০০৯. সূরাঃ আত তাওবাহ

আয়াতঅবতীর্ণঃ মদিনা
আয়াত সংখ্যাঃ ১২৯
রুকূঃ ১৬
০৫১قُل لَّن يُصِيبَنَا إِلَّا مَا كَتَبَ اللَّهُ لَنَا هُوَ مَوْلَانَا ۚ وَعَلَى اللَّهِ فَلْيَتَوَكَّلِ الْمُؤْمِنُونَ
তুমি বলে দাওঃ আল্লাহ আমাদের জন্যে যা নির্ধারণ করে দিয়েছেন তা ছাড়া অন্য কোন বিপদ আমাদের উপর আসতে পারে না, তিনিই আমাদের কর্মবিধায়ক এবং অভিভাবক আর সকল মু’মিনেরই কর্তব্য হল যে, তারা যেন নিজেদের যাবতীয় কাজে আল্লাহর উপরই নির্ভর করে।
০৫২قُلْ هَلْ تَرَبَّصُونَ بِنَا إِلَّا إِحْدَى الْحُسْنَيَيْنِ ۖ وَنَحْنُ نَتَرَبَّصُ بِكُمْ أَن يُصِيبَكُمُ اللَّهُ بِعَذَابٍ مِّنْ عِندِهِ أَوْ بِأَيْدِينَا ۖ فَتَرَبَّصُوا إِنَّا مَعَكُم مُّتَرَبِّصُونَ
(হে নবী সঃ!) তুমি বলে দাওঃ তোমরা তো আমাদের জন্যে দু’টি মঙ্গলের মধ্যে একটি মঙ্গলের প্রতীক্ষায় রয়েছো; আর আমরা তোমাদের জন্যে এই প্রতীক্ষা করছি যে, আল্লাহ তোমাদের উপর কোন শাস্তি প্রদান করবেন নিজের পক্ষ হতে অথবা আমাদের হাত দ্বারা, অতএব তোমরা অপেক্ষা করতে থাকো, আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান রইলাম।
০৫৩قُلْ أَنفِقُوا طَوْعًا أَوْ كَرْهًا لَّن يُتَقَبَّلَ مِنكُمْ ۖ إِنَّكُمْ كُنتُمْ قَوْمًا فَاسِقِينَ
তুমি (আরও) বলে দাওঃ তোমরা সন্তুষ্টির সাথে ব্যয় কর কিংবা অসন্তুষ্টির সাথে, তোমাদের পক্ষ থেকে তা কখনোই গৃহীত হবে না; নিঃসন্দেহে তোমরা হচ্ছো ফাসেক সম্প্রদায়।
০৫৪وَمَا مَنَعَهُمْ أَن تُقْبَلَ مِنْهُمْ نَفَقَاتُهُمْ إِلَّا أَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَبِرَسُولِهِ وَلَا يَأْتُونَ الصَّلَاةَ إِلَّا وَهُمْ كُسَالَىٰ وَلَا يُنفِقُونَ إِلَّا وَهُمْ كَارِهُونَ
আর তাদের দান-খয়রাত গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে এ জন্যে যে, তারা আল্লাহর সাথে ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে, আর তারা নামায অলসতার সাথে ছাড়া পড়ে না, আর তারা দান করে না, কিছু করলেও তা অনিচ্ছার সাথে (করে)।
০৫৫فَلَا تُعْجِبْكَ أَمْوَالُهُمْ وَلَا أَوْلَادُهُمْ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُعَذِّبَهُم بِهَا فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَتَزْهَقَ أَنفُسُهُمْ وَهُمْ كَافِرُونَ
অতএব তাদের ধন-সম্পদ এবং সন্তানাদি যেন তোমাকে বিস্মিত না করে; আল্লাহর ইচ্ছা শুধু এটাই যে, এসব বস্তু দ্বারা তাদেরকে পার্থিব জীবনে শাস্তি দেবেন এবং তাদের প্রাণ কুফরীরই অবস্থায় বের হয়।
০৫৬وَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ إِنَّهُمْ لَمِنكُمْ وَمَا هُم مِّنكُمْ وَلَـٰكِنَّهُمْ قَوْمٌ يَفْرَقُونَ
আর তারা আল্লাহর কসম করে বলে যেঃ তারা (মুনাফিকরা) তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত; অথচ তারা তোমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়; বরং তারা হচ্ছে ভীতু সম্প্রদায়।
০৫৭لَوْ يَجِدُونَ مَلْجَأً أَوْ مَغَارَاتٍ أَوْ مُدَّخَلًا لَّوَلَّوْا إِلَيْهِ وَهُمْ يَجْمَحُونَ
যদি তারা কোন আশ্রয়স্থল পেতো, অথবা গুহা কিংবা লুকিয়ে থাকার একটু স্থান পেতো, তবে তারা অবশ্যই ক্ষিপ্রগতিতে সেই দিকে ধাবিত হতো।
০৫৮وَمِنْهُم مَّن يَلْمِزُكَ فِي الصَّدَقَاتِ فَإِنْ أُعْطُوا مِنْهَا رَضُوا وَإِن لَّمْ يُعْطَوْا مِنْهَا إِذَا هُمْ يَسْخَطُونَ
আর তাদের মধ্যে এমন কতক লোক রয়েছে যারা সাদআর (বন্টন) ব্যাপারে তোমার প্রতি দোষারোপ করে, অতঃপর যদি তারা ঐ সমস্ত সাদকা হতে কিছু (অংশ) তাদেরকে দেয়া হয় তবে তারা সন্তুষ্ট হয়, আর যদি তারা তা থেকে (অংশ) না পায় তবে তারা অসন্তুষ্ট হয়ে যায়।
০৫৯وَلَوْ أَنَّهُمْ رَضُوا مَا آتَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ وَقَالُوا حَسْبُنَا اللَّهُ سَيُؤْتِينَا اللَّهُ مِن فَضْلِهِ وَرَسُولُهُ إِنَّا إِلَى اللَّهِ رَاغِبُونَ
