২৬. সূরাঃ আশ শো’আরা

আয়াতঅবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ২২৭
রুকূঃ ১১
০০১طسم
ত্বোয়া-সীন-মীম।
০০২تِلْكَ آيَاتُ الْكِتَابِ الْمُبِينِ
এগুলো সুস্পষ্ট কিতাবের আয়াত।
০০৩لَعَلَّكَ بَاخِعٌ نَّفْسَكَ أَلَّا يَكُونُوا مُؤْمِنِينَ
তারা মু’মিন হচ্ছে না বলে তুমি হয়তো (মনকষ্টে) আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়বে।
০০৪إِن نَّشَأْ نُنَزِّلْ عَلَيْهِم مِّنَ السَّمَاءِ آيَةً فَظَلَّتْ أَعْنَاقُهُمْ لَهَا خَاضِعِينَ
আমি ইচ্ছা করলে আকাশ হতে তাদের নিকট এক নিদর্শন প্রেরণ করতাম, ফলে তাদের গর্দান বিনত হয়ে পড়তো ওর প্রতি।
০০৫وَمَا يَأْتِيهِم مِّن ذِكْرٍ مِّنَ الرَّحْمَـٰنِ مُحْدَثٍ إِلَّا كَانُوا عَنْهُ مُعْرِضِينَ
যখনই তাদের কাছে দয়াময়ের নিকট হতে কোন নতুন উপদেশ আসে তখনই তারা তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়।
০০৬فَقَدْ كَذَّبُوا فَسَيَأْتِيهِمْ أَنبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
তারা তো মিথ্যা জেনেছে, সুতরাং তারা যা নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো তার প্রকৃত বার্তা তাদের নিকট শীঘ্রই এসে পড়বে।
০০৭أَوَلَمْ يَرَوْا إِلَى الْأَرْضِ كَمْ أَنبَتْنَا فِيهَا مِن كُلِّ زَوْجٍ كَرِيمٍ
তারা কি পৃথিবীর দিকে দৃষ্টিপাত করে না? আমি তাতে প্রত্যেক প্রকারের কত উৎকৃষ্ট উদ্ভিদ উদ্গত করেছি।
০০৮إِنَّ فِي ذَٰلِكَ لَآيَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
নিশ্চয়ই তাতে আছে নিদর্শন; কিন্তু তাদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।
০০৯وَإِنَّ رَبَّكَ لَهُوَ الْعَزِيزُ الرَّحِيمُ
এবং নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক, পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু।
০১০وَإِذْ نَادَىٰ رَبُّكَ مُوسَىٰ أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
(স্মরণ কর) যখন তোমার প্রতিপালক মূসা (আঃ)-কে ডেকে বললেনঃ তুমি যালিম সম্প্রদায়ের নিকট যাও।
০১১قَوْمَ فِرْعَوْنَ ۚ أَلَا يَتَّقُونَ
ফিরআ’উনের সম্প্রদায়ের নিকট; তারা কি ভয় করে না?
০১২قَالَ رَبِّ إِنِّي أَخَافُ أَن يُكَذِّبُونِ
তিনি বলেছিলেনঃ হে আমার প্রতিপালক! আমি আশঙ্কা করি যে, তারা আমাকে অস্বীকার করবে।
০১৩وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَىٰ هَارُونَ
এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হয়ে পড়ছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নয়, সুতরাং হারূন (আঃ)-এর প্রতিও ওহী পাঠান।
০১৪وَلَهُمْ عَلَيَّ ذَنبٌ فَأَخَافُ أَن يَقْتُلُونِ
আমার বিরুদ্ধে তাদের এক অভিযোগ আছে; আমি আশঙ্কা করি যে, তারা আমাকে হত্যা করবে।
০১৫قَالَ كَلَّا ۖ فَاذْهَبَا بِآيَاتِنَا ۖ إِنَّا مَعَكُم مُّسْتَمِعُونَ
বললেনঃ কখনোই নয়, অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসহ যাও, আমি তোমাদের সঙ্গে আছি শ্রবণকারী।
