০০৯. সূরাঃ আত তাওবাহ

আয়াতঅবতীর্ণঃ মদিনা
আয়াত সংখ্যাঃ ১২৯
রুকূঃ ১৬
০০১بَرَاءَةٌ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى الَّذِينَ عَاهَدتُّم مِّنَ الْمُشْرِكِينَ
আল্লাহর পক্ষ হতে ও তাঁর রাসূলের পক্ষ হতে অব্যাহতি (ঘোষণা করা) হচ্ছে ঐ মুশরিকদের (অঙ্গীকার) হতে যাদের সাথে তোমরা সন্ধি করে রেখেছিলে।
০০২فَسِيحُوا فِي الْأَرْضِ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ ۙ وَأَنَّ اللَّهَ مُخْزِي الْكَافِرِينَ
সুতরাং (হে মুশরিকরা) তোমরা এই ভূ-মণ্ডলে চার মাস বিচরণ করে নাও এবং জেনে রাখো যে, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না, আর নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফিরদেরকে অপদস্ত করবেন।
০০৩وَأَذَانٌ مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى النَّاسِ يَوْمَ الْحَجِّ الْأَكْبَرِ أَنَّ اللَّهَ بَرِيءٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ ۙ وَرَسُولُهُ ۚ فَإِن تُبْتُمْ فَهُوَ خَيْرٌ لَّكُمْ ۖ وَإِن تَوَلَّيْتُمْ فَاعْلَمُوا أَنَّكُمْ غَيْرُ مُعْجِزِي اللَّهِ ۗ وَبَشِّرِ الَّذِينَ كَفَرُوا بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে হজ্জে আকবারের দিন (১০ যুলহিজ্জা) জনগণের সামনে ঘোষণা করা হচ্ছে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল উভয়ই এই মুশরিকদের (নিরাপত্তা প্রদান করা) হতে নিঃসম্পর্ক হচ্ছেন; তবে যদি তোমরা তাওবা করে নাও তাহলে তা তোমাদের জন্যে উত্তম, আর যদি তোমরা বিরত হও তবে জেনে রাখো যে, তোমরা আল্লাহকে অক্ষম করতে পারবে না, আর (হে মুহাম্মদ সঃ!) এই কাফিরদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তির সু-সংবাদ দিয়ে দাও।
০০৪إِلَّا الَّذِينَ عَاهَدتُّم مِّنَ الْمُشْرِكِينَ ثُمَّ لَمْ يَنقُصُوكُمْ شَيْئًا وَلَمْ يُظَاهِرُوا عَلَيْكُمْ أَحَدًا فَأَتِمُّوا إِلَيْهِمْ عَهْدَهُمْ إِلَىٰ مُدَّتِهِمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
কিন্তু হ্যাঁ। ঐসব মুশরিক হচ্ছে স্বতন্ত্র যাদের নিকট থেকে তোমরা অঙ্গীকার নিয়েছো, অতঃপর তারা তোমাদের সাথে (অঙ্গীকার পালনে) একটুও ত্রুটি করেনি এবং তারা তোমাদের বিরুদ্ধে কাউকেও সাহায্য করেনি, সুতরাং তাদের সন্ধি-চুক্তিকে তাদের অবধারিত সময় পর্যন্ত পূর্ণ কর; নিশ্চয়ই আল্লাহ সংযমশীলদেরকে পছন্দ করেন।
০০৫فَإِذَا انسَلَخَ الْأَشْهُرُ الْحُرُمُ فَاقْتُلُوا الْمُشْرِكِينَ حَيْثُ وَجَدتُّمُوهُمْ وَخُذُوهُمْ وَاحْصُرُوهُمْ وَاقْعُدُوا لَهُمْ كُلَّ مَرْصَدٍ ۚ فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَخَلُّوا سَبِيلَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অতঃপর, যখন নিষিদ্ধ মাসগুলো অতিবাহিত হয়ে যায় তখন ঐ মুশরিকদেরকে যেখানে পাও (বধ) হত্যা কর, তাদেরকে গ্রেফতার কর, তাদেরকে অবরোধ করে রাখো এবং প্রত্যেক ঘাঁটিস্থলে তাদের সন্ধানে অবস্থান কর, অতঃপর যদি তারা তওবা করে নেয় নামায আদায় করে এবং যাকাত দেয়, তবে তাহাদের পথ ছেড়ে দাও, নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাপরায়ণ, পরম করুণাময়।
০০৬وَإِنْ أَحَدٌ مِّنَ الْمُشْرِكِينَ اسْتَجَارَكَ فَأَجِرْهُ حَتَّىٰ يَسْمَعَ كَلَامَ اللَّهِ ثُمَّ أَبْلِغْهُ مَأْمَنَهُ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ قَوْمٌ لَّا يَعْلَمُونَ
আর যদি মুশরিকদের মধ্য হতে কেউ তোমার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করে, তবে তাকে আশ্রয় দান কর, যাতে সে আল্লাহর কালাম শুনতে পায়, অতঃপর তাকে তার নিরাপদ স্থানে পৌঁছিয়ে দাও, এ আদেশ এ জন্যে যে, এরা এমন লোক, যারা পূর্ণ জ্ঞান রাখে না।
