৩৭. সূরাঃ সাফ-ফাত

আয়াত অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১৮২
রুকূঃ ৫
১০১ فَبَشَّرْنَاهُ بِغُلَامٍ حَلِيمٍ
অতঃপর আমি তাকে এক সহনশীল পুত্রের সুসংবাদ দিলাম।
১০২ فَلَمَّا بَلَغَ مَعَهُ السَّعْيَ قَالَ يَا بُنَيَّ إِنِّي أَرَىٰ فِي الْمَنَامِ أَنِّي أَذْبَحُكَ فَانظُرْ مَاذَا تَرَىٰ ۚ قَالَ يَا أَبَتِ افْعَلْ مَا تُؤْمَرُ ۖ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ مِنَ الصَّابِرِينَ
অতঃপর সে (সন্তান) যখন তার পিতার সাথে কাজ করার মত বয়সে উপনীত হল তখন ইব্রাহীম (আঃ) বললোঃ হে আমার বৎস! আমি স্বপ্নে দেখি যে, তোমাকে আমি যবেহ করছি, এখন তোমার অভিমত কি? সে বললোঃ হে আমার পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহর ইচ্ছা করলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।
১০৩ فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ
যখন তারা উভয়ে আনুগত্য প্রকাশ করলো এবং তিনি (ইব্রাহীম আঃ) তাকে (পুত্রকে) কাত করে শোয়ালেন,
১০৪ وَنَادَيْنَاهُ أَن يَا إِبْرَاهِيمُ
তখন আমি তাকে আহ্বান করে বললামঃ হে ইব্রাহীম (আঃ)!
১০৫ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
তুমি তো স্বপ্ন বাস্তবেই পালন করলে! এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে ঠাকই।
১০৬ إِنَّ هَـٰذَا لَهُوَ الْبَلَاءُ الْمُبِينُ
নিশ্চয়ই এটা ছিল এক স্পষ্ট পরীক্ষা।
১০৭ وَفَدَيْنَاهُ بِذِبْحٍ عَظِيمٍ
আমি তার (ইসমাঈলের) ফিদইয়া (পরিবর্তে) এক মহান কুরবানী (দুম্বা) প্রদান করলাম।
১০৮ وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ
আমি এটা (তার আদর্শ) পরবর্তীদের মধ্যে রেখেছি।
১০৯ سَلَامٌ عَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ
ইব্রাহীম (আঃ)-এর উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
১১০ كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
এভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
১১১ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ
সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম।
১১২ وَبَشَّرْنَاهُ بِإِسْحَاقَ نَبِيًّا مِّنَ الصَّالِحِينَ
আমি তাকে সুসংবাদ দিয়েছিলাম ইসহাক (আঃ)-এর সে ছিল এক নবী, সৎকর্মশীলদের অন্যতম।
১১৩ وَبَارَكْنَا عَلَيْهِ وَعَلَىٰ إِسْحَاقَ ۚ وَمِن ذُرِّيَّتِهِمَا مُحْسِنٌ وَظَالِمٌ لِّنَفْسِهِ مُبِينٌ
আমি তাকে বরকত দান করেছিলাম এবং ইসহাককেও (আঃ) এবং উভয়ের বংশধরদের মধ্যে কতক সৎকর্মপরায়ণ এবং কতক নিজেদের প্রতি স্পষ্ট অত্যাচারী।
১১৪ وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَارُونَ
আমি অনুগ্রহ করেছিলাম মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-এর উপর।
১১৫ وَنَجَّيْنَاهُمَا وَقَوْمَهُمَا مِنَ الْكَرْبِ الْعَظِيمِ
এবং তাদেরকে ও তাদের সম্প্রদায়কে আমি উদ্ধার করেছিলাম মহা বিপদ হতে।
১১৬ وَنَصَرْنَاهُمْ فَكَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ
আমি সাহায্য করেছিলাম তাদেরকে, ফলে তারা হয়েছিল বিজয়ী।
১১৭ وَآتَيْنَاهُمَا الْكِتَابَ الْمُسْتَبِينَ
আমি উভয়কে দিয়েছিলাম স্পষ্ট কিতাব।
১১৮ وَهَدَيْنَاهُمَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيمَ
এবং উভয়কে আমি পরিচালিত করছিলাম সরল পথে।
১১৯ وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِي الْآخِرِينَ
আমি তাদের উভয়ের সুখ্যাতি পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি।
১২০ سَلَامٌ عَلَىٰ مُوسَىٰ وَهَارُونَ
মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ)-এর উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
১২১ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
এভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
১২২ إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ
তারা দু’জনে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্ত্রভুক্ত।
১২৩ وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
ইলিয়াসও (আঃ) ছিল রাসূলদের একজন।
১২৪ إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَلَا تَتَّقُونَ
স্মরণ কর, যখন সে তার সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ তোমরা কি আল্লাহকে ভয় করবে না?
১২৫ أَتَدْعُونَ بَعْلًا وَتَذَرُونَ أَحْسَنَ الْخَالِقِينَ
তোমরা কি বা’আল দেবমূর্তিকে ডাকবে এবং পরিত্যাগ করবে সর্বোত্তম স্রষ্টাকে?