তাদের জন্যে উত্তম হতো যদি তারা ওর প্রতি সন্তুষ্ট থাকতো যা কিছু তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল দান করেছিলেন, আর বলতো আমাদের পক্ষে আল্লাহই যথেষ্ট, ভবিষ্যতে আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে আমাদেরকে আরো দান করবেন এবং তাঁর রাসূলও, আমরা আল্লাহরই প্রতি আগ্রহী রইলাম।
০৬০إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۖ فَرِيضَةً مِّنَ اللَّهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
(ফরয) সাদকাগুলো তো হচ্ছে শুধুমাত্র ফকির মিসকীনদের জন্য, আর এই সাদকা (আদায়ের) জন্যে নিযুক্ত কর্মচারীদের এবং যাদের মন রক্ষা করতে (অভিপ্রায়) হয় (তাদের), আর দাস মুক্ত করার কাজে এবং ঋণগ্রস্থদের (হাওলাত পরিশোধে), আল্লাহর রাস্তায় আর মুসাফিরদের সাহায্যার্থে, এটা আল্লাহর পক্ষ হতে ফরয (নির্ধারিত), আর আল্লাহ মহাজ্ঞানী অতি প্রজ্ঞাময়।
০৬১وَمِنْهُمُ الَّذِينَ يُؤْذُونَ النَّبِيَّ وَيَقُولُونَ هُوَ أُذُنٌ ۚ قُلْ أُذُنُ خَيْرٍ لَّكُمْ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَيُؤْمِنُ لِلْمُؤْمِنِينَ وَرَحْمَةٌ لِّلَّذِينَ آمَنُوا مِنكُمْ ۚ وَالَّذِينَ يُؤْذُونَ رَسُولَ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
আর তাদের মধ্যে মন কতিপয় লোক আছে, যারা নবীকে কষ্ট দেয় এবং বলে যে, তিনি প্রত্যেক কথায় কর্ণপাত করে থাকেন; তুমি বলে দাওঃ এই নবী তো কর্ণপাত করে থাকেন এবং সেই কথাতেই যা তোমাদের জন্যে কল্যাণকর, তিনি আল্লাহর (কথাগুলো ওহী মারফত জ্ঞাত হয়ে তার) প্রতি ঈমান আনয়ন করেন, আর মু’মিনদের (কথাকে) বিশ্বাস করেন, আর তিনি ঐসব লোকদের প্রতি অনুগ্রহ করেন যারা তোমাদের মধ্যে ঈমান আনয়ন করে; আর যারা আল্লাহর রাসূলকে কষ্ট দেয়, তাদের জন্যে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি রয়েছে।
০৬২يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ لِيُرْضُوكُمْ وَاللَّهُ وَرَسُولُهُ أَحَقُّ أَن يُرْضُوهُ إِن كَانُوا مُؤْمِنِينَ
তারা তোমাদের কাছে আল্লাহর শপথ করে থাকে, যেন তারা তোমাদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হচ্ছেন বেশি হকদার (এই বিষয়ে) যে, তারা যদি সত্যিকারের মু’মিন হয়ে থাকে, তবে তারা যেন তাঁকে সন্তুষ্ট করে।
০৬৩أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّهُ مَن يُحَادِدِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَأَنَّ لَهُ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدًا فِيهَا ۚ ذَٰلِكَ الْخِزْيُ الْعَظِيمُ
তারা কি জানে না যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধাচরণ করে, তবে এটা সুনিশ্চিত যে, এমন লোকের, ভাগ্যে রয়েছে জাহান্নামের আগুন এরূপভাবে যে, সে তাতে অনন্তকাল থাকবে, এটা হচ্ছে চরম লাঞ্ছনা।
০৬৪يَحْذَرُ الْمُنَافِقُونَ أَن تُنَزَّلَ عَلَيْهِمْ سُورَةٌ تُنَبِّئُهُم بِمَا فِي قُلُوبِهِمْ ۚ قُلِ اسْتَهْزِئُوا إِنَّ اللَّهَ مُخْرِجٌ مَّا تَحْذَرُونَ
মুনাফিকরা আশঙ্কা করে যে, তাদের (মুসলমানদের) প্রতি না জানি এমন কোন সূরা নাযিল হয়ে পড়্রে যা তাদেরকে সেই মুনাফিকদের অন্তরের কথা অবহিত করে দেয়, (হে নবী সঃ)! তুমি বলে দাওঃ হ্যাঁ, তোমরা বিদ্রূপ করতে থাকো, নিশ্চয়ই আল্লাহ সেই বিষয়কে প্রকাশ করেই দিবেন, যার তোমরা আশঙ্কা করছো।
০৬৫وَلَئِن سَأَلْتَهُمْ لَيَقُولُنَّ إِنَّمَا كُنَّا نَخُوضُ وَنَلْعَبُ ۚ قُلْ أَبِاللَّهِ وَآيَاتِهِ وَرَسُولِهِ كُنتُمْ تَسْتَهْزِئُونَ
আর যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলে দেবেঃ আমরা তো শুধু আলাপ-আলোচনা ও হাঁসি-তামাসা করছিলাম; তুমি বলে দাওঃ তবে কি তোমরা আল্লাহ; তাঁর আয়াতসমূহ এবং তাঁর রাসূলের প্রতি হাসি-তামাসা করছিলে?
