০০৬. সূরাঃ আন’আম

আয়াত নং অবতীর্ণঃ মক্কা
আয়াত সংখ্যাঃ ১৬৫
রুকূঃ ২০
০৫১ وَأَنذِرْ بِهِ الَّذِينَ يَخَافُونَ أَن يُحْشَرُوا إِلَىٰ رَبِّهِمْ ۙ لَيْسَ لَهُم مِّن دُونِهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ لَّعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি এর (ওহীর) সাহায্যে ঐসব লোককে সতর্ক কর যারা ভয় করে যে, তাদেরকে তাদের প্রতিপালকের কাছে এমন অবস্থায় সমবেত করা হবে যেখানে তিনি ছাড়া তাদের না কোন সাহায্যকারী হবে, না থাকবে কোন সুপারিশকারী, হয়তো এই কারণে তারা মুত্তাকী হবে।
০৫২ وَلَا تَطْرُدِ الَّذِينَ يَدْعُونَ رَبَّهُم بِالْغَدَاةِ وَالْعَشِيِّ يُرِيدُونَ وَجْهَهُ ۖ مَا عَلَيْكَ مِنْ حِسَابِهِم مِّن شَيْءٍ وَمَا مِنْ حِسَابِكَ عَلَيْهِم مِّن شَيْءٍ فَتَطْرُدَهُمْ فَتَكُونَ مِنَ الظَّالِمِينَ
আর যেসব লোক সকাল-সন্ধ্যায় তাদের প্রতিপালকের ইবাদত করে এবং এর মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টিই কামনা করে, তাদেরকে তুমি দূরে সরিয়ে দিবে না, তাদের হিসাব-নিকাশের কোন কিছুর দায়িত্ব তোমার উপরও নেই এবং তোমার হিসাব-নিকাশের কোন দায়িত্ব তাদের উপর নেই। এরপরও যদি তুমি তাদেরকে দূরে সরিয়ে দাও, তবে তুমি যালিমদের মধ্যে শামিল হয়ে যাবে।
০৫৩ وَكَذَٰلِكَ فَتَنَّا بَعْضَهُم بِبَعْضٍ لِّيَقُولُوا أَهَـٰؤُلَاءِ مَنَّ اللَّهُ عَلَيْهِم مِّن بَيْنِنَا ۗ أَلَيْسَ اللَّهُ بِأَعْلَمَ بِالشَّاكِرِينَ
এমনিভাবে আমি একজন দ্বারা অপরজনকে পরীক্ষায় নিপতিত করে থাকি, যেন তারা বলতে থাকে যে, এরাই কি ঐসব লোক যে, আমাদের মধ্যে এদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ ও মেহেরবানী করেছেন? ব্যাপারটা কি এটা নয় যে, আল্লাহ কৃতজ্ঞতাপরায়ণ লোকদেরকে ভালভাবেই জানেন।
০৫৪ وَإِذَا جَاءَكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِآيَاتِنَا فَقُلْ سَلَامٌ عَلَيْكُمْ ۖ كَتَبَ رَبُّكُمْ عَلَىٰ نَفْسِهِ الرَّحْمَةَ ۖ أَنَّهُ مَنْ عَمِلَ مِنكُمْ سُوءًا بِجَهَالَةٍ ثُمَّ تَابَ مِن بَعْدِهِ وَأَصْلَحَ فَأَنَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আমার আয়াতসমূহের উপর বিশ্বাস স্থাপনকারীরা যখন তোমার নিকট আসে তখন তাদেরকে বলঃ তোমাদের প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক, তোমাদের প্রতিপালক নিজের উপর দয়া ও অনুগ্রহ স্থির করে নিয়েছেন। তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি অজ্ঞতা ও মূর্খতাবশতঃ কোন খারাপ কাজ করে বসে, অতঃপর সে যদি তাওবা করে ও নিজেকে সংশোধন করে নেয়, তবে জেনে রেখ যে, তিনি হচ্ছেন ক্ষমাশীল, পরমদয়ালু।
০৫৫ وَكَذَٰلِكَ نُفَصِّلُ الْآيَاتِ وَلِتَسْتَبِينَ سَبِيلُ الْمُجْرِمِينَ
এমনিভাবে আমি আমার আয়াত ও নিদর্শনসমূহ সবিস্তার বর্ণনা করে থাকি, যেন অপরাধী লোকদের পথটি সুস্পষ্ট হয়ে পড়ে।
০৫৬ قُلْ إِنِّي نُهِيتُ أَنْ أَعْبُدَ الَّذِينَ تَدْعُونَ مِن دُونِ اللَّهِ ۚ قُل لَّا أَتَّبِعُ أَهْوَاءَكُمْ ۙ قَدْ ضَلَلْتُ إِذًا وَمَا أَنَا مِنَ الْمُهْتَدِينَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি কাফিরদের বলে দাও- তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যার ইবাদত কর, (ও যাকে আহ্বান কর) আমাকে তার ইবাদত করতে নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। তুমি আরও বলঃ আমি তোমার ইচ্ছা ও মনোবৃত্তির অনুসরণ করবো না, কেননা, তা করলে আমি পথহারা হয়ে পড়বো এবং আমি আর হিদায়াত প্রাপ্তদের মধ্যে থাকবো না।
