এতক্ষণে আমি ছোট্ট করে আলোচনা করেছি সম্মোহনের ইতিহাস নিয়ে, কারণ সম্মোহন নিয়ে আলোচনার গভীরে ঢোকার আগে সম্মোহনের ইতিহাস জানবারও প্রয়োজন আছে। সম্মোহনের ইতিহাস বলতে গেলেই শুরু করতে হবে প্রাচীন সভ্যতার আদিপর্ব থেকে, আর শেষ করতে হবে এযুগের মনোবিদ্যার দুই শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্ব পাভলভ ও ফ্রয়েডের পরস্পরবিরোধী আলোচনার মধ্য দিয়ে।

পাভলভ ও ফ্রয়েডকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর মনোবিজ্ঞানীরা চালিয়ে যাচ্ছেন ঠান্ডা-গরম লড়াই। পাভলভ ও ফ্রয়েড দুজনেই সমসাময়িক। পাভলভ জন্মেছিলেন ১৮৪৮ সালে। মারা যান ১৯৩৬ সালে। ফ্রয়েড জন্মেছিলেন ১৮৫৬ সালে। মৃত্যু ১৯৩৯ সালে। আমৃত্যু এই দুই মনীষীই ছিলেন স্বতত্ত্বে আত্মপ্রত্যয়ী ও সক্রিয়।

মানসিকতার হদিস পেতে পাভলভ মেতেছিলেন প্রকৃতিবিজ্ঞানের পথে উচ্চ-মস্তিষ্কের ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার গবেষণায়, আর ফ্রয়েড মানসিকতার সন্ধান পেতে চেয়েছিলেন মস্তিষ্ক বিজ্ঞানের সাহঅ্যা ছাড়া মনের গভীরে। পাভলভ এগিয়ে ছিলেন উচ্চ-স্নায়ুতন্ত্রের ক্রিয়া-প্রক্রিয়ার বিজ্ঞান সম্মত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথে, ফ্রয়েড এগিয়ে ছিলেন মনোবিজ্ঞানের চিকিৎসক ও রোগী দু’জনেরই মনোসমীক্ষার পথে। পাভলভকে আবিষ্কার ‘উচ্চতর স্নায়ুবিজ্ঞান’ এবং ফ্রয়েডের আবিষ্কার –‘অবচেতন মনের বিজ্ঞান’। পাভলভ তত্ত্বকে ঘিরে রয়েছেন ‘Objective’ (বস্তুবাদী) দৃষ্টিভঙ্গির মনোবিজ্ঞানীরা, আর ফ্রয়েডের তত্ত্বকে ঘিরে রয়েছেন ‘Subjective’ (আত্মবাদী) অন্তর্দর্শনে বিশ্বাসী মনোবিজ্ঞানীরা।

এই দুই মহারথীর তত্ত্বে বিরোধীতা রয়েছে ঘুম, স্বপ্ন, শিশুমন,  শিশুশিক্ষা, মনোবিকারের কারণ, এবং চিকিৎসা প্রভৃতি নানা বিষয়ে।

যাই হোক, আসুন, এভার আমরা ইতিহাস ছেড়ে সম্মোহনের ভিতরে ঢুকি।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x