০০৭. সূরাঃ আল আ’রাফ

আয়াত অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ২০৬
রুকূঃ ২৪
১০১ تِلْكَ الْقُرَىٰ نَقُصُّ عَلَيْكَ مِنْ أَنبَائِهَا ۚ وَلَقَدْ جَاءَتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ فَمَا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا بِمَا كَذَّبُوا مِن قَبْلُ ۚ كَذَٰلِكَ يَطْبَعُ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِ الْكَافِرِينَ
ঐ জনপদগুলোর কিছু বৃত্তান্ত আমি তোমার নিকট বর্ণনা করছি, তাদের কাছে রাসূলগণ সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণসহ এসেছিল; কিন্তু পূর্বে তারা যা প্রত্যাখ্যান করেছিল তার প্রতি তারা ঈমান আনবার ছিল না, এমনিভাবেই আল্লাহ অবিশ্বাসীদের অন্তঃকরণের উপর মোহর মেরে দেন।
১০২ وَمَا وَجَدْنَا لِأَكْثَرِهِم مِّنْ عَهْدٍ ۖ وَإِن وَجَدْنَا أَكْثَرَهُمْ لَفَاسِقِينَ
আমি তাদের অধিকাংশকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষাকারীরূপে পাইনি, তবে তাদের অধিকাংশকে আমি ফাসেক (সত্যত্যাগী) পেয়েছি।
১০৩ ثُمَّ بَعَثْنَا مِن بَعْدِهِم مُّوسَىٰ بِآيَاتِنَا إِلَىٰ فِرْعَوْنَ وَمَلَئِهِ فَظَلَمُوا بِهَا ۖ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ
অতঃপর আমি মূসা (আঃ)-কে তাদের পর আমার আয়াত ও নিদর্শনসহ ফিরাউন ও তার পরিষদবর্গের নিকট পাঠালাম; কিন্তু তারা যুলুম করলো (অর্থাৎ আমার নিদর্শন অস্বীকার করলো), সুতরাং এই বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণাম কি হয়েছিল তা তুমি লক্ষ্য কর।
১০৪ وَقَالَ مُوسَىٰ يَا فِرْعَوْنُ إِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ
মূসা (আঃ) বললেনঃ হে ফিরাউন! আমি বিশ্ব-প্রতিপালকের পক্ষ হতে একজন রাসূল।
১০৫ حَقِيقٌ عَلَىٰ أَن لَّا أَقُولَ عَلَى اللَّهِ إِلَّا الْحَقَّ ۚ قَدْ جِئْتُكُم بِبَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّكُمْ فَأَرْسِلْ مَعِيَ بَنِي إِسْرَائِيلَ
আমার জন্য এটাই উপযুক্ত যে, আমি আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য কথা ছাড়া আর কিছু বলবো না (অর্থাৎ আল্লাহ সম্পর্কে সত্য কথা বলতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ) আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট দলীল ও প্রমাণ নিয়ে এসেছি, সুতরাং বানী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও।
১০৬ قَالَ إِن كُنتَ جِئْتَ بِآيَةٍ فَأْتِ بِهَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
তখন ফিরাউন বললঃ তুমি যদি বাস্তবিকই (আল্লাহর পক্ষ হতে) স্পষ্ট দলীল ও নিদর্শন এনে থাক তবে তুমি সত্যবাদী হলে তা উপস্থিত কর।
১০৭ فَأَلْقَىٰ عَصَاهُ فَإِذَا هِيَ ثُعْبَانٌ مُّبِينٌ
তখন মূসা (আঃ) তাঁর লাঠি নিক্ষেপ করলেন এবং সহসাই ওটা এক প্রকাশ্য (জীবিত) সাপে পরিণত হলো।
১০৮ وَنَزَعَ يَدَهُ فَإِذَا هِيَ بَيْضَاءُ لِلنَّاظِرِينَ
আর তিনি তার হাত বের করলেন, তৎক্ষণাৎ ওটা দর্শকদের দৃষ্টিতে শুভ্র ও উজ্জ্বল আলোকময় প্রতিভাত হল।
১০৯ قَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَـٰذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ
এ দেখে ফিরাউন সম্প্রদায়ের প্রধানরা বললঃ নিঃসন্দেহে এ ব্যক্তি বড় সুদক্ষ যাদুকর।
১১০ يُرِيدُ أَن يُخْرِجَكُم مِّنْ أَرْضِكُمْ ۖ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ
তিনি তোমাদেরকে তোমাদের জমি-জায়গা থেকে বের করে দিতে চান, এখন তোমাদের পরামর্শ কি?
