সত্য সাঁইবাবা সম্বন্ধে এও শুনেছি যে, অনেকের বাড়িতে রাখা সাঁইবাবার ছবি থেকে নাকি পবিত্র ছাই বা বিভুতি ঝড়ে পড়ে। গত শতকের আটের দশকে কলকাতায় জোর গুজব ছড়িয়ে ছিল যে অনেকের বাড়ির সাঁইবাবার ছবি থেকেই নাকি বিভূতি ঝড়ে পড়ছে। প্রতিটি মিথ্যে গুজবের মতোই এই ক্ষেত্রেও প্রত্যক্ষদর্শীর অভাব হয়নি। ব্যক্তিগত ভাবে আমি যাঁদের মুখেই এইসব গুজব শুনেছি তাঁদেরই চেপে ধরেছি। আমার জেরার উত্তরে প্রায় সকলেই জানিয়েছেন যে তাঁরা নিজের চোখে বিভূতি ঝড়ে পড়তে দেখেনি। যারা সত্যিই বাস্তবে ছবি থেকে বিভূতি পড়তে দেখেছেন, তাঁরা শতকরা হিসেবে সংখ্যায় খুবই কম। তাঁরা দেখেছেন ভক্তদের বাড়ির ছবি থেকে বিভূতি পড়তে বা ছবির তলায় বিভূতি জমা হয়ে থাকতে। এই বিভূতি বা ছাই সৃষ্টি হয়েছে দু’রকম ভাবে। (১) কোনও সাঁইবাবার ভক্ত অন্য সাঁই ভক্তদের চোখে নিজেকে বড় করে তোলার মানসিকতায় সাঁইবাবার ছবির নিচে নিজেই সুগন্ধি ছাই ছড়িয়ে রাখে। (২) সাঁইবাবার ছবির কাচে যদি ল্যাকটিক এ্যাসিড ক্রিস্টাল বাতাসের সংস্পর্শে এলে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে ছাইয়ের মতো ঝরে পড়তে থাকবে।

ব্যাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফ থেকে সাঁইবাবার ওপর অনুসন্ধানের জন্য ১২ জনের একটি কমিটি গঠন করা হয়। নাম দেওয়া হয় Saibaba Exposure Committee।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সময়কার উপাচার্য ডঃ নরসিমাইয়া ছিলেন এই কমিটির উদ্যোক্তা। সাঁইবাবার সহযোগিতার অভাবে কমিটি শেষ পর্যন্ত অনুসন্ধান চালাতে ব্যর্থ হন।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x