আমার চাচাত ভ্রাতা (নিজ বাড়ির) কদম আলী মাতুব্বর সা’বের প্রযত্নে তাঁর বৈঠকখানায়ে একটি পাঠশালা চলছিল। প্রায় দু বছর চলে ওটা বন্ধ হয়ে গেছে। শিক্ষক ছিলেন কামিনী কুমার সরকার, নিবাস ছিল গৌরনদী। খোরাকী সমেত তাঁর মাসিক পাঁচ টাকা বেতন ধার্য ছিল। কিন্তু তা’ ও না পেয়ে বেচারা চলে গেছেন দেশে। আমি উহা দেখছিলাম ও ভাবছিলাম যে, মক্তব পাঠশালা গুলোর একটা মারাত্মক রোগ হচ্ছে “ছাত্র-বেতন” অনাদায়। আর এই রোগেই গ্রামের মক্তব পাঠশালা গুলো মারা যায়। এ রোগের প্রতিকার সম্ভব কি না।

২৮শে পৌষ, ১৩৩৬ সাল। আমাদের গ্রামের নেতৃস্থানীয় নয়জন লোক আমার বাড়িতে ডেকে তাঁদেরকে বুঝালাম যে, কোন দেশ বা গ্রামের সার্বিক উন্নতি নির্ভর করে তথাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওপর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্থায়িত্ব নির্ভর করে জনগণের ঐকান্তিক আগ্রহের উপর। যেখানে জনগণের আগ্রহ নেই, সেখানে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে তা বাঁচিয়ে রাখা যায় না। আসুন আমরা একটা সমিতি গঠন করে “সমবায়” পদ্ধতিতে একটা স্কুল প্রতিষ্ঠা করি। অতঃপর সমিতির গঠন প্রণালী, কার্য-পদ্ধতি, উপকারিতা ইত্যাদি নানা বিষয় তাঁদের জ্ঞাত করলাম। শুনে সকলে সম্মত হলেন এবং স্থির হল যে, গ্রামের সর্ব সাধারণকে ডেকে এনে র মর্মে একটি সাধারণ সভা করতে হবে। তারিখ ধায্য হল ৩রা মাঘ।

সভায় উদ্দেশ্য ও নির্ধারিত তারিখ জানিয়ে প্রত্যেক বাড়িতে ঘুরে ঘুরে গ্রামের সবাইকে সভার নিমন্ত্রণ জানালাম। ৩রা মাঘ রাত্রে (১৩৩৬) আমাদের বাড়িতে প্রায় দুশত লোকের এক সভা বসল এবং আঃ রহিম মৃধা সা’বের সভাপতিত্বে সভার কাজ শুরু হ’ল।

সভার উদ্বোধনীতে সবাইকে সম্বোধন করে আমি বললাম- “বন্ধুগণ! আমরা লামচরি গ্রামের অধিবাসী। হালে, চালে বেশভূষায় ও খেয়ে পড়ে আছি বেশ। কিন্তু চেয়ে দেখুন, শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের পেছনের কাতারে লোক নেই। বর্তমান সময়ে দেশের সর্বক্ষেত্রে একটি পরিবর্তন আসছে। বিশেষতঃ শিক্ষাক্ষেত্রে আসছে বিপ্লব”। এই শিক্ষা বিপ্লবের যুগে অন্যান্য গ্রামে এন্ট্রান্স, আই-এ, বি-এ (তখন ‘মেট্টিক’ হয় নাই) পাস ছেলের অভাব নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, আমাদের গ্রামখানিতে প্রায়মারী পাশ আছে মাত্র একজন (সভাপতি সা’ব)। শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের এতোধিক পিছিয়ে থাকার একমাত্র কারণ হচ্ছে-স্থানীয় কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকা।

