এ যাবত প্রশ্নগুলোর তত্ত্বগত মূল্য সম্বন্ধে আমি সন্দিহান থাকায়, এ নিয়ে সুধী সমাজের কোন ব্যক্তির সাথে আলোচনা করতে কুন্ঠাবোধ করছি। কিন্তু উহা অনেকটা কেটে গেল, যখন এস,পি, মহিউদ্দিন সাহেব আমার প্রশ্ন গুলোকে “বাহুল্য প্রশ্ন” বলে আখ্যায়িত করলেন না। তৎপরে তালিকা খানা অধ্যাপক কাজী গোলাম কাদির সাহেবকে দেখতে দিয়ে ওগুলো সম্বন্ধে তাঁর মতামত জানাতে চাইলাম (৩/২/৫৯)। তিনি পরবর্তী ৭/২/৫৯ তারিখে বেলা ৩টায় বরিশাল মটর এসোসিয়েশনের কার্যালয়ে এ বিষয় বিস্তারিত আলোচনার জন্যে বসবার প্রতিশ্রুতি দিলেন।

নির্দিষ্ট (৭/২/৫৯) সময়ে যথাস্থানে আলোচনা শুরু হল এবং কাজী সাহেব উৎসাহের সহিত ৩-৫-৩০টা পর্যন্ত আলোচনা করলেন। অতঃপর উভয়ে একত্র হয়ে বেলস পার্কে গেলাম ফুটবল খেলা দেখতে। কিন্তু কার্যতঃ খেলা দেখা হ’ল না। রাস্তার পার্শ্বস্থ পান্থ-আসনে উপবেশন করে বিবিধ আলোচনায় সন্ধ্যা ৭টা বেজে গেল। স্থির হল আগামী ১০/২/৫৯ তারিখে পুনঃ আলোচনা হবে।

নির্ধারিত (১০/২/৫৯) তারিখে রাত ৭টায় কাজী সাহেবের বাসায় বসে পুনঃ আলোচনা শুরু হয়ে ১০-৩০টা পর্যন্ত আলোচনা চললো। তিনি আমাকে- কয়েকটি প্রশ্ন বাদ দিতে, কয়েকটি নতুন প্রশ্ন সংযোজন ও কতিপয় শব্দ পরিবর্তনের উপদেশ দিলেন।

কাজী সাহেবের উপদেশ মতে পান্ডুলিপি সংশোধন করে উহা পুনঃ তাঁকে দেখতে দিলাম (১১/৩/৫৯)। আমার লিখিত প্রশ্নগুলোর শ্রেণী বিভাগ ও কোন রূপ শৃঙ্খলা ছিল না। তিনি এলোমেলো প্রশ্ন গুলোর শ্রেণী বিভাগ ও শৃঙ্খলাবদ্ধ করে লেখতে উপদেশ দিলে আমি সে কাজটির জন্য তাঁকে অনুরোধ জানালাম এবং তিনি তাতে সানন্দে সম্মত হলেন।

২৪/৩/৫৯ তারিখে ১৮ই আষাঢ় আমি পান্ডুলিপি খানা ফেরত আনতে কাজী সাহেবের বাসায় গেলে তিনি আমাকে বললেন যে, প্রশ্ন গুলোর শ্রেণী বিভাগ ও শৃঙ্খলা সহকারে একখানা স্বতন্ত্র পান্ডুলিপি তিনি লেখতে শুরু করেছেন। তবে লেখা এখনো শেষ হয় নাই। অতঃপর “সত্যের সন্ধান” বই খানার ছাপা খরচ জানবার জন্য কাজী সাহেবকে নিয়ে গুলিস্থান প্রেসে গেলাম এবং প্রেসের ম্যানেজার সাহেবের নিকট উহার হিসাব চাহিলে তিনি নিম্নরূপ হিসাব দিলেন।