১১১ قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ
তারা বললঃ তাকে এবং তার ভাই (হারূন)-কে কিছুদিনের অবকাশ দাও, আর শহরে শহরে সংগ্রাহক পাঠিয়ে দাও।
১১২ يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ
যেন তারা তোমার (ফিরাউন) নিকট প্রত্যেক সুদক্ষ যাদুকরকে উপস্থিত করে।
১১৩ وَجَاءَ السَّحَرَةُ فِرْعَوْنَ قَالُوا إِنَّ لَنَا لَأَجْرًا إِن كُنَّا نَحْنُ الْغَالِبِينَ
যাদুকররা ফিরাউনের কাছে এসে বললঃ আমরা যদি বিজয় লাভ করতে পারি তবে আমাদের জন্যে পুরস্কার থাকবে তো?
১১৪ قَالَ نَعَمْ وَإِنَّكُمْ لَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ
সে উত্তরে বললঃ হ্যাঁ, অবশ্যই তোমরাই হবে আমার দরবারের নিকটতম ব্যক্তি।
১১৫ قَالُوا يَا مُوسَىٰ إِمَّا أَن تُلْقِيَ وَإِمَّا أَن نَّكُونَ نَحْنُ الْمُلْقِينَ
অতঃপর যাদুকরগণ বললঃ হে মূসা (আঃ)! (প্রথমে) তুমিই কি তোমার লাঠি নিক্ষেপ করবে, না আমরাই (প্রথমে) নিক্ষেপ করবো?
১১৬ قَالَ أَلْقُوا ۖ فَلَمَّا أَلْقَوْا سَحَرُوا أَعْيُنَ النَّاسِ وَاسْتَرْهَبُوهُمْ وَجَاءُوا بِسِحْرٍ عَظِيمٍ
তিনি (মূসা আঃ) উত্তরে বললেনঃ প্রথমতঃ তোমরাই নিক্ষেপ কর, সুতরাং যখন তারা নিক্ষেপ করলো তখন লোকের চোখে যাদু করলো এবং তাদেরকে ভয় দেখালো ও আতঙ্কিত করলো, তারা খুব বড় রকমের যাদু দেখালো।
১১৭ وَأَوْحَيْنَا إِلَىٰ مُوسَىٰ أَنْ أَلْقِ عَصَاكَ ۖ فَإِذَا هِيَ تَلْقَفُ مَا يَأْفِكُونَ
তখন আমি মূসা-এর নিকট এই প্রত্যাদেশ পাঠালামঃ তুমি তোমার লাঠিখানা নিক্ষেপ কর, মূসা (আঃ) তা নিক্ষেপ করলে ওটা একটা বিরাট সাপ হয়ে সহসা ওদের অলীক (মিথ্যা) সৃষ্টিগুলোকে গিলে ফেলল।
১১৮ فَوَقَعَ الْحَقُّ وَبَطَلَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
পরিশেষে যা হক ছিল তা সত্য প্রমাণিত হল, আর যা কিছু বানানো হয়েছিল তা বাতিল প্রতিপন্ন হল।
১১৯ فَغُلِبُوا هُنَالِكَ وَانقَلَبُوا صَاغِرِينَ
আর ফিরাউন ও তার দলবলের লোকেরা মুকাবিলার ময়দানে পরাজিত হল এবং লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে গেল।
১২০ وَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سَاجِدِينَ
যাদুকরগণ তখন সিজদায় পড়ে গেল।
১২১ قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ
তারা পরিষ্কার ভাষায় বললঃ আমরা বিশ্ব প্রতিপালকের প্রতি অকপটে ঈমান আনলাম।
১২২ رَبِّ مُوسَىٰ وَهَارُونَ
(জিজ্ঞেস করা হল- কোন বিশ্ব প্রতিপালকের প্রতি? তারা উত্তরে বলল) মূসা ও হারূনের প্রতিপালকের প্রতি।
১২৩ قَالَ فِرْعَوْنُ آمَنتُم بِهِ قَبْلَ أَنْ آذَنَ لَكُمْ ۖ إِنَّ هَـٰذَا لَمَكْرٌ مَّكَرْتُمُوهُ فِي الْمَدِينَةِ لِتُخْرِجُوا مِنْهَا أَهْلَهَا ۖ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ
