০১২. সূরাঃ ইউসুফ

আয়াতঅবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১১১
রুকূঃ ১২
০০১الر ۚ تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ
আলিফ-লাম-রা; এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
০০২إِنَّا أَنزَلْنَاهُ قُرْآنًا عَرَبِيًّا لَّعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ
আমি অবতীর্ণ করেছি তাকে কুরআন (রূপে) আরবী ভাষায়, যাতে তোমরা বুঝতে পারো।
০০৩نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَـٰذَا الْقُرْآنَ وَإِن كُنتَ مِن قَبْلِهِ لَمِنَ الْغَافِلِينَ
আমি তোমার কাছে উত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি, অহির মাধ্যমে তোমার কাছে এই কুরআন প্রেরণ করে, যদিও এর পূর্বে তুমি ছিলে অনবহিতদের অন্তর্ভুক্ত।
০০৪إِذْ قَالَ يُوسُفُ لِأَبِيهِ يَا أَبَتِ إِنِّي رَأَيْتُ أَحَدَ عَشَرَ كَوْكَبًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ رَأَيْتُهُمْ لِي سَاجِدِينَ
যখন ইউসুফ (আঃ) তার পিতাকে বললেনঃ হে আমার পিতাঃ! আমি এগারোটি নক্ষত্র, সূর্য এবং চন্দ্রকে দেখেছি- দেখেছি ওদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়।
০০৫قَالَ يَا بُنَيَّ لَا تَقْصُصْ رُؤْيَاكَ عَلَىٰ إِخْوَتِكَ فَيَكِيدُوا لَكَ كَيْدًا ۖ إِنَّ الشَّيْطَانَ لِلْإِنسَانِ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
তিনি বললেনঃ হে আমার পুত্র! তোমার স্বপ্নের বৃত্তান্ত তোমার ভাইদের নিকট বর্ণনা করো না, করলে তারা তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
০০৬وَكَذَٰلِكَ يَجْتَبِيكَ رَبُّكَ وَيُعَلِّمُكَ مِن تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ وَيُتِمُّ نِعْمَتَهُ عَلَيْكَ وَعَلَىٰ آلِ يَعْقُوبَ كَمَا أَتَمَّهَا عَلَىٰ أَبَوَيْكَ مِن قَبْلُ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ ۚ إِنَّ رَبَّكَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
এইভাবে তোমার প্রতিপালক তোমাকে মনোনীত করবেন এবং তোমাকে কথার (স্বপ্নের) ব্যাখ্যা শিক্ষা দিবেন, আর তোমার প্রতি ও ইয়াকুবের (আঃ) পরিবার- পরিজনের প্রতি অনুগ্রহ পূর্ণ করবেন যেভাবে তিনি এটা পূর্বে পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসহাকের (আঃ) প্রতি, তোমার প্রতিপালক সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।
০০৭لَّقَدْ كَانَ فِي يُوسُفَ وَإِخْوَتِهِ آيَاتٌ لِّلسَّائِلِينَ
ইউসুফ ও তাঁর ভ্রাতাদের ঘটনায় জিজ্ঞাসুদের জন্যে নিদর্শন রয়েছে।
০০৮إِذْ قَالُوا لَيُوسُفُ وَأَخُوهُ أَحَبُّ إِلَىٰ أَبِينَا مِنَّا وَنَحْنُ عُصْبَةٌ إِنَّ أَبَانَا لَفِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
