৪০. সূরাঃ মু’মিন

আয়াত অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ৮৫
রুকূঃ ৯
০১ حم
হা-মীম,
০২ تَنزِيلُ الْكِتَابِ مِنَ اللَّهِ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ
এই কিতাব অবতীর্ণ হয়েছে পরাক্রমশালী সর্বজ্ঞ আল্লাহর নিকট হতে-
০৩ غَافِرِ الذَّنبِ وَقَابِلِ التَّوْبِ شَدِيدِ الْعِقَابِ ذِي الطَّوْلِ ۖ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ إِلَيْهِ الْمَصِيرُ
যিনি পাপ ক্ষমাকারী, তাওবা কবুলকারী, যিনি শাস্তিদানে কঠোর, শক্তিশালী। তিনি ব্যতীত (সত্য) কোন মা’বূদ নেই। তাঁরই নিকট প্রত্যাবর্তন।
০৪ مَا يُجَادِلُ فِي آيَاتِ اللَّهِ إِلَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَلَا يَغْرُرْكَ تَقَلُّبُهُمْ فِي الْبِلَادِ
শুধু কাফিররাই আল্লাহর নিদর্শন সম্বন্ধে ঝগড়া করে; সুতরাং শহরগুলিতে তাদের অবাধ বিচরণ যেন তোমাকে ধোকায় না ফেলে।
০৫ كَذَّبَتْ قَبْلَهُمْ قَوْمُ نُوحٍ وَالْأَحْزَابُ مِن بَعْدِهِمْ ۖ وَهَمَّتْ كُلُّ أُمَّةٍ بِرَسُولِهِمْ لِيَأْخُذُوهُ ۖ وَجَادَلُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ فَأَخَذْتُهُمْ ۖ فَكَيْفَ كَانَ عِقَابِ
তাদের পূর্বে নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায় এবং তাদের পরে অন্যান্য দলও মিথ্যারোপ করেছিল। প্রত্যেক সম্প্রদায় নিজ নিজ রাসূলকে গ্রেফতার করবার চক্রান্ত করেছিল এবং তারা বাজে তর্কে লিপ্ত হয়েছিল, এর দ্বারা সত্যকে নষ্ট করে দেয়ার জন্যে; ফলে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম এবং কত কঠোর ছিল আমার শাস্তি!
০৬ وَكَذَٰلِكَ حَقَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ عَلَى الَّذِينَ كَفَرُوا أَنَّهُمْ أَصْحَابُ النَّارِ
এভাবে কাফিরদের ক্ষেত্রে সাব্যস্ত হয়ে গেল তোমার প্রতিপালকের বাণী-এরা অবশ্যই জাহান্নামী।
০৭ الَّذِينَ يَحْمِلُونَ الْعَرْشَ وَمَنْ حَوْلَهُ يُسَبِّحُونَ بِحَمْدِ رَبِّهِمْ وَيُؤْمِنُونَ بِهِ وَيَسْتَغْفِرُونَ لِلَّذِينَ آمَنُوا رَبَّنَا وَسِعْتَ كُلَّ شَيْءٍ رَّحْمَةً وَعِلْمًا فَاغْفِرْ لِلَّذِينَ تَابُوا وَاتَّبَعُوا سَبِيلَكَ وَقِهِمْ عَذَابَ الْجَحِيمِ
যারা আরশ ধারণ করে আছে এবং যারা এর চতুষ্পার্শ্বে রয়েছে, তারা তাদের প্রতিপালকের পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করে প্রশংসার সাথে এবং তাতে বিশ্বাস স্থাপন করে এবং মু’মিনদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করে (বলেঃ) হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি সকল কিছুকেই (তোমার) রহমত ও জ্ঞান দ্বারা পরিবেষ্টন করেছ, অতএব যারা তাওবা করে ও আপনার পথের অনুসরণ করে আপনি তাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে রক্ষা করুন।
