০১৮. সূরাঃ কাহফ

আয়াতঅবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১১০
রুকূঃ ১২
০৫১مَّا أَشْهَدتُّهُمْ خَلْقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلَا خَلْقَ أَنفُسِهِمْ وَمَا كُنتُ مُتَّخِذَ الْمُضِلِّينَ عَضُدًا
আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর সৃষ্টিকালে আমি তাদেরকে ডাকি নাই এবং তাদের সৃজনকালেও নয়, এবং আমি বিভ্রান্তকারীদের সাহায্য গ্রহণ করবার নই।
০৫২وَيَوْمَ يَقُولُ نَادُوا شُرَكَائِيَ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ فَدَعَوْهُمْ فَلَمْ يَسْتَجِيبُوا لَهُمْ وَجَعَلْنَا بَيْنَهُم مَّوْبِقًا
এবং (সেদিনের কথা স্মরণ কর) যেদিন তিনি বলবেনঃ ‘তোমরা যাদেরকে আমার শরীক মনে করতে তাদেরকে আহ্বান কর! তারা তখন তাদেরকে আহ্বান করবে; কিন্তু তারা তাদের আহ্বানে সাড়া দিবে না এবং আমি তাদেরকে উভয়ের মধ্যস্থলে রেখে দিবো এক ধ্বংস গহ্বর।
০৫৩وَرَأَى الْمُجْرِمُونَ النَّارَ فَظَنُّوا أَنَّهُم مُّوَاقِعُوهَا وَلَمْ يَجِدُوا عَنْهَا مَصْرِفًا
অপরাধীরা আগুন দেখে বুঝবে যে তারা সেখানে পতিত হচ্ছে এবং তারা ওটা হতে কোন পরিত্রাণ স্থল পাবে না।
০৫৪وَلَقَدْ صَرَّفْنَا فِي هَـٰذَا الْقُرْآنِ لِلنَّاسِ مِن كُلِّ مَثَلٍ ۚ وَكَانَ الْإِنسَانُ أَكْثَرَ شَيْءٍ جَدَلًا
আমি মানুষের জন্যে এই কুরআনে বিভিন্ন উপমার দ্বারা আমার বাণী বিশদভাবে বর্ণনা করেছি; মানুষ অধিকাংশ ব্যাপারেই বিতর্ক প্রিয়।
০৫৫وَمَا مَنَعَ النَّاسَ أَن يُؤْمِنُوا إِذْ جَاءَهُمُ الْهُدَىٰ وَيَسْتَغْفِرُوا رَبَّهُمْ إِلَّا أَن تَأْتِيَهُمْ سُنَّةُ الْأَوَّلِينَ أَوْ يَأْتِيَهُمُ الْعَذَابُ قُبُلًا
যখন তাদের কাছে পথ-নির্দেশ আসে তখন তাদের পূর্ববর্তীদের অবস্থা তাদের কখন হবে অথবা কখন উপস্থিত হবে বিবিধ শাস্তি এই প্রতীক্ষাই তাদেরকে বিশ্বাস স্থাপন হতে ও তাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা হতে বিরত রাখে।
০৫৬وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ ۚ وَيُجَادِلُ الَّذِينَ كَفَرُوا بِالْبَاطِلِ لِيُدْحِضُوا بِهِ الْحَقَّ ۖ وَاتَّخَذُوا آيَاتِي وَمَا أُنذِرُوا هُزُوًا
আমি শুধু সুসংবাদ দাতা ও সতর্ককারীরূপেই রাসূলদেরকে পাঠিয়ে থাকি; কিন্তু সত্য প্রত্যাখ্যানকারীরা মিথ্যা অবলম্বনে বিতণ্ডা করে তা দ্বারা সত্যকে ব্যর্থ করে দেয়ার জন্যে এবং আমার নিদর্শনাবলী ও যার দ্বারা তাদেরকে সতর্ক করা হয়েছে সেসবকে তারা বিদ্রুপের বিষয়রূপে পরিণত করে থাকে।