যখন তারা (ভ্রাতারা) বলেছিলোঃ আমাদের পিতার নিকট ইউসুফ এবং তার ভাই (বিনইয়ামীন) অধিক প্রিয়, অথচ আমরা একটি সংহত দল, আমাদের পিতা তো স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই রয়েছেন।
০০৯اقْتُلُوا يُوسُفَ أَوِ اطْرَحُوهُ أَرْضًا يَخْلُ لَكُمْ وَجْهُ أَبِيكُمْ وَتَكُونُوا مِن بَعْدِهِ قَوْمًا صَالِحِينَ
ইউসুফকে (আঃ) হত্যা কর অথবা তাকে কোন স্থানে ফেলে এসো, ফলে তোমাদের পিতার দৃষ্টি শুধু তোমাদের প্রতিই নিবিষ্ট হবে এবং তারপর তোমরা ভাল লোক হয়ে যাবে।
০১০قَالَ قَائِلٌ مِّنْهُمْ لَا تَقْتُلُوا يُوسُفَ وَأَلْقُوهُ فِي غَيَابَتِ الْجُبِّ يَلْتَقِطْهُ بَعْضُ السَّيَّارَةِ إِن كُنتُمْ فَاعِلِينَ
তাদের মধ্যে একজন বললোঃ ইউসুফকে (আঃ) হত্যা করো না, বরং (যদি তোমরা কিছু করতেই চাও তবে) তাকে কোন গভীর কূপে নিক্ষেপ করো, যাত্রীদলের কেউ তাকে তুলে নিয়ে যাবে।
০১১قَالُوا يَا أَبَانَا مَا لَكَ لَا تَأْمَنَّا عَلَىٰ يُوسُفَ وَإِنَّا لَهُ لَنَاصِحُونَ
তারা বললঃ হে আমাদের পিতা! ইউসুফের (আঃ) ব্যাপারে আপনি আমাদেরকে অবিশ্বাস করছেন কেন, আমরা তো তার হিতাকাঙ্ক্ষী।
০১২أَرْسِلْهُ مَعَنَا غَدًا يَرْتَعْ وَيَلْعَبْ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
আপনি আগামীকাল তাকে আমাদের সাথে প্রেরণ করুন, সে (ফল-মূল) খাবে ও খেলাধুলা করবে, আমরা অবশ্যই তার রক্ষণাবেক্ষণ করবো।
০১৩قَالَ إِنِّي لَيَحْزُنُنِي أَن تَذْهَبُوا بِهِ وَأَخَافُ أَن يَأْكُلَهُ الذِّئْبُ وَأَنتُمْ عَنْهُ غَافِلُونَ
তিনি বললেনঃ এটা আমাকে কষ্ট দিবে যে, তোমরা তাকে নিয়ে যাবে এবং আমি ভয় করি তোমরা তার প্রতি অমনোযোগী হলে তাকে নেকড়ে বাঘ খেয়ে ফেলবে।
০১৪قَالُوا لَئِنْ أَكَلَهُ الذِّئْبُ وَنَحْنُ عُصْبَةٌ إِنَّا إِذًا لَّخَاسِرُونَ
তারা বললঃ আমরা একটি সংহত দল হওয়া সত্ত্বেও যদি নেকড়ে বাঘ তাকে খেয়ে ফেলে, তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্থই হবো।
০১৫فَلَمَّا ذَهَبُوۡا بِهٖ وَ اَجۡمَعُوۡۤا اَنۡ یَّجۡعَلُوۡهُ فِیۡ غَیٰبَتِ الۡجُبِّ ۚ وَ اَوۡحَیۡنَاۤ اِلَیۡهِ لَتُنَبِّئَنَّهُمۡ بِاَمۡرِهِمۡ هٰذَا وَ هُمۡ لَا یَشۡعُرُوۡنَ
অতঃপর যখন তারা তাঁকে নিয়ে গেল এবং তাঁকে গভীর কূপে নিক্ষেপ করতে একমত হল, এমতাবস্থায় আমি তাকে (ইউসুফকে) জানিয়ে দিলামঃ তুমি তাদেরকে তাদের এই কর্মের কথা অবশ্যই বলে দেবে যখন তারা তোমাকে চিনবে না।
০১৬وَجَاءُوا أَبَاهُمْ عِشَاءً يَبْكُونَ
তারা রাত্রিতে কাঁদতে কাঁদতে তাদের পিতার নিকট আসলো।
০১৭قَالُوا يَا أَبَانَا إِنَّا ذَهَبْنَا نَسْتَبِقُ وَتَرَكْنَا يُوسُفَ عِندَ مَتَاعِنَا فَأَكَلَهُ الذِّئْبُ ۖ وَمَا أَنتَ بِمُؤْمِنٍ لَّنَا وَلَوْ كُنَّا صَادِقِينَ
