২৮. সূরাঃ কাসাস

আয়াত অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ৮৮
রুকূঃ ৯
০১ طسم
ত্বোয়া-সীন-মীম।
০২ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ
এই আয়াতগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের।
০৩ نَتْلُو عَلَيْكَ مِن نَّبَإِ مُوسَىٰ وَفِرْعَوْنَ بِالْحَقِّ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
আমি তোমার নিকট মূসা (আঃ) ও ফিরআ’উনের কিছু বৃত্তান্ত যথাযথভাবে বর্ণনা করেছি, মু’মিন সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে।
০৪ إِنَّ فِرْعَوْنَ عَلَا فِي الْأَرْضِ وَجَعَلَ أَهْلَهَا شِيَعًا يَسْتَضْعِفُ طَائِفَةً مِّنْهُمْ يُذَبِّحُ أَبْنَاءَهُمْ وَيَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ ۚ إِنَّهُ كَانَ مِنَ الْمُفْسِدِينَ
নিশ্চয়ই ফিরআ’উন দেশে পরাক্রমশালী হয়েছিল এবং তথাকার অধিবাসীবৃন্দকে বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভক্ত করে তাদের একটি শ্রেণীকে সে হীনবল করেছিল, তাদের পুত্রদেরকে সে হত্যা করতো এবং নারীদেরকে সে জীবিত রাখতো। নিশ্চয়ই সে ছিল বিপর্যয় সৃষ্টিকারী।
০৫ وَنُرِيدُ أَن نَّمُنَّ عَلَى الَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا فِي الْأَرْضِ وَنَجْعَلَهُمْ أَئِمَّةً وَنَجْعَلَهُمُ الْوَارِثِينَ
আমি ইচ্ছা করলাম, সে দেশে যাদেরকে হীনবল করা হয়েছিল, তাদের প্রতি অনুগ্রহ করতে; তাদেরকে নেতৃত্বে দান করতে ও দেশের অধিকারী করতে।
০৬ وَنُمَكِّنَ لَهُمْ فِي الْأَرْضِ وَنُرِيَ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا مِنْهُم مَّا كَانُوا يَحْذَرُونَ
আর তাদেরকে দেশের ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করতে, আর ফির’আউন, হামান ও তাদের বাহিনীকে তা দেখিয়ে দিতে, যা তাদের বাহিনীকে তা দেখিয়ে দিতে, যা তাদের নিকট হতে তারা আশঙ্কা করতো।
০৭ وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ أُمِّ مُوسَىٰ أَنْ أَرْضِعِيهِ ۖ فَإِذَا خِفْتِ عَلَيْهِ فَأَلْقِيهِ فِي الْيَمِّ وَلَا تَخَافِي وَلَا تَحْزَنِي ۖ إِنَّا رَادُّوهُ إِلَيْكِ وَجَاعِلُوهُ مِنَ الْمُرْسَلِينَ
মূসা-জননীর অন্তরে আমি ইলহাম করলামঃ শিশুটিকে তুমি স্তন্যদান করতে থাকো; যখন তুমি তার সম্পর্কে কোন আশঙ্কা করবে তখন তাকে দরিয়ায় নিক্ষেপ করো এবং ভয় করো না, চিন্তাও করো না; আমি তাকে তোমার নিকট ফিরিয়ে দিবো এবং তাকে রাসূলদের একজন করবো।