ফিরাউন বলল অনুমতি দেয়ার আগেই তোমরা তার উপর ঈমান আনলে? এটা অবশ্যই একটা চক্রান্ত আর তোমরা এ চক্রান্ত পাকিয়েছ শহরবাসীদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেয়ার জন্যে? সত্বরই তোমরা এর পরিণাম জানতে পারবে।
১২৪ لَأُقَطِّعَنَّ أَيْدِيَكُمْ وَأَرْجُلَكُم مِّنْ خِلَافٍ ثُمَّ لَأُصَلِّبَنَّكُمْ أَجْمَعِينَ
অবশ্যই আমি তোমাদের হাত ও পা উল্টোভাবে কেটে ফেলবে, তারপর তোমাদের সবাইকে আমি শূলে চড়াবো।
১২৫ قَالُوا إِنَّا إِلَىٰ رَبِّنَا مُنقَلِبُونَ
তারা (যাদুকররা) বললঃ নিশ্চয়ই আমরা আমাদের প্রতিপালকের নিকটে ফিরে যাবো।
১২৬ وَمَا تَنقِمُ مِنَّا إِلَّا أَنْ آمَنَّا بِآيَاتِ رَبِّنَا لَمَّا جَاءَتْنَا ۚ رَبَّنَا أَفْرِغْ عَلَيْنَا صَبْرًا وَتَوَفَّنَا مُسْلِمِينَ
তুমি আমাদের সাথে শত্রুতা করছো এই কারণে যে, আমাদের কাছে যখন আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলী এসেছে তখন আমরা ওগুলোর উপর ঈমান এনেছি, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদেরকে ধৈর্য দান করুন এবং মুসলমানরূপে আমাদের মৃত্যু দান করুন!
১২৭ وَقَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِ فِرْعَوْنَ أَتَذَرُ مُوسَىٰ وَقَوْمَهُ لِيُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ وَيَذَرَكَ وَآلِهَتَكَ ۚ قَالَ سَنُقَتِّلُ أَبْنَاءَهُمْ وَنَسْتَحْيِي نِسَاءَهُمْ وَإِنَّا فَوْقَهُمْ قَاهِرُونَ
ফিরাউন সম্প্রদায়ের সরদারগণ তাকে বললঃ তুমি কি মূসা (আঃ) ও তার সম্প্রদায়কে রাজ্যে অশান্তি ও বিপর্যয় সৃষ্টির জন্যে মুক্ত ছেড়ে দিবে এবং তোমাকে ও তোমার দেবতাগণকে বর্জন করে চলার সুযোগ দিবে? সে উত্তরে বললঃ আমি তাদের ছেলে সন্তানদের হত্যা করবো এবং তাদের নারীদেরকে জীবিত রাখবো, নিশ্চয় আমরা পরাক্রমশালী।
১২৮ قَالَ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِ اسْتَعِينُوا بِاللَّهِ وَاصْبِرُوا ۖ إِنَّ الْأَرْضَ لِلَّهِ يُورِثُهَا مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ ۖ وَالْعَاقِبَةُ لِلْمُتَّقِينَ
মূসা (আঃ) তার সম্প্রদায়কে বললেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা কর এবং ধৈর্য অবলম্বন কর, এই পৃথিবীর সার্বভৌম মালিক আল্লাহ, তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা ওর উত্তরাধিকারী করে থাকেন, শুভ পরিণাম ও শেষ সাফল্য তো মুত্তাকী বান্দাদেরই জন্যে।
১২৯ قَالُوا أُوذِينَا مِن قَبْلِ أَن تَأْتِيَنَا وَمِن بَعْدِ مَا جِئْتَنَا ۚ قَالَ عَسَىٰ رَبُّكُمْ أَن يُهْلِكَ عَدُوَّكُمْ وَيَسْتَخْلِفَكُمْ فِي الْأَرْضِ فَيَنظُرَ كَيْفَ تَعْمَلُونَ
