০০৫. সূরাঃ মায়িদাহ

আয়াত নংঅবতীর্ণঃ মদিনা
আয়াত সংখ্যাঃ ১২০
রুকূঃ ১৬
০৫১يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىٰ أَوْلِيَاءَ ۘ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَإِنَّهُ مِنْهُمْ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ

হে মু’মিনগণ! তোমরা ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না, তারা পরস্পরের বন্ধু, আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তাদের সাথে বন্ধুত্ব করবে, নিশ্চয়ই সে তাদেরই মধ্যে গণ্য হবে; নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যাচারী সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
০৫২فَتَرَى الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِم مَّرَضٌ يُسَارِعُونَ فِيهِمْ يَقُولُونَ نَخْشَىٰ أَن تُصِيبَنَا دَائِرَةٌ ۚ فَعَسَى اللَّهُ أَن يَأْتِيَ بِالْفَتْحِ أَوْ أَمْرٍ مِّنْ عِندِهِ فَيُصْبِحُوا عَلَىٰ مَا أَسَرُّوا فِي أَنفُسِهِمْ نَادِمِينَ

একারনেই যাদের অন্তরে পীড়া রয়েছে, তাদেরকে তোমরা দেখবে যে, তারা দৌড়িয়ে দৌড়িয়ে তাদের (কাফেরদের) মধ্যে প্রবেশ করছে, এবং তারা বলে আমাদের ভয় হচ্ছে যে, আমাদের উপর কোন বিপদ এসে পড়ে না কি! অতএব আশা করা যায় যে, অচিরেই আল্লাহ (মুসলমানদের) পূর্ণ বিজয় দান করবেন অথবা অন্য কোন বিষয় বিশেষভাবে নিজ পক্ষ হতে (দেবেন)। ফলে তারা নিজেদের অন্তরে লুকানো মনোভাবের কারণে লজ্জিত হবে।
০৫৩وَيَقُولُ الَّذِينَ آمَنُوا أَهَـٰؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ ۙ إِنَّهُمْ لَمَعَكُمْ ۚ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فَأَصْبَحُوا خَاسِرِينَ

আর মুসলমানরা বলবেঃ আরে! এরাই না কি তারা! যারা অতি দৃঢ়তার সাথে আল্লাহর নামে শপথ করতো যে তারা তোমাদের সাথেই আছে; এদের সমস্ত কর্মই ব্যর্থ হয়ে গেল, ফলে তারা অকৃতকার্য রইলো।
০৫৪يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَن يَرْتَدَّ مِنكُمْ عَن دِينِهِ فَسَوْفَ يَأْتِي اللَّهُ بِقَوْمٍ يُحِبُّهُمْ وَيُحِبُّونَهُ أَذِلَّةٍ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ أَعِزَّةٍ عَلَى الْكَافِرِينَ يُجَاهِدُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَلَا يَخَافُونَ لَوْمَةَ لَائِمٍ ۚ ذَٰلِكَ فَضْلُ اللَّهِ يُؤْتِيهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ وَاسِعٌ عَلِيمٌ

হে মু’মিনগণ! তোমাদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি স্বীয় দ্বীন হতে ফিরে যায়, তবে (এতে ইসলামের কোন ক্ষতি নেই।) কেননা আল্লাহ সত্ত্বরই (তাদের স্থলে) এমন এক সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন যাদেরকে আল্লাহ ভালবাসবেন এবং তারাও আল্লাহকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি মেহেরবান থাকবে, কাফিরদের প্রতি কঠোর হবে, তারা আল্লাহর পথে জিহাদ করবে, আর তারা কোন নিন্দুকের নিন্দায় পরোয়া করবে না; এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা প্রদান করেন বস্তুতঃ আল্লাহ প্রাচুর্যদানকারী, মহাজ্ঞানী।
০৫৫إِنَّمَا وَلِيُّكُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ يُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَهُمْ رَاكِعُونَ

তোমাদের বন্ধু তো আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সঃ) এবং মু’মিনরা- যারা নামায আদায় করে, যাকাত প্রদান করে এবং তারা বিনয়ী।
০৫৬وَمَن يَتَوَلَّ اللَّهَ وَرَسُولَهُ وَالَّذِينَ آمَنُوا فَإِنَّ حِزْبَ اللَّهِ هُمُ الْغَالِبُونَ

আর যে ব্যক্তি বন্ধুত্ব রাখবে আল্লাহর সাথে, তাঁর রাসূল (সঃ) এর সাথে এবং মু’মিনদের সাথে, তবে (তারা আল্লাহর দলভুক্ত হলো এবং) নিশ্চয়ই আল্লাহর দলই বিজয়ী।
০৫৭يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَكُمْ هُزُوًا وَلَعِبًا مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِن قَبْلِكُمْ وَالْكُفَّارَ أَوْلِيَاءَ ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

