লোকেরা পুনরায় অভিযোগ করল

১. লোকেরা তাদের সমস্যা সম্পর্কে অভিযোগ করা শুরু করলে প্রভু তাদের অভিযোগ শুনলেন এবং ক্ষুব্ধ হলেন। প্রভুর কাছ থেকে আগুন এসে লোকদের মধ্যে জ্বলে উঠল। আগুন শিবিরের বাইরের দিকে কিছু কিছু এলাকা গ্রাস করল। 

২. তখন লোকেরা মোশির কাছে সাহায্যের জন্য ক্রন্দন করল। মোশি প্রভুর কাছে প্রার্থনা করলেন এবং আগুন নিভে গেল। 

৩. সুতরাং তারা ঐ জায়গাটির নাম রাখল তবেরা, কারণ প্রভুর আগুন তাঁবুতে নিয়ে এসো। ওখানেই ওদের তোমার সঙ্গে তাদের শিবিরের মধ্যে জ্বলে উঠেছিল।

৭০ জন বয়স্ক নেতা

৪. বিদেশীরা যারা ইস্রায়েলের লোকেদের সঙ্গে যোগদান করেছিল, তারা অন্যান্য খাবার খেতে চাইল এবং ইস্রায়েলের লোকেরা পুনরায় অভিযোগ করতে শুরু করল। তারা বলল, “কে আমাদের মাংস খেতে দেবে?

৫. আমর৷ মিশরে যে মাছ খেতাম তা মনে পড়ছে। আমাদের ঐ মাছের জন্য কোনো দামই দিতে হত না। এছাড়াও আমাদের খুব ভালো শাকসব্জি ছিল যেমন শশা, ফুটি, পেঁয়াজ জাতীয় ফল, পেঁয়াজ এবং রসুন।

৬. “কিন্তু এখন আমরা আমাদের শক্তি হারিয়ে ফেলেছি। এই মান্না ছাড়া আর কোন কিছুই আমরা চোখে দেখতে পাই না।”

৭. (এই মান্না ছিল ধনিয়া বীজের মত এবং এর রং ছিল গুগ্‌গুলের মতো।

৮. লোকেরা এই মান্না এক জায়গায় জড়ো করত। এরপর তারা পাথরের সাহায্যে সেগুলোকে গুঁড়ো করে পাত্রে সেটি রান্না করত। অথবা এটিকে পেষণ যন্ত্রে মিহি করে গুঁড়ো করে তা দিয়ে পিঠে তৈরি করত। পিঠেগুলোর স্বাদ ছিল অলিভ তেল দিয়ে তৈরি করা পিঠের মতো।

৯. প্রত্যেক রাত্রে যখন শিশির পড়ে শিবির ভিজে যেত সেই সময় এই মান্না মাটিতে পড়তো।)

১০. “মোশি লোকেদের অভিযোগ করতে শুনলেন। প্রত্যেক পরিবারের লোকেরা তাদের তাঁবুর দরজায় বসে এই অভিযোগ করছিলো। প্রভু এতে খুব ক্ষুব্ধ হলেন এবং এটা মোশিকেও মনঃক্ষুণ্ণ করল।

১১. “মোশি প্রভুকে জিজ্ঞেস করলেন, “প্রভু, তুমি কেন আমাকে এইসব সমস্যায় জড়িয়েছো? আমি তোমার সেবক। আমি এমন কি করেছি যে তুমি অসন্তুষ্ট হয়েছ? এই সমস্ত লোকের দায়িত্ব তুমি কেন আমার উপর দিয়েছ?

১২. আমি কি লোকদের গর্ভে ধারণ করেছি, আমি কি এদের জন্ম দিয়েছি? কিন্তু আমাকে তাদের যত্ন নিতে হয়, ঠিক যেমনভাবে একজন সেবিকা তার দুই বাহুর মধ্যে একটি শিশুকে যত্ন করে। তুমি কেন আমাকে এটি করার জন্যে বাধ্য করছো? পূর্বপুরুষদের কাছে যে জায়গাটা দেবার জন্যে তুমি প্রতিজ্ঞা করেছিলে তাদের সেই জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্যে কেন তুমি আমায় বাধ্য করেছো?