০৮ رَبَّنَا وَأَدْخِلْهُمْ جَنَّاتِ عَدْنٍ الَّتِي وَعَدتَّهُمْ وَمَن صَلَحَ مِنْ آبَائِهِمْ وَأَزْوَاجِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি তাদেরকে প্রবেশ করান স্থায়ী জান্নাতে, যার অঙ্গীকার আপনি তাদেরকে দিয়েছেন এবং তাদের বাপ-দাদা, স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততির মধ্যে যারা সৎকর্ম করেছে তাদেরকেও। আপনি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান।
০৯ وَقِهِمُ السَّيِّئَاتِ ۚ وَمَن تَقِ السَّيِّئَاتِ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمْتَهُ ۚ وَذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
এবং আপনি তাদেরকে মন্দকাজসমূহ হতে রক্ষা করুন, আপনি যাকে মন্দকাজসমূহ হতে রক্ষা করেন, ঐদিন তো তার প্রতি অনুগ্রহই করলেন, এটাই তো মহা সাফল্য।
১০ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا يُنَادَوْنَ لَمَقْتُ اللَّهِ أَكْبَرُ مِن مَّقْتِكُمْ أَنفُسَكُمْ إِذْ تُدْعَوْنَ إِلَى الْإِيمَانِ فَتَكْفُرُونَ
নিশ্চয়ই যারা কুরফরী করেছে তাদেরকে আহ্বান করা হবেঃ তোমাদের নিজেদের প্রতি তোমাদের ক্ষোভ অপেক্ষা আল্লাহর অসন্তুষ্টি ছিল অনেক বড়, যখন তোমাদেরকে ঈমানের প্রতি আহ্বান করা হতো তখন তোমরা তা অস্বীকার করতে।
১১ قَالُوا رَبَّنَا أَمَتَّنَا اثْنَتَيْنِ وَأَحْيَيْتَنَا اثْنَتَيْنِ فَاعْتَرَفْنَا بِذُنُوبِنَا فَهَلْ إِلَىٰ خُرُوجٍ مِّن سَبِيلٍ
তারা বলবেঃ আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে মৃত অবস্থায় দু’বার রেখেছেন এবং দু’বার আমাদেরকে প্রাণ দিয়েছেন। আমরা আমাদের অপরাধ স্বীকার করছি; এখন বহির্গমনের (নিষ্কৃতির জন্য) কোন পথ মিলবে কি?
১২ ذَٰلِكُم بِأَنَّهُ إِذَا دُعِيَ اللَّهُ وَحْدَهُ كَفَرْتُمْ ۖ وَإِن يُشْرَكْ بِهِ تُؤْمِنُوا ۚ فَالْحُكْمُ لِلَّهِ الْعَلِيِّ الْكَبِيرِ
তোমাদের (এই শাস্তি তো) এই জন্যে যে, যখন এক আল্লাহকে ডাকা হতো তখন তোমরা তাঁকে অস্বীকার করতে এবং আল্লাহর শরীক স্থীর করা হলে তোমরা তা মেনে নিতে। বস্তুতঃ সমুচ্চ মহান আল্লাহরই সমস্ত কর্তৃত্ব।
১৩ هُوَ الَّذِي يُرِيكُمْ آيَاتِهِ وَيُنَزِّلُ لَكُم مِّنَ السَّمَاءِ رِزْقًا ۚ وَمَا يَتَذَكَّرُ إِلَّا مَن يُنِيبُ
তিনিই তোমাদেরকে তাঁর নিদর্শনাবলী দেখান এবং আকাশ হতে অবতীর্ণ করেন তোমাদের জন্যে রিযিক; আল্লাহর অভিমুখী ব্যক্তিরই উপদেশ গ্রহণ করে থাকে।
১৪ فَادْعُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ডাকো তাঁর ইবাদত একনিষ্ঠ হয়ে, যদিও কাফিররা এটা অপছন্দ করে।
১৫ رَفِيعُ الدَّرَجَاتِ ذُو الْعَرْشِ يُلْقِي الرُّوحَ مِنْ أَمْرِهِ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ لِيُنذِرَ يَوْمَ التَّلَاقِ
তিনি সমুচ্চ মর্যাদার অধিকারী, আরশের অধিপতি, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছা রূহ (ওহী) প্রেরণ করেন স্বীয় আদেশসহ, যাতে সে সতর্ক করতে পারে সাক্ষাৎ (কিয়ামত) দিবস সম্পর্কে।