০০৭كَيْفَ يَكُونُ لِلْمُشْرِكِينَ عَهْدٌ عِندَ اللَّهِ وَعِندَ رَسُولِهِ إِلَّا الَّذِينَ عَاهَدتُّمْ عِندَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۖ فَمَا اسْتَقَامُوا لَكُمْ فَاسْتَقِيمُوا لَهُمْ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ الْمُتَّقِينَ
এই (কুরায়েশ), মুশরিকদের অঙ্গীকার আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট কিরূপে (বলবৎ) থাকবে? কিন্তু যাদের থেকে তোমরা মসজিদুল হারামের সন্নিকটে অঙ্গীকার নিয়েছো, অতএব যে পর্যন্ত তারা তোমাদের সাথে (চুক্তিতে) সরলভাবে থাকে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ মুত্তাকীদের পছন্দ করেন।
০০৮كَيْفَ وَإِن يَظْهَرُوا عَلَيْكُمْ لَا يَرْقُبُوا فِيكُمْ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً ۚ يُرْضُونَكُم بِأَفْوَاهِهِمْ وَتَأْبَىٰ قُلُوبُهُمْ وَأَكْثَرُهُمْ فَاسِقُونَ
তাদের অঙ্গীকারের কি মূল্য? অথচ অবস্থা এই যে, যদি তারা তোমাদের উপর বিজয় লাভ করে, তবে তোমাদের আত্মীয়তার সম্পর্কের দিকেও খেয়াল করবে না এবং অঙ্গীকারেরও না, তারা তোমাদেরকে নিজেদের মুখের কথায় সন্তুষ্ট করছে কিন্তু তাদের অন্তরসমূহ অস্বীকার করে, আর তাদের অধিকাংশ লোকই ফাসেক।
০০৯اشْتَرَوْا بِآيَاتِ اللَّهِ ثَمَنًا قَلِيلًا فَصَدُّوا عَن سَبِيلِهِ ۚ إِنَّهُمْ سَاءَ مَا كَانُوا يَعْمَلُونَ
তারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে স্বল্প মূল্যে বিক্রয় করেছে, তারা তাঁর পথে বাধা সৃষ্টি করেছে, নিশ্চয় তাদের কাজ অতি মন্দ।
০১০لَا يَرْقُبُونَ فِي مُؤْمِنٍ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً ۚ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُعْتَدُونَ
তারা কোন মু’মিনের ব্যাপারে আত্মীয়তার মর্যাদাও রক্ষা করে না এবং অঙ্গীকারেরও না; আর তারাই (বিশেষতঃ এ ব্যাপারে) হল সীমালঙ্ঘনকারী।
০১১فَإِن تَابُوا وَأَقَامُوا الصَّلَاةَ وَآتَوُا الزَّكَاةَ فَإِخْوَانُكُمْ فِي الدِّينِ ۗ وَنُفَصِّلُ الْآيَاتِ لِقَوْمٍ يَعْلَمُونَ
অতএব যদি তারা তাওবা করে নেয় এবং নামায পড়তে থাকে ও যাকাত দিতে থাকে, তবে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই হয়ে যাবে; আর আমি জ্ঞানী লোকদের জন্যে আয়াতসমূহ (বিধানাবলী) বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে থাকি।
০১২وَإِن نَّكَثُوا أَيْمَانَهُم مِّن بَعْدِ عَهْدِهِمْ وَطَعَنُوا فِي دِينِكُمْ فَقَاتِلُوا أَئِمَّةَ الْكُفْرِ ۙ إِنَّهُمْ لَا أَيْمَانَ لَهُمْ لَعَلَّهُمْ يَنتَهُونَ
আর যদি তারা অঙ্গীকার করার পর নিজেদের শপথগুলোকে ভঙ্গ করে ফেলে এবং তোমাদের দ্বীনের প্রতি অপরাধ দেয়, তবে তোমরা কুফরের অগ্রনায়কদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, (এই অবস্থায়) তাদের শপথ রইলো না, হয়তো তারা বিরত থাকবে।
০১৩أَلَا تُقَاتِلُونَ قَوْمًا نَّكَثُوا أَيْمَانَهُمْ وَهَمُّوا بِإِخْرَاجِ الرَّسُولِ وَهُم بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ ۚ أَتَخْشَوْنَهُمْ ۚ فَاللَّهُ أَحَقُّ أَن تَخْشَوْهُ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ
তোমরা এমন লোকদের বিরুদ্ধে কেন যুদ্ধ করবে না যারা নিজেদের শপথগুলো ভঙ্গ করে ফেলেছে, আর রাসূলকে দেশান্তর করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং তারা তোমাদের বিরুদ্ধে নিজেরাই প্রথমে বিবাদ সৃষ্টি করেছে? তোমরা কি তাদেরকে ভয় করছো? বস্তুতঃ আল্লাহই হচ্ছেন এ বিষয়ে বেশি হকদার যে, তোমরা তাঁকে ভয় কর, যদি তোমরা মু’মিন হয়ে থাকো।
০১৪قَاتِلُوهُمْ يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ بِأَيْدِيكُمْ وَيُخْزِهِمْ وَيَنصُرْكُمْ عَلَيْهِمْ وَيَشْفِ صُدُورَ قَوْمٍ مُّؤْمِنِينَ
