শ্লোকঃ ৪০

নেহাভিক্রমনাশোহস্তি প্রত্যবায়ো ন বিদ্যতে।

স্বল্পপ্যস্য ধর্মস্য ত্রায়তে মহতো ভয়াৎ ।। ৪০ ।।

ন- নেই; ইহ- এই যোগে; অভিক্রম- প্রচেষ্টা; নাশ- বিনাশ; অস্তি- আছে; প্রত্যবায়ঃ- হ্রাস; ন বিদ্যতে- হয় না; স্বল্পম- অল্প; অপি- যদিও; অস্য- এই; ধর্মস্য- ধর্মের; ত্রায়তে- ত্রাণ করে; মহতঃ- মহা; ভয়াৎ- ভয় থেকে।

গীতার গান

ক্ষয় ব্যয় নাহি নাশ সে কার্য সাধনে।

যাহা পার করে যাও সঞ্চয় এ ধনে।।

স্বল্প মাত্র হয় যদি সে ধর্ম সাধন।

মহাভয় হতে রক্ষা পাইবে তখন।।

অনুবাদঃ ভক্তিযোগের অনুশীলন কখনো ব্যর্থ হয় না তার কোনও ক্ষয় নেই। তার স্বল্প অনুষ্ঠানও অনুষ্ঠাতাকে সংসাররূপ মহাভয় থেকে পরিত্রাণ করে।

তাৎপর্যঃ নিজের সুখ-সুবিধার কথা বিবেচনা না করে কৃষ্ণভাবনাময় কর্ম বা শ্রীকৃষ্ণের সেবা করাই হচ্ছে সবচেয়ে মহৎ কাজ। কেউ যদি একটু একটু করেও ভগবানের সেবা করতে শুরু করে, তাতেও কোন ক্ষতি নেই এবং ভগবানের এই সেবা যত নগণ্যই হোক না কেন, কোন অবস্থাতেই তা বিফলে যায় না। জড়-জাগতিক স্তরে যে কোন কাজকর্ম যতক্ষণ পর্যন্ত সুসম্পন্ন না হচ্ছে, ততক্ষণ তার কোন তাৎপর্যই থাকে না। কিন্তু অপ্রাকৃত কর্ম বা ভগবৎ-সেবা সুসম্পন্ন না হলেও, বিফলে যায় না- তার সুফল চিরস্থায়ী হয়ে থাকে। ভগবানের সেবা একবার যে শুরু করেছে, তার আর বিপথগামী হবার কোন সম্ভাবনা থাকে না। এক জন্মে যদি তার ভগবদ্ভক্তি সম্পূর্ণ নাও হয়, তবে তার প্রের জন্মে সে যেখানে শেষ করেছিল, সেখান থেকে আবার শুরু করবে। এভাবেই ভগবদ্ভক্তির ফল চিরস্থায়ী থাকে বলে ক্রমান্বয়ে জীবকে মায়ামুক্ত করে। শ্রীমদ্ভাগবতে অজামিলের কাহিনীর মাধ্যমে আমরা জানতে পারি, খানিকটা ভগবদ্ভক্তি সাধন করে, অধঃপতিত হওয়া স্বত্বেও সে ভগবানের অহৈতুকী কৃপা লাভ করে উদ্ধার পেয়ে যায়। এই সম্পর্কে শ্রীমদ্ভাগবতে (১/৫/১৭) একটি সুন্দর শ্লোক আছে-

ত্যক্তা স্বধর্মং চরণাম্বুজং হরে-

ভজন্নপকোহথ পতেত্ততো যদি।

যত্র ক বাভদ্রমভূদমুষ্য কিং

কো বার্থ আপ্তোহভজতাং স্বধর্মতঃ।।

“যদি কেউ তার স্বীয় কর্তব্যকর্ম ত্যাগ করে ভগবানের শ্রীচরণাম্বুজের সেবা করে এবং সেই ভগবৎ-সেবা সম্পূর্ণ না করে অধঃপতিত হয়, তাতে ক্ষতি কি? আর যদি কেউ জড়-জাগতিক সমস্ত কর্তব্যকর্ম সুসম্পন্ন করে তাতে তার কি লাভ?” কিংবা, যেমন খ্রিষ্টধর্মীরা বলে থাকেন, “কোনও মানুষ সমগ্র পৃথিবী লাভ করেও যদি তার শাশ্বত আত্মাকেই হারিয়ে ফেলে, তবে তার কি লাভ?”

