০০৬. সূরাঃ আন’আম

আয়াত নং অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১৬৫
রুকূঃ ২০
০০১ الْحَمْدُ لِلَّهِ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَجَعَلَ الظُّلُمَاتِ وَالنُّورَ ۖ ثُمَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ
যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্যে যিনি আকাশসমূহ ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং সৃষ্টি করেছেন আলো ও অন্ধকার; এটা সত্ত্বেও যারা কুফুরি করেছে তারা তাদের প্রতিপালকের সমকক্ষ নিরূপণ করলো।
০০২ هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن طِينٍ ثُمَّ قَضَىٰ أَجَلًا ۖ وَأَجَلٌ مُّسَمًّى عِندَهُ ۖ ثُمَّ أَنتُمْ تَمْتَرُونَ
অথচ তিনিই তোমাদেরকে মাটি হতে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তোমাদের জীবনের জন্যে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ নির্ধারণ করেছেন, এ ছাড়া একটি নির্দিষ্ট মেয়াদও তাঁর নিকট নির্ধারিত রয়েছে; কিন্তু এর পরেও তোমরা সন্দেহ করে থাক।
০০৩ وَهُوَ اللَّهُ فِي السَّمَاوَاتِ وَفِي الْأَرْضِ ۖ يَعْلَمُ سِرَّكُمْ وَجَهْرَكُمْ وَيَعْلَمُ مَا تَكْسِبُونَ
আকাশসমূহে ও পৃথিবীতে একমাত্র তিনিই সত্য মা’বূদ রয়েছেন, যিনি তোমাদের গোপনীয় ও প্রকাশ্য সব অবস্থাই জানেন, আর তোমরা ভাল-মন্দ যা কিছু কর সেটাও তিনি পূর্ণরূপে অবগত আছেন।
০০৪ وَمَا تَأْتِيهِم مِّنْ آيَةٍ مِّنْ آيَاتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوا عَنْهَا مُعْرِضِينَ
আর তাদের অবস্থা হচ্ছে এই যে, তাদের নিকট তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনসমূহ হতে যে কোন নিদর্শনই আসুক না কেন, তা হতেই তারা মুখ ফিরিয়ে নিয়ে থাকে।
০০৫ فَقَدْ كَذَّبُوا بِالْحَقِّ لَمَّا جَاءَهُمْ ۖ فَسَوْفَ يَأْتِيهِمْ أَنبَاءُ مَا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
সুতরাং তাদের নিকট যখন সত্য এসেছে, তাকেও তারা মিথ্যা অভিহিত করেছে। অতএব অতিসত্বরই তাদের নিকট সে বিষয়ের সংবাদ এসে পৌঁছবে, যার সাথে তারা ঠাট্টা-বিদ্রুপ করতো।
০০৬ أَلَمْ يَرَوْا كَمْ أَهْلَكْنَا مِن قَبْلِهِم مِّن قَرْنٍ مَّكَّنَّاهُمْ فِي الْأَرْضِ مَا لَمْ نُمَكِّن لَّكُمْ وَأَرْسَلْنَا السَّمَاءَ عَلَيْهِم مِّدْرَارًا وَجَعَلْنَا الْأَنْهَارَ تَجْرِي مِن تَحْتِهِمْ فَأَهْلَكْنَاهُم بِذُنُوبِهِمْ وَأَنشَأْنَا مِن بَعْدِهِمْ قَرْنًا آخَرِينَ
তারা কি ভেবে দেখেনি যে, আমি তাদের পূর্বে বহু সম্প্রদায়কে ধ্বংস করে দিয়েছি, যাদেরকে দুনিয়ায় এমন শক্তি, সামর্থ্য ও প্রতিপত্তি দিয়েছিলাম, যা তোমাদেরকে দেইনি, আর আমি তাদের প্রতি আকাশ হতে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছি এবং তাদের নিম্নভূমি হতে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত করেছি, কিন্তু তাদের গুণাহের কারণে আমি তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছি এবং তাদের পর অন্য সম্প্রদায়সমূহ নতুন করে সৃষ্টি করেছি।
০০৭ وَلَوْ نَزَّلْنَا عَلَيْكَ كِتَابًا فِي قِرْطَاسٍ فَلَمَسُوهُ بِأَيْدِيهِمْ لَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَـٰذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! যদি আমি কাগজের উপর লিখিত কোন কিতাব তোমার প্রতি অবতীর্ণ করতাম, অতঃপর তারা তা নিজেদের হাত দ্বারা স্পর্শও করতো; তবুও কাফির ও অবিশ্বাসী লোকেরা বলতো যে, এটা প্রকাশ্য যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়।