০৫৭ قُلْ إِنِّي عَلَىٰ بَيِّنَةٍ مِّن رَّبِّي وَكَذَّبْتُم بِهِ ۚ مَا عِندِي مَا تَسْتَعْجِلُونَ بِهِ ۚ إِنِ الْحُكْمُ إِلَّا لِلَّهِ ۖ يَقُصُّ الْحَقَّ ۖ وَهُوَ خَيْرُ الْفَاصِلِينَ
তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) বলঃ আমি আমার প্রতিপালকের প্রদত্ত একটি সুস্পষ্ট উজ্জ্বল দলীল-প্রমাণের উপর প্রতিষ্ঠিত, আর তোমরা সেই দলীলকে মিথ্যা অভিহিত করছো, যে বিষয়টি তোমরা খুব তাড়াতাড়ি পেতে চাও তার ইখতিয়ার আমার হাতে নেই, হুকুমের মালিক আল্লাহ ছাড়া আর কেউই নয়, তিনি সত্য ও বাস্তবানুগ কথা বর্ণনা করেন, আর তিনিই হচ্ছেন সর্বোত্তম ফায়সালাকারী।
০৫৮ قُل لَّوْ أَنَّ عِندِي مَا تَسْتَعْجِلُونَ بِهِ لَقُضِيَ الْأَمْرُ بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ ۗ وَاللَّهُ أَعْلَمُ بِالظَّالِمِينَ
তুমি (হে মুহাম্মদ সঃ) বলঃ তোমরা যে বস্তুটি তাড়াতাড়ি পেতে চাও, তা যদি আমার ইখতিয়ারভুক্ত থাকতো, তবে তো আমার ও তোমাদের মধ্যে চুড়ান্ত ফায়সালা অনেক আগেই হয়ে যেতো, আর যালিমদেরকে আল্লাহ খুব ভাল করেই জানেন।
০৫৯ وَعِندَهُ مَفَاتِحُ الْغَيْبِ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا هُوَ ۚ وَيَعْلَمُ مَا فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ۚ وَمَا تَسْقُطُ مِن وَرَقَةٍ إِلَّا يَعْلَمُهَا وَلَا حَبَّةٍ فِي ظُلُمَاتِ الْأَرْضِ وَلَا رَطْبٍ وَلَا يَابِسٍ إِلَّا فِي كِتَابٍ مُّبِينٍ
গায়েব বা অদৃশ্যের চাবিকাঠি তাঁরই নিকট রয়েছে; তিনি ছাড়া আর কেউই তা জ্ঞাত নয়, স্থল ও জলভাগের সব কিছুই তিনি অবগত রয়েছেন, তার অবগতি ব্যতীত বৃক্ষ হতে একটি পাতাও ঝড়ে না এবং ভূ-পৃষ্ঠের অন্ধকারের মধ্যে একটি দানাও পড়ে না, এমনিভাবে কোন সরস ও নিরস বস্তুও পতিত হয় না; সমস্ত বস্তুই সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে।
০৬০ وَهُوَ الَّذِي يَتَوَفَّاكُم بِاللَّيْلِ وَيَعْلَمُ مَا جَرَحْتُم بِالنَّهَارِ ثُمَّ يَبْعَثُكُمْ فِيهِ لِيُقْضَىٰ أَجَلٌ مُّسَمًّى ۖ ثُمَّ إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ ثُمَّ يُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
আর সেই মহাপ্রভুই রাত্রিকালে নিদ্রারূপে তোমাদের নিকট এক প্রকার মৃত্যু ঘটিয়ে থাকেন, আর দিনের বেলা তোমরা যে পরিশ্রম করে থাক তিনি সেটাও সম্যক পরিজ্ঞাত; অতঃপর তিনি নির্দিষ্ট সময়কাল পূরণের নিমিত্তে তোমাদেরকে নিদ্রা থেকে জাগিয়ে থাকেন, তার পর পরিশেষে তাঁর কাছেই তোমাদেরকে ফিরে যেতে হবে, তখন তিনি তোমাদেরকে তোমাদের কৃত-কর্ম সম্পর্কে অবহিত করবেন।
০৬১ وَهُوَ الْقَاهِرُ فَوْقَ عِبَادِهِ ۖ وَيُرْسِلُ عَلَيْكُمْ حَفَظَةً حَتَّىٰ إِذَا جَاءَ أَحَدَكُمُ الْمَوْتُ تَوَفَّتْهُ رُسُلُنَا وَهُمْ لَا يُفَرِّطُونَ
আর আল্লাহই স্বীয় বান্দাদের উপর পরাক্রমশালী, তিনি তোমাদের উপর পাহারাদার পাঠিয়ে থাকেন, এমন কি যখন তোমাদের কারো মৃত্যুর সময় উপস্থিত হয়, তখন আমার প্রেরিত দূতগণ তার প্রাণ হরণ করে নেয়, এ ব্যাপারে তারা বিন্দুমাত্র ত্রুটি করেন না।
০৬২ ثُمَّ رُدُّوا إِلَى اللَّهِ مَوْلَاهُمُ الْحَقِّ ۚ أَلَا لَهُ الْحُكْمُ وَهُوَ أَسْرَعُ الْحَاسِبِينَ
তারপর সকলকে তাদের আসল প্রভু আল্লাহর কাছে প্রত্যাবর্তিত করানো হয়, তোমরা জেনে রেখো যে, ঐ দিন একমাত্র আল্লাহই রায় বা হুকুমের একচ্ছত্র মালিক হবেন, আর তিনি খুবই ত্বরিত হিসাব গ্রহণকারী।