১৬ يَوْمَ هُم بَارِزُونَ ۖ لَا يَخْفَىٰ عَلَى اللَّهِ مِنْهُمْ شَيْءٌ ۚ لِّمَنِ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ۖ لِلَّهِ الْوَاحِدِ الْقَهَّارِ
যেদিন তারা (কবর হতে) বের হয়ে পড়বে, সেদিন আল্লাহর নিকট তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। (আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন) আজ কর্তৃত্ব কার? এক পরাক্রমশালী আল্লাহরই।
১৭ الْيَوْمَ تُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ ۚ لَا ظُلْمَ الْيَوْمَ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ
আজ প্রত্যেক ব্যক্তিকে তার কৃতকর্মের বিনিময় দেয়া হবে; আজ কারো প্রতি যুলুম করা হবে না। নিশ্চয়ই আল্লাহ দ্রুত হিসাব সম্পন্নকারী।
১৮ وَأَنذِرْهُمْ يَوْمَ الْآزِفَةِ إِذِ الْقُلُوبُ لَدَى الْحَنَاجِرِ كَاظِمِينَ ۚ مَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ حَمِيمٍ وَلَا شَفِيعٍ يُطَاعُ
তাদেরকে সতর্ক করে দাও আসন্ন দিন (কিয়ামত) সম্পর্কে দুঃখ-কষ্টে তাদের প্রাণ কন্ঠাগত হবে। যালিমদের জন্যে কোন অন্তরঙ্গ বন্ধু নেই এবং যার সুপারিশ গ্রাহ্য হবে এমন কোন সুপারিশকারীও নেই।
১৯ يَعْلَمُ خَائِنَةَ الْأَعْيُنِ وَمَا تُخْفِي الصُّدُورُ
চক্ষুর অপব্যবহার ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত।
২০ وَاللَّهُ يَقْضِي بِالْحَقِّ ۖ وَالَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِهِ لَا يَقْضُونَ بِشَيْءٍ ۗ إِنَّ اللَّهَ هُوَ السَّمِيعُ الْبَصِيرُ
আল্লাহই ফায়সালা করেন ইনসাফের সাথে; আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে তারা ফায়সালা করতে অক্ষম। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা।
২১ أَوَلَمْ يَسِيرُوا فِي الْأَرْضِ فَيَنظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الَّذِينَ كَانُوا مِن قَبْلِهِمْ ۚ كَانُوا هُمْ أَشَدَّ مِنْهُمْ قُوَّةً وَآثَارًا فِي الْأَرْضِ فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ بِذُنُوبِهِمْ وَمَا كَانَ لَهُم مِّنَ اللَّهِ مِن وَاقٍ
তারা কি পৃথিবীতে ভ্রমণ করে না? করলে দেখতো- তাদের পূর্ববর্তীদের পরিণাম কি হয়েছিল। পৃথিবীতে তারা ছিল এদের অপেক্ষা শক্তিতে এবং কীর্তিতে প্রবলতর, অতঃপর আল্লাহ তাদেরকে শাস্তি দিয়েছিলেন তাদের অপরাধের জন্যে এবং আল্লাহর শাস্তি তাদেরকে রক্ষা করবার কেউ ছিল না।
২২ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَانَت تَّأْتِيهِمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَكَفَرُوا فَأَخَذَهُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّهُ قَوِيٌّ شَدِيدُ الْعِقَابِ
এটা এ জন্যে যে, তাদের নিকট তাদের রাসূলগণ নিদর্শনাবলীসহ আসলে তারা তাদেরকে অস্বীকার করেছিল। ফলে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করলেন। নিশ্চয়ই তিনি তো মহা শক্তিশালী, শাস্তি দানে কঠোর।