(১) ছাপা (নিউজ প্রিন্ট) ১৮.৫ রিম ১৬ টাকা দরে — ২৯৬.০০

(২) ছাপা খরচ (৫ ফরমা) ২৫ টাকা দরে — ১২৫.০০

(৩) মলাট ছাপা — ১০.০০

(৪) বাইন্ডিং — ২০০.০০

মোট = ৬৩১.০০

২০/৪/৫৯ তারিখে কাজী সাহেব তাঁর স্বহস্তে লিখিত পান্ডুলিপি খানা আমার হাতে দিলেন। তিনি প্রশ্ন গুলোকে ছয়টি প্রস্তাবে বিভক্ত করেছেন। যথা- আত্মা বিষয়ক, ঈশ্বর বিষয়ক, পরকাল বিষয়ক, ধর্ম বিষয়ক, প্রকৃতি বিষয়ক ও বিবিধ। মোট প্রশ্ন সংখ্যা ৫৭টি এবং পৃষ্ঠা সংখ্যা ৮২।

বয়স পরিবর্তনের সাথে সাথে মানুষের দৈহিক পরিবর্তন ঘটে এবং তৎসঙ্গে পরিবর্তন ঘটে মনেরও। তাই কালান্তরে মানুষ নিজের কৃতকর্মকে নিজেই “ভ্রমাত্মক” বলে মনে করে। “সত্যের সন্ধান” এর পান্ডুলিপি আমার ঘরে পড়ে ছিল প্রায় বিশ বছর। প্রায়ই সময় সময় কিছু কিছু নতুন প্রশ্ন মনে উদিত হয়েছে এবং কোন কোন পুরোনো প্রশ্ন বা ব্যাখ্যা মরচে ধরা মনে হওয়ায় উহা ঘষা-মাজার আবশ্যকতা অনুভুত হয়েছে। কাজেই পূর্বের লিখিত পান্ডুলিপিতে উহার সংশোধন সম্ভব না হওয়ায় স্বতন্ত্র পান্ডুলিপি লেখতে হয়েছে। এভাবে পরিবর্তন করতে করতে ১৩৫৭-১৩৭৮ সাল পর্যন্ত পান্ডুলিপির সংখ্যা হচ্ছে ১৪ খানা। পর পাতায়ে উহার সংক্ষিপ্ত পরিচয় দিলাম।

 

পান্ডুলিপিসমূহ

উক্ত পান্ডুলিপি সমূহের মধ্যে ৭ম সংখ্যক পান্ডুলিপি খানা জনৈক মৌলুবী সাহেব পড়তে নিয়ে আর ফেরত দেন নাই। ১১শ সংখ্যক (লুজশিট) পান্ডুলিপি খানা- পাবলিক সার্ভিস কমিশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান জনাব আঃ বারীর কথিত মতে তার এক (কলকাতা বাসী) বন্ধুর কাছে পাঠাবার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছিল। কিন্তু বরিশাল বি, এম কলেজের অধ্যাপক আঃ রশিদ সাহেব উহা পড়তে নিয়ে হারিয়ে ফেলেন। অগত্যা আর এক খানা পান্ডুলিপি (লুজসিট ১২শ সংখ্যক) লিখে বারী সাহেবকে দেওয়া হয় এবং তিনি উহা কলকাতা পাঠান। তবে বারী সাহেবের মৃত্যু হওয়ায় ও বিষয় আর কিছু জানা সম্ভব হয় নাই। প্রায় দু বছর পরে অধ্যাপক আঃ রসিদ সাহাবের হারানো (১১শ সংখ্যক) পান্ডুলিপি খানা মাননীয় অধ্যাপক শামসুল হক সাহেব কোন সূত্রে প্রাপ্ত হয়ে উহা আমাকে ফেরত দিয়েছেন। ১৩শ সংখ্যক পান্ডুলিপি খানা অভিমত প্রাপ্তির জন্যে বিগত ২২/১১/৭৮ তারিখে বাংলা একাডেমির প্রাক্তন মহাপরিচালক জনাব কবির চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি স্বীয় অভিমত সহ উহা ২৮/৬/৭৯ তারিখে ফেরত দিয়েছেন। ১৪শ সংখ্যক পান্ডুলিপি খানা- “সত্যের সন্ধান” এর ছাপা কাজের জন্য বরিশাল আল আমিন প্রেসে প্রদত্ত হয়েছে। এক্ষনে পান্ডুলিপি সমূহের মধ্যে ১ম-৬ষ্ঠ, ৮ম-১১শ এবং ১৩শ সংখ্যক পান্ডুলিপি আমার “গ্রন্থ-মালা” এ রক্ষিত আছে।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x