০০৮ وَقَالُوا لَوْلَا أُنزِلَ عَلَيْهِ مَلَكٌ ۖ وَلَوْ أَنزَلْنَا مَلَكًا لَّقُضِيَ الْأَمْرُ ثُمَّ لَا يُنظَرُونَ
আর তারা বলে থাকে যে, তাদের কাছে কোন ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হয় না? আমি যদি প্রকৃতই কোন ফেরেশতা অবতীর্ণ করতাম তবে যাবতীয় বিষয়েরই চুড়ান্ত সমাধান হয়ে যেত। অতঃপর আর তাদেরকে কিছু মাত্রই অবকাশ দেয়া হতো না।
০০৯ وَلَوْ جَعَلْنَاهُ مَلَكًا لَّجَعَلْنَاهُ رَجُلًا وَلَلَبَسْنَا عَلَيْهِم مَّا يَلْبِسُونَ
আর যদি আমি ফেরেশতাই অবতীর্ণ করতাম তবে তাকে মানুষ রূপেই করতাম। আর আমার এ কাজ দ্বারা তাদেরকে আমি সেই বিভ্রান্তিতেই ফেলে দিতাম, যে আপত্তি তারা এখন করছে।
০১০ وَلَقَدِ اسْتُهْزِئَ بِرُسُلٍ مِّن قَبْلِكَ فَحَاقَ بِالَّذِينَ سَخِرُوا مِنْهُم مَّا كَانُوا بِهِ يَسْتَهْزِئُونَ
বাস্তবিকই তোমার পূর্বে যেসব রাসূল এসেছিলেন, তাঁদের সাথেও ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা হয়েছে, ফলতঃ এসব ব্যঙ্গ বিদ্রুপের পরিণামফল বিদ্রূপকারীদেরকে পরিবেষ্টন করে ফেলেছিল।
০১১ قُلْ سِيرُوا فِي الْأَرْضِ ثُمَّ انظُرُوا كَيْفَ كَانَ عَاقِبَةُ الْمُكَذِّبِينَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি বল, তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে পরিভ্রমণ কর, অতঃপর মিথ্যা প্রতিপন্নকারীদের পরিণাম কি হয়েছে তা গভীর অভিনিবেশ সহকারে লক্ষ্য কর।
০১২ قُل لِّمَن مَّا فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ قُل لِّلَّهِ ۚ كَتَبَ عَلَىٰ نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ ۚ لَيَجْمَعَنَّكُمْ إِلَىٰ يَوْمِ الْقِيَامَةِ لَا رَيْبَ فِيهِ ۚ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ)! জিজ্ঞেস কর-আকাশমণ্ডলে ও পৃথিবীতে অবস্থিত যা কিছু রয়েছে, তা কার মালিকাধীন? তুমি বলঃ তা সবই আল্লাহর মালিকানা স্বত্ব, আল্লাহ নিজের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহকে অপরিহার্য করেছেন। তিনি তোমাদের সকলকে কিয়ামতের দিন অবশ্যই সমবেত করবেন, যেদিন সম্পর্কে কোনই সন্দেহ নেই, যারা নিজেরা নিজেদের ক্ষতি ও ধ্বংসের মুখে ফেলেছে তারাই ঈমান আনে না।
০১৩ وَلَهُ مَا سَكَنَ فِي اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
রাতের অন্ধকারের মধ্যে এবং দিনের আলোতে যা কিছু রয়েছে, এসব কিছুই আল্লাহর; তিনি সব কিছুই শুনেন ও জানেন।
০১৪ قُلْ أَغَيْرَ اللَّهِ أَتَّخِذُ وَلِيًّا فَاطِرِ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ يُطْعِمُ وَلَا يُطْعَمُ ۗ قُلْ إِنِّي أُمِرْتُ أَنْ أَكُونَ أَوَّلَ مَنْ أَسْلَمَ ۖ وَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُشْرِكِينَ
(হে মুহাম্মদ সঃ) তুমি জিজ্ঞেস কর, আমি কি আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকেও নিজের পৃষ্ঠপোষক ও বন্ধুরূপে গ্রহণ করবো (সেই আল্লাহকে বর্জন করে) যিনি হলেন আকাশ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা? তিনি রিযিক দান করেন; কিন্তু তাকে কেউ রিযিক দান করেন না, তুমি বলঃ আমাকে এ আদেশই করা হয়েছে যে, আমি সকলের আগেই ইসলাম গ্রহণ করি (আর আমাকে বিশেষভাবে তাকীদ করা হয়েছে যে,) তুমি মুশরিকদের মধ্যে শামিল হবে না।
০১৫ قُلْ إِنِّي أَخَافُ إِنْ عَصَيْتُ رَبِّي عَذَابَ يَوْمٍ عَظِيمٍ
তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) বলঃ আমি যাদের প্রতিপালকের অবাধ্য হলে, আমি মহা বিচার দিনের মহা শাস্তির ভয় করছি।
০১৬ مَّن يُصْرَفْ عَنْهُ يَوْمَئِذٍ فَقَدْ رَحِمَهُ ۚ وَذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْمُبِينُ
সে দিন যার উপর হতে শাস্তি প্রত্যাহার করা হবে, তার প্রতি আল্লাহ বড়ই অনুগ্রহ করবেন, আর এতাই হচ্ছে প্রকাশ্য মহা সাফল্য।
০১৭ وَإِن يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ ۖ وَإِن يَمْسَسْكَ بِخَيْرٍ فَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
যদি আল্লাহ কারও ক্ষতি সাধন করেন তবে তিনি ছাড়া সে ক্ষতি দূর করার আর কেউই নেই, আর যদি তিনি কারও কল্যাণ করেন, (তবে তিনি সেটাও করতে পারেন, কেননা) তিনি প্রতিটি বস্তুর উপর ক্ষমতাবান ও কর্তৃত্বশীল।
০১৮ وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ ۚ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ
তিনিই তাঁর বান্দাদের উপর একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী, তিনিই মহাজ্ঞানী ও সর্ব বিষয়ে ওয়াকিফ হাল।
০১৯ قُلْ أَيُّ شَيْءٍ أَكْبَرُ شَهَادَةً ۖ قُلِ اللَّهُ ۖ شَهِيدٌ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ ۚ وَأُوحِيَ إِلَيَّ هَـٰذَا الْقُرْآنُ لِأُنذِرَكُم بِهِ وَمَن بَلَغَ ۚ أَئِنَّكُمْ لَتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللَّهِ آلِهَةً أُخْرَىٰ ۚ قُل لَّا أَشْهَدُ ۚ قُلْ إِنَّمَا هُوَ إِلَـٰهٌ وَاحِدٌ وَإِنَّنِي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ) তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, কার সাক্ষ্য সবচেয়ে বেশী গণ্য? তুমি বলে দাওঃ আমার ও তোমাদের মধ্যে আল্লাহই হচ্ছেন সাক্ষী, আর এ কুরআন আমার নিকট ওহীর মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে, যেন আমি তোমাদেরকে এবং যাদের নিকট এটা পৌঁছবে তাদের সকলকে এর দ্বারা সতর্ক ও সাবধান করি। বাস্তবিক, তোমরা কি এই সাক্ষ্য দিতে পার যে, আল্লাহর সাথে অন্য কোন মা’বূদ রয়েছে? তুমি বলঃ আমি এ সাক্ষ্য দিতে পারি না, তুমি ঘোষণা কর যে তিনিই একমাত্র মা’বূদ আর তোমরা যে শিরকে লিপ্ত রয়েছো, তা থেকে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত।
০২০ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْرِفُونَهُ كَمَا يَعْرِفُونَ أَبْنَاءَهُمُ ۘ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنفُسَهُمْ فَهُمْ لَا يُؤْمِنُونَ
যাদেরকে আমি কিতাব দান করেছি, তারা রাসূল (সঃ)-কে এমনভাবে চিনে, যেরূপ তারা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরকে চিনে; কিন্তু যারা নিজেদেরকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে তারা ঈমান আনবে না।
০২১ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ كَذَّبَ بِآيَاتِهِ ۗ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি মিথ্যা দোষারোপ করে কিংবা আল্লাহর আয়াতসমূহে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? এরূপ যালিম লোক কখনোই সাফল্য লাভ করতে পারবে না।
০২২ وَيَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا أَيْنَ شُرَكَاؤُكُمُ الَّذِينَ كُنتُمْ تَزْعُمُونَ
সে দিনটিও স্মরণযোগ্য যেদিন আমি সকলকে একত্রিত করবো, অতঃপর যারা আমার সাথে শিরক করেছে, তাদেরকে আমি বলবো, তোমাদের সে শরীকগন এখন কোথায় যাদেরকে তোমরা মা’বূদ বলে ধারণা করতে?