০৬৩ قُلْ مَن يُنَجِّيكُم مِّن ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ تَدْعُونَهُ تَضَرُّعًا وَخُفْيَةً لَّئِنْ أَنجَانَا مِنْ هَـٰذِهِ لَنَكُونَنَّ مِنَ الشَّاكِرِينَ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, স্থুলভাগ ও জল ভাগের অন্ধকার (বিপদ) থেকে তোমাদেরকে কে পরিত্রাণ দিয়ে থাকে, যখন কাতর কন্ঠে ও বিনীতভাবে এবং চুপে চুপে তাঁকে আহ্বান করে থাক, আর বলতে থাক- তিনি যদি আমাদেরকে এই বিপদ থেকে মুক্তি দেন তবে আমরা অবশ্যই কৃতজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত থাকবো।
০৬৪ قُلِ اللَّهُ يُنَجِّيكُم مِّنْهَا وَمِن كُلِّ كَرْبٍ ثُمَّ أَنتُمْ تُشْرِكُونَ
(হে নবী সঃ)! তুমি বলে দাওঃ আল্লাহই তোমাদেরকে ঐ বিপদ এবং অন্যান্য প্রতিটি বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করে থাকেন, কিন্তু এর পরও তোমরা শিরক করতে থাক।
০৬৫ قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلَىٰ أَن يَبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّن فَوْقِكُمْ أَوْ مِن تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ أَوْ يَلْبِسَكُمْ شِيَعًا وَيُذِيقَ بَعْضَكُم بَأْسَ بَعْضٍ ۗ انظُرْ كَيْفَ نُصَرِّفُ الْآيَاتِ لَعَلَّهُمْ يَفْقَهُونَ
(হে রাসূল সঃ)! তুমি বলে দাওঃ আল্লাহ তোমাদের ঊর্ধ্বলোক হতে এবং তোমাদের পায়ের তলদেশ হতে শাস্তি প্রেরণ করতে পূর্ণ ক্ষমতাবান অথবা তোমাদেরকে দলে দলে বিচ্ছিন্ন করে এক দলের দ্বারা অপর দলের শক্তি স্বাদ গ্রহণ করাবেন; লক্ষ্য কর, আমি বারে বারে কিভাবে আমার আয়াত ও যুক্তিপ্রমাণ বর্ণনা করেছি। উদ্দেশ্য হল, যেন বিষয়টিকে তারা পূর্ণরূপে জ্ঞানায়ত্ব ও হৃদয়ঙ্গম করে নিতে পারে।
০৬৬ وَكَذَّبَ بِهِ قَوْمُكَ وَهُوَ الْحَقُّ ۚ قُل لَّسْتُ عَلَيْكُم بِوَكِيلٍ
(হে মুহাম্মদ সঃ)! তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা ওকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে, অথচ ওটাই প্রমাণিত সত্য, তুমি বলে দাও- আমি তোমাদের প্রতিনিধি নই।
০৬৭ لِّكُلِّ نَبَإٍ مُّسْتَقَرٌّ ۚ وَسَوْفَ تَعْلَمُونَ
প্রত্যেকটি সংবাদ প্রকাশের একটি নির্দিষ্ট সময় রয়েছে, অতি শীঘ্রই তোমরা নিজেদের পরিণতি সম্পর্কে অবহিত হতে পারবে।
০৬৮ وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ
যখন তুমি দেখবে যে লোকেরা আমার আয়াতসমূহে দোষ-ত্রুটি অনুসন্ধান করছে (বা আপোসে আলোচনা করছে) তখন তুমি তাদের নিকট হতে দূরে সরে যাবে, যতক্ষণ না তারা অন্য কোন প্রসঙ্গে নিমগ্ন হয়; শয়তান যদি তোমাকে এটা ভুলিয়ে দেয় তবে স্মরণ হওয়ার পর আর এই যালিম লোকদের সাথে তুমি বসবে না।
০৬৯ وَمَا عَلَى الَّذِينَ يَتَّقُونَ مِنْ حِسَابِهِم مِّن شَيْءٍ وَلَـٰكِن ذِكْرَىٰ لَعَلَّهُمْ يَتَّقُونَ
যালিম লোকদের হিসাব-নিকাশের দায়-দায়িত্ব মুত্তাকী লোকদের উপর কিছুমাত্র অর্পিত নয়, তবে ওদেরকে উপদেশ প্রদানের দায়িত্ব, হয়তো বা উপদেশের ফলে ওরা পাপাচার হতে বেঁচে থাকতে পারবে (আল্লাহভীতি অর্জন করবে)।
০৭০ وَذَرِ الَّذِينَ اتَّخَذُوا دِينَهُمْ لَعِبًا وَلَهْوًا وَغَرَّتْهُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا ۚ وَذَكِّرْ بِهِ أَن تُبْسَلَ نَفْسٌ بِمَا كَسَبَتْ لَيْسَ لَهَا مِن دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ وَإِن تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لَّا يُؤْخَذْ مِنْهَا ۗ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ أُبْسِلُوا بِمَا كَسَبُوا ۖ لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ
যারা নিজেদের দ্বীনকে খেল-তামাশার বস্তুতে পরিণত করেছে তুমি তাদেরকে বর্জন করে চলবে, এই পার্থিব জগত তাদেরকে সম্মোহিত করে ধোঁকায় নিপতিত করেছে, কুরআন দ্বারা তাদেরকে উপদেশ দিতে থাক, যাতে কোন ব্যক্তি স্বীয় কৃতকর্মের জন্য ধ্বংস না হয়, (কিয়ামতের দিন) আল্লাহ ছাড়া তার কোন বন্ধু ও সুপারিশকারী থাকবে না, আর দুনিয়াভর বিনিময় বস্তু দিয়েও (আল্লাহর শাস্তি হতে) মুক্তি পেতে চাইলে সেই বিনিময় গ্রহণ করা হবে না, তারা এমনই লোক যে নিজেদের কর্মদোষে আটকা পড়ে গেছে, ফলে তাদের কুফরী করার কারণে তাদের জন্যে ফুটন্ত পানীয় এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
০৭১ قُلْ أَنَدْعُو مِن دُونِ اللَّهِ مَا لَا يَنفَعُنَا وَلَا يَضُرُّنَا وَنُرَدُّ عَلَىٰ أَعْقَابِنَا بَعْدَ إِذْ هَدَانَا اللَّهُ كَالَّذِي اسْتَهْوَتْهُ الشَّيَاطِينُ فِي الْأَرْضِ حَيْرَانَ لَهُ أَصْحَابٌ يَدْعُونَهُ إِلَى الْهُدَى ائْتِنَا ۗ قُلْ إِنَّ هُدَى اللَّهِ هُوَ الْهُدَىٰ ۖ وَأُمِرْنَا لِنُسْلِمَ لِرَبِّ الْعَالَمِينَ
হে মুহাম্মদ (সঃ)! তুমি বলে দাওঃ আমরা কি আল্লাহ ছাড়া এমন বস্তুকে করবো ও তার ইবাদত করবো, যারা আমাদের কোন উপকার করতে পারবে না এবং আমাদের কোন ক্ষতিও করতে পারবে না? আর আল্লাহ আমাদেরকে সুপথ প্রদর্শনের পর আমরা কি পশ্চাৎপদে ফিরে যাবো? আমরা কি ঐ ব্যক্তির ন্যায় হবো যাকে শয়তান মরুভূমির মধ্যে বিভ্রান্ত করে ফেলেছে এবং যে দিশাহারাঃ লক্ষ্যহারা হয়ে ঘুরে বেরাচ্ছে? তার সঙ্গীগণ তাঁকে হিদায়াতের দিকে ডেকে বলছে-তুমি আমাদের সঙ্গে এসো, তুমি বলঃ আল্লাহর হিদায়াতই হচ্ছে সত্যিকারের সঠিক হিদায়াত, আর আমাদেরকে সারা জাহানের প্রতিপালকের সামনে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
০৭২ وَأَنْ أَقِيمُوا الصَّلَاةَ وَاتَّقُوهُ ۚ وَهُوَ الَّذِي إِلَيْهِ تُحْشَرُونَ
(আরো আদিষ্ট হ্যেছি) যে, তোমরা নিয়মিতভাবে নামায কায়েম কর এবং সেই প্রভূকে ভয় করে চল যার নিকট তোমাদের সকলকে সমবেত করা হবে।
০৭৩ وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ ۖ وَيَوْمَ يَقُولُ كُن فَيَكُونُ ۚ قَوْلُهُ الْحَقُّ ۚ وَلَهُ الْمُلْكُ يَوْمَ يُنفَخُ فِي الصُّورِ ۚ عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ ۚ وَهُوَ الْحَكِيمُ الْخَبِيرُ
সেই প্রতিপালকই আকাশ-মণ্ডলকে ও ভূ-মণ্ডলকে যথাযথভাবে সৃষ্টি করেছেন, যেদিন তিনি বলবেন (কিয়ামত) হও; আর তা হয়ে যাবে, তাঁর কথা খুবই যথার্থ বাস্তবানুগ; যেদিন শিঙ্গায় ফুঁৎকার দেয়া হবে, সেইদিন একমাত্র তাঁরই হবে বাদশাহী ও রাজত্ব, যিনি অদৃশ্য ও প্রকাশ্য সবকিছুর খবর রাখেন এবং তিনি হচ্ছেন প্রজ্ঞাময়, সর্বজ্ঞ।
০৭৪ وَإِذْ قَالَ إِبْرَاهِيمُ لِأَبِيهِ آزَرَ أَتَتَّخِذُ أَصْنَامًا آلِهَةً ۖ إِنِّي أَرَاكَ وَقَوْمَكَ فِي ضَلَالٍ مُّبِينٍ
(সেই সময়টি স্মরণযোগ্য) যখন ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর পিতা আযরকে বললেনঃ আপনি কি প্রতিমাগুলোকে মা’বূদ মনোনীত করেছেন? নিঃসন্দেহে আমি আপনাকে ও আপনার সম্প্রদায়কে প্রকাশ্য ভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত দেখছি।
০৭৫ وَكَذَٰلِكَ نُرِي إِبْرَاهِيمَ مَلَكُوتَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ وَلِيَكُونَ مِنَ الْمُوقِنِينَ