তোমরা তাদের সাথে যুদ্ধ কর, আল্লাহ তোমাদের হাতে তাদের শাস্তি প্রদান করবেন, এবং তাদেরকে লাঞ্ছিত করবেন, আর তোমাদেরকে তাদের উপর সাহায্য করবেন এবং মু’মিনদের অন্তরসমূহকে প্রশান্ত ও ঠান্ডা করবেন।
০১৫وَيُذْهِبْ غَيْظَ قُلُوبِهِمْ ۗ وَيَتُوبُ اللَّهُ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
আর তাদের অন্তরসমূহের ক্ষোভ (ও ক্রোধ) দূর করে দিবেন (ঐ কাফিরদের মধ্যকার) যার প্রতি ইচ্ছা হয় তাওবা কবূল করবেন, আল্লাহ মহাজ্ঞানী প্রজ্ঞাময়।
০১৬أَمْ حَسِبْتُمْ أَن تُتْرَكُوا وَلَمَّا يَعْلَمِ اللَّهُ الَّذِينَ جَاهَدُوا مِنكُمْ وَلَمْ يَتَّخِذُوا مِن دُونِ اللَّهِ وَلَا رَسُولِهِ وَلَا الْمُؤْمِنِينَ وَلِيجَةً ۚ وَاللَّهُ خَبِيرٌ بِمَا تَعْمَلُونَ
তোমরা কি ধারণা করেছো যে, তোমাদেরকে এভাবেই ছেড়ে দেয়া হবে? অথচ আল্লাহ তো এখনও সেই সব লোককে (প্রকাশ্যভাবে) প্রকাশ করেননি, যারা তোমাদের মধ্য হতে জিহাদ করেছে এবং আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও মু’মিনগণ ছাড়া অন্য কাউকেও অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করেনি; আর আল্লাহ তোমাদের সমস্ত কর্মের পূর্ণ খবর রাখেন।
০১৭مَا كَانَ لِلْمُشْرِكِينَ أَن يَعْمُرُوا مَسَاجِدَ اللَّهِ شَاهِدِينَ عَلَىٰ أَنفُسِهِم بِالْكُفْرِ ۚ أُولَـٰئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ وَفِي النَّارِ هُمْ خَالِدُونَ
মুশরিকরা যখন নিজেরাই নিজেদের কুফুরী স্বীকার করে সাক্ষ্য দেয় তখন তারা আল্লাহর মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণ করবে এটা সঙ্গত নয়। তারা এমন যাদের সমস্ত কর্ম ব্যর্থ এবং তারা জাহান্নামে স্থায়ীভাবে অবস্থান করবে।
০১৮إِنَّمَا يَعْمُرُ مَسَاجِدَ اللَّهِ مَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَأَقَامَ الصَّلَاةَ وَآتَى الزَّكَاةَ وَلَمْ يَخْشَ إِلَّا اللَّهَ ۖ فَعَسَىٰ أُولَـٰئِكَ أَن يَكُونُوا مِنَ الْمُهْتَدِينَ
হ্যাঁ, আল্লাহর মসজিদগুলো আবাদ তারাই করবে, যারা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান আনয়ন করে এবং নামায আদায় করে ও যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ ছাড়া কাউকেও ভয় করে না, বস্তুত এ সকল লোক সম্বন্ধে আশা যে, তারা হেদায়েত প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
০১৯أَجَعَلْتُمْ سِقَايَةَ الْحَاجِّ وَعِمَارَةَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ كَمَنْ آمَنَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَجَاهَدَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ لَا يَسْتَوُونَ عِندَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ
তোমরা কি হাজীদের পানি পান করানোকে এবং মসজিদুল হারামের আবাদ (রক্ষণাবেক্ষণ করে) রাখাকে সেই ব্যক্তির (কাজের) সমান সাব্যস্ত করে রেখেছো, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও কিয়ামত দিবসের প্রতি ঈমান এনেছে ও আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে? তারা আল্লাহর নিকটে সমান নয়; আর আল্লাহ যালিম সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।
০২০الَّذِينَ آمَنُوا وَهَاجَرُوا وَجَاهَدُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ أَعْظَمُ دَرَجَةً عِندَ اللَّهِ ۚ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْفَائِزُونَ
যারা ঈমান এনেছে ও হিজরত করেছে, আর নিজেদের ধন ও প্রাণ দ্বারা আল্লাহর পথে জিহাদ করেছে, তারা আল্লাহর নিকটে অতি বড় মর্যাদাবান আর তারাই হচ্ছে পূর্ণ সফলকাম।
০২১يُبَشِّرُهُمْ رَبُّهُم بِرَحْمَةٍ مِّنْهُ وَرِضْوَانٍ وَجَنَّاتٍ لَّهُمْ فِيهَا نَعِيمٌ مُّقِيمٌ
