০০৭. সূরাঃ আল আ’রাফ

আয়াত নং অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ২০৬
রুকূঃ ২৪
০৫১ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَهْوًا وَلَعِبًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا ۚ فَالْيَوْمَ نَنسَاهُمْ كَمَا نَسُوا لِقَاءَ يَوْمِهِمْ هَـٰذَا وَمَا كَانُوا بِآيَاتِنَا يَجْحَدُونَ
যারা নিজেদের দ্বীনকে খেল তামাশার বস্তুতে পরিণত করেছিল এবং পার্থিব জীবন যাদেরকে প্রতারণা ও গোলক ধাঁধায় নিমজ্জিত করে রেখেছিল, সুতরাং আজকের দিনে আমি তাদেরকে তেমনিভাবে ভুলে থাকবো যেমনিভাবে তারা এ দিনের সাক্ষাতের কথা ভুলে গিয়েছিল এবং যেমন তারা আমার নিদর্শন ও আয়াতসমূহকে অস্বীকার করছিল।
০৫২ وَلَقَدْ جِئْنَاهُم بِكِتَابٍ فَصَّلْنَاهُ عَلَىٰ عِلْمٍ هُدًى وَرَحْمَةً لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
আর আমি তাদের নিকট এমন একখানা কিতাব পৌঁছিয়ে ছিলাম যাকে আমি জ্ঞান তথ্যে সমৃদ্ধ ও সুবিস্তৃত করেছিলাম এবং যা ছিল ঈমানদার সম্প্রদায়ের জন্যে হেদায়েত ও রহমতের প্রতীক।
০৫৩ هَلْ يَنظُرُونَ إِلَّا تَأْوِيلَهُ ۚ يَوْمَ يَأْتِي تَأْوِيلُهُ يَقُولُ الَّذِينَ نَسُوهُ مِن قَبْلُ قَدْ جَاءَتْ رُسُلُ رَبِّنَا بِالْحَقِّ فَهَل لَّنَا مِن شُفَعَاءَ فَيَشْفَعُوا لَنَا أَوْ نُرَدُّ فَنَعْمَلَ غَيْرَ الَّذِي كُنَّا نَعْمَلُ ۚ قَدْ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
তারা আর কোন কিছুর অপেক্ষা করছে না, শুধুমাত্র ওর সর্বশেষ পরিণতির অপেক্ষায় রয়েছে, যেদিন এর সর্বশেষ পরিণতি এসে সমুপস্থিত হবে এবং সে দিন যারা এর আগমনের কথা ভুলে গিয়েছিল তারা বলবেঃ বাস্তবিকই আমাদের প্রতিপালকের রাসূলগণ সত্য কথা এনেছিলেন, সুতরাং (এখন) এমন কোন সুপারিশকারী আছে কি যারা আমাদের জন্যে সুপারিশ করবে? অথবা আমাদেরকে কি পুনরায় দুনিয়ায় পাঠানো যেতে পারে যাতে আমরা পূর্বের কৃতকর্মের তুলনায় ভিন্ন কিছু করতে পারি? নিঃসন্দেহে তারা নিজেরাই নিজেদের ক্ষতি করেছে, আর তারা যেসব মিথ্যা (মা’বূদ ও রসম-রেওয়াজ) রচনা করেছিল, তাও তাদের হতে অদৃশ্য হয়েছে।
০৫৪ إِنَّ رَبَّكُمُ اللَّهُ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ فِي سِتَّةِ أَيَّامٍ ثُمَّ اسْتَوَىٰ عَلَى الْعَرْشِ يُغْشِي اللَّيْلَ النَّهَارَ يَطْلُبُهُ حَثِيثًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ وَالنُّجُومَ مُسَخَّرَاتٍ بِأَمْرِهِ ۗ أَلَا لَهُ الْخَلْقُ وَالْأَمْرُ ۗ تَبَارَكَ اللَّهُ رَبُّ الْعَالَمِينَ
নিশ্চয়ই তোমাদের প্রতিপালক হচ্ছেন সে আল্লাহ যিনি আসমান ও যমীনকে ছয়দিনে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনি স্বীয় আরশের উপর সমুন্নীত হন, তিনি দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন, এমন ভাবে যে রাত্রি ও দিবস একে অন্যকে অনুসরণ করে চলে ত্বরিত গতিতে; সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্ররাজী সবই তাঁর হুকুমের অনুগত, জেনে রাখো, সৃষ্টির একমাত্র কর্তা তিনিই আর হুকুমের একমাত্র মালিক তিনিই, সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহ হলেন বরকতময়।
০৫৫ ادْعُوا رَبَّكُمْ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ
তোমরা বিনীতভাবে ও সঙ্গোপনে তোমাদের প্রতিপালককে ডাকবে, তিনি সীমালঙ্ঘনকারীকে ভালোবাসেন না।