আমাদের গ্রামে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসাবে মক্তব-পাঠশালা জন্মেছে অনেক, মরেছে অনেক, জীবিত নেই আজ একটিও। এ রোগের একমাত্র কারণ হচ্ছে “বেতন বাকি”। যদি আমরা এমন একটি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে পারতাম, যার খরচের জন্য ছাত্র বেতনের উপর নির্ভর করতে হ’ত না, তা হ’লে আমাদের সে প্রতিষ্ঠানের আশু মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকতো না।

শিক্ষকের বেতন শোধ করতে পারলেই কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলে না, আনুসাংগিক আরো অনেক খরচ বহন করতে হয়। যথা- (১) বিদ্যালয়ের নিজস্ব গৃহ নির্মাণ (২) টুল-টেবিলাদি নানা সরঞ্জাম সংগ্রহ (৩) আমাদের মত অনুন্নত গ্রামের জন্য – রাস্তা নির্মাণ, চড়-পোল দেওয়া ইত্যাদি। এছাড়া আছে- গরীব ছাত্রদের বেতন মওকুফ করে ও তাদের পুস্তকাদি কিনে দেওয়া ও মেধাবী ছাত্রদের পুরস্কার প্রদান করা। আপনারা সম্মত থাকলে অতি সহজে আমরা  উক্ত ব্যয় নির্বাহ করতে পারি। ওর জন্য যেসব উপায় অবলম্বন করা যায়, তা হচ্ছে-মুষ্টি ভিক্ষা আদায়, বিবাহে চাঁদা গ্রহণ, মৃতের উদ্দেশ্যে দান-খয়রাত গ্রহণ, স্বেচ্ছাকৃত দান গ্রহণ ও সম্ভাব্য ছাত্রবেতন আদায় ইত্যাদি।

সমবায় পদ্ধতিতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা বনাম পল্লী উন্নয়ন করতে হ’লে, তার জন্য একটি কার্যনির্বাহক সমিতি গঠন করা দরকার এবং তাতে থাকবে- অন্ততঃ এগার জন সদস্য এবং তন্মধ্যে একজন সভাপতি; একজন সম্পাদক ও একজন তহবিলদার।

অতঃপর আমার বক্তব্যের সপক্ষে কেহ কেহ এলেন। কিন্তু বিপক্ষে কেহ কিছু বললেন না। সর্বশেষ সভাপতি সা’ব- আমার প্রস্তাবসমূহের স্বপক্ষে  যারা আছেন  বা থাকবেন, তাদের হাত তুলে সম্মতি জানাতে বললেন এবং সকলে হাত তুলে সম্মতি জানালেন। তৎপর বিপক্ষে হাত তুলতে বলায় কেউ হাত তুললেন না। অতঃপর সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত – এগার জন সদস্য দ্বারা একটি সমিতি গঠন করা হ’ল এবং তন্মধ্যে নির্বাচন ক্রকা হ’ল – আঃ রহিম মৃধাকে ‘সভাপতি’, আমাকে ‘সম্পাদক’ এবং কদম আলী মাতুব্বরকে ‘তহবিলদার’। সমিতির নাম করণ করা হল “মোসলেম সমিতি”। মহোল্লাসের সহিত রাত বারোটায় সভা ভঙ্গ হ’ল।

পরের দিন বরিশাল হ’তে দু’শত ঘট কিনে এনে ৫ই মে মাঘ তা বিতরণ করলাম। সমিতির সদস্যবৃন্দ সহ প্রায় দু’শত লোকের এক শোভাযাত্রা বের হ’ল- হাতে নিশান ও মুখে নানাবিধ শ্লোগান দিয়ে। মুষ্টি-ভিক্ষা দানে সক্ষম, এমন সকল গেরস্থের ঘরেই ঘট প্রদত্ত হ’ল। এক সপ্তাহ পরে (১২ই মাঘ) মুষ্টি- ভিক্ষার চাল আদায় করা হ’ল। চালের পরিমাণ হ’ল দ’মন। নিয়মিত ভাবে সাপ্তাহিক ভাবে মুষ্টি ভিক্ষা আদায় হতে থাকল।