০৮ فَالْتَقَطَهُ آلُ فِرْعَوْنَ لِيَكُونَ لَهُمْ عَدُوًّا وَحَزَنًا ۗ إِنَّ فِرْعَوْنَ وَهَامَانَ وَجُنُودَهُمَا كَانُوا خَاطِئِينَ
অতঃপর ফিরআ’উনের লোকজন তাকে উঠিয়ে নিলো। এর পরিণাম তো এই ছিল যে, সে তাদের শত্রু ও দুঃখের কারণ হবে। নিশ্চয় ফিরআ’উন, হামান ও তাদের বাহিনী ছিল ভুলকারী।
০৯ وَقَالَتِ امْرَأَتُ فِرْعَوْنَ قُرَّتُ عَيْنٍ لِّي وَلَكَ ۖ لَا تَقْتُلُوهُ عَسَىٰ أَن يَنفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
ফিরআ’উনের স্ত্রী বললঃ এই শিশু আমার ও তোমার চক্ষু শীতলকারী। তাকে হত্যা করো না, সে আমাদের উপকারে আসতে পারে, আমরা তাকে সন্তান হিসেবেও গ্রহণ করতে পারি। প্রকৃতপক্ষে তারা (এর পরিণাম) বুঝতে পারেনি।
১০ وَأَصْبَحَ فُؤَادُ أُمِّ مُوسَىٰ فَارِغًا ۖ إِن كَادَتْ لَتُبْدِي بِهِ لَوْلَا أَن رَّبَطْنَا عَلَىٰ قَلْبِهَا لِتَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
মূসা-জননীর হৃদয় অস্থির হয়ে পড়েছিল; যাতে সে আস্থাশীল হয় তজ্জন্যে আমি তার হৃদয়কে দৃঢ় করে না দিলে সে তার পরিচয়তো প্রকাশ করেই দিতো।
১১ وَقَالَتْ لِأُخْتِهِ قُصِّيهِ ۖ فَبَصُرَتْ بِهِ عَن جُنُبٍ وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
সে মূসার ভগ্নিকে বললঃ তার পেছনে যাও; সে তাদের অজ্ঞাতসারে দূর হতে তাকে দেখছিল।
১২ وَحَرَّمْنَا عَلَيْهِ الْمَرَاضِعَ مِن قَبْلُ فَقَالَتْ هَلْ أَدُلُّكُمْ عَلَىٰ أَهْلِ بَيْتٍ يَكْفُلُونَهُ لَكُمْ وَهُمْ لَهُ نَاصِحُونَ
পূর্ব হতেই আমি ধাত্রী স্তন্য পানে তাকে বিরত রেখেছিলাম। (মূসার ভগ্নি) বললঃ তোমাদেরকে কি আমি এমন এক পরিবারের সন্ধান দিবো যারা তোমাদের হয়ে একে লালন-পালন করবে এবং এর মঙ্গলকামী হবে?
১৩ فَرَدَدْنَاهُ إِلَىٰ أُمِّهِ كَيْ تَقَرَّ عَيْنُهَا وَلَا تَحْزَنَ وَلِتَعْلَمَ أَنَّ وَعْدَ اللَّهِ حَقٌّ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
অতঃপর আমি তাকে ফিরিয়ে দিলাম তার জননীর নিকট যাতে তার চক্ষু জুড়ায়, সে চিন্তা না করে এবং বুঝতে পারে যে, আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই এটা জানে না।
১৪ وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ وَاسْتَوَىٰ آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
যখন মূসা (আঃ) পূর্ণ যৌবনে উপনীত ও পরিণত বয়স্ক হলেন তখন আমি তাঁকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম; এভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কার প্রদান করে থাকি।