০৫৬ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا وَادْعُوهُ خَوْفًا وَطَمَعًا ۚ إِنَّ رَحْمَتَ اللَّهِ قَرِيبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِينَ
দুনিয়ার শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনের পর ওতে বিপর্যয় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করো না, আর আল্লাহকে ভয়-ভীতি ও আশা-আকাঙ্ক্ষার সাথে ডাক, নিঃসন্দেহে আল্লাহর রহমত সৎকর্মশীলদের অতি সন্নিকটে।
০৫৭ وَهُوَ الَّذِي يُرْسِلُ الرِّيَاحَ بُشْرًا بَيْنَ يَدَيْ رَحْمَتِهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا أَقَلَّتْ سَحَابًا ثِقَالًا سُقْنَاهُ لِبَلَدٍ مَّيِّتٍ فَأَنزَلْنَا بِهِ الْمَاءَ فَأَخْرَجْنَا بِهِ مِن كُلِّ الثَّمَرَاتِ ۚ كَذَٰلِكَ نُخْرِجُ الْمَوْتَىٰ لَعَلَّكُمْ تَذَكَّرُونَ
সেই আল্লাহই স্বীয় রহমতের (বৃষ্টির) আগে আগে বাতাসকে সুসংবাদ রূপে প্রেরণ করেন, অবশেষে যখন ঐ বাতাস ভারী মেঘমালাকে বহন করে, তখন আমি এই মেঘমালাকে কোন নির্জীব ভূ-খন্ডের দিকে প্রেরণ করি, অতঃপর ওটা হতে বারিধারা বর্ষণ করি, তারপর সেই পানির সাহায্যে সেখানে সর্বপ্রকার ফল-ফলাদি উৎপাদন করি, এমনভাবেই আমি (কিয়ামতের দিন) মৃতকে জীবিত করবো, সম্ভবত তোমরা এটা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে।
০৫৮ وَالْبَلَدُ الطَّيِّبُ يَخْرُجُ نَبَاتُهُ بِإِذْنِ رَبِّهِ ۖ وَالَّذِي خَبُثَ لَا يَخْرُجُ إِلَّا نَكِدًا ۚ كَذَٰلِكَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَشْكُرُونَ
আর ভাল উৎকৃষ্ট ভূমি ওর প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে খুব ভাল ফল ফলায়, আর যা নিকৃষ্ট ভূমি, তাতে খুব কমই ফসল ফলে থাকে, এমনিভাবেই আমি কৃতজ্ঞতা পরায়ণদের জন্যে আমার নিদর্শন বিবৃত করে থাকি।
০৫৯ لَقَدْ أَرْسَلْنَا نُوحًا إِلَىٰ قَوْمِهِ فَقَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُ إِنِّي أَخَافُ عَلَيْكُمْ عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
আমি নূহ (আঃ)-কে তার জাতির নিকট প্রেরণ করেছিলাম, সুতরাং সে তাদেরকে সম্বোধন করে বলেছিলঃ হে আমার জাতি! তোমরা শুধু আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন সত্য মাবূদ নেই, আমি তোমাদের প্রতি এক মহা দিবসের শাস্তি আশঙ্কা করছি।
০৬০ قَالَ الْمَلَأُ مِن قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
তখন তার জাতির প্রধান ও নেতাগণ বললঃ নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে দেখছি।
০৬১ قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي ضَلَالَةٌ وَلَـٰكِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ
তিনি বললেনঃ হে আমার জাতি! আমি কোন ভুল-ভ্রান্তি ও গুমরাহীর মধ্যে লিপ্ত নই; বরং আমি সারা জাহানের প্রতিপালকের (প্রেরিত) একজন রাসূল।
০৬২ أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنصَحُ لَكُمْ وَأَعْلَمُ مِنَ اللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ
আমি আমার প্রতিপালকের পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিচ্ছি, আর আমি তোমাদেরকে হিতোপদেশ দিচ্ছি, আর তোমরা যা জান না আমি তা আল্লাহর নিকট থেকে জেনে থাকি।
০৬৩ أَوَعَجِبْتُمْ أَن جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَلَىٰ رَجُلٍ مِّنكُمْ لِيُنذِرَكُمْ وَلِتَتَّقُوا وَلَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ
তোমাদের মধ্যকার একজন লোকের মারফত তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে উপদেশ বাণী আসায় কি তোমরা বিস্মিত হয়েছো? যাতে তিনি তোমাদেরকে সতর্ক ও হুঁশিয়ার করতে পারেন এবং যাতে (তোমরা সাবধান হও,) তাকওয়া অবলম্বন করতে পার, হয়তো তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করা হবে।
০৬৪ فَكَذَّبُوهُ فَأَنجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ فِي الْفُلْكِ وَأَغْرَقْنَا الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا ۚ إِنَّهُمْ كَانُوا قَوْمًا عَمِينَ
কিন্তু তারা তাঁকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করলো, ফলে তাকে এবং তাঁর সাথে নৌকায় যারা ছিল তাদেরকে (আযাব হতে) রক্ষা করলাম, আর যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তাদেরকে (প্লাবনের পানিতে) ডুবিয়ে মারলাম, বস্তুতঃ নিঃসন্দেহে তারা ছিল এক অজ্ঞ ও ভ্রান্ত সম্প্রদায়।
০৬৫ وَإِلَىٰ عَادٍ أَخَاهُمْ هُودًا ۗ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُ ۚ أَفَلَا تَتَّقُونَ
আর আমি আ’দ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদ (আঃ)-কে (নবীরূপে) পাঠিয়েছিয়াম, সে বললঃ হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, আল্লাহ ছাড়া তোমাদের আর সত্য মা’বূদ নেই, তোমরা কি (এখনো) সাবধান হবে না? (আল্লাহভীতি অর্জন করবে না?)
০৬৬ قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ إِنَّا لَنَرَاكَ فِي سَفَاهَةٍ وَإِنَّا لَنَظُنُّكَ مِنَ الْكَاذِبِينَ
তখন তার জাতির কাফির লোকদের নেতাগণ বললঃ অবশ্যই আমরা তোমাকে নির্বোধ দেখছি এবং আমরা তো তোমাকে নিশ্চিতরূপে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্গত ধারণা করছি।
০৬৭ قَالَ يَا قَوْمِ لَيْسَ بِي سَفَاهَةٌ وَلَـٰكِنِّي رَسُولٌ مِّن رَّبِّ الْعَالَمِينَ
হে (হূদ আঃ) বললঃ হে আমার জাত! আমি নির্বোধ নই; বরং আমি হলাম সারা জাহানের প্রতিপালকের প্রেরিত রাসূল।
০৬৮ أُبَلِّغُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَأَنَا لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ
আমি আমার প্রতিপালকের পয়গাম তোমাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিচ্ছি, আর আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।
০৬৯ أَوَعَجِبْتُمْ أَن جَاءَكُمْ ذِكْرٌ مِّن رَّبِّكُمْ عَلَىٰ رَجُلٍ مِّنكُمْ لِيُنذِرَكُمْ ۚ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِن بَعْدِ قَوْمِ نُوحٍ وَزَادَكُمْ فِي الْخَلْقِ بَسْطَةً ۖ فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ
তোমরা কি এতে বিস্মিত হচ্ছো যে, তোমাদের জাতিরই একটি লোকের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে তাঁর বিধান ও উপদেশ তোমাদেরকে সতর্ক করার উদ্দেশ্যে তোমাদের কাছে এসেছে, তোমরা সেই অবস্থার কথা স্মরণ কর, যখন নূহের (আঃ) সম্প্রদায়ের পর আল্লাহ তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদের আকার-আকৃতি অন্যদের অপেক্ষা শক্তিতে অধিকতর সমৃদ্ধ করেছেন। সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ স্মরণ কর, হয়তো তোমরা সফলকাম হবে।