তারা বললঃ হে আমাদের পিতা! আমরা দৌড়ে প্রতিযোগিতা করছিলাম এবং ইউসুফকে (আঃ) আমাদের মালপত্রের নিকট রেখে গিয়েছিলাম, অতঃপর তাকে নেকড়ে বাঘে খেয়ে ফেলেছে; কিন্তু আপনি তো আমাদেরকে বিশ্বাস করবেন না। যদিও আমরা সত্যবাদী।
০১৮وَجَاءُوا عَلَىٰ قَمِيصِهِ بِدَمٍ كَذِبٍ ۚ قَالَ بَلْ سَوَّلَتْ لَكُمْ أَنفُسُكُمْ أَمْرًا ۖ فَصَبْرٌ جَمِيلٌ ۖ وَاللَّهُ الْمُسْتَعَانُ عَلَىٰ مَا تَصِفُونَ
আর তারা তার জামায় মিথ্যা রক্ত লেপন করে এনেছিল, তিনি বললেনঃ না, তোমাদের মন তোমাদের জন্যে একটি কাহিনী সাজিয়ে দিয়েছে, সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছো সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহই আমার সাহায্যস্থল।
০১৯وَجَاءَتْ سَيَّارَةٌ فَأَرْسَلُوا وَارِدَهُمْ فَأَدْلَىٰ دَلْوَهُ ۖ قَالَ يَا بُشْرَىٰ هَـٰذَا غُلَامٌ ۚ وَأَسَرُّوهُ بِضَاعَةً ۚ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِمَا يَعْمَلُونَ
এক যাত্রীদল আসলো, তারা তাদের পানি সংগ্রাহককে প্রেরণ করলো; সে তার পানির বালতি নামিয়ে দিলো, সে বলে উঠলোঃ কি সুখবর! এ যে এক কিশোর! অতঃপর তারা তাকিএ পণ্যরূপে লুকিয়ে রাখলো, তারা যা কিছু করছিলো সে বিষয়ে আল্লাহ সবিশেষ অবগত ছিলেন।
০২০وَشَرَوْهُ بِثَمَنٍ بَخْسٍ دَرَاهِمَ مَعْدُودَةٍ وَكَانُوا فِيهِ مِنَ الزَّاهِدِينَ
আর তারা তাকে বিক্রি করলো স্বল্প মূল্যে, মাত্র কয়েক দিরহামের বিনিময়ে, এ ব্যাপারে তারা ছিল অল্পে তুষ্ট।
০২১وَقَالَ الَّذِي اشْتَرَاهُ مِن مِّصْرَ لِامْرَأَتِهِ أَكْرِمِي مَثْوَاهُ عَسَىٰ أَن يَنفَعَنَا أَوْ نَتَّخِذَهُ وَلَدًا ۚ وَكَذَٰلِكَ مَكَّنَّا لِيُوسُفَ فِي الْأَرْضِ وَلِنُعَلِّمَهُ مِن تَأْوِيلِ الْأَحَادِيثِ ۚ وَاللَّهُ غَالِبٌ عَلَىٰ أَمْرِهِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
মিসরের যে ব্যক্তি তাকে ক্রয় করেছিল, সে তার স্ত্রীকে বললঃ সম্মানজনকভাবে এর থাকবার ব্যবস্থা কর, সম্ভবতঃ সে আমাদের উপকারে আসবে অথবা আমরা একে পুত্র রূপেও গ্রহণ করতে পারি এবং এভাবে আমি ইউসুফকে (আঃ) সেই দেশে প্রতিষ্ঠিত করলাম তাকে বাক্যাদির (স্বপ্নের) ব্যাখ্যা শিক্ষা দেয়ার জন্যে, আল্লাহ তাঁর কার্য সম্পাদনে অপ্রতিহত; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অগবত নয়।
০২২وَلَمَّا بَلَغَ أَشُدَّهُ آتَيْنَاهُ حُكْمًا وَعِلْمًا ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
তিনি যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হলেন তখন আমি তাঁকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম এবং এভাবেই আমি সৎকর্ম পরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