তাদের প্রতিপালক তাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে সুসংবাদ দিচ্ছেন বড় রহমতের ও অতি সন্তুষ্টির, আর এমন জান্নাতের, যার মধ্যে তাদের জন্যে চিরস্থায়ী নিয়ামত থাকবে।
০২২خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ إِنَّ اللَّهَ عِندَهُ أَجْرٌ عَظِيمٌ
এর মধ্যে তারা অনন্তকাল থাকবে, নিঃসন্দেহে আল্লাহর নিকট রয়েছে মহা পুরস্কার।
০২৩يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا آبَاءَكُمْ وَإِخْوَانَكُمْ أَوْلِيَاءَ إِنِ اسْتَحَبُّوا الْكُفْرَ عَلَى الْإِيمَانِ ۚ وَمَن يَتَوَلَّهُم مِّنكُمْ فَأُولَـٰئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ
হে মু’মিনগণ! তোমরা নিজেদের পিতৃদেরকে ও ভ্রাতাদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না যদি তারা ঈমানের মুকাবিলায় কুফরকে প্রিয় মনে করে; আর তোমাদের মধ্য হতে যারা তাদের সাথে বন্ধুত্ব রাখবে, বস্তুতঃ ঐ সব লোকই হচ্ছে বড় অত্যাচারী।
০২৪قُلْ إِن كَانَ آبَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَانُكُمْ وَأَزْوَاجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَالٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجَارَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسَاكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ اللَّهِ وَرَسُولِهِ وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ فَتَرَبَّصُوا حَتَّىٰ يَأْتِيَ اللَّهُ بِأَمْرِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
(হে নবী সঃ)! তুমি তাদেরকে বলে দাওঃ যদি তোমাদের পিতৃবর্গ, তোমাদের পুত্রগণ, তোমাদের ভ্রাতাগণ, তোমাদের স্ত্রীগণ, তোমাদের স্বগোত্র, আর ঐ সব ধন-সম্পদ যা তোমরা অর্জন করছো, আর ঐ ব্যবসায় যাতে তোমরা মন্দা পড়বার আশঙ্কা করছো এবং ঐ গৃহসমূহ যা তোমরা পছন্দ করছো, (যদি এসব) তোমাদের নিকট অধিক প্রিয় হয় আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চেয়ে এবং তাঁর পথে জিহাদ করার চেয়ে, তবে তোমরা প্রতীক্ষা করতে থাকো এই পর্যন্ত যে, আল্লাহ নিজের নির্দেশ পাঠিয়ে দেন, (অর্থাৎ আযাব) আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত দান করেন না।
০২৫لَقَدْ نَصَرَكُمُ اللَّهُ فِي مَوَاطِنَ كَثِيرَةٍ ۙ وَيَوْمَ حُنَيْنٍ ۙ إِذْ أَعْجَبَتْكُمْ كَثْرَتُكُمْ فَلَمْ تُغْنِ عَنكُمْ شَيْئًا وَضَاقَتْ عَلَيْكُمُ الْأَرْضُ بِمَا رَحُبَتْ ثُمَّ وَلَّيْتُم مُّدْبِرِينَ
অবশ্যই আল্লাহ তোমাদেরকে (যুদ্ধে) বহু জায়গায় (কাফিরদের উপর) বিজয়ী করেছেন এবং হুনায়েনের দিনেও, যখন তোমাদেরকে তোমাদের সংখ্যাধিক্য গর্বে আনন্দিত করেছিল, অতঃপর সেই সংখ্যাধিক্য তোমাদের কোনই কাজে আসেনি, আর ভূ-পৃষ্ঠ (নিজের প্রশস্ততা সত্ত্বেও তো) তোমাদের উপর সংকীর্ণ হতে লাগলো, অতঃপর তোমরা পৃষ্ঠ প্রদর্শন পূর্বক পলায়ন করলে।
০২৬ثُمَّ أَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ وَعَلَى الْمُؤْمِنِينَ وَأَنزَلَ جُنُودًا لَّمْ تَرَوْهَا وَعَذَّبَ الَّذِينَ كَفَرُوا ۚ وَذَٰلِكَ جَزَاءُ الْكَافِرِينَ
অতঃপর আল্লাহ নিজ রাসূলের প্রতি এবং অন্যান্য মু’মিনদের প্রতি নিজের (পক্ষ হতে) প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং এমন সৈন্যদল (অর্থাৎ ফেরেস্তা) নাযিল করলেন যাদেরকে তোমরা দেখনি, আর কাফিরদেরকে শাস্তি প্রদান করলেন; আর এটা হচ্ছে কাফিরদের কর্মফল।
০২৭ثُمَّ يَتُوبُ اللَّهُ مِن بَعْدِ ذَٰلِكَ عَلَىٰ مَن يَشَاءُ ۗ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
অতঃপর এরপরেও (ঐ কাফিরদের মধ্য হতে) যার প্রতি ইচ্ছা তাওবা কবূল করবেন। আর আল্লাহ হচ্ছেন অতি ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।
