যুক্তি দুইঃ জ্যেতিষীরা অনেক সময় জ্যোতিষবিচারে ভুল করেন। কিন্তু জ্যোতিষীদের ভুলের দ্বারা প্রমাণিত হয় না যে, জ্যোতিষশাস্ত্র ভুল। যেমন, চিকিৎসকরা ভুল করলে প্রমাণ হয় না চিকিৎসাশাস্ত্র ভুল ।

বিপক্ষে আমাদের যুক্তিঃ চিকিৎসাবিজ্ঞান একটি প্রমাণিত বিজ্ঞান, অর্থাৎ বিজ্ঞান চিকিৎসাশাস্ত্রকে বিজ্ঞান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। কারণ চিকিৎসাশাস্ত্র বিজ্ঞানের দরবারে বিজ্ঞানের নিয়ম (Methodology) অনুসরণ করে প্রমাণ করেছে শাস্ত্রের যাথার্থতা। চিকিৎসাশাস্ত্রের তথ্যগুলো একই শর্তাধীন অবস্থায় বিভিন্ন পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করে পরীক্ষক বিজ্ঞানীদের সমর্থিত হয়েছে। আরও একটু সরল করে বলতে পারি কোন কোন ভাইরাস বা ব্যাসিলির জন্য কি কি রোগ হয় তা অনুবীক্ষণ বা অন্যান্য যন্ত্রের সহায্যে বিভিন্ন গবেষণাগারে পরীক্ষা করার কারও আবিষ্কার বা মতামতকে পরীক্ষক বিজ্ঞানীরা স্বীকৃতি দিয়েছেন। আবিষ্কৃত ওষুধের ক্ষেত্রেও টেস্টটিউবে ওষুধ প্রয়োগ করে দেখা বিশেষ ওষুধে জীবাণু ধ্বংস হচ্ছে কি না। জীবজন্তু ও মানুষের শরীরে প্রয়োজনীয় জীবাণু প্রবেশ করিয়ে তারপর ওষুধ প্রয়োগ করে বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল দেখা হয়। কেবলমাত্র এইসব পরীক্ষার সাফল্য লাভ করলে আসে স্বীকৃতি। তাই একজন চিকিৎসকের ভুলের জন্য চিকিৎসাশাস্ত্রের অসারতা প্রমাণিত হয় না।

একের সঙ্গে এক যোগ করলে দুই হয়। কেউ একের সঙ্গে এক যোগ করলে তিন হয় বললে যে অংক কষেছে তার ভুল প্রমাণিত হয় বটে কিন্তু অংকশাস্ত্রের অসারতা প্রমাণ হয় না ।

চিকিৎসাশাস্ত্র বিজ্ঞানের নিয়ম অনুসরণ করে তার যাথার্থতা, বিশ্বাসযোগ্যতা প্রমাণ করেছে। তাই এই শাস্ত্র প্রয়োগে বিফলতা, প্রয়োগকারীর বিফলতা হিসেবেই চিহ্নিত হয়। কিন্তু জ্যোতিষশাস্ত্র যেহেতু কখনই নিজেকে বিজ্ঞান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি, তাই তার বিফলতাকে চিকিৎসকের বিফলতার সঙ্গে তুলনা করা মুর্খতা, কুযুক্তি অথবা শঠতা।