০০৬. সূরাঃ আন’আম

আয়াত নং অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১৬৫
রুকূঃ ২০
১০১ بَدِيعُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ ۖ أَنَّىٰ يَكُونُ لَهُ وَلَدٌ وَلَمْ تَكُن لَّهُ صَاحِبَةٌ ۖ وَخَلَقَ كُلَّ شَيْءٍ ۖ وَهُوَ بِكُلِّ شَيْءٍ عَلِيمٌ
তিনি আসমান ও যমীনের স্রষ্টা; তাঁর সন্তান হবে কি করে? অথচ তাঁর জীবন সঙ্গিনীই কেউ নেই! তিনিই প্রত্যেকটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন এবং প্রত্যেকটি জিনিস সম্পর্কে সর্বজ্ঞাত।
১০২ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ رَبُّكُمْ ۖ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ خَالِقُ كُلِّ شَيْءٍ فَاعْبُدُوهُ ۚ وَهُوَ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ وَكِيلٌ
তিনি আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক, তিনি ছাড়া অন্য কেউই সত্য মা’বূদ নেই, প্রত্যেক বস্তুরই স্রষ্টা তিনি, অতএব তোমরা তাঁরই ইবাদত করতে থাকবে, তিনিই সব জিনিসের কার্যনির্বাহী।
১০৩ لَّا تُدْرِكُهُ الْأَبْصَارُ وَهُوَ يُدْرِكُ الْأَبْصَارَ ۖ وَهُوَ اللَّطِيفُ الْخَبِيرُ
তাঁকে তো কারও দৃষ্টি পরিবেষ্টন করতে পারে না, আর তিনি সকল দৃষ্টি পরিবেষ্টনকারী এবং তিনি অতীব সূক্ষ্মদর্শী এবং সব বিষয়ে ওয়াকিফহাল।
১০৪ قَدْ جَاءَكُم بَصَائِرُ مِن رَّبِّكُمْ ۖ فَمَنْ أَبْصَرَ فَلِنَفْسِهِ ۖ وَمَنْ عَمِيَ فَعَلَيْهَا ۚ وَمَا أَنَا عَلَيْكُم بِحَفِيظٍ
এখন নিশ্চয়ই তোমাদের কাছে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হতে সত্য দর্শনের উপায়সমূহ পৌঁছেছে, এখন যে ব্যক্তি নিজের গভীর দৃষ্টিতে অবলোকন করবে, সে নিজেরই কল্যাণ সাধন করবে, আর যে অন্ধ থাকবে সে নিজেই ক্ষতিগ্রস্থ হবে, আর আমি তো তোমাদের প্রহরী নই।
১০৫ وَكَذَٰلِكَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ وَلِيَقُولُوا دَرَسْتَ وَلِنُبَيِّنَهُ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
এরূপের আমি বিভিন্নভাবে দলীল প্রমাণাদি সমূহ বর্ণনা করে থাকি যাতে লোকেরা বলেঃ তুমি কারও নিকট থেকে পড়ে নিয়েছো, আর যেন আমি একে বুদ্ধিমান লোকদের জন্যে প্রকাশ করে দেই।
১০৬ اتَّبِعْ مَا أُوحِيَ إِلَيْكَ مِن رَّبِّكَ ۖ لَا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۖ وَأَعْرِضْ عَنِ الْمُشْرِكِينَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তোমার প্রতি তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে যে ওহী নাযিল করে চল, তিনি ছাড়া অন্য কেউই মা’বূদ নেই, আর মুশরিকদের থেকে বিমুখ থাক।
১০৭ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكُوا ۗ وَمَا جَعَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا ۖ وَمَا أَنتَ عَلَيْهِم بِوَكِيلٍ
আর যদি আল্লাহর অভিপ্রায় হতো তবে এরা শিরক করতো না; আর আমি তোমাকে এদের পর্যবেক্ষক নিযুক্ত করিনি এবং তুমি তাঁদের উপর ক্ষমতা প্রাপ্তও নও।
১০৮ وَلَا تَسُبُّوا الَّذِينَ يَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ فَيَسُبُّوا اللَّهَ عَدْوًا بِغَيْرِ عِلْمٍ ۗ كَذَٰلِكَ زَيَّنَّا لِكُلِّ أُمَّةٍ عَمَلَهُمْ ثُمَّ إِلَىٰ رَبِّهِم مَّرْجِعُهُمْ فَيُنَبِّئُهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
(হে মুমিনগণ)! এরা আল্লাহকে বাদ দিয়ে যাদেরকে আহ্বান কর (ও ইবাদত করে) তোমরা তাদেরকে গালাগালি করো না, তাহলে তারা অজ্ঞানবশতঃ বৈরীভাবে আল্লাহকেই গালাগালি দিতে শুরু করবে, আমি তো এরূপেই প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্যে তাঁদের আমলকে চাকচিক্যময় করে দিয়েছি, শেষ পর্যন্ত তাদেরকে তাঁদের প্রভুর কাছে ফিরে যেতে হবে, তখন তারা যা কিছু করতো তা তিনি তাদেরকে জানিয়ে দিবেন।
