০১৫. সূরাঃ হিজর

আয়াতঅবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ৯৯
রুকূঃ ০৬
০১الر ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ وَقُرْآنٍ مُّبِينٍ
আলিফ-লাম-রা এগুলি আয়াত মহাগ্রন্থের, সুস্পষ্ট কুরআনের।
০২رُّبَمَا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ كَانُوا مُسْلِمِينَ
কখনো কখনো কাফিররা আকাঙ্ক্ষা করবে যে, তারা যদি মুসলিম হতো!
০৩ذَرْهُمْ يَأْكُلُوا وَيَتَمَتَّعُوا وَيُلْهِهِمُ الْأَمَلُ ۖ فَسَوْفَ يَعْلَمُونَ
তাদেরকে ছেড়ে দাও, তারা খেতে থাকুক, ভোগ করতে থাকুক এবং আশা আকাঙ্ক্ষা ওদেরকে মোহাচ্ছন্ন রাখুক, (পরিণামে) তারা অতি শীঘ্রই জানবে।
০৪وَمَا أَهْلَكْنَا مِن قَرْيَةٍ إِلَّا وَلَهَا كِتَابٌ مَّعْلُومٌ
আমি কোন জনপদকে তার নির্দিষ্ট কাল পূর্ণ না হলে ধ্বংস করি নাই।
০৫مَّا تَسْبِقُ مِنْ أُمَّةٍ أَجَلَهَا وَمَا يَسْتَأْخِرُونَ
কোন জাতি তার নির্দিষ্ট কালকে অগ্রগামী করতে পারে না এবং বিলম্বিতও করতে পারে না।
০৬وَقَالُوا يَا أَيُّهَا الَّذِي نُزِّلَ عَلَيْهِ الذِّكْرُ إِنَّكَ لَمَجْنُونٌ
তারা বলেঃ ওহে, যার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে! তুমি তো নিশ্চয় উন্মাদ।
০৭لَّوْ مَا تَأْتِينَا بِالْمَلَائِكَةِ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
তুমি সত্যবাদী হলে আমাদের নিকট ফেরেশতাদেরকে হাযির করছো না কেন?
০৮

مَا نُنَزِّلُ الْمَلَائِكَةَ إِلَّا بِالْحَقِّ وَمَا كَانُوا إِذًا مُّنظَرِينَ
আমি ফেরেশতাদেরকে হকের সাথেই প্রেরণ করি; ফেরেশতারা হাযির হলে তারা অবকাশ পাবে না।

 
০৯إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
আমিই কুরআন অবতীর্ণ করেছি এবং আমিই এর সংরক্ষণকারী।
১০وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ فِي شِيَعِ الْأَوَّلِينَ
তোমার পূর্বে আমি পূর্বের অনেক সম্প্রদায়ের নিকট রাসূল পাঠিয়েছিলাম।
১১وَمَا يَأْتِيهِم مِّن رَّسُولٍ إِلَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
তাদের নিকট আসে নাই এমন কোন রাসূল যাকে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো না।
১২كَذَٰلِكَ نَسْلُكُهُ فِي قُلُوبِ الْمُجْرِمِينَ
এভাবে আমি অপরাধীদের অন্তরে তা সঞ্চার করি।
১৩لَا يُؤْمِنُونَ بِهِ ۖ وَقَدْ خَلَتْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ
তারা কুরআনে বিশ্বাস করবে না এবং অতীতে পূর্ববর্তীগণেরও এই আচরণ ছিল।
১৪وَلَوْ فَتَحْنَا عَلَيْهِم بَابًا مِّنَ السَّمَاءِ فَظَلُّوا فِيهِ يَعْرُجُونَ
যদি তাদের জন্যে আমি আকাশের দুয়ার খুলে দিই এবং তারা সারাদিন তাতে আরোহণ করতে থাকে।
১৫لَقَالُوا إِنَّمَا سُكِّرَتْ أَبْصَارُنَا بَلْ نَحْنُ قَوْمٌ مَّسْحُورُونَ
তবুও তারা বলবেঃ আমাদের দৃষ্টিভ্রম ঘটানো হয়েছে; না, বরং আমরা এক যাদুগ্রস্থ সম্প্রদায়।
১৬وَلَقَدْ جَعَلْنَا فِي السَّمَاءِ بُرُوجًا وَزَيَّنَّاهَا لِلنَّاظِرِينَ
আকাশে আমি গ্রহ-নক্ষত্র সৃষ্টি করেছি এবং ওকে করেছি সুশোভিত দর্শকদের জন্যে।
১৭وَحَفِظْنَاهَا مِن كُلِّ شَيْطَانٍ رَّجِيمٍ
প্রত্যেক অভিশপ্ত শয়তান হতে আমি ওকে রক্ষা করে থাকি।
