৯-৬-৮১ ইং

২৬-২-৮৮ বাং

 

স্থান – জেলা পরিষদ সভাকক্ষ।

মাননীয় বাকেরগঞ্জ জেলা প্রশাসক সাহেব ও উপস্থিত সুধীবৃন্দ।

আজ আমার অতীব সৌভাগ্য ও পরম আনন্দের একটি দিন। তা এইজন্য যে, আমার প্রতিষ্ঠিত নগণ্য একটি লাইব্রেরীতে মাননীয় জেলা প্রশাসক সাহেব একশত মূল্যবান পুস্তক দানের সিদ্ধান্ত করেছেন এবং তা প্রদান উপলক্ষে আজ একটি মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন। বিশেষত এ অনুষ্ঠানটিকে সাফল্যমণ্ডিত করার জন্য আপনারা আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করে আজ এখানে সমবেত হয়েছেন। কিন্তু এ আনন্দজ্জল দিনটিতে আমার মানসগগনে দেখা দিচ্ছে এক বিষাদময় স্মৃতির কালোমেঘ। যার বর্ষণে সিক্ত হয় শুধু আমার বক্ষদেশ। এ বিষয়ে সংক্ষেপে দু-একটি কথা আমি আপনাদের কাছে বলতে চাই।

জন্ম আমার ১৩০৭ সালে, লামচরি গ্রামের এক দরিদ্র কৃষক পরিবারে। ১৩১১ সালে আমার বাবা মারা যান। আমার বাবার বিঘা পাঁচেক কৃষিজমি ছিলো। তা বাঁকি খাজনায় নিলাম করিয়ে নেন লাখুটিয়ার রায় বাবুরা ১৩১৭ সালে এবং কর্জ-দেনার দায়ে টিনের বসতঘরখানা নিলাম করিয়ে নেন বরিশালের কুখ্যাত ফুসীদজীবী জনার্দন সেন ১৩১৮ সালে। স্বামীহারা, বিত্তহারা ও গৃহহারা হয়ে মা আমাকে নিয়ে ভাসতে থাকেন অকূল দুঃখের সাগরে।

সৌভাগ্যের বিষয় এই যে, রায় বাবুরা কৃষিজমিটুকু দখল করে নিলেন বটে, কিন্তু মাকে বাড়ি থেকে তাড়ালেন না। মা সাবেক ঘরের ভিটির উপর থাকার জন্য যে নতুন একটি ঘর বানালেন, তা ঘর নয়, বাসা। সে বাসাখানা ছিলো দৈর্ঘ্যে পাঁচ হাত ও প্রস্থে চার হাত। ঘরখানা তৈরির সরঞ্জাম ছিলো ধৈঞ্চার চাল, গুয়াপাতার ছাউনী, মাদারের খাম, খেজুরপাতার বেড়া ঢেঁকিলতার বাঁধ। আর তারই মধ্যে ছিলো ভাতের হাঁড়ি, পানির কলসী, পাকের চুলো, কাঁথা-বালিশ সবই। রাতে শুতে হতো পা গুটিয়ে। ঘুমের ঘোরে কখনো পা মেলে ফেললে হয়তো ভাতের হাঁড়ি কাত হয়ে পড়তো বা জলের কলসি পড়ে গিয়ে কাঁথা-বালিশ ভিজে যেতো। একটি এঁটেকলা দ্বারা তখন আমরা মায়ে-পুতে পান্তাভাত খেতাম দু’বেলা।

সে সময়ে আমাদের গ্রামে কোনরূপ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিলো না। স্থানীয় জনৈক মুন্সী একখানা মক্তব খোলেন তাঁর বাড়িতে ১৩২০ সালে। এতিম ছেলে বলে আমি তাঁর মক্তবে ভর্তি হলাম অবৈতনিকভাবে। অন্যান্য সকল ছেলেরই পড়ার জন্য বই ও লেখার জন্য শ্লেট-পেন্সিল ছিলো। কিন্তু আমার ছিলো না ওসব কিছুই। আমাকে পড়তে ও লিখতে হতো তালপাতা ও কলাপাতায়। অন্যদের বই পড়া দেখে মনে দুঃখ হতো। আফসোস করে মনে মনে বলতাম, আমার যদি ওরূপ একখানা পড়বার বই থাকতো, তবে তা আনন্দের সাথে পড়তাম। মার কাছে বই-শ্লেটের কথা জানালে তিনি বলতেন, “বাবা পয়সা কই?”