০৭০ قَالُوا أَجِئْتَنَا لِنَعْبُدَ اللَّهَ وَحْدَهُ وَنَذَرَ مَا كَانَ يَعْبُدُ آبَاؤُنَا ۖ فَأْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الصَّادِقِينَ
তারা বললঃ তুমি কি আমাদের নিকট শুধু এই উদ্দেশ্যে এসেছো, যেন আমরা একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করি এবং আমাদের পূর্বপুরুষগণ যাদের ইবাদত করতো তাদেরকে বর্জন করি? তাহলে তুমি তোমার কথা ও দাবীতে সত্যবাদী হলে আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা আনয়ন কর।
০৭১ قَالَ قَدْ وَقَعَ عَلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ رِجْسٌ وَغَضَبٌ ۖ أَتُجَادِلُونَنِي فِي أَسْمَاءٍ سَمَّيْتُمُوهَا أَنتُمْ وَآبَاؤُكُم مَّا نَزَّلَ اللَّهُ بِهَا مِن سُلْطَانٍ ۚ فَانتَظِرُوا إِنِّي مَعَكُم مِّنَ الْمُنتَظِرِينَ
সে বললঃ তোমাদের প্রতিপালকের শাস্তি ও ক্রোধ তোমাদের উপর এসেই পড়বে, তোমরা কি আমার সাথে এমন কতগুলো নাম সম্বন্ধে বিতর্ক করছো যার নামকরণ করেছো তোমরা এবং তোমাদের বাপ-দারারা, যে বিষয়ে আল্লাহ কোন দলীল-প্রমাণ অবতীর্ণ করেন নই? সুতরাং তোমরা (শাস্তির জন্যে) অপেক্ষা করতে থাক, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।
০৭২ فَأَنجَيْنَاهُ وَالَّذِينَ مَعَهُ بِرَحْمَةٍ مِّنَّا وَقَطَعْنَا دَابِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا ۖ وَمَا كَانُوا مُؤْمِنِينَ
অতঃপর আমি তাঁকে (হূদকে) এবং তার সঙ্গী-সাথীদেরকে (শাস্তি হতে) আমার অনুগ্রহে রক্ষা করলাম, আর যারা আমার নিদর্শনকে (বিধানকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল এবং যারা ঈমানদার ছিল না তাদের মূলোৎপাটন করে ছাড়লাম।
০৭৩ وَإِلَىٰ ثَمُودَ أَخَاهُمْ صَالِحًا ۗ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُ ۖ قَدْ جَاءَتْكُم بَيِّنَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ ۖ هَـٰذِهِ نَاقَةُ اللَّهِ لَكُمْ آيَةً ۖ فَذَرُوهَا تَأْكُلْ فِي أَرْضِ اللَّهِ ۖ وَلَا تَمَسُّوهَا بِسُوءٍ فَيَأْخُذَكُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
আর আমি সামূদ জাতির নিকট তাদের ভ্রাতা সালেহ (আঃ)-কে প্রেরণ করেছিলাম, সে বললঃ হে আমার জাতি! তোমরা আল্লাহর ইবাদত ছাড়া তোমাদের আর কোন সত্য মা’বূদ নেই, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে এক স্পষ্ট নিদর্শন তোমাদের নিকট এসেছে, এই আল্লাহর (নামে উৎসর্গিত) উষ্ট্রী তোমাদের জন্যে একটি নিদর্শন স্বরূপ। সুতরাং তোমরা একে ছেড়ে দাও – আল্লাহর যমীনে চরে খাবে, ওকে খারাপ উদ্দেশ্যে স্পর্শ করো না, (ওকে কোন কষ্ট দিলে) এক যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তোমাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে।
০৭৪ وَاذْكُرُوا إِذْ جَعَلَكُمْ خُلَفَاءَ مِن بَعْدِ عَادٍ وَبَوَّأَكُمْ فِي الْأَرْضِ تَتَّخِذُونَ مِن سُهُولِهَا قُصُورًا وَتَنْحِتُونَ الْجِبَالَ بُيُوتًا ۖ فَاذْكُرُوا آلَاءَ اللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا فِي الْأَرْضِ مُفْسِدِينَ
তোমরা স্মরণ কর সেই বিষয়টি যখন তিনি আ’দ জাতির পর তোমাদেরকে তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছিলেন, আর তিনি তোমাদেরকে পৃথিবীতে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যে, তোমরা সমতল ভূমিতে প্রাসাদ ও পাহাড় কেটে আবাস গৃহ নির্মাণ করেছো। সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় ছড়িয়ে দিয়ো না।