১০৯ وَأَقْسَمُوا بِاللَّهِ جَهْدَ أَيْمَانِهِمْ لَئِن جَاءَتْهُمْ آيَةٌ لَّيُؤْمِنُنَّ بِهَا ۚ قُلْ إِنَّمَا الْآيَاتُ عِندَ اللَّهِ ۖ وَمَا يُشْعِرُكُمْ أَنَّهَا إِذَا جَاءَتْ لَا يُؤْمِنُونَ
আর কঠিন অঙ্গীকার সহকারে আল্লাহর নামে কসম করে তারা বলেঃ কোন একটা নিদর্শন (মু’জিযা) তাদের কাছে আসলে তারা অবশ্যই ঈমান আনবে। (হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি বলে দাওঃ নিদর্শনগুলো সমস্তই আল্লাহর অধিকারে। আর (হে মুসলমানরা)! কি করে তোমাদেরকে বুঝানো যাবে যে, নিদর্শন আসলেও তারা ঈমান আনবে না।
১১০ وَنُقَلِّبُ أَفْئِدَتَهُمْ وَأَبْصَارَهُمْ كَمَا لَمْ يُؤْمِنُوا بِهِ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَنَذَرُهُمْ فِي طُغْيَانِهِمْ يَعْمَهُونَ
আর আমিও তাদের অন্তরের ও দৃষ্টির পরিবর্তন করে দিবো যেমনিভাবে তারা এর উপর প্রথমবার ঈমান আনেনি এবং আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতার মধ্যেই বিভ্রান্ত থাকতে দিবো।
১১১ وَلَوْ أَنَّنَا نَزَّلْنَا إِلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةَ وَكَلَّمَهُمُ الْمَوْتَىٰ وَحَشَرْنَا عَلَيْهِمْ كُلَّ شَيْءٍ قُبُلًا مَّا كَانُوا لِيُؤْمِنُوا إِلَّا أَن يَشَاءَ اللَّهُ وَلَـٰكِنَّ أَكْثَرَهُمْ يَجْهَلُونَ
আর যদি আমি তাদের কাছে ফেরেশতাও অবতীর্ণ করতাম, আর মৃতগণও যদি তাদের সাথে কথাবার্তা বলতো এবং দুনিয়ার সমস্ত বস্তুও যদি আমি তাদের চোখের সামনে সমবেত করতাম, তবুও তারা ঈমান আনতো না আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত; কিন্তু তাদের অধিকাংশই যজ্ঞ।
১১২ وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا لِكُلِّ نَبِيٍّ عَدُوًّا شَيَاطِينَ الْإِنسِ وَالْجِنِّ يُوحِي بَعْضُهُمْ إِلَىٰ بَعْضٍ زُخْرُفَ الْقَوْلِ غُرُورًا ۚ وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ مَا فَعَلُوهُ ۖ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ
আর এমনিভাবেই আমি প্রত্যেক নবীর জন্যে বহু শয়তানকে শত্রুরূপে সৃষ্টি করেছি, তাদের কতক শয়তান মানুষের মধ্যে এবং কতক শয়তান জিনদের হতে হয়ে থাকে, এরা একে অন্যকে কতগুলো মনোমুগ্ধকর ও চাকচিক্য কথা দ্বারা প্ররোচিত করে থাকে। কারণ যেন তারা ধোঁকায় পতিত হয়। কারণ যেন তারা ধোঁকায় পতিত হয়। তোমার প্রতিপালকের ইচ্ছা হলে তারা এমন কাজ করতে পারতো না, সুতরাং তুমি তাদেরকে এবং তাদের মিথ্যা রচনাগুলোকে বর্জন করে চলবে।
১১৩ وَلِتَصْغَىٰ إِلَيْهِ أَفْئِدَةُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَلِيَرْضَوْهُ وَلِيَقْتَرِفُوا مَا هُم مُّقْتَرِفُونَ
(তাদের এরূপ প্ররোচনামূলক কথার উদ্দেশ্য হল) যারা পরকালের প্রতি ঈমান রাখে না তাদের অন্তরকে ঐ দিকে অনুরক্ত করা; এবং তারা যেন তাতে সন্তুষ্ট থাকে আর তারা যেসব কাজ করে তা যেন তারাও করতে থাকে।
১১৪ أَفَغَيْرَ اللَّهِ أَبْتَغِي حَكَمًا وَهُوَ الَّذِي أَنزَلَ إِلَيْكُمُ الْكِتَابَ مُفَصَّلًا ۚ وَالَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ يَعْلَمُونَ أَنَّهُ مُنَزَّلٌ مِّن رَّبِّكَ بِالْحَقِّ ۖ فَلَا تَكُونَنَّ مِنَ الْمُمْتَرِينَ
(হে মুহাম্মদ সঃ! তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর) তবে কি আমি আল্লাহকে বর্জন করে অন্য কাউকে মীমাংসাকারী ও বিচারকরূপে অনুসন্ধান করবো? অথচ তিনিই তোমাদের কাছে এই কিতাবকে বিস্তারিতভাবে অবতীর্ণ করেছেন! আর আমি যাদেরকে কিতাব দান করেছি তারা জানে যে, এ কিতাব তোমার প্রতিপালকের পক্ষ হতেই যথার্থ ও সঠিকভাবে অবতীর্ণ করা হয়েছে সুতরাং তুমি সন্দেহ পোষণকারীদের মধ্যে শামিল হয়ো না।
১১৫ وَتَمَّتْ كَلِمَتُ رَبِّكَ صِدْقًا وَعَدْلًا ۚ لَّا مُبَدِّلَ لِكَلِمَاتِهِ ۚ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
