০০৫. সূরাঃ মায়িদাহ

আয়াত নংঅবতীর্ণঃ মদিনা
আয়াত সংখ্যাঃ ১২০
রুকূঃ ১৬
০০১يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَوْفُوا بِالْعُقُودِ ۚ أُحِلَّتْ لَكُم بَهِيمَةُ الْأَنْعَامِ إِلَّا مَا يُتْلَىٰ عَلَيْكُمْ غَيْرَ مُحِلِّي الصَّيْدِ وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۗ إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ مَا يُرِيدُ

হে মু’মিনগণ! তোমরা তোমাদের ওয়াদাগুলো পুরণ কর। তোমাদের জন্যে চতুষ্পদ জন্তু হালাল করা হয়েছে। তবে যেগুলো হারাম হওয়া সম্পর্কে তোমাদের উপর পবিত্র কোরানের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়েছে সেগুলো এবং ইহরাম বাঁধা অবস্থায় তোমাদের শিকার করা জন্তুগুলো হালাল নয়। নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর ইচ্ছামত হুকুম করে থাকেন।
০০২يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحِلُّوا شَعَائِرَ اللَّهِ وَلَا الشَّهْرَ الْحَرَامَ وَلَا الْهَدْيَ وَلَا الْقَلَائِدَ وَلَا آمِّينَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّن رَّبِّهِمْ وَرِضْوَانًا ۚ وَإِذَا حَلَلْتُمْ فَاصْطَادُوا ۚ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ أَن صَدُّوكُمْ عَنِ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ أَن تَعْتَدُوا ۘ وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَىٰ ۖ وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۖ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ

হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর নিদর্শনাবলী, নিষিদ্ধ মাসগুলো, হারামে কুরবানীর জন্য প্রেরিত পশু, কুরবানীর পশুগুলির গলায় ব্যবহৃত চিহ্নগুলো এবং যারা তাদের প্রতিপালকের সন্তুষ্টি ও অনুগ্রহ পাবার জন্য সম্মানিত ঘরে যাবার ইচ্ছা করে তাদের অবমাননা করা বৈধ মনে করো না। আর তোমরা যখন ইহরাম মুক্ত হও তখন শিকার কর। যারা তোমাদেরকে পবিত্র মসজিদে যেতে বাধা দিয়েছে সেই সম্প্রদায়ের দুশমনি যেন তোমাদেরকে সীমা ছাড়িয়ে যেতে উৎসাহিত না করে নেক কাজ করতে ও সংযমী হতে তোমরা পরস্পরকে সাহায্য কর। তবে পাপ ও শত্রুতার ব্যপারে তোমরা একে অপরকে সাহায্য করো না। আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর। নিশ্চয় আল্লাহ কঠিন শাস্তিদাতা।
০০৩حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّمُ وَلَحْمُ الْخِنزِيرِ وَمَا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ وَالْمُنْخَنِقَةُ وَالْمَوْقُوذَةُ وَالْمُتَرَدِّيَةُ وَالنَّطِيحَةُ وَمَا أَكَلَ السَّبُعُ إِلَّا مَا ذَكَّيْتُمْ وَمَا ذُبِحَ عَلَى النُّصُبِ وَأَن تَسْتَقْسِمُوا بِالْأَزْلَامِ ۚ ذَٰلِكُمْ فِسْقٌ ۗ الْيَوْمَ يَئِسَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن دِينِكُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِ ۚ الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِي وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلَامَ دِينًا ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ فِي مَخْمَصَةٍ غَيْرَ مُتَجَانِفٍ لِّإِثْمٍ ۙ فَإِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

