০২০. সূরাঃ ত্বা-হা

আয়াত অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১৩৫
রুকূঃ ০৮
০০১ طه
ত্বা-হা-।
০০২ مَا أَنزَلْنَا عَلَيْكَ الْقُرْآنَ لِتَشْقَىٰ
তোমাকে কষ্ট দেয়ার জন্যে আমি তোমার প্রতি কুরআন অবতীর্ণ করি নি।
০০৩ إِلَّا تَذْكِرَةً لِّمَن يَخْشَىٰ
বরং যে (আল্লাহকে) ভয় করে তাদের উপদেশার্থে।
০০৪ تَنزِيلًا مِّمَّنْ خَلَقَ الْأَرْضَ وَالسَّمَاوَاتِ الْعُلَى
যিনি সমুচ্চ আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এটা তাঁর নিকট হতে অবতীর্ণ।
০০৫ الرَّحْمَـٰنُ عَلَى الْعَرْشِ اسْتَوَىٰ
দয়াময় (আল্লাহ) আরশের সমুন্নীত।
০০৬ لَهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا وَمَا تَحْتَ الثَّرَىٰ
যা আছে আকাশমণ্ডলীতে, পৃথিবীতে, এই দু’য়ের অন্তর্বর্তী স্থানে ও ভূ-গর্ভে তা তাঁরই।
০০৭ وَإِن تَجْهَرْ بِالْقَوْلِ فَإِنَّهُ يَعْلَمُ السِّرَّ وَأَخْفَى
তুমি উচ্চ কন্ঠে যা-ই বল, তিনি তো যা গুপ্ত ও অতি গোপন সবই জানেন।
০০৮ اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ لَهُ الْأَسْمَاءُ الْحُسْنَىٰ
আল্লাহ, তিনি ছাড়া অন্য কোন (সত্য) মা’বূদ নেই, উত্তম (হবার) উত্তম নাম তাঁরই।
০০৯ وَهَلْ أَتَاكَ حَدِيثُ مُوسَىٰ
আর মূসার (আঃ) বৃত্তান্ত তোমার কাছে পৌঁছেছে কি?
০১০ إِذْ رَأَىٰ نَارًا فَقَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّي آتِيكُم مِّنْهَا بِقَبَسٍ أَوْ أَجِدُ عَلَى النَّارِ هُدًى
তিনি যখন আগুন দেখলেন তখন তাঁর পরিবারবর্গকে বললেনঃ তোমরা এখানে থাকো আমি আগুন দেখেছি; সম্ভবতঃ আমি তোমাদের জন্যে তা হতে কিছু জ্বলন্ত অঙ্গার আনতে পারবো অথবা ওর নিকট কোন পথ-প্রদর্শক পাবো।
০১১ فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ يَا مُوسَىٰ
অতঃপর যখন তিনি আগুনের নিকট আসলেন তখন আহ্বান করে বলা হলঃ হে মূসা (আঃ)!
০১২ إِنِّي أَنَا رَبُّكَ فَاخْلَعْ نَعْلَيْكَ ۖ إِنَّكَ بِالْوَادِ الْمُقَدَّسِ طُوًى
আমিই তোমার প্রতিপালক, অতএব তোমার জুতা খুলে ফেলো, কারণ তুমি পবিত্র তুওয়া উপত্যকায় রয়েছ।
০১৩ وَأَنَا اخْتَرْتُكَ فَاسْتَمِعْ لِمَا يُوحَىٰ
এবং আমি তোমাকে মনোনীত করেছি; অতএব যা ওহী প্রেরণ করা হচ্ছে তুমি তো মনোযোগের সাথে শ্রবণ কর।
০১৪ إِنَّنِي أَنَا اللَّهُ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا أَنَا فَاعْبُدْنِي وَأَقِمِ الصَّلَاةَ لِذِكْرِي
আমিই আল্লাহ, আমি ছাড়া সত্য কোন মা’বূদ নেই; অতএব আমার ইবাদত কর এবং আমার স্মরণার্থে নামায কায়েম কর।
০১৫ إِنَّ السَّاعَةَ آتِيَةٌ أَكَادُ أُخْفِيهَا لِتُجْزَىٰ كُلُّ نَفْسٍ بِمَا تَسْعَىٰ
কিয়ামত অবশ্যম্ভাবী, আমি এটা গোপন রাখতে চাই যাতে প্রত্যেকেই নিজ কর্মানুযায়ী ফল লাভ করতে পারে।
০১৬ فَلَا يَصُدَّنَّكَ عَنْهَا مَن لَّا يُؤْمِنُ بِهَا وَاتَّبَعَ هَوَاهُ فَتَرْدَىٰ
সুতরাং যে ব্যক্তি কিয়ামতে বিশ্বাস করে না ও নিজ প্রবৃত্তির অনুসরণ করে, সে যেন তোমাকে কিয়ামতে বিশ্বাস স্থাপন হতে বিরত না রাখে, এতে তুমি ধ্বংস হয়ে যাবে।
০১৭ وَمَا تِلْكَ بِيَمِينِكَ يَا مُوسَىٰ
(আল্লাহ বলেন) হে মূসা (আঃ) তোমার ডান হাতে ওটা কি?