০২৩ ثُمَّ لَمْ تَكُن فِتْنَتُهُمْ إِلَّا أَن قَالُوا وَاللَّهِ رَبِّنَا مَا كُنَّا مُشْرِكِينَ
অতঃপর তাদের শিরকের ফল এ ছাড়া আর কিছুই হবে না যে তারা বলবে আল্লাহর কসম, সে আমাদের প্রতিপালক! আমরা মুশরিক ছিলাম না।
০২৪ انظُرْ كَيْفَ كَذَبُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ ۚ وَضَلَّ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَفْتَرُونَ
তুমি লক্ষ্য কর, তারা নিজেদের সম্পর্কে কিরূপ মিথ্যা বলছে! তাদের নিজেদের মিথ্যা রচনাগুলো নিস্ফল হয়ে যাবে।
০২৫ وَمِنْهُم مَّن يَسْتَمِعُ إِلَيْكَ ۖ وَجَعَلْنَا عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ أَكِنَّةً أَن يَفْقَهُوهُ وَفِي آذَانِهِمْ وَقْرًا ۚ وَإِن يَرَوْا كُلَّ آيَةٍ لَّا يُؤْمِنُوا بِهَا ۚ حَتَّىٰ إِذَا جَاءُوكَ يُجَادِلُونَكَ يَقُولُ الَّذِينَ كَفَرُوا إِنْ هَـٰذَا إِلَّا أَسَاطِيرُ الْأَوَّلِينَ
তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যারা মনোযোগ সহকারে কান লাগিয়ে তোমার কথা শুনে থাকে, (অথচ গ্রহণ করে না, কিন্তু তাদের কর্ম ফলে) তোমার কথা যাতে তারা ভালরূপে বুঝতে না পারে সে জন্যে আমি তাদের অন্তরের উপর আবরণ রেখে দিয়েছি এবং তাদের কর্ণ বধিরতা অর্পণ করেছি (যাতে শুনতে না পায়), তারা যদি সমস্ত আয়াত ও প্রমাণাদিও অবলোকন করে তবুও তারা ঈমান আনবে না, এমন কি যখন তোমার কাছে আসে তখন তোমার সাথে অর্থহীন বিতর্ক জুড়ে দেয়, আর তাদের কাফির লোকেরা (সব কথা শোনার পর) বলে, এটা প্রাচীনকালের লোকদের কিসসা-কাহিনী ব্যতীত আর কিছুই নয়।
০২৬ وَهُمْ يَنْهَوْنَ عَنْهُ وَيَنْأَوْنَ عَنْهُ ۖ وَإِن يُهْلِكُونَ إِلَّا أَنفُسَهُمْ وَمَا يَشْعُرُونَ
তারা তো তা থেকে অন্য লোকদের বিরত রাখে, অধিকন্তু তারা নিজেরাও তা থেকে দূরে দূরে থাকে। বস্তুতঃ তারা শুধুমাত্র নিজেদেরকে ধ্বংস করছে অথচ তারা অনুভব করছে না।
০২৭ وَلَوْ تَرَىٰ إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يَا لَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِآيَاتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ
তুমি যদি তাদের সেই সময়ের অবস্থাটি অবলোকন করতে যখন তাদেরকে জাহান্নামে দাঁড় করানো হবে, তখন তারা বলবেঃ হায়! আমরা যদি আবার দুনিয়ায় ফিরে যেতে পারতাম, আমরা সেখানে আমাদের প্রতিপালকের নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করতাম না এবং আমরা ঈমানদার হয়ে যেতাম!