তোমার প্রতিপালকের বাণী সত্যতা ও ইনসাফের দিক দিয়ে পূর্ণতা লাভ করেছে, তাঁর বাণী পরিবর্তনকারী কেউই নেই, তিনি সবকিছু শোনেন ও সবকিছু জানেন।
১১৬ وَإِن تُطِعْ أَكْثَرَ مَن فِي الْأَرْضِ يُضِلُّوكَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۚ إِن يَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ
(হে নবী সঃ)! তুমি যদি দুনিয়াবাসীদের অধিকাংশ লোকের কথার অনুসরণ কর, তবে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ হতে বিভ্রান্ত করে ফেলবে, তারা তো নিছক ধারণা ও অনুমানেরই অনুসরণ করে, আর তারা ধারণা ও অনুমান ছাড়া কিছুই করছে না।
১১৭ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ مَن يَضِلُّ عَن سَبِيلِهِ ۖ وَهُوَ أَعْلَمُ بِالْمُهْتَدِينَ
কোন ব্যক্তি আল্লাহর পথ হতে বিভ্রান্ত হয়েছে তা তোমার প্রতিপালক নিশ্চিতভাবে অবগত আছেন, আর তিনি হেদায়েত প্রাপ্তদের সম্পর্কেও খুব ভালভাবে জ্ঞাত রয়েছেন।
১১৮ فَكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ إِن كُنتُم بِآيَاتِهِ مُؤْمِنِينَ
অতএব, যে জীবকে আল্লাহর নাম নিয়ে যবাই করা হয়েছে তা তোমরা ভক্ষণ কর, যদি তোমরা আল্লাহর বিধানের প্রতি ঈমান রাখ।
১১৯ وَمَا لَكُمْ أَلَّا تَأْكُلُوا مِمَّا ذُكِرَ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَقَدْ فَصَّلَ لَكُم مَّا حَرَّمَ عَلَيْكُمْ إِلَّا مَا اضْطُرِرْتُمْ إِلَيْهِ ۗ وَإِنَّ كَثِيرًا لَّيُضِلُّونَ بِأَهْوَائِهِم بِغَيْرِ عِلْمٍ ۗ إِنَّ رَبَّكَ هُوَ أَعْلَمُ بِالْمُعْتَدِينَ
যে জন্তু যবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করা হয়েছে, তা ভক্ষণ না করার তোমাদের কাছে কি কারণ থাকতে পারে? অথচ আল্লাহ পাক তোমাদের উপর যা কিছু হারাম করেছেন, তা তিনি সবিস্তারে বর্ণনা করেছেন, তবে কঠিনভাবে বাধ্য হলে তোমরা উক্ত হারাম বস্তুও আহার করতে পার, নিঃসন্দেহে বহুলোক অজ্ঞানবশতঃ নিজেদের ইচ্ছা, বাসনা ও প্রবৃত্তির দ্বারা অবশ্যই অন্যকে পথভ্রষ্ট করে, নিশ্চয়ই তোমার প্রতিপালক সীমালঙ্ঘনকারীগণ সম্পর্কে ভালভাবেই ওয়াকিফহাল।
১২০ وَذَرُوا ظَاهِرَ الْإِثْمِ وَبَاطِنَهُ ۚ إِنَّ الَّذِينَ يَكْسِبُونَ الْإِثْمَ سَيُجْزَوْنَ بِمَا كَانُوا يَقْتَرِفُونَ
তোমরা প্রকাশ্য ও গোপনীয় পাপকার্য পরিত্যাগ কর, যারা পাপের কাজ করে, তাদেরকে অতিসত্বরই নিজেদের কৃতকার্যের প্রতিফল দেয়া হবে।
১২১ وَلَا تَأْكُلُوا مِمَّا لَمْ يُذْكَرِ اسْمُ اللَّهِ عَلَيْهِ وَإِنَّهُ لَفِسْقٌ ۗ وَإِنَّ الشَّيَاطِينَ لَيُوحُونَ إِلَىٰ أَوْلِيَائِهِمْ لِيُجَادِلُوكُمْ ۖ وَإِنْ أَطَعْتُمُوهُمْ إِنَّكُمْ لَمُشْرِكُونَ
আর যে জন্তু যবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারন করা হয়নি, তা তোমরা ভক্ষণ করো না, কেননা এটা ফাসেকী বা অন্যায়, শয়তানরা নিজেদের সঙ্গী-সাথীদের মনে এমন কিছু কুমন্ত্রণা প্রবেশ করিয়ে দেয়, যেন তারা তোমাদের সাথে জগড়া ও বিতর্ক করে, যদি তোমরা তাদের আকীদা-বিশ্বাস ও কাজ-কর্মে আনুগত্য কর, তবে নিঃসন্দেহে তোমরা মুশরিক হয়ে যাবে।
১২২ أَوَمَن كَانَ مَيْتًا فَأَحْيَيْنَاهُ وَجَعَلْنَا لَهُ نُورًا يَمْشِي بِهِ فِي النَّاسِ كَمَن مَّثَلُهُ فِي الظُّلُمَاتِ لَيْسَ بِخَارِجٍ مِّنْهَا ۚ كَذَٰلِكَ زُيِّنَ لِلْكَافِرِينَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
এমন ব্যক্তি যে ছিল প্রাণহীন (মৃত) তৎপর তাকে আমি জীবন প্রদান করি এবং তার জন্যে আমি এমন আলোকের (ব্যবস্থা) করে দেই, যার সাহায্যে সে জনগণের মধ্যে চলাফেরা করতে থাকে, সে কি এমন কোন লোকের মত হতে পারে যে (ডুবে) আছে অন্ধকার পুঞ্জের মধ্যে, তা হতে বের হওয়ার পথ পাচ্ছে না, এরূপেই কাফিরদের জন্যে তাদের কার্যকলাপ মনোহর বানিয়ে দেয়া হয়েছে।