০৫৭وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّن ذُكِّرَ بِآيَاتِ رَبِّهِ فَأَعْرَضَ عَنْهَا وَنَسِيَ مَا قَدَّمَتْ يَدَاهُ ۚ إِنَّا جَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا ۖ وَإِن تَدْعُهُمْ إِلَى الْهُدَىٰ فَلَن يَهْتَدُوا إِذًا أَبَدًا
কোন ব্যক্তিকে তার প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী স্মরণ করিয়ে দেয়ার পর সে তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং তার কৃতকর্মসহ ভুলে যায়, তবে তার অপেক্ষা অধিক অত্যাচারী আর কে? আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ দিয়েছি যেন তারা কুরআন বুঝতে না পারে এবং তাদেরকে বধির করেছি; তুমি তাদেরকে সৎপথে আহ্বান করলেও তারা কখনো সৎপথে আসবে না।
০৫৮وَرَبُّكَ الْغَفُورُ ذُو الرَّحْمَةِ ۖ لَوْ يُؤَاخِذُهُم بِمَا كَسَبُوا لَعَجَّلَ لَهُمُ الْعَذَابَ ۚ بَل لَّهُم مَّوْعِدٌ لَّن يَجِدُوا مِن دُونِهِ مَوْئِلًا
এবং তোমার প্রতিপালক ক্ষমাশীল দয়াবান, তাদের কৃতকর্মের জন্যে তিনি তাদেরকে শাস্তি দিতে চাইলে তিনি তাদের শাস্তি খুব তাড়াতাড়ি পাঠাতেন; কিন্তু তাদের জন্যে রয়েছে এক প্রতিশ্রুতি মুহূর্ত, যা হতে তাদের পরিত্রাণ নেই।
০৫৯وَتِلْكَ الْقُرَىٰ أَهْلَكْنَاهُمْ لَمَّا ظَلَمُوا وَجَعَلْنَا لِمَهْلِكِهِم مَّوْعِدًا
ঐসব জনপদ তাদের অধিবাসীবৃন্দকে আমি ধ্বংস করেছিলাম যখন তারা সীমালঙ্ঘন করেছিল এবং তাদের ধ্বংসের জন্যে আমি স্থির করেছিলাম এক নির্দিষ্ট ক্ষণ।
০৬০وَإِذْ قَالَ مُوسَىٰ لِفَتَاهُ لَا أَبْرَحُ حَتَّىٰ أَبْلُغَ مَجْمَعَ الْبَحْرَيْنِ أَوْ أَمْضِيَ حُقُبًا
(স্মরণ কর! সে সময়ের কথা), যখন মূসা (আঃ) তার সঙ্গীকে বলেছিলেনঃ দুই সমুদ্রের মিলনস্থলে (মোহনায়) না পৌঁছা পর্যন্ত আমি থামবো না, আমি যুগ যুগ ধরে চলতে থাকবো।
০৬১فَلَمَّا بَلَغَا مَجْمَعَ بَيْنِهِمَا نَسِيَا حُوتَهُمَا فَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ سَرَبًا
তারা যখন উভয়ের মিলন স্থলে পৌঁছলেন, তারা নিজেদের মাছের কথা ভুলে গেলেন; ওটা সুড়ঙ্গের মত পথ করে সমুদ্রে নেমে গেল।
০৬২فَلَمَّا جَاوَزَا قَالَ لِفَتَاهُ آتِنَا غَدَاءَنَا لَقَدْ لَقِينَا مِن سَفَرِنَا هَـٰذَا نَصَبًا
যখন তাঁরা আরো অগ্রসর হলেন মূসা (আঃ) তার সঙ্গীকে বললেনঃ আমাদের নাস্তা আন, আমরা তো আমাদের এই সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
০৬৩قَالَ أَرَأَيْتَ إِذْ أَوَيْنَا إِلَى الصَّخْرَةِ فَإِنِّي نَسِيتُ الْحُوتَ وَمَا أَنسَانِيهُ إِلَّا الشَّيْطَانُ أَنْ أَذْكُرَهُ ۚ وَاتَّخَذَ سَبِيلَهُ فِي الْبَحْرِ عَجَبًا
