সম্মোহন কিভাবে করবেন –তা জানার আগে সম্মোহন নিয়ে আরও একটু আলোচনা করে নিলে ভালো হয়।

আমরা চিন্তা করি মস্তিষ্ক-স্নায়ুকোষের সাহায্যে। অর্থাৎ, আমাদের চিন্তা-ভাবনা হল মস্তিষ্ক-স্নায়ুকোষের কাজ-কর্মের ফল। ‘সম্মোহন’ হল মস্তিষ্ক-স্নায়ুকোষে কোনও একটা ধারণাকে সঞ্চারিত করা বা পাঠান। এ’কথা আগেই আলোচনা করেছি।

মনে করুন টিভি’তে ‘জুরাসিক পার্ক’ দেখছেন। দেখতে দেখতে এতটাই মগ্ন যে, বাইরের জগতের সঙ্গে আপনার চেতনার সম্পর্কটা গেছে ছিন্ন হয়ে। সমস্ত চিন্তাচেতনা জুড়ে শুধু ছবির জগৎ, ডাইনোসরদের ঘিরে রোমাঞ্চকর সব কান্ডকারখানা। মা কাঁধ ধরে ধাক্কা দেওয়ায় মগ্নতা ভঙ্গ হল। “কি রে? তখন থেকে কলিংবেল বেজে যাচ্ছে হুঁশ নেই যা, তলায় দরজাটা খুলে দিয়ে আয়।“

মা’র কথাগুলো শুনতে শুনতেই কানে আসতে লাগলো কলিংবেলের আওয়াজ। আশ্চর্য! অথচ মা’র কাছ থেকে ধাক্কা খাওয়ার আগেও এই আওয়াজ হচ্ছিল। কিন্তু খেয়ালই করতে পারেননি। টিভির দিকে গভীর মনঃসংযোগের জন্যে টিভির বাইরের জগতের সঙ্গে মনের যোগাযোগ ছিন্ন হওয়ার পরিণতিতেই এমনটা হয়েছে।

মনে করুন ফুটবল খেলার দিনগুলোর কথা। খেলা শেষ হওয়ার পর এক সময় আপনার খেয়াল হয়েছে পায়ের ক্ষতের দিকে। খেলার দিকে মনোযোগ এতটাই ছিল যে তখন এই আঘাতের কথা খেয়ালই হয়নি। তারপর পায়ে ব্যথা অনুভব করায় এতক্ষণে নজরে এসেছে ক্ষত।

এই যে দু’টি উদাহরণ হাজির করলাম, তার থেকে একটা জিনিস নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন; কোনও কিছুতে গভীরভাবে মনঃসংযোগ করলে পারিপার্শ্বিক অপরাপর বিষয়ে মনঃসংযোগ শিথিল হয়।

সম্মোহন করার সময় একজন সম্মোহন করে এবং অপরজন সম্মোহিত হয়।

দু’জনেরই গভীর মনঃসংযোগের প্রয়জন হয়। সে মনঃসংযোগ সম্মোহিতের জ্ঞাতসারে না হয়ে অজ্ঞাতসারে হতে পারে। কিন্তু মনঃসংযোগবিহীন সম্মোহন কখনই সম্ভব নয়।

‘অজ্ঞাতসারে মনঃসংযোগ’ কথাটা শুনে যারা হোঁচট খেয়েছেন, ওদের বোঝাতে একটি উদাহরণ হাজির করছি।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x