০১৮ قَالَ هِيَ عَصَايَ أَتَوَكَّأُ عَلَيْهَا وَأَهُشُّ بِهَا عَلَىٰ غَنَمِي وَلِيَ فِيهَا مَآرِبُ أُخْرَىٰ
তিনি বললেনঃ এটা আমার লাঠি; আমি এতে ভর দিই এবং এটা দ্বারা আঘাত করে আমি আমার মেষ পালের জন্যে বৃক্ষ পত্র ফেলে থাকি এবং এটা আমার অন্যান্য কাজেও লাগে।
০১৯ قَالَ أَلْقِهَا يَا مُوسَىٰ
(আল্লাহ) বললেনঃ হে মূসা (আঃ)! তুমি এটা নিক্ষেপ কর।
০২০ فَأَلْقَاهَا فَإِذَا هِيَ حَيَّةٌ تَسْعَىٰ
অতঃপর সে তা নিক্ষেপ করলো, সাথে সাথে তা সাপ হয়ে ছুটতে লাগল।
০২১ قَالَ خُذْهَا وَلَا تَخَفْ ۖ سَنُعِيدُهَا سِيرَتَهَا الْأُولَىٰ
তিনি বললেনঃ তুমি একে ধর, ভয় করো না, আমি একে এর পূর্ব রূপে ফিরিয়ে দিব।
০২২ وَاضْمُمْ يَدَكَ إِلَىٰ جَنَاحِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ آيَةً أُخْرَىٰ
এবং তুমি তোমার হাত বগলে রাখো, এটা বের হয়ে আসবে উজ্জ্বল হয়ে কোন দোষ ছাড়াই অপর এক নিদর্শন হয়ে।
০২৩ لِنُرِيَكَ مِنْ آيَاتِنَا الْكُبْرَى
এটা এজন্যে যে, আমি তোমাকে দেখাবো আমার মহা নিদর্শনগুলির কিছু।
০২৪ اذْهَبْ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَىٰ
ফির’আউনের নিকট যাও, সে সীমালঙ্ঘন করেছে।
০২৫ قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي
(মূসা আঃ) বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিন।
০২৬ وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي
এবং আমার কর্ম সহজ করে দিন।
০২৭ وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّن لِّسَانِي
আমার জিহ্বার জড়তা দূর করে দিন।
০২৮ يَفْقَهُوا قَوْلِي
যাতে তারা আমার কথা বুঝতে পারে।
০২৯ وَاجْعَل لِّي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي
আমার জন্যে করে দিন একজন সাহায্যকারী, আমার স্বজনবর্গের মধ্য হতে।
০৩০ هَارُونَ أَخِي
আমার ভাই হারূনকে (আঃ)।
০৩১ اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي
তার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় করুন।
০৩২ وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي
এবং তাকে আমার কর্মে অংশী করুন।
০৩৩ كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا
যাতে আমরা আপনার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি প্রচুর।
০৩৪ وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا
এবং আপনাকে স্মরণ করতে পারা অধিক।
০৩৫ إِنَّكَ كُنتَ بِنَا بَصِيرًا
আপনি তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।
০৩৬ قَالَ قَدْ أُوتِيتَ سُؤْلَكَ يَا مُوسَىٰ
তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ হে মূসা (আঃ)! তুমি যা চেয়েছো তা তোমাকে দেয়া হল।
০৩৭ وَلَقَدْ مَنَنَّا عَلَيْكَ مَرَّةً أُخْرَىٰ
এবং আমি তো তোমার প্রতি আরো একবার অনুগ্রহ করেছিলাম।
০৩৮ إِذْ أَوْحَيْنَا إِلَىٰ أُمِّكَ مَا يُوحَىٰ
যখন আমি তোমার মাতার কাছে ইহলাম (অন্তরে কোন কিছু সৃষ্টি করে দেয়া) করলাম, যা ইলহাম করার ছিল।
০৩৯ أَنِ اقْذِفِيهِ فِي التَّابُوتِ فَاقْذِفِيهِ فِي الْيَمِّ فَلْيُلْقِهِ الْيَمُّ بِالسَّاحِلِ يَأْخُذْهُ عَدُوٌّ لِّي وَعَدُوٌّ لَّهُ ۚ وَأَلْقَيْتُ عَلَيْكَ مَحَبَّةً مِّنِّي وَلِتُصْنَعَ عَلَىٰ عَيْنِي
এই মর্মে যে, তুমি তাকে সিন্ধুকের মধ্যে রাখো, অতঃপর তা দরিয়ায় ভাসিয়ে দাও যাতে দরিয়া ওকে তীরে ঠেলে দেয়, ওকে আমার শত্রু ও তার শত্রু নিয়ে যাবে; আমি আমার নিকট হতে তোমার উপর ভালবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম, যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও।