০৭৫ قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِن قَوْمِهِ لِلَّذِينَ اسْتُضْعِفُوا لِمَنْ آمَنَ مِنْهُمْ أَتَعْلَمُونَ أَنَّ صَالِحًا مُّرْسَلٌ مِّن رَّبِّهِ ۚ قَالُوا إِنَّا بِمَا أُرْسِلَ بِهِ مُؤْمِنُونَ
(অতঃপর) তার সম্প্রদায়ের অহংকারী প্রধানরা তখন তাদের মধ্যকার দুর্বল ও উৎপীড়িত মুমিনদেরকে বললঃ তোমরা কি বিশ্বাস কর যে, সালেহ (আঃ) তার প্রতিপালক কর্তৃক প্রেরিত হয়েছেন? তারা উত্তরে বললঃ নিশ্চয়ই যে পয়গামসহ তিনি প্রেরিত হয়েছেন, আমরা তা বিশ্বাস করি।
০৭৬ قَالَ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا بِالَّذِي آمَنتُم بِهِ كَافِرُونَ
তখন অহংকারীরা বললঃ তোমরা যা বিশ্বাস কর আমরা তা অবিশ্বাস করি।
০৭৭ فَعَقَرُوا النَّاقَةَ وَعَتَوْا عَنْ أَمْرِ رَبِّهِمْ وَقَالُوا يَا صَالِحُ ائْتِنَا بِمَا تَعِدُنَا إِن كُنتَ مِنَ الْمُرْسَلِينَ
অতঃপর তারা সেই উষ্ট্রীটিকে মেরে ফেললো এবং (গর্ব ও দাম্ভিকতার সাথে) তাদের প্রতি-পালকের নির্দেশের বিরুদ্ধাচরণ করে চলতে লাগলো এবং বললঃ হে সালেহ! তুমি সত্য রাসূল হয়ে থাকলে আমাদেরকে যে শাস্তির ভয় দেখাচ্ছ তা আনয়ন কর।
০৭৮ فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ
সুতরাং তাদেরকে একটি প্রলয়ংকরী ভূমিকম্প এসে গ্রাস করে নিলো, ফলে তারা নিজেদের গৃহের মধ্যেই (মৃত্যু অবস্থায়) উপুর (অধোমুখী) হ্যে পড়ে গেল।
০৭৯ فَتَوَلَّىٰ عَنْهُمْ وَقَالَ يَا قَوْمِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَةَ رَبِّي وَنَصَحْتُ لَكُمْ وَلَـٰكِن لَّا تُحِبُّونَ النَّاصِحِينَ
অতঃপর তিনি (সালেহ আঃ) একথা বলে তাদের জনপদ হতে বের হয়ে গেলেনঃ হে আমার সম্প্রদায়! আমি আমার প্রতিপালকের পয়গাম তোমাদের কাছে পৌঁছিয়ে দিয়েছি, আর আমি তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছি; কিন্তু তোমরা তো উপদেশ দাতাদেরকে পছন্দ কর না।
০৮০ وَلُوطًا إِذْ قَالَ لِقَوْمِهِ أَتَأْتُونَ الْفَاحِشَةَ مَا سَبَقَكُم بِهَا مِنْ أَحَدٍ مِّنَ الْعَالَمِينَ
আর আমি লূত (আঃ)-কে নবুওয়াত দান করে পাঠিয়েছিলাম, যখন তিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলেনঃ তোমরা এমন অশ্লীল ও কুকর্ম করছো; যা তোমাদের পূর্বে বিশ্বে আর কেউই করেনি।
০৮১ إِنَّكُمْ لَتَأْتُونَ الرِّجَالَ شَهْوَةً مِّن دُونِ النِّسَاءِ ۚ بَلْ أَنتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُونَ
তোমরা স্ত্রীলোকদের বাদ দিয়ে পুরুষদের সাথে নিজেদের যৌন ইচ্ছা নিবারণ করে নিচ্ছো। প্রকৃতপক্ষে তোমরা হচ্ছো সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
০৮২ وَمَا كَانَ جَوَابَ قَوْمِهِ إِلَّا أَن قَالُوا أَخْرِجُوهُم مِّن قَرْيَتِكُمْ ۖ إِنَّهُمْ أُنَاسٌ يَتَطَهَّرُونَ
কিন্তু তার জাতির লোকদের এটা ছাড়া আর কোন উত্তরই ছিল না যে, এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, এরা নিজেদেরকে বড় পবিত্র লোক বলে প্রকাশ করছে।
০৮৩ فَأَنجَيْنَاهُ وَأَهْلَهُ إِلَّا امْرَأَتَهُ كَانَتْ مِنَ الْغَابِرِينَ
পরিশেষে, আমি লূত (আঃ)-কে এবং তার পরিবারের লোকদেরকে শুধুমাত্র তার স্ত্রী ছাড়া শাস্তি হতে রক্ষা করেছিলাম, তার স্ত্রী ছিল ধ্বংসপ্রাপ্ত লোকদের অন্তর্ভুক্ত।