১২৬ اللَّهَ رَبَّكُمْ وَرَبَّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ
আল্লাহ, যিনি প্রতিপালক তোমাদের এবং প্রতিপালক তোমাদের পূর্বপুরুষদের।
১২৭ فَكَذَّبُوهُ فَإِنَّهُمْ لَمُحْضَرُونَ
তখন তারা তাকে (ইলিয়াসকে) মিথ্যাবাদী বলেছিল, কাজেই তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির জন্যে উপস্থিত করা হবে।
১২৮ إِلَّا عِبَادَ اللَّهِ الْمُخْلَصِينَ
তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা ভিন্ন।
১২৯ وَتَرَكْنَا عَلَيْهِ فِي الْآخِرِينَ
আমি তাকে পরবর্তীদের স্মরণে রেখেছি।
১৩০ سَلَامٌ عَلَىٰ إِلْ يَاسِينَ
ইলিয়াস (আঃ)-এর উপর শান্তি বর্ষিত হোক।
১৩১ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
এভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
১৩২ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ
সে ছিল আমার মু’মিন বান্দাদের অন্যতম।
১৩৩ وَإِنَّ لُوطًا لَّمِنَ الْمُرْسَلِينَ
লূতও (আঃ) ছিল রাসূলদের একজন।
১৩৪ إِذْ نَجَّيْنَاهُ وَأَهْلَهُ أَجْمَعِينَ
আমি তাকে ও তার পরিবারের সবাইকে উদ্ধার করেছিলাম।
১৩৫ إِلَّا عَجُوزًا فِي الْغَابِرِينَ
এক বৃদ্ধা (লূত আঃ –এর স্ত্রী) ব্যতীত, যে ছিল পশ্চাতে অবস্থানকারীদের অন্তর্ভুক্ত।
১৩৬ ثُمَّ دَمَّرْنَا الْآخَرِينَ
অতঃপর অবশিষ্টদেরকে আমি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করেছিলাম।
১৩৭ وَإِنَّكُمْ لَتَمُرُّونَ عَلَيْهِم مُّصْبِحِينَ
তোমরা তো তাদের ধ্বংসাবশেষগুলো অতিক্রম করে থাক সকালে।
১৩৮ وَبِاللَّيْلِ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
এবং রাতে, তবুও কি তোমরা অনুধাবন করবে না?
১৩৯ وَإِنَّ يُونُسَ لَمِنَ الْمُرْسَلِينَ
আর ইউনূসও (আঃ) ছিলেন রাসূলদের একজন।
১৪০ إِذْ أَبَقَ إِلَى الْفُلْكِ الْمَشْحُونِ
যখন তিনি পলায়ন করে বোঝাই নৌযানে পৌছিলেন।
১৪১ فَسَاهَمَ فَكَانَ مِنَ الْمُدْحَضِينَ
অতঃপর সে লটারীতে যোগদান করলো এবং পরাভূত হল।
১৪২ فَالْتَقَمَهُ الْحُوتُ وَهُوَ مُلِيمٌ
পরে এক বৃহদাকার মৎস তাকে গিলে ফেললো, তখন তিনি নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলেন।
১৪৩ فَلَوْلَا أَنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُسَبِّحِينَ
তিনি যদি আল্লাহর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা না করতেন,
১৪৪ لَلَبِثَ فِي بَطْنِهِ إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
তাহলে তাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত থাকতে হতো ওর উদরে।
১৪৫ فَنَبَذْنَاهُ بِالْعَرَاءِ وَهُوَ سَقِيمٌ
অতঃপর ইউনূস (আঃ)-কে আমি নিক্ষেপ করলাম এক তৃণহীন প্রান্তরে এবং তিনি ছিলেন রুগ্ন।
১৪৬ وَأَنبَتْنَا عَلَيْهِ شَجَرَةً مِّن يَقْطِينٍ
পরে আমি তার উপর একটি লতা বিশিষ্ট গাছ উৎপন্ন (লাউ গাছের মত) করলাম।
১৪৭ وَأَرْسَلْنَاهُ إِلَىٰ مِائَةِ أَلْفٍ أَوْ يَزِيدُونَ
তাঁকে আমি লক্ষ বা ততোধিক লোকের প্রতি প্রেরণ করেছিলাম।
১৪৮ فَآمَنُوا فَمَتَّعْنَاهُمْ إِلَىٰ حِينٍ
এবং তারা ঈমান এনেছিল; ফলে আমি তাদেরকে কিছু কালের জন্যে জীবনোপভোগ করতে দিলাম।
১৪৯ فَاسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ الْبَنَاتُ وَلَهُمُ الْبَنُونَ
এখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ তোমরা প্রতিপালকের জন্যেই কি রয়েছে কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্যে পুত্র সন্তান?
১৫০ أَمْ خَلَقْنَا الْمَلَائِكَةَ إِنَاثًا وَهُمْ شَاهِدُونَ
অথবা কি আমি ফেরেশতাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছি আর তারা প্রত্যক্ষ করেছিল?
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x