এমনিভাবেই আমিই ইব্রাহীম (আঃ)-কে আসমান ও যমীনের রাজত্ব (পরিচালনা ব্যবস্থা) অবলোকন করিয়েছি, যাতে তিনি বিশ্বাসীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যান।
০৭৬ فَلَمَّا جَنَّ عَلَيْهِ اللَّيْلُ رَأَىٰ كَوْكَبًا ۖ قَالَ هَـٰذَا رَبِّي ۖ فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَا أُحِبُّ الْآفِلِينَ
যখন রাত্রির অন্ধকার তাঁকে আবৃত করলো, তখন তিনি আকাশের একটি নক্ষত্র দেখতে পেলেন, আর বললেনঃ এটাই আমার প্রতিপালক; কিন্তু যখন ওটা অস্তমিত হল তখন তিনি বললেনঃ আমি অস্তমিত বস্তুকে ভালবাসি না।
০৭৭ فَلَمَّا رَأَى الْقَمَرَ بَازِغًا قَالَ هَـٰذَا رَبِّي ۖ فَلَمَّا أَفَلَ قَالَ لَئِن لَّمْ يَهْدِنِي رَبِّي لَأَكُونَنَّ مِنَ الْقَوْمِ الضَّالِّينَ
অতঃপর যখন তিনি আকাশে চন্দ্রকে উজ্জ্বল আভায় দেখতে পেলেন তখন বললেনঃ এটাই আমার প্রতিপালক; কিন্তু ওটাও যখন অস্তমিত হল, তখন বললেনঃ আমার প্রতিপালক যদি আমাকে পথ প্রদর্শন না করেন তবে আমি অবশ্যই পথভ্রষ্ট সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবো।
০৭৮ فَلَمَّا رَأَى الشَّمْسَ بَازِغَةً قَالَ هَـٰذَا رَبِّي هَـٰذَا أَكْبَرُ ۖ فَلَمَّا أَفَلَتْ قَالَ يَا قَوْمِ إِنِّي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ
অতঃপর যখন তিনি সূর্যকে উজ্জ্বল উদ্ভাসিত দেখতে পেলেন তখন বললেনঃ এটি আমার মহান প্রতিপালক। কারণ এটি হচ্ছে সব থেকে বড় যখন সেটিও অস্তমিত হল তখন তিনি বললেনঃ হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা যাকে আল্লাহর অংশী কর তা থেকে আমি মুক্ত।
০৭৯ إِنِّي وَجَّهْتُ وَجْهِيَ لِلَّذِي فَطَرَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ حَنِيفًا ۖ وَمَا أَنَا مِنَ الْمُشْرِكِينَ
আমার মুখমণ্ডলকে আমি একনিষ্ঠভাবে সেই মহান সত্তার দিকে ফিরাচ্ছি যিনি আকাশমণ্ডল ও ভূ-মণ্ডল সৃষ্টি করেছেন, আর আমি মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত নই।
০৮০ وَحَاجَّهُ قَوْمُهُ ۚ قَالَ أَتُحَاجُّونِّي فِي اللَّهِ وَقَدْ هَدَانِ ۚ وَلَا أَخَافُ مَا تُشْرِكُونَ بِهِ إِلَّا أَن يَشَاءَ رَبِّي شَيْئًا ۗ وَسِعَ رَبِّي كُلَّ شَيْءٍ عِلْمًا ۗ أَفَلَا تَتَذَكَّرُونَ
আর তার জাতির লোকেরা তার সাথে ঝগড়া করতে থাকলে সে তাদেরকে বললঃ তোমরা কি আল্লাহর ব্যাপারে আমার সাথে ঝগড়া করছো? অথচ তিনি আমাকে সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন! তোমরা আল্লাহর সাথে যা কিছু শরীক করছো আমি ওটাকে ভয় করি না তবে যদি আমার প্রতিপালক কিছু চান, প্রতিটি বস্তু সম্পর্কে আমার প্রতিপালকের জ্ঞান খুবই ব্যাপক, এর পরও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না?
০৮১ وَكَيْفَ أَخَافُ مَا أَشْرَكْتُمْ وَلَا تَخَافُونَ أَنَّكُمْ أَشْرَكْتُم بِاللَّهِ مَا لَمْ يُنَزِّلْ بِهِ عَلَيْكُمْ سُلْطَانًا ۚ فَأَيُّ الْفَرِيقَيْنِ أَحَقُّ بِالْأَمْنِ ۖ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
তোমাদের মনগড়া ও বানানো শরীকদেরকে আমি কি রূপেভয় করতে পারি? অথচ তোমরা এই ভয় করছো না যে, আল্লাহর সাথে যাদেরকে তোমরা শরীক করছো তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তোমাদের কাছে কোন দলীল প্রমাণ অবতীর্ণ করেননই, আমাদের দুই দলের মধ্যে কারা অধিকতর শান্তি ও নিরাপত্তা লাভের অধিকারী যদি তোমাদের জানা থাকে, তবে বল তো?