০৮৪ وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهِم مَّطَرًا ۖ فَانظُرْ كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُجْرِمِينَ
অতঃপর আমি তাদের উপর মুষলধারে (পাথরের) বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। সুতরাং অপরাধী লোকদের পরিণাম কি হয়েছিল তা লক্ষ্য কর।
০৮৫ وَإِلَىٰ مَدْيَنَ أَخَاهُمْ شُعَيْبًا ۗ قَالَ يَا قَوْمِ اعْبُدُوا اللَّهَ مَا لَكُم مِّنْ إِلَـٰهٍ غَيْرُهُ ۖ قَدْ جَاءَتْكُم بَيِّنَةٌ مِّن رَّبِّكُمْ ۖ فَأَوْفُوا الْكَيْلَ وَالْمِيزَانَ وَلَا تَبْخَسُوا النَّاسَ أَشْيَاءَهُمْ وَلَا تُفْسِدُوا فِي الْأَرْضِ بَعْدَ إِصْلَاحِهَا ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
আর আমি মাদিয়ানবাসীদের কাছে তাদেরই ভাই শু’আইব (আঃ)-কে পাঠিয়েছিলাম, সে তার স্বজাতিকে সম্বোধন করে বলেছিলোঃ হে আমার জাতি! তোমরা (শিরক বর্জন করে) একমাত্র আল্লাহর ইবাদত কর, তিনি ছাড়া তোমাদের আর কোন সত্য মা’বূদ নেই, তোমাদের প্রভুর পক্ষ হতে তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট দলীল এসে গেছে। সুতরাং তোমরা ওজন ও পরিমাপ পূর্ণ মাত্রায় দেবে, মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ করবে না, আর দুনিয়ায় শান্তি-শৃঙ্খলা স্থাপনের পর ঝগড়া-ফাসাদ ও বিপর্যয় ঘটাবে না, তোমরা বাস্তবিক পক্ষে ঈমানদার হলে এই পথই হল তোমাদের জন্যে কল্যাণকর।
০৮৬ وَلَا تَقْعُدُوا بِكُلِّ صِرَاطٍ تُوعِدُونَ وَتَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِهِ وَتَبْغُونَهَا عِوَجًا ۚ وَاذْكُرُوا إِذْ كُنتُمْ قَلِيلًا فَكَثَّرَكُمْ ۖ وَانظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُفْسِدِينَ
আর তোমরা প্রতিটি পথে এই উদ্দেশ্যে বসে থেকো না যে, ঈমানদার লোকদেরকে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করবে ও আল্লাহর পথ হতে বিরত রাখবে এবং সহজ-সরল পথকে ছেড়ে দিয়ে বক্রতা অন্বেষণে ব্যস্ত থাকবে। আর ঐ অবস্থাটির কথা স্মরণ কর, যখন তোমরা সংখ্যায় স্বল্প ছিলে, অতঃপর তিনি (আল্লাহ) তোমাদের সংখ্যা বেশি করে দিলেন, আর এ জগতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কি হয়েছে তা লক্ষ্য কর।
০৮৭ وَإِن كَانَ طَائِفَةٌ مِّنكُمْ آمَنُوا بِالَّذِي أُرْسِلْتُ بِهِ وَطَائِفَةٌ لَّمْ يُؤْمِنُوا فَاصْبِرُوا حَتَّىٰ يَحْكُمَ اللَّهُ بَيْنَنَا ۚ وَهُوَ خَيْرُ الْحَاكِمِينَ
আমার নিকট যা (আল্লাহর পক্ষ হতে) প্রেরিত হয়েছে তা যদি তোমাদের কোন দল বিশ্বাস করে এবং কোন দল অবিশ্বাস করে তবে (সেই পর্যন্ত) ধৈর্যধারণ কর যতক্ষন না আল্লাহ আমাদের মধ্যে চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেন, কারণ তিনিই হলেন উত্তম ফায়সালাকারী।
০৮৮ قَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا مِن قَوْمِهِ لَنُخْرِجَنَّكَ يَا شُعَيْبُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَكَ مِن قَرْيَتِنَا أَوْ لَتَعُودُنَّ فِي مِلَّتِنَا ۚ قَالَ أَوَلَوْ كُنَّا كَارِهِينَ
আর তাঁর সম্প্রদায়ের দাম্ভিক ও অহংকারী প্রধানরা বলেছিলঃ হে শো’আইব (আঃ)! আমরা অবশ্যই তোমাকে ও তোমার সঙ্গী-সাথী মুমিনদেরকে আমাদের জনপদ হতে বহিষ্কার করবো অথবা তোমরা আমাদের দলে (দ্বীনে) ফিরে আসবে, তখন তিনি বললেনঃ আমরা যদি তাতে রাযী না হই (তবুও কি জোর করে ফিরিয়ে দিবে)?