০১৬فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَا إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অতএব তোমরা উভয়ে ফিরআ’উনের নিকট যাও এবং বলঃ আমরা জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল।
০১৭أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ
(হে ফিরআ’উন) আর আমাদের সাথে যেতে দাও বানী ইসরাঈলকে।
০১৮قَالَ أَلَمْ نُرَبِّكَ فِينَا وَلِيدًا وَلَبِثْتَ فِينَا مِنْ عُمُرِكَ سِنِينَ
ফিরআ’উন বললঃ আমরা কি তোমাকে শৈশবে আমাদের মধ্যে লালন-পালন করিনি? এবং তুমি তোমার জীবনের বহু বছর আমাদের মধ্যে কাটিয়েছো।
০১৯وَفَعَلْتَ فَعْلَتَكَ الَّتِي فَعَلْتَ وَأَنتَ مِنَ الْكَافِرِينَ
তুমি তোমার কর্ম যা করবার তা করেছো; তুমি অকৃতজ্ঞ।
০২০قَالَ فَعَلْتُهَا إِذًا وَأَنَا مِنَ الضَّالِّينَ
(মূসা আঃ) বললেনঃ আমি তো এটা করেছিলাম তখন যখন আমি অজ্ঞ ছিলাম।
০২১فَفَرَرْتُ مِنكُمْ لَمَّا خِفْتُكُمْ فَوَهَبَ لِي رَبِّي حُكْمًا وَجَعَلَنِي مِنَ الْمُرْسَلِينَ
আমি যখন তোমাদের ভয়ে ভীত হলাম তখন আমি তোমাদের নিকট হতে পালিয়ে গিয়েছিলাম; তৎপর আমার প্রতিপালক আমাকে জ্ঞান দান করেছেন এবং আমাকে রাসূল করেছেন।
০২২وَتِلْكَ نِعْمَةٌ تَمُنُّهَا عَلَيَّ أَنْ عَبَّدتَّ بَنِي إِسْرَائِيلَ
আর আমার প্রতি তোমার যে অনুগ্রহের কথা উল্লেখ করেছো, তা এই যে, তুমি বানী ইসরাঈলকে দাসে পরিণত করেছো।
০২৩قَالَ فِرْعَوْنُ وَمَا رَبُّ الْعَالَمِينَ
ফিরআ’উন বললঃ জগত-সমূহের প্রতিপালক আবার কি?
০২৪قَالَ رَبُّ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ إِن كُنتُم مُّوقِنِينَ
(মূসা আঃ) বললেনঃ তিনি আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের মধ্যে সব কিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা নিশ্চিত বিশ্বাসী হও।
০২৫قَالَ لِمَنْ حَوْلَهُ أَلَا تَسْتَمِعُونَ
ফিরআ’উন তার পরিষদবর্গকে লক্ষ্য করে বললঃ তোমরা শুনেছো তো?
০২৬قَالَ رَبُّكُمْ وَرَبُّ آبَائِكُمُ الْأَوَّلِينَ
(মূসা আঃ) বললেনঃ তিনি তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক।
০২৭قَالَ إِنَّ رَسُولَكُمُ الَّذِي أُرْسِلَ إِلَيْكُمْ لَمَجْنُونٌ
(ফিরআ’উন) বললঃ তোমাদের প্রতি প্রেরিত তোমাদের রাসূল নিশ্চয়ই পাগল।
০২৮قَالَ رَبُّ الْمَشْرِقِ وَالْمَغْرِبِ وَمَا بَيْنَهُمَا ۖ إِن كُنتُمْ تَعْقِلُونَ
(মূসা আঃ) বললেনঃ তিনি পূর্ব ও পশ্চিমের এবং এতদুভয়ের মধ্যবর্তী সবকিছুর প্রতিপালক, যদি তোমরা বুঝতে।
০২৯قَالَ لَئِنِ اتَّخَذْتَ إِلَـٰهًا غَيْرِي لَأَجْعَلَنَّكَ مِنَ الْمَسْجُونِينَ
(ফিরআ’উন) বললঃ তুমি যদি আমার পরিবর্তে অন্যকে মা’বূদ রূপে গ্রহণ কর তবে আমি তোমাকে অবশ্যই কারারুদ্ধ করবো।
০৩০قَالَ أَوَلَوْ جِئْتُكَ بِشَيْءٍ مُّبِينٍ
(মূসা আঃ) বললেনঃ আমি তোমার নিকট স্পষ্ট কিছু (নিদর্শন) আনয়ন করলেও?