০২৮ بَلْ بَدَا لَهُم مَّا كَانُوا يُخْفُونَ مِن قَبْلُ ۖ وَلَوْ رُدُّوا لَعَادُوا لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَإِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ
(একথা বলার কারণ হল) যে সত্য তারা পূর্বে গোপন করেছিল, তা তখন তাদের নিকট সুস্পষ্টরূপে প্রতিভাত হয়ে পড়বে, আর একান্তই যদি তাদেরকে সাবেক পার্থিব জীবনে ফিরে যেতে দেয়া হয়, তবু যা করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল তারা তা-ই করবে, নিঃসন্দেহে তারা মিথ্যাবাদী।
০২৯ وَقَالُوا إِنْ هِيَ إِلَّا حَيَاتُنَا الدُّنْيَا وَمَا نَحْنُ بِمَبْعُوثِينَ
তারা বলেঃ এই পার্থিব জীবনই প্রকৃত জীবন, (এরপর আর কোন জীবন নেই,) আর আমাদেরকে পুনরুত্থিতও করা হবে না।
০৩০ وَلَوْ تَرَىٰ إِذْ وُقِفُوا عَلَىٰ رَبِّهِمْ ۚ قَالَ أَلَيْسَ هَـٰذَا بِالْحَقِّ ۚ قَالُوا بَلَىٰ وَرَبِّنَا ۚ قَالَ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنتُمْ تَكْفُرُونَ
হায়! তুমি যদি সেই দৃশ্যটি দেখতে, যখন তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের সম্মুখে দন্ডায়মান করা হবে, তখন আল্লাহ তা’য়ালা জিজ্ঞেস করবেনঃ এটা (কিয়ামত) কি সত্য নয়? তখন তারা উত্তরে বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা আমাদের প্রতিপালকের (আল্লাহর) শপথ করে বলছি- হ্যাঁ (এটা বাস্তব ও সত্য বিষয়,) তখন আল্লাহ বলবেনঃ তবে তোমরা এটাকে অস্বীকার করার ফল স্বরূপ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ কর।
০৩১ قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِلِقَاءِ اللَّهِ ۖ حَتَّىٰ إِذَا جَاءَتْهُمُ السَّاعَةُ بَغْتَةً قَالُوا يَا حَسْرَتَنَا عَلَىٰ مَا فَرَّطْنَا فِيهَا وَهُمْ يَحْمِلُونَ أَوْزَارَهُمْ عَلَىٰ ظُهُورِهِمْ ۚ أَلَا سَاءَ مَا يَزِرُونَ
ঐসব লোকই ক্ষতিগ্রস্থ হল যারা আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ হওয়ার সংবাদকে মিথ্য ভেবেছে, যখন স নির্দিষ্ট সময়টি হঠাত তাদের কাছে এসে পড়বে, তখন তারা বলবেঃ হায়! পিছনে আমরা কতই না অবহেলায় অন্যায় করেছি, তারা নিজেরাই নিজেদের গুনাহের বোঝা নিজেদের পিঠে বহন করবে, শুনে রেখো, তারা যা কিছু বহন করেছে তা কতই না নিকৃষ্ট ধরণের বোঝা!
০৩২ وَمَا الْحَيَاةُ الدُّنْيَا إِلَّا لَعِبٌ وَلَهْوٌ ۖ وَلَلدَّارُ الْآخِرَةُ خَيْرٌ لِّلَّذِينَ يَتَّقُونَ ۗ أَفَلَا تَعْقِلُونَ
পার্থিব এ জীবন কেহ্ল-তামাশার (ও আমোদ-প্রমোদের) ব্যাপার ছাড়া কিছুই নয়, প্রকৃতপক্ষে পরকালের আরামই হবে তাদের জন্যে মঙ্গলময় যারা তাকওয়া অবলম্বন করে। তবুও কি তোমাদের বোধহয় হবে না?