০২৮يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْمُشْرِكُونَ نَجَسٌ فَلَا يَقْرَبُوا الْمَسْجِدَ الْحَرَامَ بَعْدَ عَامِهِمْ هَـٰذَا ۚ وَإِنْ خِفْتُمْ عَيْلَةً فَسَوْفَ يُغْنِيكُمُ اللَّهُ مِن فَضْلِهِ إِن شَاءَ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
হে মু’মিনগণ! মুশরিকরা হচ্ছে একেবারেই অপবিত্র, অতএব তারা যেন এ বছরের পর মসজিদুল হারামের নিকটেও আসতে না পারে, আর যদি তোমরা দরিদ্রের ভয় কর তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তোমাদেরকে অভাবমুক্ত করে দিবেন, যদি তিনি চান, নিশ্চয়ই আল্লাহ অতিশয় জ্ঞানী ও বড়ই হিকমতওয়ালা।
০২৯قَاتِلُوا الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَلَا بِالْيَوْمِ الْآخِرِ وَلَا يُحَرِّمُونَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَلَا يَدِينُونَ دِينَ الْحَقِّ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ حَتَّىٰ يُعْطُوا الْجِزْيَةَ عَن يَدٍ وَهُمْ صَاغِرُونَ
যেসব আহলে কিতাব আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে না এবং কিয়ামত দিবসের প্রতিও না, আর ঐ বস্তুগুলোকে হারাম মনে করে না যেগুলোকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম বলেছেন, আর সত্য দ্বীন (অর্থাৎ ইসলামকে)গ্রহণ করে না, তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে থাকো যে পর্যন্ত না তারা (অধীনতা স্বীকার করে (প্রজারূপে) নিজ হাতে জিযিয়া দিতে স্বীকৃত হয়।
০৩০وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرٌ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصَارَى الْمَسِيحُ ابْنُ اللَّهِ ۖ ذَٰلِكَ قَوْلُهُم بِأَفْوَاهِهِمْ ۖ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِن قَبْلُ ۚ قَاتَلَهُمُ اللَّهُ ۚ أَنَّىٰ يُؤْفَكُونَ
ইয়াহূদীরা বলেঃ উযায়ের আল্লাহর পুত্র এবং নাসারারা বলেঃ মাসীহ আল্লাহর পুত্র, এটা তাদের মুখের কথা মাত্র (বাস্তবে তা কিছুই নয়), তারা তো তাদের ন্যায়ই কথা বলছে যারা তাদের পূর্বে কাফির হয়েছে, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন! তারা উল্টো কোন দিকে যাচ্ছে!
০৩১اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِّن دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَـٰهًا وَاحِدًا ۖ لَّا إِلَـٰهَ إِلَّا هُوَ ۚ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ
তারা আল্লাহকে ছেড়ে নিজেদের আলেম ও ধর্ম-যাজকদেরকে প্রভু বানিয়ে নিয়েছে এবং মারইয়ামের পুত্র মাসীহকেও অথচ তাদের প্রতি শুধু এই আদেশ করা হয়েছিল যে, তারা শুধুমাত্র এক মা’বূদের ইবাদত করবে যিনি ব্যতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি তাদের অংশী স্থির করা হতে পবিত্র।
০৩২يُرِيدُونَ أَن يُطْفِئُوا نُورَ اللَّهِ بِأَفْوَاهِهِمْ وَيَأْبَى اللَّهُ إِلَّا أَن يُتِمَّ نُورَهُ وَلَوْ كَرِهَ الْكَافِرُونَ
তারা এরূপ চাচ্ছে যে, আল্লাহর নূরকে নিজেদের মুখের ফুঁৎকার দ্বারা নিভিয়ে দেবে, অথচ আল্লাহর স্বীয় নূর (দ্বীন ইসলাম)-কে পূর্ণত্বে পৌঁছানোব্যতীত ক্ষান্ত হবেন না, যদিও কাফিররা অপছন্দ করে।
০৩৩هُوَ الَّذِي أَرْسَلَ رَسُولَهُ بِالْهُدَىٰ وَدِينِ الْحَقِّ لِيُظْهِرَهُ عَلَى الدِّينِ كُلِّهِ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُونَ
তিনি সেই সত্তা যিনি নিজ রাসূলকে হিদায়াত (কুরআন) এবং সত্য দ্বীন সহকারে প্রেরণ করেছেন, যেন তাকে সকল দ্বীনের উপর বিজয়ী করে দেন, যদিও মুশরিকরা অপছন্দ করে।
০৩৪يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّ كَثِيرًا مِّنَ الْأَحْبَارِ وَالرُّهْبَانِ لَيَأْكُلُونَ أَمْوَالَ النَّاسِ بِالْبَاطِلِ وَيَصُدُّونَ عَن سَبِيلِ اللَّهِ ۗ وَالَّذِينَ يَكْنِزُونَ الذَّهَبَ وَالْفِضَّةَ وَلَا يُنفِقُونَهَا فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَبَشِّرْهُم بِعَذَابٍ أَلِيمٍ