তিনি বললেনঃ আপনি কি লক্ষ্য করেছেন, আমরা যখন শিলাখন্ডে বিশ্রাম করছিলাম তখন আমি মাছের কথা ভুলে গিয়েছিলাম? শয়তানই ওর কথা বলতে আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল; মাছটি আশ্চর্যজনকভাবে নিজের পথ করে নেমে গেল সমুদ্রে।
০৬৪قَالَ ذَٰلِكَ مَا كُنَّا نَبْغِ ۚ فَارْتَدَّا عَلَىٰ آثَارِهِمَا قَصَصًا
মূসা (আঃ) বললঃ আমরা তো এই স্থানটির অনুসন্ধান করছিলাম; অতঃপর তারা নিজেদের পদচিহ্ন ধরে ফিরে চললেন।
০৬৫فَوَجَدَا عَبْدًا مِّنْ عِبَادِنَا آتَيْنَاهُ رَحْمَةً مِّنْ عِندِنَا وَعَلَّمْنَاهُ مِن لَّدُنَّا عِلْمًا
অতঃপর তাঁরা সাক্ষাৎ পেলেন আমার বান্দাহদের মধ্যে একজনের, (খিযির)-এর যাকে আমি আমার নিকট হতে অনুগ্রহ দান করেছিলাম ও যাকে আমি আমার নিকট হতে শিক্ষা দিয়েছিলাম এক বিশেষ জ্ঞান।
০৬৬قَالَ لَهُ مُوسَىٰ هَلْ أَتَّبِعُكَ عَلَىٰ أَن تُعَلِّمَنِ مِمَّا عُلِّمْتَ رُشْدًا
মূসা (আঃ) তাকে বললেনঃ আমি কি আপনার অনুসরণ করতে পারি; যেন সত্য পথের যে জ্ঞান আপনাকে দান করা হয়েছে তা হতে আমাকে শিক্ষা দেন।
০৬৭قَالَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا
তিনি বললেনঃ তুমি কিছুতেই আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ কে থাকতে পারবে না।
০৬৮وَكَيْفَ تَصْبِرُ عَلَىٰ مَا لَمْ تُحِطْ بِهِ خُبْرًا
যে বিষয় তোমার জ্ঞানায়ত্ত নয়, সে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ করবে কেমন করে?
০৬৯قَالَ سَتَجِدُنِي إِن شَاءَ اللَّهُ صَابِرًا وَلَا أَعْصِي لَكَ أَمْرًا
মূসা (আঃ) বললেনঃ আল্লাহ চাইলে আপনি আমাকে ধৈর্যশীল পাবেন এবং আপনার কোন আদেশ আমি অমান্য করবো না।
০৭০قَالَ فَإِنِ اتَّبَعْتَنِي فَلَا تَسْأَلْنِي عَن شَيْءٍ حَتَّىٰ أُحْدِثَ لَكَ مِنْهُ ذِكْرًا
তিনি বললেনঃ আচ্ছা, তুমি যদি আমার অনুসরণ কর-ই তবে কোন বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করো না, যতক্ষণ না আমি সে সম্বন্ধে তোমাকে কিছু বলি।
০৭১فَانطَلَقَا حَتَّىٰ إِذَا رَكِبَا فِي السَّفِينَةِ خَرَقَهَا ۖ قَالَ أَخَرَقْتَهَا لِتُغْرِقَ أَهْلَهَا لَقَدْ جِئْتَ شَيْئًا إِمْرًا
অতঃপর তারা উভয়ে যাত্রা শুরু করলেন, পথিমধ্যে যখন তারা নৌকায় আরোহণ করলেন তখন তিনি তাতে ছিদ্র করে দিলেন, মূসা (আঃ) বললেনঃ আপনি কি আরোহীদেরকে নিমজ্জিত করে দেবার জন্যে তাতে ছিদ্র করলেন? আপনিতো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
০৭২قَالَ أَلَمْ أَقُلْ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا
তিনি বললেনঃ আমি কি বলি নাই যে, তুমি আমার সঙ্গে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করতে পারবে না?