১২৩ وَكَذَٰلِكَ جَعَلْنَا فِي كُلِّ قَرْيَةٍ أَكَابِرَ مُجْرِمِيهَا لِيَمْكُرُوا فِيهَا ۖ وَمَا يَمْكُرُونَ إِلَّا بِأَنفُسِهِمْ وَمَا يَشْعُرُونَ
আর এরূপভাবেই আমি প্রত্যেক জনপদে এর শীর্ষস্থানীয় লোকদেরকে পাপাচারী করেছি, যাতে তারা সেখানে নিজেদের ধোঁকা, প্রতারণা ও ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করে, মূলতঃ তারা শুধু নিজেদেরকেই নিজেরা প্রবঞ্চিত করে থাকে, অথচ তারা (এ সত্যটাকে) অনুভব করতে পারে না।
১২৪ وَإِذَا جَاءَتْهُمْ آيَةٌ قَالُوا لَن نُّؤْمِنَ حَتَّىٰ نُؤْتَىٰ مِثْلَ مَا أُوتِيَ رُسُلُ اللَّهِ ۘ اللَّهُ أَعْلَمُ حَيْثُ يَجْعَلُ رِسَالَتَهُ ۗ سَيُصِيبُ الَّذِينَ أَجْرَمُوا صَغَارٌ عِندَ اللَّهِ وَعَذَابٌ شَدِيدٌ بِمَا كَانُوا يَمْكُرُونَ
তাদের সামনে যখন কোন নিদর্শন আসে তখন তারা বলেঃ আল্লাহর রাসূলদেরকে যা কিছু দেয়া হয়েছিল, আমাদের অনুরূপ জিনিস না দেয়া পর্যন্ত আমরা ঈমান আনবো না, নবুওয়াতের দায়িত্ব কার উপর অর্পণ করবেন তা আল্লাহ ভালভাবেই অবগত, এই অপরাধী লোকেরা অতিসত্বরই তাদের ষড়যন্ত্র ও প্রতারণার ফলে আল্লাহর নিকট লাঞ্ছনা ও কঠিন শাস্তিপ্রাপ্ত হবে।
১২৫ فَمَن يُرِدِ اللَّهُ أَن يَهْدِيَهُ يَشْرَحْ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ ۖ وَمَن يُرِدْ أَن يُضِلَّهُ يَجْعَلْ صَدْرَهُ ضَيِّقًا حَرَجًا كَأَنَّمَا يَصَّعَّدُ فِي السَّمَاءِ ۚ كَذَٰلِكَ يَجْعَلُ اللَّهُ الرِّجْسَ عَلَى الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ
অতএব আল্লাহ যাকে হিদায়াত করতে চান, ইসলামের জন্যে তার অন্তঃকরণ খুলে দেন, আর যাকে পথভ্রষ্ট করার ইচ্ছা করেন, তার অন্তঃকরণ খুব সংকুচিত করে দেন, এমনভাবে সংকুচিত করেন যে, মনে হয় যেন সে আকাশে আরোহণ করছে, এমনিভাবে যারা ঈমান আনে না তাদের উপর আল্লাহ অপবিত্রতা ও পঙ্কিলতাকে বিজয়ী করে দেন।
১২৬ وَهَـٰذَا صِرَاطُ رَبِّكَ مُسْتَقِيمًا ۗ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَذَّكَّرُونَ
আর এটাই হচ্ছে তোমার প্রতিপালকের সহজ-সরল পথ, আমি উপদেশ গ্রহণকারী লোকদের জন্যে আয়াতসমূহ বিশদভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি।
১২৭ لَهُمْ دَارُ السَّلَامِ عِندَ رَبِّهِمْ ۖ وَهُوَ وَلِيُّهُم بِمَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তাদের জন্যে তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে এক শান্তি নিকেতন, আর তাদের কৃতকর্মের কারণে, তিনিই হচ্ছেন তাদের অভিভাবক।
১২৮ وَيَوْمَ يَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُم مِّنَ الْإِنسِ ۖ وَقَالَ أَوْلِيَاؤُهُم مِّنَ الْإِنسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَبَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَّلْتَ لَنَا ۚ قَالَ النَّارُ مَثْوَاكُمْ خَالِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ۗ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ
আর যেদিন আল্লাহ তাদের সকলকে একত্রিত করবেন, সেদিন তিনি বলবেন হে জিন সম্প্রদায়! তোমরা তো মানুষের মধ্যে অনেককে বিভ্রান্ত করে নিজেদের অনুগত করে নিয়েছিল, আর মানুষের মধ্যে তাদের বন্ধুগণ বলবেঃ হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা একে অপরের দ্বারা উপকৃত হয়েছি এবং আমরা সে নির্ধারিত সময়ে উপনীত হয়েছি যা আপনি আমাদের জন্যে নির্দিষ্ট করে রেখেছিলেন, তখন (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ (সমস্ত কাফের জিন ও মানুষকে) বলবেনঃ জাহান্নামই হচ্ছে তোমাদের বাসস্থান, তাতে তোমরা চিরস্থায়ীভাবে থাকবে, তবে আল্লাহ যাদেরকে চাইবেন (তারাই তা থেকে মুক্তি পেতে পারে) তোমাদের প্রতিপালক অতিশয় কুশলী এবং অত্যন্ত জ্ঞানবান।