জড় দেহের বিনাশের সঙ্গে সঙ্গে সব রকম জড়-জাগতিক প্রচেষ্টা এবং সেই সমস্ত প্রচেষ্টালব্ধ ফল, সব কিছুরই বিনাশ ঘটে। কিন্তু ভগবানের সেবায় মানুষ যে সব কাজকর্ম করে, তার ফলে সে আবার আরও ভালভাবে ভগবানের সেবা করবার সুযোগ পায়, এমন কি দেহের বিনাশ হলেও। ভগবানের সেবাকার্য সম্পূর্ণ না করে যদি কেউ দেহত্যাগ করে, তবে পরজন্মে সে আবার মনুষ্যজন্ম লাভ করে। সৎ ব্রাক্ষ্মণ অথবা প্রতিপত্তিশালী সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম লাভ করে সে আবার তার অসম্পূর্ণ ভগবদ্ভক্তিকে সম্পূর্ণ করে ভগবানের কাছে ফিরে যাবার সুযোগ পায়। কৃষ্ণভাবনাময় কর্মে আত্মনিয়োগ করার এই হচ্ছে অতুলনীয় বৈশিষ্ট্য।

শ্লোকঃ ৪১

ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধিরেকেহ কুরুন্নদন।

বহুশাখা হ্যনন্তাশ্চ বুদ্ধয়োহব্যবসায়িনাম ।। ৪১ ।।

ব্যবসায়াত্মিকা- নিশ্চয়াত্মিকা কৃষ্ণভক্তি; বুদ্ধিঃ- বুদ্ধি; একা- একটি মাত্র; ইহ- এই জগতে; কুরুন্নদন- হে কুরুবংশীয়; বহুশাখা- বহু শাখায় বিভক্ত; হি- যেহেতু; অনন্তাঃ- অনন্ত; চ- এবং; বুদ্ধয়ঃ- বুদ্ধি; অব্যবসায়িনাম- ক্রিষ্ণভক্তিবিহীন ব্যক্তিদের।

গীতার গান

ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধি হে কুরুনন্দন।

একমাত্র হয় তাহা বহু না কখন।।

অনন্ত অপার সে অব্যবসায়ী হয়।

বহু শাখা বিস্তারিত কে করে নির্ণয়।।

অনুবাদঃ যারা এই পথ অবলম্বন করেছে তাঁদের নিশ্চয়াত্মিকা বুদ্ধি একনিষ্ট, হে কুরুনন্দন, অস্থিরচিত্ত সকাম ব্যক্তিদের বুদ্ধি বহু শাখাবিশিষ্ট ও বহুমুখী।

তাৎপর্যঃ কৃষ্ণভাবনাময় ভক্ত নিঃশঙ্কচিত্তে বিশ্বাস করেন যে, ভক্তি সহকারে ভগবানের সেবা করলে, ভগবান তাঁকে এই জড় জগতের বন্ধনমুক্ত করে ভগবৎ-ধামে তাঁর নিজের কাছে নিয়ে যাবেন। এই বিশ্বাসকে বলা হয় ব্যবসায়াত্মিকা বুদ্ধি। শ্রীচৈতন্য-চরিতামৃতে (মধ্য ২২/৬২) বলা হয়েছে-