০৭৩قَالَ لَا تُؤَاخِذْنِي بِمَا نَسِيتُ وَلَا تُرْهِقْنِي مِنْ أَمْرِي عُسْرًا
মূসা (আঃ) বললেনঃ আমার ভুলের জন্যে আমাকে পাকড়াও করবেন না ও আমার ব্যাপারে অত্যাধিক কঠোরতা অবলম্বন করবেন না।
০৭৪فَانطَلَقَا حَتَّىٰ إِذَا لَقِيَا غُلَامًا فَقَتَلَهُ قَالَ أَقَتَلْتَ نَفْسًا زَكِيَّةً بِغَيْرِ نَفْسٍ لَّقَدْ جِئْتَ شَيْئًا نُّكْرًا
অতঃপর তাঁরা চলতে থাকলেন, চলতে চলতে তাঁদের সাথে এক বলকের সাক্ষাৎ হলে তিনি তাকে হত্যা করে ফেললেনঃ তখন মূসা (আঃ) বললেনঃ আপনি কি এক নিষ্পাপ জীবন নাশ করলেন হত্যার অপরাধ ছাড়াই? আপনি তো এক গুরুতর অন্যায় কাজ করলেন।
০৭৫قَالَ أَلَمْ أَقُل لَّكَ إِنَّكَ لَن تَسْتَطِيعَ مَعِيَ صَبْرًا
তিনি বললেনঃ আমি কি বলি নাই যে, তুমি আমার সাথে কিছুতেই ধৈর্যধারণ করে থাকতে পারবে না?
০৭৬قَالَ إِن سَأَلْتُكَ عَن شَيْءٍ بَعْدَهَا فَلَا تُصَاحِبْنِي ۖ قَدْ بَلَغْتَ مِن لَّدُنِّي عُذْرًا
মূসা (আঃ) বললেনঃ এরপর যদি আমি আপনাকে কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি, তবে আপনি আমাকে সঙ্গে রাখবেন না; আপনার কাছে আমার ওযর-আপত্তি চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে গেছে।
০৭৭فَانطَلَقَا حَتَّىٰ إِذَا أَتَيَا أَهْلَ قَرْيَةٍ اسْتَطْعَمَا أَهْلَهَا فَأَبَوْا أَن يُضَيِّفُوهُمَا فَوَجَدَا فِيهَا جِدَارًا يُرِيدُ أَن يَنقَضَّ فَأَقَامَهُ ۖ قَالَ لَوْ شِئْتَ لَاتَّخَذْتَ عَلَيْهِ أَجْرًا
অতঃপর উভয়ে চলতে লাগলেন; চলতে চলতে তাঁরা এক জনপদের অধিবাসীদের নিকট পৌঁছে খাদ্য চাইলেন; কিন্তু তারা তাদের মেহমানদারী করতে অস্বীকার করলো; অতঃপর সেখানে তাঁরা এক পতনোন্মুখ প্রাচীর দেখতে পেলেন এবং তিনি (খিযির) ওটাকে সুদৃঢ় (সোজা) করে দিলেন; মূসা (আঃ) বললেনঃ আপনি তো ইচ্ছা করলে এর জন্যে পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারতেন।
০৭৮قَالَ هَـٰذَا فِرَاقُ بَيْنِي وَبَيْنِكَ ۚ سَأُنَبِّئُكَ بِتَأْوِيلِ مَا لَمْ تَسْتَطِع عَّلَيْهِ صَبْرًا
তিনি বললেনঃ এ মুহূর্তেই তোমার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ কার্যকর হবে। (তবে) যে বিষয়ে তুমি ধৈর্যধারণ করতে পারনি আমি তার তাৎপর্য ও ব্যাখ্যা বলে দিচ্ছি।
০৭৯أَمَّا السَّفِينَةُ فَكَانَتْ لِمَسَاكِينَ يَعْمَلُونَ فِي الْبَحْرِ فَأَرَدتُّ أَنْ أَعِيبَهَا وَكَانَ وَرَاءَهُم مَّلِكٌ يَأْخُذُ كُلَّ سَفِينَةٍ غَصْبًا