০৬৬لَا تَعْتَذِرُوا قَدْ كَفَرْتُم بَعْدَ إِيمَانِكُمْ ۚ إِن نَّعْفُ عَن طَائِفَةٍ مِّنكُمْ نُعَذِّبْ طَائِفَةً بِأَنَّهُمْ كَانُوا مُجْرِمِينَ
তোমরা ওযর আপত্তি প্রদর্শন করো না, তোমরা তো ঈমান কবুলের পর কুফরী করেছো; যদিও আমি তোমাদের মধ্য হতে কতককে ক্ষমা করে দেই, তবুও কতককে শাস্তি দিবই, কারণ তারা অপরাধী ছিল।
০৬৭الْمُنَافِقُونَ وَالْمُنَافِقَاتُ بَعْضُهُم مِّن بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمُنكَرِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمَعْرُوفِ وَيَقْبِضُونَ أَيْدِيَهُمْ ۚ نَسُوا اللَّهَ فَنَسِيَهُمْ ۗ إِنَّ الْمُنَافِقِينَ هُمُ الْفَاسِقُونَ
মুনাফিক পুরুষেরা এবং মুনাফিক নারীরা পরস্পর সবাই এক রকম, তারা অসৎকর্মের (অর্থাৎ কুফর ও ইসলাম বিরোধিতা) নির্দেশ দেয় এবং সৎকর্ম হতে বিরত রাখে, আর নিজেদের হাতসমূহকে (আল্লাহর পথে ব্যয় করা হতে) বন্ধ করে রাখে, তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছে, সুতরাং তিনিও তাদেরকে ভুলে গিয়েছেন, নিঃসন্দেহে এই মুনাফিকরাই হচ্ছে ফাসেক।
০৬৮وَعَدَ اللَّهُ الْمُنَافِقِينَ وَالْمُنَافِقَاتِ وَالْكُفَّارَ نَارَ جَهَنَّمَ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ هِيَ حَسْبُهُمْ ۚ وَلَعَنَهُمُ اللَّهُ ۖ وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ
আল্লাহ মুনাফিক পুরুষদের ও মুনাফিক নারীদের এবং কাফিরদের সাথে জাহান্নামের আগুনের অঙ্গীকার করেছেন, যাতে তারা চিরকাল থাকবে, এটা তাদের জন্যে যথেষ্ট, আর আল্লাহ তাদেরকে অভিশাপ করেছেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে চিরস্থায়ী শাস্তি।
০৬৯كَالَّذِينَ مِن قَبْلِكُمْ كَانُوا أَشَدَّ مِنكُمْ قُوَّةً وَأَكْثَرَ أَمْوَالًا وَأَوْلَادًا فَاسْتَمْتَعُوا بِخَلَاقِهِمْ فَاسْتَمْتَعْتُم بِخَلَاقِكُمْ كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِينَ مِن قَبْلِكُم بِخَلَاقِهِمْ وَخُضْتُمْ كَالَّذِي خَاضُوا ۚ أُولَـٰئِكَ حَبِطَتْ أَعْمَالُهُمْ فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْخَاسِرُونَ
তোমাদের অবস্থা ওদের ন্যায় যারা তোমাদের পূর্বে গত হয়েছে, যারা ছিল তোমাদের চেয়ে অধিকতর শক্তিশালী এবং ধন-সম্পদ ও সন্তানাদির প্রাচুর্যও ছিল তোমাদের চেয়ে অনেক বেশি; ফলতঃ তারা নিজেদের (পার্থিব) অংশ দ্বারা যথেষ্ট উপকার লাভ করেছে, অতঃপর তোমরাও তোমাদের (পার্থিব) অংশ দ্বারা খুব উপকার লাভ করলে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীগণ নিজেদের অংশ দ্বারা ফলভোগ করেছিল, আর তোমরাও ব্যাঙ্গাত্মক হাঁসি-তামাসায় এরূপভাবে নিমগ্ন হয়েছো, যেমন তারা ও নিমগ্ন হয়েছিল; আর তাদের (নেক) আমলসমূহ বিনষ্ট হয়ে গিয়েছে দুনিয়াতে ও আখিরাতে, এই সমস্ত লোকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত।
০৭০أَلَمْ يَأْتِهِمْ نَبَأُ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ قَوْمِ نُوحٍ وَعَادٍ وَثَمُودَ وَقَوْمِ إِبْرَاهِيمَ وَأَصْحَابِ مَدْيَنَ وَالْمُؤْتَفِكَاتِ ۚ أَتَتْهُمْ رُسُلُهُم بِالْبَيِّنَاتِ ۖ فَمَا كَانَ اللَّهُ لِيَظْلِمَهُمْ وَلَـٰكِن كَانُوا أَنفُسَهُمْ يَظْلِمُونَ
