চুরি যাওয়ায় জিনিসের হদিশ পেতে বা চোর ধরতে বাটি চালানের ব্যাপক প্রচলন এখনও আছে। নখ-দর্পণের সঙ্গে বাটি চালানের কিছুটা মিল রয়েছে। বাটি চালানের মিডিয়াম ঠিক করা হয় সাধারণত যার বাড়ি চুরি হয়েছে, তাঁদেরই পরিবারের কোনও কিশোর-কিশোরীকে। এখানেও ওঝা বা গুণীন মিডিয়ামকে পাশে বসিয়ে চুরির খুঁটিনাটি ঘটনা শুনতে থাকে গৃহস্বামীর কাছ থেকে। শুনে নেয় কাদেরকে চোর বলে সন্দেহ করছেন গৃহস্বামী। গৃহস্বামীর সন্দেহ মিডিয়ামকে প্রভাবিত করে। তারপর একসময় বাটি চালানের বাটি আসে। মিডিয়ামকে বাটির উপর দু’হাতের ভর দিয়ে উবু করে বসান হয়। গুণীন ঘন ঘন মন্ত্র আওড়ায়, মাথা ঝাঁকাতে ঝাঁকাতে বলতে থাকে, বাটিটা এবার মিডিয়ামের হাত দুটোকে টানবে। বাটিটা যে মিডিয়ামের হাত টানবেই, এই কথাটাই বার বার গভীর ভাবে টেনে টেনে বলে যেতে থাকে ওঝা। আমাদের হাত নড়ে, বাটিটা তার হাত টানছে, বাটিটা একটু একটু করে গতি পাচ্ছে। বাটিটা চোরের বাড়ির দিকে যাচ্ছে। অনেক সময় সন্দেহভাজন মানুষদের বাটি চালানোর সময় হাজির রাখা হয়। সে ক্ষেত্রে মিডিয়াম ভাবতে থাকতে, বাটি চোরের দিকে যাচ্ছে। একই সঙ্গে বাটির ওপর হাতের ভর রেখে উবু হয়ে বসার ফলে ধারণা সঞ্চারের ফল দ্রুততর হয়।

বাটি-চালানের একটি দৃশ্য

এমনিতেই বাটির ওপর শরীরের ভর আড়াআড়ি ভাবে থাকায় বাটির সরে যাবার বা এগিয়ে যাবার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়াও ‘বাটি চোর ধরতে এগোবে’ এই বিশ্বাস যখন তীব্রতর হয় তখন অবচেতন মন থেকেই মিডিয়ামে বাটিটিকে ঠেলতে শুরু করে। অর্থাৎ মিডিয়াম নিজের অজান্তেই বাটিকে চালনা করে। মিডিয়ামের মনের ভিতর চোর সম্বন্ধে একটা ধারণা সঞ্চারিত বাটিটিকে ঠেলতে শুরু করে। মিডিয়াম নিজের অজান্তেই বাটিকে চালনা করে। মিডিয়ামের মনের ভিতর চোর সম্বন্ধে একটা ধারণা সঞ্চারিত হয়ে রয়েছে। মিডিয়ামের সেই সঞ্চিত ধারণার প্রভাবে অবচেতন মন বাটিটিকে কোনও একজন সন্দেহভাজন মানুষের দিকে অথবা সন্দেহভাজন ব্যক্তির বাড়ির দিকে ঠেলে নিয়ে যায়।