০৩৩ قَدْ نَعْلَمُ إِنَّهُ لَيَحْزُنُكَ الَّذِي يَقُولُونَ ۖ فَإِنَّهُمْ لَا يُكَذِّبُونَكَ وَلَـٰكِنَّ الظَّالِمِينَ بِآيَاتِ اللَّهِ يَجْحَدُونَ
তাদের কথাবার্তায় তোমার যে খুব দুঃখ ও মনঃকষ্ট হয় তা আমি ভালোভাবেই জানি। তারা শুধুমাত্র তোমাকেই মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে না, বরং এ পাপিষ্ঠ যালিমরা আল্লাহর আয়াতসমূহকেও অস্বীকার করছে।
০৩৪ وَلَقَدْ كُذِّبَتْ رُسُلٌ مِّن قَبْلِكَ فَصَبَرُوا عَلَىٰ مَا كُذِّبُوا وَأُوذُوا حَتَّىٰ أَتَاهُمْ نَصْرُنَا ۚ وَلَا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِ اللَّهِ ۚ وَلَقَدْ جَاءَكَ مِن نَّبَإِ الْمُرْسَلِينَ
তোমার পূর্বে বহু নবী-রাসূলকেও মিথ্যা প্রতিপন্ন করা হয়েছে। অতঃপর তারা এ মিথ্যা প্রতিপন্নকে এবং তাদের প্রতি কৃত নির্যাতন ও উৎপীড়নকে অম্লান বদনে সহ্য করেছে, শেষ পর্যন্ত তাদের কাছে আমার সাহায্য এসে পৌঁছেছে, আল্লাহর কালামকে পরিবর্তন করার মত কেউই নেই। আর তোমার কাছে সাবেক নবীদের কিছু কিছু সংবাদ ও কাহিনী তো পৌঁছে গেছে।
০৩৫ وَإِن كَانَ كَبُرَ عَلَيْكَ إِعْرَاضُهُمْ فَإِنِ اسْتَطَعْتَ أَن تَبْتَغِيَ نَفَقًا فِي الْأَرْضِ أَوْ سُلَّمًا فِي السَّمَاءِ فَتَأْتِيَهُم بِآيَةٍ ۚ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَمَعَهُمْ عَلَى الْهُدَىٰ ۚ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْجَاهِلِينَ
আর যদি তাদের অনাগ্রহ ও উপেক্ষা তোমার কাছে কঠিন হয়ে পড়ে, তবে ক্ষমতা থাকলে মাটির কোন সুড়ঙ্গ অনুসন্ধান কর বা আকাশে সিঁড়ি লাগিয়ে দাও, অতঃপর তাদের কাছে কোন নিদর্শন নিয়ে এসো, আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের সকলকে তিনি হেদায়েতের উপর সমবেত করতেন। সুতরাং তুমি অজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেয়ো না।
০৩৬ إِنَّمَا يَسْتَجِيبُ الَّذِينَ يَسْمَعُونَ ۘ وَالْمَوْتَىٰ يَبْعَثُهُمُ اللَّهُ ثُمَّ إِلَيْهِ يُرْجَعُونَ
যারা (মনোযোগ দিয়ে) শুনে থাকে তারাই সত্যের ডাকে সাড়া দেয়, আল্লাহ মৃতদেরকে জীবিত করে উঠাবেন, অতঃপর তারা তাঁরই কাছে ফিরে যাবে।
০৩৭ وَقَالُوا لَوْلَا نُزِّلَ عَلَيْهِ آيَةٌ مِّن رَّبِّهِ ۚ قُلْ إِنَّ اللَّهَ قَادِرٌ عَلَىٰ أَن يُنَزِّلَ آيَةً وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
তারা বলে যে, তাঁর প্রতি-পালকের পক্ষ থেকে তার প্রতি কোন নিদর্শন কেন অবতীর্ণ করা হল না? তুমি বলে দাওঃ নিদর্শন অবতীর্ণ করতে আল্লাহ পূর্ণ ক্ষমতাবান; কিন্তু অধিকাংশ লোকেই তা জ্ঞাত নয়।
০৩৮ وَمَا مِن دَابَّةٍ فِي الْأَرْضِ وَلَا طَائِرٍ يَطِيرُ بِجَنَاحَيْهِ إِلَّا أُمَمٌ أَمْثَالُكُم ۚ مَّا فَرَّطْنَا فِي الْكِتَابِ مِن شَيْءٍ ۚ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِمْ يُحْشَرُونَ
