০০৭. সূরাঃ আল আ’রাফ

আয়াত অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ২০৬
রুকূঃ ২৪
০০১ المص
আলিফ-লাম-মীম-সুয়াদ।
০০২ كِتَابٌ أُنزِلَ إِلَيْكَ فَلَا يَكُن فِي صَدْرِكَ حَرَجٌ مِّنْهُ لِتُنذِرَ بِهِ وَذِكْرَىٰ لِلْمُؤْمِنِينَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তোমার নিকট এ জন্যে কুরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে যাতে তুমি এর দ্বারা মানুষকে সতর্ক করতে পার, আর এটা মুমিনদের জন্যে উপদেশ (ভান্ডার), অতএব, তোমার মনে যেন এটা সম্পর্কে কোনরূপ দ্বিধা-সন্দেহ না থাকে (বা তা প্রচার করতে যেন তোমার অন্তর সংকীর্ণ না হয়)।
০০৩ اتَّبِعُوا مَا أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِ أَوْلِيَاءَ ۗ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ
তোমাদের নিকট তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে যা অবতীর্ণ করা হয়েছে, তোমরা তার অনুসরণ কর, আর তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে অন্য কোন বন্ধু ও অভিভাবকের অনুসরণ করো না, তোমরা খুব অল্পই উপদেশ গ্রহণ করে থাক।
০০৪ وَكَم مِّن قَرْيَةٍ أَهْلَكْنَاهَا فَجَاءَهَا بَأْسُنَا بَيَاتًا أَوْ هُمْ قَائِلُونَ
আর কত জনপদকেই না আমি ধ্বংস করেছি। ফলে আমার শাস্তি তাদের উপর রাত্রিকালে ঘুমন্ত অবস্থায় অথবা দ্বিপ্রহরে যখন তারা বিশ্রামরত ছিল তখনই আপতিত হয়েছে।
০০৫ فَمَا كَانَ دَعْوَاهُمْ إِذْ جَاءَهُم بَأْسُنَا إِلَّا أَن قَالُوا إِنَّا كُنَّا ظَالِمِينَ
আমার শাস্তি যখন তাদের কাছে এসে পড়েছিল, তখন তাদের মুখে ‘বাস্তবিকই আমরা অত্যাচারী ছিলাম’ এই কথা ছাড়া আর কিছুই ছিল না।
০০৬ فَلَنَسْأَلَنَّ الَّذِينَ أُرْسِلَ إِلَيْهِمْ وَلَنَسْأَلَنَّ الْمُرْسَلِينَ
অতঃপর আমি (কিয়ামতের দিন) যাদের কাছে রাসূল প্রেরণ করা হয়েছিল তাদেরকে এবং রাসূলদেরকেও অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করবো।
০০৭ فَلَنَقُصَّنَّ عَلَيْهِم بِعِلْمٍ ۖ وَمَا كُنَّا غَائِبِينَ
তখন আমি তাদের সমস্ত বিবরণ পূর্ণজ্ঞান অনুযায়ী প্রকাশ করে দেবো, আর আমি তো বে-খবর ছিলাম না।
০০৮ وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذٍ الْحَقُّ ۚ فَمَن ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
আর সেই দিনের ওজন হবে সঠিক। সুতরাং যাদের (পুণ্যের) পাল্লা ভারী হবে তারাই হবে কৃতকার্য ও সফলকাম।
০০৯ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَـٰئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُم بِمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَظْلِمُونَ
আর যাদের (পুণ্যের) পাল্লা হালকা হবে, তারা হবে সেসব লোক যারা নিজেদের ধ্বংস ও ক্ষতি নিজেরাই করেছে, কেননা, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে (বাণীকে) প্রত্যাখ্যান করতো।