০৮২ الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُم بِظُلْمٍ أُولَـٰئِكَ لَهُمُ الْأَمْنُ وَهُم مُّهْتَدُونَ
প্রকৃতপক্ষে তারাই শান্তিও নিরাপত্তার অধিকারী। যারা ঈমান এনেছে এবং নিজেদের ঈমানকে যুলুমের সাথে (শিরকের সাথে) সংমিশ্রিত করেনি এবং তারাই হেদায়েতপ্রাপ্ত।
০৮৩ وَتِلْكَ حُجَّتُنَا آتَيْنَاهَا إِبْرَاهِيمَ عَلَىٰ قَوْمِهِ ۚ نَرْفَعُ دَرَجَاتٍ مَّن نَّشَاءُ ۗ إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ
আর এটাই ছিল আমার যুক্তি-প্রমাণ, যা আমি ইব্রাহীম (আঃ)-কে তার স্বজাতির মোকাবিলায় দান করেছিলাম, আমি যাকে ইচ্ছা করি সম্মান-মরতবা ও মহত্ত্ব বাড়িয়ে দিয়ে থাকি, নিঃসন্দেহে তোমার প্রভু প্রজ্ঞাময় ও বিজ্ঞ।
০৮৪ وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَاقَ وَيَعْقُوبَ ۚ كُلًّا هَدَيْنَا ۚ وَنُوحًا هَدَيْنَا مِن قَبْلُ ۖ وَمِن ذُرِّيَّتِهِ دَاوُودَ وَسُلَيْمَانَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَىٰ وَهَارُونَ ۚ وَكَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ
আমি তাঁকে, (ইব্রাহীম আঃ)-কে ইসহাক (আঃ) ও ইয়াকুব (আঃ)-কে দান করেছি এবং প্রত্যেকেই সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছি, আর তার পূর্বে (এমনি ভাবে) নূহ-কেও সঠিক পথের হিদায়াত দিয়েছি; আর তার (ইব্রাহীমের) বংশের মধ্যে দাউদ, সুলাইমান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারূন (আঃ)-কে এমনিভাবেই সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছি; এমনিভাবেই এমি সৎ ও পুণ্যশীল লোকদেরকে প্রতিদান দিয়ে থাকি।
০৮৫ وَزَكَرِيَّا وَيَحْيَىٰ وَعِيسَىٰ وَإِلْيَاسَ ۖ كُلٌّ مِّنَ الصَّالِحِينَ
আর যাকারিয়া আঃ, ইয়াহইয়া আঃ, ঈসা আঃ ও ইলিয়াস আঃ, তারা প্রত্যেকেই সৎ লোকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
০৮৬ وَإِسْمَاعِيلَ وَالْيَسَعَ وَيُونُسَ وَلُوطًا ۚ وَكُلًّا فَضَّلْنَا عَلَى الْعَالَمِينَ
আর ইসমাঈল আঃ, ইয়াসাঅ আঃ, ইউনুস আঃ ও লূত আঃ এদের প্রত্যেককেই আমি নবুওয়াত দান করে সমগ্র বিশ্বের উপর মহত্ত্ব ও শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি।
০৮৭ وَمِنْ آبَائِهِمْ وَذُرِّيَّاتِهِمْ وَإِخْوَانِهِمْ ۖ وَاجْتَبَيْنَاهُمْ وَهَدَيْنَاهُمْ إِلَىٰ صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمٍ
আর এদের বাপ-দাদা, সন্তান-সন্ততি, ভাইদের মধ্যে অনেককে আমি নির্বাচিত করে নিয়েছি এবং সঠিক ও সোজা পথে পরিচালিত করেছি।
০৮৮ ذَٰلِكَ هُدَى اللَّهِ يَهْدِي بِهِ مَن يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ ۚ وَلَوْ أَشْرَكُوا لَحَبِطَ عَنْهُم مَّا كَانُوا يَعْمَلُونَ
এটাই আল্লাহর হিদায়াত; তিনি তাঁর বান্দার মধ্যে যাকে চান এ পথে পরিচালিত করেন; কিন্তু তারা যদি শিরক করতো তবে তারা যা কিছুই করতো, সবই নষ্ট হয়ে যেতো।
০৮৯ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ آتَيْنَاهُمُ الْكِتَابَ وَالْحُكْمَ وَالنُّبُوَّةَ ۚ فَإِن يَكْفُرْ بِهَا هَـٰؤُلَاءِ فَقَدْ وَكَّلْنَا بِهَا قَوْمًا لَّيْسُوا بِهَا بِكَافِرِينَ
এরা ছিল সেই লোক, যাদেরকে আমি কিতাব, প্রজ্ঞা বা বিচক্ষণতা ও নবুওয়াত দান করেছি, সুতরাং যদি এরা অস্বীকারও করে, তবে তাদের স্থলে আমি এমন এক জাতিকে নিয়োগ করবো, যারা ওটা অস্বীকার করে না।
০৯০ أُولَـٰئِكَ الَّذِينَ هَدَى اللَّهُ ۖ فَبِهُدَاهُمُ اقْتَدِهْ ۗ قُل لَّا أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا ۖ إِنْ هُوَ إِلَّا ذِكْرَىٰ لِلْعَالَمِينَ
এরা হচ্ছে ওরাই, যাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করেছিলেন, সুতরাং তুমিও তাদের হিদায়াতের পথ অনুসরণ করে চল, তুমি বলে দাওঃ আমি এর বিনিময়ে তোমাদের কাছে কোন কিছুই পারিশ্রমিক প্রার্থনা করি না, আর এই কুরআন সমগ্র জগতবাসীর জন্যে উপদেশ ছাড়া কিছুই নয়।
০৯১ وَمَا قَدَرُوا اللَّهَ حَقَّ قَدْرِهِ إِذْ قَالُوا مَا أَنزَلَ اللَّهُ عَلَىٰ بَشَرٍ مِّن شَيْءٍ ۗ قُلْ مَنْ أَنزَلَ الْكِتَابَ الَّذِي جَاءَ بِهِ مُوسَىٰ نُورًا وَهُدًى لِّلنَّاسِ ۖ تَجْعَلُونَهُ قَرَاطِيسَ تُبْدُونَهَا وَتُخْفُونَ كَثِيرًا ۖ وَعُلِّمْتُم مَّا لَمْ تَعْلَمُوا أَنتُمْ وَلَا آبَاؤُكُمْ ۖ قُلِ اللَّهُ ۖ ثُمَّ ذَرْهُمْ فِي خَوْضِهِمْ يَلْعَبُونَ