তাদের কাছে ঐসব লোকের সংবাদ পৌঁছেনি যারা তাদের পূর্বে গত হয়েছে? (যেমন) নূহ সম্প্রদায় এবং আ’দ ও সামূদ সম্প্রদায়, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদইয়ানের অধিবাসীগণ এবং মু’তাফিকাতের অধিবাসীগণ (বিধ্বস্ত জনপদগুলোর)। তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিলেন, বস্তুতঃ আল্লাহ তো তাদের প্রতি অত্যাচার করেননি; বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছিল।
০৭১وَالْمُؤْمِنُونَ وَالْمُؤْمِنَاتُ بَعْضُهُمْ أَوْلِيَاءُ بَعْضٍ ۚ يَأْمُرُونَ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَوْنَ عَنِ الْمُنكَرِ وَيُقِيمُونَ الصَّلَاةَ وَيُؤْتُونَ الزَّكَاةَ وَيُطِيعُونَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ أُولَـٰئِكَ سَيَرْحَمُهُمُ اللَّهُ ۗ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
আর মু’মিন পুরুষরা ও মু’মিনা নারীরা হচ্ছে পরস্পর একে অন্যের বন্ধু, তারা সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ হতে নিষেধ করে, আর নামায কায়েম করে ও যাকাত প্রদান করে, আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আদেশ মেনে চলে, এসব লোকের প্রতি আল্লাহ অবশ্যই করুণা বর্ষণ করবেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহর অতিশয় সম্মানিত ও মহাজ্ঞানী।
০৭২وَعَدَ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَمَسَاكِنَ طَيِّبَةً فِي جَنَّاتِ عَدْنٍ ۚ وَرِضْوَانٌ مِّنَ اللَّهِ أَكْبَرُ ۚ ذَٰلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
আল্লাহ মু’মিন পুরুষ ও মু’মিনা নারীদেরকে এমন জান্নাতসমূহের ওয়াদা দিয়ে রেখেছেন যেগুলোর নিম্নদেশে বইতে থাকবে নহরসমূহ, সেখানে তারা অনন্তকাল থাকবে, আরও (ওয়াদা দিয়েছেন) ঐ উত্তম বাসস্থানসমূহের যা আদন নামক জান্নাতের মাঝে অবস্থিত। আর আল্লাহর সন্তুষ্টি হচ্ছে সর্বাপেক্ষা বড় (নিয়ামত), এটা হচ্ছে অতি বড় সফলতা।
০৭৩يَا أَيُّهَا النَّبِيُّ جَاهِدِ الْكُفَّارَ وَالْمُنَافِقِينَ وَاغْلُظْ عَلَيْهِمْ ۚ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ ۖ وَبِئْسَ الْمَصِيرُ
হে নবী! কাফির ও মুনাফিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ কর এবং তাদের প্রতি কঠোর ব্যবহার নীতি অবলম্বন কর, আর তাদের বাসস্থান হবে জাহান্নাম এবং ওটা হচ্ছে নিকৃষ্ট।
০৭৪يَحْلِفُونَ بِاللَّهِ مَا قَالُوا وَلَقَدْ قَالُوا كَلِمَةَ الْكُفْرِ وَكَفَرُوا بَعْدَ إِسْلَامِهِمْ وَهَمُّوا بِمَا لَمْ يَنَالُوا ۚ وَمَا نَقَمُوا إِلَّا أَنْ أَغْنَاهُمُ اللَّهُ وَرَسُولُهُ مِن فَضْلِهِ ۚ فَإِن يَتُوبُوا يَكُ خَيْرًا لَّهُمْ ۖ وَإِن يَتَوَلَّوْا يُعَذِّبْهُمُ اللَّهُ عَذَابًا أَلِيمًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ ۚ وَمَا لَهُمْ فِي الْأَرْضِ مِن وَلِيٍّ وَلَا نَصِيرٍ
তারা আল্লাহর নামে শপথ করে বলছে যে, তারা (অমুক কথা) বলেনি, অথচ নিশ্চয়ই তারা কুফরির কথা বলেছিল এবং নিজেদের ইসলাম গ্রহণের পর কাফির হয়ে গেল, আর তারা এমন বিষয়ের সংকল্প করেছিল যা তারা কার্যকরী করতে পারে নি; আর তারা হিংসা পোষণ ও ঘৃণা করেছিল এজন্য যে, তাদেরকে আলাহ ও তাঁর রাসূল নিজ অনুগ্রহে (মদীনায়) সম্পদশালী করে দিয়েছিলেন, অনন্তর যদি তারা তাওবা করে নেয় তবে তাদের জন্যে উত্তম হবে; আর যদি তারা বিমুখ হয় তবে আল্লাহ তাদেরকে ইহকালে ও পরকালে যন্ত্রণাময় শাস্তি প্রদান করবেন, আর ভূ-পৃষ্টে তাদের না কোন অলী (অভিভাবক) হবে, আর না কোন সাহায্যকারী।
০৭৫وَمِنْهُم مَّنْ عَاهَدَ اللَّهَ لَئِنْ آتَانَا مِن فَضْلِهِ لَنَصَّدَّقَنَّ وَلَنَكُونَنَّ مِنَ الصَّالِحِينَ