০১০ وَلَقَدْ مَكَّنَّاكُمْ فِي الْأَرْضِ وَجَعَلْنَا لَكُمْ فِيهَا مَعَايِشَ ۗ قَلِيلًا مَّا تَشْكُرُونَ
আর নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে ভূ-পৃষ্ঠে থাকবার জায়গা দিয়েছি এবং আমি তোমাদের জন্যে ওতে জীবিকা নির্বাহের উপকরণগুলো সৃষ্টি করেছি, তোমরা খুব কমই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে থাকো।
০১১ وَلَقَدْ خَلَقْنَاكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنَاكُمْ ثُمَّ قُلْنَا لِلْمَلَائِكَةِ اسْجُدُوا لِآدَمَ فَسَجَدُوا إِلَّا إِبْلِيسَ لَمْ يَكُن مِّنَ السَّاجِدِينَ
আমিই তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তোমাদেরকে রূপ দান করেছি, তারপর আমি ফেরেস্তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছি, তোমরা আদম (আঃ)-কে সিজদা কর, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করলো, সে সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হল না।
০১২ قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ ۖ قَالَ أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِي مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُ مِن طِينٍ
তিনি (আল্লাহ) তাকে (ইবলিসকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি যখন তোমাকে আদমকে সেজদা করতে আদেশ করলাম, তখন কোন বস্তু তোমাকে সেজদা করা যেতে হতে নিবৃত্ত করলো? সে উত্তরে বললঃ আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি হতে।
০১৩ قَالَ فَاهْبِطْ مِنْهَا فَمَا يَكُونُ لَكَ أَن تَتَكَبَّرَ فِيهَا فَاخْرُجْ إِنَّكَ مِنَ الصَّاغِرِينَ
আল্লাহ বললেনঃ এ স্থান থেকে নেমে যাও, এখানে থেকে তুমি অহংকার করবে তা হতে পারে না; সুতরাং বের হয়ে যাও, নিশ্চয়ই তুমি নীচ ও লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত।
০১৪ قَالَ أَنظِرْنِي إِلَىٰ يَوْمِ يُبْعَثُونَ
সে বললঃ (হে আল্লাহ!) আমাকে পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত (বেঁচে থাকার) অবকাশ দিন।
০১৫ قَالَ إِنَّكَ مِنَ الْمُنظَرِينَ
আল্লাহ বললেনঃ (ঠিক আছে) তোমাকে অবকাশ দেয়া হল।
০১৬ قَالَ فَبِمَا أَغْوَيْتَنِي لَأَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَكَ الْمُسْتَقِيمَ
(ইবলিশ) বললঃ আপনি যে আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন এ কারণে আমিও শপথ করে বলছিঃ আমি (বানী আদমকে) তাদের (বিভ্রান্ত করার) জন্যে সরল পথের (মাথায়) অবশ্যই ওঁৎ পেতে বসে থাকবো।
০১৭ ثُمَّ لَآتِيَنَّهُم مِّن بَيْنِ أَيْدِيهِمْ وَمِنْ خَلْفِهِمْ وَعَنْ أَيْمَانِهِمْ وَعَن شَمَائِلِهِمْ ۖ وَلَا تَجِدُ أَكْثَرَهُمْ شَاكِرِينَ