২৮শে ফাল্গুন সমিতির এক সভায় সাব্যস্ত হয় যে, ত্রিপুরা নিবাসী মুন্সী সেকেন্দার আলী মিঞাকে দিয়ে খোরাকী তিনিই বহন করবেন। শিক্ষকের বেতন ধার্য হল মাসিক দশ টাকা। ২রা চৈত্র প্রথম স্কুল খোলা হ’ল। এদিন ছাত্র সংখ্যা হ’ল ১৭ জন।

২৬শে চৈত্র-বার্ষিক হিসাব নিকাশের জন্য এক সভা আহ্বান করলাম –  এবং সদস্যগণ সব উপস্থিত হলেন। হিসাব হ’ল নিম্নরূপঃ

 

মুষ্ঠি ভিক্ষার হিসাব –

আয়ের উৎস জমা খরচের উৎস টাকা
আলাউদ্দিন ১৪/৭ শিক্ষকের বেতন ২-১৮ দিন স ১০ ২৬.০০
৩।।. দরে দাম ৫১.৩০ রাস্তা নির্মাণ ২০.০০
বিবাহের চাঁদা ১১.০০ চাড় খরচ ৫.০০
মৃতের দান ৪.০০
ছাত্র বেতন ৩০.০০
মোট জমা = ৯৬.৩০ মোট খরচ = ৫১.০০
খরচ বাদ ৯৬.৩০-৫১.০০ ৪৫.৩০

মজুত হিসাব অনুমোদন হ’ল।

সমিতির ও স্কুলের যাবতীয় খাতাপত্র কদম আলী মাতুব্বরের বৈঠকখানায় একটা আলমারীতে রাখা হচ্ছিল। একদা দেখতে পেলাম যে, স্কুলের কোন খাতাপত্রে ‘সম্পাদক’ পদে আমার নাম নেই, আছে- কদম আলী মাতুব্বর চাকু দ্বারা ঘষে ফেলে আমার নামের স্থলে তাঁর নাম লেখিয়েছেন। শুনে আমি নীরব রইলাম।

একদা শিক্ষক সা’ব আমার কাছে বেতন চাইলেন। তখন আমি বললাম যে, যিনি সমিতির সম্পাদক হবেন, তিনি মুষ্ঠি ভিক্ষা, ছাত্র বেতন ও চাঁদাদি আদায় করবেন এবং যাবতীয় খরচপত্র তিনিই করবেন। আপনার বেতন তিনিই দেবেন; আমি নয়। যেহেতু আমি সমিতির সম্পাদক নই। নিরূপায় হয়ে শিক্ষক সা’ব সমিতির সদস্যদের ও গ্রামের অন্যান্য বহু লোক নিয়ে এক সভার আয়োজন করলেন।

১৩৩৭ সালের ২৩শে বৈশাখ রাত্রে কদম আলী মাতুব্বরের বৈঠকখানায় সভা বসল, ‘সম্পাদক’ নির্বাচনী সভা। সম্পাদকের কর্তব্য ও দায়িত্ব সম্বন্ধে বিস্তারিত আলোচনা হল। কদম আলী মাতুব্বর সে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে অক্ষমতা জানালেন। সভাস্থ জনগণ সমিতির ও স্কুলের খাতাপত্র হ’তে আমার নাম কাটার জন্য তাকে নিন্দাবাদ করে আমাকে সমিতির ও স্কুলের ‘সম্পাদক’ পদে পুননির্বাচন করেন।

