যুক্তি চোদ্দঃ রাশিচক্রের ব্যাপারটা যদি বিজ্ঞান না হয়, তবে রাশিচক্র দেখে জ্যোতিষীরা কি করে জাতকের জন্মমাস, জন্ম সময়, এমন কি জন্মসাল পর্যন্ত বলে দেন ?

বিরুদ্ধ যুক্তিঃ রাশিচক্রে রবি কোন রাশিতে আছে দেখে জন্মমাস বলা যায়, যেহেতু কোন মাসে জন্ম হলে রবিকে কোন ঘরে বসান হবে, তা জ্যোতিষশাস্ত্রে আগেই নির্দেশ দেওয়া আছে।

দিন-রাতের চব্বিশ ঘন্টাকে বারোটি ভাগে ভাগ করে জ্যোতিষশাস্ত্রে নির্দেশ দেওযা হচ্ছে কোন সময়ে জন্ম হলে কোন ঘরে লগ্ন ধরা হবে। সুতরাং লগ্ন দেখে জন্ম সময় অনুমান করাটাই স্বাভাবিক ব্যাপার ।

ধরুন আমরা একটি নতুন শাস্ত্র তৈরি করলাম, নাম দিলাম ‘অ-জ্যোতিষশাস্ত্র । তাতে জাতকদের জন্ম সময় অনুসারে তৈরি করা হলো ‘রবিচক্র’। রবিচক্রে ঘর করা হলো বাহান্নটি । শাস্ত্রে নির্দেশ দিলাম-বছবের কোন সপ্তাহে জাতক জন্মালে রবিকে কোন ঘরে বসান হবে । তখন এই অ-জ্যোতিষশাস্ত্রের নির্দেশ মেনেই একজন অজ্যোতিষী জাতকের সূর্যচক্রে সূর্য কোথায় অবস্থান করছে দেখে বলে দিতে সক্ষম হবে, জাতকের জন্ম কোন মাসের কোন সপ্তাহে। আর রবিচক্রে ৩৬৬টি ঘর রেখে লিপিয়ার ছাড়া ৩৬৫টি ঘর যদি ব্যবহার করি এবং বছরের কোন দিনটিতে জন্ম হলে সূর্যের অবস্থান কোন ঘরে থাকবে, অ-জ্যোতিষ-শাস্ত্রে তার নির্দেশ দেওয়া থাকলে, সেই সূত্রের সাহায্যেই বলে দেওয়া সম্ভব—জাতক কোন মাসের কোন তারিখে জন্মেছে।

একই পদ্ধতিতে অজ্যোতিষশাস্ত্র – লগ্ন কোন রাশিতে আছে দেখে অবশ্যই বলে দিতে পারবে ঠিক কতটা বেজে কত ঘন্টা, কত মিনিটে জাতক জন্মেছে। তার জন্য আমরা অজ্যোতিষশাস্ত্রে রাখব আলাদা একটা লগ্নচক্রের ব্যবস্থা। লগ্নচক্রে থাকবে ১৪৪০ ঘর। অর্থাৎ সারা দিন রাতকে প্রতিটি মিনিটে ভাগ করে ফেলব।

এইভাবে ‘রবিচক্র’ বা ‘লগ্নচক্র’ দেখে জাতক কোন দিন কতটা বেজে কত মিনিটে জন্মেছে বলে দেওয়া অবশ্যই সম্ভব হবে। কিন্তু বলতে পারাব জন্য কখনই ‘অজ্যোতিষশাস্ত্র’ বিজ্ঞান হয়ে দাঁড়াবে না ।