১৫ وَدَخَلَ الْمَدِينَةَ عَلَىٰ حِينِ غَفْلَةٍ مِّنْ أَهْلِهَا فَوَجَدَ فِيهَا رَجُلَيْنِ يَقْتَتِلَانِ هَـٰذَا مِن شِيعَتِهِ وَهَـٰذَا مِنْ عَدُوِّهِ ۖ فَاسْتَغَاثَهُ الَّذِي مِن شِيعَتِهِ عَلَى الَّذِي مِنْ عَدُوِّهِ فَوَكَزَهُ مُوسَىٰ فَقَضَىٰ عَلَيْهِ ۖ قَالَ هَـٰذَا مِنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ ۖ إِنَّهُ عَدُوٌّ مُّضِلٌّ مُّبِينٌ
তিনি নগরীতে প্রবেশ করলেন, যখন এর অধিবাসীরা ছিল অসতর্ক সেথায় তিনি দু’টি লোককে সংঘর্ষে লিপ্ত দেখলেন, একজন তাঁর নিজ দলের এবং অপরজন তাঁর শত্রু দলের। মূসা (আঃ) –এর দলের লোকটি তার শত্রুর বিরুদ্ধে তাঁর সাহায্য প্রার্থনা করলো, তখন মূসা (আঃ) তাকে ঘুষি মারলেন; এভাবে তিনি তাকে হত্যা করে বসলেন। মূসা (আঃ) বললেনঃ এটা শয়তানের কান্ড; সে তো প্রকাশ্য শত্রু ও পথভ্রষ্টকারী।
১৬ قَالَ رَبِّ إِنِّي ظَلَمْتُ نَفْسِي فَاغْفِرْ لِي فَغَفَرَ لَهُ ۚ إِنَّهُ هُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ
তিনি বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমি তো আমার নিজের প্রতি যুলুম করেছি; সুতরাং আমাকে ক্ষমা করুন! অতঃপর তিনি তাকে ক্ষমা করলেন। তিনি তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
১৭ قَالَ رَبِّ بِمَا أَنْعَمْتَ عَلَيَّ فَلَنْ أَكُونَ ظَهِيرًا لِّلْمُجْرِمِينَ
তিনি আরো বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! তুমি যেহেতু আমার উপর অনুগ্রহ করেছো, সুতরাং আমি কখনো অপরাধীদের সাহায্যকারী হবো না।
১৮ فَأَصْبَحَ فِي الْمَدِينَةِ خَائِفًا يَتَرَقَّبُ فَإِذَا الَّذِي اسْتَنصَرَهُ بِالْأَمْسِ يَسْتَصْرِخُهُ ۚ قَالَ لَهُ مُوسَىٰ إِنَّكَ لَغَوِيٌّ مُّبِينٌ
অতঃপর ভীত সতর্ক অবস্থায় সেই নগরীতে তাঁর প্রভাত হল। হঠাৎ তিনি শুনতে পেলেন, পূর্বদিন যে ব্যক্তি তাঁর সাহায্য চেয়েছিল, সে তাঁর সাহায্যের জন্যে চিৎকার করছে। মূসা (আঃ) তাকে বললেনঃ তুমি তো স্পষ্টই একজন বিভ্রান্ত ব্যক্তি।
১৯ فَلَمَّا أَنْ أَرَادَ أَن يَبْطِشَ بِالَّذِي هُوَ عَدُوٌّ لَّهُمَا قَالَ يَا مُوسَىٰ أَتُرِيدُ أَن تَقْتُلَنِي كَمَا قَتَلْتَ نَفْسًا بِالْأَمْسِ ۖ إِن تُرِيدُ إِلَّا أَن تَكُونَ جَبَّارًا فِي الْأَرْضِ وَمَا تُرِيدُ أَن تَكُونَ مِنَ الْمُصْلِحِينَ
অতঃপর মূসা (আঃ) যখন উভয়ের (মূসা ও ইসরাঈলী ব্যক্তিটির) শত্রু ধরতে উদ্যত হলেন, তখন সে (ইসরাঈলী) বলে উঠলোঃ হে মূসা (আঃ)! গতকাল তুমি যেমন এক ব্যক্তিকে হত্যা করেছো, সেভাবে আমাকেও কি হত্যা করতে চাচ্ছ? তুমি তো পৃথিবীতে স্বেচ্ছাচারী হতে যাচ্ছ, শান্তি স্থাপনকারী হতে চাও না!