এই লোকেরা আল্লাহ তা’আলার যথাযথ মর্যাদা উপলব্ধি করেনি। কেননা, তারা বললোঃ আল্লাহ কোন মানুষের উপর কোন কিছুই অবতীর্ণ করেননই; (হে নবী সঃ) তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ মানুষের হিদায়াত ও আলোকবর্তিকারূপে যে কিতাব মূসা (আঃ) এনেছিলেন, তা কে অবতীর্ণ করেছিল? তোমরা সে কিতাব খন্ড খন্ড করে বিভিন্ন পত্রে রেখেছো, ওর কিয়দাংশ তোমরা প্রকাশ করছো এবং বহুলাংশ গোপন রাখছো, (ঐ কিতাব দ্বারা) তোমাদেরকে বহু বিষয়ে অবহিত করা হয়েছে, যা তোমরা ও তোমাদের পূর্বপুরুষরা জানতে না; তুমি বলে দাওঃ তা আল্লাহর অবতীর্ণ করেছেন। সুতরাং তুমি তাদেরকে তাদের সামিল ধারণার উপর ছেড়ে দাও, তারা (নিরর্থক আলোচনার) খেলা করতে থাকুন।
০৯২ وَهَـٰذَا كِتَابٌ أَنزَلْنَاهُ مُبَارَكٌ مُّصَدِّقُ الَّذِي بَيْنَ يَدَيْهِ وَلِتُنذِرَ أُمَّ الْقُرَىٰ وَمَنْ حَوْلَهَا ۚ وَالَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ يُؤْمِنُونَ بِهِ ۖ وَهُمْ عَلَىٰ صَلَاتِهِمْ يُحَافِظُونَ
আর এ কিতাবও (কুরআন) আমিই অবতীর্ণ করেছি; যা খুব বরকতময় কিতাব এবং পূর্বের সকল কিতাবকে সত্যায়িত করে থাকে, যেন তুমি কেন্দ্রীয় মক্কা নগরী এবং ওর চতুষ্পার্শ্বস্থ জনপদের লোকদেরকে এর দ্বারা সতর্ক কর। যারা আখেরাতে বিশ্বাস করবে তারা এর প্রতি ঈমান আনবে, আর তারা নিয়মিতভাবে স্বীয় নামাযের সংরক্ষণ করে থাকে।
০৯৩ وَمَنْ أَظْلَمُ مِمَّنِ افْتَرَىٰ عَلَى اللَّهِ كَذِبًا أَوْ قَالَ أُوحِيَ إِلَيَّ وَلَمْ يُوحَ إِلَيْهِ شَيْءٌ وَمَن قَالَ سَأُنزِلُ مِثْلَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ ۗ وَلَوْ تَرَىٰ إِذِ الظَّالِمُونَ فِي غَمَرَاتِ الْمَوْتِ وَالْمَلَائِكَةُ بَاسِطُو أَيْدِيهِمْ أَخْرِجُوا أَنفُسَكُمُ ۖ الْيَوْمَ تُجْزَوْنَ عَذَابَ الْهُونِ بِمَا كُنتُمْ تَقُولُونَ عَلَى اللَّهِ غَيْرَ الْحَقِّ وَكُنتُمْ عَنْ آيَاتِهِ تَسْتَكْبِرُونَ
আর ঐ ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক অত্যাচারী কে হতে পারে যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যারোপ করেছে? অথবা এরূপ বলেঃ আমার উপর ওহী নাযিল করা হয়েছে, অথচ তার উপর প্রকৃতপক্ষে কোন ওহীই নাযিল করা হয়নি এবং যে ব্যক্তি এরূপ বলেঃ যেরূপ কালাম আল্লাহ নাযিল করেছেন তদ্রুপ আমি আনয়ন করছি; আর তুমি যদি দেখতে পেতে (ঐ সময়ের অবস্থা) সে সময় যালিমরা সম্মুখীন হবে মৃত্যু যন্ত্রণায়; আর ফেরেশতারা হাত বাড়িয়ে বলবেঃ নিজেদের প্রাণগুলো বের কর, আজ তোমাদেরকে সেসব অপরাধের শাস্তি হিসেবে লাঞ্ছনাময় শাস্তি দেয়া হবে যে, তোমরা আল্লাহর উপর মিথ্যা দোষারোপ করে অকারণ প্রলাপ বকছিলে এবং তাঁর আয়াতসমূহ কবূল করা হতে অহংকার করছিলে।
০৯৪ وَلَقَدْ جِئْتُمُونَا فُرَادَىٰ كَمَا خَلَقْنَاكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ وَتَرَكْتُم مَّا خَوَّلْنَاكُمْ وَرَاءَ ظُهُورِكُمْ ۖ وَمَا نَرَىٰ مَعَكُمْ شُفَعَاءَكُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكَاءُ ۚ لَقَد تَّقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنكُم مَّا كُنتُمْ تَزْعُمُونَ
আর তোমরা আমার কাছে এককভাবে এসোছো, যেভাবে প্রথমবারে আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছিলাম, আর যা কিছু আমি তোমাদেরকে দিয়েছিলাম তা তোমরা নিজেদের পশ্চাতেই ছেড়ে এসেছো, আর আমি তো তোমাদের সাথে তোমাদের সেই সুপারিশকারীদেরকে দেখছি না যাদের সম্বন্ধে তোমরা দাবী করতে যে, তারা তোমাদের কাজেকর্মে (আমার) শরীক, বাস্তবিকই তোমাদের পরস্পরের সম্পর্ক তো বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, আর তোমরা যা কিছু ধারণা করতে তা সবই আজ ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে।
০৯৫ إِنَّ اللَّهَ فَالِقُ الْحَبِّ وَالنَّوَىٰ ۖ يُخْرِجُ الْحَيَّ مِنَ الْمَيِّتِ وَمُخْرِجُ الْمَيِّتِ مِنَ الْحَيِّ ۚ ذَٰلِكُمُ اللَّهُ ۖ فَأَنَّىٰ تُؤْفَكُونَ
নিশ্চয়ই দানা ও বীজ উৎপাদন-কারী হচ্ছেন আল্লাহ, তিনিই জীবন্তকে প্রাণহীন থেকে বের করেন এবং তিনিই প্রাণহীনকে নির্গতকারী জীবন্ত হতে, তিনিই তো আল্লাহ, তাহলে তোমরা উদ্ভ্রান্ত হয়ে (লক্ষভ্রষ্ট হয়ে) কোথায় যাচ্ছো?