১৮إِلَّا مَنِ اسْتَرَقَ السَّمْعَ فَأَتْبَعَهُ شِهَابٌ مُّبِينٌ
আর কেউ চুরি করে সংবাদ শুনতে চাইলে ওর পশ্চাদ্ধান করে প্রদীপ্ত শিখা।
১৯وَالْأَرْضَ مَدَدْنَاهَا وَأَلْقَيْنَا فِيهَا رَوَاسِيَ وَأَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ شَيْءٍ مَّوْزُونٍ
পৃথিবীকে আমি বিস্তৃত করেছি এবং ওতে পর্বতমালা স্থাপন করেছি; আমি ওতে প্রত্যেক বস্তু উদ্গত করেছি সুপরিমিতভাবে।
২০وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ وَمَن لَّسْتُمْ لَهُ بِرَازِقِينَ
আর আমি ওতে জীবিকার ব্যবস্থা করেছি তোমাদের জন্যে আর তোমরা যাদের জীবিকাদাতা নও তাদের জন্যেও।
২১وَإِن مِّن شَيْءٍ إِلَّا عِندَنَا خَزَائِنُهُ وَمَا نُنَزِّلُهُ إِلَّا بِقَدَرٍ مَّعْلُومٍ
আমারই কাছে আছে প্রত্যেক বস্তুর ভান্ডার এবং আমি তা পরিজ্ঞাত পরিমাণেই সরবরাহ করে থাকি।
২২وَأَرْسَلْنَا الرِّيَاحَ لَوَاقِحَ فَأَنزَلْنَا مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَسْقَيْنَاكُمُوهُ وَمَا أَنتُمْ لَهُ بِخَازِنِينَ
আমি বৃষ্টি গর্ভ বায়ু প্রেরণ করি, অতঃপর আকাশ হতে বারি বর্ষণ করি এবং তা তোমাদেরকে পান করতে দিই; ওতে ভান্ডার তোমাদের কাছে নেই।
২৩وَإِنَّا لَنَحْنُ نُحْيِي وَنُمِيتُ وَنَحْنُ الْوَارِثُونَ
আমিই জীবন দান করি ও মৃত্যু ঘটাই এবং আমিই চূড়ান্ত মালিকানার অধিকারী।
২৪وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَقْدِمِينَ مِنكُمْ وَلَقَدْ عَلِمْنَا الْمُسْتَأْخِرِينَ
তোমাদের পূর্বে যারা গত হয়েছে আমি তাদেরকে জানি এবং পরে যারা আসবে তাদেরকেও জানি।
২৫وَإِنَّ رَبَّكَ هُوَ يَحْشُرُهُمْ ۚ إِنَّهُ حَكِيمٌ عَلِيمٌ
তোমার প্রতিপালকই তাদেরকে সমবেত করবেন; নিশ্চয় তিনি প্রজ্ঞাময় সর্বজ্ঞ।
২৬وَلَقَدْ خَلَقْنَا الْإِنسَانَ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ
আমিই তো মানুষকে সৃষ্টি করেছি ছাঁচে ঢালা শুষ্ক ঠনঠনে মৃত্তিকা হতে।
২৭وَالْجَانَّ خَلَقْنَاهُ مِن قَبْلُ مِن نَّارِ السَّمُومِ
এর পূর্বে সৃষ্টি করেছি জিনকে প্রখর শিখাযুক্ত অগ্নি হতে।
২৮وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَائِكَةِ إِنِّي خَالِقٌ بَشَرًا مِّن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ
(স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেনঃ ‘আমি ছাঁচে ঢালা শুষ্ক ঠনঠনে মৃত্তিকা হতে মানুষ সৃষ্টি করছি।
২৯فَإِذَا سَوَّيْتُهُ وَنَفَخْتُ فِيهِ مِن رُّوحِي فَقَعُوا لَهُ سَاجِدِينَ
যখন আমি তাকে সুঠাম করবো এবং তাতে আমার রূহ সঞ্চার করবো তখন তোমরা তার প্রতি সিজদাবনত হয়ো।
৩০فَسَجَدَ الْمَلَائِكَةُ كُلُّهُمْ أَجْمَعُونَ
তখন ফেরেশতাগণ সবাই একত্রে সিজদা করলেন।
৩১إِلَّا إِبْلِيسَ أَبَىٰ أَن يَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ
কিন্তু ইবলিস ব্যতীত। সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হতে অস্বীকার করলো।
৩২قَالَ يَا إِبْلِيسُ مَا لَكَ أَلَّا تَكُونَ مَعَ السَّاجِدِينَ
তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ হে ইবলিস! তোমার কি হল যে, তুমি সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হলে না?