২০ وَجَاءَ رَجُلٌ مِّنْ أَقْصَى الْمَدِينَةِ يَسْعَىٰ قَالَ يَا مُوسَىٰ إِنَّ الْمَلَأَ يَأْتَمِرُونَ بِكَ لِيَقْتُلُوكَ فَاخْرُجْ إِنِّي لَكَ مِنَ النَّاصِحِينَ
নগরীর দূরপ্রান্ত হতে এক ব্যক্তি ছুটে আসলো ও বললঃ হে মূসা (আঃ)! ফিরআ’উনের পরিষদবর্গ তোমাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছে। সুতরাং তুমি বাইরে চলে যাও, আমি তো তোমার মঙ্গলকামী।
২১ فَخَرَجَ مِنْهَا خَائِفًا يَتَرَقَّبُ ۖ قَالَ رَبِّ نَجِّنِي مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
ভীত সতর্ক অবস্থায় তিনি তথা (মিসর) হতে বের হয়ে পড়লেন এবং বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আপনি যালিম সম্প্রদায় হতে আমাকে রক্ষা করুন।
২২ وَلَمَّا تَوَجَّهَ تِلْقَاءَ مَدْيَنَ قَالَ عَسَىٰ رَبِّي أَن يَهْدِيَنِي سَوَاءَ السَّبِيلِ
যখন মূসা (আঃ) মাদইয়ান অভিমুখে যাত্রা করলেন তখন বললেনঃ আশা করি আমার প্রতিপালক আমাকে সরল পথ-প্রদর্শন করবেন।
২৩ وَلَمَّا وَرَدَ مَاءَ مَدْيَنَ وَجَدَ عَلَيْهِ أُمَّةً مِّنَ النَّاسِ يَسْقُونَ وَوَجَدَ مِن دُونِهِمُ امْرَأَتَيْنِ تَذُودَانِ ۖ قَالَ مَا خَطْبُكُمَا ۖ قَالَتَا لَا نَسْقِي حَتَّىٰ يُصْدِرَ الرِّعَاءُ ۖ وَأَبُونَا شَيْخٌ كَبِيرٌ
যখন তিনি মাদইয়ানের পানির (কূপের) নিকটে পৌঁছলেন তখন দেখলেন যে, একদল লোম তাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করাচ্ছে এবং তাদের পশ্চাতে দু’জন নারী তাদের পশুগুলোকে থামিয়ে রাখছে। মূসা (আঃ) বললেনঃ তোমাদের কি ব্যাপার? তারা বললেনঃ তোমাদের কি ব্যাপার? তারা বললঃ আমরা আমাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করাতে পারি না, যতক্ষণ রাখালরা তাদের জানোয়ারগুলোকে নিয়ে সরে না যায়। আমাদের পিতা অতি বৃদ্ধ।
২৪ فَسَقَىٰ لَهُمَا ثُمَّ تَوَلَّىٰ إِلَى الظِّلِّ فَقَالَ رَبِّ إِنِّي لِمَا أَنزَلْتَ إِلَيَّ مِنْ خَيْرٍ فَقِيرٌ
(মূসা আঃ) তখন তাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করালেন। অতঃপর তিনি ছায়ার নীচে আশ্রয় গ্রহণ করলেন ও বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার প্রতি যে অনুগ্রহ করবেন আমি তার মুখাপেক্ষী।
২৫ فَجَاءَتْهُ إِحْدَاهُمَا تَمْشِي عَلَى اسْتِحْيَاءٍ قَالَتْ إِنَّ أَبِي يَدْعُوكَ لِيَجْزِيَكَ أَجْرَ مَا سَقَيْتَ لَنَا ۚ فَلَمَّا جَاءَهُ وَقَصَّ عَلَيْهِ الْقَصَصَ قَالَ لَا تَخَفْ ۖ نَجَوْتَ مِنَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
তখন নারীদ্বয়ের একজন লজ্জা ও শালীনতা সহকারে তার নিকট আসলো এবং বললঃ আমার পতা আপনাকে আমন্ত্রণ করছেন, আমাদের জানোয়ারগুলোকে পানি পান করাবার পারিশ্রমিক আপনাকে দেয়ার জন্যে। অতঃপর মূসা (আঃ) তাঁর নিকট এসে সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলে তিনি বললেনঃ ভয় করো না, তুমি যালিম সম্প্রদায়ের কবল হতে বেঁচে গেছ।