হে মু’মিনগণ! অধিকাংশ (ইয়াহূদী ও খৃষ্টানদের) আলেম ও ধর্মযাজকগণ মানুষের ধন-সম্পদ অন্যায়রূপে ভক্ষণ করে এবং আল্লাহর পথ হতে বিরত রাখে, আর যারা (অতি লোভের বশবর্তী হয়ে) স্বর্ণ ও রৌপ্য জমা করে রাখে এবং তা আল্লাহর পথে ব্যয় করে না, (হে মুহাম্মদ সঃ!) তুমি তাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক এক শাস্তির সুসংবাদ শুনিয়ে দাও।
০৩৫يَوْمَ يُحْمَىٰ عَلَيْهَا فِي نَارِ جَهَنَّمَ فَتُكْوَىٰ بِهَا جِبَاهُهُمْ وَجُنُوبُهُمْ وَظُهُورُهُمْ ۖ هَـٰذَا مَا كَنَزْتُمْ لِأَنفُسِكُمْ فَذُوقُوا مَا كُنتُمْ تَكْنِزُونَ
যে দিন জাহান্নামের আগুনে ঐগুলোকে উত্তপ্ত করা হবে। অতঃপর তা দ্বারা তাদের ললাটসমূহে, পার্শ্বদেশসমূহে এবং পৃষ্ঠদেশসমূহে দাগ দেয়া হবে, (আর বলা হবে) এটা হচ্ছে ওটাই যা তোমরা নিজেদের জন্যে সঞ্চয় করে রেখেছিলে, সুতরাং এখন নিজেদের সঞ্চয়ের স্বাদ গ্রহণ কর।
০৩৬إِنَّ عِدَّةَ الشُّهُورِ عِندَ اللَّهِ اثْنَا عَشَرَ شَهْرًا فِي كِتَابِ اللَّهِ يَوْمَ خَلَقَ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ مِنْهَا أَرْبَعَةٌ حُرُمٌ ۚ ذَٰلِكَ الدِّينُ الْقَيِّمُ ۚ فَلَا تَظْلِمُوا فِيهِنَّ أَنفُسَكُمْ ۚ وَقَاتِلُوا الْمُشْرِكِينَ كَافَّةً كَمَا يُقَاتِلُونَكُمْ كَافَّةً ۚ وَاعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ مَعَ الْمُتَّقِينَ
নিশ্চয়ই মাসসমূহের সংখ্যা হচ্ছে আল্লাহর নিকট বারো মাস আল্লাহর কিতাবে, আল্লাহর যমীন ও আসমানসমূহ সৃষ্টি করার দিন হতেই, এর মধ্যে বিশেষরূপে চারটি মাস হচ্ছে সম্মানিত, এটাই হচ্ছে সুপ্রতিষ্ঠিত দ্বীন। অতএব তোমরা এ মাসগুলোতে (দ্বীনের বিরুদ্ধাচরণও এই মাসগুলোর সম্মানহানী করে) নিজেদের ক্ষতিসাধন করো না, আর সকল মুশরিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর, যেমন তারা তোমাদের সকলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, আর জেনে রেখো যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।
০৩৭إِنَّمَا النَّسِيءُ زِيَادَةٌ فِي الْكُفْرِ ۖ يُضَلُّ بِهِ الَّذِينَ كَفَرُوا يُحِلُّونَهُ عَامًا وَيُحَرِّمُونَهُ عَامًا لِّيُوَاطِئُوا عِدَّةَ مَا حَرَّمَ اللَّهُ فَيُحِلُّوا مَا حَرَّمَ اللَّهُ ۚ زُيِّنَ لَهُمْ سُوءُ أَعْمَالِهِمْ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْكَافِرِينَ
নিশ্চয় মাসগুলো পিছিয়ে দেয়া কুফরের মাত্রাকে আরোও বাড়িয়ে দেয়, যা দ্বারা কাফিরদেরকে পথভ্রষ্ট করা হয় (এইরূপে) যে, তারা সেই হারাম মাসকে কোন বছর হালাল করে নেয় এবং কোন বছর হারাম মনে করে, আল্লাহ যেই মাসগুলোকে হারাম করেছেন, যেন তারা সেগুলোর সংখ্যা পূর্ণ করে নিতে পারে, অতঃপর তারা আল্লাহর নিষিদ্ধ মাসগুলোকে হালাল করে নেয়, তাদের দুষ্কর্মগুলো তাদের কাছে ভাল মনে হয়, আর আল্লাহ এইরূপ কাফিরদেরকে হিদায়াত (এর তাওফীক দান) করেন না।
০৩৮يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا مَا لَكُمْ إِذَا قِيلَ لَكُمُ انفِرُوا فِي سَبِيلِ اللَّهِ اثَّاقَلْتُمْ إِلَى الْأَرْضِ ۚ أَرَضِيتُم بِالْحَيَاةِ الدُّنْيَا مِنَ الْآخِرَةِ ۚ فَمَا مَتَاعُ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا فِي الْآخِرَةِ إِلَّا قَلِيلٌ
হে মু’মিনগণ! তোমাদের কি হল যে, যখন তোমাদেরকে বলা হয়- আল্লাহর পথে (জিহাদের জন্যে) বেরিয়ে পড়, তখন তোমরা মাটিতে লেগে থাকো (অলসভাবে বসে থাকো); তবে কি তোমরা পরকালের বিনিময়ে পার্থিব জীবনের উপর পরিতুষ্ট হয়ে গেলে? বস্তুতঃ পার্থিব জীবনের ভোগবিলাস তো আখিরাতের তুলনায় কিছু নয়, অতি সামান্য!