০২৩وَرَاوَدَتْهُ الَّتِي هُوَ فِي بَيْتِهَا عَن نَّفْسِهِ وَغَلَّقَتِ الْأَبْوَابَ وَقَالَتْ هَيْتَ لَكَ ۚ قَالَ مَعَاذَ اللَّهِ ۖ إِنَّهُ رَبِّي أَحْسَنَ مَثْوَايَ ۖ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
তিনি যে স্ত্রীলোকের গৃহে ছিলেন তাঁকে তার প্রতি আকৃষ্ট করতে চাইলো এবং দরজাগুলি বন্ধ করে দিলো ও বললঃ চলে এসো তিনি বললেনঃ আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করছি, তিনি আমার প্রভু! তিনি আমাকে সম্মানজনকভাবে থাকতে দিয়েছেন জালিমরা কখনও সফলকাম হয় না।
০২৪وَلَقَدْ هَمَّتْ بِهِ ۖ وَهَمَّ بِهَا لَوْلَا أَن رَّأَىٰ بُرْهَانَ رَبِّهِ ۚ كَذَٰلِكَ لِنَصْرِفَ عَنْهُ السُّوءَ وَالْفَحْشَاءَ ۚ إِنَّهُ مِنْ عِبَادِنَا الْمُخْلَصِينَ
সেই রমণী তো তাঁর প্রতি আসক্ত হয়েছিল এবং তিনিও আসক্ত হয়ে পড়তেন যদি না তিনি তাঁর প্রতিপালকের নিদর্শন প্রত্যক্ষ করতেন, তাঁকে মন্দ কর্ম ও অশ্লীলতা হতে বিরত রাখবার জন্যে, সে তো ছিল আমার মনোনীত বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত।
০২৫وَاسْتَبَقَا الْبَابَ وَقَدَّتْ قَمِيصَهُ مِن دُبُرٍ وَأَلْفَيَا سَيِّدَهَا لَدَى الْبَابِ ۚ قَالَتْ مَا جَزَاءُ مَنْ أَرَادَ بِأَهْلِكَ سُوءًا إِلَّا أَن يُسْجَنَ أَوْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
তারা উভয়ে দৌড়িয়ে দরজার দিকে গেল এবং রমণীটি পিছন হতে তার জামা ছিঁড়ে ফেললো, তাঁরা উভয়ে রমণীটির স্বামীকে দরজার কাছে পেলেন, রমণীটি বললঃ যে তোমার গৃহিণীর সাথে কুকর্ম কামনা করে তার জন্যে কারাগারে প্রেরণ অথবা অন্য কোন বেদনাদায়ক শাস্তি ব্যতীত কি দন্ড আর হতে পারে?
০২৬قَالَ هِيَ رَاوَدَتْنِي عَن نَّفْسِي ۚ وَشَهِدَ شَاهِدٌ مِّنْ أَهْلِهَا إِن كَانَ قَمِيصُهُ قُدَّ مِن قُبُلٍ فَصَدَقَتْ وَهُوَ مِنَ الْكَاذِبِينَ
তিনি (ইউসুফ আঃ) বললেনঃ সেই আমার হতে অসৎকর্ম কামনা করেছিল, রমণীটির পরিবারের একজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিলোঃ যদি তার জামার সম্মুখ দিক ছেঁড়া হয়ে থাকে তবে রমণী সত্য কথা বলেছে এবং পুরুষটি মিথ্যাবাদী।
০২৭وَإِن كَانَ قَمِيصُهُ قُدَّ مِن دُبُرٍ فَكَذَبَتْ وَهُوَ مِنَ الصَّادِقِينَ
আর যদি তার জামা পিছন দিক হতে ছেঁড়া হয়ে থাকে তবে রমণীটি মিথ্যা কথা বলেছে এবং পুরুষটি সত্যবাদী।
০২৮فَلَمَّا رَأَىٰ قَمِيصَهُ قُدَّ مِن دُبُرٍ قَالَ إِنَّهُ مِن كَيْدِكُنَّ ۖ إِنَّ كَيْدَكُنَّ عَظِيمٌ
সুতরাং গৃহস্বামী যখন দেখলো যে, তার জামা পিছন দিক থেকে ছিন্ন করা হয়েছে তখন সে বললঃ এটা তোমাদের নারীদের ছলনা, ভীষণ তোমাদের ছলনা।