‘শ্রদ্ধা’- শব্দে – বিশ্বাস কহে সুদৃঢ় নিশ্চয়।

কৃষ্ণে ভক্তি কৈলে সর্বকর্ম কৃত হয়।।

বিশ্বাস মানে কোনও সুমহান বিষয়ে অবিচল আস্থা। সাধারণ অবস্থায় মানুষের নানা রকম দায়-দায়িত্ব থাকে। তার পরিবারের কাছে, সমাজের কাছে, দেশের কাছে, তার কোন না কোন রকম কর্তব্য থাকে। এভাবে মনুষ্য-সমাজ সকলের কাছ থেকেই কোন না কোন রকম কর্তব্য দাবি করে থাকে। আর মানুষও তার পূর্বকৃত ভাল-মন্দ কর্মের ফল অনুসারে জীবন অতিবাহিত করতে থাকে। কিন্তু যখন মানুষ ভগবৎ-সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করে, তখন আর তাকে সৎ কর্ম করে শুভ ফল লাভের প্রত্যাশী হতে হয় না, অথবা অসৎ কর্ম করে তার অশুভ ফল ভোগ করার ভয়ে ভীত হতে হয় না। কারণ, ভগবৎ-সেবা হচ্ছে অপ্রাকৃত কর্ম, তা ভাল-মন্দ, শুভ-অশুভ, এই সব দ্বন্দ্বের অতীত। ভক্তিযোগের সর্বোচ্চ স্তরে উপনীত হলে জড় জগতের সঙ্গে আর কোন সম্পর্ক থাকে না- একেই বলে বৈরাগ্য। ভগবদ্ভক্তির বিকাশ হতে থাকলে, ভগবানের কৃপার ফলেই এক সময় এই স্তরে উপনীত হওয়া যায়।

কৃষ্ণভাবনায় কোন ব্যক্তির নিশ্চয়াত্মিকা কৃষ্ণভক্তির ভিত্তি হচ্ছে জ্ঞান। পরম তত্ত্বজ্ঞান উপলব্ধি করার পরই ভক্ত ভগবানের চরণে নিজেকে সমর্পণ করেন। বাসুদেবঃ সর্বমিতি স মহাত্ম সুদুর্লভঃ- একজন কৃষ্ণভাবনাময় ব্যক্তি দুর্লভ মহাত্মা এবং তিনি জ্ঞানের মাধ্যমে বুঝতে পারেন, বাসুদেব বা শ্রীকৃষ্ণই হচ্ছেন সর্ব কারণের মূল। কারণ, তিনিই হচ্ছেন সমস্ত কিছুর উৎস। গাছের গোড়ায় জল দিলে যেমন সারা গাছকেই জল দেওয়া হয়, তেমনই, সব কিছুর উৎস ভগবানের সেবা করলে আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব, সমাজ, জাতি আদি সকলেরই সেবা করা হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যদি তুষ্ট হন, তা হলে সকলেই সন্তুষ্ট হবেন।

সদগুরুর সুদক্ষ তত্ত্বাধানে এবং তাঁর নির্দেশ অনুসারে ভক্তিযোগের অনুশীলন করাই হচ্ছে মানব-জীবনের পরম কর্তব্যকর্ম। সদগুরু হচ্ছেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের সুযোগ্য প্রতিনিধি। তিনি তাঁর শিষ্যের মনোভাব বুঝতে পারেন এবং সেই অনুযায়ী তিনি তাকে ভগবানের সেবায় নিয়োজিত করেন। তাই, সুষ্ঠুভাবে ভক্তিযোগ সাধন করতে হলে ভগবানের প্রতিনিধি গুরুদেবের নির্দেশ শিরোধার্য করে এবং তাঁর আদেশকে জীবনের একমাত্র কর্তব্য বলে মনে করে তা পালন করতে হবে। শ্রীল বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ঠাকুর শ্রীগুর্বষ্টকে বলেছেন-

যস্য প্রসাদাদ্ভগবৎপ্রসাদো

যস্যাপ্রসাদান্ন গতিঃ কুতোহপি।

ধ্যায়ংস্তুবংস্তস্য যশস্ত্রিসন্ধ্যং

বন্দে গুরোঃ শ্রীচরণারবিন্দম।।

“গুরুদেব সন্তুষ্ট হলে ভগবান সন্তুষ্ট হন এবং গুরুদেবকে সন্তুষ্ট না করতে পারলে কখনোই ভগবদ্ভক্তি লাভ করা যায় না। তাই ত্রিসন্ধ্যায় আমি আমার পরমারাধ্য গুরুদেবের কীর্তিসমূহ ধ্যান করি, স্তব করি এবং তাঁর শ্রীচরণারবিন্দের বন্দনা করি।“