অতঃপর আমি (পথভ্রষ্ট করার উদ্দেশ্যে) তাদের সম্মুখ দিয়ে, পিছন দিয়ে, ডান দিক দিয়ে এবং বাম দিক দিয়ে তাদের কাছে আসবো, আপনি তাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞরূপে পাবেন না।
০১৮ قَالَ اخْرُجْ مِنْهَا مَذْءُومًا مَّدْحُورًا ۖ لَّمَن تَبِعَكَ مِنْهُمْ لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنكُمْ أَجْمَعِينَ
তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ তুমি এখান থেকে লাঞ্ছিত ও বিতাড়িত অবস্থায় বের হ্যে যাও, তাদের (বানী আদমের) মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের সকলের দ্বারা জাহান্নাম পূর্ণ করবো।
০১৯ وَيَا آدَمُ اسْكُنْ أَنتَ وَزَوْجُكَ الْجَنَّةَ فَكُلَا مِنْ حَيْثُ شِئْتُمَا وَلَا تَقْرَبَا هَـٰذِهِ الشَّجَرَةَ فَتَكُونَا مِنَ الظَّالِمِينَ
আর হে আদম! তুমি এবং তোমার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস কর এবং এখানে তোমাদের মনে যা চায় তাই খাও; কিন্তু এই বৃক্ষের নিকটবর্তী হয়ো না, অন্যথায় অত্যাচারীদের মধ্যে গণ্য হয়ে পড়বে।
০২০ فَوَسْوَسَ لَهُمَا الشَّيْطَانُ لِيُبْدِيَ لَهُمَا مَا وُورِيَ عَنْهُمَا مِن سَوْآتِهِمَا وَقَالَ مَا نَهَاكُمَا رَبُّكُمَا عَنْ هَـٰذِهِ الشَّجَرَةِ إِلَّا أَن تَكُونَا مَلَكَيْنِ أَوْ تَكُونَا مِنَ الْخَالِدِينَ
অতঃপর তাদের লজ্জাস্থান যা পরস্পরের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল তা প্রকাশ করার জন্যে শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দিলো, আর বললঃ তোমাদের প্রতিপালক এই বৃক্ষের কাছে যেতে নিষেধ করেছেন এর কারণ এ ছাড়া কিছুই নয় যে, তোমরা যেন ফেরেস্তা হয়ে না যাও অথবা (এই জান্নাতে) চিরন্তন জীবন লাভ করতে না পার।
০২১ وَقَاسَمَهُمَا إِنِّي لَكُمَا لَمِنَ النَّاصِحِينَ
সে তাদের উভয়ের নিকট শপথ করে বললঃ আমি তোমাদের হিতাকাঙ্ক্ষী অন্যতম।
০২২ فَدَلَّاهُمَا بِغُرُورٍ ۚ فَلَمَّا ذَاقَا الشَّجَرَةَ بَدَتْ لَهُمَا سَوْآتُهُمَا وَطَفِقَا يَخْصِفَانِ عَلَيْهِمَا مِن وَرَقِ الْجَنَّةِ ۖ وَنَادَاهُمَا رَبُّهُمَا أَلَمْ أَنْهَكُمَا عَن تِلْكُمَا الشَّجَرَةِ وَأَقُل لَّكُمَا إِنَّ الشَّيْطَانَ لَكُمَا عَدُوٌّ مُّبِينٌ
সুতরাং সে (ইবলিস) তাঁদের উভয়কে প্রতারণা ও ছলনা দ্বারা নীচে নিয়ে আসল (অর্থাৎ বিভ্রান্ত করলো)। ফলে যখন তারা সেই নিষিদ্ধ গাছের স্বাদ গ্রহণ করে ফেললো, তখন তাদের লজ্জাস্থান তাদের কাছে প্রকাশ হয়ে পড়লো এবং জান্নাতের গাছের পাতা দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত করতে লাগলো, এ সময় তাদের প্রতিপালক তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ আমি কি এ বৃক্ষ সম্পর্কে তোমাদেরকে নিষেধ করি নি? আর শয়তান যে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু তা কি আমি তোমাদেরকে বলি নি?