পড়ালেখার আগ্রহ দেখে আমার এক জ্ঞাতি চাচা একদিন আমাকে ভিক্ষা দিলেন সীতানাথ বসাক কৃত দ’আনা দামের একখানা ‘আদর্শলিপি’ বই ১৩২১ সালে। মনে পড়ে তখন পৌষ মাস। বইখানা ভিক্ষা পেয়ে সেদিন আমি যে কতটুকু আনন্দ লাভ করেছিলাম, তা ভাষায় ব্যক্ত করতে পারবো না। সেদিনটি ছিলো আমার জীবনের সর্বপ্রথম বই হাতে ছোঁয়ার দিন। তাই আনন্দ- স্ফূর্তিতে আমার মনটা যেন ফেটে যাচ্ছিলো। আমি বইখানা হাতে নিয়ে নৃত্য করতে করতে গিয়েছিলাম প্রতিবেশীর বাড়িতে সহপাঠীদের বইখানা দেখাতে। সে বইখানা ছিলো আমার ক্ষুধার্ত মনের খাদ্য। চিবিয়ে, চুষে নানাভাবে অক্ষর ও শব্দগুলোকে উদরস্থ করতে লাগলাম। সে বইখানা পড়ার জন্য আমার নির্দিষ্ট কোন সময় বা অসময় ছিলো না। সারাক্ষন পড়তাম ও সাথে সাথে রাখতাম। বইখানা সাথে নিয়ে মার সাথে মামাবাড়ি বেড়াতে যেতাম। সেই বইখানা ছিলো আমার অতি সাধের সম্পত্তি। কিন্তু আমার সে সাধের সম্পত্তিটুকু রক্ষা করতে বিষাদ দেখা দিলো বর্ষাকালে।

আমাদের তখনকার ঘরখানার কিঞ্চিৎ পরিচয় দিয়েছি একটু আগেই। এ সময় সে ঘরখানার বয়স প্রায় তিন বছর। চালে বৃষ্টির পানি মানায় না। বৃষ্টির সময় বইখানা রাখবার স্থান পেতাম না কোথাও। অল্প বৃষ্টির সময় যেখানে রাখতাম, বৃষ্টি বেশি হলে সেখান থেকে সরাতে হতো, অত্যধিক বৃষ্টি হলে কোথাও স্থান পেতাম না, তখন উপর হয়ে বইখানা রাখতাম বুকের নীচে। সে বইখানা এখন আর আমার বুকের নীচে নেই, হয়তো তার অস্তিত্বই নেই, কিন্তু আজো আমার বুকের মধ্যে রয়ে গেছে তার সেই অসৎসঙ্গ ত্যাগ কর, আলস্য দোষের আকর’ ইত্যাদি নীতিবাক্যগুলো এবং ‘পাখী সব করে রব রাতি পোহাইল, কাননে কুসুমকলি সকলই ফুটিল’ – এই প্রভাতবর্ণনার সুখপাঠ্য কবিতাটি।

আমার সেই শৈশবকালের পুস্তকপ্রীতি হ্রাস পাচ্ছিলো না যৌবনেও। বরং বেড়েই যাচ্ছিলো তা ক্রমশ। সাংসারিক নানাবিধ অভাব-অনটন থাকা স্বত্বেও আমি কিছু কিছু পুঁথি-পুস্তক সংগ্রহ করতে শুরু করি ১৩৩০ সাল থেকে, একটি ব্যক্তিগত পাঠাগার গড়ে তোলবার জন্য। দীর্ঘ ১৮ বছর সাধনার ফলে আমার সংগৃহীত পুস্তকের সংখ্যা হল প্রায় ৯০০। আলমারী ছিল না বলে সে পুস্তকগুলো রাখা হচ্ছিলো আমার বৈঠকঘরে তাকে তাকে সাজিয়ে। প্রকৃতি আমার স্বপক্ষে ছিলো না। ১৩৪৮ সালের ১২ই জ্যৈষ্ঠ তারিখের সর্বনাশা ঘূর্ণিঝড়ে উড়িয়ে নিলো আমার বৈঠক ঘরখানা এবং তৎসঙ্গে উড়িয়ে নিলো অতি সাধের বই-পুঁথিগুলোও। পরের দিন পথে-প্রান্তরে পেয়েছিলাম দু’চারখানা ছেঁড়া পাতা। মাতৃশোকে আমি কাঁদিনি, কিন্তু বইগুলোর দুঃখে সেদিন আমার যে কান্নার বান ডেকেছিলো, তা আমি রোধ করতে পারিনি।