০২৯يُوسُفُ أَعْرِضْ عَنْ هَـٰذَا ۚ وَاسْتَغْفِرِي لِذَنبِكِ ۖ إِنَّكِ كُنتِ مِنَ الْخَاطِئِينَ
হে ইউসুফ (আঃ) তুমি এটা উপেক্ষা কর এবং হে নারী! তুমি তোমার অপরাধের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর, নিশ্চয় তুমিই অপরাধিনী।
০৩০وَقَالَ نِسْوَةٌ فِي الْمَدِينَةِ امْرَأَتُ الْعَزِيزِ تُرَاوِدُ فَتَاهَا عَن نَّفْسِهِ ۖ قَدْ شَغَفَهَا حُبًّا ۖ إِنَّا لَنَرَاهَا فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
নগরে কতিপয় নারী বললঃ আযীযের স্ত্রী তার যুবক দাস হতে অসৎকর্ম কামনা করছে; প্রেম তাকে উম্মত্ত করেছে, আমরা তো তাকে দেখছি স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে।
০৩১فَلَمَّا سَمِعَتْ بِمَكْرِهِنَّ أَرْسَلَتْ إِلَيْهِنَّ وَأَعْتَدَتْ لَهُنَّ مُتَّكَأً وَآتَتْ كُلَّ وَاحِدَةٍ مِّنْهُنَّ سِكِّينًا وَقَالَتِ اخْرُجْ عَلَيْهِنَّ ۖ فَلَمَّا رَأَيْنَهُ أَكْبَرْنَهُ وَقَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ وَقُلْنَ حَاشَ لِلَّهِ مَا هَـٰذَا بَشَرًا إِنْ هَـٰذَا إِلَّا مَلَكٌ كَرِيمٌ
রমণীটি যখন তাদের ষড়যন্ত্রের কথা শুনলো, তখন সে তাদেরকে ডেকে পাঠালো এবং একটি ভোজ সভার আয়োজন করলো। তাদের প্রত্যেককে একটি করে ছুরি দিলো এবং যুবককে বললঃ তাদের সামনে বের হও, অতঃপর তারা যখন তাঁকে দেখলো তখন তারা তার রূপ-মাধুর্যে অভিভূত হল নিজেদের হাত কেটে ফেললো, তারা বললঃ অদ্ভুত আল্লাহর মাহাত্ম, এতো মানুষ নয় এতো এক মহিমান্বিত ফিরিশতা!
০৩২قَالَتْ فَذَٰلِكُنَّ الَّذِي لُمْتُنَّنِي فِيهِ ۖ وَلَقَدْ رَاوَدتُّهُ عَن نَّفْسِهِ فَاسْتَعْصَمَ ۖ وَلَئِن لَّمْ يَفْعَلْ مَا آمُرُهُ لَيُسْجَنَنَّ وَلَيَكُونًا مِّنَ الصَّاغِرِينَ
সে বললঃ এ-ই সে যার সম্বন্ধে তোমরা আমার নিন্দা করেছো, আমি তো তা হতে অসৎকর্ম কামনা করেছি; কিন্তু সে নিজেকে পবিত্র রেখেছে; আমি তাকে যা আদেশ করেছি সে যদি তা না করে তবে সে কারারুদ্ধ হবেই এবং হীনদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
০৩৩قَالَ رَبِّ السِّجْنُ أَحَبُّ إِلَيَّ مِمَّا يَدْعُونَنِي إِلَيْهِ ۖ وَإِلَّا تَصْرِفْ عَنِّي كَيْدَهُنَّ أَصْبُ إِلَيْهِنَّ وَأَكُن مِّنَ الْجَاهِلِينَ
ইউসুফ (আঃ) বললেনঃ হে আমার প্রতিপালক! এই নারীরা আমাকে যার প্রতি আহ্বান করেছে তা অপেক্ষা কারাগার আমার কাছে অধিক প্রিয়, আপনি যদি তাদের ছলনা আমাকে রক্ষা না করেন তবে আমি তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়বো এবং অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হবো।
০৩৪فَاسْتَجَابَ لَهُ رَبُّهُ فَصَرَفَ عَنْهُ كَيْدَهُنَّ ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