২৩ وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا مُوسَىٰ بِآيَاتِنَا وَسُلْطَانٍ مُّبِينٍ
আমি আমার নিদর্শনাবলী ও স্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা (আঃ)-কে প্রেরণ করেছিলাম।
২৪ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَقَارُونَ فَقَالُوا سَاحِرٌ كَذَّابٌ
ফিরআ’উন, হামান ও কারূনের নিকট; কিন্তু তারা বলেছিলঃ এ তো এক যাদুকর, চরম মিথ্যাবাদী।
২৫ فَلَمَّا جَاءَهُم بِالْحَقِّ مِنْ عِندِنَا قَالُوا اقْتُلُوا أَبْنَاءَ الَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ وَاسْتَحْيُوا نِسَاءَهُمْ ۚ وَمَا كَيْدُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ
অতঃপর যখন (মূসা আঃ) আমার নিকট হতে সত্য নিয়ে তাদের নিকট উপস্থিত হলেন তখন তারা বললোঃ মূসা (আঃ)-এর উপর যারা ঈমান এনেছে, তাদের পুত্র সন্তানদেরকে হত্যা কর এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখো; কিন্তু কাফিরদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হবেই।
২৬ وَقَالَ فِرْعَوْنُ ذَرُونِي أَقْتُلْ مُوسَىٰ وَلْيَدْعُ رَبَّهُ ۖ إِنِّي أَخَافُ أَن يُبَدِّلَ دِينَكُمْ أَوْ أَن يُظْهِرَ فِي الْأَرْضِ الْفَسَادَ
ফিরআ’উন বললোঃ আমাকে ছেড়ে দাও আমি মূসা (আঃ)-কে হত্যা করি এবং সে তার প্রতিপালককে ডাকুক। আমি আশঙ্কা করি যে, সে তোমাদের দ্বীনকে পরিবর্তন করে ফেলবে অথবা সে পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে।
২৭ وَقَالَ مُوسَىٰ إِنِّي عُذْتُ بِرَبِّي وَرَبِّكُم مِّن كُلِّ مُتَكَبِّرٍ لَّا يُؤْمِنُ بِيَوْمِ الْحِسَابِ
মূসা (আঃ) বললেনঃ যারা হিসাব দিবসে বিশ্বাস করে না, সেই সব অহংকারী ব্যক্তি হতে আমি আমার ও তোমাদের প্রতিপালকের আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
২৮ وَقَالَ رَجُلٌ مُّؤْمِنٌ مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَكْتُمُ إِيمَانَهُ أَتَقْتُلُونَ رَجُلًا أَن يَقُولَ رَبِّيَ اللَّهُ وَقَدْ جَاءَكُم بِالْبَيِّنَاتِ مِن رَّبِّكُمْ ۖ وَإِن يَكُ كَاذِبًا فَعَلَيْهِ كَذِبُهُ ۖ وَإِن يَكُ صَادِقًا يُصِبْكُم بَعْضُ الَّذِي يَعِدُكُمْ ۖ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ كَذَّابٌ
ফিরআ’উন বংশের এক ব্যক্তি যে মু’মিন ছিল এবং নিজ ঈমান গোপন রাখতো বললোঃ তোমরা কি এ ব্যক্তিকে এ জন্যে হত্যা করবে যে, সে বলেঃ আমার প্রতিপালক আল্লাহ অথচ সে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হতে সুস্পষ্ট প্রমাণসহ তোমাদের নিকট এসেছে? সে মিথ্যাবাদী হলে তার মিথ্যার প্রতিফল সে ভোগ করবে, আর যদি সে সত্যবাদী হয় হবে সে তোমাদেরকে যে শাস্তির কথা বলে তার কিছু তো তোমাদের উপর আপতিত হবেই। আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী ও মিথ্যাবাদীকে সৎপথে পরিচালিত করেন না।