তোমাদের জন্যে মৃত, রক্ত, শুকরের মাংস, আল্লাহ ছাড়া অপরের নামে উৎসর্গকৃত পশু, গলাটিপে মারা পশু, প্রহারে মৃত পশু, উপর হতে পরে মৃত পশু, শৃঙ্গাঘাতে মৃত পশু এবং হিংস্র জন্তুতে খাওয়া পশু হারাম করা হয়েছে। তবে যা তোমরা যবেহ দ্বারা পবিত্র করেছ তা হালাল। আর যে সমস্ত পশুকে পূজার বেদীর উপর বলি দেয়া হয়েছে তা এবং জুয়ার তীর দ্বারা ভাগ্য নির্ণয় করাও তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে। এসবগুলো পাপ কাজ। আজ সত্যের প্রত্যাখ্যানকারীগণ তোমাদের দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণের ব্যাপারে হতাশ হয়ে পড়েছে। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, শুধু আমাকেই ভয় করো। আজ তোমাদের জন্যে তোমাদের দ্বীন পূর্ণাঙ্গ করলাম। তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ সম্পূর্ণ করলাম এবং ইসলামকে তোমাদের দ্বীন মনোনীত করলাম। তবে কেউ পাপের দিকে না ঝুঁকে ক্ষুধার তাড়নায় ওগুলো (উল্লিখিত হারাম বস্তুগুলো) ভক্ষণ করতে বাধ্য হলে সেগুলো খাওয়া তার জন্যে হারাম হবে না। কারণ নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
০০৪يَسْأَلُونَكَ مَاذَا أُحِلَّ لَهُمْ ۖ قُلْ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ ۙ وَمَا عَلَّمْتُم مِّنَ الْجَوَارِحِ مُكَلِّبِينَ تُعَلِّمُونَهُنَّ مِمَّا عَلَّمَكُمُ اللَّهُ ۖ فَكُلُوا مِمَّا أَمْسَكْنَ عَلَيْكُمْ وَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهِ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ
তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে, তাদের জন্যে কি কি হালাল করা হয়েছে? তুমি বল পবিত্র জিনিসগুলো তোমাদের জন্যে হালাল করা হয়েছে। তোমরা যে সমস্ত পশু-পাখিকে শিকার করা শিক্ষা দিয়েছ; যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছেন তারা যা শিকার করে আনে তা তোমরা খাও এবং ওগুলোকে শিকারের জন্য পাঠাবার সময় আল্লাহর নাম স্মরণ কর। তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে তৎপর।
০০৫الْيَوْمَ أُحِلَّ لَكُمُ الطَّيِّبَاتُ ۖ وَطَعَامُ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حِلٌّ لَّكُمْ وَطَعَامُكُمْ حِلٌّ لَّهُمْ ۖ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِي أَخْدَانٍ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ حَبِطَ عَمَلُهُ وَهُوَ فِي الْآخِرَةِ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আজ তোমাদের জন্যে পবিত্র বস্তুগুলো হালাল করা হয়েছে, আর আহলে কিতাবের যবেহকৃত জীবও তোমাদের জন্যে হালাল এবং তোমাদের যবেহকৃত জীবও তাদের জন্যে হালাল। আর সতী-সাধ্বী মুসলিম নারীরাও এবং তোমাদের পূর্ববর্তী আহলে কিতাবের মধ্যকার সতী-সাধ্বী নারীরাও (তোমাদের জন্যে হালাল), মখন তোমরা তাদেরকে বিনিময় (মহর) প্রদান কর, এরূপে যে, (তাদেরকে) তোমাদের পত্নীরূপে গ্রহণ করে নাও, না প্রকাশ্যে ব্যভিচার কর, আর না গোপন প্রণয় কর; আর যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে কুফরী করে তার আমল নিস্ফল হয়ে যাবে এবং সে পরকালে সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
০০৬يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ فَاغْسِلُوا وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُوا بِرُءُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ ۚ وَإِن كُنتُمْ جُنُبًا فَاطَّهَّرُوا ۚ وَإِن كُنتُم مَّرْضَىٰ أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ أَوْ جَاءَ أَحَدٌ مِّنكُم مِّنَ الْغَائِطِ أَوْ لَامَسْتُمُ النِّسَاءَ فَلَمْ تَجِدُوا مَاءً فَتَيَمَّمُوا صَعِيدًا طَيِّبًا فَامْسَحُوا بِوُجُوهِكُمْ وَأَيْدِيكُم مِّنْهُ ۚ مَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيَجْعَلَ عَلَيْكُم مِّنْ حَرَجٍ وَلَـٰكِن يُرِيدُ لِيُطَهِّرَكُمْ وَلِيُتِمَّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكُمْ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ
হে মু’মিনগণ! যখন তোমরা নামাযের উদ্দেশ্যে দন্ডায়মান হও তখন (নামাযের পূর্বে) তোমাদের মুখমণ্ডল ধৌত কর এবং হাতগুলোকে কনুই পর্যন্ত ধুয়ে নাও- আর মাথা মাসেহ কর এবং পা দুটোকে টাখনু পর্যন্ত ধুয়ে ফেল, কিন্তু যদি তোমরা অপবিত্র থাক তাহলে বিশেষ ভাবে পবিত্র হবে। আর যদি তোমরা রোগগ্রস্থ হও কিংবা সফরে থাক অথবা তোমাদের কেউ পায়খানা হতে আসে কিংবা তোমরা স্ত্রীদেরকে স্পর্শ কর (স্ত্রী সহবাস কর), অতঃপর পানি না পাও তবে পবিত্র মাটি দ্বারা তায়াম্মুম করে নাও, তখন তোমরা তা দ্বারা তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ কর, আল্লাহ তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা আনয়ন করতে চান না, বরং তিনি তোমাদেরকে পবিত্র করতে ও তোমাদের উপর স্বীয় নিয়ামত পূর্ণ করতে চান, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
০০৭وَاذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ وَمِيثَاقَهُ الَّذِي وَاثَقَكُم بِهِ إِذْ قُلْتُمْ سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ بِذَاتِ الصُّدُورِ
আর তোমরা তোমাদের প্রতি বর্ষিত আল্লাহর অনুগ্রহকে স্মরণ কর এবং ঐ অঙ্গীকারকেও স্মরণ কর যে অঙ্গীকার তিনি তোমাদের নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন, যখন তোমরা বলেছিলেঃ আমরা শুনলাম ও মেনে নিলাম, আর তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয়ই তিনি অন্তর্নিহিত কথাগুলোরও পূর্ণ খবর রাখেন।
০০৮يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا قَوَّامِينَ لِلَّهِ شُهَدَاءَ بِالْقِسْطِ ۖ وَلَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَآنُ قَوْمٍ عَلَىٰ أَلَّا تَعْدِلُوا ۚ اعْدِلُوا هُوَ أَقْرَبُ لِلتَّقْوَىٰ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর উদ্দেশ্যে বিধানসমূহ পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠাকারী ও ন্যায়ের সাথে সাক্ষ্যদানকারী হয়ে যাও, কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের শত্রুতা যেন তোমাদেরকে এর প্রতি উদ্যত না করে যে, তোমরা ন্যায় বিচার করবে না, তোমরা ন্যায় বিচার কর, এটা তাকওয়ার অধিকতর নিকটবর্তী এবং আল্লাহকে ভয় কর, নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে পূর্ণ ওয়াকিফহাল।
০০৯وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ۙ لَهُم مَّغْفِرَةٌ وَأَجْرٌ عَظِيمٌ
যারা ঈমান এনেছে ও ভালো কাজ করেছে, তাদেরকে আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, তাদের জন্যে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার রয়েছে।
০১০وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ
পক্ষান্তরে যারা কুফরী করেছে এবং আমার বিধানসমূহকে মিথ্যা অভিহিত করেছে, তারাই হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী।
০১১يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اذْكُرُوا نِعْمَتَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ هَمَّ قَوْمٌ أَن يَبْسُطُوا إِلَيْكُمْ أَيْدِيَهُمْ فَكَفَّ أَيْدِيَهُمْ عَنكُمْ ۖ وَاتَّقُوا اللَّهَ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ

হে মু’মিনগণ! তোমাদের প্রতি আল্লাহ যে অনুগ্রহ করেছেন তা স্মরণ কর, যখন এক সম্প্রদায় এ চিন্তায় ছিল যে, তোমাদের দিকে কাফের হস্ত প্রসারিত করবে; কিন্তু আল্লাহ তাদের হাতকে তোমাদের দিক থেকে থামিয়ে দিয়েছেন এবং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং মু’মিনদের আল্লাহর উপরই ভরসা করা উচিত।
০১২وَلَقَدْ أَخَذَ اللَّهُ مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَبَعَثْنَا مِنْهُمُ اثْنَيْ عَشَرَ نَقِيبًا ۖ وَقَالَ اللَّهُ إِنِّي مَعَكُمْ ۖ لَئِنْ أَقَمْتُمُ الصَّلَاةَ وَآتَيْتُمُ الزَّكَاةَ وَآمَنتُم بِرُسُلِي وَعَزَّرْتُمُوهُمْ وَأَقْرَضْتُمُ اللَّهَ قَرْضًا حَسَنًا لَّأُكَفِّرَنَّ عَنكُمْ سَيِّئَاتِكُمْ وَلَأُدْخِلَنَّكُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ ۚ فَمَن كَفَرَ بَعْدَ ذَٰلِكَ مِنكُمْ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ

আর আল্লাহ বানী ইসরাঈলদের নিকট থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন এবং আমি তাদের মধ্য হতে বারোজন দলপতি নিযুক্ত করেছিলাম; এবং আল্লাহ বলেছিলেনঃ আমি তোমাদের সাথে রয়েছি; যদি তোমরা নামায প্রতিষ্ঠা কর ও যাকাত দিতে থাক এবং আমার রাসূলদের উপর ঈমান আনতে থাক ও তাদেরকে সাহায্য করতে থাক এবং আল্লাহকে উত্তম রূপে কর্জ দিতে থাক। তবে আমি অবশ্যই তোমাদের গুনাহগুলো তোমাদের থেকে মাফ করে দেবো এবং অবশ্যই তোমাদেরকে এমন জান্নাতে প্রবেশ করাবো যার তলদেশে নহরসমূহ বইতে থাকবে, অনন্তর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এরপরও কুফরী করবে, নিশ্চয়ই সে সোজা পথ থেকে দূরে সরে পড়লো।
০১৩فَبِمَا نَقْضِهِم مِّيثَاقَهُمْ لَعَنَّاهُمْ وَجَعَلْنَا قُلُوبَهُمْ قَاسِيَةً ۖ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ عَن مَّوَاضِعِهِ ۙ وَنَسُوا حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ ۚ وَلَا تَزَالُ تَطَّلِعُ عَلَىٰ خَائِنَةٍ مِّنْهُمْ إِلَّا قَلِيلًا مِّنْهُمْ ۖ فَاعْفُ عَنْهُمْ وَاصْفَحْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

বস্তুতঃ তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দরুনই আমি তাদের উপর আমার অভিশাপ অবতীর্ণ করি এবং তাদের হৃদয়কে কঠিন করে দেয়। তারা কালাম (তাওরাত)-কে ওর স্থানসমূহ হতে পরিবর্তন করে দেয়, (বিকৃত ঘটাতো) এবং তাদেরকে যা কিছু উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা তার মধ্য হতে একটা অংশকে ভুলে গেলো আর প্রতিনিয়ত তুমি তাদের ব্যাপারে অবগত হবে যে, তাদের সামান্য কিছু লোক ছাড়া অধিকাংশই বিশ্বাসঘাতকতা করে চলেছে। অতএব তুমি তাদেরকে ক্ষমা করতে থাক এবং তাদেরকে মার্জনা করতে থাক; নিশ্চয়ই আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।
০১৪وَمِنَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَىٰ أَخَذْنَا مِيثَاقَهُمْ فَنَسُوا حَظًّا مِّمَّا ذُكِّرُوا بِهِ فَأَغْرَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ ۚ وَسَوْفَ يُنَبِّئُهُمُ اللَّهُ بِمَا كَانُوا يَصْنَعُونَ

আর যারা বলেঃ আমরা নাসারা, আমি তাদের নিকট থেকেও ওয়াদা নিয়েছিলাম, কিন্তু তাদেরকেও যা কিছু উপদেশ দেয়া হয়েছিল তার মধ্য হতে তারা একটা অংশ ভুলে গেলো। সুতরাং আমি তাদের পরস্পরের মধ্যে হিংসা ও শত্রুতা সঞ্চার করে দিলাম কিয়ামতের দিন পর্যন্ত এবং অচিরেই আল্লাহ তাদেরকে তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে সংবাদ দেবেন।
০১৫يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ كَثِيرًا مِّمَّا كُنتُمْ تُخْفُونَ مِنَ الْكِتَابِ وَيَعْفُو عَن كَثِيرٍ ۚ قَدْ جَاءَكُم مِّنَ اللَّهِ نُورٌ وَكِتَابٌ مُّبِينٌ

হে আহলে কিতাবগণ! তোমাদের কাছে আমার রাসূল এসেছেন, তোমরা কিতাবের যেসব বিষয় গোপন কর তন্মধ্য হতে বহু বিষয় তিনি তোমাদের সামনে পরিষ্কারভাবে বর্ণনা করেন, আর বহু বিষয় থেকে এড়িয়ে যান। তোমাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে এক আলোকময় জ্যোতি এবং একটি সুস্পষ্ট কিতাব এসেছে।
০১৬يَهْدِي بِهِ اللَّهُ مَنِ اتَّبَعَ رِضْوَانَهُ سُبُلَ السَّلَامِ وَيُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِهِ وَيَهْدِيهِمْ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ

তা দ্বারা আল্লাহ এরূপ লোকদেরকে শান্তির পন্থাসমূহ ব্লে দেন যারা তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করতে চায় এবং তিনি তাদেরকে নিজ তাওফীকে ও করুণায় (কুফরীর) অন্ধকার থেকে বের করে (ঈমানের) আলোর দিকে আনয়ন করেন এবং তাদেরকে সরল (সঠিক) পথে প্রতিষ্ঠিত রাখেন।
০১৭لَّقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ۚ قُلْ فَمَن يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَن يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ وَمَن فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا ۗ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۚ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

অবশ্যই তারা কুফরী করেছে যারা বলেঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ স্বয়ং হচ্ছেন মাসীহ ইবনু মারইয়াম, তুমি (হে মূহাম্মদ সঃ)! বলঃ তাহলে যদি আল্লাহ মসীহ ইবনু মারইয়ামকে ও তাঁর মাকে এবং ভূ-পৃষ্ঠে যারা আছে তাদের সবাইকে ধ্বংস করার ইচ্ছা করেন, তবে এরূপ কে আছে যে তাদেরকে আল্লাহ হতে একটুও রক্ষা করতে পারে? আল্লাহর জন্যই রাজত্ব নির্দিষ্ট রয়েছে আকাশসমূহে ও যমীনে বং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত যাবতীয় বস্তুর উপর; তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই সৃষ্টি করেন, আর আল্লাহ সকল বস্তুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
০১৮وَقَالَتِ الْيَهُودُ وَالنَّصَارَىٰ نَحْنُ أَبْنَاءُ اللَّهِ وَأَحِبَّاؤُهُ ۚ قُلْ فَلِمَ يُعَذِّبُكُم بِذُنُوبِكُم ۖ بَلْ أَنتُم بَشَرٌ مِّمَّنْ خَلَقَ ۚ يَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ ۚ وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ وَإِلَيْهِ الْمَصِيرُ

ইয়াহুদী ও নাসারাগণ বলেঃ আমরা আল্লাহর পুত্র ও তাঁর প্রিয়পাত্র, তুমি বলে দাওঃ আচ্ছা তাহলে তিনি তোমাদেরকে তোমাদের পাপের দরুন কেন শাস্তি প্রদান করবেন? বরং তোমরাও অন্যান্য সৃষ্টির ন্যায় সাধারণ মানুষ মাত্র। তিনি যাকে ইচ্ছা মার্জনা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দিবেন, আর আল্লাহর রাজত্ব রয়েছে আকাশসমূহে ও যমীনে এবং এতদুভয়ের মধ্যস্থিত সবকিছুতেও; আর (সবাইকে) তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে।
০১৯يَا أَهْلَ الْكِتَابِ قَدْ جَاءَكُمْ رَسُولُنَا يُبَيِّنُ لَكُمْ عَلَىٰ فَتْرَةٍ مِّنَ الرُّسُلِ أَن تَقُولُوا مَا جَاءَنَا مِن بَشِيرٍ وَلَا نَذِيرٍ ۖ فَقَدْ جَاءَكُم بَشِيرٌ وَنَذِيرٌ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

হে আহলে কিতাবগণ! তোমাদের নিকট আমার রাসূল (মুহাম্মদ সঃ) এসে পৌঁছেছেন, যিনি তোমাদেরকে স্পষ্টভাবে (আল্লাহর হুকুম) বলে দিচ্ছেন, যে সময় রাসূলদের আগমনের সূত্র (দীর্ঘকাল) বন্ধ ছিল, যেন তোমরা (কিয়ামতের দিন) এরূপ বলে না বসো না যেঃ আমাদের নিকট কোন সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী আগমন করেননি; (এখন তো) তোমাদের নিকট সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী এসে গেছে, আর আল্লাহ সকল বস্তুর উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
০২০وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ يَا قَوْمِ اذْكُرُوا نِعْمَةَ اللَّهِ عَلَيْكُمْ إِذْ جَعَلَ فِيكُمْ أَنبِيَاءَ وَجَعَلَكُم مُّلُوكًا وَآتَاكُم مَّا لَمْ يُؤْتِ أَحَدًا مِّنَ الْعَالَمِينَ

আর যখন মূসা (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমাদের প্রতি আল্লাহর নিয়ামতকে স্মরণ কর, যখন তিনি তোমাদের মধ্যে বহু নবী সৃষ্টি করলেন, আর তোমাদেরকে রাজাধিপতি করেছেন। আর তোমাদেরকে এমন বস্তুসমূহ দান করলেন যা বিশ্বাসীদের মধ্যে কাউকেও দান করেননি।
০২১يَا قَوْمِ ادْخُلُوا الْأَرْضَ الْمُقَدَّسَةَ الَّتِي كَتَبَ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَرْتَدُّوا عَلَىٰ أَدْبَارِكُمْ فَتَنقَلِبُوا خَاسِرِينَ

হে আমার সম্প্রদায়! এ পুণ্য ভূমিতে প্রবেশ কর যা আল্লাহ তোমাদের জন্যে লিখে দিয়েছেন, আর ফিছনের দিকে ফিরে যেয়ো না, তাহলে তোমরা সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
০২২قَالُوا يَا مُوسَىٰ إِنَّ فِيهَا قَوْمًا جَبَّارِينَ وَإِنَّا لَن نَّدْخُلَهَا حَتَّىٰ يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِن يَخْرُجُوا مِنْهَا فَإِنَّا دَاخِلُونَ

তারা বললোঃ হে মূসা (আঃ)! সেখানে তো পরাক্রমশালী গোত্র রয়েছে; অতএব, তারা যে পর্যন্ত সেখান হতে বের হয়ে না যায় সে পর্যন্ত আমরা সেখানে কখনো প্রবেশ করবো না। হ্যাঁ যদি তারা সেখান হতে বেরিয়ে যায় তবে নিশ্চয়ই আমরা যেতে প্রস্তুত আছি।
০২৩قَالَ رَجُلَانِ مِنَ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَنْعَمَ اللَّهُ عَلَيْهِمَا ادْخُلُوا عَلَيْهِمُ الْبَابَ فَإِذَا دَخَلْتُمُوهُ فَإِنَّكُمْ غَالِبُونَ ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَتَوَكَّلُوا إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