আর তাদের মধ্যে এমন কতিপয় লোক রয়েছে যারা আল্লাহর সাথে অঙ্গীকার করে, আল্লাহ যদি আমাদেরকে নিজ অনুগ্রহে (প্রচুর সম্পদ) দান করেন, তবে আমরা অবশ্যই খুব দান-খয়রাত করবো এবং সৎলোকদের অন্তর্ভুক্ত হবো।
০৭৬فَلَمَّا آتَاهُم مِّن فَضْلِهِ بَخِلُوا بِهِ وَتَوَلَّوا وَّهُم مُّعْرِضُونَ
কার্যতঃ যখন আল্লাহ তাদেরকে নিজ অনুগ্রহে (প্রচুর সম্পদ) দান করলেন, তখন তারা তাতে কার্পণ্য করতে লাগলো এবং (আনুগত্য করা হতে) তারা গোঁড়ামীর সাথেই বিমুখতা অবলম্বন করলো।
০৭৭فَأَعْقَبَهُمْ نِفَاقًا فِي قُلُوبِهِمْ إِلَىٰ يَوْمِ يَلْقَوْنَهُ بِمَا أَخْلَفُوا اللَّهَ مَا وَعَدُوهُ وَبِمَا كَانُوا يَكْذِبُونَ
সুতরাং আল্লাহ তাদের শাস্তি স্বরূপ তাদের অন্তরসমূহে নিফাক ঢেলে দিলেন, যা আল্লাহর সামনে হাযির হওয়ার দিন পর্যন্ত থাকবে, এই কারণে যে, তারা আল্লাহর সাথে নিজেদের ওয়াদার খিলাফ করেছে, আর এই কারণে যে, তারা (পূর্ব হতেই) মিথ্যা বলছিল।
০৭৮أَلَمْ يَعْلَمُوا أَنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ سِرَّهُمْ وَنَجْوَاهُمْ وَأَنَّ اللَّهَ عَلَّامُ الْغُيُوبِ
তাদের কি জানা নেই যে, আল্লাহ তাদের মনের গুপ্ত কথা এবং গোপন পরামর্শ সবই অবগত আছেন? আর তাদের কি এই সবই খবর নেই যে, আল্লাহ সমস্ত গায়েবের কথা খুবই জ্ঞাত আছেন?
০৭৯الَّذِينَ يَلْمِزُونَ الْمُطَّوِّعِينَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فِي الصَّدَقَاتِ وَالَّذِينَ لَا يَجِدُونَ إِلَّا جُهْدَهُمْ فَيَسْخَرُونَ مِنْهُمْ ۙ سَخِرَ اللَّهُ مِنْهُمْ وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
যারা নফল সাদকা প্রদানকারী মুসলমানদের প্রতি সাদকা সম্বন্ধে দোষারোপ করে এবং (বিশেষ করে) সেই লোকদের প্রতি যাদের পরিশ্রম ও মজুরী করা ছাড়া আর কোনই সম্বল নেই, তারা তাদেরকে উপহাস করে, আল্লাহও তাদেরকে উপহাস করেন এবং তাদের জন্যে রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
০৮০اسْتَغْفِرْ لَهُمْ أَوْ لَا تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ إِن تَسْتَغْفِرْ لَهُمْ سَبْعِينَ مَرَّةً فَلَن يَغْفِرَ اللَّهُ لَهُمْ ۚ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ ۗ وَاللَّهُ لَا يَهْدِي الْقَوْمَ الْفَاسِقِينَ
(হে মুহাম্মদ সঃ!) তুমি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা কর অথবা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না কর (উভয়ই সমান) যদি তুমি তাদের জন্যে সত্তর বারও ক্ষমা প্রার্থনা কর তবুও আল্লাহ তাদেরকে ক্ষমা করবেন না; এর কারণ এই যে, তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে। আর আল্লাহ এরূপ ফাসেক লোকদেরকে হেদায়েত দান করেন না।
০৮১فَرِحَ الْمُخَلَّفُونَ بِمَقْعَدِهِمْ خِلَافَ رَسُولِ اللَّهِ وَكَرِهُوا أَن يُجَاهِدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَقَالُوا لَا تَنفِرُوا فِي الْحَرِّ ۗ قُلْ نَارُ جَهَنَّمَ أَشَدُّ حَرًّا ۚ لَّوْ كَانُوا يَفْقَهُونَ
পশ্চাদবর্তী লোকেরা (তাবুকের যুদ্ধে) উৎফুল্ল হয়ে গেল রাসূলুল্লাহর বিরুদ্ধাচারণ করে নিজেদের গৃহে বসে থেকে এবং তারা আল্লাহর পথে নিজেদের ধন ও প্রাণ দিয়ে জিহাদ করাকে অপছন্দ করলো, অধিকন্তু বলতে লাগলোঃ তোমরা (এই ভীষণ) গরমের মধ্যে বের হয়ো না; (হে নবী!) তুমি বলে দাওঃ জাহান্নামের আগুন (এর চেয়ে) অধিকতর গরম, যদি তারা বুঝতে পারতো!