২৯ يَا قَوْمِ لَكُمُ الْمُلْكُ الْيَوْمَ ظَاهِرِينَ فِي الْأَرْضِ فَمَن يَنصُرُنَا مِن بَأْسِ اللَّهِ إِن جَاءَنَا ۚ قَالَ فِرْعَوْنُ مَا أُرِيكُمْ إِلَّا مَا أَرَىٰ وَمَا أَهْدِيكُمْ إِلَّا سَبِيلَ الرَّشَادِ
হে আমার সম্প্রদায়! আজ কর্তৃত্ব তোমাদের, দেশে তোমরাই প্রবল; কিন্তু আমাদের উপর আল্লাহর শাস্তি এসে পড়লে কে আমাদেরকে সাহায্য করবে? ফিরআ’উন বললোঃ আমি যা বুঝি, আমি তোমাদেরকে তা-ই বলছি। আমি তোমাদেরকে শুধু সৎপথই দেখিয়ে থাকি।
৩০ وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَا قَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُم مِّثْلَ يَوْمِ الْأَحْزَابِ
মু’মিন ব্যক্তিটি বললোঃ হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে পূর্ববর্তী সম্প্রদায়সমূহের (শাস্তির) দিনের অনুরূপ আশঙ্কা করি।
৩১ مِثْلَ دَأْبِ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَالَّذِينَ مِن بَعْدِهِمْ ۚ وَمَا اللَّهُ يُرِيدُ ظُلْمًا لِّلْعِبَادِ
যেমন ঘটেছিল নূহ (আঃ)-এর সম্প্রদায়, আ’দ, সামূদ এবং তাদের পরবর্তীদের ক্ষেত্রে। আল্লাহ তো বান্দাদের প্রতি কোন যুলুম করতে চান না।
৩২ وَيَا قَوْمِ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ يَوْمَ التَّنَادِ
হে আমার সম্প্রদায়! আমি তোমাদের জন্যে আশঙ্কা করি ফরিয়াদ দিবসের।
৩৩ يَوْمَ تُوَلُّونَ مُدْبِرِينَ مَا لَكُم مِّنَ اللَّهِ مِنْ عَاصِمٍ ۗ وَمَن يُضْلِلِ اللَّهُ فَمَا لَهُ مِنْ هَادٍ
যেদিন তোমরা পশ্চাৎ ফিরে পলায়ন করতে চাইবে, আল্লাহর শাস্তি হতে তোমাদেরকে রক্ষা করবার কেউ থাকবে না। আল্লাহ যাকে পথভ্রষ্ট করেন তার জন্যে কোন পথ প্রদর্শক নেই।
৩৪ وَلَقَدْ جَاءَكُمْ يُوسُفُ مِن قَبْلُ بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا زِلْتُمْ فِي شَكٍّ مِّمَّا جَاءَكُم بِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا هَلَكَ قُلْتُمْ لَن يَبْعَثَ اللَّهُ مِن بَعْدِهِ رَسُولًا ۚ كَذَٰلِكَ يُضِلُّ اللَّهُ مَنْ هُوَ مُسْرِفٌ مُّرْتَابٌ
পূর্বেও তোমাদের নিকট ইউসুফ (আঃ) এসেছিল স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ; কিন্তু সে যা নিয়ে এসেছিল তোমরা তাতে বারবার সন্দেহ পোষণ করতে। পরিশেষে যখন তাঁর মৃত্যু হলো তখন তোমরা বলেছিলেঃ তারপরে আল্লাহ আর প্রেরণ করবেন না। এভাবে আল্লাহ বিভ্রান্ত করেন সীমালঙ্ঘনকারী ও সংশয়শীলদেরকে।
৩৫ الَّذِينَ يُجَادِلُونَ فِي آيَاتِ اللَّهِ بِغَيْرِ سُلْطَانٍ أَتَاهُمْ ۖ كَبُرَ مَقْتًا عِندَ اللَّهِ وَعِندَ الَّذِينَ آمَنُوا ۚ كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ قَلْبِ مُتَكَبِّرٍ جَبَّارٍ
