০০২. সূরাঃ বাকারাহ

আয়াত নং অবতীর্ণঃ মদিনা
আয়াত সংখ্যাঃ ২৮৬
রুকূঃ ৪০
১০১ وَلَمَّا جَاءَهُمْ رَسُولٌ مِّنْ عِندِ اللَّهِ مُصَدِّقٌ لِّمَا مَعَهُمْ نَبَذَ فَرِيقٌ مِّنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ كِتَابَ اللَّهِ وَرَاءَ ظُهُورِهِمْ كَأَنَّهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
এবং যখন আল্লাহর নিকট হতে তাদের নিকট যা আছে তার সত্যায়িতকারী রাসূল তাদের কাছে আগমন করলো, তখন যাদেরকে গ্রন্থ দেয়া হয়েছে তাদের একদল আল্লাহর গ্রন্থকে নিজেদের পশ্চাদ্ভাগে নিক্ষেপ করলো, যেন তারা কিছুই জানে না।
১০২ وَاتَّبَعُوا مَا تَتْلُو الشَّيَاطِينُ عَلَىٰ مُلْكِ سُلَيْمَانَ ۖ وَمَا كَفَرَ سُلَيْمَانُ وَلَـٰكِنَّ الشَّيَاطِينَ كَفَرُوا يُعَلِّمُونَ النَّاسَ السِّحْرَ وَمَا أُنزِلَ عَلَى الْمَلَكَيْنِ بِبَابِلَ هَارُوتَ وَمَارُوتَ ۚ وَمَا يُعَلِّمَانِ مِنْ أَحَدٍ حَتَّىٰ يَقُولَا إِنَّمَا نَحْنُ فِتْنَةٌ فَلَا تَكْفُرْ ۖ فَيَتَعَلَّمُونَ مِنْهُمَا مَا يُفَرِّقُونَ بِهِ بَيْنَ الْمَرْءِ وَزَوْجِهِ ۚ وَمَا هُم بِضَارِّينَ بِهِ مِنْ أَحَدٍ إِلَّا بِإِذْنِ اللَّهِ ۚ وَيَتَعَلَّمُونَ مَا يَضُرُّهُمْ وَلَا يَنفَعُهُمْ ۚ وَلَقَدْ عَلِمُوا لَمَنِ اشْتَرَاهُ مَا لَهُ فِي الْآخِرَةِ مِنْ خَلَاقٍ ۚ وَلَبِئْسَ مَا شَرَوْا بِهِ أَنفُسَهُمْ ۚ لَوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
এবং সুলাইমানের রাজত্বকালে শয়তানরা যা আবৃত্তি করতো, তারা তারই অনুসরণ করছে এবং সুলাইমান কুফুরী করেননি কিন্তু শয়তানরাই কুফুরী করেছিল। তারা লোকদেরকে যাদু বিদ্যা এবং যা বাবেল শহরে হারুত-মারূত ফেরেশতাদ্বয়ের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল তা শিক্ষা দিতো, এবং তারা উভয়ে কাউকেও ওটা শিক্ষা দিতো না, যে পর্যন্ত তারা না বলতো যে, আমরা পরীক্ষাস্বরূপ, অতএব তুমি কুফরী করো না, অনন্তর যাদের স্বামী ও তদীয় স্ত্রীর মধ্যে বিচ্ছেদ সঙ্ঘটিত হয়, তারা উভয়ের নিকট তা শিক্ষা করতো এবং তারা আল্লাহর হুকুম ব্যতীত তদ্দারা কারো অনিষ্ট সাধন করতে পারতো না এবং তারা ওটাই শিক্ষা করছে যাতে তাদের ক্ষতি হয় এবং তাদের কোন উপকার সাধিত হয় না এবং নিশ্চয় তারা জ্ঞাত আছে যে, অবশ্য যে কেউ ওটা ক্রয় করেছে, তার জন্যে পরকালে কোনই অংশ নেই এবং তদ্বিনিময়ে তারা যে আত্ম-বিক্রয় করেছে তা নিকৃষ্ট, যদি তারা তা জানতো!