নৌকাটির ব্যাপারে (কথা এই যে,) ওটা ছিল কতিপয় দরিদ্র ব্যক্তির। যারা সমুদ্রে জীবিকা অন্বেষণ করতো; আমি ইচ্ছা করলাম নৌকাটিকে ত্রুটিমুক্ত করতে, কারণ ওদের পিছনে ছিল এক রাজা যে বল প্রয়োগে নৌকা সকল ছিনিয়ে নিত।
০৮০وَأَمَّا الْغُلَامُ فَكَانَ أَبَوَاهُ مُؤْمِنَيْنِ فَخَشِينَا أَن يُرْهِقَهُمَا طُغْيَانًا وَكُفْرًا
আর কিশোরটির পিতা-মাতা ছিল মু’মিন। আমি আশঙ্কা করলাম যে, সে (বড় হয়ে) বিদ্রোহাচরণ ও কুফরীর দিকে তাদেরকে নিয়ে যাবে।
০৮১فَأَرَدْنَا أَن يُبْدِلَهُمَا رَبُّهُمَا خَيْرًا مِّنْهُ زَكَاةً وَأَقْرَبَ رُحْمًا
অতঃপর আমি চাইলাম যে, তাদের প্রতিপালক যেন তাদেরকে তার পরিবর্তে (এমন) এক সন্তান দান করেন, যে হবে পবিত্রতায় মহত্তর ও ভক্তি ভালবাসায় ঘনিষ্ঠতর।
০৮২وَأَمَّا الْجِدَارُ فَكَانَ لِغُلَامَيْنِ يَتِيمَيْنِ فِي الْمَدِينَةِ وَكَانَ تَحْتَهُ كَنزٌ لَّهُمَا وَكَانَ أَبُوهُمَا صَالِحًا فَأَرَادَ رَبُّكَ أَن يَبْلُغَا أَشُدَّهُمَا وَيَسْتَخْرِجَا كَنزَهُمَا رَحْمَةً مِّن رَّبِّكَ ۚ وَمَا فَعَلْتُهُ عَنْ أَمْرِي ۚ ذَٰلِكَ تَأْوِيلُ مَا لَمْ تَسْطِع عَّلَيْهِ صَبْرًا
আর ঐ প্রাচীরটি-ওটা ছিল নগরীর দুই ইয়াতীম (পিতৃহীন) কিশোরের, এর নিম্নদেশে আছে তাদের গুপ্তধন এবং তাদের পিতা ছিল সৎকর্মপরায়ণ। তাই তোমার প্রতিপালক দয়াপরবশ হয়ে ইচ্ছা করলেন যে, তারা বয়ঃপ্রাপ্ত হোক এবং তারা তাদের গুপ্তধন উদ্ধার করুক; আমি নিজের থেকে কিছু করিনি; তুমি যে বিষয়ে ধৈর্যধারণে অপারগ হয়েছিলেন, এটাই তার ব্যাখ্যা।
০৮৩وَيَسْأَلُونَكَ عَن ذِي الْقَرْنَيْنِ ۖ قُلْ سَأَتْلُو عَلَيْكُم مِّنْهُ ذِكْرًا
তারা তোমাকে যুলকারনাইন সম্বন্ধে জিজ্ঞাসা করে; তুমি বলে দাওঃ আমি তোমাদের নিকট অচিরেই সে বিষয়ে বর্ণনা করব।
০৮৪إِنَّا مَكَّنَّا لَهُ فِي الْأَرْضِ وَآتَيْنَاهُ مِن كُلِّ شَيْءٍ سَبَبًا
আমি তাকে পৃথিবীতে কর্তৃত্ব দিয়েছিলাম এবং প্রত্যেক বিষয়ের উপায় ও পন্থা নির্দেশ করেছিলাম।
০৮৫فَأَتْبَعَ سَبَبًا
তিনি এক কার্যোপকরণ পথ অবলম্বন করলেন।
০৮৬حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ مَغْرِبَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَغْرُبُ فِي عَيْنٍ حَمِئَةٍ وَوَجَدَ عِندَهَا قَوْمًا ۗ قُلْنَا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِمَّا أَن تُعَذِّبَ وَإِمَّا أَن تَتَّخِذَ فِيهِمْ حُسْنًا