তারা (মূসা আঃ- এর কওম) তাঁকে বললেনঃ আপনি আমাদের নিকট (নবীরূপে) আগমনের পূর্বেও আমরা (ফিরাউন কর্তৃক) নির্যাতিত হয়েছি এবং আপনার আগমনের পরও নির্যাতিত হচ্ছি, তখন তিনি (মূসা আঃ) বললেনঃ শীঘ্রই তোমাদের প্রতিপালক তোমাদের শত্রুকে ধ্বংস করবেন এবং তোমাদেরকে রাজ্যে তাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন, অতঃপর তোমরা কিরূপ কাজ কর তা তিনি দেখবেন।
১৩০ وَلَقَدْ أَخَذْنَا آلَ فِرْعَوْنَ بِالسِّنِينَ وَنَقْصٍ مِّنَ الثَّمَرَاتِ لَعَلَّهُمْ يَذَّكَّرُونَ
আমি ফিরাউনের অনুসারীদেরকে কয়েক বছর পর্যন্ত দুর্ভিক্ষ ও ফসলহানির মধ্যে বিপন্ন রেখেছিলাম, উদ্দেশ্য ছিল, তারা হয়তো উপদেশ গ্রহণ করে ঈমান আনবে।
১৩১ فَإِذَا جَاءَتْهُمُ الْحَسَنَةُ قَالُوا لَنَا هَـٰذِهِ ۖ وَإِن تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌ يَطَّيَّرُوا بِمُوسَىٰ وَمَن مَّعَهُ ۗ أَلَا إِنَّمَا طَائِرُهُمْ عِندَ اللَّهِ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
যখন তাদের সুখ-শান্তি ও কল্যাণ হতো তখন তারা বলতোঃ এটা তো আমাদের জন্য, আর যদি তাদের দুঃখ, দৈন্য ও বিপদ-আপদ হতো তখন তারা ওটাকে মূসা (আঃ) ও তার সঙ্গী-সাথীদের মন্দভাগ্যের কারণরূপে নিরূপণ করতো, তোমরা জেনে রেখো যে, তাদের অকল্যাণ আল্লাহরই নিয়ন্ত্রণাধীন; কিন্তু তাদের অধিকাংশ সে সম্পর্কে কোন জ্ঞান রাখে না।
১৩২ وَقَالُوا مَهْمَا تَأْتِنَا بِهِ مِنْ آيَةٍ لِّتَسْحَرَنَا بِهَا فَمَا نَحْنُ لَكَ بِمُؤْمِنِينَ
তারা বললঃ আমাদেরকে যাদু করবার জন্যে যে কোন নিদর্শনই পেশ কর না কেন আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো না।
১৩৩ فَأَرْسَلْنَا عَلَيْهِمُ الطُّوفَانَ وَالْجَرَادَ وَالْقُمَّلَ وَالضَّفَادِعَ وَالدَّمَ آيَاتٍ مُّفَصَّلَاتٍ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُّجْرِمِينَ
শেষ পর্যন্ত আমি তাদের উপর প্লাবন, পঙ্গপাল, উকুন, ব্যাঙ ও রক্তধারার শাস্তি পাঠিয়ে কষ্ট দেই, এগুলো ছিল আমার সুস্পষ্ট নিদর্শন; কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত দাম্ভিকতা ও অহংকারেই মেতে রইলো, তারা ছিল একটি অপরাধী জাতি।
১৩৪/td> وَلَمَّا وَقَعَ عَلَيْهِمُ الرِّجْزُ قَالُوا يَا مُوسَى ادْعُ لَنَا رَبَّكَ بِمَا عَهِدَ عِندَكَ ۖ لَئِن كَشَفْتَ عَنَّا الرِّجْزَ لَنُؤْمِنَنَّ لَكَ وَلَنُرْسِلَنَّ مَعَكَ بَنِي إِسْرَائِيلَ
তাদের উপর কোন বালা-মুসিবত ও বিপদ-আপদ আপতিত হলে তারা বলতোঃ হে মূসা (আঃ) আমাদের এই বিপদ দূর হওয়ার নিমিত্তে তোমার প্রতিপালকের নিকট দু’আ কর, যার প্রতিশ্রুতি তিনি তোমার সাথে করেছেন, যদি আমাদের বিপদ দূর করে দিতে পার তবে আমরা তোমার প্রতি ঈমান আনবো এবং তোমার সাথে বানী ইসরাঈলগণকে পাঠিয়ে দেবো।