২৬ قَالَتْ إِحْدَاهُمَا يَا أَبَتِ اسْتَأْجِرْهُ ۖ إِنَّ خَيْرَ مَنِ اسْتَأْجَرْتَ الْقَوِيُّ الْأَمِينُ
তাদের একজন বললঃ হে পিতা! তুমি একে মজুর হিসেবে নিযুক্ত কর, কারণ তোমার মজুর হিসেবে উত্তম হবে সে ব্যক্তি, যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত।
২৭ তিনি মূসা (আঃ)-কে বললেনঃ আমি আমার এই কন্যাদ্বয়ের একজনকে তোমার সাথে বিয়ে দিতে চাই, এই শর্তে যে, তুমি আট বছর আমার কাজ করবে, যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, সেটা তোমার ইচ্ছা। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। ইনশাআল্লাহ (আল্লাহ ইচ্ছা করলে) তুমি আমাকে সদাচারী পাবে।
২৮ قَالَ ذَٰلِكَ بَيْنِي وَبَيْنَكَ ۖ أَيَّمَا الْأَجَلَيْنِ قَضَيْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَيَّ ۖ وَاللَّهُ عَلَىٰ مَا نَقُولُ وَكِيلٌ
(মূসা আঃ) বললেনঃ আপনার ও আমার মধ্যে এই চুক্তিই রইলো। এ দু’টি মেয়াদের কোন একটি আমি পূর্ণ করলে আমার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ থাকবে না। আমরা যে বিষয়ে থাকবে না। আমার যে বিষয়ে কথা বলছি আল্লাহ তার সাক্ষী।
২৯ فَلَمَّا قَضَىٰ مُوسَى الْأَجَلَ وَسَارَ بِأَهْلِهِ آنَسَ مِن جَانِبِ الطُّورِ نَارًا قَالَ لِأَهْلِهِ امْكُثُوا إِنِّي آنَسْتُ نَارًا لَّعَلِّي آتِيكُم مِّنْهَا بِخَبَرٍ أَوْ جَذْوَةٍ مِّنَ النَّارِ لَعَلَّكُمْ تَصْطَلُونَ
মূসা (আঃ) যখন মেয়াদ পূর্ণ করবার পর সপরিবারে যাত্রা শুরু করলেন তখন তিনি তূর পর্বতের দিকে আগুন দেখতে পেলেন। তিনি তাঁর পরিজনবর্গকে বললেনঃ তোমরা অপেক্ষা কর, আমি আগুন দেখেছি, সম্ভবতঃ আমি সেখান হতে তোমাদের জন্যে খবর আনতে পারি অথবা একখন্ড জ্বলন্ত কাঠ আনতে পারি যাতে তোমরা আগুন পোহাতে পার।
৩০ فَلَمَّا أَتَاهَا نُودِيَ مِن شَاطِئِ الْوَادِ الْأَيْمَنِ فِي الْبُقْعَةِ الْمُبَارَكَةِ مِنَ الشَّجَرَةِ أَن يَا مُوسَىٰ إِنِّي أَنَا اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
যখন তিনি আগুনের নিকট পৌঁছলেন তখন উপত্যকার ডান পার্শ্বে পবিত্র ভূমিস্থিত এক বৃক্ষ হতে তাকে আহ্বান করে বলা হলঃ হে মূসা (আঃ)! আমিই আল্লাহ, জগতসমূহের প্রতিপালক।
৩১ وَأَنْ أَلْقِ عَصَاكَ ۖ فَلَمَّا رَآهَا تَهْتَزُّ كَأَنَّهَا جَانٌّ وَلَّىٰ مُدْبِرًا وَلَمْ يُعَقِّبْ ۚ يَا مُوسَىٰ أَقْبِلْ وَلَا تَخَفْ ۖ إِنَّكَ مِنَ الْآمِنِينَ
আরো বলা হলঃ তুমি তোমার লাঠি নিক্ষেপ কর। অতঃপর যখন তিনি লাঠিকে সর্পের ন্যায় ছুটাছুটি করতে দেখলেন তখন পিছনের দিকে ছুটতে লাগলেন এবং ফিরে তাকালেন না। তাকে বলা হলঃ হে মূসা (আঃ)! সামনে এসো, ভয় করো না, তুমি তো নিরাপদ।