কদম আলী মাতুব্বর ছিলেন ধীর ও গম্ভীর প্রকৃতির লোক। তিনি সব সময় আভিজাত্য রক্ষা করে চলতেন এবং কথার রক্ষা করতেন ভারিক্কি, বলতেন অল্প। তিনি মনে করতেন যে, শ্রমিকের চেয়ে মালিকের মর্যাদা বেশী এবং শ্রমের চেয়ে পদমর্যাদার মূল্য বেশী। কিন্তু আমি মনে করি তার বিপরীত। অর্থাৎ যে ব্যক্তি খাটে, সে উড়ে (আকাশচারী) এবং যে খাটায়, সে কুঁড়ে (অলস)। আমিন দেখলাম যে, আমার ভাইয়ের শ্রমে অনিচ্ছা বা অক্ষমতা থাকলেও তার পদমর্যাদার লিপ্সাটুকু প্রবল। তাই আমি সভায় প্রস্ট্যাব করলাম যে, সম্পাদকের যাবতীয় কর্তব্য ও দায়িত্ব আমিই পালন করব, অথচ আমার ‘সম্পাদক’ পদটা আমার ভাই সা’বকে দান করলাম। সবাই সমর্থন করলেন।

এসময় আমাদের স্কুলের শিশু, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণী সমেত হিন্দু ও মুসলমান মোট ছাত্র সংখ্যা ১৫০ জন। মাত্র একজন শিক্ষকের দ্বারা এখন আর এর শিক্ষা-কাজ চলতে পারে না। সভায় প্রস্তাব করা হ’ল যে, এখন হ’তে আমাকে শিক্ষক পদে কাজ করতে হবে। আমি সম্মত হলাম এবং পরের দিন (২৪শে বৈশাখ) শিক্ষা কাজে যোগদান করলাম।

“আপনি খাট, পরকে খাটাও” আমি এই নীতির অনুসারী। স্বয়ং বসে বা দাঁড়িয়ে থেকে অন্যকে দিকে কাজ করানো আমার রুচি বিরুদ্ধ। যে কোন কাজ অন্যের দ্বারা করানোর সময় লক্ষ্য রাখা উচিত যে, তখন নিজে কোন কাজ করছি কি না। কোন কাজ করলে তো বেশ, না করলে কর্মরত ব্যক্তির কাজে শরীক হওয়া উচিত, যদি কাজ করবার ক্ষমতা থাকে। আমি আমার কর্ম জীবনে এ নীতিটী মেনে চলেছি সর্বত্র। এই নীতিটী অনুসরণ করেই আমি সমিতির কাজে অন্যান্যদের সাথে-মুষ্টি ভিক্ষার ছালা কাঁধে নিয়েছি, নদী সাতরিয়ে বাস এনে খাল সাতরিয়ে চাড় দিয়েছি, যা কোন কোন মানী লোকের পক্ষে অপমান জনক।

সমিতির তহবিল ও গ্রামের একটি ষাঁড় বিক্রির টাকা দ্বারা স্বতন্ত্র একখানা স্কুল-গৃহ নির্মাণ করে ১লা আষাঢ় (১৩৩৭) তারিখে উহা সঞ্চার করা হয়। এর পরের দিন সমিতির অনুমোদন ছাড়া কদম আলী মাতুব্বর তাঁর ব্যক্তিগত মতে- কড়াপুর নিবাসী মৌঃ আঃ লতিফকে স্কুলের শিক্ষক পদে নিয়োগ করেন। এর ফলে সমিতির সদস্যদের মনে অসন্তোষ সৃষ্টি হয় এবং ওর প্রতিবাদে ৫ই আষাঢ় এক সভা আহ্বান করা হয়। সভায় কদম আলী মাতুব্বর তাঁর ত্রুটি স্বীকার করায় গোলমালের মীমাংসা হয়। তিন জন শিক্ষকের দ্বারা স্কুল এবং সমিতির কাজ যথারীতি চলতে থাকে।