১২৯ وَكَذَٰلِكَ نُوَلِّي بَعْضَ الظَّالِمِينَ بَعْضًا بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
এমনিভাবেই আমি যালিমদেরকে (কাফিরদেরকে) তাদের কৃতকর্মের ফলে পরস্পরের উপর পরস্পরকে প্রভাবশালী ও কর্তৃত্বশালী বানিয়ে দিবো।
১৩০ يَا مَعْشَرَ الْجِنِّ وَالْإِنسِ أَلَمْ يَأْتِكُمْ رُسُلٌ مِّنكُمْ يَقُصُّونَ عَلَيْكُمْ آيَاتِي وَيُنذِرُونَكُمْ لِقَاءَ يَوْمِكُمْ هَـٰذَا ۚ قَالُوا شَهِدْنَا عَلَىٰ أَنفُسِنَا ۖ وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا وَشَهِدُوا عَلَىٰ أَنفُسِهِمْ أَنَّهُمْ كَانُوا كَافِرِينَ
(কিয়ামতের দিন আল্লাহ জিজ্ঞেস করবেন) হে জিন ও মানব জাতি! তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য হতেই নবী রাসূল আসেনি, যারা তোমাদের কাছে আমার আয়াতসমূহ বর্ণনা করতো এবং আজকের দিনের সাথে তোমাদের সাক্ষাত হওয়ার ভীতি প্রদর্শন করতো? তারা জবাব দিবে, হ্যাঁ, আমরাই আমাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিচ্ছি (অর্থাৎ আমরা অপরাধ করেছি), পার্থিব জীবনই তাদেরকে ধোঁকায় নিপতিত রেখেছিল, আর তারাই নিজেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে যে, তারা কাফির ছিল।
১৩১ ذَٰلِكَ أَن لَّمْ يَكُن رَّبُّكَ مُهْلِكَ الْقُرَىٰ بِظُلْمٍ وَأَهْلُهَا غَافِلُونَ
(এ রাসূল প্রেরণ) এ জন্যে যে, তোমার প্রতিপালক কোন জনপদকে এর অধিবাসীবৃন্দ সত্য সম্পর্কে অজ্ঞাত থাকা অবস্থায় অন্যায়ভাবে ধ্বংস করেন না।
১৩২ وَلِكُلٍّ دَرَجَاتٌ مِّمَّا عَمِلُوا ۚ وَمَا رَبُّكَ بِغَافِلٍ عَمَّا يَعْمَلُونَ
আর প্রত্যেক লোকই নিজ নিজ আমলের কারণে মর্যাদা লাভ করবে, তারা যা আমল করতো সে বিষয়ে তোমার প্রতিপালক উদাসীন নন।
১৩৩ وَرَبُّكَ الْغَنِيُّ ذُو الرَّحْمَةِ ۚ إِن يَشَأْ يُذْهِبْكُمْ وَيَسْتَخْلِفْ مِن بَعْدِكُم مَّا يَشَاءُ كَمَا أَنشَأَكُم مِّن ذُرِّيَّةِ قَوْمٍ آخَرِينَ
এবং তোমার প্রতিপালক অমুখাপেক্ষী ও দয়াশীল, তাঁর ইচ্ছা হলে তোমাদেরকে অপসারিত করবেন এবং তোমাদের পর তোমাদের স্থানে যাকে ইচ্ছা স্থলাভিষিক্ত করবেন, যেমন তিনি তোমাদেরকে অন্য এক জাতির বংশধর হতে সৃষ্টি করেছেন।
১৩৪ إِنَّ مَا تُوعَدُونَ لَآتٍ ۖ وَمَا أَنتُم بِمُعْجِزِينَ
তোমাদের নিকট যে বিষয় সম্পর্কে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অসম্ভাবী, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না।
১৩৫ قُلْ يَا قَوْمِ اعْمَلُوا عَلَىٰ مَكَانَتِكُمْ إِنِّي عَامِلٌ ۖ فَسَوْفَ تَعْلَمُونَ مَن تَكُونُ لَهُ عَاقِبَةُ الدَّارِ ۗ إِنَّهُ لَا يُفْلِحُ الظَّالِمُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি বলে দাওঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা নিজ নিজ অবস্থায় আমল করতে থাক, আমিও আমল করছি, অতঃপর শীঘ্রই তোমরা জানতে পারবে যে, কার পরিণাম কল্যাণকর, নিঃসন্দেহে অত্যাচারীরা কখনো মুক্তি ও সাফল্য লাভ করতে পারবে না।
১৩৬ وَجَعَلُوا لِلَّهِ مِمَّا ذَرَأَ مِنَ الْحَرْثِ وَالْأَنْعَامِ نَصِيبًا فَقَالُوا هَـٰذَا لِلَّهِ بِزَعْمِهِمْ وَهَـٰذَا لِشُرَكَائِنَا ۖ فَمَا كَانَ لِشُرَكَائِهِمْ فَلَا يَصِلُ إِلَى اللَّهِ ۖ وَمَا كَانَ لِلَّهِ فَهُوَ يَصِلُ إِلَىٰ شُرَكَائِهِمْ ۗ سَاءَ مَا يَحْكُمُونَ
আর আল্লাহ যেসব শস্য ও পশু সৃষ্টি করেছেন, তারা (মুশরিকরা) এর একটি অংশ আল্লাহর জন্যে নির্ধারিত করে থাকে, আর নিজেদের ধারণা মতে তারা বলে যে, এ অংশ আল্লাহর জন্যে এবং এ অংশ আমাদের শরীকদের জন্যে; কিন্তু যা তাদের শরীকদের জন্যে নির্ধারিত হয়ে থাকে, তা তো আল্লাহর দিকে পৌঁছতে পারে না, পক্ষান্তরে যা আল্লাহর জন্যে নির্ধারণ করা হয়েছিল, তা তাদের শরীকদের কাছে পৌঁছে থাকে, এ লোকদের ফয়সালা ও বন্টন নীতি কতইনা খারাপ!