অতঃপর তাঁর প্রতিপালক তার আহ্বানে সাড়া দিলেন এবং তাঁকে তাদের ছলনা হতে রক্ষা করলেন, তিনি তো সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।
০৩৫ثُمَّ بَدَا لَهُم مِّن بَعْدِ مَا رَأَوُا الْآيَاتِ لَيَسْجُنُنَّهُ حَتَّىٰ حِينٍ
নিদর্শনাবলী দেখার পর তাদের মনে হল যে, তাকে কিছুকালের জন্যে কারারুদ্ধ করতেই হবে।
০৩৬وَدَخَلَ مَعَهُ السِّجْنَ فَتَيَانِ ۖ قَالَ أَحَدُهُمَا إِنِّي أَرَانِي أَعْصِرُ خَمْرًا ۖ وَقَالَ الْآخَرُ إِنِّي أَرَانِي أَحْمِلُ فَوْقَ رَأْسِي خُبْزًا تَأْكُلُ الطَّيْرُ مِنْهُ ۖ نَبِّئْنَا بِتَأْوِيلِهِ ۖ إِنَّا نَرَاكَ مِنَ الْمُحْسِنِينَ
তাঁর সাথে দু’জন যুবক কারাগারে প্রবেশ করলো, তাদের একজন বললঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম, আমি মদ তৈরি করছি এবং অপরজন বললঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম আমি আমার মাথায় রুটি বহন করছি এবং পাখি তা হতে খাচ্ছে, আমাদেরকে আপনি এর তাৎপর্য জানিয়ে দিন, আমরা আপনাকে সৎ কর্মপরায়ণ দেখছি।
০৩৭قَالَ لَا يَأْتِيكُمَا طَعَامٌ تُرْزَقَانِهِ إِلَّا نَبَّأْتُكُمَا بِتَأْوِيلِهِ قَبْلَ أَن يَأْتِيَكُمَا ۚ ذَٰلِكُمَا مِمَّا عَلَّمَنِي رَبِّي ۚ إِنِّي تَرَكْتُ مِلَّةَ قَوْمٍ لَّا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَهُم بِالْآخِرَةِ هُمْ كَافِرُونَ
ইউসুফ (আঃ) বললেনঃ তোমাদেরকে যে খাদ্য দেয়া হয় তা আসবার পূর্বে আমি তোমাদেরকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা জানিয়ে দিবো, আমি যা তোমাদেরকে বলবো তা আমার প্রতিপালক আমাকে যা শিক্ষা দিয়েছেন তা হতে বলবো, যে সম্প্রদায় আল্লাহকে বিশ্বাস করে না ও পরলোকে অবিশ্বাসই হয় আমি তাদের মতবাদ বর্জন করেছি।
০৩৮وَاتَّبَعْتُ مِلَّةَ آبَائِي إِبْرَاهِيمَ وَإِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ ۚ مَا كَانَ لَنَا أَن نُّشْرِكَ بِاللَّهِ مِن شَيْءٍ ۚ ذَٰلِكَ مِن فَضْلِ اللَّهِ عَلَيْنَا وَعَلَى النَّاسِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَشْكُرُونَ
আমি আমার পিতৃপুরুষ ইব্রাহীম (আঃ) ইসহাক (আঃ) এবং ইয়াকুবের (আঃ) মতবাদ অনুসরণ করি, আল্লাহর সাথে কোন বস্তুকে শরীক করা আমাদের কাজ নয়, এটা আমাদের ও সমস্ত মানুষের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ; কিন্তু অধিকাংশ মানুষই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না।
০৩৯يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَأَرْبَابٌ مُّتَفَرِّقُونَ خَيْرٌ أَمِ اللَّهُ الْوَاحِدُ الْقَهَّارُ
হে আমার কারা-সঙ্গীদ্বয়! ভিন্ন ভিন্ন বহু প্রতিপালক শ্রেয়, না পরাক্রমশালী এক আল্লাহ?