০৩১قَالَ فَأْتِ بِهِ إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
(ফিরআ’উন) বললঃ তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে তা উপস্থিত কর।
০৩২فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُّبِينٌ
অতঃপর তিনি (মূসা আঃ) তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন তৎক্ষণাৎ তা এক সুস্পষ্ট অজগর হল।
০৩৩وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ
আর (মূসা আঃ) হাত বের করলেন আর তৎক্ষণাৎ তা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হল।
০৩৪قَالَ لِلْمَلَإِ حَوْلَهُ إِنَّ هَـٰذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ
সে (ফিরআ’উন) তার পরিষদবর্গকে বললঃ এতো সুদক্ষ যাদুকর।
০৩৫يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُم بِسِحْرِهِ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ
এ তোমাদেরকে তোমাদের দেশ হতে তার যাদুবলে বহিষ্কৃত করতে চায়! এখন তোমরা কি করতে চাও বল?
০৩৬قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَابْعَثْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ
তারা বললঃ তাকে ও তার ভ্রাতাকে কিঞ্চিৎ অবকাশ দিন এবং নগরে নগরে সংগ্রহকারীদেরকে পাঠান।
০৩৭يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ
যেন তারা তোমার নিকট সকল সুদক্ষ যাদুকর উপস্থিত করে।
০৩৮فَجُمِعَ السَّحَرَةُ لِمِيقَاتِ يَوْمٍ مَّعْلُومٍ
অতঃপর এক নির্ধারিত দিনে নির্দিষ্ট সময়ে যাদুকরদের একত্রিত করা হল।
০৩৯وَقِيلَ لِلنَّاسِ هَلْ أَنتُم مُّجْتَمِعُونَ
আর লোকদেরকে বলা হলঃ তোমরাও সমবেত হচ্ছো কি?
০৪০لَعَلَّنَا نَتَّبِعُ السَّحَرَةَ إِن كَانُوا هُمُ الْغَالِبِينَ
যেন আমরা যাদুকরদের অনুসরণ করতে পারি, যদি তারা বিজয়ী হয়।
০৪১فَلَمَّا جَاءَ السَّحَرَةُ قَالُوا لِفِرْعَوْنَ أَئِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ
অতঃপর যাদুকররা এসে ফিরআ’উনকে বললঃ আমরা যদি বিজয়ী হই তবে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?
০৪২قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ إِذًا لَّمِنَ الْمُقَرَّبِينَ
(ফিরআ’উন) বললঃ হ্যাঁ, তখন তোমরা অবশ্যই আমার ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
০৪৩قَالَ لَهُم مُّوسَىٰ أَلْقُوا مَا أَنتُم مُّلْقُونَ
মূসা (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ তোমাদের যা নিক্ষেপ করবার তা নিক্ষেপ কর।
০৪৪فَأَلْقَوْا حِبَالَهُمْ وَعِصِيَّهُمْ وَقَالُوا بِعِزَّةِ فِرْعَوْنَ إِنَّا لَنَحْنُ الْغَالِبُونَ
অতঃপর তারা তাঁদের রশি ও লাঠি নিক্ষেপ করলো এবং তারা বললঃ ফিরআ’নের শপথ! আমরাই বিজয়ী হবো।
০৪৫فَأَلْقَىٰ مُوسَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ
অতঃপর মূসা (আঃ) তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন; সহসা তা’ তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগলো।
০৪৬فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ
তখন যাদুকররা সিজদাবনত হয়ে পড়লো।
০৪৭قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ
তারা বললঃ আমরা ঈমান আনয়ন করলাম জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রতি-
০৪৮رَبِّ مُوسَىٰ وَهَارُونَ
যিনি মূসা (আঃ) ও হারূন (আঃ) –এরও প্রতিপালক।
০৪৯قَالَ آمَنتُمْ لَهُ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّهُ لَكَبِيرُكُمُ الَّذِي عَلَّمَكُمُ السِّحْرَ فَلَسَوْفَ تَعْلَمُونَ ۚ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَافٍ وَلَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ
(ফিরআ’উন) বললঃ আমি তোমাদেরকে অনুমতি দেয়ার পূর্বেই তোমরা তাতে বিশ্বাস করলে? এই তো তোমাদের যাদু শিক্ষা দিয়েছে; শীঘ্রই তোমরা এর পরিণাম জানবে; আমি অবশ্যই তোমাদের হাত এবং তোমাদের পা বিপরীত দিক হতে কর্তন করবো এবং তোমাদের সবাইকে শূলবিদ্ধ করবোই।
০৫০قَالُوا لَا ضَيْرَ ۖ إِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
তারা বললঃ কোন ক্ষতি নেই, আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকট প্রত্যাবর্তন করবো।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x