১০৩ وَلَوْ أَنَّهُمْ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَمَثُوبَةٌ مِّنْ عِندِ اللَّهِ خَيْرٌ ۖ لَّوْ كَانُوا يَعْلَمُونَ
এবং যদি তারা সত্য সত্যই বিশ্বাস করতো ও ধর্মভীরূ হতো তবে আল্লাহর নিকট হতে কল্যাণ লাভ করতো, যদি তারা এটাই বুঝতো।
১০৪ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَقُولُوا رَاعِنَا وَقُولُوا انظُرْنَا وَاسْمَعُوا ۗ وَلِلْكَافِرِينَ عَذَابٌ أَلِيمٌ
হে মুমিনগণ! তোমরা ‘রায়েনা’ বলো না বরং ‘উনযুরনা’ বলো এবং শুনে নাও; আর কাফিরদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রনাময় শাস্তি।
১০৫ مَّا يَوَدُّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ وَلَا الْمُشْرِكِينَ أَن يُنَزَّلَ عَلَيْكُم مِّنْ خَيْرٍ مِّن رَّبِّكُمْ ۗ وَاللَّهُ يَخْتَصُّ بِرَحْمَتِهِ مَن يَشَاءُ ۚ وَاللَّهُ ذُو الْفَضْلِ الْعَظِيمِ
তোমাদের উপর তোমাদের প্রভুর পক্ষ হতে কোন কল্যাণ অবতীর্ণ হোক এটা মুশরিকরা এবং কাফিররা মোটেই পছন্দ করে না, আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা করেন তাঁর করুণার জন্যে নির্দিষ্ট করে নেন, এবং আল্লাহ মহা করুণাময়।
১০৬ مَا نَنسَخْ مِنْ آيَةٍ أَوْ نُنسِهَا نَأْتِ بِخَيْرٍ مِّنْهَا أَوْ مِثْلِهَا ۗ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
আমি কোন আয়াত রহিত করলে কিংবা আয়াতটিকে বিস্মৃত করিয়ে দিলে তদাপেক্ষা উত্তম বা তদনুরূপ আনয়ন করি; তুমি কি জানো না যে, আল্লাহ সব বিষয়ের উপরেই ক্ষমতাবান?
১০৭ أَلَمْ تَعْلَمْ أَنَّ اللَّهَ لَهُ مُلْكُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۗ وَمَا لَكُم مِّن دُونِ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ
তুমি কি জানো না যে, আকাশ ও পৃথিবীর আধিপত্য আল্লাহরই, এবং আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের কোন বন্ধুও নেই এবং কোন সাহায্যকারীও নেই?
১০৮ أَمْ تُرِيدُونَ أَن تَسْأَلُوا رَسُولَكُمْ كَمَا سُئِلَ مُوسَىٰ مِن قَبْلُ ۗ وَمَن يَتَبَدَّلِ الْكُفْرَ بِالْإِيمَانِ فَقَدْ ضَلَّ سَوَاءَ السَّبِيلِ
তোমরা কি চাও যে, তোমাদের রাসূলের নিকট আবেদন করবে যেমন ইতিপূর্বে মূসার নিকট (হঠকারিতাবশতঃ এইরুপ বহু নিরর্থক) আবেদন করা হয়েছিল? আর যে ব্যক্তি ঈমানের পরিবর্তে কুফরী অবলম্বন করে নিশ্চয় সে সঠিক পথ হতে দূরে সরে পড়ে।
১০৯ وَدَّ كَثِيرٌ مِّنْ أَهْلِ الْكِتَابِ لَوْ يَرُدُّونَكُم مِّن بَعْدِ إِيمَانِكُمْ كُفَّارًا حَسَدًا مِّنْ عِندِ أَنفُسِهِم مِّن بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُمُ الْحَقُّ ۖ فَاعْفُوا وَاصْفَحُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
কিতাবীদের অনেকে তাদের প্রতি সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর তারা তাদের অন্তর্নিহিত বিদ্বেষবশতঃ তোমাদেরকে বিশ্বাস স্থাপনের পরে অবিশ্বাসী করতে ইচ্ছা করে; কিন্তু যে পর্যন্ত আল্লাহ স্বয়ং আদেশ আনয়ন না করেন, সে পর্যন্ত তোমরা ক্ষমা কর এবং উপেক্ষা করতে থাকো; নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়োপরি ক্ষমতাবান।
১১০ وَأَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَآتُوا الزَّكَاةَ ۚ وَمَا تُقَدِّمُوا لِأَنفُسِكُم مِّنْ خَيْرٍ تَجِدُوهُ عِندَ اللَّهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ بِمَا تَعْمَلُونَ بَصِيرٌ
আর তোমরা নামাজ প্রতিষ্ঠিত ও যাকাত প্রদান কর; এবং তোমরা স্ব স্ব জীবনের জন্যে যে সৎকর্ম অগ্রে প্রেরণ করেছো; তা আল্লাহর নিকট প্রাপ্ত হবে; তোমরা যা করছো নিশ্চয় আল্লাহ তার পরিদর্শক।
১১১ وَقَالُوا لَن يَدْخُلَ الْجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ ۗ تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ ۗ قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
এবং তারা বলেঃ যারা ইয়াহুদী বা খ্রিষ্টান হয়েছে তারা ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবিষ্ট হবে না, এটাই তাদের বাসনা; তুমি বলঃ যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।
১১২ بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُ أَجْرُهُ عِندَ رَبِّهِ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