৩২ اسْلُكْ يَدَكَ فِي جَيْبِكَ تَخْرُجْ بَيْضَاءَ مِنْ غَيْرِ سُوءٍ وَاضْمُمْ إِلَيْكَ جَنَاحَكَ مِنَ الرَّهْبِ ۖ فَذَانِكَ بُرْهَانَانِ مِن رَّبِّكَ إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا فَاسِقِينَ
তোমার হাত তোমার বগলে রাখো, এটা বের হয়ে আসবে শুভ্র সমুজ্জ্বল দোষমুক্ত হয়ে। ভয় দূর করবার জন্যে তোমার হস্তদবয় নিজের দিকে চেপে ধর। এই দু’টি তোমার প্রতিপালকের প্রদত্ত প্রমাণ, ফিরআ’উন ও তার পরিষদবর্গের জন্যে। তারা তো দুষ্কর্মপরায়ণ সম্প্রদায়।
৩৩ قَالَ رَبِّ إِنِّي قَتَلْتُ مِنْهُمْ نَفْسًا فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ
তিনি বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমি তো তাদের একজনকে হত্যা করেছি। ফলে আমি আশঙ্কা করছি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।
৩৪ وَأَخِي هَارُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي ۖ إِنِّي أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ
আমার ভ্রাতা হারুন আমার চেয়ে বাগ্মী (কথায় পটু)। অতএব তাকে আমার সাহায্য কারীরূপে প্রেরণ করুন, তিনি আমাকে সমর্থন করবেন। আমি আশঙ্কা করি যে, তারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলবে।
৩৫ قَالَ سَنَشُدُّ عَضُدَكَ بِأَخِيكَ وَنَجْعَلُ لَكُمَا سُلْطَانًا فَلَا يَصِلُونَ إِلَيْكُمَا ۚ بِآيَاتِنَا أَنتُمَا وَمَنِ اتَّبَعَكُمَا الْغَالِبُونَ
(আল্লাহ) বললেনঃ আমি তোমার ভ্রাতার দ্বারা তোমার বাহু শক্তিশালী করবো এবং তোমাদের উভয়কে বিজয় দান করবো। তারা তোমাদের কাছে পৌঁছতে পারবে না। তোমরা আমার নিদর্শনসহ যাও, তোমরা এবং তোমাদের অনুসারীরা তাদের উপর বিজয়ী হবে।
৩৬ فَلَمَّا جَاءَهُم مُّوسَىٰ بِآيَاتِنَا بَيِّنَاتٍ قَالُوا مَا هَـٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّفْتَرًى وَمَا سَمِعْنَا بِهَـٰذَا فِي آبَائِنَا الْأَوَّلِينَ
মূসা (আঃ) যখন তাদের নিকট আমার সুস্পষ্ট নিদর্শনগুলো নিয়ে আসলেন, তারা বললঃ এটা তো অলীক যাদু মাত্র! আমাদের পূর্বপুরুষদের কালে আমরা কখনো এরূপ কথা শুনিনি।
৩৭ وَقَالَ مُوسَىٰ رَبِّي أَعْلَمُ بِمَن جَاءَ بِالْهُدَىٰ مِنْ عِندِهِ وَمَن تَكُونُ لَهُ عَاقِبَةُ الدَّارِ ۖ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
মূসা (আঃ) বললেনঃ আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত, কে তাঁর নিকট হতে পথ নির্দেশ এনেছে এবং আখিরাতে কার পরিণাম শুভ হবে। যালিমরা অবশ্যই সফলকাম হবে না।
৩৮ وَقَالَ فِرْعَوْنُ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ مَا عَلِمْتُ لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرِي فَأَوْقِدْ لِي يَا هَامَانُ عَلَى الطِّينِ فَاجْعَل لِّي صَرْحًا لَّعَلِّي أَطَّلِعُ إِلَىٰ إِلَـٰهِ مُوسَىٰ وَإِنِّي لَأَظُنُّهُ مِنَ الْكَاذِبِينَ