১৩৭ وَكَذَٰلِكَ زَيَّنَ لِكَثِيرٍ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ قَتْلَ أَوْلَادِهِمْ شُرَكَاؤُهُمْ لِيُرْدُوهُمْ وَلِيَلْبِسُوا عَلَيْهِمْ دِينَهُمْ ۖ وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا فَعَلُوهُ ۖ فَذَرْهُمْ وَمَا يَفْتَرُونَ
আর এমনিভাবে অনেক মুশরিকের দৃষ্টিতে তাদের শরীকরা (দেব-দেবীগণ) তাদের সন্তান হত্যা করাকে শোভনীয় করে দিয়েছে, যেন তারা তাদের সর্বনাশ করতে পারে এবং তাদের কাছে তাদের দ্বীনকে তারা সন্দেহময় করে দিতে পারে, আল্লাহ চাইলে তারা এসব কাজ করতে পারতো না, সুতরাং তুমি তাদেরকে এবং তাদের ভ্রান্ত উক্তিগুলোকে ছেড়ে দাও।
১৩৮ وَقَالُوا هَـٰذِهِ أَنْعَامٌ وَحَرْثٌ حِجْرٌ لَّا يَطْعَمُهَا إِلَّا مَن نَّشَاءُ بِزَعْمِهِمْ وَأَنْعَامٌ حُرِّمَتْ ظُهُورُهَا وَأَنْعَامٌ لَّا يَذْكُرُونَ اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا افْتِرَاءً عَلَيْهِ ۚ سَيَجْزِيهِم بِمَا كَانُوا يَفْتَرُونَ
আর তারা (নিজেদের বাতিল ধারণা মতে) এও বলে থাকে যে, এ সব বিশেষিত পশু ও বিশেষিত ক্ষেতের ফসল সুরক্ষিত কেউই তা ভক্ষন করতে পারবে না, তবে যাদেরকে আমরা অনুমতি দিব (তারাই ভক্ষণ করতে পারবে), আর (তারা বলে) এ বিশেষ পশুগুলোর উপর আরোহণ করা ও ভার বহন নিষেধ করে দেয়া হয়েছে, আর কতগুলো বিশেষ পশু রয়েছে যেগুলোকে যবাই করার সময় তারা আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে না, (এসব কথা) শুধু আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করার উদ্দেশ্যে (বলে), এসব মিথ্যা আরোপের প্রতিফল অতিসত্বরই তিনি তাদেরকে দান করবেন।
১৩৯ وَقَالُوا مَا فِي بُطُونِ هَـٰذِهِ الْأَنْعَامِ خَالِصَةٌ لِّذُكُورِنَا وَمُحَرَّمٌ عَلَىٰ أَزْوَاجِنَا ۖ وَإِن يَكُن مَّيْتَةً فَهُمْ فِيهِ شُرَكَاءُ ۚ سَيَجْزِيهِمْ وَصْفَهُمْ ۚ إِنَّهُ حَكِيمٌ عَلِيمٌ
আর তারা এ কথাও বলে থাকে যে, এসব বিশেষ পশুগুলোর গর্ভে যা কিছু রয়েছে, তা বিশেষভাবে আমাদের পুরুষদের জন্যে রক্ষিত; আর আমাদের নারীদের জন্যে এটা হারাম; কিন্তু গর্ভ হতে প্রসূত বাচ্চা যদি মত হয়, তবে নারী-পুরুষ সবাই তা বক্ষণে অংশী হতে পারবে, তাদের কৃত এসব বিশেষণের প্রতিদান অতিসত্বরই আল্লাহ তাদেরকে দিবেন, নিঃসন্দেহে তিনি হচ্ছেন প্রজ্ঞাময়, মহাজ্ঞানী।
১৪০ قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ قَتَلُوا أَوْلَادَهُمْ سَفَهًا بِغَيْرِ عِلْمٍ وَحَرَّمُوا مَا رَزَقَهُمُ اللَّهُ افْتِرَاءً عَلَى اللَّهِ ۚ قَدْ ضَلُّوا وَمَا كَانُوا مُهْتَدِينَ
বাস্তবিকই ঐ সমস্ত লোকেরা ক্ষতিগ্রস্থ হল যারা নিজেদের সন্তানদেরকে মূর্খতা ও অজ্ঞানতার কারণে হত্যা করেছে এবং আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা রচনা করে তাঁর প্রদত্ত রিযিককে হারাম করে নিয়েছে, তারা নিশ্চিতরূপে পথভ্রষ্ট হয়েছে, বস্তুতঃ তারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হতে পারেনি।
১৪১ وَهُوَ الَّذِي أَنشَأَ جَنَّاتٍ مَّعْرُوشَاتٍ وَغَيْرَ مَعْرُوشَاتٍ وَالنَّخْلَ وَالزَّرْعَ مُخْتَلِفًا أُكُلُهُ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُتَشَابِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ ۚ كُلُوا مِن ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَآتُوا حَقَّهُ يَوْمَ حَصَادِهِ ۖ وَلَا تُسْرِفُوا ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الْمُسْرِفِينَ