অবশ্য যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্যে নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করেছে এবং সৎকর্মশীল হয়েছে, ফলতঃ তার জন্য তার প্রতিপালকের নিকট প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের জন্য কোন আশংকা নেই ও তারা সন্তপ্ত হবে না।
১১৩ وَقَالَتِ الْيَهُودُ لَيْسَتِ النَّصَارَىٰ عَلَىٰ شَيْءٍ وَقَالَتِ النَّصَارَىٰ لَيْسَتِ الْيَهُودُ عَلَىٰ شَيْءٍ وَهُمْ يَتْلُونَ الْكِتَابَ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ مِثْلَ قَوْلِهِمْ ۚ فَاللَّهُ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فِيمَا كَانُوا فِيهِ يَخْتَلِفُونَ
আর ইয়াহুদীগণ বলে যেঃ খ্রিস্টানেরা কোন (ধর্মীয়) বিষয়ের উপর নেই এবং খ্রিস্টানেরা বলে যে, ইয়াহূদীরাও কোন (ধর্মীয়) বিষয়ের উপর নেই; অথচ তারা গ্রন্থ পাঠ করে। এরূপ যারা জানে না, তারাও ওদের কথার অনুরূপ কথা বলে থাকে; অতএব যে বিষয়ে তারা মতভেদ করেছিলো, কিয়ামত দিবসে আল্লাহ তাদের মধ্যে তদ্বিষয়ে ফায়সালা করে দেবেন।
১১৪ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن مَّنَعَ مَسَاجِدَ اللَّهِ أَن يُذْكَرَ فِيهَا اسْمُهُ وَسَعَىٰ فِي خَرَابِهَا ۚ أُولَـٰئِكَ مَا كَانَ لَهُمْ أَن يَدْخُلُوهَا إِلَّا خَائِفِينَ ۚ لَهُمْ فِي الدُّنْيَا خِزْيٌ وَلَهُمْ فِي الْآخِرَةِ عَذَابٌ عَظِيمٌ
এবং যে কেউ আল্লাহর মসজিদ সমূহের মধ্যে তাঁর নাম উচ্চারণ করতে নিষেধ করেছে এবং তা ধ্বংস করতে প্রয়াস চালিয়েছে- তার অপেক্ষা কে অধিক অত্যাচারী? এ ধরনের ব্যক্তিদেরকে শঙ্কিত অবস্থায়ই তন্মধ্যে প্রবেশ করা উচিত; তাদের জন্যে ইহলোকের দুর্গতি এবং পরলোকে কঠোর শাস্তি রয়েছে।
১১৫ وَلِلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ فَأَيْنَمَا تُوَلُّوا فَثَمَّ وَجْهُ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ وَاسِعٌ عَلِيمٌ
আল্লাহর জন্যে পূর্ব ও পশ্চিম; অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফিরাও সে দিকেই আল্লাহর মুখ; কেননা আল্লাহ (সর্বদিক) পরিবেষ্টনকারী পূর্ণ জ্ঞানবান।
১১৬ وَقَالُوا اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا ۗ سُبْحَانَهُ ۖ بَل لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ كُلٌّ لَّهُ قَانِتُونَ
এবং তারা বলেঃ আল্লাহ সন্তান গ্রহণ করেছেন! তিনি তা থেকে পরম পবিত্র; বরং যা কিছু গগনে ও ভূমণ্ডলে রয়েছে তা তাঁরই জন্যে; সবই তাঁর আজ্ঞাধীন।
১১৭ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ وَإِذَا قَضَىٰ أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُن فَيَكُونُ
তিনি গগন ও ভূবনকে অনস্তিত্ব থেকে অস্তিত্বে আনয়নকারী এবং যখন তিনি কোন কার্য সম্পাদন করতে ইচ্ছা করেন, তখন তার জন্যে শুধু ‘হও’ বলেন, আর তাতেই তা হয়ে যায়।
১১৮ وَقَالَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ لَوْلَا يُكَلِّمُنَا اللَّهُ أَوْ تَأْتِينَا آيَةٌ ۗ كَذَٰلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّثْلَ قَوْلِهِمْ ۘ تَشَابَهَتْ قُلُوبُهُمْ ۗ قَدْ بَيَّنَّا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يُوقِنُونَ
এবং মূর্খেরা বলেঃ আল্লাহ আমাদের সাথে কেন কথা বলেন না- অথবা কেন আমাদের জন্যে কোন নিদর্শন উপস্থিত হয় না? এদের পূর্বে যারা ছিল তারাও এদের অনুরূপ কথা বলতো; তাদের সবারই অন্তর পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ; নিশ্চয় আমি বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্যে উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী বর্ণনা করি।
১১৯ إِنَّا أَرْسَلْنَاكَ بِالْحَقِّ بَشِيرًا وَنَذِيرًا ۖ وَلَا تُسْأَلُ عَنْ أَصْحَابِ الْجَحِيمِ
নিশ্চয় আমি তোমাকে সত্যসহ সুসংবাদদাতা ও ভয়প্রদর্শকরূপে (সতর্ককারীরূপে) প্রেরণ করেছি এবং তুমি দোযখবাসীদের সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে না।
১২০ وَلَن تَرْضَىٰ عَنكَ الْيَهُودُ وَلَا النَّصَارَىٰ حَتَّىٰ تَتَّبِعَ مِلَّتَهُمْ ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَىٰ ۗ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُم بَعْدَ الَّذِي جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ۙ مَا لَكَ مِنَ اللَّهِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ
এবং ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানগণ তুমি তাদের কর্ম অনুসরণ না করা পর্যন্ত তোমার প্রতি সন্তুষ্ট হবে না; তুমি বল- আল্লাহর প্রদর্শিত পথই সুপথ; এবং তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে তৎপর যদি তুমি তাদের প্রবৃত্তির অনুসরণ কর, তবে আল্লাহ হতে তোমার জন্যে কোনই অভিভাবক ও সাহায্যকারী নেই।
১২১ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَتْلُونَهُ حَقَّ تِلَاوَتِهِ أُولَـٰئِكَ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِهِ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
আমি তাদেরকে যে ধর্মগ্রন্থ দান করেছি তা যারা সত্যভাবে বুঝবার মত পাঠ করে তারাই এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছে; এবং যে কেউ এটা অবিশ্বাস করে ফলতঃ তারাই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
১২২ يَا بَنِي إِسْرَائِيلَ اذْكُرُوا نِعْمَتِيَ الَّتِي أَنْعَمْتُ عَلَيْكُمْ وَأَنِّي فَضَّلْتُكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ
হে বানী ইসরাঈল! আমি তোমাদেরকে যে নিয়ামত দান করেছি এবং নিশ্চয় আমি পৃথিবীর উপর তোমাদেরকে যে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি- তোমরা তা স্মরণ কর।
১২৩ وَاتَّقُوا يَوْمًا لَّا تَجْزِي نَفْسٌ عَن نَّفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا تَنفَعُهَا شَفَاعَةٌ وَلَا هُمْ يُنصَرُونَ
আর তোমরা ঐ দিবসের ভয় কর, যেদিন কোন ব্যক্তি কোন ব্যক্তি হতে কিছু মাত্র উপকৃত হবে না এবং কারো নিকট হতে বিনিময় গৃহীত হবে না, কারো শাফা’আত (সুপারিশ) ফলপ্রদ হবে না এবং তারা সাহায্য প্রাপ্ত হবে না।
১২৪ وَإِذِ ابْتَلَىٰ إِبْرَاهِيمَ رَبُّهُ بِكَلِمَاتٍ فَأَتَمَّهُنَّ ۖ قَالَ إِنِّي جَاعِلُكَ لِلنَّاسِ إِمَامًا ۖ قَالَ وَمِن ذُرِّيَّتِي ۖ قَالَ لَا يَنَالُ عَهْدِي الظَّالِمِينَ
এবং যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কতিপয় বাক্য দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে তিনি তা পূর্ণ করেছিলেন; তিনি (আল্লাহ) বলেছিলেনঃ নিশ্চয় আমি তোমাকে মানবমণ্ডলীর নেতা করবো; তিনি (ইব্রাহীম আঃ) বলেছিলেনঃ আমার বংশধরগণ হতেও; তিনি বলেছিলেনঃ আমার অঙ্গীকার অত্যাচারীদের প্রতি প্রযোজ্য হবে না।
১২৫ وَإِذْ جَعَلْنَا الْبَيْتَ مَثَابَةً لِّلنَّاسِ وَأَمْنًا وَاتَّخِذُوا مِن مَّقَامِ إِبْرَاهِيمَ مُصَلًّى ۖ وَعَهِدْنَا إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ أَن طَهِّرَا بَيْتِيَ لِلطَّائِفِينَ وَالْعَاكِفِينَ وَالرُّكَّعِ السُّجُودِ
এবং আমি কা’বাগৃহকে মানব জাতির জন্য মিলন কেন্দ্র এবং সুরক্ষিত স্থান করেছি এবং তোমরা মাকামে ইব্রাহীমকে নামাজের স্থান হিসেবে গ্রহণ কর এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাইলের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে, তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী ও ই’তিফাককারী এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্যে পবিত্র রেখো।
১২৬ وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ رَبِّ اجْعَلْ هَـٰذَا بَلَدًا آمِنًا وَارْزُقْ أَهْلَهُ مِنَ الثَّمَرَاتِ مَنْ آمَنَ مِنْهُم بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ قَالَ وَمَن كَفَرَ فَأُمَتِّعُهُ قَلِيلًا ثُمَّ أَضْطَرُّهُ إِلَىٰ عَذَابِ النَّارِ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
যখন ইব্রাহীম বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! এ স্থানকে আপনি নিরাপত্তাময় শহরে পরিণত করুন এবং এর অধিবাসীদের মধ্যে যারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করেছে, তাদেরকে উপজীবিকার জন্য ফল-শস্য প্রদান করুন, তিনি বলেন, যারা অবিশ্বাস করে তাদেরকে আমি অল্প দিন শান্তি দান করবো, তৎপরে তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি ভোগ করতে বাধ্য করবো, এটি নিকৃষ্টতম গন্তব্যস্থান!