১৩৫ فَلَمَّا كَشَفْنَا عَنْهُمُ الرِّجْزَ إِلَىٰ أَجَلٍ هُم بَالِغُوهُ إِذَا هُمْ يَنكُثُونَ
অতঃপর যখনই আমি তাদের হতে সেই আযাবকে এক নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত অপসারিত করতাম যাতে তারা উপনীত হতো, তখনই আবার তারা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করতো।
১৩৬ فَانتَقَمْنَا مِنْهُمْ فَأَغْرَقْنَاهُمْ فِي الْيَمِّ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ
সুতরাং আমি (এই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের জন্যে) তাদের হতে প্রতিশোধ নিলাম এবং তাদেরকে অতল সমুদ্রে ডুবিয়ে মারলাম, কেননা তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, আর এই ব্যাপারে তারা ছিল সম্পূর্ণ গাফিল বা উদাসীন।
১৩৭ وَأَوْرَثْنَا الْقَوْمَ الَّذِينَ كَانُوا يُسْتَضْعَفُونَ مَشَارِقَ الْأَرْضِ وَمَغَارِبَهَا الَّتِي بَارَكْنَا فِيهَا ۖ وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ الْحُسْنَىٰ عَلَىٰ بَنِي إِسْرَائِيلَ بِمَا صَبَرُوا ۖ وَدَمَّرْنَا مَا كَانَ يَصْنَعُ فِرْعَوْنُ وَقَوْمُهُ وَمَا كَانُوا يَعْرِشُونَ
যে জাতিকে দুর্বল ভাবা হতো আমি তাদেরকে আমার কল্যাণপ্রাপ্ত রাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিমের উত্তরাধিকারী বানাই, আর বানী ইসবাঈল জাতি সম্পর্কে তোমার প্রতিপালকের শুভ ও কল্যাণময় বাণী (প্রতিশ্রুতি) পূর্ণ হল, কেননা তারা ধৈর্যধারণ করেছিল, আর ফিরাউন ও তার সম্প্রদায়ের নির্মিত কীর্তিকলাপ ও উচ্চ প্রাসাদসমূহকে আমি ধ্বংস করেছি।
১৩৮ وَجَاوَزْنَا بِبَنِي إِسْرَائِيلَ الْبَحْرَ فَأَتَوْا عَلَىٰ قَوْمٍ يَعْكُفُونَ عَلَىٰ أَصْنَامٍ لَّهُمْ ۚ قَالُوا يَا مُوسَى اجْعَل لَّنَا إِلَـٰهًا كَمَا لَهُمْ آلِهَةٌ ۚ قَالَ إِنَّكُمْ قَوْمٌ تَجْهَلُونَ
আমি বানী ইসরাঈলকে সমুদ্র পার করিয়ে দিলাম, অতঃপর তারা প্রতিমা পূজায় রত এক জাতির সংস্পর্শে আসলো, তখন তারা বললঃ হে মূসা (আঃ)! তাদের যেরূপ মা’বূদ রয়েছে, আমাদের জন্যেও ঐরূপ মা’বূদ বানিয়ে দিন, তখন মূসা বললেনঃ তোমরা একটি গণ্ডমূর্খ জাতি।
১৩৯ إِنَّ هَـٰؤُلَاءِ مُتَبَّرٌ مَّا هُمْ فِيهِ وَبَاطِلٌ مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
এসব লোক যে কাজে লিপ্ত রয়েছে, তা তো ধ্বংস করা হবে, আর তারা যা করছে তা অমূলক ও বাতিল বিষয়।
১৪০ قَالَ أَغَيْرَ اللَّهِ أَبْغِيكُمْ إِلَـٰهًا وَهُوَ فَضَّلَكُمْ عَلَى الْعَالَمِينَ
তিনি (মূসা আঃ) আরও বললেনঃ আমি কি আল্লাহকে ছেড়ে তোমাদের জন্যে অন্য কোন মা’বূদের সন্ধান করবো? অথচ তিনিই হলেন একমাত্র আল্লাহ যিনি তোমাদেরকে বিশ্বজগতে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন!
