যুক্তি তেরঃ “বর্তমানে সর্বস্তরের মানুষদের মনে জ্যোতিষ যেভাবে শিকড় গেড়ে বসেছে—এই শাস্ত্র মিথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হলে, নিশ্চয়ই তা সম্ভব হতো না।”

এই কথাগুলো তুললাম প্রচারে বিশাল জ্যোতিষী অমৃতলালের দেওয়া দৈনিক পত্রিকায় পুরো পাতা জোড়া বিজ্ঞাপন থেকে।

বিরুদ্ধ যুক্তিঃ সংখ্যাধিক্যের ব্যক্তি-বিশ্বাসের সঙ্গে বিজ্ঞানের সত্যের সম্পর্ক কোথায় ? বিজ্ঞানের দরবারে সংখ্যাধিক্যের অন্ধ-বিশ্বাসের দাম এক কানা কড়িও নয়। হাজার হাজার বছর ধরে সংখ্যাধিক্য মানুষ বিশ্বাস করতেন পৃথিবীকে ঘিরেই ঘুরে চলেছে সূর্য। “বেশিরভাগ মানুষ যেহেতু বিশ্বাস করেন, অতএব এই তথ্য মিথ্যের উপর প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না”—এই কুযুক্তিকে মিথ্যে প্রতিপন্ন করেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে পরীক্ষা, পর্যবেক্ষণ ভিত্তিক সিদ্ধান্ত—সূর্যকে ঘিরেই পৃথিবী ঘুরছে, সংখ্যাধিক্যের যুক্তিহীন বহু বিশ্বাসই এমনিভাবেই মিথ্যে প্রতিপন্ন হয়েছে ।

এমন উদাহরণ ছড়িয়ে রয়েছে বহু, তার থেকেই একটিকে তুলে দিলাম মাত্র। আর একটি জ্বলন্ত উদাহরণ অবশ্যই—জ্যোতিষশাস্ত্র। অজ্ঞানতা ও যুক্তিহীনতার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে থাকা এই শাস্ত্রের শেষ স্থান আবর্জনার ডাস্টবিনে। সাধারণের মধ্যে চেতনার উন্মেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জ্যোতিষশাস্ত্রে আঁধার নামতে বাধ্য। সাধারণের মধ্যে চেতনার উন্মেষের পথ চিরকালের জন্য রুদ্ধ রাখা কখনই সম্ভব নয়, কারণ বিজ্ঞানের জয়যাত্রা চলেছে, চলবে।