০২৩ قَالَا رَبَّنَا ظَلَمْنَا أَنفُسَنَا وَإِن لَّمْ تَغْفِرْ لَنَا وَتَرْحَمْنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
তখন তারা বললঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছি, আপনি যদি আমাদেরকে দয়া না করেন তবে অবশ্যই আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বো।
০২৪ قَالَ اهْبِطُوا بَعْضُكُمْ لِبَعْضٍ عَدُوٌّ ۖ وَلَكُمْ فِي الْأَرْضِ مُسْتَقَرٌّ وَمَتَاعٌ إِلَىٰ حِينٍ
তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ তোমরা একে অন্যের শত্রুরূপে এখান থেকে নেমে যাও, তোমাদের জন্যে পৃথিবীতে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বসবাস করা এবং তথায় জীবন ধারণের উপযোগী সামগ্রীর ব্যবস্থা রয়েছে।
০২৫ قَالَ فِيهَا تَحْيَوْنَ وَفِيهَا تَمُوتُونَ وَمِنْهَا تُخْرَجُونَ
তিনি আরও বললেনঃ সেই পৃথিবীতেই তোমরা জীবন-যাপন করবে, সেখানেই তোমাদের মৃত্যু সংঘটিত হবে এবং তথা হতেই তোমাদেরকে বের করা হবে।
০২৬ يَا بَنِي آدَمَ قَدْ أَنزَلْنَا عَلَيْكُمْ لِبَاسًا يُوَارِي سَوْآتِكُمْ وَرِيشًا ۖ وَلِبَاسُ التَّقْوَىٰ ذَٰلِكَ خَيْرٌ ۚ ذَٰلِكَ مِنْ آيَاتِ اللَّهِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ
হে বানী আদম! আমি তোমাদেরকে লজ্জাস্থান আবৃত করার ও বেশভুষার জন্যে তোমাদের পোশাক পরিচ্ছদের উপকরণ অবতীর্ণ করেছি (বেশভুষার তুলনায়) আল্লাহ-ভীতি পরিচ্ছদই সর্বোত্তম পরিচ্ছদ এটা আল্লাহর নিদর্শন সমূহের অন্যতম নিদর্শন, সম্ভবতঃ মানুষ এটা হতে উপদেশ গ্রহণ করবে।
০২৭ يَا بَنِي آدَمَ لَا يَفْتِنَنَّكُمُ الشَّيْطَانُ كَمَا أَخْرَجَ أَبَوَيْكُم مِّنَ الْجَنَّةِ يَنزِعُ عَنْهُمَا لِبَاسَهُمَا لِيُرِيَهُمَا سَوْآتِهِمَا ۗ إِنَّهُ يَرَاكُمْ هُوَ وَقَبِيلُهُ مِنْ حَيْثُ لَا تَرَوْنَهُمْ ۗ إِنَّا جَعَلْنَا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ لِلَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ
হে আদম সন্তানগণ! শয়তান যেন তোমাদেরকে সেরূপ ফিতনায় জড়িয়ে ফেলতে না পারে যেরূপ তোমাদের পিতা-মাতাকে (ফিতনায় জড়িয়ে ফেলে) জান্নাত হতে বহিষ্কৃত করেছিল এবং তাদেরকে তাদের লজ্জাস্থান দেখাবার জন্যে বিবস্ত্র করেছিল, সে নিজে এবং তার দল তোমাদেরকে দেখতে পাও না, নিঃসন্দেহে শয়তানকে আমি বেঈমান লোকদের বন্ধু ও অভিভাবক বানিয়ে দিয়েছে।
০২৮ وَإِذَا فَعَلُوا فَاحِشَةً قَالُوا وَجَدْنَا عَلَيْهَا آبَاءَنَا وَاللَّهُ أَمَرَنَا بِهَا ۗ قُلْ إِنَّ اللَّهَ لَا يَأْمُرُ بِالْفَحْشَاءِ ۖ أَتَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
যখন তারা কোন নিকৃষ্ট ও অশ্লীল কর্ম করে, তখন তারা বলেঃ আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এসব কাজ করতে পেয়েছি এবং আল্লাহও আমাদেরকে এটা করতে নির্দেশ দিয়েছেন, হে মুহাম্মদ (সঃ)! তুমি ঘোষণা করে দাও যে, আল্লাহ অশ্লীল ও নিকৃষ্ট কর্মের নির্দেশ দেন না, তোমরা কি আল্লাহ সম্পর্কে এমন সব কথা বলছ যে বিষয়ে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই?