১৩. এইসব লোককে খাওয়াবার জন্যে আমি কোথায় মাংস পাব? তারা সমানে আমার কাছে অভিযোগ করে বলছে, ‘আমাদের খাবার জন্য মাংস দাও!’

১৪. আমি একা এই সমস্ত লোকের দেখাশুনো করতে পারবো না। এই দায়িত্ব আমার কাছে গুরুভারস্বরূপ।

১৫. তুমি যদি মনস্থ করে থাকো যে আমার প্রতি এইরকম ব্যবহার করবে তাহলে আমাকে এখনই হত্যা করো। তুমি যদি তোমার সেবক হিসেবে আমাকে গ্রহণ করো তাহলে আমাকে এখনই মরতে দাও।”

১৬. “প্রভু মোশিকে বললেন, “ইস্রায়েলের প্রাচীনদের মধ্য থেকে ৭০ জনকে আমার কাছে নিয়ে এসো। যাদের তুমি এই লোকেদের নেতা বলে জান তাদের সমাগম তাঁবুতে নিয়ে এসো। ওখানেই ওদের তোমার সঙ্গে দাঁড়াতে দাও।

১৭. তখন আমি নীচে নেমে আসব এবং ওখানেই তোমার সঙ্গে কথা বলবো। তোমার ওপরে যে আত্ম৷ আছে তার কিছুটা অংশ আমি তাদেরও দেবো। তখন তারা লোকেদের দেখাশুনো করার জন্য তোমাকে সাহায্য করবে। তাহলে তোমাকে এক৷ এইসব লোকেদের দেখাশুনো করার ভার বহন করতে হবে না।

১৮. “লোকেদের বলো: তোমরা আগামীকালের জন্য নিজেদের তৈরী করো। আগামীকাল তোমরা মাংস খাবে। প্ৰভু তোমাদের কান্না শুনেছেন। প্রভু তোমাদের কথা শুনেছেন, কারণ তোমরা কেঁদে বলেছ, ‘খাওয়ার জন্য আমাদের কে মাংস দেবে? আমাদের জন্য মিশরই ভালো ছিল।’ সুতরাং এখন প্রভু তোমাদের মাংস দেবেন এবং তোমরা তা খাবে।

১৯. একদিন অথবা দুইদিন অথবা পাঁচদিন অথবা দশদিন এমনকি কুড়িদিনেরও বেশী সময় ধরে তোমরা সেই মাংস খাবে।

২০. কিন্তু তোমরা তা এক মাস ধরে খাবে। ঘেন্না না আসা পর্যন্ত তোমরা ঐ মাংস খাবে। এটাই তোমাদের ভবিতব্য কারণ তোমরা প্রভুকে অগ্রাহ্য করেছ যিনি তোমাদের মধ্যেই আছেন এবং তোমরা কেঁদে তাঁর সামনে অভিযোগ করে বলেছ, ‘কেন আমরা আদৌ মিশর ত্যাগ করলাম?”

২১. মোশি বললেন, “প্রভু এখানে ৬,০০,০০০ পুরুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে আর তুমি বলছো, ‘আমি তাদের এক মাস ধরে খাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে মাংস দেব!

২২. যদি আমরা সমস্ত গরু এবং মেষদের হত্যা করি তাহলেও এক মাস ধরে এই সমস্ত লোকদের খাওয়ানোর জন্য তা যথেষ্ট হবে না। এবং আমরা যদি সমুদ্রের সমস্ত মাছ ধরে নিই, তাহলেও তা তাদের জন্য যথেষ্ট হবে না!”

২৩. কিন্তু প্রভু মোশিকে বললেন, “প্রভুর ক্ষমতা কি সীমিত? তুমি দেখতে পাবে যে, আমি যা বলি সেটা তোমার কাছে ফলে কি না।”

২৪. সুতরাং মোশি লোকেদের সঙ্গে কথা বলার জন্য বেরিয়ে গেলেন। প্রভু যা যা বলেছিলেন মোশি তাদের তাই বললেন। তখন মোশি প্রবীণদের মধ্য থেকে ৭০ জনকে এক জায়গায় জড়ো করে তাদের তাঁবুর চারদিকে দাঁড়াতে বললেন।