হে মু’মিনগণ! যারা তোমাদের পূর্বে কিতাবপ্রাপ্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে যারা তোমাদের দ্বীনকে হাসি ও তামাশার বস্তু বানিয়ে নিয়েছে; তাদেরকে ও কাফেরদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না আর আল্লাহকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।
০৫৮وَإِذَا نَادَيْتُمْ إِلَى الصَّلَاةِ اتَّخَذُوهَا هُزُوًا وَلَعِبًا ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْقِلُونَ

আর যখন তোমরা নামাযের জন্যে (আযান দ্বারা) আহ্বান কর, তখন তারা তার সাথে হাসি ও তামাশা করে, এর কারণ এই যে, তারা এরূপ লোক, যারা মোটেই জ্ঞান রাখে না।
০৫৯قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ هَلْ تَنقِمُونَ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلُ وَأَنَّ أَكْثَرَكُمْ فَاسِقُونَ

তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) বলে দাওঃ হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা আমাদের সাথে শুধু এই কারণে শত্রুতা করছ যে, আমরা ঈমান এনেছি আল্লাহর প্রতি এবং ঐ কিতাবের প্রতি যা আমাদের নিকট প্রেরিত হয়েছে এবং ঐ কিতাবের প্রতি যা অতীতে প্রেরিত হয়েছে, এবং এই কারণে যে তোমাদের অধিকাংশ লোক ফাসেক।
০৬০قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُم بِشَرٍّ مِّن ذَٰلِكَ مَثُوبَةً عِندَ اللَّهِ ۚ مَن لَّعَنَهُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ ۚ أُولَـٰئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضَلُّ عَن سَوَاءِ السَّبِيلِ

তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) বলে দাওঃ আমি কি তোমাদেরকে বলে দেব, যা প্রতিদান প্রাপ্তি হিসাবে ওটা হতেও (যাকে তোমরা মন্দ বলে জান) আল্লাহর কাছে অধিক নিকৃষ্ট? ওটা ঐসব লোকের পন্থা, যাদেরকে আল্লাহ অভিসম্পাত করেছেন এবং যাদের প্রতি তিনি রাগান্বিত হয়েছে ও যাদের কতককে বানর ও শূকর বানিয়ে দিয়েছেন এবং যারা তাগুতের পূজা করেছে; এরূপ লোকেরাই নিকৃষ্ট স্থানের অধিকারী এবং (ইহকালেও) সরল পথ হতে অধিকতর বিপথগামী।
০৬১وَإِذَا جَاءُوكُمْ قَالُوا آمَنَّا وَقَد دَّخَلُوا بِالْكُفْرِ وَهُمْ قَدْ خَرَجُوا بِهِ ۚ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوا يَكْتُمُونَ

আর যখন তারা তোমাদের নিকট আসে, তখন বলে আমরা ঈমান এনেছি, অথচ তারা কুফরই নিয়ে এসেছিল এবং তারা কুফরই নিয়ে চলে গেছে এবং আল্লাহ তো খুব ভাল জানেন যা তারা গোপন রাখে।
০৬২وَتَرَىٰ كَثِيرًا مِّنْهُمْ يُسَارِعُونَ فِي الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ

আর তুমি তাদের মধ্যে এমন অসংখ্য লোক দেখবে, যারা প্রতিযোগিতামূলক পাপ, যুলুম ও হারাম ভক্ষণে নিপতিত হচ্ছে, বাস্তবিকই তাদের এ কাজ মন্দ।
০৬৩لَوْلَا يَنْهَاهُمُ الرَّبَّانِيُّونَ وَالْأَحْبَارُ عَن قَوْلِهِمُ الْإِثْمَ وَأَكْلِهِمُ السُّحْتَ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَصْنَعُونَ

তাদেরকে আল্লাহওয়ালাগণ এবং আলেমগণ পাপের কথা হতে এবং হারাম মাল ভক্ষণ করা হতে নিষেধ করছে না কেন? বাস্তবিকই তাদের এ কাজ নিন্দনীয়।
০৬৪وَقَالَتِ الْيَهُودُ يَدُ اللَّهِ مَغْلُولَةٌ ۚ غُلَّتْ أَيْدِيهِمْ وَلُعِنُوا بِمَا قَالُوا ۘ بَلْ يَدَاهُ مَبْسُوطَتَانِ يُنفِقُ كَيْفَ يَشَاءُ ۚ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا ۚ وَأَلْقَيْنَا بَيْنَهُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ ۚ كُلَّمَا أَوْقَدُوا نَارًا لِّلْحَرْبِ أَطْفَأَهَا اللَّهُ ۚ وَيَسْعَوْنَ فِي الْأَرْضِ فَسَادًا ۚ وَاللَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُفْسِدِينَ

আর ইয়াহূদীরা বলে, আল্লাহর হাত বন্ধ হয়ে গেছে; তাদেরই হাত বন্ধ হয়ে গেছে। তাদের এ উক্তির দরুন তাদের প্রতি অভিশাপ করা হয়েছে; বরং তাঁর (আল্লাহর) তো উভয় হাত উন্মুক্ত, যেরূপ ইচ্ছা ব্যয় করেন; আর যে বিষয় তোমার নিকট তোমার প্রভুর পক্ষ হতে প্রেরিত হয়, তা তাদের মধ্যে অনেকের নাফরমানী ও কুফর বৃদ্ধির কারণ হয় এবং আমি তাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা নিক্ষেপ করেছি কিয়ামত পর্যন্ত; যখনই তারা (মুসলমানদের বিরুদ্ধে) যুদ্ধাগ্নি প্রজ্বলিত করতে চায়, আল্লাহ তা নির্বাপিত করে দেন এবং তারা ভূ-পৃষ্ঠে অশান্তি বিস্তারকারীদেরকে ভালবাসেন না।
০৬৫وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْكِتَابِ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَكَفَّرْنَا عَنْهُمْ سَيِّئَاتِهِمْ وَلَأَدْخَلْنَاهُمْ جَنَّاتِ النَّعِيمِ

আর এ আহলে কিতাবগণ (ইয়াহূদী ও নাসারা) যদি ঈমান আনতো এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো, তবে আমি অবশ্যই তাদের সমস্ত অন্যায় ক্ষমা করে দিতাম এবং অবশ্যই তাদেরকে আরাম ও শান্তিময় জান্নাতে প্রবেশ করাতাম।
০৬৬وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِم مِّن رَّبِّهِمْ لَأَكَلُوا مِن فَوْقِهِمْ وَمِن تَحْتِ أَرْجُلِهِم ۚ مِّنْهُمْ أُمَّةٌ مُّقْتَصِدَةٌ ۖ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ سَاءَ مَا يَعْمَلُونَ

আর যদি তারা তাওরাত ও ইঞ্জিলের এবং যা কিছু তাদের প্রভুর পক্ষ হতে তাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, ওর যথারিতী আমলকারী হতো, তবে তারা তাদের উপর (অর্থাৎ আকাশ) হতে এবং পায়ের নিম্ন (অর্থাৎ যমীন) হতে রিযিক পেত ও প্রাচুর্যের সাথে ভক্ষণ করতো, তাদের একদল তো সরল পথের পথিক; আর তাদের অধিকাংশই এরূপ যে তাদের কার্যকলাপ অতি জঘন্য।
০৬৭يَا أَيُّهَا الرَّسُولُ بَلِّغْ مَا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ۖ وَإِن لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَهُ ۚ وَاللَّهُ يَعْصِمُكَ مِنَ النَّاسِ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ

হে রাসূল (সঃ)! যা কিছু তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমার উপর অবতীর্ণ করা হয়েছে, তুমি (মানুষকে) সব কিছুই পৌঁছিয়ে দাও; আর যদি এরূপ না কর, (তবে) তুমি আল্লাহ্রে পয়গমও পৌঁছাওনি বলে বিবেচিত হবে, আর আল্লাহ তোমাকে মানুষ (অর্থাৎ কাফির) হতে সংরক্ষিত রাখবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
০৬৮قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَسْتُمْ عَلَىٰ شَيْءٍ حَتَّىٰ تُقِيمُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنجِيلَ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَلَيَزِيدَنَّ كَثِيرًا مِّنْهُم مَّا أُنزِلَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ طُغْيَانًا وَكُفْرًا ۖ فَلَا تَأْسَ عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ

তুমি (মুহাম্মদ সঃ) বলে দাওঃ হে আহলে কিতাবগণ! মূলতঃ তোমরা কোন পথেই প্রতিষ্ঠিত নও যে পর্যন্ত না তাওরাত, ইঞ্জিল এবং যা কিছু তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে তার পূর্ণ পাবন্দী করবে; আর অবশ্যই যা তোমার প্রতি তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে প্রেরণ করা হয়েছে, তা তাদের মধ্যে অনেকেরই নাফরমানী ও কুফরি আরো বৃদ্ধি করবে, অতএব তুমি ও কাফিরদের জন্যে মনঃক্ষুন্ন হয়ো না।
০৬৯إِنَّ الَّذِينَ آمَنُوا وَالَّذِينَ هَادُوا وَالصَّابِئُونَ وَالنَّصَارَىٰ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ

এটা সুনিশ্চিত যে, মুসলিম, ইয়াহূদী, সাবেঈ এবং নাসারাদের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামতের প্রতি বিশ্বাস রাখে এবং সৎকর্ম করে, তবে এরূপ লোকদের জন্যে শেহ দিবসে না কোন প্রকার ভয় থাকবে আর না তারা চিন্তান্বিত হবে।
০৭০لَقَدْ أَخَذْنَا مِيثَاقَ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَأَرْسَلْنَا إِلَيْهِمْ رُسُلًا ۖ كُلَّمَا جَاءَهُمْ رَسُولٌ بِمَا لَا تَهْوَىٰ أَنفُسُهُمْ فَرِيقًا كَذَّبُوا وَفَرِيقًا يَقْتُلُونَ

আমি বানী ইসরাঈল হতে অঙ্গীকার নিয়েছি এবং তাদের কাছে বহু রাসূল প্রেরণ করেছি; যখনই তাদের কাছে কোন নবী আগমন করতেন এমন কোন বিধান নিয়ে যা তাদের মনঃপুত হতো না, তখনই তারা কতিপয়কে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত করতো এবং কতিপয়কে হত্যাই করে ফেলতো।
০৭১وَحَسِبُوا أَلَّا تَكُونَ فِتْنَةٌ فَعَمُوا وَصَمُّوا ثُمَّ تَابَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ ثُمَّ عَمُوا وَصَمُّوا كَثِيرٌ مِّنْهُمْ ۚ وَاللَّهُ بَصِيرٌ بِمَا يَعْمَلُونَ

আর তারা এ ধারণাই করেছিল যে, তাদের কোন বিপর্যয় হবে না, ফলে তারা আরও অন্ধ ও বধির হয়ে গেল, অতঃপর আল্লাহ তাদের তওবা গ্রহণ করলেন; এরপরেও তাদের অনেকেই অন্ধ ও বধির হয়ে গেল। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের (এই) কার্যকলাপ খুবই প্রত্যক্ষ করেন।
০৭২لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ ۖ وَقَالَ الْمَسِيحُ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اعْبُدُوا اللَّهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ ۖ إِنَّهُ مَن يُشْرِكْ بِاللَّهِ فَقَدْ حَرَّمَ اللَّهُ عَلَيْهِ الْجَنَّةَ وَمَأْوَاهُ النَّارُ ۖ وَمَا لِلظَّالِمِينَ مِنْ أَنصَارٍ

নিশ্চয়ই তারা কুফরী করেছে যারা বলেছে যে, মাসীহ ইবনে মারইয়ামই তো আল্লাহ; অথচ মাসীহ নিজেই বলেছিলেনঃ হে বানী ইসরাঈলগণ! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, যিনি আমারও প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক; নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে (অন্য কাউকে) অংশীদার স্থাপন করবে, আল্লাহ তার জন্যে জান্নাত হারাম করে দেবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম, আর এরূপ অত্যাচারীদের জন্যে কোন সাহায্যকারী হবে না।
০৭৩لَّقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلَاثَةٍ ۘ وَمَا مِنْ إِلَـٰهٍ إِلَّا إِلَـٰهٌ وَاحِدٌ ۚ وَإِن لَّمْ يَنتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

নিঃসন্দেহে তারাও কুফুরী করেছে যারা বলেঃ আল্লাহ তিনের (অর্থাৎ তিন মা’বূদের) এক, অথচ এক মা’বূদ ভিন্ন অন্য কোনই (সত্য) মা’ বূদ নেই; আর যদি তারা স্বীয় উক্তিসমূহ হতে নিবৃত্ত না হয়, তবে তাদের মধ্যে যারা কাফির থাকবে তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি গ্রাস করবে।
০৭৪أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللَّهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

এর পরও কি তারা আল্লাহর সমীপে তাওবা করবে না এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবে না? অথচ আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।
০৭৫مَّا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمُّهُ صِدِّيقَةٌ ۖ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنُ لَهُمُ الْآيَاتِ ثُمَّ انظُرْ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ

মাসীহ ইবনে মারইয়াম একজন রাসূল ছাড়া আর কিছুই নয়; তাঁর পূর্বে আরও বহু রাসূল বিগত হয়েছে, আর তাঁর মা একজন সত্য নিষ্ঠা মহিলা। তারা উভয়ে খাদ্য ভক্ষণ করতেন, লক্ষ্য কর! আমি কিরূপে তাদের নিকট প্রমাণসমূহ বর্ণনা করছি, আবার লক্ষ্য কর! তারা কিভাবে সত্য বিমুখ হয়ে যাচ্ছে।
০৭৬قُلْ أَتَعْبُدُونَ مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَمْلِكُ لَكُمْ ضَرًّا وَلَا نَفْعًا ۚ وَاللَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) বল দাওঃ তোমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন বস্তুর ইবাদত কর, যে তোমাদের না কোন অপকার করবার ক্ষমতা রাখে, আর না কোন উপকার করবার; অথচ আল্লাহই সব শোনেন, সব জানেন।
০৭৭قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ غَيْرَ الْحَقِّ وَلَا تَتَّبِعُوا أَهْوَاءَ قَوْمٍ قَدْ ضَلُّوا مِن قَبْلُ وَأَضَلُّوا كَثِيرًا وَضَلُّوا عَن سَوَاءِ السَّبِيلِ

তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) বলে দাওঃ হে আহলে কিতাবগণ! তোমরা নিজেদের দ্বীনে অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন করো না এবং ঐসব লোকের (ভিত্তিহীন) প্রবৃত্তির অনুসরণ করো না যারা ব্যতীত নিজেরাও ভ্রান্তিতে পতিত হয়েছে এবং আরও বহু লোককে ভ্রান্তিতে নিক্ষেপ করেছে, বস্তুতঃ তারা সরল পথ থেকে দূরে সরে পড়েছিল।
০৭৮لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَىٰ لِسَانِ دَاوُودَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ۚ ذَٰلِكَ بِمَا عَصَوا وَّكَانُوا يَعْتَدُونَ

বানী ইসরাঈলের মধ্যে যারা কাফির ছিল, তাদের উপর লা’নত করা হয়েছিল দাউদ ও ঈসা ইবনে মারইয়ামের মুখে; এ লা’নত এ কারণে করা হয়েছিল যে তারা অবাধ্য ও আদেশ অমান্য করেছিল এবং সীমার বাইরে চলে গিয়েছিল।
০৭৯كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَن مُّنكَرٍ فَعَلُوهُ ۚ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ

তারা যে মন্দ ও গর্হিত কাজ করতো তা থেকে তারা পরস্পরকে নিষেধ করতো না; বাস্তবিকই তাদের কাজ ছিল অত্যন্ত গর্হিত।
০৮০تَرَىٰ كَثِيرًا مِّنْهُمْ يَتَوَلَّوْنَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ لَبِئْسَ مَا قَدَّمَتْ لَهُمْ أَنفُسُهُمْ أَن سَخِطَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَفِي الْعَذَابِ هُمْ خَالِدُونَ

তুমি তাদের (ইয়াহূদীদের) মধ্যে অনেক লোককে দেখবে যে, তারা বন্ধুত্ব করছে কাফিরদের সাথে; যে কাজ তারা ভবিষ্যতের জন্যে করেছে তা নিঃসন্দেহে মন্দ, যেহেতু আল্লাহ তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন, ফলতঃ তারা আযাবে চিরকাল থাকবে।
০৮১وَلَوْ كَانُوا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالنَّبِيِّ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مَا اتَّخَذُوهُمْ أَوْلِيَاءَ وَلَـٰكِنَّ كَثِيرًا مِّنْهُمْ فَاسِقُونَ

আর যদি তারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনতো এবং নবীর (মূসা আঃ) প্রতি এবং ঐ কিতাবের (তাওরাতের) প্রতি যা তাঁর নিকট প্রেরিত হয়েছিল, তবে তাদেরকে (মুশরিকদেরকে) কখনো বন্ধুরূপে গ্রহণ করতো না; কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোকই অবাধ্য।
০৮২لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا ۖ وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُم مَّوَدَّةً لِّلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصَارَىٰ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسِّيسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ

তুমি মানবমণ্ডলীর মধ্যে মুসলমানদের সাথে অধিক শত্রুতা পোষণকারী পাবে এ ইয়াহূদী ও মুশরিকদেরকে, আর তন্মধ্যে মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্ব রাখার অধিকতর নিকটবর্তী ঐসব লোককে পাবে, যারা নিজেদেরকে নাসারা বলে, এটা এ কারণে যে, তাদের মধ্যে বহু জ্ঞানপিপাসু আলেম এবং আবেদ বান্দা রয়েছে, আর এই কারণে যে, তারা অহংকারী নয়।
০৮৩وَإِذَا سَمِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَى الرَّسُولِ تَرَىٰ أَعْيُنَهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ مِمَّا عَرَفُوا مِنَ الْحَقِّ ۖ يَقُولُونَ رَبَّنَا آمَنَّا فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّاهِدِينَ

আর যখন তারা তা শ্রবণ করে, যা রাসূল (সঃ)-এর প্রতি নাযিল হয়েছে, তখন তুমি দেখতে পাও যে, তাদের চোখে অশ্রু বইতে শুরু করে, এ কারণে যে, তারা সত্যকে উপলব্ধি করতে পেরেছে, তারা এরূপ বলেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা মু’মিন হয়ে গেলাম সুতরাং আমাদেরকেও ঐসব লোকের সাথে লিপিবদ্ধ করে নিন, যারা (মুহাম্মদ সঃ ও কুর’আনকে সত্য বলে) স্বীকার করে।
০৮৪وَمَا لَنَا لَا نُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَمَا جَاءَنَا مِنَ الْحَقِّ وَنَطْمَعُ أَن يُدْخِلَنَا رَبُّنَا مَعَ الْقَوْمِ الصَّالِحِينَ

আর আমাদের কি এমন ওযর আছে যে, আমরা ঈমান আনবো না আল্লাহর প্রতি এবং সেই সত্যের প্রতি যা আমাদের কাছে পৌঁছেছে? অথচ এ আশা রাখবো যে, আমাদের প্রতিপালক নেককারদের সাথে আমাদেরকে শামিল করবেন।
০৮৫فَأَثَابَهُمُ اللَّهُ بِمَا قَالُوا جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ وَذَٰلِكَ جَزَاءُ الْمُحْسِنِينَ

ফলতঃ তাদের এ উক্তির বিনিময়ে আল্লাহ তাদেরকে এমন জান্নাতসমূহ প্রদান করবেন, যার তলদেশে নহর বইতে থাকবে, তারা তাতে অনন্তকাল অবস্থান করবে। এবং সৎকর্মশীলদের প্রতিদান।
০৮৬وَالَّذِينَ كَفَرُوا وَكَذَّبُوا بِآيَاتِنَا أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَحِيمِ

আর যারা কাফির হয়েছে এবং আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা অভিহিত করেছে, তারা হবে জাহান্নামের অধিবাসী।
০৮৭يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلَا تَعْتَدُوا ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ

হে মু’মিনগণ! আল্লাহ যেসব ব স্তুগুলিকে তোমাদের জন্যে হালাল করেছেন সেগুলোকে হারাম করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।
০৮৮وَكُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ حَلَالًا طَيِّبًا ۚ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي أَنتُم بِهِ مُؤْمِنُونَ

আর আল্লাহ তোমাদেরকে যা দান করেছেন তন্মধ্য হতে হালাল পবিত্র (রুচিকর) বস্তুগুলো ভক্ষণ কর এবং আল্লাহকে ভয় কর, যার প্রতি তোমরা ঈমান রাখো।
০৮৯لَا يُؤَاخِذُكُمُ اللَّهُ بِاللَّغْوِ فِي أَيْمَانِكُمْ وَلَـٰكِن يُؤَاخِذُكُم بِمَا عَقَّدتُّمُ الْأَيْمَانَ ۖ فَكَفَّارَتُهُ إِطْعَامُ عَشَرَةِ مَسَاكِينَ مِنْ أَوْسَطِ مَا تُطْعِمُونَ أَهْلِيكُمْ أَوْ كِسْوَتُهُمْ أَوْ تَحْرِيرُ رَقَبَةٍ ۖ فَمَن لَّمْ يَجِدْ فَصِيَامُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ ۚ ذَٰلِكَ كَفَّارَةُ أَيْمَانِكُمْ إِذَا حَلَفْتُمْ ۚ وَاحْفَظُوا أَيْمَانَكُمْ ۚ كَذَٰلِكَ يُبَيِّنُ اللَّهُ لَكُمْ آيَاتِهِ لَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের অনর্থক কসমগুলোর ব্যাপারে পাকড়াও করবেন না; কিন্তু তিনি তোমাদেরকে ঐ কসমসমূহের জন্যে পাকড়াও করবেন, যেগুলোকে তোমরা দৃঢ়ভাবে কর, (অর্থাৎ ইচ্ছেকৃত শপথ) সুতরাং ওর কাফফারা হচ্ছে দশজন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করা মধ্যম ধরণের, যা তোমরা নিজ পরিবারের লোকদেরকে আহার করিতে থাক, অথবা তাদেরকে পরিধেয় বস্ত্র দান করা (মধ্যম ধরণের) অথবা একটা কৃতদাস বা বাঁদী আযাদ করা, আর যে ব্যক্তি (এগুলোর কোন একটিও করতে) সমর্থ না হয়, তবে তাঁর জন্য (একাধারে) তিনদিনের রোযা; এটা তোমাদের কসমসমূহের কাফফারা যখন তোমরা কসম কর (অত:পর ভঙ্গ কর) এবং নিজেদের কসমসমূহের প্রতি লক্ষ্য রাখো; এরূপেই আল্লাহ তোমাদের জন্যে স্বীয় বিধানসমূহ বর্ণনা করেন, যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।
০৯০يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