এ সময় স্কুলের ছাত্র সংখ্যা ১৫৩ জন। তৃতীয় শ্রেণী খোলা হচ্ছে, তবে তাতে ছাত্র সংখ্যা মাত্র তিন জন। স্কুলে অবৈতনিক ছাত্রের সংখ্যা ৫০ জন। ছাত্র বেতন, মুষ্টি ভিক্ষা ও অন্যান্য সহ সমিতির মাসিক আয় প্রায় একশ টাকা। অথচ তিন জন শিক্ষকের মাসিক বেতন ৩০ টাকা। অন্যান্য সহ মাসিক খরচ ৪০ টাকার বেশি নয়। আবশ্যকীয় সরঞ্জাম যথা – টুল, টেবিল, চেয়ার, আলমারী, ব্লাক বোর্ড ইত্যাদি বানানো হল। স্কুলের জন্য সরকারী মঞ্জুরী পেলাম, মুহসিন ফান্ড হতে সরকারী সাহায্যে মঞ্জুর হল মাসিক ১২ টাকা। স্কুল সাব ইন্সপেক্টর মৌঃ হাবিবুর রহমান সা’বের নির্দেশক্রমে যথারীতি খাতাপত্র সংগৃহীত হল এবং বাখর-গঞ্জ জিলা, বাংলা প্রদেশ, ভারতবর্ষ ও পৃথিবীর মানচিত্র কেনা হল। আমি আমার নিজ হাতে কুঁদে কেটে বানিয়ে দিলাম একটি গ্লোব।

পূজোর বন্ধের পর ১০ই অগ্রহায়ন স্কুল খলা হ’লে দেখা গেল যে, মুন্সি সেকান্দার আলী, মৌঃ আঃ লতিব ও (আমার পরিবর্তে) ভোলা নিবাসী মৌঃ মুজিবল হক সা’ব স্কুল খোলছেন। আমি জিজ্ঞাসা করে জানলাম যে, সম্পাদক সা’ব কতিপয় সদস্যের যোগাযোগে মৌঃ মুজিবল হককে স্কুলে নিয়োগ করেছেন, আমাকে শিক্ষক পদে রাখা হবে না।

এ স্কুলটির প্রতি সম্পাদক সা’বের অধিকার ছিল তিনটি। যথা- (১) তিনি শিক্ষকের খোরাকী বহন করেন। (২) স্কুল গৃহটি তাঁর জমির উপর অবস্থিত। (৩) দান সূত্রে পেয়ে থাকলেও তিনি বর্তমানে সম্পাদক। কার্যকরি সমিতির সদস্য বৃন্দ  ও স্থানীয় জনগণ সহ আমি একটি সাধারণ সভা আহ্বান করলাম, সম্পাদক সা’বের কাজের প্রতিবাদের জন্য নয়, বিদায় সম্ভাষণ জানাতে।

১৭ই অগ্রহায়ন রাত্রে আমাদের বাড়িতে আঃ রহিম মৃধা সাবের সভাপতিত্বে এক সাধারণ সভা বসল। সভায় আমি বললাম, “বন্ধুগণ! বিগত ২৩/১/৩৭ তারিখের সভায় আমি আমার ‘সম্পাদক’ পদটি ভাই সা’বকে দান করেছিলাম এবং চুক্তি ছিল যে, তিনি নামে মাত্র সম্পাদক থাকবেন, তাঁর যাবতীয় দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করব আমি। কিন্তু বর্তমানে তিনি যখন তাঁর দায়িত্ব ও কর্তব্য ভার স্বহস্তে গ্রহণ করতে উৎসুক, তখন আমি তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে কিছু বলতে ও করতে চাই না। আমি মোসলেম সমিতি গঠন করে আপনাদের সমক্ষে যে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করছিলাম, আপনাদের সমক্ষেই তা আজ আমি ত্যাগ করলাম এখন হ’তে সমিতির ও স্কুলের ভবিষ্যৎ ভাল বা মন্দের জন্য আমি দায়ী নই। আজ হতে আমি বিদায়।” অতঃপর আমি সমিতির ও স্কুলের যাবতীয় আয় ও ব্যায়ের হিসাব এবং কাগজপত্র সভাপতি সা’বের কাছে বুঝাইয়া দিলাম। উপস্থিত জনগণের মধ্যে এ ব্যাপার নিয়ে যথেষ্ট বাক বিতণ্ডা ও দলাদলির সূত্রপাত হল। সমিতির স্কুলে আমি শিক্ষকতা করলাম ৬ মাস ২৪ দিন।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x