১৪১ وَإِذْ أَنجَيْنَاكُم مِّنْ آلِ فِرْعَوْنَ يَسُومُونَكُمْ سُوءَ الْعَذَابِ ۖ يُقَتِّلُونَ أَبْنَاءَكُمْ وَيَسْتَحْيُونَ نِسَاءَكُمْ ۚ وَفِي ذَٰلِكُم بَلَاءٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَظِيمٌ
স্মরণ কর সেই সময়টির কথা, যখন আমি তোমাদেরকে ফিরাউনের অনুসারীদের (দাসত্ব) হতে মুক্তি দিয়েছি, তারা তোমাদেরকে অতিশয় মর্মান্তিক কষ্টদায়ক ও ন্যাক্কারজনক শাস্তি দিতো, তোমাদের পুত্রদেরকে হত্যা করতো এবং নারীদেরকে জীবিত রাখতো, এটা ছিল তোমাদের জন্যে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক বিরাট পরীক্ষা।
১৪২ وَوَاعَدْنَا مُوسَىٰ ثَلَاثِينَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَاهَا بِعَشْرٍ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ۚ وَقَالَ مُوسَىٰ لِأَخِيهِ هَارُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ
আর আমি মূসা (আঃ)- কে ওয়াদা দিয়েছিলাম ত্রিশ রাত্রের (সীনাই পর্বতের উপর অবস্থান করার) জন্যে, পরে আরও দশদিন দ্বারা ওটা পূর্ণ করেছিলাম, ফলে তার প্রতিপালকের নির্ধারিত সময়টি চল্লিশ দিন দ্বারা পূর্ণতা লাভ করে, (রওয়ানা হবার সময়) মূসা (আঃ) তার ভাই হারূনকে বলেছিলেনঃ আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করবে এবং তাদেরকে সংশোধন করার কাজ করতে থাকবে, (সাবধান!) বিপর্যয় ও ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের অনুসরণ করবে না।
১৪৩ وَلَمَّا جَاءَ مُوسَىٰ لِمِيقَاتِنَا وَكَلَّمَهُ رَبُّهُ قَالَ رَبِّ أَرِنِي أَنظُرْ إِلَيْكَ ۚ قَالَ لَن تَرَانِي وَلَـٰكِنِ انظُرْ إِلَى الْجَبَلِ فَإِنِ اسْتَقَرَّ مَكَانَهُ فَسَوْفَ تَرَانِي ۚ فَلَمَّا تَجَلَّىٰ رَبُّهُ لِلْجَبَلِ جَعَلَهُ دَكًّا وَخَرَّ مُوسَىٰ صَعِقًا ۚ فَلَمَّا أَفَاقَ قَالَ سُبْحَانَكَ تُبْتُ إِلَيْكَ وَأَنَا أَوَّلُ الْمُؤْمِنِينَ
এবং মূসা (আঃ) যখন নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হলেন এবং তাঁর প্রতিপালক তাঁর সাথে কথা বললেন, তখন তিনি নিবেদন করলেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে অনুমতি দিন, আমি আপনাকে দেখবো, তখন আল্লাহ বললেনঃ তুমি আমাকে আদৌ দেখতে পারবে না, তবে তুমি ঐ পাহাড়ের দিকে তাকাও, যদি ঐ পাহাড় স্বস্থানে স্থির থাকে তবে তুমি আমাকে দেখতে পারবে, অতঃপর তার প্রতিপালক যখন পাহাড়ের উপর আলোক সম্পাত করলেন, তখন তা পাহাড়কে চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দিলো, আর মূসা গেলেন, অতঃপর যখন তার চেতনা ফিরে আসলো, তখন তিনি বললেনঃ আপনি মহিমাময়, আপনি পবিত্র সত্তা, আমি তাওবা করছি, আর আমিই মু’মিনদের সর্বপ্রথম।