১২৭ وَإِذْ يَرْفَعُ إِبْرَاهِيمُ الْقَوَاعِدَ مِنَ الْبَيْتِ وَإِسْمَاعِيلُ رَبَّنَا تَقَبَّلْ مِنَّا ۖ إِنَّكَ أَنتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
যখন ইব্রাহীম ও ইসমাইল কা’বার ভিত্তি উত্তোলন করছিলেন, (তখন বলেনঃ) হে আমাদের প্রতিপালক আমাদের পক্ষ হতে এটা গ্রহণ করুন, নিশ্চয় আপনি মহা শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
১২৮ رَبَّنَا وَاجْعَلْنَا مُسْلِمَيْنِ لَكَ وَمِن ذُرِّيَّتِنَا أُمَّةً مُّسْلِمَةً لَّكَ وَأَرِنَا مَنَاسِكَنَا وَتُبْ عَلَيْنَا ۖ إِنَّكَ أَنتَ التَّوَّابُ الرَّحِيمُ
হে আমাদের প্রভু! আমাদের উভয়কে আপনার অনুগত করুন এবং আমাদের বংশধরদের মধ্য হতেও আপনার অনুগত একদল লোক সৃষ্টি করুন, আর আমাদেরকে ইবাদতের আহকাম বলে দিন এবং আমাদের প্রতি ক্ষমাশীল হোন, নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, করুণাময়।
১২৯ رَبَّنَا وَابْعَثْ فِيهِمْ رَسُولًا مِّنْهُمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِكَ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَيُزَكِّيهِمْ ۚ إِنَّكَ أَنتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ
হে আমাদের প্রভু! সে দলে তাদেরই মধ্য হতে এমন একজন রাসূল প্রেরণ করুন যিনি তাদেরকে আপনার আয়াতসমূহ পাঠ করে শুনাবেন এবং তাদেরকে কিতাব ও সুন্নাহ শিক্ষা দান করবেন ও তাদেরকে পবিত্র করবেন। নিশ্চয়ই আপনি পরাক্রান্ত প্রজ্ঞাময়।
১৩০ وَمَن يَرْغَبُ عَن مِّلَّةِ إِبْرَاهِيمَ إِلَّا مَن سَفِهَ نَفْسَهُ ۚ وَلَقَدِ اصْطَفَيْنَاهُ فِي الدُّنْيَا ۖ وَإِنَّهُ فِي الْآخِرَةِ لَمِنَ الصَّالِحِينَ
এবং যে নিজেকে নির্বোধ করে তুলেছে সে ব্যতীত কে ইব্রাহীমের ধর্ম হতে বিমুখ হবে? এবং নিশ্চয়ই আমি তাকে এই পৃথিবীতে মনোনীত করেছিলাম, নিশ্চয় সে পরকালে সৎকর্মশীলগণের অন্তর্ভুক্ত।
১৩১ إِذْ قَالَ لَهُ رَبُّهُ أَسْلِمْ ۖ قَالَ أَسْلَمْتُ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
যখন তাঁর প্রভু তাঁকে বলেনঃ তুমি আনুগত্য স্বীকার কর; সে বলেছিলঃ আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের নিকট আত্মসমর্পণ করলাম।
১৩২ وَوَصَّىٰ بِهَا إِبْرَاهِيمُ بَنِيهِ وَيَعْقُوبُ يَا بَنِيَّ إِنَّ اللَّهَ اصْطَفَىٰ لَكُمُ الدِّينَ فَلَا تَمُوتُنَّ إِلَّا وَأَنتُم مُّسْلِمُونَ
আর ইব্রাহীম ও ইয়াকুব স্বীয় সন্তানগণকে সদুপদেশ প্রদান করেছিল হে আমার বংশধরঃ নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্যে এই (জীবন ব্যবস্থা) দ্বীন মনোনীত করেছেন, অতএব তোমরা মুসলমান না হয়ে মৃত্যুবরণ করো না।
১৩৩ أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ حَضَرَ يَعْقُوبَ الْمَوْتُ إِذْ قَالَ لِبَنِيهِ مَا تَعْبُدُونَ مِن بَعْدِي قَالُوا نَعْبُدُ إِلَـٰهَكَ وَإِلَـٰهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ إِلَـٰهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
যখন ইয়াকুবের মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন কি তোমরা উপস্থিত ছিলে? তখন তিনি নিজ পুত্রগণকে বলেছিলেন- আমার পরে তোমরা কোন জিনিসের ইবাদত করবে? তারা বলেছিলেন- আমরা তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের মা’বূদ- সে অদ্বিতীয় মা’বূদের ইবাদত করবো, এবং আমরা তাঁরই অনুগত থাকবো।
