অপ্রকাশিত

 

রচনাকাল ১৮.২. ১৩৮১

 

স্মরণিকা

অত্র তালিকায় লিখিত বাজী তৈয়ারের ব্যবস্থাসমূহ জনৈক চীনা আতসকারের ব্যবস্থা। প্রায় ৬০ বৎসর পূর্বে জনৈক চীনা আতসকার বাংলাদেশ ভ্রমণে আসেন এবং বাখরগঞ্জ ভ্রমণের সময় বরিশালের তৎকালিক ইউরোপীয় জমিদার মি. ব্রাউনের কুটিরে কিছুদিন অবস্থান করেন (মি. ব্রাউনকে এদেশের লোকে বরান সাইব বলিত)। এই সময় মহিউদ্দিন খানসামা নামে মি. ব্রাউনের একজন বাঙ্গালী বাবুর্চি ছিলেন। তিনি চীনা আতসকারের নিকট কয়েক প্রকার বাজী তৈয়ার শিখিয়া রাখেন এবং তাঁহার নিকট হতে শিক্ষা করেন মকরম প্রতাপ নিবাসী যোগেশচন্দ্র দাস। আমি ১৩৫৬ সালের ১০ চৈত্র দাস মহাশয়ের বাড়িতে যাইয়া তাঁহার নিকট হইতে অত্র তালিকায় লিখিত ১-১০ নং দফে পর্যন্ত বাজী তৈয়ারের ব্যবস্থা লিখিয়া লই। কিন্তু এই ব্যবস্থা অনুযায়ী আমি কখনো বাজী তৈয়ার করি নাই। তাহার কারণ এই যে, স্থানীয় ভুলু ডক্তারের সহযোগিতায় একদা বোমা তৈয়ার পরীক্ষাকালীন আকস্মিক বিপদে পড়ায় সেই দিন প্রতিজ্ঞা করিয়াছিলাম যে, জীবনে আর কখনো স্বহস্তে বাজী তৈয়ার করিব না।

১১-১৪ নং দফের লিখিত ‘অগ্নি উৎপাদক’ ব্যবস্থাসমূহ প্রাপ্ত হইয়াছি বিগত ৯.১১.৫০ (ইং) তারিখে প্রকাশিত ‘আনন্দবাজার’ পত্রিকায়।

কোন অভিজ্ঞ আতসকারের সহযোগিতা ছাড়া কোন ব্যক্তির বাজী তৈয়ারে হাত না দেওয়াই ভাল। বিশেষত বোমাদি মারাত্মক বাজী তৈয়ারে হাত দেওয়া গুরুতর অন্যায়।

আরজ আলী মাতুব্বর

লামচরি, ১৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৩৮১

 

উপকরণ সের তোলা
শোরা
গন্ধক
কয়লা (কদম)



১০
২০
পটাশ ক্লোরাস
গন্ধক
কয়লা (বড়ই)



১০
২০
শোরা
গন্ধক
কয়লা (বড়ই)
লোহা চূর্ণ




২৫
১২।।
২০
শোরা
গন্ধক
মনশীলা
অথবা
বাহারী





৪০
২০

২০
লাল
মাতাম
বেরাটিয়া
পটাশ ক্লোরাস
ভূষা কালি
হাওইর
বোম
পটাশ ক্লোরাস
মনশীলা
চকরী শোরা
গন্ধক
কয়লা (বড়ই)
লোহা চূর্ণ
বন্দুকের
বারূদ
শোরা
অঙ্গার
গন্ধক
অগ্নি উৎপাদক পটাশ ক্লোরাস
চিনি
সালফিউরিক এসিড