০৮২فَلْيَضْحَكُوا قَلِيلًا وَلْيَبْكُوا كَثِيرًا جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
অতএব, তারা (দুনিয়ায়) সামান্য হেসে নিক কেননা তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে (আখিরাতে) অধিক মাত্রায় কাঁদবে।
০৮৩فَإِن رَّجَعَكَ اللَّهُ إِلَىٰ طَائِفَةٍ مِّنْهُمْ فَاسْتَأْذَنُوكَ لِلْخُرُوجِ فَقُل لَّن تَخْرُجُوا مَعِيَ أَبَدًا وَلَن تُقَاتِلُوا مَعِيَ عَدُوًّا ۖ إِنَّكُمْ رَضِيتُم بِالْقُعُودِ أَوَّلَ مَرَّةٍ فَاقْعُدُوا مَعَ الْخَالِفِينَ
অতঃপর যদি আল্লাহ তোমাকে (মদীনায়) তাদের কোন সম্প্রদায়ের কাছে ফিরিয়ে আনেন, অতঃপর তারা (কোন জিহাদে) বের হতে অনুমতি চায়, তবে তুমি বলে দাওঃ তোমরা কখনো আমার সাথে (কোন জিহাদে) বের হবে না এবং আমার সাথী হয়ে কোন শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধও করবে না; কারণ তোমরা প্রথমবারই বসে থাকাকে পছন্দ করেছিলে, অতএব তোমরা ঐসব লোকের সাথে বসে থাকো যারা পশ্চাদবর্তী থাকার যোগ্য।
০৮৪وَلَا تُصَلِّ عَلَىٰ أَحَدٍ مِّنْهُم مَّاتَ أَبَدًا وَلَا تَقُمْ عَلَىٰ قَبْرِهِ ۖ إِنَّهُمْ كَفَرُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَمَاتُوا وَهُمْ فَاسِقُونَ
(হে রাসূল!) আর তাদের মধ্য হতে কেউ মরে গেলে তার উপর কখনো (জানাযার) নামায পড়বেন না এবং তার কবরের কাছেও দাঁড়াবেন না; তারা আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের সাথে কুফরী করেছে এবং তারা ফাসেকী অবস্থাতেই মৃত্যুবরণ করেছে।
০৮৫وَلَا تُعْجِبْكَ أَمْوَالُهُمْ وَأَوْلَادُهُمْ ۚ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ أَن يُعَذِّبَهُم بِهَا فِي الدُّنْيَا وَتَزْهَقَ أَنفُسُهُمْ وَهُمْ كَافِرُونَ
আর তাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি তোমাকে যেন বিস্মিত না করে; আল্লাহ শুধু এটাই চাচ্ছেন যে, এ সমস্ত বস্তুর কারণে দুনিয়ায় তাদেরকে শাস্তিতে আবদ্ধ রাখেন এবং তাদের প্রাণবায়ু কুফরীর অবস্থাতেই বের হয়।
০৮৬وَإِذَا أُنزِلَتْ سُورَةٌ أَنْ آمِنُوا بِاللَّهِ وَجَاهِدُوا مَعَ رَسُولِهِ اسْتَأْذَنَكَ أُولُو الطَّوْلِ مِنْهُمْ وَقَالُوا ذَرْنَا نَكُن مَّعَ الْقَاعِدِينَ
আর যখনই কুরআনের কোন সূরা (অংশ) বিষয়ে অবতীর্ণ করা হয় যে, তোমরা আল্লাহর উপর ঈমান আন এবং তাঁর রাসূল (সঃ)-এর সাথী জিহাদ কর, তখন তাদের মধ্যকার ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা তোমার কাছে অব্যাহতি চায় ও বলে আমাদেরকে ছেড়ে দিন আমরাও এখানে অবস্থানকারীদের সাথে থেকে যাই।
০৮৭رَضُوا بِأَن يَكُونُوا مَعَ الْخَوَالِفِ وَطُبِعَ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَفْقَهُونَ
তারা অন্তঃপুরবাসিনী নারীদের সাথে থাকতেই সম্মত হল এবং তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর লাগিয়ে দেয়া হল, কাজেই তারা বুঝে না।
০৮৮لَـٰكِنِ الرَّسُولُ وَالَّذِينَ آمَنُوا مَعَهُ جَاهَدُوا بِأَمْوَالِهِمْ وَأَنفُسِهِمْ ۚ وَأُولَـٰئِكَ لَهُمُ الْخَيْرَاتُ ۖ وَأُولَـٰئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ
কিন্তু রাসূল ও তাঁর সাথীদের মধ্যে যারা মু’মিন ছিলো তারা (অবশ্যই এই আদেশ মানলো এবং) নিজেদের ধন-সম্পদ ও প্রাণ দ্বারা জিহাদ করলো; আর তাদেরই জন্যে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ এবং তারাই হচ্ছে সফলকাম।
০৮৯أَعَدَّ اللَّهُ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
আল্লাহ তাদের জন্যে এমন জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন যেগুলোর নিম্নদেশ দিয়ে নহরসমূহ বয়ে চলবে, আর তারা ওর মধ্যে অনন্তকাল অবস্থান করবে; এটা হচ্ছে (তাদের) বিরাট সফলতা।