১৩৪ تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
ওটা একটা দল ছিল, যা অতীত হয়ে গেছে; তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের জন্যে এবং তোমরা যা অর্জন করেছো তা তোমাদের জন্যে এবং তারা যা করে গেছে তজ্জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।
১৩৫ وَقَالُوا كُونُوا هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ تَهْتَدُوا ۗ قُلْ بَلْ مِلَّةَ إِبْرَاهِيمَ حَنِيفًا ۖ وَمَا كَانَ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
এবং তারা বলে যেঃ তোমরা ইয়াহূদী অথবা খৃষ্টান হও তবেই সুপথ প্রাপ্ত হবে, তুমি বলঃ বরং আমরা ইব্রাহীমের সুদৃঢ় ধর্মের অনুসরণ করি এবং তিনি অংশীবাদীদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না।
১৩৬ قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنزِلَ إِلَيْنَا وَمَا أُنزِلَ إِلَىٰ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَىٰ وَعِيسَىٰ وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِن رَّبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
তোমরা বলঃ আমরা আল্লাহর প্রতি এবং যা আমাদের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, আর যা হযরত ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাদের বংশধরের প্রতি অবতীর্ণ হয়েছিল এবং মূসা ও ঈসা কে যা প্রদান করা হয়েছিল এবং অন্যান্য নবীগণ তাদের প্রভু হতে যা প্রদত্ত হয়েছিলেন, তদ সমুদের উপর বিশ্বাস স্থাপন করছি, তাদের মধ্যে কাউকেও আমরা বিভেদ করি না, এবং আমরা তাঁরই প্রতি আত্মসমর্পণকারী।
১৩৭ فَإِنْ آمَنُوا بِمِثْلِ مَا آمَنتُم بِهِ فَقَدِ اهْتَدَوا ۖ وَّإِن تَوَلَّوْا فَإِنَّمَا هُمْ فِي شِقَاقٍ ۖ فَسَيَكْفِيكَهُمُ اللَّهُ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
অনন্তর তোমরা যেরূপ বিশ্বাস স্থাপন করেছ, তারাও যদি তদ্রুপ বিশ্বাস স্থাপন করে, তবে নিশ্চয় তারা সুপথ প্রাপ্ত হবে; এবং যদি তারা ফিরে যায় তবে তারা বিচ্ছিন্নতাবাদী। অতএব এখন তাদের ব্যাপারে আপনার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট এবং তিনিই মহাশ্রবনকারী, মহাজ্ঞানী।
১৩৮ صِبْغَةَ اللَّهِ ۖ وَمَنْ أَحْسَنُ مِنَ اللَّهِ صِبْغَةً ۖ وَنَحْنُ لَهُ عَابِدُونَ
আল্লাহর রং গ্রহণ করো, আল্লাহর রং-এর চাইতে উত্তম রং আর কার হতে পারে? এবং আমরা তাঁরই ইবাদতকারী।
১৩৯ قُلْ أَتُحَاجُّونَنَا فِي اللَّهِ وَهُوَ رَبُّنَا وَرَبُّكُمْ وَلَنَا أَعْمَالُنَا وَلَكُمْ أَعْمَالُكُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُخْلِصُونَ
তুমি বলঃ তোমরা কি আল্লাহ সম্বন্ধে আমাদের সঙ্গে বিরোধ করছো? অথচ তিনিই আমাদের প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক, এবং আমাদের জন্যে আমাদের কার্যসমূহ এবং তোমাদের জন্যে তোমাদের কার্যসমূহ এবং আমরা তাঁরই জন্যে নিবেদিত।
১৪০ أَمْ تَقُولُونَ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطَ كَانُوا هُودًا أَوْ نَصَارَىٰ ۗ قُلْ أَأَنتُمْ أَعْلَمُ أَمِ اللَّهُ ۗ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَادَةً عِندَهُ مِنَ اللَّهِ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
