এই প্রসঙ্গে আর একজনের কথা না বললে বোধহয় কিছুটা অবিচার হয়। তিনি হলেন ডাইনী সম্রাজ্ঞী ইপ্সিতা রায় চক্রবর্তী। ১৯৮৭-৮৮ ঈপ্সিতাকে নিয়ে ভারতের বিভিন্ন ভাষা-ভাষী পত্র-পত্রিকা বিশাল বিশাল কভারেজ দিয়েছে। তাঁর সম্বন্ধে লেখা হয়েছিল –ঈপ্সিতা যে কোনও রোগীকেই রোগমুক্ত করতে পারেন। তবে কোন রোগীকে রোগ মুক্ত করবেন সেটা তিনিই ঠিক করেন।

ঈপ্সিতার সঙ্গে আমার একটা মোলাকাত হয়েছিল এবং সেই সাক্ষাৎকারটা ঈপ্সিতার পক্ষে মোটেই সুখের ছিল না। এই প্রসঙ্গে বিস্তৃতভাবে আলোচনা করব ‘অলৌকিক নয়, লৌকিক’-এর দ্বিতীয় খন্ডে। শুধু এটুকু এখানে বলে রাখি, ঈপ্সিতা সেইসব রোগীদের রোগমুক্ত করার দায়িত্বই শুধু নিতেন, যাদের রোগ বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে আরোগ্য করা সম্ভব।

ঈপ্সিতাকে প্রথম খোলামেলা চ্যালেঞ্জ জানিয়েছিলাম ১২ আগস্ট ১৯৮৮ ‘আজকাল’ পত্রিকার খাতায়। জানিয়েছিলাম, “ঈপ্সিতা কি তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণ রাখতে আমার হাজির করা পাঁচজন রোগীকে সুস্থ করে তুলতে রাজি আছেন? তিনি জিতলে আমি দেব পঞ্চাশ হাজার টাকার প্রণামী, সেইসঙ্গে থাকব চিরকাল তাঁর গোলাম হয়ে।“

ডাইনি সম্রাজ্ঞী ইপ্সিতা

১৯৮৮-র ১১ ডিসেম্বর এক সাংবাদিক সম্মেলনেও আমাদের সমিতির তরফ থেকে ঈপ্সিতাকে আহ্বান জানিয়েছিলাম তাঁর অলৌকিক ক্ষমতার প্রমাণ দেওয়ার জন্যে হাজির হতে। রোগী দেব। রোগমুক্তি ঘটাবার জন্যে দেব ছয় মাস সময়। কিন্তু আমাদের সমিতির আমন্ত্রণ পাওয়া সত্ত্বেও ঈপ্সিতা সাংবাদিক সম্মেলনে হাজির হওয়ার ধৃষ্টতা দেখাননি। দেখালে তাঁর বুজরুকি সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে পড়ত।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x