ভগ্নোৎসাহ নিয়ে আবার আমি সচেষ্ট হলাম কিছু কিছু বই-পুস্তক সংগ্রহের কাজে। এবারে ১৭ বছরের প্রচেষ্টায় আমার সংগৃহীত বইয়ের সংখ্যা হল প্রায় ৪০০। কিন্তু পরম পরিতাপের বিষয় এই যে ১৩৬৫ সালের ৬ই কার্ত্তিক তারিখে ঘটলো ১৩৪৮ সালের ১২ই জ্যৈষ্ঠ তারিখের ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এবারেও আমারে বৈঠকখানাসহ উড়িয়ে নিলো আমার প্রাণ-প্রিয়  পুস্তকগুলো। সেদিন আমি ক্ষোভে ও দুঃখে মুহ্যমান হয়ে এই বলে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম যে, ‘পুস্তক’ সংগ্রহ করবো না কখনো আর, যদি উপযুক্ত গৃহ নির্মাণ করতে না পারি।’

উক্ত প্রতিজ্ঞার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ ২১ বছরের কায়িক শ্রমে অর্জিত অর্থের দ্বারা আমি ক্ষুদ্র একটি গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠা করেছি বিগত ১৩৮৬ সালে এবং তা উৎসর্গ করেছি জনকল্যাণের উদ্দেশ্যে, যার শুভ-উদ্বোধন পর্বে পৌরহিত্য করেছেন মাননীয় জেলা প্রশাসক সাহেব বিগত ২৫ জানুয়ারী তারিখে।

মাননীয় জেলা প্রশাসক সাহেব ও শ্রদ্ধেয় সভাসদবৃন্দ।

আপনারা এখন হয়তো উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, নব-নির্মিত ক্ষুদ্র লাইব্রেরীটি আমার সুদীর্ঘ ৫৬ বছরের বিফল-সফল সাধনা ও ত্যাগ-তিতিক্ষার ফল। আমার এ লিখিত বানীগুলো উপন্যাস নয় – ইতিহাস। এর কিছু পরিচয়-পত্র এখানেও আছে। শ্রদ্ধেয় অধ্যাপক কাজী গোলাম কাদির সাহেব এখানে আছেন। তিনি আমাকে ভালোভাবে জানেন। তাঁকে ‘বন্ধু’ বলে পরিচয় দেবার মতো যোগ্যতা আমার নেই, বলতে পারি আমি তার ‘অনুগামী’ ১৯৪৪ সাল থেকে। তিনি জানেন না বা শোনেননি – আমার জীবনে এমন ঘটনা বিরল। তিনি আমার মানসগগনের ধ্রুবতারা, চলার পথে দিগদর্শন।

আমার বর্তমান লাইব্রেরীটি প্রতিষ্ঠার পূর্বে আমি কোনরূপ পুস্তকাদি সংগ্রহে মনোযোগী হইনি কখনো প্রতিজ্ঞা রক্ষার কারণেই এবং এখন পারছি না আর্থিক অনটনের কারণে। কেননা লাইব্রেরী নির্মাণ ও কিছু আসবাবপত্র তৈরিতে নিঃশেষ হয়ে গেছে আমার সামান্য পুঁজি প্রায় সবই। আমার কেনা বইয়ের সংখ্যা এখনো নগণ্য। তবে বাংলাদেশ লেখক শিবির থেকে প্রাপ্ত পুরস্কার এবং ঢাকাস্থ কতিপয় বিদ্যোৎসাহী বন্ধুর প্রদত্ত দান ও উপহার সমেত আমার লাইব্রেরীটির বর্তমান মজুত বইয়ের সংখ্যা মাত্র ৪০০।