০৮৯ قَدِ افْتَرَيْنَا عَلَى اللَّهِ كَذِبًا إِنْ عُدْنَا فِي مِلَّتِكُم بَعْدَ إِذْ نَجَّانَا اللَّهُ مِنْهَا ۚ وَمَا يَكُونُ لَنَا أَن نَّعُودَ فِيهَا إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ رَبُّنَا ۚ وَسِعَ رَبُّنَا كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا ۚ عَلَى اللَّهِ تَوَكَّلْنَا ۚ رَبَّنَا افْتَحْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ قَوْمِنَا بِالْحَقِّ وَأَنتَ خَيْرُ الْفَاتِحِينَ
তোমাদের দল বা দ্বীন হতে আল্লাহ আমাদেরকে মুক্তি দেয়ার পর আমরা যদি তাতে আবার ফিরে যাই তবে নিশ্চিতভাবে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপকারী হবো, আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ না চাইলে ওতে আবার ফিরে যাওয়া আমাদের পক্ষে কোনক্রমেই সম্ভব নয়, প্রতিটি বস্তুই আমাদের প্রতিপালকের জ্ঞানায়ত্তে, আমরা আল্লাহর উপরই নির্ভর করছি, হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের ও আমাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে সঠিকভাবে ফায়সালা করে দিন, আপনিই তো সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।
০৯০ وَقَالَ الْمَلَأُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَوْمِهِ لَئِنِ اتَّبَعْتُمْ شُعَيْبًا إِنَّكُمْ إِذًا لَّخَاسِرُونَ
আর তাদের সম্প্রদায়ের কাফির লোকদের প্রধানগণ (সর্বসাধারণকে) বলেছিলঃ তোমরা যদি শোআ’ইব (আঃ)-কে অনুসরণ করে চল, তবে তোমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
০৯১ فَأَخَذَتْهُمُ الرَّجْفَةُ فَأَصْبَحُوا فِي دَارِهِمْ جَاثِمِينَ
অতঃপর ভূ-কম্পন তাদেরকে গ্রাস করে ফেললো, ফলে তারা নিজেদের গৃহেই (মৃত্যু অবস্থায়) উপুর হয়ে পড়ে রইলো।
০৯২ الَّذِينَ كَذَّبُوا شُعَيْبًا كَأَن لَّمْ يَغْنَوْا فِيهَا ۚ الَّذِينَ كَذَّبُوا شُعَيْبًا كَانُوا هُمُ الْخَاسِرِينَ
(অবস্থা দেখে মনে হল) যারা শোআ’ইব (আঃ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, তারা যেন কখনো সেখানে বসবাস করেনি, শো’আইব (আঃ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্নকারী লোকেরাই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল।
০৯৩ فَتَوَلَّىٰ عَنْهُمْ وَقَالَ يَا قَوْمِ لَقَدْ أَبْلَغْتُكُمْ رِسَالَاتِ رَبِّي وَنَصَحْتُ لَكُمْ ۖ فَكَيْفَ آسَىٰ عَلَىٰ قَوْمٍ كَافِرِينَ
তিনি (শো’আইব আঃ) তাদের নিকট হতে এ কথা বলে বেরিয়ে আসলেন- হে আমার জাতি! আমি আমার প্রভুর পয়গাম তোমাদের নিকট পৌঁছিয়েছি, আর আমি তোমাদেরকে উপদেশ প্রদান করেছি, সুতরাং আমি কাফির সম্প্রদায়ের জন্যে কি করে আক্ষেপ করতে পার!