০৪০مَا تَعْبُدُونَ مِن دُونِهِ إِلَّا أَسْمَاءً سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا أَنزَلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ ۚ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۚ أَمَرَ أَلَّا تَعْبُدُوا إِلَّا إِيَّاهُ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لَا يَعْلَمُونَ
তাঁকে ছেড়ে তোমরা শুধু কতকগুলি নামের ইবাদত করছো, যে নামগুলো তোমাদের পিতৃপুরুষ ও তোমরা রেখেছো। এইগুলির কোন প্রমাণ আল্লাহ পাঠান নাই, বিধান দেয়ার অধিকার শুধু আল্লাহরই, তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদত করবে, আর কারো ইবাদত করবে না, এটাই সরল-সঠিক দ্বীন; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ এটা অবগত নয়।
০৪১يَا صَاحِبَيِ السِّجْنِ أَمَّا أَحَدُكُمَا فَيَسْقِي رَبَّهُ خَمْرًا ۖ وَأَمَّا الْآخَرُ فَيُصْلَبُ فَتَأْكُلُ الطَّيْرُ مِن رَّأْسِهِ ۚ قُضِيَ الْأَمْرُ الَّذِي فِيهِ تَسْتَفْتِيَانِ
হে আমার কারা-সঙ্গীদ্বয়! তোমাদের একজন সম্বন্ধে কথা এই যে, সে তার প্রভুকে মদ্যপান করাবে এবং অপর জন সম্বন্ধে কথা এই যে, সে শূলবিদ্ধ হবে, অতঃপর তার মস্তক হতে পাখি আহার করবে, যে বিষয়ে তোমরা জানতে চেয়েছো তার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে।
০৪২وَقَالَ لِلَّذِي ظَنَّ أَنَّهُ نَاجٍ مِّنْهُمَا اذْكُرْنِي عِندَ رَبِّكَ فَأَنسَاهُ الشَّيْطَانُ ذِكْرَ رَبِّهِ فَلَبِثَ فِي السِّجْنِ بِضْعَ سِنِينَ
ইউসুফ (আঃ) তাদের মধ্যে যে মুক্তি পাবে বলে মনে করলেন, তাকে বললেনঃ তোমার প্রভুর কাছে আমার কথা বলবে; কিন্তু শয়তান তাকে তার প্রভুর কাছে তার বিষয় বলবার কথা ভুলিয়ে দিলো; সুতরাং ইউসুফ (আঃ) কয়েক বছর কারাগারেই রয়ে গেলেন।
০৪৩وَقَالَ الْمَلِكُ إِنِّي أَرَىٰ سَبْعَ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعَ سُنبُلَاتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ ۖ يَا أَيُّهَا الْمَلَأُ أَفْتُونِي فِي رُؤْيَايَ إِن كُنتُمْ لِلرُّؤْيَا تَعْبُرُونَ
(একদিন) রাজা বললেনঃ আমি স্বপ্নে দেখলাম, সাতটি মোটাতাজা গাভী, ওগুলিকে সাতটি ক্ষীণকায় গাভী ভক্ষণ করছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক, হে পরিষদবর্গ! তোমরা আমাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা বল যদি তোমরা স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী হয়ে থাকে।
০৪৪قَالُوا أَضْغَاثُ أَحْلَامٍ ۖ وَمَا نَحْنُ بِتَأْوِيلِ الْأَحْلَامِ بِعَالِمِينَ