৩৩قَالَ لَمْ أَكُن لِّأَسْجُدَ لِبَشَرٍ خَلَقْتَهُ مِن صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُونٍ
সে (উত্তরে) বললঃ ছাঁচে ঢালা শুষ্ক ঠনঠনে মৃত্তিকা হতে যে মানুষ আপনি সৃষ্টি করেছেন, আমি তাকে সিজদা করবার নই।
৩৪قَالَ فَاخْرُجْ مِنْهَا فَإِنَّكَ رَجِيمٌ
তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ তবে তুমি এখান হতে বের হয়ে যাও, কারণ তুমি অভিশপ্ত।
৩৫وَإِنَّ عَلَيْكَ اللَّعْنَةَ إِلَىٰ يَوْمِ الدِّينِ
কর্মফল দিবস পর্যন্ত তোমার প্রতি রইলো লা’নত।
৩৬قَالَ رَبِّ فَأَنظِرْنِي إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
সে (ইবলীস) বললঃ হে আমার প্রতিপালক! পুরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন।
৩৭قَالَ فَإِنَّكَ مِنَ الْمُنظَرِينَ
তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ যাদেরকে অবকাশ দেয়া হয়েছে তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হলে।
৩৮إِلَىٰ يَوْمِ الْوَقْتِ الْمَعْلُومِ
অবধারিত সময় উপস্থিত হওয়ার দিন পর্যন্ত।
৩৯قَالَ رَبِّ بِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأُزَيِّنَنَّ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَلَأُغْوِيَنَّهُمْ أَجْمَعِينَ
সে বললঃ হে আমার প্রতিপালক! আপনি যে আমাকে বিপদগামী করলেন তজ্জন্যে আমি পৃথিবীতে মানুষের নিকট পাপ কর্মকে অবশ্যই শোভনীয় করে তুলবো এবং আমি তাদের সকলকেই বিপথগামী করেই ছাড়বে।
৪০إِلَّا عِبَادَكَ مِنْهُمُ الْمُخْلَصِينَ
তবে তাদের মধ্যে আপনার নির্বাচিত (নিবেদিত) বান্দাগণ নয়।
৪১قَالَ هَـٰذَا صِرَاطٌ عَلَيَّ مُسْتَقِيمٌ
তিনি বললেনঃ এটাই আমার নিকট পৌঁছার সরলপথ।
৪২إِنَّ عِبَادِي لَيْسَ لَكَ عَلَيْهِمْ سُلْطَانٌ إِلَّا مَنِ اتَّبَعَكَ مِنَ الْغَاوِينَ
বিভ্রান্তিদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তারা ছাড়া আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা থাকবে না।
৪৩وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمَوْعِدُهُمْ أَجْمَعِينَ
অবশ্যই (তোমার অনুসারীদের) তাদের সবারই নির্ধারিত স্থান হবে জাহান্নাম।
৪৪لَهَا سَبْعَةُ أَبْوَابٍ لِّكُلِّ بَابٍ مِّنْهُمْ جُزْءٌ مَّقْسُومٌ
ওর সাতটি দরজা আছে, প্রত্যেক দরজার জন্যে তাদের মধ্য থেকে একটি অংশকে নির্দিষ্ট করা হবে।
৪৫إِنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَعُيُونٍ
নিশ্চয় মুত্তাকীরা থাকবে প্রস্রবন (ঝর্না) বহুল জান্নাতে।
৪৬ادْخُلُوهَا بِسَلَامٍ آمِنِينَ
(তাদেরকে বলা হবেঃ) তোমরা শান্তি ও নিরাপত্তার সাথে তাতে প্রবেশ কর।
৪৭وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلٍّ إِخْوَانًا عَلَىٰ سُرُرٍ مُّتَقَابِلِينَ
আমি তাদের অন্তর হতে হিংসা দূর করবো; তারা ভ্রাতৃভাবে পরস্পর মুখোমুখি আসনে অবস্থান করবে।
৪৮لَا يَمَسُّهُمْ فِيهَا نَصَبٌ وَمَا هُم مِّنْهَا بِمُخْرَجِينَ
সেথায় তাদেরকে বিষন্নতা স্পর্শ করবে না এবং তারা সেখা হতে বহিষ্কৃতও হবে না।
৪৯نَبِّئْ عِبَادِي أَنِّي أَنَا الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
আমার বান্দাদেরকে সংবাদ দাওঃ নিশ্চয় আমি মহা ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
৫০وَأَنَّ عَذَابِي هُوَ الْعَذَابُ الْأَلِيمُ
আর আমার শাস্তি সে অতি পীড়াদায়ক দয়ালু।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x