সে দু’ব্যক্তি, যারা (আল্লাহকে) ভয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন, বললোঃ তোমরা তাদের উপর (আক্রমণ চালিয়ে নগরের) দ্বারদেশ পর্যন্ত যাও, ফলে যখনই তোমরা দ্বারদেশে প্রবেশ করবে তখনই জয়লাভ করবে এবং তোমরা আল্লাহর উপর নির্ভর কর, যদি তোমরা মু’মিন হও।
০২৪قَالُوا يَا مُوسَىٰ إِنَّا لَن نَّدْخُلَهَا أَبَدًا مَّا دَامُوا فِيهَا ۖ فَاذْهَبْ أَنتَ وَرَبُّكَ فَقَاتِلَا إِنَّا هَاهُنَا قَاعِدُونَ

তারা বললোঃ হে মূসা (আঃ)! নিশ্চয়ই আমরা কখনো সেখানে প্রবেশ করবো না যে পর্যন্ত তারা সেখানে বিদ্যমান থাকে, অতএব, আপনি ও আপনার প্রভু (আল্লাহ) চলে যান এবং উভয়ে যুদ্ধ করুন, আমরা এখানেই বসে থাকবো।
০২৫قَالَ رَبِّ إِنِّي لَا أَمْلِكُ إِلَّا نَفْسِي وَأَخِي ۖ فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ

তিনি (মূসা আঃ) বললেনঃ হে আমার প্রভু! আমি শুধু নিজের উপর ও নিজের ভাই-এর উপর অধিকার রাখি, সুতরাং আপনি আমাদের উভয়ের এবং এ অবাধ্য সম্প্রদায়ের মধ্যে মীমাংসা করে দিন।
০২৬قَالَ فَإِنَّهَا مُحَرَّمَةٌ عَلَيْهِمْ ۛ أَرْبَعِينَ سَنَةً ۛ يَتِيهُونَ فِي الْأَرْضِ ۚ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ

তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ (তা হলে মীমাংসা এই যে) এ দেশ চল্লিশ বছর পর্যন্ত এদের জন্য নিষিদ্ধ করে দেয়া হল তারা উদ্ভ্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে ফিরতে থাকবে; সুতরাং তুমি এ অবাধ্য সম্প্রদায়ের জন্যে (একটুও) চিন্তিত হয়ো না।
০২৭وَاتْلُ عَلَيْهِمْ نَبَأَ ابْنَيْ آدَمَ بِالْحَقِّ إِذْ قَرَّبَا قُرْبَانًا فَتُقُبِّلَ مِنْ أَحَدِهِمَا وَلَمْ يُتَقَبَّلْ مِنَ الْآخَرِ قَالَ لَأَقْتُلَنَّكَ ۖ قَالَ إِنَّمَا يَتَقَبَّلُ اللَّهُ مِنَ الْمُتَّقِينَ

(হে নবী সঃ)! তুমি তাদেরকে (আহলে কিতাবদেরকে) আদমের পুত্রদ্বয়ের (হাবীল ও কাবীলের) ঘটনা সঠিকভাবে পাঠ করে শুনিয়ে দাও; যখন তারা উভয়েই এক একটি কুরবানী উপস্থিত করলো এবং তন্মধ্য হতে একজনের (হাবীলের) তো কবূল হল এবং অপরজনের কবুল হল না; সেই অপরজন বলতে লাগলোঃ আমি তোমাকে নিশ্চয়ই হত্যা করবো; সেই প্রথম জন বললঃ আল্লাহ মুত্তাকীদের আমলই কবূল করে থাকেন।
০২৮لَئِن بَسَطتَ إِلَيَّ يَدَكَ لِتَقْتُلَنِي مَا أَنَا بِبَاسِطٍ يَدِيَ إِلَيْكَ لِأَقْتُلَكَ ۖ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ رَبَّ الْعَالَمِينَ

তুমি যদি আমাকে হত্যা করার জন্য তোমার হাত বাড়াও, তবুও আমি তোমাকে হত্যা করার জন্যে তোমার দিকে কখনো আমার হাত বাড়াবো না; আমি তো বিশ্বপ্রভু আল্লাহকে ভয় করি।
০২৯إِنِّي أُرِيدُ أَن تَبُوءَ بِإِثْمِي وَإِثْمِكَ فَتَكُونَ مِنْ أَصْحَابِ النَّارِ ۚ وَذَٰلِكَ جَزَاءُ الظَّالِمِينَ

আমি চাই যে, (আমার দ্বারা কোন পাপ না হোক) তুমি আমার পাপ এবং তোমার পাপ সমস্তই নিজের মাথায় উঠিয়ে নাও; ফলে তুমি জাহান্নামীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাও, অত্যাচারীদের শাস্তি এরূপই হয়ে থাকে।
০৩০فَطَوَّعَتْ لَهُ نَفْسُهُ قَتْلَ أَخِيهِ فَقَتَلَهُ فَأَصْبَحَ مِنَ الْخَاسِرِينَ

অতঃপর তার প্রবৃত্তি তাকে স্বীয় ভ্রাতৃহত্যার প্রতি উদ্বুদ্ধ করে তুললো, সুতরাং সে তাকে হত্যা করেই ফেললো, ফলে সে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়লো।
০৩১فَبَعَثَ اللَّهُ غُرَابًا يَبْحَثُ فِي الْأَرْضِ لِيُرِيَهُ كَيْفَ يُوَارِي سَوْءَةَ أَخِيهِ ۚ قَالَ يَا وَيْلَتَىٰ أَعَجَزْتُ أَنْ أَكُونَ مِثْلَ هَـٰذَا الْغُرَابِ فَأُوَارِيَ سَوْءَةَ أَخِي ۖ فَأَصْبَحَ مِنَ النَّادِمِينَ