০৩৯إِلَّا تَنفِرُوا يُعَذِّبْكُمْ عَذَابًا أَلِيمًا وَيَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَيْرَكُمْ وَلَا تَضُرُّوهُ شَيْئًا ۗ وَاللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ
যদি তোমরা বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি সৃষ্টি করে দেবেন, আর তোমরা আল্লাহর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান।
০৪০إِلَّا تَنصُرُوهُ فَقَدْ نَصَرَهُ اللَّهُ إِذْ أَخْرَجَهُ الَّذِينَ كَفَرُوا ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ إِذْ يَقُولُ لِصَاحِبِهِ لَا تَحْزَنْ إِنَّ اللَّهَ مَعَنَا ۖ فَأَنزَلَ اللَّهُ سَكِينَتَهُ عَلَيْهِ وَأَيَّدَهُ بِجُنُودٍ لَّمْ تَرَوْهَا وَجَعَلَ كَلِمَةَ الَّذِينَ كَفَرُوا السُّفْلَىٰ ۗ وَكَلِمَةُ اللَّهِ هِيَ الْعُلْيَا ۗ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
যদি তোমরা তাকে (রাসূলুল্লাহকে) সাহায্য না কর তবে আল্লাহই (তাঁর সাহায্য করবেন যেমন তিনি) তার সাহায্য করেছিলেন সেই সময়ে যখন কাফিররা তাঁকে দেশান্তর করে দিয়েছিল, তিনি দু’জনের মধ্যে দ্বিতীয় ব্যক্তি (রাসূল সঃ) যেই সময় উভ্যে গুহায় ছিলেন যখন তিনি স্বীয় সাথীকে (আবূ বকরকে রাঃ) বলেছিলেন তুমি চিন্তিত হয়ো না, নিশ্চয়ই আল্লাহ (তাঁর সাহায্য) আমাদের সাথে রয়েছেন, অতঃপর আল্লাহ তার প্রতি স্বীয় প্রশান্তি নাযিল করলেন এবং তাঁকে সাহায্য করলেন এমন বাহিনী দ্বারা যাদেরকে তোমরা দেখতে পাওনি এবং আল্লাহ কাফিরদের বাক্য নীচু (অর্থাৎ প্রচেষ্টা ব্যর্থ) করে দিলেন, আর আল্লাহর বাণীই সমুচ্চ রইলো, আর আল্লাহ হচ্ছেন প্রভাবশালী, মহাবিজ্ঞ।
০৪১انفِرُوا خِفَافًا وَثِقَالًا وَجَاهِدُوا بِأَمْوَالِكُمْ وَأَنفُسِكُمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ ۚ ذَٰلِكُمْ خَيْرٌ لَّكُمْ إِن كُنتُمْ تَعْلَمُونَ
তোমরা বের হয়ে পড় স্বল্প সরঞ্জামের সাথে আর প্রচুর সরঞ্জামের সাথে এবং আল্লাহর পথে নিজেদের ধন-সম্পদ ও প্রাণ দ্বারা যুদ্ধ কর, এটা তোমাদের জন্যে অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে।
০৪২لَوْ كَانَ عَرَضًا قَرِيبًا وَسَفَرًا قَاصِدًا لَّاتَّبَعُوكَ وَلَـٰكِن بَعُدَتْ عَلَيْهِمُ الشُّقَّةُ ۚ وَسَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَوِ اسْتَطَعْنَا لَخَرَجْنَا مَعَكُمْ يُهْلِكُونَ أَنفُسَهُمْ وَاللَّهُ يَعْلَمُ إِنَّهُمْ لَكَاذِبُونَ
যদি তাড়াতাড়ি অর্থ সম্পদ বা আসবাবপত্র লাভের ব্যবস্থা থাকতো আর সফরও সহজে হতো, তবে তারা অবশ্যই তোমার সহগামী হতো; কিন্তু তাদের তো পথের দূরত্বই দীর্ঘতর বোধ হতে লাগলো; আর তারা এখনই আল্লাহর নামে শপথ করে বলবেঃ যদি আমাদের সাধ্য থাকতো তবে আমরা নিশ্চয়ই তোমাদের সাথে বের হতাম, তারা (মিথ্যা বলে) নিজেরাই নিজেদেরকে ধ্বংস করছে, আর আল্লাহ জানেন যে, তারা অবশ্যই মিথ্যাবাদী।
০৪৩عَفَا اللَّهُ عَنكَ لِمَ أَذِنتَ لَهُمْ حَتَّىٰ يَتَبَيَّنَ لَكَ الَّذِينَ صَدَقُوا وَتَعْلَمَ الْكَاذِبِينَ
আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করলেন, (কিন্তু) তুমি তাদেরকে (এত শীঘ্র) কেন অনুমতি দিয়েছিলে (যুদ্ধে অনুপস্থিত থাকার) যে পর্যন্ত না সত্যবাদী লোকেরা তোমার কাছে প্রকাশ হয়ে পড়তো এবং তুমি মিথ্যাবাদীদেরকে জেনে নিতে।