০৯৬ فَالِقُ الْإِصْبَاحِ وَجَعَلَ اللَّيْلَ سَكَنًا وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ حُسْبَانًا ۚ ذَٰلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ
তিনিই রাত্রির আবরণ বিদীর্ণ করে সুপ্রভাতের উন্মেষকারী তিনিই রজনীকে বিশ্রামকাল এবং সূর্য ও চন্দ্রকে সময়ের নিরূপক করে দিয়েছেন; এটা হচ্ছে সেই পরম পরাক্রান্ত ও মহাজ্ঞানী (আল্লাহর) নির্ধারণ।
০৯৭ وَهُوَ الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ النُّجُومَ لِتَهْتَدُوا بِهَا فِي ظُلُمَاتِ الْبَرِّ وَالْبَحْرِ ۗ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
আর তিনিই তোমাদের জন্যে নক্ষত্ররাজিকে সৃষ্টি করেছেন যেন তোমরা এগুলোর সাহায্যে অন্ধকারে পথের সন্ধান পেতে পার, স্থুলভাগেও এবং সমুদ্রেও; নিশ্চয়ই আমি প্রমাণসমূহ খুব বিশদভাবে বর্ণনা করে দিয়েছি ঐসব লোকের জন্যে যারা জ্ঞান রাখে।
০৯৮ وَهُوَ الَّذِي أَنشَأَكُم مِّن نَّفْسٍ وَاحِدَةٍ فَمُسْتَقَرٌّ وَمُسْتَوْدَعٌ ۗ قَدْ فَصَّلْنَا الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَفْقَهُونَ
তিনিই তোমাদেরকে এক ব্যক্তি হতে সৃষ্টি করেছেন, সুতরাং (প্রত্যেকের জন্যে) একটি স্থল অধিক দিন থাকবার জন্যে এবং একটি স্থল অল্প দিন থাকবার জন্যে রয়েছে (অর্থাৎ দীর্ঘ ও স্বল্পকালীন বাসস্থান)। এই নিদর্শনসমূহ আমি তাদের জন্যে সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করলাম যাদের বুদ্ধি-বিবেচনা আছে।
০৯৯ وَهُوَ الَّذِي أَنزَلَ مِنَ السَّمَاءِ مَاءً فَأَخْرَجْنَا بِهِ نَبَاتَ كُلِّ شَيْءٍ فَأَخْرَجْنَا مِنْهُ خَضِرًا نُّخْرِجُ مِنْهُ حَبًّا مُّتَرَاكِبًا وَمِنَ النَّخْلِ مِن طَلْعِهَا قِنْوَانٌ دَانِيَةٌ وَجَنَّاتٍ مِّنْ أَعْنَابٍ وَالزَّيْتُونَ وَالرُّمَّانَ مُشْتَبِهًا وَغَيْرَ مُتَشَابِهٍ ۗ انظُرُوا إِلَىٰ ثَمَرِهِ إِذَا أَثْمَرَ وَيَنْعِهِ ۚ إِنَّ فِي ذَٰلِكُمْ لَآيَاتٍ لِّقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ
আর তিনি আকাশ হতে পানি বর্ষণ করেছেন, এর সাহায্যে সব রকমের উদ্ভিদ আমি (আল্লাহ) উৎপন্ন করেছি; অতঃপর তা থেকে সবুজ শাখা বের করেছি; অতঃপর তা থেকে সবুজ শাখা বের করেছি, ফলতঃ তা থেকে আমি উপর্যুপরি (অর্থাৎ একটি উপর একটি) শষ্যদানা উৎপন্ন করে থাকি। আর খেজুর বৃক্ষ থেকে অর্থাৎ ওর পুষ্পকলিকা থেকে ছড়া হয় যা নিম্ন দিকে ঝুঁকে পড়ে, আর আঙ্গুরসমূহের উদ্যান এবং যায়তুন ও আনার যা পরস্পর সাদৃশ্যযুক্ত ও সাদৃশ্যহীন, প্রত্যেক ফলের প্রতি লক্ষ্য কর যখন ওটা ফলে এবং এর পরিপক্ক হওয়ার প্রতি লক্ষ্য কর; এ সমূদয়ের মধ্যে নিদর্শনসমূহ রয়েছে তাদেরই জন্যে যারা ঈমান রাখে।
১০০ وَجَعَلُوا لِلَّهِ شُرَكَاءَ الْجِنَّ وَخَلَقَهُمْ ۖ وَخَرَقُوا لَهُ بَنِينَ وَبَنَاتٍ بِغَيْرِ عِلْمٍ ۚ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَىٰ عَمَّا يَصِفُونَ
আর এ (অজ্ঞ) লোকেরা জিনদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়ে নিয়েছে, অথচ আল্লাহই ওদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আর না জেনে না বুঝে তারা তাঁর জন্যে পুত্র-কন্যা রচনা করে; তিনি মহিমান্বিত (পবিত্র), ওদের আরোপিত বিশেষণগুলো হতে বহু ঊর্ধ্বে তিনি।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x