বর্তমান সমাজ ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সাধারণ মানুষের মধ্যে যুক্তিবাদী চিন্তাধারার প্রসার প্রতিরোধের চেষ্টা ধনীকশ্রেণী ও তাদের অর্থে গদীতে বসা সরকার কবে চলেছে এবং করে চলবে। এই প্রতিরোধ একই ভাবে করা হবে না । প্রতিরোধ কখনও হবে অহিংস ভাবে, কখনও সহিংস ভাবে। অহিংস প্রতিবোধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা মগজ ধোলাইয়ের। কখনও মগজ ধোলাই করা হবে শোষিত মানুষদেব, কখনও মগজ ধোলাই করা হবে সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কর্মীদের।

মগজ ধোলাই করতে শাসকশ্রেণী স্বভাবতই নির্ভর করে উন্নততর মগজদের বুদ্ধিজীবীদেব। নানাভাবে পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতির মধ্যে দিয়ে বুদ্ধিজীবীদের গ্রাস করে ফেলে রাষ্ট্রশক্তি ও ধনীকশ্রেণী। এই পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি কত রকমভাবেই হয়ে থাকে। কেউ সরকারি জমি চাইতেই পেয়ে গিয়ে কৃতার্থ হয়ে পড়েন। কেউ পান সরকারি ফ্ল্যাট। কেউ পদ। সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পেয়ে কারু বা মেরুদণ্ড কাদার মতই নরম হয়ে যায়। কেউ বা বিশাল পত্রিকা-গোষ্ঠির মালিকের ‘পেপার পলিসি’ সার্থক করে তোলার বিনিময়ে গাড়ি, ফ্ল্যাট, মাঝে-মধ্যে বিদেশ ভ্রমণের মধ্যে স্টাটাই বজায় রাখেন। কেউবা পত্রিকা মালিক গোষ্ঠি বা সরকারের দেওয়া পুরস্কারের কাছে বাঁধা রাখেন নিজের বিবেক। কেউ দূরদর্শনে সিরিয়াল পাশ করাতে রাজনীতিকদের কাছে বিক্রী করেছেন আদর্শ। এমনি কতভাবেই বুদ্ধিজীবীদের বিবেক পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলছে শাসক ও শোষকশ্রেণী ।

যুক্তিবাদী চিন্তার প্রসারকে অহিংসভাবে প্রতিরোধ করতে, সাধারণ মানুষের ও যুক্তিবাদী আন্দোলন কর্মীদের, সাংস্কৃতিক আন্দোলন কর্মীদের মগজ ধোলাই করতে শাসকশ্রেণী কাজে লাগায় তাদের নিজস্ব প্রচার মাধ্যমগুলোকে এবং ধনীকশ্রেণীর স্বার্থরক্ষাকারী পত্র-পত্রিকাগুলোকে। এই প্রচার মাধ্যমগুলোর প্রধান চালিকাশক্তি ধনীকশ্রেণীর ও রাষ্ট্রশক্তির পেটোয়া বুদ্ধিজীবীরা। এইসব শক্তিমান লেখক, নাট্যকার, চলচ্চিত্রকার প্রমুখেরা মগজ ধোলাই করেন নানা শ্রেণীর মানুষদের কথা মাথায় রেখে নানাভাবে। গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায়, নাটকে চলচ্চিত্রে, দূরদর্শনে, যাত্রায়, এঁরা হাজির করছেন অলৌকিক ঘটনার ছড়াছড়ি, অদৃষ্টবাদ, ভক্তিরসের প্লাবন। আবার দেশের যুবশক্তির মাথা খেতে হাজির করছেন রগরগে উত্তেজনা, অপরাধমূলক কাজকর্ম, যৌনতা, নেশা, খুন-খারাপি, ভোগ সর্বস্ব চিন্তাধারা, ক্যারিয়ারিস্ট চিন্তাধারা । ফলে যা হবার তাই হচ্ছে দরিদ্র বঞ্চিত মানুষগুলো যুক্তিবাদী লেখাপত্তরের চেয়ে এসব খাচ্ছে ভাল। বলতে গেলে গোগ্রাসে গিলছে। যুবসমাজও এইসব উত্তেজক বস্তু খেয়ে মানসিকভাবে ক্ষুধার্থ হয়ে উঠছে, জেগে উঠছে ভোগসর্বস্ব স্বার্থপর দৈত্যটা। ফলে শ্রেণীস্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিস্বার্থকে অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য মনে করছে ওরা ।

