمُ الرَّشِيدُ
তারা বললোঃ হে শুআ’ইব (আঃ)! তোমার নামায কি তোমাকে এই শিক্ষা দিচ্ছে যে, আমরা ঐসব উপাস্য বর্জন করি যাদের উপাসনা আমাদের পিতৃ-পুরুষরা করে আসছে? অথবা এটা বর্জন করতে যে, আমরা নিজেদের মালে নিজেদের ইচ্ছানুসারে ব্যবস্থা অবলম্বন করি? বাস্তবিকই তুমি হচ্ছ ধৈর্যশীল ও নেক্কার।
০৮৮قَالَ يَا قَوْمِ أَرَأَيْتُمْ إِن كُنتُ عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَرَزَقَنِي مِنْهُ رِزْقًا حَسَنًا ۚ وَمَا أُرِيدُ أَنْ أُخَالِفَكُمْ إِلَىٰ مَا أَنْهَاكُمْ عَنْهُ ۚ إِنْ أُرِيدُ إِلَّا الْإِصْلَاحَ مَا اسْتَطَعْتُ ۚ وَمَا تَوْفِيقِي إِلَّا بِاللَّهِ ۚ عَلَيْهِ تَوَكَّلْتُ وَإِلَيْهِ أُنِيبُ
তিনি বললেনঃ হে আমার কওম! আচ্ছা তোমাদের কি মত, যদি আমি আমার প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকি এবং তিনি আমাকে নিজ সন্নিধান হতে একটি উত্তম সম্পদ (নবুওয়াত) দান করে থাকেন, (তবে আমি কিরূপে প্রচার না করে পারি?) আর আমি এটা চাই না যে, আমি তোমাদের বিপরীত সেই সব কাজ করি যা হতে তোমাদেরকে নিষেধ করেছি; আমি তো শুধুমাত্র সাধ্য মুতাবেক সংশোধন করে দিতে চাচ্ছি, আর আমার যা কিছু তাওফীক হয় তা শুধু আল্লাহরই সাহায্যে হয়ে থাকে; আমি তাঁরই উপর ভরসা রাখি এবং তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তন করি।
০৮৯وَيَا قَوْمِ لَا يَجْرِمَنَّكُمْ شِقَاقِي أَن يُصِيبَكُم مِّثْلُ مَا أَصَابَ قَوْمَ نُوحٍ أَوْ قَوْمَ هُودٍ أَوْ قَوْمَ صَالِحٍ ۚ وَمَا قَوْمُ لُوطٍ مِّنكُم بِبَعِيدٍ
আর হে আমার কওম! তোমাদের আমার প্রতি হঠকারিতা যেন এর কারণ না হয়ে পড়ে যে, তোমাদের উপর সেইরূপ বিপদ এসে পড়ে, যেমন নূহের (আঃ) কওম অথবা হূদের (আঃ) কওম অথবা সালেহের (আঃ) কওমের উপর পতিত হয়েছিল; আর লূতের (আঃ) কওম তো তোমাদের হতে দূর (যুগে) নয়।
০৯০وَاسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ ثُمَّ تُوبُوا إِلَيْهِ ۚ إِنَّ رَبِّي رَحِيمٌ وَدُودٌ
আর তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর, অতঃপর তাঁরই দিকে মনোনিবেশ কর; নিশ্চয় আমার প্রতিপালক পরম দয়ালু, অতি প্রেমময়।
০৯১قَالُوا يَا شُعَيْبُ مَا نَفْقَهُ كَثِيرًا مِّمَّا تَقُولُ وَإِنَّا لَنَرَاكَ فِينَا ضَعِيفًا ۖ وَلَوْلَا رَهْطُكَ لَرَجَمْنَاكَ ۖ وَمَا أَنتَ عَلَيْنَا بِعَزِيزٍ
তারা বললোঃ হে শুআ’ইব (আঃ)! তোমার বর্ণিত অনেক কথা আমাদের বুঝে আসে না, এবং আমরা নিজেদের মধ্যে তোমাকে দুর্বল দেখছি, আর যদি তোমার স্বজনবর্গ না থাকতো, তবে আমরা তোমাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করে ফেলতাম। আর আমাদের নিকট তুমি মোটেও শক্তিশালী নও।
০৯২قَالَ يَا قَوْمِ أَرَهْطِي أَعَزُّ عَلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَاتَّخَذْتُمُوهُ وَرَاءَكُمْ ظِهْرِيًّا ۖ إِنَّ رَبِّي بِمَا تَعْمَلُونَ مُحِيطٌ
তিনি বললেনঃ হে আমার কওম! আমার পরিজনবর্গ কি তোমাদের কাছে আল্লাহ অপেক্ষাও অধিক শক্তিশালী? আর তোমরা তাঁকে বিস্মৃত হয়ে পশ্চাতে ফেলে রেখেছো; নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক তোমাদের সমস্ত কার্যকলাপকে বেষ্টন করে আছেন।