০৯০وَجَاءَ الْمُعَذِّرُونَ مِنَ الْأَعْرَابِ لِيُؤْذَنَ لَهُمْ وَقَعَدَ الَّذِينَ كَذَبُوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ سَيُصِيبُ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
আর আরব গ্রামবাসীদের মধ্যে হতে কতিপয় বাহানাকারী লোক আসলো, যেন তাদের অনুমতি দেয়া হয়, আর যারা আল্লাহর সাথে ও তাঁর রাসূলের সাথে সম্পূর্ণরূপেই মিথ্যা বলেছিল, তারা একেবারেই বসে রইলঃ তাদের মধ্যে যেসব লোক কাফির থাকবে, তাদের যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি হবে।
০৯১لَّيْسَ عَلَى الضُّعَفَاءِ وَلَا عَلَى الْمَرْضَىٰ وَلَا عَلَى الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ مَا يُنفِقُونَ حَرَجٌ إِذَا نَصَحُوا لِلَّهِ وَرَسُولِهِ ۚ مَا عَلَى الْمُحْسِنِينَ مِن سَبِيلٍ ۚ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
দুর্বল লোকদের উপর কোন গুনাহ নেই, আর না রুগ্নদের উপর, আর না ঐসব লোকের উপর যাদের খরচ করার সামর্থ্য নেই, যদি এসব লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি নিষ্ঠা রাখে (এবং আন্তরিকতার সাথে আনুগত্য স্বীকার করে); এসব সৎ লোকের প্রতি কোন প্রকার অভিযোগ নেই; আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।
০৯২وَلَا عَلَى الَّذِينَ إِذَا مَا أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَا أَجِدُ مَا أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ تَوَلَّوا وَّأَعْيُنُهُمْ تَفِيضُ مِنَ الدَّمْعِ حَزَنًا أَلَّا يَجِدُوا مَا يُنفِقُونَ
আর ঐ লোকদের উপরও কোন গোনাহ নেই, যখন তারা তোমার নিকট এই উদ্দেশ্যে আসে যে, তুমি তাদেরকে বাহন দান করবে, আর তুমি বলে দিয়েছো আমার নিকট তো কোন কিছু নেই যার উপর আমি তোমাদেরকে আরোহণ করাই, তখন তারা এমন অবস্থায় ফিরে যায় যে, তাদের চক্ষুসমূহ হতে অশ্রু বইতে থাকে এ অনুতাপে যে, তাদের ব্যয় করার মত কোন সম্বল নেই।
০৯৩إِنَّمَا السَّبِيلُ عَلَى الَّذِينَ يَسْتَأْذِنُونَكَ وَهُمْ أَغْنِيَاءُ ۚ رَضُوا بِأَن يَكُونُوا مَعَ الْخَوَالِفِ وَطَبَعَ اللَّهُ عَلَىٰ قُلُوبِهِمْ فَهُمْ لَا يَعْلَمُونَ
অভিযোগ তো শুধুমাত্র ঐ লোকদের উপরই যারা সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও (যুদ্ধে গমন না করার) অনুমতি চাচ্ছে, তারা অন্তঃপুরবাসিনী মহিলাদের সাথে থাকতে সম্মত হয়ে গেল এবং আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর মেরে দিলেন, কাজেই তারা (পাপ-পুণ্যকে) জানেই না।
০৯৪يَعْتَذِرُونَ إِلَيْكُمْ إِذَا رَجَعْتُمْ إِلَيْهِمْ ۚ قُل لَّا تَعْتَذِرُوا لَن نُّؤْمِنَ لَكُمْ قَدْ نَبَّأَنَا اللَّهُ مِنْ أَخْبَارِكُمْ ۚ وَسَيَرَى اللَّهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُولُهُ ثُمَّ تُرَدُّونَ إِلَىٰ عَالِمِ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ فَيُنَبِّئُكُم بِمَا كُنتُمْ تَعْمَلُونَ
তারা তোমাদের কাছে ওযর পেশ করবে যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে যাবে; (হে নবী সঃ) তুমি বলে দাওঃ তোমরা ওযর পেশ করো না, আমরা কখনো তোমাদেরকে সত্যবাদী বলে মনে করবো না, আল্লাহ আমাদেরকে তোমাদের (জিহাদে না যাওয়ার) বৃত্তান্ত জানিয়ে দিয়েছেন, আর ভবিষ্যতেও আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল তোমাদের কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ করবেন, অতঃপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে এমন সত্তার কাছে যিনি অদৃশ্য এবং প্রকাশ্য সকল বিষয়ই অবগত আছেন, অনন্তর তিনি তোমাদেরকে জানিয়ে দিবেন যা কিছু তোমরা করেছিলে।