নিয়তির নির্মমতায় আমি কোন শিক্ষায়নে শিক্ষালাভের সুযোগ পাইনি প্রচলিত নিয়ম মাফিক। তাই কোন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা আমার শিক্ষায়তন নয়, আমার শিক্ষায়তন হচ্ছে লাইব্রেরী। দীর্ঘকাল বিভিন্ন লাইব্রেরীর সংস্পর্শে থেকে আমার দৃঢ় প্রত্যয় জন্মেছে যে, লাইব্রেরী হচ্ছে জ্ঞানালোক বিতরণের কেন্দ্র, বলা যায় ‘আলোকস্তম্ভ’। লাইব্রেরী অমানুষকে মানুষ বানাতে পারে, পারে অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার দূর করতে। হোক না কেন তারা সংখ্যায় শত বা হাজার-এ দু-এক জন। আমার সে বিশ্বাসের বলেই আমি প্রতিষ্ঠিত করেছি পল্লী অঞ্চলে পাবলিক লাইব্রেরী। আর ঐ একই উদ্দেশ্য নিয়ে করেছি আমি স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তিদানের ব্যবস্থা। হয়তো প্রশ্ন হবে যে, লামচরির মতো একটি নিভৃত পল্লীতে এরূপ একটি ক্ষুদ্র মশাল জ্বালিয়ে দেশের কতটুকু স্থান আলোকিত করা যাবে? এর উত্তর দিচ্ছি।

মাননীয় জেলা প্রশাসক সাহেবের আদেশ মোতাবেক আমি আমার লাইব্রেরী সংক্রান্ত একটি পরিকল্পনা পেশ করেছিলাম তাঁর কাছে বিগত ১-৩-৮০ (ইং) তারিখে। তাতে এক জায়গায় আমি বলেছিলাম, “আমি আশা করি যে, এতে আমাদের পল্লী অঞ্চলের জ্ঞানপিপাসু জনগণের  জ্ঞানপিপাসা মেটাবার কিঞ্চিৎ সুবিধে হবে এবং লাইব্রেরীটির অনুকরণে হয়তো দেশের সর্বত্র পল্লী অঞ্চলে পাবলিক লাইব্রেরী গড়ে উঠবে। তবে আমার এ পরিকল্পনাটিকে সফল করতে আবশ্যক হবে এর ব্যাপক প্রচারের। তাই আমি আপনাদের কাছে বিশেষভাবে মাননীয় জেলা প্রশাসক সাহেবের কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি আমার এ পরিকল্পনাটির ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করার জন্য, যদি এতে দেশের কোনরূপ মঙ্গলের বীজ নিহিত আছে বলে মনে করেন।”

আজ মনে পড়ে আমরা শৈশবকালের সেই ‘আদর্শলিপি’ বইখানা প্রাপ্তির আনন্দের দিনটিকে। সে দিনটি ছিল আমরা শৈশবকালের এবং আজকের দিনটি হচ্ছে আমার অন্তিমকালের পুস্তকপ্রাপ্তির আনন্দের দিন। এ দু’টি দিন যেন আমার জীবনের দু’দিকের দু’টি মেরুবিন্দু। যদিও আমার সে দিনটিতে ও এ দিনটিতে সামঞ্জস্য রয়েছে অনেক, তবুও বিবিধ কারণে আমার জীবনে আজকের এ দিনটিই গৌরবজ্জল, সুমহান। এ বিষয়ে আমি তুলনামূলক কিঞ্চিৎ আলোচনা করে আমার বক্তব্য শেষ করবো।

(১) সেদিনে আমার দানপ্রাপ্ত পুস্তকের সংখ্যা ছিলো মাত্র একখানা। আর এদিনের সংখ্যা একশত।

(২) সেদিনের পুস্তকখানার দাম ছিলো মাত্র দু’আনা। আর এদিনের মূল্য দু’হাজার টাকা বা তারো বেশী, বলা যায় – অমূল্য।