হে মু’মিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, মূর্তির বেদী এবং শুভ অশুভ নির্ণয়ের তীর, এসব গর্হিত বিষয়, শয়তানী কাজ। সুতরাং এ থেকে সম্পূর্ণরূপে দূরে থাক, যেন তোমাদের কল্যাণ হয়।
০৯১إِنَّمَا يُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُوقِعَ بَيْنَكُمُ الْعَدَاوَةَ وَالْبَغْضَاءَ فِي الْخَمْرِ وَالْمَيْسِرِ وَيَصُدَّكُمْ عَن ذِكْرِ اللَّهِ وَعَنِ الصَّلَاةِ ۖ فَهَلْ أَنتُم مُّنتَهُونَ

শয়তান তো এটাই চায় যে, মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা ও হিংসা সৃষ্টি করে এবং আল্লাহর স্মরণ হতে ও নামায হতে তোমাদেরকে বিরত রাখে, সুতরাং এখনো কি তোমরা নিবৃত্ত হবে না?
০৯২وَأَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَاحْذَرُوا ۚ فَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّمَا عَلَىٰ رَسُولِنَا الْبَلَاغُ الْمُبِينُ

আর তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করতে থাক ও রাসূল (সঃ)-এর আনুগত্য করতে থাক এবং সতর্ক থাকো, আর যদি বিমুখ থাকো তবে জেনে রাখো যে, আমার রাসূল (সঃ)-এর দায়িত্ব ছিল শুধু স্পষ্টভাবে (আদেশ) পৌঁছিয়ে দেয়া।
০৯৩لَيْسَ عَلَى الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ جُنَاحٌ فِيمَا طَعِمُوا إِذَا مَا اتَّقَوا وَّآمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ ثُمَّ اتَّقَوا وَّآمَنُوا ثُمَّ اتَّقَوا وَّأَحْسَنُوا ۗ وَاللَّهُ يُحِبُّ الْمُحْسِنِينَ

যারা ঈমান আনে ও ভাল কাজ করে, এরূপ লোকদের উপর তাতে কোন গুনাহ নেই যা তারা পানাহার করেছে, যখন তারা আল্লাহর ভয় করে এবং ঈমান আনে ও ভাল কাজ করে, পুনঃ আল্লাহকে ভয় করতে থাকে ও ভাল কাজ করতে থাকে; বস্তুতঃ আল্লাহ এরূপ সৎকর্মশীলদেরকে ভালবাসেন।
০৯৪يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَيَبْلُوَنَّكُمُ اللَّهُ بِشَيْءٍ مِّنَ الصَّيْدِ تَنَالُهُ أَيْدِيكُمْ وَرِمَاحُكُمْ لِيَعْلَمَ اللَّهُ مَن يَخَافُهُ بِالْغَيْبِ ۚ فَمَنِ اعْتَدَىٰ بَعْدَ ذَٰلِكَ فَلَهُ عَذَابٌ أَلِيمٌ

হে মু’মিনগণ! আল্লাহ তোমাদেরকে কতক শিকারের দ্বারা পরীক্ষা করবেন, যেগুলো পর্যন্ত তোমাদের হাত ও তোমাদের বল্লম পৌঁছতে পারবে, এই উদ্দেশ্যে যে, আল্লাহ জেনে নেবেন, কে তাঁকে না দেখে ভয় করে? সুতরাং যে ব্যক্তি এরপরও সীমালঙ্ঘন করবে, তার জন্যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
০৯৫يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقْتُلُوا الصَّيْدَ وَأَنتُمْ حُرُمٌ ۚ وَمَن قَتَلَهُ مِنكُم مُّتَعَمِّدًا فَجَزَاءٌ مِّثْلُ مَا قَتَلَ مِنَ النَّعَمِ يَحْكُمُ بِهِ ذَوَا عَدْلٍ مِّنكُمْ هَدْيًا بَالِغَ الْكَعْبَةِ أَوْ كَفَّارَةٌ طَعَامُ مَسَاكِينَ أَوْ عَدْلُ ذَٰلِكَ صِيَامًا لِّيَذُوقَ وَبَالَ أَمْرِهِ ۗ عَفَا اللَّهُ عَمَّا سَلَفَ ۚ وَمَنْ عَادَ فَيَنتَقِمُ اللَّهُ مِنْهُ ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انتِقَامٍ