ফিরআ’উন বললঃ হে পরিষদবর্গ! আমি ছাড়া তোমাদের অন্য কোন উপাস্য আছে বলে আমি আজনি না! হে হামান! তুমি আমার জন্যে ইট পোড়াও এবং একটি সুউচ্চ প্রাসাদ তৈরি কর; হয়তো আমি তাতে উঠে মূসার মা’বূদকে দেখতে পাবো। তবে আমি অবশ্য মনে করি যে, সে মিথ্যাবাদী।
৩৯ وَاسْتَكْبَرَ هُوَ وَجُنُودُهُ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَظَنُّوا أَنَّهُمْ إِلَيْنَا لَا يُرْجَعُونَ
ফিরআ’উন ও তার বাহিনী অন্যায়ভাবে পৃথিবীতে অহংকার করেছিল এবং তারা মনে করেছিল যে, তারা আমার নিকট প্রত্যাবর্তিত হবে না।
৪০ فَأَخَذْنَاهُ وَجُنُودَهُ فَنَبَذْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ ۖ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الظَّالِمِينَ
অতএব, আমি তাকে ও তার বাহিনীকে ধরলাম এবং তাদেরকে সমুদ্রে নিক্ষেপ করলাম। দেখো, যালিমদের পরিণাম কি হয়ে থাকে।
৪১ وَجَعَلْنَاهُمْ أَئِمَّةً يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يُنصَرُونَ
তাদেরকে আমি নেতা করেছিলাম; তারা লোকদেরকে জাহান্নামের দিকে আহ্বান করতো; কিয়ামতের দিন তাদেরকে সাহায্য করা হবে না।
৪২ وَأَتْبَعْنَاهُمْ فِي هَـٰذِهِ الدُّنْيَا لَعْنَةً ۖ وَيَوْمَ الْقِيَامَةِ هُم مِّنَ الْمَقْبُوحِينَ
এই পৃথিবীতে আমি তাদের পশ্চাতে লাগিয়ে দিয়েছি অভিসম্পাত এবং কিয়ামতের দিন তারা হবে ঘৃণিত।
৪৩ وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ مِن بَعْدِ مَا أَهْلَكْنَا الْقُرُونَ الْأُولَىٰ بَصَائِرَ لِلنَّاسِ وَهُدًى وَرَحْمَةً لَّعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
আমি তো পূর্ববর্তী বহু মানবগোষ্ঠীকে বিনাশ করবার পর মূসা (আঃ)-কে দিয়েছিলাম কিতাব, মানব জাতির জন্য জ্ঞানবর্তিকা, পথনির্দেশ ও দয়া স্বরূপ, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
৪৪ وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ الْغَرْبِيِّ إِذْ قَضَيْنَا إِلَىٰ مُوسَى الْأَمْرَ وَمَا كُنتَ مِنَ الشَّاهِدِينَ
মূসা (আঃ)-কে যখন আমি ওহী করেছিলাম রিসালাতের তখন তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) পশ্চিম প্রান্তে উপস্থিত ছিলে না এবং তুমি প্রত্যক্ষদর্শীও ছিলে না।
৪৫ وَلَـٰكِنَّا أَنشَأْنَا قُرُونًا فَتَطَاوَلَ عَلَيْهِمُ الْعُمُرُ ۚ وَمَا كُنتَ ثَاوِيًا فِي أَهْلِ مَدْيَنَ تَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِنَا وَلَـٰكِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ
বস্তুতঃ আমি অনেক মানবগোষ্ঠীর আবির্ভাব ঘটিয়েছিলাম’ অতঃপর তাদের বহু যুগ অতিবাহিত হয়ে গিয়েছে। তুমি তো মাদইয়ান-বাসীদের মধ্যে বিদ্যমান ছিলে না তাদের নিকট আমার আয়াত আবৃত্তি করবার জন্যে। আমিই তো ছিলাম রাসূল প্রেরণকারী।
