আমি তো হ্যাকারদের মতো সাইবার ক্রাইম করে অর্থ উপার্জন করবো না, কিংবা অন্যের ডিভাইস, ওয়েবসাইট কিংবা যে কোন ধরনের সাইবার ত্রুটি খুঁজে বের করে কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে এতো পর-উপকারের ইচ্ছাও নেই, তাহলে আমি কেন কষ্ট করে, মাথা খাটিয়ে হ্যাকার হতে যাবো?

যৌক্তিক প্রশ্ন বটে। হ্যাকার কি শুধু  অন্যের ক্ষতি আর উপকারের উদ্দেশ্যেই হ্যাকিং বিদ্যা আয়ত্ব করে? না, মোটেও তা নয়। কিছু হ্যাকার অন্যের ক্ষতি করতে হ্যাকিং প্র্যাকটিস করে, সেটা ভিন্ন বিষয়, তবে অনেকেই সখ করে প্র্যাকটিস করে, অনেকে নিজের সাইবার সিকিউরিটির জন্য প্র্যাকটিস করে। তাহলে আপনি হ্যাকিং প্র্যাকটিস করবেন কোন উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে?

হ্যাঁ, নিশ্চয় এতোক্ষনে বুঝতে পেরেছেন। আপনাকে হ্যাকার হতে হবে আপনার নিজেরই সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য। বর্তমান যুগে প্রত্যেকের পেটে খাবার না থাকলেও থাকতে পারে, কিন্তু হাতে একটা স্মার্ট ফোন অবশ্যই রয়েছে। এর মাধ্যমে আপনি অডিও বা ভিডিও কলে বন্ধু-বান্ধব কিংবা প্রিয়জনদের সাথে যোগাযোগ করেন। এখন আপনি হয়তো আপনার প্রেমিক/প্রেমিকার সাথে গোপনে নিরিবিলি রোমান্টিক কথা বলছেন চারপাশে কেউ নেই লক্ষ্য করেই, এখন এই সমস্ত কথোপকথন যদি হ্যাকার দুজনের নেটওয়ার্ক কানেকশনের মাঝখানে বসে শুনতে থাকে, তাহলে আপ্নার্ব কেমন লাগবে? কিংবা ধরুন হ্যাকার এই সমস্ত কথোপকথন রেকর্ড করে আপনাকে ব্ল্যাক মেইল শুরু করে, তাহলেই বা ব্যাপারটি কেমন হবে? এখন আপনি যদি হ্যাকার হতেন, তাহলে নিশ্চয় আপনার ফোন যে হ্যাকারের নিয়ন্ত্রনে আছে, যা বুঝতে পারতেন এবং সেই অনুপাতে পদক্ষেপ নিতে পারতেন।

কিংবা মনে করেন, আপনার বিশেষ কোন প্রিয়জনের সাথে অন্তরঙ্গ কোন পিকচার বা ভিডিও আপনার মোবাইল থেকে হ্যাকার ট্রান্সফার করে আপনাদের দুজনের কাছে তা দেখিয়ে ব্ল্যাক মেইল শুরু করলো, সেক্ষেত্রেই বা আপনি কি করবেন? কিন্তু আপনি যদি হ্যাকার হতেন, তাহলে আপনার ফোনই হ্যাক হতো না, আর হলেও তার ব্যবস্থা নিতে পারতেন।

কিংবা ধরুন, আপনি আপনার ফোন কিংবা বাসার কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে ফেসবুক লগইন করলেন, সাথে সাথে সেই ইউজার নেম এবং পাসওয়ার্ড হ্যাকারের কাছে পৌঁছে গেল, তাহলে ব্যাপারটি কেমন হবে?

কিংবা ধরুন, আপনি ফোন অথবা বাসার ল্যাপটপ বা কম্পিউটার থেকে আপনি আপনার ব্যাংক একাউন্ট ট্রান্সফার করার জন্য ব্যাংকিং সাইটে লগইন করলেন, অমনি হ্যাকার তার কাংখিত ইউজার নেম ও পাসওয়ার্ড পেয়ে গেলো, তাহলে কি হতে পারে বুঝতে পারছেন নিশ্চয়ই।

অথবা ধরুন, আপনার বাসার পার্সোনাল ওয়াইফাই রাউটারের দখল নিয়েছে হ্যাকার। এতে কি কি সমস্যা হতে পারে, তা অনুমানও করতে পারেন না। আপনার বাসার ওয়াইফাই কানেকশন নিয়ে সে যেমন ফ্রি নেট ব্যবহার করতে পারে, অনুরূপ সেই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে আপনি কি কি করছেন, তার যাবতীয় তথ্য পর্যন্ত একজন হ্যাকার দেখতে পারে।

এবার নিশ্চয় বুঝতে পারছেন, বর্তমান যুগে নিজের প্রয়োজনেই নিজেকে একজন হ্যাকার হিসেবে গড়ে তোলা কতটা জরুরী?

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x