যুক্তিবাদ আন্দোলকর্মী ও সাংস্কৃতিক আন্দোলন কর্মীদের কাজকর্ম রুখতে যা করা হচ্ছে, তা হলো— অন্তর্ঘাত। কীভাবে ঘটছে এই অন্তর্ঘাত ? আন্দোলনে অন্তর্ঘাত চালাতে সক্ষম পেটোয়া বুদ্ধিজীবীরা ক্ষুরধার কলম ধরেন সংস্কারমুক্তি, বিচ্ছিন্নতাবাদ, যুক্তিবাদ, চার্বাক দর্শন, বস্তুবাদ প্রসঙ্গ, সাম্প্রদায়িকতার উৎস, নাস্তিকতা, যুক্তিবাদের আলোকে ভাববাদ ইত্যাদি প্রসঙ্গ নিয়ে। বইয়ের নাম, বিষয়বস্তুর টানেই রাষ্ট্রযন্ত্রের পেটোয়া লেখক, বহু সাংস্কৃতিক আন্দোলনকর্মী ও যুক্তিবাদী আন্দোলন কর্মীর মন জয় করে তাদের চেতনার অন্দরে ঢুকে পড়েন ট্রয়ের ঘোড়ার মতই। তারপর এইসব সাংস্কৃতিক আন্দোলনের আপনজন বুদ্ধিজীবীরা অন্তর্ঘাত শুরু করেন আন্দোলন কর্মীদের মাথায় অনবরত ভ্রান্ত চিন্তা ও অসচ্ছ চিন্তা ঢুকিয়ে। রাজনৈতিক দল, রাজনীতিক ও বড় বড় পত্র-পত্রিকা এইসব ভারি ভারি প্রবন্ধ লিখিয়েদের বিষয়ে লাগাতারভাবে সুক্ষ্ম ধারণা সাধারণের মধ্যে ঢুকিয়ে দিতে থাকে—ওঁরা চিন্তাবিদ, ওঁরা বিশিষ্ট, ওঁরা অসাধারণ পণ্ডিত, ওঁরা প্রগতিশীল। প্রগতিশীলতার সিলমোহরে দেগে দেওয়া ওই সব বুদ্ধি বেচে খাওয়া মানুষগুলো কী প্রসব করেন ? তারই একটি সাম্প্রতিকতম উদাহরণ দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত ‘প্রতিরোধ’। কার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ? অন্ধতা ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে। বইটির ‘টাইটেল পেজ’-এ ছাপা আছে— “অন্ধতা ও অযুক্তির বিরুদ্ধে রামমোহন থেকে সত্যেন্দ্রনাথ বসু”। সম্পাদকীয়তে দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় এক জায়গায় লিখছেন, “অন্ধকারের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বঙ্গমনীষার ইতিহাসে একের পর এক মানুষের আবির্ভাব ; তাঁদের যে-অভিযান তা যেমনই দুঃসাহসিক তেমনই প্রখর প্রতিভার পরিচয়। রামমোহন রায় থেকে সত্যেন্দ্রনাথ বসুর রচনাবলির দিকে দৃষ্টি আবদ্ধ বাখুন। বুকের বল ফেরত পাবেন। এই সব দীপ্ত মেধাবীরা কিন্তু প্লেটোর ঐ অসুর দলে পড়েন। ধর্মান্ধতার ঊর্ণজাল ছিন্নভিন্ন করে অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর মশাল জ্বেলে, যুক্তিনিষ্ঠ নির্মল চিন্তার হাতিয়ার হাতে বিজ্ঞানের সমর্থনে এঁরা এগিয়ে এসেছিলেন।”

ধর্মান্ধতার ঊর্ণজাল কে ছিন্ন করেছিলেন ? রামমোহন রায় ? সত্যেন্দ্রনাথ বসু ? । রামমোহন রায় তো স্বয়ং এক ধর্মমতের স্রষ্টা। ব্রাহ্মধর্ম প্রতিষ্ঠা করে নিরাকার ঈশ্বরের উপাসনাকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। মন্দির ও দেবমূর্তি ভাঙে কালের করাল গ্রাসে। অথবা নিশ্চিহ্ন হয় কেউ নিশ্চিহ্ন করে দিলে। নিরাকার ঈশ্বরকে ওভাবে মুছে ফেলা যায় না। এমনই এক ঈশ্বর-চিন্তা জনমানসে প্রথিত করতে চেয়েছিলেন রামমোহন, যেখানে ঈশ্বর থাকবেন অনেক নিরাপদে ৷

রামমোহন রায়ের রচনাটির আগে যে সংক্ষিপ্ত লেখক পরিচয় দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় দিয়েছেন তাতে রামমোহন প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, “বিশ্বের সর্বত্র স্বাধীনতাকামী ও সাধারণতন্ত্রী আন্দোলনের প্রতি তাঁর ছিল অকুণ্ঠ সমর্থন।”

বাস্তব সত্য যে অন্য কথা বলে। বামবুদ্ধিজীবী হিসেবে আই. এস. আই. ছাপ মারা সুপণ্ডিত দেবীপ্রসাদবাবু কী অস্বীকার করতে পারবেন যে নিচের তথ্যগুলো ভুল ” বা মিথ্যে ?