১৪৪ قَالَ يَا مُوسَىٰ إِنِّي اصْطَفَيْتُكَ عَلَى النَّاسِ بِرِسَالَاتِي وَبِكَلَامِي فَخُذْ مَا آتَيْتُكَ وَكُن مِّنَ الشَّاكِرِينَ
তিনি (আল্লাহ) বললেনঃ হে মূসা (আঃ)! আমি তোমাকেই আমার রিসালাত ও আমার সাথে বাক্যালাপের জন্য লোকদের মধ্য হতে মনোনীত করেছি, অতএব, এখন আমি তোমাকে যা কিছু দেই তা তুমি গ্রহণ কর এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারীদের অন্তর্ভুক্ত হও।
১৪৫ وَكَتَبْنَا لَهُ فِي الْأَلْوَاحِ مِن كُلِّ شَيْءٍ مَّوْعِظَةً وَتَفْصِيلًا لِّكُلِّ شَيْءٍ فَخُذْهَا بِقُوَّةٍ وَأْمُرْ قَوْمَكَ يَأْخُذُوا بِأَحْسَنِهَا ۚ سَأُرِيكُمْ دَارَ الْفَاسِقِينَ
অতঃপর আমি মূসা (আঃ)-কে ফলকের উপর প্রত্যেক প্রকারের উপদেশ এবং সর্ববিষয়ের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা লিখে দিয়েছি, (অতঃপর তাকে বললাম) তুমি ওকে দৃঢ় ও শক্তভাবে গ্রহণ কর এবং তোমার সম্প্রদায়কে-এর সুন্দর সুন্দর বিধানগুলো মেনে চলতে আদেশ কর, আমি ফাসেক বা সত্যত্যাগীদের আবাসস্থল শীঘ্রই তোমাদেরকে প্রদর্শন করবো।
১৪৬ سَأَصْرِفُ عَنْ آيَاتِيَ الَّذِينَ يَتَكَبَّرُونَ فِي الْأَرْضِ بِغَيْرِ الْحَقِّ وَإِن يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَّا يُؤْمِنُوا بِهَا وَإِن يَرَوْا سَبِيلَ الرُّشْدِ لَا يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا وَإِن يَرَوْا سَبِيلَ الْغَيِّ يَتَّخِذُوهُ سَبِيلًا ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَكَانُوا عَنْهَا غَافِلِينَ
এই ধরণীর বুকে যারা অন্যায়ভাবে গর্ব অহংকার করে বেড়ায় আমি তাদেরকে আমার নিদর্শনসমূহ হতে ফিরিয়ে রাখবো, প্রত্যেকটি নিদর্শন দেখলেও তারা তাতে ঈমান আনবে না, তারা যদি হেদায়েতের পথও দেখতে পায় তবুও সেই পথকে তারা নিজেদের পথরূপে গ্রহণ করবে না; কিন্তু তারা ভ্রান্ত ও গোমরাহীর পথ দেখলে তাকেই তারা নিজেদের জীবনপথ রূপে গ্রহণ করবে, এর কারণ হল, তারা আমার নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে এবং তারা তা থেকে সম্পূর্ণরূপে অমনোযোগী ছিল।
১৪৭ وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَلِقَاءِ الْآخِرَةِ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ ۚ هَلْ يُجْزَوْنَ إِلَّا مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