চলতে চলতে যখন তিনি সূর্য ডোবার স্থানে পৌঁছলেন তখন তিনি সূর্যকে এক পঙ্কিল (কর্দমাক্ত) জলাশয়ে অস্ত যেতে দেখলেন এবং তিনি তথায় এক সম্প্রদায়কে দেখতে পেলেন; আমি বললামঃ হে যুলকারনাইন! তুমি তাদেরকে শাস্তি দিতে পার অথবা তাদেরকে সদয়ভাবে গ্রহণ করতে পার।
০৮৭قَالَ أَمَّا مَن ظَلَمَ فَسَوْفَ نُعَذِّبُهُ ثُمَّ يُرَدُّ إِلَىٰ رَبِّهِ فَيُعَذِّبُهُ عَذَابًا نُّكْرًا
তিনি বললেনঃ যে কেউ সীমালঙ্ঘন করবে আমি তাকে শাস্তি দেব, অতঃপর সে তার প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে এবং তিনি তাকে কঠিন শাস্তি দিবেন।
০৮৮وَأَمَّا مَنْ آمَنَ وَعَمِلَ صَالِحًا فَلَهُ جَزَاءً الْحُسْنَىٰ ۖ وَسَنَقُولُ لَهُ مِنْ أَمْرِنَا يُسْرًا
তবে যে বিশ্বাস করে এবং সৎকর্ম করে তার জন্যে প্রতিদান স্বরূপ আছে কল্যাণ এবং তার প্রতি ব্যবহারে আমি নম্র কথা বলবো।
০৮৯ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا
আবার তিনি এক পথ ধরলেন।
০৯০حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ مَطْلِعَ الشَّمْسِ وَجَدَهَا تَطْلُعُ عَلَىٰ قَوْمٍ لَّمْ نَجْعَل لَّهُم مِّن دُونِهَا سِتْرًا
চলতে চলতে যখন তিনি সূর্যোদয় স্থলে পৌঁছলেন তখন তিনি দেখলেন ওটা এমন এক সম্প্রদায়ের উপর উদিত হচ্ছে যাদের জন্যে সূর্য-তাপ হতে আত্মরক্ষার কোন অন্তরাল আমি সৃষ্টি করি নাই।
০৯১كَذَٰلِكَ وَقَدْ أَحَطْنَا بِمَا لَدَيْهِ خُبْرًا
প্রকৃত ঘটনা এটাই, তার (আসল) বৃত্তান্ত আমি সম্যক অবগত আছি।
০৯২ثُمَّ أَتْبَعَ سَبَبًا
আবার তিনি এক পথ ধরলেন।
০৯৩حَتَّىٰ إِذَا بَلَغَ بَيْنَ السَّدَّيْنِ وَجَدَ مِن دُونِهِمَا قَوْمًا لَّا يَكَادُونَ يَفْقَهُونَ قَوْلًا
চলতে চলতে তিনি যখন পর্বত প্রাচীরের মধ্যেবর্তী স্থলে পৌঁছলেন তখন তথায় তিনি এক সম্প্রদায়কে পেলেন যারা তার কথা একেবারেই বুঝতে পারছিল না।
০৯৪قَالُوا يَا ذَا الْقَرْنَيْنِ إِنَّ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ مُفْسِدُونَ فِي الْأَرْضِ فَهَلْ نَجْعَلُ لَكَ خَرْجًا عَلَىٰ أَن تَجْعَلَ بَيْنَنَا وَبَيْنَهُمْ سَدًّا
তারা বললঃ হে যুলকারনাইন! ইয়াজুজ ও মাজুজ পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করছে; আমরা কি তোমাকে কর দিবো এই শর্তে যে, তুমি আমাদের ও তাদের মধ্যে এক প্রাচীর গড়ে দিবেন?