০৯৪ وَمَا أَرْسَلْنَا فِي قَرْيَةٍ مِّن نَّبِيٍّ إِلَّا أَخَذْنَا أَهْلَهَا بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَضَّرَّعُونَ
আমি কোন জনপদ নবী-রাসূল পাঠালে, ওর অধিবাসীদেরকে দুঃখ-কষ্ট ও বিপদে আক্রান্ত করে থাকি, উদ্দেশ্য হলঃ তারা যেন নম্র ও বিনয়ী হয়।
০৯৫ ثُمَّ بَدَّلْنَا مَكَانَ السَّيِّئَةِ الْحَسَنَةَ حَتَّىٰ عَفَوا وَّقَالُوا قَدْ مَسَّ آبَاءَنَا الضَّرَّاءُ وَالسَّرَّاءُ فَأَخَذْنَاهُم بَغْتَةً وَهُمْ لَا يَشْعُرُونَ
অতঃপর আমি তাদের দুরবস্থাকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিয়েছি, অবেশেষে তারা খুব প্রাচুর্যের অধিকারী হয়, আর তারা (অকৃতজ্ঞ স্বরে) বলেঃ আমাদের পূর্ব পুরুষরাও এইভাবে সুখ-দুঃখ ভোগ করেছে (এটাই প্রাকৃতিক নিয়ম), অতঃপর অকস্মাৎ আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম কিন্তু তারা কিছুই বুঝতে পারলো না।
০৯৬ وَلَوْ أَنَّ أَهْلَ الْقُرَىٰ آمَنُوا وَاتَّقَوْا لَفَتَحْنَا عَلَيْهِم بَرَكَاتٍ مِّنَ السَّمَاءِ وَالْأَرْضِ وَلَـٰكِن كَذَّبُوا فَأَخَذْنَاهُم بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
জনপদের অধিবাসীগণ যদি ঈমান আনতো এবং তাকওয়া অবলম্বন করতো, তবে আমি তাদের জন্যে আকাশ ও পৃথিবীর বরকতের দ্বার খুলে দিতাম; কিন্তু তারা নবী-রাসূলদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, ফলে তাদের কৃতকর্মের জন্যে আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম।
০৯৭ أَفَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَىٰ أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا بَيَاتًا وَهُمْ نَائِمُونَ
জনপদের লোকেরা কি এটা থেকে নির্ভয় হয়ে মনে করছে যে, রাত্রিকালে ঘুমন্ত থাকা অবস্থায় আমার শাস্তি তাদেরকে গ্রাস করে ফেলবে না?
০৯৮ أَوَأَمِنَ أَهْلُ الْقُرَىٰ أَن يَأْتِيَهُم بَأْسُنَا ضُحًى وَهُمْ يَلْعَبُونَ
অথবা জনপদের লোকেরা কি এই ভয় রাখে না যে, আমার শাস্তি তাদের উপর তখন আপতিত হবে যখন তারা পূর্বাহ্ণে আমোদ-প্রমোদে রত থাকবে?
০৯৯ أَفَأَمِنُوا مَكْرَ اللَّهِ ۚ فَلَا يَأْمَنُ مَكْرَ اللَّهِ إِلَّا الْقَوْمُ الْخَاسِرُونَ
তারা কি আল্লাহর পাকাড়াও ও শাস্তি থেকে নিরাপদ হয়ে গেছে? ক্ষতিগ্রস্থ সম্প্রদায় ছাড়া আল্লাহর শাস্তি থেকে কেউই নিঃশঙ্ক বোধ করতে (নিরাপদ হতে) পারে না।
১০০ أَوَلَمْ يَهْدِ لِلَّذِينَ يَرِثُونَ الْأَرْضَ مِن بَعْدِ أَهْلِهَا أَن لَّوْ نَشَاءُ أَصَبْنَاهُم بِذُنُوبِهِمْ ۚ وَنَطْبَعُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَسْمَعُونَ
কোন এলাকার অধিবাসী ধ্বংস হওয়ার পর সেই এলাকার যারা উত্তরাধিকারী হয়, তাদের কাছে কি এই পথ নির্দেশ দেয়া হয়নি যে, আমি ইচ্ছা ক্রলে তাদের পাপের কারণে তাদেরকে শাস্তি দিতে পারি? আর তাদের অন্তঃকরণের উপর মোহর মেরে দিতে পারি অবশেষে তারা কিছুই শুনতে পাবে না?
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x