০৪৪لَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ أَن يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالْمُتَّقِينَ
যারা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি ঈমান রাখে, তারা নিজেদের ধন-সম্পদ ও প্রাণ দ্বারা জিহাদ করার ব্যাপারে তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করবে না, আর আল্লাহ এই পরহেযগার লোকদের সম্বন্ধে খুব অবগত আছেন।
০৪৫إِنَّمَا يَسْتَأْذِنُكَ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَارْتَابَتْ قُلُوبُهُمْ فَهُمْ فِي رَيْبِهِمْ يَتَرَدَّدُونَ
অবশ্য ঐসব লোক তোমার কাছে অব্যাহতি চেয়ে থাকে, যারা আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে না, আর তাদের অন্তরসমূহ সন্দেহে নিপতিত রয়েছে, অতএব তারা তাদের সংশয়ের আবর্তে ঘূর্ণিপাক খাচ্ছে।
০৪৬وَلَوْ أَرَادُوا الْخُرُوجَ لَأَعَدُّوا لَهُ عُدَّةً وَلَـٰكِن كَرِهَ اللَّهُ انبِعَاثَهُمْ فَثَبَّطَهُمْ وَقِيلَ اقْعُدُوا مَعَ الْقَاعِدِينَ
আর যদি তারা (যুদ্ধে) যাত্রা করার ইচ্ছা করতো, তবে এর কিছু আসবাবপত্র তো প্রস্তুত করতো; কিন্তু আল্লাহ তাদের (যুদ্ধে যাওয়ার জাগরণকে) যাত্রাকে অপছন্দ করেছেন, এ জন্যে তাদেরকে বিরত রাখলেন এবং বলে দেয়া হল, তোমরাও এখানেই অক্ষম লোকদের সাথে বসে থাকো।
০৪৭لَوْ خَرَجُوا فِيكُم مَّا زَادُوكُمْ إِلَّا خَبَالًا وَلَأَوْضَعُوا خِلَالَكُمْ يَبْغُونَكُمُ الْفِتْنَةَ وَفِيكُمْ سَمَّاعُونَ لَهُمْ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ بِالظَّالِمِينَ
যদি তারা তোমাদের সাথে বের হতো, তবে তোমাদের মাঝে ফেতনা ফাসাদই বৃদ্ধি করতো। আর তারা তোমাদের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে দৌড়াদৌড়ি করে ফিরতো, আর তোমাদের মধ্যে তাদের কতিপয় গুপ্তচর বিদ্যমান রয়েছে; আল্লাহ এই যালিমদের সম্বন্ধে খুব অবগত রয়েছেন।
০৪৮لَقَدِ ابْتَغَوُا الْفِتْنَةَ مِن قَبْلُ وَقَلَّبُوا لَكَ الْأُمُورَ حَتَّىٰ جَاءَ الْحَقُّ وَظَهَرَ أَمْرُ اللَّهِ وَهُمْ كَارِهُونَ
তারা তো পূর্বেও ফাসাদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, আর তোমার (ক্ষতি সাধনের) জন্যে কর্মসমূহ উলট-পালট করেছিল, অবশেষে সত্য অঙ্গীকার এসে পড়লো এবং আল্লাহর ফায়সালাই বিজয় (বদরের বিজয়) লাভ করলো, আর তারা অপছন্দকারীই থেকে গেল।
০৪৯وَمِنْهُم مَّن يَقُولُ ائْذَن لِّي وَلَا تَفْتِنِّي ۚ أَلَا فِي الْفِتْنَةِ سَقَطُوا ۗ وَإِنَّ جَهَنَّمَ لَمُحِيطَةٌ بِالْكَافِرِينَ
আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন আছে, যে বলেঃ আমাকে (যুদ্ধে গমন না করার) অনুমতি দিন এবং আমাকে বিপদে ফেলবেন না, (ভালরূপে বুঝে নাও যে,) তারা তো বিপদে পড়েই গেছে, আর নিশ্চয়ই জাহান্নাম এই কাফিরদেরকে বেষ্টনকারী।
০৫০إِن تُصِبْكَ حَسَنَةٌ تَسُؤْهُمْ ۖ وَإِن تُصِبْكَ مُصِيبَةٌ يَقُولُوا قَدْ أَخَذْنَا أَمْرَنَا مِن قَبْلُ وَيَتَوَلَّوا وَّهُمْ فَرِحُونَ
যদি তোমার প্রতি কোন মঙ্গল উপস্থিত হয় তবে তাদেরকে খুব খারাপ লাগে, আর যদি তোমার উপর কোন বিপদ এসে পড়ে, তখন তারা বলেঃ আমরা তো প্রথম থেকেই নিজেদের সাবধানতার পথ অবলম্বন করেছিলাম, এবং তারা খুশী হয়ে চলে যায়।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x