০৯৫قَالَ مَا مَكَّنِّي فِيهِ رَبِّي خَيْرٌ فَأَعِينُونِي بِقُوَّةٍ أَجْعَلْ بَيْنَكُمْ وَبَيْنَهُمْ رَدْمًا
তিনি বললেনঃ আমার প্রতিপালক আমাকে যে ক্ষমতা দিয়েছেন তাই উৎকৃষ্ট; সুতরাং তোমরা আমাকে শ্রম দ্বারা সাহায্য কর, আমি তোমাদের ও তাদের মধ্যস্থলে এক মযবূত প্রাচীর গড়ে দেব।
০৯৬آتُونِي زُبَرَ الْحَدِيدِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا سَاوَىٰ بَيْنَ الصَّدَفَيْنِ قَالَ انفُخُوا ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَعَلَهُ نَارًا قَالَ آتُونِي أُفْرِغْ عَلَيْهِ قِطْرًا
তোমরা আমার নিকট লৌহপিন্ড সমূহ আনয়ন কর; অতঃপর মধ্যবর্তী ফাঁকাস্থান পূর্ণ হয়ে যখন লৌহস্তুপ দুই পর্বতের সমান হল তখন তিনি বললেনঃ তোমরা হাঁপরে দম দিতে থাকো; যখন তা আগুনে পরিণত হল তখন তিনি বললেনঃ তোমরা গলিত তাম্র আনয়ন কর, আমি তা ঢেলে দেই ওর উপর।
০৯৭فَمَا اسْطَاعُوا أَن يَظْهَرُوهُ وَمَا اسْتَطَاعُوا لَهُ نَقْبًا
ফলে ইয়াজুজ ও মা’জুজ তা অতিক্রম করতে পারলো না এবং ভেদ করতেও সক্ষম হল না।
০৯৮قَالَ هَـٰذَا رَحْمَةٌ مِّن رَّبِّي ۖ فَإِذَا جَاءَ وَعْدُ رَبِّي جَعَلَهُ دَكَّاءَ ۖ وَكَانَ وَعْدُ رَبِّي حَقًّا
যুলকারনাইন বললেনঃ এটা আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ; যখন আমার প্রতিপালকের অনুগ্রহ; যখন আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি পূর্ণ হবে তখন তিনি ওটাকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিবেন এবং আমার প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি সত্য।
০৯৯وَتَرَكْنَا بَعْضَهُمْ يَوْمَئِذٍ يَمُوجُ فِي بَعْضٍ ۖ وَنُفِخَ فِي الصُّورِ فَجَمَعْنَاهُمْ جَمْعًا
সেই দিন আমি তাদেরকে ছেড়ে দেবো দলে দলে তরঙ্গের আকারে এবং শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে। অতঃপর আমি তাদের সকলকে একত্রিত করবো।
১০০وَعَرَضْنَا جَهَنَّمَ يَوْمَئِذٍ لِّلْكَافِرِينَ عَرْضًا
আর সেই দিন আমি জাহান্নামকে প্রত্যক্ষভাবে উপস্থিত করবো কাফিরদের নিকট।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x