৪৬ وَمَا كُنتَ بِجَانِبِ الطُّورِ إِذْ نَادَيْنَا وَلَـٰكِن رَّحْمَةً مِّن رَّبِّكَ لِتُنذِرَ قَوْمًا مَّا أَتَاهُم مِّن نَّذِيرٍ مِّن قَبْلِكَ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ
মূসা (আঃ)-কে যখন আমি আহ্বান করেছিলাম তখন তুমি তূর পর্বত পার্শ্বে উপস্থিত ছিলে না। বস্তুতঃ এটা (ওহী) তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে দয়া স্বরূপ, যাতে তুমি এমন এক সম্প্রদায়কে সতর্ক করতে পার, যাদের নিকট তোমার পূর্বে কোন সতর্ককারী আসেনি, যেন তারা উপদেশ গ্রহণ করে।
৪৭ وَلَوْلَا أَن تُصِيبَهُم مُّصِيبَةٌ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيهِمْ فَيَقُولُوا رَبَّنَا لَوْلَا أَرْسَلْتَ إِلَيْنَا رَسُولًا فَنَتَّبِعَ آيَاتِكَ وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
রাসূল না পাঠালে আর তাদের কৃতকর্মের জন্যে তাদের কোন বিপদ হলে তারা বলতঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদের নিকট কোন রাসূল প্রেরণ করলেন না কেন? করলে আমরা আপনার নির্দেশ মেনে চলতাম এবং আমরা হতাম মু’মিন।
৪৮ فَلَمَّا جَاءَهُمُ الْحَقُّ مِنْ عِندِنَا قَالُوا لَوْلَا أُوتِيَ مِثْلَ مَا أُوتِيَ مُوسَىٰ ۚ أَوَلَمْ يَكْفُرُوا بِمَا أُوتِيَ مُوسَىٰ مِن قَبْلُ ۖ قَالُوا سِحْرَانِ تَظَاهَرَا وَقَالُوا إِنَّا بِكُلٍّ كَافِرُونَ
অতঃপর যখন তোমার নিকট হতে তাদের নিকট সত্য আসলো, তারা বলতে লাগলঃ মূসা (আঃ)-কে যেরূপ দেয়া হয়েছিল, তাকে (মুহাম্মদ সঃ)-কে সেরূপ দেয়া হল না কেন? কিন্তু পূর্বে মূসা (আঃ)-কে যা দেয়া হয়েছিল তা কি তারা অস্বীকার করেনি? তারা বলেছিলঃ উভয়ই যাদু, একে অপরকে সমর্থন করে এবং তারা বলেছিলঃ আমরা প্রত্যেককে প্রত্যাখ্যান করি।
৪৯ قُلْ فَأْتُوا بِكِتَابٍ مِّنْ عِندِ اللَّهِ هُوَ أَهْدَىٰ مِنْهُمَا أَتَّبِعْهُ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
বলঃ তোমরা সত্যবাদী হলে আল্লাহর নিকট হতে এক কিতাব আনয়ন কর, যা পথনির্দেশে এতদুভয় (তাওরাত ও কুরআন) হতে উৎকৃষ্টতর হবে, আমি সে কিতাব অনুসরণ করবো।
৫০ فَإِن لَّمْ يَسْتَجِيبُوا لَكَ فَاعْلَمْ أَنَّمَا يَتَّبِعُونَ أَهْوَاءَهُمْ ۚ وَمَنْ أَضَلُّ مِمَّنِ اتَّبَعَ هَوَاهُ بِغَيْرِ هُدًى مِّنَ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
অতঃপর যদি তারা তোমার আহ্বানে সাড়া না দেয়, তাহলে জানবে যে, তারা তো শুধু নিজেদের খেয়াল খুশির অনুসরণ করে। আল্লাহর পথনির্দেশ অগ্রাহ্য করে যে ব্যক্তি নিজ খেয়াল-খুশির অনুসরণ করে সে ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক বিভ্রান্ত আর কে? আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে পথনির্দেশ করেন না।
error: Content is protected !!
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x