০৪০ إِذْ تَمْشِي أُخْتُكَ فَتَقُولُ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ مَن يَكْفُلُهُ ۖ فَرَجَعْنَاكَ إِلَىٰ أُمِّكَ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ ۚ وَقَتَلْتَ نَفْسًا فَنَجَّيْنَاكَ مِنَ الْغَمِّ وَفَتَنَّاكَ فُتُونًا ۚ فَلَبِثْتَ سِنِينَ فِي أَهْلِ مَدْيَنَ ثُمَّ جِئْتَ عَلَىٰ قَدَرٍ يَا مُوسَىٰ
যখন তোমার ভগ্নি এসে বললঃ আমি কি তোমাদেরকে বলব কে এই শিশুর ভার নেবে? তখন আমি তোমাকে তোমার মায়ের নিকট ফিরিয়ে দিলাম যাতে তার চক্ষু জুড়ায় এবং সে চিন্তিত না হয় এবং তুমি এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছিলে; অতঃপর আমি তোমাকে মনঃপীড়া হতে মুক্তি দিই, আমি তোমাকে বহু পরীক্ষা করেছি। অতঃপর তুমি কয়েক বছর মাদইয়ানবাসীদের মধ্যে ছিলে, হে মূসা (আঃ)! এর পরে তুমি নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলে।
০৪১ وَاصْطَنَعْتُكَ لِنَفْسِي
এবং আমি তোমাকে আমার নিজের (কর্মের) জন্যে প্রস্তুত করে নিয়েছি।
০৪২ اذْهَبْ أَنتَ وَأَخُوكَ بِآيَاتِي وَلَا تَنِيَا فِي ذِكْرِي
তুমি ও তোমার ভাই আমার নিদর্শনসমূহসহ যাত্রা শুরু কর এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করো না।
০৪৩ اذْهَبَا إِلَىٰ فِرْعَوْنَ إِنَّهُ طَغَىٰ
তোমরা দু’জন ফিরাউনের নিকট যাও, সে তো সীমালঙ্ঘন করেছে।
০৪৪ فَقُولَا لَهُ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهُ يَتَذَكَّرُ أَوْ يَخْشَىٰ
তোমরা তার সাথে নম্র কথা বলবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করবে, অথবা ভয় করবে।
০৪৫ قَالَا رَبَّنَا إِنَّنَا نَخَافُ أَن يَفْرُطَ عَلَيْنَا أَوْ أَن يَطْغَىٰ
তারা বললঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আশঙ্কা করছি যে, সে আমাদেরকে শাস্তি দিবে অথবা সীমালঙ্ঘন করবে।
০৪৬ قَالَ لَا تَخَافَا ۖ إِنَّنِي مَعَكُمَا أَسْمَعُ وَأَرَىٰ
তিনি বললেনঃ তোমরা ভয় করো না, আমি তো তোমাদের সঙ্গে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি।
০৪৭ فَأْتِيَاهُ فَقُولَا إِنَّا رَسُولَا رَبِّكَ فَأَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ وَلَا تُعَذِّبْهُمْ ۖ قَدْ جِئْنَاكَ بِآيَةٍ مِّن رَّبِّكَ ۖ وَالسَّلَامُ عَلَىٰ مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَىٰ
সুতরাং তোমরা তার নিকট যাও এবং বলঃ অবশ্যই আমরা তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল, সুতরাং আমাদের সাথে বানী ইসরাঈলকে যেতে দাও এবং তাদেরকে কষ্ট দিয়ো না, আমরা তো তোমার নিকট এনেছি তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে নিদর্শন এবং শান্তি তাদের প্রতি যারা সৎ পথের অনুসরণ করে।
০৪৮ إِنَّا قَدْ أُوحِيَ إِلَيْنَا أَنَّ الْعَذَابَ عَلَىٰ مَن كَذَّبَ وَتَوَلَّىٰ
আমাদের প্রতি ওহী প্রেরণ করা হয়েছে যে, শাস্তি তার জন্যে, যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরিয়ে নেয়।
০৪৯ قَالَ فَمَن رَّبُّكُمَا يَا مُوسَىٰ
ফিরআ’উন বললঃ হে মূসা (আঃ)! কে তোমাদের প্রতিপালক?
০৫০ قَالَ رَبُّنَا الَّذِي أَعْطَىٰ كُلَّ شَيْءٍ خَلْقَهُ ثُمَّ هَدَىٰ
মূসা (আঃ) বললেনঃ আমাদের প্রতিপালক তিনি যিনি প্রত্যেক বস্তুকে তার যোগ্য আকৃতি দান করেছেন, অতঃপর পথ নির্দেশ করেছেন।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x