রামমোহন ইংরেজ শাসকদের প্রভু হিসেবে মেনে নিয়ে দেশীয় উচ্চবর্ণদের উদ্দেশ্যে যে উপদেশ বার বার বারিধারার মতই বর্ষণ করেছেন এবং তাঁর কাজকর্মে যে চিন্তাধারা অতিস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে তা হলো এই-

(১) ইংরেজদের শ্রেষ্ঠত্ব ও অভিভাবকত্ব মেনে নাও ।

(২) বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদ ভারতবাসীদের কাছে ঈশ্বরের অপার করুণার মতোই এসে পড়েছে।

(৩) ইংরেজদের সাম্রাজ্য রক্ষায় সব রকমে সাহায্য কর ।

(৪) ইংরেজদের বিরুদ্ধে যারা বিদ্রোহ করে তাদের ঘৃণা কর। ওই বিদ্রোহীদের নির্মূল করতে ইংরেজদের সর্বাত্মক সাহায্যে এগিয়ে এসো।

(৫) সভা-সমিতি গড়ে সেগুলোর মাধ্যমে ইংরেজদের জয়গান কর। ইংরেজদের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ কর ।

(৬) সংবাদপত্রের মাধ্যমে ইংরেজ শাসনের সুফল বিষয়ে দেশবাসীকে অবহিত কর ।

(৭) ইংরেজদের কাঁচামাল রপ্তানী এবং ব্রিটীশ সাম্রাজ্য থেকে তৈরি জিনিস আমদানীর ব্রিটিশ নীতিকে সমর্থন কর।

রামমোহনীয় চেতনায় উদ্বুদ্ধ দেবীপ্রসাদ ‘ইংরেজ’ শব্দের পরিবর্তে ‘শাসক’ শব্দটি রামমোহনের নীতিবাক্যগুলোতে বসিয়ে নিয়ে গ্রহণ করেছেন বলেই কী অন্ধতা ও অযুক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামরত মানুষদের মস্তক চর্বণের জন্যেই তাঁর এই মিথ্যাচারিতা ? আচার্য সত্যেন্দ্রনাথ বসু যে পরম ঈশ্বরভক্ত এবং অলৌকিক ক্ষমতায় অগাধ বিশ্বাসী ছিলেন, তা আচার্যদেবের সামান্য হালফিল জানা মানুষদের যেখানে অজানা নয়, সেখানে দেবীপ্রসাদবাবুর মত এমন সুপণ্ডিতের তো অজানা থাকার কথা নয় ? সম্পাদক হিসেবে দেবীবাবু কী তবে না জেনেশুনেই শুধুমাত্র সুন্দর কিছু শব্দবিন্যাসের তাগিদেই সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে অন্ধকার ও অযুক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামী বঙ্গমণীষা বলে অবহিত করলেন ? সত্যেন্দ্রনাথ বসুকে যদি অন্ধকার ও অযুক্তির বিরুদ্ধে সংগ্রামী চবি বলে দেবীপ্রসাদবাবুর মনে হয়ে থাকে, তবে দেবীবাবু নিশ্চয়ই অন্ধকার ও অযুক্তির ধারক-বাহক হিসেবে অবহিত করবেন সেইসব মানুষদের, যাঁরা অন্ধভাবে ঈশ্বর ও অলৌকিকতাকে মেনে নিতে নারাজ; যাঁরা অন্ধবিশ্বাস ও অযুক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন !

‘প্রতিরোধ’-এ এমন আরো অনেকের রচনাই স্থান করে নিয়েছে যাঁরা রামমোহনীয় চিন্তায় উদ্বুদ্ধ, যুক্তিহীন চিন্তার দ্বারা পরিচালিত। এরপর ‘প্রতিরোধ’ কাদের প্রতিবোধের জন্য প্রকাশিত, তা নিশ্চয়ই বলার অপেক্ষা রাখে না।

দেবীপ্রসাদের মত “ট্রয়ের ঘোড়া’ শুধুমাত্র অন্তর্ঘাত চালিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে না, এরা অশ্বমেধের দিগবিজয়ী ঘোড়ার ভূমিকাও পালন করে একের পর এক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের দুর্গে ধ্বস নামিয়ে। এইসব অশ্বমেধের ঘোড়াদের অগ্রগতি রোধ করতে হবে সাংস্কৃতিক কর্মীদেরই, যুক্তিবাদী আন্দোলনকর্মীদেরই।