০৯৫سَيَحْلِفُونَ بِاللَّهِ لَكُمْ إِذَا انقَلَبْتُمْ إِلَيْهِمْ لِتُعْرِضُوا عَنْهُمْ ۖ فَأَعْرِضُوا عَنْهُمْ ۖ إِنَّهُمْ رِجْسٌ ۖ وَمَأْوَاهُمْ جَهَنَّمُ جَزَاءً بِمَا كَانُوا يَكْسِبُونَ
(হ্যাঁ,) তারা তখন তোমাদের সামনে শপথ করে বলবে, যখন তোমরা তাদের কাছে ফিরে যাবে, যেন তোমরা তাদেরকে তাদের অবস্থার উপর ছেড়ে দাও; অতএব তোমরা তাদেরকে তাদের অবস্থার উপর ছেড়েই দাও; তারা হচ্ছে অতিশয় অপবিত্র, আর তাদের ঠিকানা হচ্ছে জাহান্নাম, ঐসব কর্মের বিনিময়ে যা তারা করতো।
০৯৬يَحْلِفُونَ لَكُمْ لِتَرْضَوْا عَنْهُمْ ۖ فَإِن تَرْضَوْا عَنْهُمْ فَإِنَّ اللَّهَ لَا يَرْضَىٰ عَنِ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ
তারা এজন্য শপথ করবে যেন তোমরা তাদের প্রতি রাজী হয়ে যাও, অনন্তর যদি তোমরা তাদের প্রতি রাজী হয়ে যাও তবে আল্লাহ তো এমন দুষ্কর্মকারী লোকদের প্রতি রাজী হন না।
০৯৭الْأَعْرَابُ أَشَدُّ كُفْرًا وَنِفَاقًا وَأَجْدَرُ أَلَّا يَعْلَمُوا حُدُودَ مَا أَنزَلَ اللَّهُ عَلَىٰ رَسُولِهِ ۗ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ
বেদুঈন লোকেরা কুফরী ও কপটতায় অতি কঠোর, আর এটাই স্বাভাবিক কেননা তাদের ঐসব আহকামের জ্ঞান নাই যা আল্লাহ তাঁর রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন; আর আল্লাহ হচ্ছেন মহাজ্ঞানী, অতি প্রজ্ঞাময়।
০৯৮وَمِنَ الْأَعْرَابِ مَن يَتَّخِذُ مَا يُنفِقُ مَغْرَمًا وَيَتَرَبَّصُ بِكُمُ الدَّوَائِرَ ۚ عَلَيْهِمْ دَائِرَةُ السَّوْءِ ۗ وَاللَّهُ سَمِيعٌ عَلِيمٌ
আর এই বেদুঈনদের মধ্যে এমন লোক রয়েছে যে, তারা যা কিছু ব্যয় করে তা জরিমানা মনে করে এবং তোমাদের প্রতি (কালের) আবর্তনসমূহের প্রতীক্ষায় থাকে; (বস্তুতঃ) অশুভ আবর্তন তাদের উপরই হয়, আর আল্লাহ খুব শুনেন, খুব জানেন।
০৯৯وَمِنَ الْأَعْرَابِ مَن يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ وَيَتَّخِذُ مَا يُنفِقُ قُرُبَاتٍ عِندَ اللَّهِ وَصَلَوَاتِ الرَّسُولِ ۚ أَلَا إِنَّهَا قُرْبَةٌ لَّهُمْ ۚ سَيُدْخِلُهُمُ اللَّهُ فِي رَحْمَتِهِ ۗ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَّحِيمٌ
আর বেদুঈনদের মধ্যে কতিপয় লোক এমনও আছে, যারা আল্লাহর প্রতি এবং কিয়ামত দিবসের প্রতি (পূরণ) ঈমান রাখে, আর যা কিছু ব্যয় করে ওকে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের উপকরণরূপে গ্রহণ করে; স্মরণ রাখো! তাদের এই ব্যয়কার্য নিঃসন্দেহে তাদের জন্যে (আল্লাহর) নৈকট্য লাভের কারণ; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাদেরকে নিজের রহমতে দাখিল করে নিবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ হচ্ছেন অতি ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।
১০০وَالسَّابِقُونَ الْأَوَّلُونَ مِنَ الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنصَارِ وَالَّذِينَ اتَّبَعُوهُم بِإِحْسَانٍ رَّضِيَ اللَّهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ وَأَعَدَّ لَهُمْ جَنَّاتٍ تَجْرِي تَحْتَهَا الْأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ۚ ذَٰلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
আর যেসব মুহাজির ও আনসার (ঈমান আনয়নে) অগ্রবর্তী এবং প্রথম, আর যেসব লোক একান্ত নিষ্ঠার সাথে তাদের অনুগামী, আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও তাঁর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন, আর আল্লাহ তাদের জন্যে এমন উদ্যানসমূহ প্রস্তুত করে রেখেছেন যার তলদেশে নহরসমূহ বইতে থাকবে, যার মধ্যে তারা চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে, তা হচ্ছে বিরাট কৃতকার্যতা।
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x