ভূ-পৃষ্ঠে চলমান প্রতিটি জীব এবং বায়ুমণ্ডলে দু’ডানার সাহায্যে উড়ন্ত প্রতিটি পাখিই তোমাদের ন্যায় এক একটি জাতি, আমি কিতাবে কোন বস্তুর কোন বিষয়ই লিপিবদ্ধ করতে ছাড়িনি, অতঃপর তাদের সকলকে তাদের প্রতিপালকের কাছে সমবেত করা হবে।
০৩৯ وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا صُمٌّ وَبُكْمٌ فِي الظُّلُمَاتِ ۗ مَن يَشَإِ اللَّهُ يُضْلِلْهُ وَمَن يَشَأْ يَجْعَلْهُ عَلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
আর যারা আমার নিদর্শন সমূহকে মিথ্যা অভিহিত করে, তারা অন্ধকারে নিমজ্জিত বোবা ও বধির, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা করেন হিদায়াতের সরল-সহজ পথের সন্ধান দেন।
০৪০ قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ أَوْ أَتَتْكُمُ السَّاعَةُ أَغَيْرَ اللَّهِ تَدْعُونَ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) তাদেরকে বল, তোমরা যদি নিজেদের আদর্শে সত্যবাদী হও তবে চিন্তা করে দেখ যদি তোমাদের প্রতি আল্লাহর শাস্তি এসে পড়ে অথবা তোমাদের নিকট কিয়ামত এসে উপস্থিত হয়, তখনও কি তোমরা আল্লাহকে ব্যতীত অন্য কাউকেও ডাকবে?
০৪১ بَلْ إِيَّاهُ تَدْعُونَ فَيَكْشِفُ مَا تَدْعُونَ إِلَيْهِ إِن شَاءَ وَتَنسَوْنَ مَا تُشْرِكُونَ
বরং (বিপদের কারণে) তোমরা তাঁকেই ডেকে থাকো। অতএব যে জন্য তোমরা তাঁকে ডাকো ইচ্ছে করলে তিনি তা তোমাদের থেকে দূর করে দিবেন। আর যাদেরকে তোমরা অংশী করেছিলে তাদের কথা ভুলে যাবে।
০৪২ وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَىٰ أُمَمٍ مِّن قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُم بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ
আর আমি তোমাদের পূর্বেকার জাতিসমূহের কাছে বহু রাসূল পাঠিয়েছি, (কিন্তু তাদেরকে অমান্য করার কারণে) আমি তাদের প্রতি অভাব, দারিদ্র ও রোগ-ব্যাধি চাপিয়ে দিয়েছি, যেন তারা বিনয়ের সাথে নতি স্বীকার করে।
০৪৩ فَلَوْلَا إِذْ جَاءَهُم بَأْسُنَا تَضَرَّعُوا وَلَـٰكِن قَسَتْ قُلُوبُهُمْ وَزَيَّنَ لَهُمُ الشَّيْطَانُ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
সুতরাং তাদের প্রতি যখন আমার শাস্তি পৌছলো তখন তারা কেন নম্রতা ও বিনয় প্রকাশ করলো না? বরং তাদের অন্তর আরও কঠিন হয়ে পড়লো, আর শয়তান তাদের কাজকে (তাদের চোখের সামনে) শোভাময় করে দেখালো।
০৪৪ فَلَمَّا نَسُوا مَا ذُكِّرُوا بِهِ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ حَتَّىٰ إِذَا فَرِحُوا بِمَا أُوتُوا أَخَذْنَاهُم بَغْتَةً فَإِذَا هُم مُّبْلِسُونَ
অতঃপর তাদেরকে যা কিছু উপদেশ ও নসীহত করা হয়েছিল তা যখন তারা ভূলে গেল তখন আমি তাদের জন্যে প্রতিটি বস্তুর দরজা উন্মুক্ত করে দিলাম, শেষ পর্যন্ত যখন তারা তাদেরকে দানকৃত বস্তু লাভ করে খুব আনন্দিত ও উল্লাসিত হল, তখন হঠাত একদিন আমি তাদেরকে পাকড়াও করলাম, আর তারা সেই অবস্থায় নিরাশ হয়ে পড়লো।