যারা নিজেদের নিকট কোন দলীল প্রমাণ না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর নিদর্শন সম্পর্কে বিতর্কে লিপ্ত হয় (তাদের এ কর্ম) আল্লাহ এবং মু’মিনদের নিকট অতিশয় ঘৃণার। এভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বৈরচারী ব্যক্তির হৃদয়কে মোহর করে দেন।
৩৬ وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا هَامَانُ ابْنِ لِي صَرْحًا لَّعَلِّي أَبْلُغُ الْأَسْبَابَ
ফিরআ’উন বললোঃ হে হামান! আমার জন্যে তুমি নির্মাণ কর এক সুউচ্চ প্রাসাদ যাতে আমি দরজা সমূহে পৌছি –
৩৭ أَسْبَابَ السَّمَاوَاتِ فَأَطَّلِعَ إِلَىٰ إِلَـٰهِ مُوسَىٰ وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ كَاذِبًا ۚ وَكَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِفِرْعَوْنَ سُوءُ عَمَلِهِ وَصُدَّ عَنِ السَّبِيلِ ۚ وَمَا كَيْدُ فِرْعَوْنَ إِلَّا فِي تَبَابٍ
আসমানসমূহের দরজা, যেন আমি দেখতে পাই মূসা (আঃ)-এর মা’বূদকে; তবে আমি তো তাকে মিথ্যাবাদী মনে করি। এভাবেই ফিরাউনের নিকট শোভনীয় করা হয়েছিল তার মন্দ কর্মকে এবং তাকে প্রতিহত করা হয়েছিল সরল পথ হতে এবং ফিরাআ’উনের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছিল সম্পূর্ণরূপে।
৩৮ وَقَالَ الَّذِي آمَنَ يَا قَوْمِ اتَّبِعُونِ أَهْدِكُمْ سَبِيلَ الرَّشَادِ
যে ব্যক্তিটি ঈমান এনেছিল সে বললোঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আমার অনুসরণ কর, আমি তোমাদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত করবো।
৩৯ يَا قَوْمِ إِنَّمَا هَـٰذِهِ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَإِنَّ الْآخِرَةَ هِيَ دَارُ الْقَرَارِ
হে আমার সম্প্রদায়! এ পার্থিব জীবন তো (অস্থায়ী) উপভোগের এবং আখিরাতই হচ্ছে চিরস্থায়ী আবাস।
৪০ مَنْ عَمِلَ سَيِّئَةً فَلَا يُجْزَىٰ إِلَّا مِثْلَهَا ۖ وَمَنْ عَمِلَ صَالِحًا مِّن ذَكَرٍ أَوْ أُنثَىٰ وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَـٰئِكَ يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ يُرْزَقُونَ فِيهَا بِغَيْرِ حِسَابٍ
কেউ মন্দ আমল করলে সে শুধু তার আমলের অনুরূপ শাস্তি পাবে এবং পুরুষ কিংবা নারীর মধ্যে যারা মু’মিন হয়ে সৎ আমল করে তারা প্রবেশ করবে জান্নাতে, সেখানে তারা অসংখ্য রিযিক পাবে।
৪১ وَيَا قَوْمِ مَا لِي أَدْعُوكُمْ إِلَى النَّجَاةِ وَتَدْعُونَنِي إِلَى النَّارِ
হে আমার সম্প্রদায়! এ কেমন কথা! যমি তোমাদেরকে আহ্বান করছি মুক্তির দিকে, আর তোমরা আমাকে আহ্বান করছো জাহান্নামের দিকে।
৪২ تَدْعُونَنِي لِأَكْفُرَ بِاللَّهِ وَأُشْرِكَ بِهِ مَا لَيْسَ لِي بِهِ عِلْمٌ وَأَنَا أَدْعُوكُمْ إِلَى الْعَزِيزِ الْغَفَّارِ
তোমরা আমাকে আল্লাহকে অস্বীকার করতে এবং তাঁর শরীক স্থাপন করতে ডাকছ, যা সম্পর্কে আমার কোন জ্ঞান নেই; পক্ষান্তরে আমি তোমাদেরকে আহ্বান করছি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল আল্লাহর দিকে।