০২৯ قُلْ أَمَرَ رَبِّي بِالْقِسْطِ ۖ وَأَقِيمُوا وُجُوهَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَادْعُوهُ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ ۚ كَمَا بَدَأَكُمْ تَعُودُونَ
তুমি ঘোষণা করে দাওঃ আমার প্রতিপালক ন্যায়ের নির্দেশ দিয়েছেন এবং (আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে,) তোমরা প্রত্যেক নামাযের সময় তোমাদের মুখমণ্ডলকে (কিবলার দিকে) স্থির রাখ ও তাঁরই আনুগত্যে বিশুদ্ধ মনে একনিষ্ঠভাবে তাঁকেই ডাক, তোমাদেরকে প্রথমে যেভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে, তোমরা তেমনিভাবে ফিরে আসবে।
০৩০ فَرِيقًا هَدَىٰ وَفَرِيقًا حَقَّ عَلَيْهِمُ الضَّلَالَةُ ۗ إِنَّهُمُ اتَّخَذُوا الشَّيَاطِينَ أَوْلِيَاءَ مِن دُونِ اللَّهِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُم مُّهْتَدُونَ
এক দলকে আল্লাহ হেদায়েত দান করেছেন এবং অপর দলের জন্যে ভ্রান্তি স্থির হয়েছে, কারণ তারা আল্লাহকে ছেড়ে শয়তানকে অভিভাবক ও বন্ধু বানিয়েছিল এবং নিজেদেরকে হেদায়েতপ্রাপ্ত মনে করত।
০৩১ يَا بَنِي آدَمَ خُذُوا زِينَتَكُمْ عِندَ كُلِّ مَسْجِدٍ وَكُلُوا وَاشْرَبُوا وَلَا تُسْرِفُوا ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
হে আদম সন্তানগণ! প্রত্যেক নামাযের সময় সুন্দর পোশাক-পরিচ্ছদ গ্রহণ কর, আর খাও এবং পান কর, (তবে পরিচ্ছদ ও পানাহারে) অপব্যয় ও অমিতাচার করবে না, কেননা, আল্লাহ অপব্যয় কারীদের ভালোবাসেন না।
০৩২ قُلْ مَنْ حَرَّمَ زِينَةَ اللَّهِ الَّتِي أَخْرَجَ لِعِبَادِهِ وَالطَّيِّبَاتِ مِنَ الرِّزْقِ ۚ قُلْ هِيَ لِلَّذِينَ آمَنُوا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا خَالِصَةً يَوْمَ الْقِيَامَةِ ۗ كَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি জিজ্ঞেস কর যেঃ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্যে যেসব শোভনীয় বস্তু ও পবিত্র জীবিকা সৃষ্টি করেছেন, তা কে নিষিদ্ধ করেছে? তুমি ঘোষণা করে দাওঃ এ সব বস্তু পার্থিব জীবনে, বিশেষ করে কিয়ামতের দিনে ঐসব লোকের জন্যে যারা মুমিন হবে, এমনিভাবে আমি জ্ঞানী সম্প্রদায়ের জন্যে নিদর্শন সমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করে থাকি।
০৩৩ قُلْ إِنَّمَا حَرَّمَ رَبِّيَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ وَالْإِثْمَ وَالْبَغْيَ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَأَن تُشْرِكُوا بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ سُلْطَانًا وَأَن تَقُولُوا عَلَى اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি ঘোষণা করে দাওঃ আমার প্রতিপালক প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য অশ্লীলতা, পাপকাজ, অসংগত ও অত্যাচার ও বাড়াবাড়ি এবং আল্লাহর সাথে কোন কিছুকে শরীক করা যার পক্ষে আল্লাহ কোন দলীল-প্রমাণ অবতীর্ণ করেন নি, আর আল্লাহ সম্বন্ধে এমন কিছু বলা যে সম্বন্ধে তোমাদের কোন জ্ঞান নেই; (ইত্যাদি কাজ ও বিষয়সমূহ) নিষিদ্ধ করেছেন।
০৩৪ وَلِكُلِّ أُمَّةٍ أَجَلٌ ۖ فَإِذَا جَاءَ أَجَلُهُمْ لَا يَسْتَأْخِرُونَ سَاعَةً ۖ وَلَا يَسْتَقْدِمُونَ