যারা আমার নিদর্শনসমূহ ও পরকালের সাক্ষাতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাদের সমুদয় আমল বিনষ্ট হয়ে যায়, তারা যা করে থাকে তদানুযায়ী তাদেরকে প্রতিফল দেয়া হবে।
১৪৮ وَاتَّخَذَ قَوْمُ مُوسَىٰ مِن بَعْدِهِ مِنْ حُلِيِّهِمْ عِجْلًا جَسَدًا لَّهُ خُوَارٌ ۚ أَلَمْ يَرَوْا أَنَّهُ لَا يُكَلِّمُهُمْ وَلَا يَهْدِيهِمْ سَبِيلًا ۘ اتَّخَذُوهُ وَكَانُوا ظَالِمِينَ
মূসা (আঃ)-এর সম্প্রদায় তাঁর চলে যাবার পর নিজেদের অলংকার দ্বারা একটি বাছুরের (মত) দেহ তৈরি করে তাকে মা’বূদরূপে গ্রহণ করলো, ওটা হতে (গরুর মত শব্দ) হাম্বারব বের হতো, তারা কি দেখেনি যে, ওটা তাদের সাথে কথা বলে না এবং তাদেরকে কোন পথও দেখিয়ে দেয় না? তবুও তারা ওটাকে মা’বূদরূপে গ্রহণ করলো; বস্তুতঃ তারা ছিল বড় অত্যাচারী।
১৪৯ وَلَمَّا سُقِطَ فِي أَيْدِيهِمْ وَرَأَوْا أَنَّهُمْ قَدْ ضَلُّوا قَالُوا لَئِن لَّمْ يَرْحَمْنَا رَبُّنَا وَيَغْفِرْ لَنَا لَنَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ
আর যখন তারা তাদের কৃতকর্মের উপর লজ্জিত হল এবং দেখল যে, (প্রকৃতপক্ষ) তারা বিভ্রান্ত হয়েছে, তখন তারা বললঃ আমাদের প্রভু যদি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ না করেন এবং আমাদেরকে ক্ষমা না করেন তবে তো আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে যাবো।
১৫০ وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَىٰ إِلَىٰ قَوْمِهِ غَضْبَانَ أَسِفًا قَالَ بِئْسَمَا خَلَفْتُمُونِي مِن بَعْدِي ۖ أَعَجِلْتُمْ أَمْرَ رَبِّكُمْ ۖ وَأَلْقَى الْأَلْوَاحَ وَأَخَذَ بِرَأْسِ أَخِيهِ يَجُرُّهُ إِلَيْهِ ۚ قَالَ ابْنَ أُمَّ إِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُونِي وَكَادُوا يَقْتُلُونَنِي فَلَا تُشْمِتْ بِيَ الْأَعْدَاءَ وَلَا تَجْعَلْنِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
আর যখন মূসা (আঃ) রাগান্বিত ও মনক্ষুন্ন অবস্থায় নিজ জাতির নিকট ফিরে এসে বললেনঃ আমার চলে যাওয়ার পর তোমরা খুব খারাপভাবে আমার প্রতিনিধিত্ব করেছো, তোমরা তোমাদের প্রভুর নির্দেশের পূর্বেই কেন তাড়াহুড়া করতে গেলে? অতঃপর তিনি ফলকগুলো ফেলে দিলেন এবং স্বীয় ভাইয়ের মস্তক (চুল) ধরে নিজের দিকে টানতে লাগলেন, উনি (ভাই হারূন) বললেনঃ হে আমার মাতার পুত্র! এই লোকগুলো আমাকে দুর্বল করে ফেলেছিল এবং আমাকে মেরে ফেলতে উদ্যত হয়েছিল, অতএব তুমি আমাকে শত্রু সমক্ষে হাস্যস্পদ করো না, আর এই যালিম লোকদের মাধ্যে আমাকে গণ্য করো না।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x