হে মু’মিনগণ! তোমরা ইহরামের অবস্থায় শিকারকে হত্যা করো না; আর তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি ইচ্ছাপূর্বক ওকে হত্যা করবে, তার উপর তখন বিনিময় ওয়াজিব হবে, যা (মূল্যের দিক দিয়ে) সেই জানোয়ারের সমতুল্য হয়, যাকে সে হত্যা করেছে, যার (আনুমানিক মূল্যের) মীমাংসা তোমাদের মধ্য হতে দু’জন নির্ভরযোগ্য ব্যক্তি করে দেবে যে, সে যে জন্তু হত্যা করেছে তার সমান পর্যায়ের একটি কুরবানীর জন্তু সে কা’বায় পৌঁছে দেবে অথবা কয়েকজন মিসকীনের খাওয়ানোর কাফফারা দেবে, অথবা এর সমপরিমাণ রোযা রাখবে, যেন নিজের কৃতকর্মের পরিণামের স্বাদ গ্রহণ করে; অতীত (ত্রুটি) আল্লাহ ক্ষমা করে দিয়েছেন; আর পুনরায় যে ব্যক্তি এরূপ কর্মই করবে; আল্লাহ সে ব্যক্তি হতে (এর) প্রতিশোধ গ্রহণ করবেন; আল্লাহ পরাক্রান্ত, প্রতিশোধ গ্রহণকারী।
০৯৬أُحِلَّ لَكُمْ صَيْدُ الْبَحْرِ وَطَعَامُهُ مَتَاعًا لَّكُمْ وَلِلسَّيَّارَةِ ۖ وَحُرِّمَ عَلَيْكُمْ صَيْدُ الْبَرِّ مَا دُمْتُمْ حُرُمًا ۗ وَاتَّقُوا اللَّهَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ

তোমাদের জন্যে সামুদ্রিক শিকার ধরা ও তা খাওয়া হালাল করা হয়েছে, তোমাদের ও মুসাফিরদের উপভোগের জন্যে, আর স্থলচর শিকার ধরা তোমাদের জন্যে হারাম করা হয়েছে যতক্ষণ তোমরা ইহরাম অবস্থায় থাক; আর সেই আল্লাহকে ভয় কর, যার সমীপে তোমাদেরকে একত্রিত করা হবে।
০৯৭جَعَلَ اللَّهُ الْكَعْبَةَ الْبَيْتَ الْحَرَامَ قِيَامًا لِّلنَّاسِ وَالشَّهْرَ الْحَرَامَ وَالْهَدْيَ وَالْقَلَائِدَ ۚ ذَٰلِكَ لِتَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَأَنَّ اللَّهَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ

মহা সম্মানিত গৃহ কা’বাকে আল্লাহ মানুষের সুদৃঢ় থাকার উপায় নির্ধারণ করেছেন এবং সম্মানিত মাসকেও, হারামে কুরবানীর জীবকেও এবং সেই জীবকেও যাদের গলায় নিদর্শন রয়েছে; এটা এ জন্যে যেন তোমরা দৃঢ় বিশ্বাস রাখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ আকাশসমূহ ও যমীনস্থিত সব বস্তুরই খবর রাখেন, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞাত।
০৯৮اعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ وَأَنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ

তোমরা জেনে রাখো যে, আল্লাহ কঠোর শাস্তি প্রদানকারী এবং অতি ক্ষমাশীল, দয়াময়।
০৯৯مَّا عَلَى الرَّسُولِ إِلَّا الْبَلَاغُ ۗ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مَا تُبْدُونَ وَمَا تَكْتُمُونَ

রাসূলের দায়িত্ব শুধু পৌঁছিয়ে দেয়া মাত্র, আর তোমরা যা কিছু প্রকাশ কর এবং যা কিছু গোপন কর তার সব কিছুই আল্লাহ জানেন।
১০০قُل لَّا يَسْتَوِي الْخَبِيثُ وَالطَّيِّبُ وَلَوْ أَعْجَبَكَ كَثْرَةُ الْخَبِيثِ ۚ فَاتَّقُوا اللَّهَ يَا أُولِي الْأَلْبَابِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) বলে দাওঃ পবিত্র ও অপবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের আধিক্য তোমাকে বিস্মিত করে, অতএব হে জ্ঞানীগণ! আল্লাহকে ভয় করতে থাক যেন তোমরা (পূর্ণ) সফলকাম হও।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x