দেহাত্মবুদ্ধি পরিত্যাগ করে আত্ম-তত্ত্বজ্ঞান লাভ করার ফলে ভক্তের হৃদয়ে ভগবদ্ভক্তির উন্মেষ হয় এবং তখন তিনি সর্বান্তঃকরণে ভগবানের সেবায় ব্রতী হন। এই আত্ম-তত্ত্বজ্ঞান জানলেই কেবল শুদ্ধ ভগবদ্ভক্ত হওয়া যায় না- পূর্ণরূপে তার উপলব্ধি এবং আচরণ করার  মাধ্যমেই কেবল শুদ্ধ ভগবদ্ভক্তির বিকাশ হয়। যে মানুষের মন চঞ্চল ও বুদ্ধি অপরিণত, তার পক্ষে ভগবদ্ভক্তি সাধন করা সম্ভব নয়। কারণ, সে সকাম কর্মের দ্বারা অতিমাত্রায় প্রভাবিত থাকার ফলে সম্পূর্ণ নিষ্মাম ভগবদ্ভক্তির মর্ম উপলব্ধি করতে পারে না।

শ্লোকঃ ৪২-৪৩

যামিমাং পুষ্পিতাং বাচং প্রবদন্ত্যবিপশ্চিতঃ।

বেদবাদরতাঃ পার্থ নান্যদস্তীতি বাদিনঃ ।। ৪২ ।।

কামাত্মানঃ স্বর্গপরা জন্মকর্মফলপ্রদাম।

ক্রিয়াবিশেষবহুলাং ভোগৈশ্চর্যগতিং প্রতি ।। ৪৩ ।।

যাম ইমাম- এই সমস্ত; পুষ্পিতাম- পুষ্পিত; বাচম- বাক্য; প্রবদন্তি- বলে; অবিপশ্চিতঃ- অবিবেকী মানুষ; বেদবাদরতাঃ- বেদের তথাকথিত অনুগামী; পার্থ- হে পৃথাপুত্র; ন- না; অন্যৎ- অন্য কিছু; অস্তি- আছে; ইতি- এভাবে; বাদিনঃ- মতবাদী; কামাত্মানঃ- কামনাযুক্ত; স্বর্গপরাঃ- স্বর্গ লাভই যাদের প্রধান উদ্দেশ্য; জন্মকর্মফলপ্রদাম- জন্মরূপ কর্মফলপ্রদ; ক্রিয়াবিশেষ- আড়ম্বরপূর্ণ ক্রিয়াকলাপ; বহুলাম- বিবিধ; ভোগ- ইন্দ্রিয়সুখ ভোগ; ঐশ্চর্য- ঐশ্চর্য; গতিম- প্রগতি; প্রতি- প্রতি।

গীতার গান

পুষ্পের সাজনে যাহা ইষ্ট মিষ্ট কথা।

কর্মীর হৃদয় তাহা করে প্রফুল্লিতা।।

সেই বেদ বাদী সব ভোগের কারণ।

যথাসর্ব সেই কথা করয়ে বরণ।।

মূর্খ সেই ভোগবাদী আপাত মধুর।

দত্তচিত্ত হয়ে যায় আসলে ফতুর।।

কামাত্মনা লোক সব স্বর্গভোগ চায়।

কর্মফল ভোগলিপ্সা আর না বুঝয়।।

আড়ম্বরে ভুলে যায় ভোগৈশ্চর্য চায়।

বুদ্ধিযোগ এক লক্ষ্য তাহা না মানয়।।

অনুবাদঃ বিবেকবর্জিত লোকেরাই বেদের পুষ্পিত বাক্যে আসক্ত হয়ে স্বর্গসুখ ভোগ, উচ্চকুলে জন্ম, ক্ষমতা লাভ আদি সকাম কর্মকেই জীবনের চরম উদ্দেশ্য বলে মনে করে। ইন্দ্রিয়সুখ ভোগ ও ঐশ্চর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা বলে যে, তার ঊর্ধ্বে আর কিছুই নেই।