আর সেই আল্লাহই নানা প্রকার বাগান ও গুল্মলতা সৃষ্টি করেছেন যার কতক স্বীয় কান্ডের উপর সন্নিবিষ্ট হয়, আর কতক কান্ডের উপর সন্নিবিষ্ট হয় না, আর খেজুর বৃক্ষ ও শস্যক্ষেত্র যাতে বিভিন্ন প্রকারের খাদ্যবস্তু উৎপন্ন হয়ে থাকে, আর তিনি যয়তুন (জলপাই) ও আনার (ডালিমের) কতক সৃষ্টি করেছেন যা সাদৃশ্যপূর্ণ আর কতক অসাদৃশ্যপূর্ণও হয়। এসব ফল তোমরা আহার কর যখন এতে ফল ধরে, আর এতে শরীয়তের নির্ধারিত যে অংশ রয়েছে তা ফসল কাতার দিন আদায় করে দাও, অপব্যয় করো না, নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) অপব্যয়কারীকে ভালবাসেন না।
১৪২ وَمِنَ الْأَنْعَامِ حَمُولَةً وَفَرْشًا ۚ كُلُوا مِمَّا رَزَقَكُمُ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ ۚ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ
আর চতুষ্পদ জন্তুগুলোর মধ্যে কতগুলো (উঁচু আকৃতির) ভারবাহী জন্তু সৃষ্টি করেছেন, আর কতগুলো ছোট আকৃতির জন্তু। আল্লাহ যা কিছু দান করেছেন তোমরা তা ভক্ষণ কর, আর শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিঃসন্দেহে সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু।
১৪৩ ثَمَانِيَةَ أَزْوَاجٍ ۖ مِّنَ الضَّأْنِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْمَعْزِ اثْنَيْنِ ۗ قُلْ آلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنثَيَيْنِ ۖ نَبِّئُونِي بِعِلْمٍ إِن كُنتُمْ صَادِقِينَ
আর তিনি এ পশুগুলোকে আট প্রকারে সৃষ্টি করেছেন, ভেড়ার দু’প্রকার (স্ত্রী-পুরুষ) এবং বকরীর দু’প্রকার (স্ত্রী-পুরুষ), হে নবী (সঃ)! তুমি জিজ্ঞেস কর তোঃ আল্লাহ কি উভয় পুরুষ পশুগুলোকে হারাম করেছেন, না উভয় স্ত্রী পশুগুলোকে, না স্ত্রী দু’টির গর্ভে যা আছে তা হারাম করেছেন? তোমরা জ্ঞানের সাথে আমাকে উত্তর দাওঃ যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।
১৪৪ وَمِنَ الْإِبِلِ اثْنَيْنِ وَمِنَ الْبَقَرِ اثْنَيْنِ ۗ قُلْ آلذَّكَرَيْنِ حَرَّمَ أَمِ الْأُنثَيَيْنِ أَمَّا اشْتَمَلَتْ عَلَيْهِ أَرْحَامُ الْأُنثَيَيْنِ ۖ أَمْ كُنتُمْ شُهَدَاءَ إِذْ وَصَّاكُمُ اللَّهُ بِهَـٰذَا ۚ فَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا لِّيُضِلَّ النَّاسَ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۗ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
আর উটের দু’প্রকার (স্ত্রী-পুরুষ) এবং গরুর দু’প্রকার (স্ত্রী-পুরুষ) পশু, তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ আল্লাহ কি উভয় পুরুষ পশুগুলোকে বা উভয় স্ত্রী পশুগুলোকে হারাম করেছেন, অথবা স্ত্রী দু’টির (গরু ও উটের) গর্ভে যা রয়েছে তা হারাম করেছেন? না আল্লাহ যখন এসব পশু হালাল-হারাম হওয়ার বিধান জারি করেন তখন কি তোমরা হাযির ছিলে? যে ব্যক্তি বিনা প্রমাণে না জেনে মানুষকে বিভ্রান্ত করার উদ্দেশ্যে আল্লাহর নামে এরূপ মিথ্যা আরোপ করে তার চেয়ে বড় যালিম আর কে হতে পারে? আল্লাহ যালিমদেরকে সুপথ প্রদর্শন করেন না।
১৪৫ قُل لَّا أَجِدُ فِي مَا أُوحِيَ إِلَيَّ مُحَرَّمًا عَلَىٰ طَاعِمٍ يَطْعَمُهُ إِلَّا أَن يَكُونَ مَيْتَةً أَوْ دَمًا مَّسْفُوحًا أَوْ لَحْمَ خِنزِيرٍ فَإِنَّهُ رِجْسٌ أَوْ فِسْقًا أُهِلَّ لِغَيْرِ اللَّهِ بِهِ ۚ فَمَنِ اضْطُرَّ غَيْرَ بَاغٍ وَلَا عَادٍ فَإِنَّ رَبَّكَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি বলঃ ওহীর মাধ্যমে আমার কাছে যে বিধান পাঠানো হয়েছে, তাতে কোন আহারকারীর জন্যে কোন বস্তু হারাম করা হয়েছে – এমন কিছু আমি পাইনি, তবে মৃতজন্তু, প্রবাহিত রক্ত ও শূকরের গোশত কেননা, এটা অবশ্যই নাপাক অথবা যা শরীয়ত গর্হিত বস্তু (শিরকের মাধ্যমে) যে আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, তা হারাম করা হয়েছে; কিন্তু যদি কোন লোক নিরূপায় হয়ে পড়ে, এই শর্তে যে সে খাওয়ার প্রতি লোভী ও কামনাকারী নয় এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত ও খায় না তবে (তার জন্য এটা খাওয়া বৈধ) কেননা, আল্লাহ ক্ষমাশীল ও অনুগ্রহশীল।