অতঃপর আল্লাহ একটি কাক প্রেরণ করলেন; সে মাটি খুঁড়তে লাগলো, যেন সে তাকে (কাবীলকে) শিখিয়ে দেয় যে, স্বীয় ভ্রাতার মৃতদেহ কিভাবে ঢাকবে, সে বলতে লাগলোঃ ধিক আমাকে! আমি এই কাকটির মতোও হতে পারলাম না যাতে আমার ভাইয়ের লাশ গোপন করতে পারি। ফলে সে অত্যন্ত লজ্জিত হল।
০৩২مِنْ أَجْلِ ذَٰلِكَ كَتَبْنَا عَلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنَّهُ مَن قَتَلَ نَفْسًا بِغَيْرِ نَفْسٍ أَوْ فَسَادٍ فِي الْأَرْضِ فَكَأَنَّمَا قَتَلَ النَّاسَ جَمِيعًا وَمَنْ أَحْيَاهَا فَكَأَنَّمَا أَحْيَا النَّاسَ جَمِيعًا ۚ وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا بِالْبَيِّنَاتِ ثُمَّ إِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم بَعْدَ ذَٰلِكَ فِي الْأَرْضِ لَمُسْرِفُونَ

একারনেই আমি বানী ইসরাঈলের প্রতি এ নির্দেশ দিয়েছি যে, যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে হত্যা করে অন্য প্রাণের বিনিময় ব্যতীত কিংবা তার দ্বারা ভূ-পৃষ্ঠে কোন ফাসাদ বিস্তার ব্যতীত তবে সে যেন সমস্ত মানুষকে হত্যা করে ফেললো; আর যে ব্যক্তি কোন ব্যক্তিকে রক্ষা করলো তবে সে যেন সমস্ত মানুষকে রক্ষা করলো; আত তাদের (বানী ইসরাঈলদের) কাছে আমার বহু রাসূল স্পষ্ট প্রমাণসমূহ নিয়ে আগমন করেছিলেন, তবু এর পরেও তন্মধ্য হতে অনেকেই ভূ-পৃষ্ঠে সীমালঙ্ঘন-কারী রয়ে গেছে।
০৩৩إِنَّمَا جَزَاءُ الَّذِينَ يُحَارِبُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا أَن يُقَتَّلُوا أَوْ يُصَلَّبُوا أَوْ تُقَطَّعَ أَيْدِيهِمْ وَأَرْجُلُهُم مِّنْ خِلَافٍ أَوْ يُنفَوْا مِنَ الْأَرْضِ ۚ ذَٰلِكَ لَهُمْ خِزْيٌ فِي الدُّنْيَا ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, আর ভূ-পৃষ্ঠে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায় তাদের শাস্তি এটাই যে, তাদেরকে হত্যা করা হবে অথবা শূলে চড়ান হবে, অথবা এক দিকের হাত ও অপর দিকের পা কেটে ফেলা হবে অথবা নির্বাসনে পাঠানো হবে। এটা তো ইহলোকে তাদের জন্যে ভীষণ অপমান, আর পরকালেও তাদের জন্যে ভীষণ শাস্তি রয়েছে।
০৩৪إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا مِن قَبْلِ أَن تَقْدِرُوا عَلَيْهِمْ ۖ فَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

কিন্তু হ্যাঁ, তোমরা তাদেরকে গ্রেফতার করার পূর্বে যারা তাওবা করে নেয়, তবে জেনে রাখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
০৩৫يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَابْتَغُوا إِلَيْهِ الْوَسِيلَةَ وَجَاهِدُوا فِي سَبِيلِهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

হে মু’মিনগণ! আল্লাহকে ভয় কর এবং সান্নিধ্য অন্বেষণ কর ও আল্লাহর পথে জিহাদ করতে থাক, আশা করা যায় যে, তোমরা সফলকাম হবে।
০৩৬إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ أَنَّ لَهُم مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لِيَفْتَدُوا بِهِ مِنْ عَذَابِ يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَا تُقُبِّلَ مِنْهُمْ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে, যদি তাদের কাছে বিশ্বের সমস্ত দ্রব্যও থাকে এবং ওর সাথে তৎপরিমাণ আরো যোগ হয়, যেন তারা তা প্রদান করে কিয়ামতের শাস্তি থেকে মুক্ত হয়ে যায়, তবুও এ দ্রব্যসমূহ তাদের থেকে কবূল করা হবে না, আর তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
০৩৭يُرِيدُونَ أَن يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُم بِخَارِجِينَ مِنْهَا ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ

তারা এটা কামনা করবে যে, জাহান্নাম থেকে বের হয়ে যায়, অথচ তারা তা থেকে কখনো বের হতে পারবে না, বস্তুতঃ তাদের জন্যে রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি।
০৩৮وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ

আর যে পুরুষ চুরি করে এবং যে নারী চুরি করে, তোমরা তাদের কৃতকর্মের বিনিময়ে তাদের হাতগুলো কেটে ফেল, এটা আল্লাহর পক্ষ থেকে শাস্তি, আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমতাবান, মহা প্রজ্ঞাময়।
০৩৯فَمَن تَابَ مِن بَعْدِ ظُلْمِهِ وَأَصْلَحَ فَإِنَّ اللَّهَ يَتُوبُ عَلَيْهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

কিন্তু যে ব্যক্তি সীমালঙ্ঘন করার পর (চুরি করার পর) তাওবা করে নেয় এবং আমলকে সংশোধন করে নেয়, তবে আল্লাহ তার তাওবা কবূল করবেন নিশ্চয়ই আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু।
০৪০أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ يُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ وَيَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ

তুমি কি জান যে, আল্লাহরই জন্যে রয়েছে রাজত্ব আসমানসমূহের এবং যমীনের; তিনি যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন এবং যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন; আর আল্লাহ সব বিষয়ের উপর পূর্ণ ক্ষমতাবান।
০৪১يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ لَا يَحْزُنكَ الَّذِينَ يُسَارِعُونَ فِي الْكُفْرِ مِنَ الَّذِينَ قَالُوا آمَنَّا بِأَفْوَاهِهِمْ وَلَمْ تُؤْمِن قُلُوبُهُمْ ۛ وَمِنَ الَّذِينَ هَادُوا ۛ سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ سَمَّاعُونَ لِقَوْمٍ آخَرِينَ لَمْ يَأْتُوكَ ۖ يُحَرِّفُونَ الْكَلِمَ مِن بَعْدِ مَوَاضِعِهِ ۖ يَقُولُونَ إِنْ أُوتِيتُمْ هَـٰذَا فَخُذُوهُ وَإِن لَّمْ تُؤْتَوْهُ فَاحْذَرُوا ۚ وَمَن يُرِدِ اللَّهُ فِتْنَتَهُ فَلَن تَمْلِكَ لَهُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا ۚ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ لَمْ يُرِدِ اللَّهُ أَن يُطَهِّرَ قُلُوبَهُمْ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ ۖ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ

হে রাসূল (সঃ)! যারা কুফরীর দিকে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে, (তাদের এ কর্ম) তোমাকে যেন চিন্তিত না করে। যারা মুখে বলে ঈমান এনেছি; কিন্তু তাদের অন্তর ঈমান আনে আনি এরা হোক অথবা যারা ইয়াহুদী হয়ে গেছে তারা হোক, যারা মিথ্যা কথা শুনতে বিশেষ পারদর্শী, তারা তোমার কথাগুলো অন্য ঐ সম্প্রদায়ের স্বার্থে কান পেতে শোনে যারা তোমার নিকট কখনো আসেনি, এরা আল্লাহর কিতাবের শব্দগুলোকে স্বীয় স্থান হতে বিকৃত করে। তারা বলে, তোমরা এ রকম নির্দেশপ্রাপ্ত হলে মানবে, আর তা না হলে বর্জন করবে। বস্তুতঃ আল্লাহই যাকে ফিতনায় ফেলতে চান, তার জন্য আল্লাহর কাছে তোমার কিছুই করার নেই। ওরা হল সেই লোক, যাদের অন্তরাত্মাকে আল্লাহ পবিত্র করতে চান না। তাদের জন্যে দুনিয়াতে রয়েছে লাঞ্ছনা, আর তাদের জন্য আখিরাতে রয়েছে মহা শাস্তি।
০৪২سَمَّاعُونَ لِلْكَذِبِ أَكَّالُونَ لِلسُّحْتِ ۚ فَإِن جَاءُوكَ فَاحْكُم بَيْنَهُمْ أَوْ أَعْرِضْ عَنْهُمْ ۖ وَإِن تُعْرِضْ عَنْهُمْ فَلَن يَضُرُّوكَ شَيْئًا ۖ وَإِنْ حَكَمْتَ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِالْقِسْطِ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُقْسِطِينَ

তারা মিথ্যা কথা শুনতে যেমন অভ্যস্ত, তেমনি হারাম বস্তু খেতে অভ্যস্ত, অতএব তারা যদি তোমার কাছে আসে, তবে হয় তুমি তাদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও কিংবা তাদের থেকে বিরত থাকো, আর যদি তুমি তাদের থেকে বিরতই থাকো তবে তাদের সাধ্য নেই যে, তোমার বিন্দুমাত্রও ক্ষতি করে, আর যদি তুমি মীমাংসা কর তবে তাদের মধ্যে ন্যায়তঃ মীমাংসা করবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ ন্যায় বিচারকদেরকে ভালবাসেন।
০৪৩وَكَيْفَ يُحَكِّمُونَكَ وَعِندَهُمُ التَّوْرَاةُ فِيهَا حُكْمُ اللَّهِ ثُمَّ يَتَوَلَّوْنَ مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ ۚ وَمَا أُولَـٰئِكَ بِالْمُؤْمِنِينَ

আর তারা কিরূপে তোমাকে মীমাংসাকারী বানিয়ে নিচ্ছে? অথচ তাদের কাছে তাওরাত রয়েছে, তাতে আল্লাহর বিধান বিদ্যমান! অতঃপর তারা এরপর (তোমার মীমাংসা হতে) ফিরে যায় আর তারা কখনো আস্থাবান নয়।
০৪৪إِنَّا أَنزَلْنَا التَّوْرَاةَ فِيهَا هُدًى وَنُورٌ ۚ يَحْكُمُ بِهَا النَّبِيُّونَ الَّذِينَ أَسْلَمُوا لِلَّذِينَ هَادُوا وَالرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ بِمَا اسْتُحْفِظُوا مِن كِتَابِ اللَّهِ وَكَانُوا عَلَيْهِ شُهَدَاءَ ۚ فَلَا تَخْشَوُا النَّاسَ وَاخْشَوْنِ وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ

নিশ্চয়ই আমি তাওরাত নাযিল করেছি, যাতে হেদায়েত এবং আলো ছিল, আল্লাহর অনুগত নবীরা তদনুযায়ী ইয়াহূদীদেরকে আদেশ করতেন আর আল্লাহওয়ালাগণও এবং আলেমগণও এ কারণে যে, তাদেরকে এ কিতাবুল্লাহ’র সংরক্ষণের আদেশ দেয়া হয়েছিল এবং তারা তা স্বীকার করেছিল; অতএব, ঈহে ইয়াহুদী আলেমগণ) তোমরাও মানুষকে ভয় করো না, বরং আমাকে ভয় কর; আর আমার বিধানসমূহের বিনিময়ে (পার্থিব) সামান্য বস্তু গ্রহণ করো না; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম প্রদান না করে, (বিধান না দেয়) তাহলে এমন লোক তো কাফির।
০৪৫وَكَتَبْنَا عَلَيْهِمْ فِيهَا أَنَّ النَّفْسَ بِالنَّفْسِ وَالْعَيْنَ بِالْعَيْنِ وَالْأَنفَ بِالْأَنفِ وَالْأُذُنَ بِالْأُذُنِ وَالسِّنَّ بِالسِّنِّ وَالْجُرُوحَ قِصَاصٌ ۚ فَمَن تَصَدَّقَ بِهِ فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَّهُ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ

আর আমি তাদের প্রতি তাতে (তাওরাতে) এটা ফরজ করেছিলাম যে, প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ, চক্ষুর বিনিময়ে চক্ষু, নাকের বিনিময়ে নাক, কানের বিনিময়ে কান, দাঁতের বিনিময়ে দাঁত এবং (তদ্রুপ অন্যান্য) বিশেষ যখমেরও বিনিময় রয়েছে; ফলে যে ব্যক্তি ক্ষমা করে দেয় তবে এটা তার জন্যে (পাপের) কাফফারা হয়ে যাবে; আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম প্রদান না করে তবে তো এমন ব্যক্তিগণ অত্যাচারী।
০৪৬وَقَفَّيْنَا عَلَىٰ آثَارِهِم بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ ۖ وَآتَيْنَاهُ الْإِنجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَاةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِّلْمُتَّقِينَ

আর আমি তাদের পর ঈসা ইবনে মারইয়ামকে এ অবস্থায় প্রেরণ করেছিলাম যে, সে তার পূর্ববর্তী কিতাবের অর্থাৎ তাওরাতের সত্যায়নকারী ছিলেন এবং আমি তাকে ইঞ্জিল প্রদান করেছি, যাতে হিদায়াত এবং আলো ছিল, আর এটা স্বীয় পূর্ববর্তী কিতাব অর্থাৎ তাওরাতের সত্যায়নকারী এবং সম্পূর্ণরূপে মুত্তাকীদের জন্যে হিদায়াত ও নসীহত ছিল।
০৪৭وَلْيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنجِيلِ بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فِيهِ ۚ وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَاسِقُونَ

আহলে ইঞ্জিলের উচিত যে, আল্লাহ তাতে যা কিছু অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী হুকুম প্রদান করে, আর যে ব্যক্তি আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান অনুযায়ী হুকুম প্রদান করে না, তবে তো এরূপ লোকই ফাসিক।
০৪৮وَأَنزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَابِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ ۖ فَاحْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ ۖ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ ۚ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَـٰكِن لِّيَبْلُوَكُمْ فِي مَا آتَاكُمْ ۖ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ۚ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ

আর আমি এ কিতাব (কুরআন)-কে তোমার প্রতি নাযিল করেছি যা হকের সাথে পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেরও সত্যতা প্রমাণকারী এবং ঐসব কিতাবের সংরক্ষকও; অতএব, তুমি তাদের পারস্পারিক বিষয়ে আল্লাহর অবতারিত এ কিতাব অনুযায়ী মীমাংসা করো, যা তুমি প্রাপ্ত হয়েছো, তা থেকে বিরত হয়ে তাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী কাজ করো না, তোমাদের প্রত্যেক (সম্প্রদায়)-এর জন্যে আমি নির্দিষ্ট শরীয়ত এবং নির্দিষ্ট পন্থা নির্ধারণ করেছি; আর যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন, তবে অবশ্যই তোমাদের সকলকে একই উম্মত করে দিতেন; কিন্তু তিনি তা করেননি। এই কারণে যে, যে জীবন ব্যবস্থা তিনি তোমাদেরকে প্রদান করেছেন তাতে তোমাদের সকলকে পরীক্ষা করবেন, সুতরাং তোমরা কল্যাণকর বিষয়সমূহের দিকে ধাবিত হও; তোমাদের সকলকে আল্লাহর সমীপে প্রত্যাবর্তন করতে হবে, তখন তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দেবেন যে বিষয়ে তোমরা মতবিরোধ করছিলে।
০৪৯وَأَنِ احْكُم بَيْنَهُم بِمَا أَنزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ وَاحْذَرْهُمْ أَن يَفْتِنُوكَ عَن بَعْضِ مَا أَنزَلَ اللَّهُ إِلَيْكَ ۖ فَإِن تَوَلَّوْا فَاعْلَمْ أَنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَن يُصِيبَهُم بِبَعْضِ ذُنُوبِهِمْ ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا مِّنَ النَّاسِ لَفَاسِقُونَ

আর আমি নির্দেশ দিচ্ছি যে তুমি তাদের পারস্পারিক ব্যাপারে এ প্রেরিত কিতাব অনুযায়ী মীমাংসা করবে এবং তাদের প্রবৃত্তি অনুযায়ী কাজ করবে না এবং তাদের দিক থেকে সতর্ক থাকবে যেন তারা তোমাকে আল্লাহর প্রেরিত কোন নির্দেশ হতে বিভ্রান্ত করতে না পারে; কিন্তু তারা যদি মুখ ফিরিয়ে নেয়, তবে দৃঢ়বিশ্বাস রাখো, আল্লাহর ইচ্ছা এটাই যে, তাদেরকে কোন কোন পাপের দরুন শাস্তি প্রদান করবেন; আর বহু লোক তো নাফরমানই হয়ে থাকে।
০৫০أَفَحُكْمَ الْجَاهِلِيَّةِ يَبْغُونَ ۚ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ حُكْمًا لِّقَوْمٍ يُوقِنُونَ

তবে কি তারা জাহেলিয়্যাতের বিচার ব্যবস্থা কামনা করে? আর দৃঢ় বিশ্বাসীদের কাছে মীমাংসা কার্যে আল্লাহর চেয়ে কে উত্তম হবে?
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x