৪৩ لَا جَرَمَ أَنَّمَا تَدْعُونَنِي إِلَيْهِ لَيْسَ لَهُ دَعْوَةٌ فِي الدُّنْيَا وَلَا فِي الْآخِرَةِ وَأَنَّ مَرَدَّنَا إِلَى اللَّهِ وَأَنَّ الْمُسْرِفِينَ هُمْ أَصْحَابُ النَّارِ
নিশ্চয়ই তোমরা আমাকে ডাকছ এমন একজনের দিকে যে দুনিয়া ও আখিরাতে কোথাও আহ্বানযগ্য নয়। বস্তুতঃ আমাদের প্রত্যাবর্তন তো আল্লাহর নিকট এবং সীমালঙ্ঘনকারীরাই জাহান্নামের অধিবাসী।
৪৪ فَسَتَذْكُرُونَ مَا أَقُولُ لَكُمْ ۚ وَأُفَوِّضُ أَمْرِي إِلَى اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ بَصِيرٌ بِالْعِبَادِ
সুতরাং আমি তোমাদেরকে যা বলছি, তোমরা তা অচিরেই স্মরণ করবে এবং আমি আমার ব্যাপার আল্লাহর নিকট সমর্পণ করছি; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখেন।
৪৫ فَوَقَاهُ اللَّهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا ۖ وَحَاقَ بِآلِ فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ
অতঃপর আল্লাহ তাঁকে তাদের ষড়যন্ত্রের অনিষ্ট হতে রক্ষা করলেন এবং নিকৃষ্ট শাস্তি পরিবেষ্টন করলো ফিরআ’উন-সম্প্রদায়কে।
৪৬ النَّارُ يُعْرَضُونَ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا ۖ وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ
সকাল-সন্ধ্যায় তাদেরকে উপস্থিত করা হয় আগুনের সম্মুখে এবং যেদিন কিয়ামত ঘটবে সেদিন (বলা হবেঃ) ফিরআ’উন সম্প্রদায়কে নিক্ষেপ কর কঠিন শাস্তিতে।
৪৭ وَإِذْ يَتَحَاجُّونَ فِي النَّارِ فَيَقُولُ الضُّعَفَاءُ لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنتُم مُّغْنُونَ عَنَّا نَصِيبًا مِّنَ النَّارِ
যখন তারা জাহান্নামে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হবে তখন দুর্বলেরা অহংকারীদেরকে বলবেঃ আমরা তো তোমাদেরই অনুসারী ছিলাম, এখন কি তোমরা আমাদের হতে জাহান্নামের আগুনের কোন অংশ নিবারণ করতে পারবে?
৪৮ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُلٌّ فِيهَا إِنَّ اللَّهَ قَدْ حَكَمَ بَيْنَ الْعِبَادِ
দাম্ভিকেরা বলবেঃ আমরা সবাই তো জাহান্নামে আছি; নিশ্চয়ই আল্লাহ বান্দাদের ফায়সালা করে ফেলেছেন।
৪৯ وَقَالَ الَّذِينَ فِي النَّارِ لِخَزَنَةِ جَهَنَّمَ ادْعُوا رَبَّكُمْ يُخَفِّفْ عَنَّا يَوْمًا مِّنَ الْعَذَابِ
জাহান্নামের অধিবাসীরা তার প্রহরীদেরকে বলবেঃ তোমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রার্থনা কর তিনি যেন আমাদের হতে একদিন আযাব হ্রাস করেন।
৫০ قَالُوا أَوَلَمْ تَكُ تَأْتِيكُمْ رُسُلُكُم بِالْبَيِّنَاتِ ۖ قَالُوا بَلَىٰ ۚ قَالُوا فَادْعُوا ۗ وَمَا دُعَاءُ الْكَافِرِينَ إِلَّا فِي ضَلَالٍ
তারা বলবেঃ তোমাদের নিকট কি নিদর্শনাবলীসহ তোমাদের রাসুলগণ আসেনি? জাহান্নামীরা বলবেঃ অবশ্যই এসেছিল। প্রহরীরা বলবেঃ তবে তোমরাই প্রার্থনা কর, আর কাফিরদের প্রার্থনা ব্যর্থই হয়।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x