তোমরা কি বলছো যে, ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁদের বংশধর ইয়াহূদী কিংবা খৃস্টান ছিলেন? তুমি বলঃ তোমরাই সঠিক জ্ঞানী না আল্লাহ? আল্লাহর নিকট হতে প্রাপ্ত সাক্ষ্য যে ব্যক্তি গোপন করছে সে অপেক্ষা কে বেশি অত্যাচারী? এবং তোমরা যা করছো তা হতে আল্লাহ অমনোযোগী নন।
১৪১ تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْأَلُونَ عَمَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তারা একটি জামা’আত ছিল যা বিগত হয়েছে; তারা যা অর্জন করেছে তা তাঁদের জন্যে এবং তোমরা যা অর্জন করেছো তা তোমাদের জন্যে এবং তারা যা করে গেছে তদ্বিষয়ে তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।
১৪২ سَيَقُولُ السُّفَهَاءُ مِنَ النَّاسِ مَا وَلَّاهُمْ عَن قِبْلَتِهِمُ الَّتِي كَانُوا عَلَيْهَا ۚ قُل لِّلَّهِ الْمَشْرِقُ وَالْمَغْرِبُ ۚ يَهْدِي مَن يَشَاءُ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
মানবমণ্ডলীর ভিতর থেকে কিছু নির্বোধ লোক অচিরেই বলবে যে, কিসে তাদেরকে সেই কেবলা হতে ফিরিয়ে দিলো, যার দিকে তারা ছিল? তুমি বলে দাওঃ পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহর জন্যে, তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথ-প্রদর্শন করেন।
১৪৩ وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَاكُمْ أُمَّةً وَسَطًا لِّتَكُونُوا شُهَدَاءَ عَلَى النَّاسِ وَيَكُونَ الرَّسُولُ عَلَيْكُمْ شَهِيدًا ۗ وَمَا جَعَلْنَا الْقِبْلَةَ الَّتِي كُنتَ عَلَيْهَا إِلَّا لِنَعْلَمَ مَن يَتَّبِعُ الرَّسُولَ مِمَّن يَنقَلِبُ عَلَىٰ عَقِبَيْهِ ۚ وَإِن كَانَتْ لَكَبِيرَةً إِلَّا عَلَى الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ ۗ وَمَا كَانَ اللَّهُ لِيُضِيعَ إِيمَانَكُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ بِالنَّاسِ لَرَءُوفٌ رَّحِيمٌ
এভাবে আমি তোমাদেরকে মধ্যপন্থী ন্যায়পরায়ণ উম্মত করেছি যেন তোমরা মানবগণের জন্যে সাক্ষী হও এবং রাসূল ও তোমাদের জন্যে সাক্ষী হয়, এবং তুমি যে কেবলার দিকে ছিলে, তা আমি এজন্যে নির্ধারণ করেছিলাম যে, কে রাসূলের অনুসরণ করে আর কে তা হতে স্বীয় পদদ্বয়ের গোড়ালী প্রদর্শন করিয়ে ফিরে যায় আমি তা জেনে নেবো এবং আল্লাহ যাদেরকে সৎপথ প্রদর্শন করেছেন তারা ছাড়া অপরের জন্য এটা অবশ্যই কঠোরতর; এবং আল্লাহ এরূপ নন যে, তোমাদের ঈমান (নামায) বিনষ্ট করবেন। নিশ্চয় আল্লাহ মানবগণের প্রতি স্নেহশীল করুণাময়।
১৪৪ قَدْ نَرَىٰ تَقَلُّبَ وَجْهِكَ فِي السَّمَاءِ ۖ فَلَنُوَلِّيَنَّكَ قِبْلَةً تَرْضَاهَا ۚ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ ۗ وَإِنَّ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ لَيَعْلَمُونَ أَنَّهُ الْحَقُّ مِن رَّبِّهِمْ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ
নিশ্চয় আমি আকাশের দিকে তোমার মুখমুন্ডল উত্তোলন অবলোকন করছি। তাই আমি তোমাকে ঐ কিবলাহ মুখীই করবো যা তুমি কামনা করছো; অতএব তুমি মসজিদে হারামের দিকে (কা’বার দিকে) তোমার মুখমণ্ডল ফিরিয়ে নাও এবং তোমরা যেখানে আছো তোমাদের মুখ সেদিকেই প্রত্যাবর্তিত কর; এবং নিশ্চয় যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে তারা অবশ্যই অবগত আছে যে, নিশ্চয় এটা তাঁদের প্রতিপালকের নিকট হতে সত্য এবং তারা যা করছে তদ্বিষয়ে আল্লাহ অমনোযোগী নন।