০৪৫ فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِينَ ظَلَمُوا ۚ وَالْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ
অতঃপর অত্যাচারী সম্প্রদায়ের মূল শিকড় কেটে ফেলা হল, আর সমস্ত প্রশংসা বিশ্ব প্রভু আল্লাহরই জন্যে।
০৪৬ قُلْ أَرَأَيْتُمْ إِنْ أَخَذَ اللَّهُ سَمْعَكُمْ وَأَبْصَارَكُمْ وَخَتَمَ عَلَىٰ قُلُوبِكُم مَّنْ إِلَـٰهٌ غَيْرُ اللَّهِ يَأْتِيكُم بِهِ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ ثُمَّ هُمْ يَصْدِفُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি বল, দেখো! আল্লাহ যদি তোমাদের শ্রবণশক্তি ও দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নেন এবং তোমাদের অন্তরে মোহর মেরে দেন, তবে আল্লাহ ছাড়া কে আছে যে সেগুলো তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেবেন? লক্ষ্য কর তো, আমি আমার আয়াতসমূহ ও দলীল প্রমাণাদি কিভাবে পেশ করছি, এর পরেও তারা তা থেকে ফিরে আসছে।
০৪৭ قُلْ أَرَأَيْتَكُمْ إِنْ أَتَاكُمْ عَذَابُ اللَّهِ بَغْتَةً أَوْ جَهْرَةً هَلْ يُهْلَكُ إِلَّا الْقَوْمُ الظَّالِمُونَ
তুমি আরও জিজ্ঞেস কর, আল্লাহর শাস্তি যদি হঠাত করে বা প্রকাশ্যে তোমাদের উপর এসে পড়ে, তবে কি অত্যাচারীরা ছাড়া আর কেউ ধ্বংস হবে?
০৪৮ وَمَا نُرْسِلُ الْمُرْسَلِينَ إِلَّا مُبَشِّرِينَ وَمُنذِرِينَ ۖ فَمَنْ آمَنَ وَأَصْلَحَ فَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
আমি রাসূলদেরকে তো শুধু এই উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে থাকি যে, তারা (সৎ লোকদেরকে) সুসংবাদ দেবে এবং (অসৎ লোকদেরকে) সতর্ক করবে, সুতরাং যারা ঈমান এনেছে ও নিজেকে সংশোধন করেছে তাদের জন্যে কোন ভয়ভীতি থাকবে না এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
০৪৯ وَالَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا يَمَسُّهُمُ الْعَذَابُ بِمَا كَانُوا يَفْسُقُونَ
আর যারা আমার আয়াত ও নিদর্শনসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, তাদের উপর তাদের নিজেদের ফাসেকীর কারণে শাস্তি আপতিত হবে।
০৫০ قُل لَّا أَقُولُ لَكُمْ عِندِي خَزَائِنُ اللَّهِ وَلَا أَعْلَمُ الْغَيْبَ وَلَا أَقُولُ لَكُمْ إِنِّي مَلَكٌ ۖ إِنْ أَتَّبِعُ إِلَّا مَا يُوحَىٰ إِلَيَّ ۚ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الْأَعْمَىٰ وَالْبَصِيرُ ۚ أَفَلَا تَتَفَكَّرُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি (তাদেরকে) বল- আমি তোমাদেরকে একথা বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ধন ভান্ডার রয়েছে, আর আমি অদৃশ্যের কোন জ্ঞানও রাখি না এবং আমি তোমাদেরকে একথাও বলি না যে, আমি একজন ফেরেশতা। আমার কাছে যা কিছু ওহীরূপে পাঠানো হয়, আমি শুধুমাত্র তারই অনুসরণ করে থাকি। তুমি (তাদেরকে) জিজ্ঞেস কর- অন্ধ ও চক্ষুষ্মান কি সমমানের? সুতরাং তোমরা কেন চিন্তা-ভাবনা কর না?
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x