প্রত্যেক জাতির জন্যে একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে। সুতরাং যখন সেই নির্দিষ্ট সময় উপস্থিত হবে তখন তা এক মুহূর্তকালও আগে এবং পরে হবে না।
০৩৫ يَا بَنِي آدَمَ إِمَّا يَأْتِيَنَّكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي ۙ فَمَنِ اتَّقَىٰ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
হে আদম সন্তান! স্মরণ রাখ, তোমাদের মধ্য হতে যদি এমন কোন রাসূল তোমাদের নিকট আসে এবং আমার বাণী ও নিদর্শন তোমাদের কাছে বর্ণনা করে; তখন যারা (আল্লাহকে) ভয় করবে এবং নিজেদেরকে সংশোধন করে নেবে, তাদের কোন ভয়-ভীতি থাকবে না এবং তারা দুঃখিত ও চিন্তিত হবে না।
০৩৬ وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
আর যারা আমার বাণী ও বিধানকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং অহংকার করে তা হতে দূরে সরে রয়েছে, তারাই হবে জাহান্নামী, সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।
০৩৭ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ ۚ أُولَـٰئِكَ يَنَالُهُمْ نَصِيبُهُم مِّنَ الْكِتَابِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءَتْهُمْ رُسُلُنَا يَتَوَفَّوْنَهُمْ قَالُوا أَيْنَ مَا كُنتُمْ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ ۖ قَالُوا ضَلُّوا عَنَّا وَشَهِدُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ
যে ব্যক্তি আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করে এবং তাঁর বাণী ও নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে; তার চেয়ে বড় অত্যাচারী আর কে হতে পারে? তাদের ভাগ্যলিপিতে লিখিত নির্ধারিত অংশ তাদের নিকট পৌঁছবেই, পরিশেষে যখন আমার প্রেরিত ফেরেস্তা তাদের প্রাণ হরণের জন্যে তাদের নিকট আসবে, তখন ফেরেস্তারা জিজ্ঞেস করবেঃ আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে তোমরা ডাকতে তারা কোথায়? তখন তারা উত্তরে বলবেঃ আমাদের হতে তারা অদৃশ্য হয়ে গেছে, আর নিজেরাই স্বীকারোক্তি করবে যে, তারা কাফির বা সত্য প্রত্যাখ্যানকারী ছিল।
০৩৮ قَالَ ادْخُلُوا فِي أُمَمٍ قَدْ خَلَتْ مِن قَبْلِكُم مِّنَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ فِي النَّارِ ۖ كُلَّمَا دَخَلَتْ أُمَّةٌ لَّعَنَتْ أُخْتَهَا ۖ حَتَّىٰ إِذَا ادَّارَكُوا فِيهَا جَمِيعًا قَالَتْ أُخْرَاهُمْ لِأُولَاهُمْ رَبَّنَا هَـٰؤُلَاءِ أَضَلُّونَا فَآتِهِمْ عَذَابًا ضِعْفًا مِّنَ النَّارِ ۖ قَالَ لِكُلٍّ ضِعْفٌ وَلَـٰكِن لَّا تَعْلَمُونَ
আল্লাহ বলবেনঃ তোমাদের পূর্বে মানুষ ও জিন হতে যেসব সম্প্রদায় গত হয়েছে, তাদের সাথে তোমরাও জাহান্নামে প্রবেশ কর, যখনই কোন দল তাতে প্রবেশ করবে তখনই অপর দলকে তারা অভিসম্পাত করবে, পরিশেষে যখন তাতে সকলে জামায়েত হবে, তখন পরবর্তীগণ পূর্ববর্তীদের সম্পর্কে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! এরাই আমাদেরকে বিভ্রান্ত করেছে, সুতরাং আপনি এদের জাহান্নামের শাস্তি দ্বিগুণ দিন তখন আল্লাহ বলবেনঃ প্রত্যেকের জন্যেই দ্বিগুণ রয়েছে; কিন্তু তোমরা তা জ্ঞাত নও।
০৩৯ وَقَالَتْ أُولَاهُمْ لِأُخْرَاهُمْ فَمَا كَانَ لَكُمْ عَلَيْنَا مِن فَضْلٍ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْسِبُونَ
আর পূর্ববর্তী লোকেরা পরবর্তী লোকদের উদ্দেশ্যে বলবেঃ আমাদের উপর তোমাদের কোন শ্রেষ্ঠত্ব নেই, সুতরাং তোমরা তোমাদের কৃতকর্মের ফলস্বরূপ শাস্তি ভোগ করতে থাক।
০৪০ إِنَّ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَاسْتَكْبَرُوا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ أَبْوَابُ السَّمَاءِ وَلَا يَدْخُلُونَ الْجَنَّةَ حَتَّىٰ يَلِجَ الْجَمَلُ فِي سَمِّ الْخِيَاطِ ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُجْرِمِينَ
নিশ্চয় যারা আমার আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং অহংকার বশতঃ তা থেকে ফিরে থাকে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না সূচের ছিদ্র পথে উষ্ট্র প্রবেশ করে, এমনিভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
০৪১ لَهُم مِّن جَهَنَّمَ مِهَادٌ وَمِن فَوْقِهِمْ غَوَاشٍ ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الظَّالِمِينَ
তাদের জন্যে হবে জাহান্নামের (আগুনের) বিছানা এবং তাদের উপরে হবে আগুনের চাদর (যা তাদেরকে আচ্ছাদন করে নেবে)। এমনিভাবেই আমি যালিমদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
০৪২ وَالَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّالِحَاتِ لَا نُكَلِّفُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا أُولَـٰئِكَ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ ۖ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ
আর যারা ঈমান এনেছে ও ভাল কাজ করেছে এমন কোন ব্যক্তিকে আমি তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণ করি না; তারাই হবে জান্নাতবাসী, এবং তারাই হবে সেখানে চিরকাল অবস্থানকারী।
০৪৩ وَنَزَعْنَا مَا فِي صُدُورِهِم مِّنْ غِلٍّ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمُ الْأَنْهَارُ ۖ وَقَالُوا الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي هَدَانَا لِهَـٰذَا وَمَا كُنَّا لِنَهْتَدِيَ لَوْلَا أَنْ هَدَانَا اللَّهُ ۖ لَقَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ ۖ وَنُودُوا أَن تِلْكُمُ الْجَنَّةُ أُورِثْتُمُوهَا بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আর তাদের অন্তরে যা কিছু ঈর্ষা ও বিদ্বেষ রয়েছে তা আমি দূর করে দেবো, তাদের নিম্নদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হবে, তখন তারা বলবেঃ সমস্ত প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্যে যিনি আমাদেরকে হেদায়েতপ্রাপ্ত হতাম না, আমাদের প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূলগণ সত্যবাণী নিয়ে এসেছিলেন, আর তাদেরকে সম্বোধন করে বলা হবে, তোমরা যে (ভাল) আমল করতে তারই জন্যে তোমাদেরকে এই জান্নাতের উত্তরাধিকারী বানানো হয়েছে।
০৪৪ وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْجَنَّةِ أَصْحَابَ النَّارِ أَن قَدْ وَجَدْنَا مَا وَعَدَنَا رَبُّنَا حَقًّا فَهَلْ وَجَدتُّم مَّا وَعَدَ رَبُّكُمْ حَقًّا ۖ قَالُوا نَعَمْ ۚ فَأَذَّنَ مُؤَذِّنٌ بَيْنَهُمْ أَن لَّعْنَةُ اللَّهِ عَلَى الظَّالِمِينَ