তাৎপর্যঃ সাধারণত মানুষ অল্পবুদ্ধিসম্পন্ন এবং তাঁদের মূর্খতার ফলে তারা বেদের কর্মকান্ডে বর্ণিত সকাম কর্মের প্রতি বিশেষভাবে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে। ভোগ ও ঐশ্চর্যে পরিপূর্ণ স্বর্গলোকে গিয়ে ইন্দ্রিয়ের চরম তৃপ্তিসাধন করাই হচ্ছে তাঁদের পরম কাম্য। বেদে স্বর্গলোকে যাবার জন্য নানা রকম যজ্ঞের বিধান দেওয়া আছে, তার মধ্যে ‘জ্যোতিষ্টোম’ যজ্ঞ বিশেষভাবে ফলপ্রদ। বাস্তবিকই যে মানুষ স্বর্গলোকে যেতে চায়, তার পক্ষে এই সমস্ত যজ্ঞগুলি সম্পাদন করা অবশ্য কর্তব্য। তাই অল্পবুদ্ধি-সম্পন্ন মানুষেরা মনে করে, এটিই হচ্ছে বৈদিক জ্ঞানের চরম শিক্ষা। এই প্রকার অনভিজ্ঞ লোকদের পক্ষে একাগ্রচিত্তে ভগবদ্ভক্তি সাধন করা সম্ভবপর হয় না। মূর্খ যেমন বিষ-বৃক্ষের ফল দেখে লালায়িত হয়, তেমনই অপরিণত বুদ্ধিসম্পন্ন লোকেরা স্বর্গলোকের ঐশ্চর্যের দ্বারা প্রলোভিত হয়ে তা ভোগ করবার বাসনায় লালায়িত হয়।

বেদের কর্মকান্ডে উল্লেখ আছে- অপাম সোমমমৃতা অভুম। এ ছাড়া আরও উল্লেখ আছে- অক্ষয্যং হ বৈ চাতুর্মাস্যযাজিনঃ সুকৃতং ভবতি। এর মানে, চাতুর্মাস্য ব্রত পালন করলে মানুষ স্বর্গলোকে গিয়ে সোমরস পান করে অমরত্ব লাভ করে এবং চিরকালের জন্য সুখী হতে পারে। এমন কি এই পৃথিবীতেও বহু লোক আছে, যারা সোমরস পান করার জন্য নিতান্ত উৎসুক। কারণ, সোমরস পান করে বল ও বীর্য বর্ধন করে কিভাবে আরও বেশি করে ইন্দ্রিয়সুখ উপভোগ করতে পারবে, সেটিই তাঁদের একমাত্র কাম্য। এই জড় জগতের বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে এরা ভগবানের কাছে ফিরে যেতে চায় না। এদের সীমিত বুদ্ধিতে এরা উপলব্ধি করতে পারে না যে, ভগবৎ-ধামে ফিরে যাওয়ার যে আনন্দ, তার তুলনায় স্বর্গসুখ নিতান্তই তুচ্ছ। তাই, তারা আড়ম্বরপূর্ণ বৈদিক যাগযজ্ঞের প্রতি বিশেষভাবে আসক্ত। এই ধরণের লোকেরা অত্যন্ত ইন্দ্রিয়-পরায়ণ, তাই তারা ইন্দ্রিয়-সুখের চরম স্তর স্বর্গলোকের অতীত যে আর কিছু থাকতে পারে, তা বুঝতে পারে না। মনে করে, স্বর্গের নন্দন-কাননে সোমরস পান করে অপরূপ রূপসী অপ্সরাদের সঙ্গ করে ইন্দ্রিয়সুখ উপভোগই হচ্ছে চরম প্রাপ্তি। এই প্রকার দৈহিক সুখ নিঃসন্দেহে ইন্দ্রিয়জাত; তাই যারা এই প্রকার জাগতিক অস্থায়ী সুখের প্রতি আসক্ত, তারা নিজেদেরকে পার্থিব জগতের প্রভু বলে মনে করে।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x