১৪৫ وَلَئِنْ أَتَيْتَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ بِكُلِّ آيَةٍ مَّا تَبِعُوا قِبْلَتَكَ ۚ وَمَا أَنتَ بِتَابِعٍ قِبْلَتَهُمْ ۚ وَمَا بَعْضُهُم بِتَابِعٍ قِبْلَةَ بَعْضٍ ۚ وَلَئِنِ اتَّبَعْتَ أَهْوَاءَهُم مِّن بَعْدِ مَا جَاءَكَ مِنَ الْعِلْمِ ۙ إِنَّكَ إِذًا لَّمِنَ الظَّالِمِينَ
এবং যাদেরকে কিতাব প্রদান করা হয়েছে তাঁদের নিকট যদি তুমি সমুদয় নিদর্শন আনয়ন কর, তবুও তারা তোমার কিবলাহকে গ্রহণ করবে না; এবং তুমিও তাঁদের কিবলাহ গ্রহণ করতে পার না, আর না তারা পরস্পর একজন অন্যজনের কিবলার অনুসারী এবং তোমার নিকট যে জ্ঞান এসেছে এর প্রেও যদি তুমি তাঁদের প্রবৃত্তির অনুসরণ কর, তবে নিশ্চয় তুমি অত্যাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
১৪৬ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمْ ۖ وَإِنَّ فَرِيقًا مِّنْهُمْ لَيَكْتُمُونَ الْحَقَّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ
যাদেরকে আমি কিতাব প্রদান করেছি, তারা রাসূলুল্লাহ-কে এরূপ ভাবে চিনে, যেমন চিনে, তারা আপন পুত্রদেরকে এবং নিশ্চয় তাদের একদল জ্ঞাতসারে সত্যকে গোপন করছে।
১৪৭ الْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۖ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ
এক বাস্তব সত্য তোমার প্রতিপালকের পক্ষ্য হতে; সুতরাং তুমি সংশয়ীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।
১৪৮ وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا ۖ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ ۚ أَيْنَ مَا تَكُونُوا يَأْتِ بِكُمُ اللَّهُ جَمِيعًا ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
প্রত্যেকের জন্যে এক একটি লক্ষ্যস্থল রয়েছে, ঐদিকেই সে মুখমণ্ডল প্রত্যাবর্তিত করে, অতএব তোমরা কল্যাণের দিকে ধাবিত হও; তোমরা যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকেই একত্রিত করবেন, নিশ্চয় আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান।
১৪৯ وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۖ وَإِنَّهُ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۗ وَمَا اللَّهُ بِغَافِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
এবং তুমি যেখান হতেই বের হবে, তোমার মুখ মসজিদে হারামের দিকে প্রত্যাবর্তিত কর এবং নিশ্চয় এটাই তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে সত্য, এবং তোমরা যা করছো তদ্বিষয়ে আল্লাহ অমনোযোগী নন।
১৫০ وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ وَحَيْثُ مَا كُنتُمْ فَوَلُّوا وُجُوهَكُمْ شَطْرَهُ لِئَلَّا يَكُونَ لِلنَّاسِ عَلَيْكُمْ حُجَّةٌ إِلَّا الَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْهُمْ فَلَا تَخْشَوْهُمْ وَاخْشَوْنِي وَلِأُتِمَّ نِعْمَتِي عَلَيْكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَهْتَدُونَ
আর তুমি যেখান হতেই বের হও না কেন, তোমার মুখ মসজিদে হারামের দিকে ফিরাও এবং তোমরাও যে যেখানে আছ তোমাদের মুখমণ্ডল সেদিকেই প্রত্যাবর্তিত কর যেন তাঁদের অন্তর্গত অত্যাচারীগণ ব্যতীত অন্য কেউ তোমাদের সাথে বিতর্ক করতে না পারে, অতএব তোমরা তাদেরকে ভয় করো না এবং আমাকেই ভয় কর যেন আমি তোমাদের উপর আমার অনুগ্রহ পূর্ণ করি এবং যেন তোমরা সুপথপ্রাপ্ত হও।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x