আর তখন জান্নাতবাসীরা জাহান্নাম বাসীদেরকে (উপহাস করে) বলবেঃ আমাদের প্রতিপালক যেসব অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি আমাদেরকে দিয়েছিলেন, আমরা তা বাস্তবভাবে পেয়েছি; কিন্তু তোমাদের প্রতিপালক যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তা কি তোমরা সত্য ও বাস্তবরূপে পেয়েছো? তখন তারা বলবে হ্যাঁ, পেয়েছি, (এ সময়) তাদের মধ্যে জনৈক ঘোষক ঘোষণা করে দেবেন যে, যালিমদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত।
০৪৫ الَّذِينَ يَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ وَيَبْغُونَهَا عِوَجًا وَهُم بِالْآخِرَةِ كَافِرُونَ
যারা আল্লাহর পথে চলতে (মানুষকে) বাধা দিতো এবং ওতে বক্রতা অনুসন্ধান করতো, আর তারা পরকালকেও অস্বীকার করতো।
০৪৬ وَبَيْنَهُمَا حِجَابٌ ۚ وَعَلَى الْأَعْرَافِ رِجَالٌ يَعْرِفُونَ كُلًّا بِسِيمَاهُمْ ۚ وَنَادَوْا أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَن سَلَامٌ عَلَيْكُمْ ۚ لَمْ يَدْخُلُوهَا وَهُمْ يَطْمَعُونَ
এই উভয় শ্রেণীর লোকদের মাঝে পার্থক্যকারী একটি পর্দা রয়েছে, আর আ’রাফে (জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত উঁচু দেয়ালের উপরে) অনেক লোক থাকবে, তারা প্রত্যেককে তাদের লক্ষণ ও চিহ্ন দ্বারা চিনতে পারবে, আর জান্নাত বাসীদেরকে ডেকে বলবেঃ তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, তখনো এরা (আ’রাফবাসীরা) জান্নাতে প্রবেশ করেনি বটে; কিন্তু ওর আকাঙ্ক্ষা করে।
০৪৭ وَإِذَا صُرِفَتْ أَبْصَارُهُمْ تِلْقَاءَ أَصْحَابِ النَّارِ قَالُوا رَبَّنَا لَا تَجْعَلْنَا مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
আর যখন জাহান্নাম বাসীদের প্রতি তাদের দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয়া হবে, তখন তারা (আ’রাফবাসীরা) বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আমাদেরকে যালিম সম্প্রদায়ের সঙ্গী করবেন না।
০৪৮ وَنَادَىٰ أَصْحَابُ الْأَعْرَافِ رِجَالًا يَعْرِفُونَهُم بِسِيمَاهُمْ قَالُوا مَا أَغْنَىٰ عَنكُمْ جَمْعُكُمْ وَمَا كُنتُمْ تَسْتَكْبِرُونَ
আ’রাফবাসীরা যেসব জাহান্নামী লোককে তাদের লক্ষণ দ্বারা চিনতে পারবে তাদেরকে ডাক দিয়ে বলবেঃ তোমাদের বাহিনী (ও পার্থিব জীবনের ধন-সম্পদ) এবং তোমাদের গর্ব-অহংকার তোমাদের কোনই উপকারে আসল না।
০৪৯ أَهَـٰؤُلَاءِ الَّذِينَ أَقْسَمْتُمْ لَا يَنَالُهُمُ اللَّهُ بِرَحْمَةٍ ۚ ادْخُلُوا الْجَنَّةَ لَا خَوْفٌ عَلَيْكُمْ وَلَا أَنتُمْ تَحْزَنُونَ
আর সেই জান্নাতবাসীরা কি সে সমস্ত লোক যাদের সম্পর্কে তোমরা কসম করে বলতে যে, এদের প্রতি আল্লাহ দয়া করবেন না? (অথচ তাদের জন্যে এই ফরমান জারী হল যে,) তোমরা জান্নাতে প্রবেশ কর, তোমাদের কোন ভয় নেই এবং তোমরা চিন্তিত ও দুঃখিত হবে না।
০৫০ وَنَادَىٰ أَصْحَابُ النَّارِ أَصْحَابَ الْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا عَلَيْنَا مِنَ الْمَاءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ ۚ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى الْكَافِرِينَ
আর জাহান্নামবাসীরা জান্নাতবাসীদেরকে ডেকে বলবেঃ আমাদের উপর কিছু পানি ঢেলে দাও অথবা তোমাদের আল্লাহ প্রদত্ত জীবিকা হতে কিছু প্রদান কর, তারা বলবেঃ আল্লাহ এসব জিনিষ কাফেরদের প্রতি হারাম করে দিয়েছেন।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x