যুক্তিবাদী আন্দোলন যখন বাস্তবিকই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বহু থেকে বহুতর মানুষদের মধ্যে শহরে গ্রামে সর্বত্র, ঠিক তখনই সরকারী অর্থানুকূল্যে প্রকাশিত হলো এই ‘প্রতিরোধ’। প্রকাশক কারা ? আমেরিকার CSICOP নামক একটি সংস্থার ভারতের এজেন্সি নেওযা একটি স্ব-ঘোষিত যুক্তিবাদী সমাজসচেতন মাসিক পত্রিকা- গোষ্ঠি। তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে অত্যাচারিত দরিদ্র মানুষগুলোর চেতনাকে ঠেকিয়ে রাখতে আমেরিকার ধনীকশ্রেণী মেকি বিজ্ঞান-আন্দোলন গড়ে তুলতে তৈরি করেছে ‘কমিটি ফর সাইন্টিফিক ইনভেস্টিগেশন অফ ক্লেমস অফ দ্য প্যারানরমাল’ সংক্ষেপে ‘CSICOP’ নামের একটি সংস্থা। সেই কুখ্যাত সংস্থার দালালদের ওপর বিজ্ঞান আন্দোলনকর্মীদের ভরসা রাখা আর চোরেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া নাইটগার্ডদের ওপর পল্লীবাসীর ভরসা রাখা একই ব্যাপার। সুন্দর পৃথিবীকে অসুন্দর কথারও উৎস মানুষ— তা ওই প্রত্রিকার কাজকর্মেই প্রকট।

এদেশের রাজনীতিতে আমরা তথাকথিত মগজবানদের আরো হাস্যকর ও লঘু আচরণ দেখলাম ‘৯১-এর গোড়ায়। পশ্চিমবঙ্গ সরকার এগিয়ে এলেন অন্ধতা ও অযুক্তিবিরোধী একটি তথ্যচিত্র করতে। গরীব মানুষদের জন্য গরীব মানুষদের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি করা হলো ‘আলোর উৎস সন্ধানে’। বিপুল অর্থ ব্যযে তৈরি এই তথ্যচিত্রের সাহায্যে কুসংস্কারাচ্ছন্ন মানুষকে আলো দেখাবার ভার তুলে দেওয়া হলো এক গ্রহরত্নধারী তথাকথিত মার্কসবাদী বুদ্ধিজীবী অভিনেতা কাম চিত্র-পরিচালককে। অযুক্তি ও অন্ধকারে ডুবে থাকা এমন এক পরিচালক আলো দেখাবেন ? এও কি বিশ্বাসযোগ্য? যিনি অস্বচ্ছ চিন্তায় ডুবে আছেন, তিনি সাধারণ মানুষকে দেবেন স্বচ্ছ চিন্তার দিশা ? দেশের কী করুণ অবস্থা ভাবুন। অন্ধ পথ দেখাচ্ছে অন্ধকে । আরো মজার ব্যাপার দেখুন ; ওই পরিচালক তথ্যচিত্রটিতে হাজির করলেন কাঁদের ? বুদ্ধির ব্যাপারী দেবীপ্রসাদবাবুকে এবং ভূত-ভগবানে পরম বিশ্বাসী এক যুক্তিবাদীর ভেখধারী জাদুকরকে। আরো লক্ষ্যণীয়  CSICOP-র দালাল পত্রিকাগোষ্ঠি দেবীবাবুর মতই ওই জাদুকরের অনেক লেখা তাদের পত্রিকায় প্রকাশ করে তাকে যুক্তিবাদী হিসেবে সাধারণ মানুষের সামনে ও যুক্তিবাদী আন্দোলনকারীদের সামনে হাজির করতে চেয়েছে। আমরা কী তবে ধরে নেব এদের সকলের অবস্থান বেড়ার একই দিকে? অথবা এইসব বুদ্ধিজীবীদের পকেটে পুরতেই সংগ্রামের হাতিয়ার সরকার পাইয়ে দেওয়ার রাজনীতি করলেন ? না কী এ-সবই স্বজনপোষণের বিস্ময় ফল ? কিংবা সুচিন্তিতভাবে যুক্তিবাদী আন্দোলনকর্মীদেব চিন্তা-চেতনাকে গুলিয়ে দিতেই বেড়ার একই দিকে অবস্থান করা প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে ?

কথায় ও কাজে সরকারকে এক ও অভিন্ন দেখতে
চাওয়াটা একজন ভারতীয় নাগরিকের পক্ষে নিশ্চয়ই
অন্যায় নয়? মুখোশ ছিঁড়তে চাওয়াটা নিশ্চয়ই বেয়াদপী
নয় ?