১৪৬ وَعَلَى الَّذِينَ هَادُوا حَرَّمْنَا كُلَّ ذِي ظُفُرٍ ۖ وَمِنَ الْبَقَرِ وَالْغَنَمِ حَرَّمْنَا عَلَيْهِمْ شُحُومَهُمَا إِلَّا مَا حَمَلَتْ ظُهُورُهُمَا أَوِ الْحَوَايَا أَوْ مَا اخْتَلَطَ بِعَظْمٍ ۚ ذَٰلِكَ جَزَيْنَاهُم بِبَغْيِهِمْ ۖ وَإِنَّا لَصَادِقُونَ
ইয়াহূদীদের প্রতি আমি সর্বপ্রকার নখ বিশিষ্ট জীব হারাম করেছিলাম; আর গরু ও ছাগল হতে তাদের জন্যে উভয়ের চর্বি হারাম করেছিলাম; কিন্তু পৃষ্ঠদেশের চর্বি, নাড়ি-ভুঁড়ির চর্বি ও হাড়ের সাথে মিশ্রিত চর্বি এই হারামের অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তাদের বিদ্রোহমূলক আচরণের জন্যে আমি তাদেরকে এই শাস্তি দিয়েছিলাম, আর আমি নিঃসন্দেহে সত্যবাদী।
১৪৭ فَإِن كَذَّبُوكَ فَقُل رَّبُّكُمْ ذُو رَحْمَةٍ وَاسِعَةٍ وَلَا يُرَدُّ بَأْسُهُ عَنِ الْقَوْمِ الْمُجْرِمِينَ
সুতরাং (হে নবী সঃ)! এ সব বিষয়ে যদি তারা তোমাকে মিথ্যাবাদী মনে করে তবে তুমি বলে দাওঃ তোমাদের প্রভু বড়ই করুণাময়, আর অপরাধী সম্প্রদায় হতে তাঁর শাস্তি বিধান কখনই প্রত্যাহার করা হবে না।
১৪৮ سَيَقُولُ الَّذِينَ أَشْرَكُوا لَوْ شَاءَ اللَّهُ مَا أَشْرَكْنَا وَلَا آبَاؤُنَا وَلَا حَرَّمْنَا مِن شَيْءٍ ۚ كَذَٰلِكَ كَذَّبَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ حَتَّىٰ ذَاقُوا بَأْسَنَا ۗ قُلْ هَلْ عِندَكُم مِّنْ عِلْمٍ فَتُخْرِجُوهُ لَنَا ۖ إِن تَتَّبِعُونَ إِلَّا الظَّنَّ وَإِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَخْرُصُونَ
এই মুশরিকরা (তোমার কথার উত্তরে) অবশ্যই বলবেঃ আল্লাহ যদি চাইতেন তবে আমরা শিরক করতাম না এবং আমাদের বাপ-দাদারাও করতো না, আর কোন জিনিসও আমরা হারাম করতাম না, বস্তুতঃ এভাবেই তাদের পূর্ব যুগের কাফিররা (রাসূলদেরকে) মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছিল, শেষ পর্যন্ত তারা আমার শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিল, তুমি জিজ্ঞেস করঃ তোমাদের কাছে কি কোন দলীল প্রমাণ আছে? থাকলে আমার সামনে পেশ ক্র, তোমরা ধারণা ও অনুমান ব্যতীত আর কিছুরই অনুসরণ ক্র না, তোমরা সম্পূর্ণ আনুমানিক কথা ছাড়া আর কিছুই বলছো না।
১৪৯ قُلْ فَلِلَّهِ الْحُجَّةُ الْبَالِغَةُ ۖ فَلَوْ شَاءَ لَهَدَاكُمْ أَجْمَعِينَ
তুমি বলে দাওঃ সত্য ভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ দলীল-প্রমাণ তো একমাত্র আল্লাহরই রয়েছে, সুতরাং তিনি চাইলে তোমাদের সকলকেই হিদায়াত দান করতেন।
১৫০ قُلْ هَلُمَّ شُهَدَاءَكُمُ الَّذِينَ يَشْهَدُونَ أَنَّ اللَّهَ حَرَّمَ هَـٰذَا ۖ فَإِن شَهِدُوا فَلَا تَشْهَدْ مَعَهُمْ ۚ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِآيَاتِنَا وَالَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَهُم بِرَبِّهِمْ يَعْدِلُونَ
তুমি আরও বলে দাওঃ আল্লাহ এসব পশু হারাম করেছেন, এর সাক্ষ্য যারা দেবে সেই সাক্ষীদেরকে তোমরা নিয়ে এসো, তারা যদি সাক্ষ্যও দেয়, তবে তুমি তাদের সাথে সাক্ষ্য দিবে না, আর তুমি এমন লোকদের প্রবৃত্তির অনুসরণ করবে না যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং পরকালের প্রতি ঈমান আনে না এবং তারা অন্যান্যদেরকে (দেবতাদেরকে) নিজেদের প্রতিপালকের সমান স্থির করে।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x