০৯৩وَيَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ ۖ سَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن يَأْتِيهِ عَذَابٌ يُخْزِيهِ وَمَنْ هُوَ كَاذِبٌ ۖ وَارْتَقِبُوا إِنِّي مَعَكُمْ رَقِيبٌ
আর হে আমার কওম! তোমরা নিজেদের অবস্থায় কাজ করতে থাকো, আমিও (আমার) কাজ করছি, এখন সত্বরই তোমরা জানতে পারবে যে, কে সেই ব্যক্তি যার উপর এমন শাস্তি আসন্ন যা তাকে অপমানিত করবে এবং কে সেই ব্যক্তি যে, মিথ্যাবাদী ছিল; আর তোমরা প্রতীক্ষায় থাকো, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষায় রইলাম।
০৯৪وَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا نَجَّيْنَا شُعَيْبًا وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَأَخَذَتِ الَّذِينَ ظَلَمُوا الصَّيْحَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دِيَارِهِمْ جَاثِمِينَ
(আল্লাহ বললেনঃ) আর যখন আমার হুকুম এসে পৌঁছলো, তখন আমি মুক্তি দিলাম শুআইবকে (আঃ), আর যারা তার সাথে ঈমানদার ছিল তাদেরকে নিজ রহমতে এবং ঐ যালিমদেরকে আক্রমণ করলো এক বিকট গর্জন, অতপর তারা নিজ গৃহের মধ্যে (মৃত অবস্থায়) উপুর হয়ে পড়ে রইলো।
০৯৫كَأَن لَّمْ يَغْنَوْا فِيهَا ۗ أَلَا بُعْدًا لِّمَدْيَنَ كَمَا بَعِدَتْ ثَمُودُ
যেন তারা এই গৃহগুলিতে বাস করেই নাই; ভালরূপে জেনে নাও, (রহমত হতে) দূরে সরে পড়লো মাদইয়ান, যেমন দূর হয়েছিল সামূদ (সম্প্রদায়) রহমত হতে।
০৯৬وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
এবং আমি মূসাকে (আঃ) প্রেরণ করলাম আমার মু’জিযাসমূহ ও সুস্পষ্ট প্রমাণ সহকারে।
০৯৭إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَاتَّبَعُوا أَمْرَ فِرْعَوْنَ ۖ وَمَا أَمْرُ فِرْعَوْنَ بِرَشِيدٍ
ফিরাউন ও তার প্রধান বর্গের নিকট, অনন্তর তারা (ও) ফিরাউনের মতানুসারে চলতে থাকলো এবং ফিরাউনের কার্যকলাপ মোটেই সৎ ছিল না।
০৯৮يَقْدُمُ قَوْمَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَأَوْرَدَهُمُ النَّارَ ۖ وَبِئْسَ الْوِرْدُ الْمَوْرُودُ
কিয়ামতের দিন সে নিজ সম্প্রদায়ের আগে আগে থাকবে, অতঃপর তাদেরকে উপনীত করে দেবে দোযখে, আর তা অতি নিকৃষ্ট স্থান যাতে তারা উপনীত হবে।
০৯৯وَأُتْبِعُوا فِي هَـٰذِهِ لَعْنَةً وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ ۚ بِئْسَ الرِّفْدُ الْمَرْفُودُ
আর লা’নত তাদের সাথে সাথে রইলো (এই দুনিয়াতে) এবং কিয়ামত দিবসেও, তা হ্ল নিকৃষ্ট পুরস্কার যা তাদেরকে দেয়া হয়েছে।
১০০ذَٰلِكَ مِنْ أَنبَاءِ الْقُرَىٰ نَقُصُّهُ عَلَيْكَ ۖ مِنْهَا قَائِمٌ وَحَصِيدٌ
এটা ছিল সেই জনপদসমূহের কতিপয় অবস্থা যা আমি তোমার নিকট বর্ণনা করছি, ওগুলির মধ্যে কোন কোন জনপদ তো বহাল রয়েছে এবং কোন কোনটির সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটেছে।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x