কোলের ছোট্ট বাচ্চাদের ঘুম পাড়ানোর কৌশল ও সম্মোহন-ঘুম পাড়ানোর কৌশল কিন্তু অনেকটা একই ধরনের। শিশুদের ঘুম পাড়ানো হয় একটানা একঘেয়ে সুরে গান গেয়ে। সম্মোহন-ঘুমের জন্যেও সম্মোহনকারী প্রায় একই ধরনের পদ্ধতির আশ্রয় নেয়। সম্মোহনকারী যাকে সম্মোহন করতে চায়, তাকে শুইয়ে দেয় একটা সুন্দর নরম-সরম ছিমছাম বিছানায়। নরম বালিশে মাথা রেখে সারা শরীরটাকে হালকাভাবে ছড়িয়ে চিত হয়ে শুয়ে থাকেন রোগী। ঘরে জ্বলে খুব  কম শক্তির নাইটল্যাম্প।

সম্মোহনকারী ধীরে-ধীরে কিছুটা সুর করে টেনে-টেনে বলতে থাকেন, “আপনি এখন ঘুমিয়ে পড়ুন, ঘুমিয়ে পড়ুন। আপনার ঘুম আসছে। আপনার চোখের পাতা ভারী হয়ে যাচ্ছে। কপালের ও গালের পেশী শিথিল হয়ে যাচ্ছে। ঘাড়ের পেশী শিথিল হয়ে যাচ্ছে। এমনি করে হাত, বুক, পেট, কোমর, পা ইত্যাদি অঙ্গ শিথিল হয়ে যাচ্ছে, অবশ হয়ে আসছে। আপনার ঘুম আসছে, গভীর ঘুম আসছে।

…বাইরের সব শব্দ আপনার কাছে অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বাইরের গাড়ির শব্দ, ট্রামের শব্দ, কোন শব্দই আপনার কানে যাচ্ছে না। আমার কথা ছাড়া অন্য কোন শব্দ আপনি শুনতে পাচ্ছেন না। … আপনার হাত-পা ভারী হয়ে গেছে। ঘুম আসছে…” সম্মোহনকারী টানা-টানা একঘেয়ে সুরে বলে যেতে থাকে। এই কথাগুলো শুনতে শুনতে সম্মোহনের ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন শুয়ে-থাকা ব্যক্তি।

সম্মোহিত ব্যক্তির উদ্দেশ্যে সম্মোহনকারীর এই কথা বা নির্দেশগুলোজে বলা হয় ‘Suggestion’, বাংলায় অনুবাদ করে বলতে পারি ‘ধারণাসঞ্চার’ বা ‘চিন্তাসঞ্চার’।

অবশ্য আরও অনেক পদ্ধতির সাহায্যেই সম্মোহন-ঘুম আনা সম্ভব। যে কোন ইন্দ্রিয়কে মৃদু উদ্দীপনায় উত্তেজিত করলেই ঘুম আসবে।

পাভলভ ও ফ্রয়েড দু’জনেই সম্মোহিত অবস্থাকে এক ধরনের ঘুম্নত অবস্থা বলেই মত প্রকাশ করেছিলেন। সম্মোহন সম্বন্ধে জানতে গেলে ঘুম সম্বন্ধে দু-একটা কথা জানা খুবই প্রয়োজন, কারণ, ঘুম আর সম্মোহন ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x