তারা বললঃ এটা কল্পনাপ্রসূত স্বপ্ন এবং আমরা এরূপ স্বপ্ন ব্যাখ্যায় অভিজ্ঞ নই।
০৪৫وَقَالَ الَّذِي نَجَا مِنْهُمَا وَادَّكَرَ بَعْدَ أُمَّةٍ أَنَا أُنَبِّئُكُم بِتَأْوِيلِهِ فَأَرْسِلُونِ
দু’জন কারারুদ্ধের মধ্যে যে মুক্তি পেয়েছিল এবং দীর্ঘকাল পরে তার স্মরণ হল সে বললঃ আমি এর তাৎপর্য তোমাদেরকে জানিয়ে দেবো, সুতরাং তোমরা আমাকে পাঠিয়ে দাও।
০৪৬يُوسُفُ أَيُّهَا الصِّدِّيقُ أَفْتِنَا فِي سَبْعِ بَقَرَاتٍ سِمَانٍ يَأْكُلُهُنَّ سَبْعٌ عِجَافٌ وَسَبْعِ سُنبُلَاتٍ خُضْرٍ وَأُخَرَ يَابِسَاتٍ لَّعَلِّي أَرْجِعُ إِلَى النَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَعْلَمُونَ
(সে বললঃ) হে ইউসুফ (আঃ) হে সত্যবাদী! সাতটি মোটা গাভী, এগুলিকে সাতটি পাতলা গাভী ভক্ষণ করছে এবং সাতটি সবুজ শীষ ও অপর সাতটি শুষ্ক শীষ সম্বন্ধে আপনি আমাদেরকে ব্যাখ্যা দিন, যাতে আমি লোকদের কাছে ফিরে যেতে পারি এবং যাতে তারা অবগত হতে পারে।
০৪৭قَالَ تَزْرَعُونَ سَبْعَ سِنِينَ دَأَبًا فَمَا حَصَدتُّمْ فَذَرُوهُ فِي سُنبُلِهِ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّا تَأْكُلُونَ
ইউসুফ (আঃ) বললেনঃ তোমরা সাত বছর একাধিক্রমে চাষ করবে, অতঃপর তোমরা যে শস্য সংগ্রহ করবে তার মধ্যে যে সামান্য পরিমাণ তোমরা ভক্ষণ করবে, তা ব্যতীত সমস্ত শীষ সহকারে রেখে দেবে।
০৪৮ثُمَّ يَأْتِي مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ سَبْعٌ شِدَادٌ يَأْكُلْنَ مَا قَدَّمْتُمْ لَهُنَّ إِلَّا قَلِيلًا مِّمَّا تُحْصِنُونَ
এরপর আসবে সাতটি কঠিন বছর, যা তোমরা এবছরগুলির জন্য রেখেছিলে তা খেয়ে যাবে; কিন্তু সামান্য কিছু যা তোমরা সংরক্ষণ করবে (বীজের জন্য) তা ব্যতীত।
০৪৯ثُمَّ يَأْتِي مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ عَامٌ فِيهِ يُغَاثُ النَّاسُ وَفِيهِ يَعْصِرُونَ
এবং এরপর আসবে এক বছর, সেই বছর মানুষের জন্যে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে এবং সেই বছর মানুষ প্রচুর ফলের রস নিংড়াবে।
০৫০وَقَالَ الْمَلِكُ ائْتُونِي بِهِ ۖ فَلَمَّا جَاءَهُ الرَّسُولُ قَالَ ارْجِعْ إِلَىٰ رَبِّكَ فَاسْأَلْهُ مَا بَالُ النِّسْوَةِ اللَّاتِي قَطَّعْنَ أَيْدِيَهُنَّ ۚ إِنَّ رَبِّي بِكَيْدِهِنَّ عَلِيمٌ
রাজা বললেনঃ তোমরা (ইউসুফ আঃ)-কে আমার কাছে নিয়ে এসো; যখন দূত তাঁর কাছে উপস্থিত হল তখন তিনি বললেনঃ তুমি তোমার প্রভুর কাছে দিরে যাও এবং তাঁকে জিজ্ঞেস কর, যে নারীরা তাদের হাত কেটে ফেলেছিল তাদের অবস্থা কি? আমার প্রতিপালক তাদের ছলনা সম্পর্কে সম্যক অবগত।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x