(৩) সেদিনের পুস্তকখানা ছিলো মাত্র একজন লোকের পাঠ্য। আর এদিনের পাঠক অসংখ্য।

(৪) সেদিনের বইখানা করেছে শুধু পড়া ও লেখার শক্তি দান। আর এদিনের পুস্তকমালা মেটাবে মানুষের বহুমুখী জ্ঞানের পিপাসা।

(৫) সেদিনের পুস্তকখানাতে ছিলো আমার মালিকানা স্বত্ব। আর এদিনের পুস্তকমালার আমি বাহক মাত্র। কেননা আমার লাইব্রেরীটি জনকল্যাণে উৎসর্গিত।

(৬) সেদিনের পুস্তকখানা ছিলো মাত্র এক বা দু’বছরের পাঠ্য। আর এদিনের পুস্তক হবে মানুষের যুগ-যুগান্তের সাথী।

(৭) সেদিনের পুস্তকখানা গ্রহণে আমার যে আনন্দ ছিলো – চরম দুঃখের ঘোর দুর্দিনে বালসুলভ আনন্দ। আর এদিনের আনন্দ হচ্ছে আমার পরিণত বয়সের গৌরবোজ্জল দিনের অনাবিল আনন্দ। আর এদিনের আনন্দ হচ্ছে আমার পরিণত বয়সের গৌরবোজ্জল দিনের অনাবিল আনন্দ। তাই এ মহানন্দ নিয়ে আজ গ্রহণ করবো আমি – মাননীয় জেলা প্রশাসক জেলা প্রশাসক সাহেবের ঔদার্যের নিদর্শনস্বরূপ তাঁর প্রদত্ত অমূল্য গ্রন্থাবলী।

পরিশেষে – আমি মনে করি যে, আমার চরিত্রের প্রশংসা করেন, কাজের পৃষ্ঠপোষকতা করেন, এবং উদ্দেশ্য সিদ্ধির সহায়তা করেন – এমন মানুষের সংখ্যা এদেশে এতোই অল্প যে, তাঁদের অঙ্গুলি সংকেতে গণনা করা যায়। আমার মনে হয় যে, মাননীয় জেলা প্রশাসক সাহেব সেই অল্পসংখ্যকের একজন। আমি তাঁর সৌরভময় জীবন ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বক্তব্য শেষ করছি।

ধন্যবাদ – শুভ হোক।

প্রখ্যাত বাগ্মী ও আইনজীবী জনাব বি. ডি. হাবিবুল্লাহ, বাউ সুধীর সেন, অধ্যাপক কাজী গোলাম কাদির প্রভৃতি মনীষীবৃন্দ সভায় ভাষণ দান করেন। শেষপর্বে মাননীয় জেলা প্রশাসক সাহেব আমার হস্তে একখানা পুস্তক প্রদান করেন এবং বরিশালের সুখ্যাতা মহিলা এম. পি. মিসেস ফেরদৌসী বেগমকে আমার হস্তে একখানা পুস্তক প্রদানের জন্য অনুরোধ জানালে তিনি আমার হস্তে একখানা পুস্তক অর্পণ করে তাঁর সৌজন্য রক্ষা করেন। মাননীয় জেলা প্রশাসক সাহেবের প্রদত্ত ১০০ পুস্তকের মূল্য ৩৩৯৩.৫০ টাকা। কিন্তু তার বিষয়গত মূল্য সীমাহীন।

আলোচ্য লাইব্রেরীটির উন্নয়নকল্পে সর্বসমক্ষে আমার প্রিয় স্বজন মোশাররফ হোসেন মাতুব্বর আমার হস্তে একখানি ২৫০০.০০ টাকার চেক প্রদান করেন।

জেলা প্রশাসক সাহেবের পুস্তক প্রদান অনুষ্ঠানের একটি সংক্ষিপ্ত খবর প্রকাশিত হয়েছে বিগত ১৬-৬-৮১ তারিখে, ‘বাকেরগঞ্জ পরিক্রমা’ পত্রিকায়। খবরটি নিম্নে উদ্ধৃত করা হল।

 

বাকেরগঞ্জ পরিক্রমার খবর

১৬-৬-৮১

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x