২৫. তখন প্রভু মেঘের মধ্যে নেমে এসে মোশির সাথে কথা বললেন। মোশির ওপর আত্মা ছিল, প্রভু সেই আত্মার কিছু অংশ নিয়ে ৭০ জন প্রবীণদের ওপরেও রাখলেন। আত্মা তাদের ওপরে নেমে আসলে পরে তারা ভবিষ্যদ্বাণী করতে শুরু করলেন। কিন্তু এরপর তারা আর ভাববাণী বলেননি।

২৬. প্রবীণদের মধ্যে দুজন, ইলদদ এবং মেদদ তাদের তাঁবুর বাইরে যাননি। তাদের নাম প্রাচীনদের তালিকায় ছিল, কিন্তু তারা শিবিরেই ছিলেন। কিন্তু তাদের ওপরেও আত্মা এলে তারা শিবিরের মধ্যেই ভবিষ্যদ্বাণী করতে শুরু করলেন।

২৭. ”একজন যুবক দৌড়ে গিয়ে মোশিকে এই খবর দিলেন। সেই ব্যক্তি বললেন, “ইলদদ এবং মেদদ শিবিরের মধ্যেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন।”

২৮. নূনের পুত্র যিহোশূয় (যিনি কিশোর বয়স থেকেই মোশির সহকারী ছিলেন) মোশিকে বললেন, “হে আমার গুরু মোশি আপনি তাদের থামান!”

২৯. কিন্তু মোশি উত্তর দিলেন, “তুমি কি ভয় পাচ্ছো। যে লোকেরা ভাববে আমি এখন আর নেতা নই? আমার ইচ্ছ৷ প্রভুর সব প্রজাই যেন ভবিষ্যদ্বাণী করতে সক্ষম হয়। আমার ইচ্ছা প্রভু যেন সকলের মধ্যেই তাঁর আত্মাকে রাখেন।”

৩০. এরপর মোশি এবং ইস্রায়েলের নেতারা শিবিরে ফিরে গেলেন।

ভারুই পাখীরা এলো

৩১. এরপর প্রভু ঝড়ের সৃষ্টি করলেন যা সমুদ্র থেকে হঠাৎ এসে হাজির হল। ঝড় সেখানে হঠাৎই ভারুই পাখীদের নিয়ে এল। ভারুই পাখীরা শিবিরের চারধারে উড়ে বেড়াতে লাগল। এতো বেশী ভারুই পাখী ছিল যে সেই জায়গার মাটি ঢেকে গেল। ভারুই পাখীগুলো মাটির ওপরে তিন ফুট স্তর তৈরী করল। একজন মানুষ একদিনে যতদূর পর্যন্ত হাঁটতে পারে, ততদূর পর্যন্ত ভারুই পাখীগুলো ছড়িয়ে ছিল।

৩২. তারা গিয়ে সারাদিন এবং সারারাত ধরে ভারুই পাখীগুলোকে জড়ো করল। পরের দিনও সারাদিন ধরে তারা ভারুই পাখীগুলো জড়ো করল। একজন ব্যক্তি সবচেয়ে ন্যূনতম ৬০ বুশেল সংগ্রহ করল। এরপর লোকেরা ভারুই পাখীর মাংস শিবিরের চারদিকে ছড়িয়ে রাখল।

৩৩. যখন লোকেরা মাংস খাওয়া শুরু করল তখন প্রভু খুব ক্রুদ্ধ হলেন। সেই মাংস তাদের মুখে থাকতে থাকতেই এবং তাদের মাংস খাওয়া শেষ করার আগেই প্রভু তাদের গুরুতরভাবে অসুস্থ করে দিলেন। অনেক লোক মারা গেল এবং ঐ জায়গাতেই তাদের কবর দেওয়া হল।

৩৪. এই কারণেই লোকেরা ঐ জায়গার নাম রাখল কিব্রোৎ-হত্তাবা। তারা ঐ জায়গার ঐ নাম দিল কারণ যাদের মাংসের জন্য খুব আকাঙ্খা ছিল তাদেরই ওখানে কবর দেওয়া হয়েছিল।

৩৫. কিব্রোৎ-হত্তাবা থেকে লোকেরা হৎসেরোতের দিকে যাত্রা করল এবং সেখানেই থাকল।