আমরা দেখতে পাই একটি বিভ্রান্তিকর জগতে আমাদের বাস। আমাদের সর্বদিকে আমরা যা দেখতে পাই আমরা চাই তার একটি অর্থ খুঁজতে আর প্রশ্ন করতে চাইঃ এই মহাবিশ্বের ধর্ম (nature) কি? এখানে আমাদের স্থান কি? কোথা থেকে এটা হল? আমরাই বা এলাম কোথা থেকে? পৃথিবীটা যেমন, কেন তেমন হল?

এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য আমরা একটি “বিশ্বচিত্র” (world picture) গ্রহণ করি। বহু কচ্ছপ দিয়ে তৈরি অসীম উচ্চ একটি স্তম্ভের উপর সমতল পৃথিবী স্থাপিত রয়েছে যেমন, সেরকম একটি চিত্র, অতিতন্তু (super string) তত্ত্বও তেমনি একটি চিত্র। দুটিই মহাবিশ্ব বিষয়ক তত্ত্ব তবে প্রথম তত্ত্বটির তুলনায় শেষেরটি অনেক বেশি গাণিতিক এবং স্পষ্টরূপে নির্দিষ্ট (precise)। দুটি তত্ত্বের কোনোটির সপক্ষেই পর্যবেক্ষণলব্ধ সাক্ষ্য নেই; বিরাট একটি কচ্ছপ পৃথিবীকে পিঠে করে রয়েছে এরকম কেউ কখনো দেখেনি কিন্তু একটিও অতিতন্তুও কেউ দেখেনি। তবে কচ্ছপতত্ত্ব একটি উত্তম বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব হয়ে উঠতে পারেনি, তার কারণ এ তত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণীর সঙ্গে অভিজ্ঞতা মেলেনি অবশ্য যারা বারমুডা ত্রিভূজে (Bermuda Triangle) অদৃশ্য হয়েছেন বলে অনুমান করা হয় তাঁদের সেই অদৃশ্য হওয়ার ব্যাখ্যা যদি পৃথিবীর কিনারা থেকে পড়ে যাওয়া না হয়।

মহাবিশ্বের বিবরণ দেওয়া এবং মহাবিশ্বকে ব্যাখ্যা করার প্রাচীনতম প্রচেষ্টা ছিল যে চিন্তাধারা- সে চিন্তাধারা অনুসারে ঘটনাবলী এবং স্বাভাবিক পরিঘটনা কয়েকটি সত্তার (spriti) নিয়ন্ত্রণে। তাদের ভাবাবেগ ছিল মানুষেরই মতো এবং মানুষেরই মতো ছিল তাদের ক্রিয়াকর্ম। তাদের সে ক্রিয়াকর্ম সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করা ছিল অসম্ভব। এই সত্তাগুলি নদী, পাহাড়, অন্তরীক্ষের বস্তুপিন্ড (celestial bodies) ইত্যাদি স্বাভাবিক বস্তুতে অধিষ্ঠান করতেন- এর ভিতরে চন্দ্র সূর্যও ছিল। ঋতুর আবর্তন ও জমির উর্বরতা নিশ্চিত করার জন্য তাঁদের শান্ত করা এবং তাঁদের আনুকুল্য ভিক্ষা করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু ক্রমশ নিশ্চয়ই লক্ষ্য করা গিয়েছিল কিছু কিছু নিয়মের অস্তিত্ব। যেমনঃ সূর্য সব সময়ই পূর্ব দিকে ওঠে এবং পশ্চিম দিকে অস্ত যায়। সূর্যদেবতাকে পূজা করা হোক কি না হোক তাতে কিছু এসে যায় না। তাছাড়া সূর্য, চন্দ্র এবং বিভিন্ন গ্রহ আকাশে স্পষ্টরূপে নির্দিষ্ট পথে চলে এবং তাদের চলন সম্পর্কে যথেষ্ট নির্ভুলভাবে ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব। তা সত্ত্বেও চন্দ্র, সূর্য দেবতা হতে পারেন কিন্তু সে দেবতারা কঠোর নিয়মানুবর্তী বিধি মেনে চলেন- মেনে চলেন আপাতদৃষ্টিতে কোনো রকম ব্যতিক্রম ছাড়াই। অবশ্য যদি জোসুয়ার (Joshua) অন্য সূর্যের থেমে যাওয়ার কাহিনী বিশ্বাস না করা যায়।

প্রথমে এই নিয়ম এবং বিধিগুলি শুধুমাত্র জ্যোতির্বিজ্ঞান এবং অন্যান্য কয়েকটি পরিস্থিতিতে সুস্পষ্ট ছিল। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে গত তিনশ বছরে, ক্রমশ বেশি বেশি নিয়ম আবিষ্কৃত হয়েছে। এই সমস্ত বিধির সাফল্যের ফলে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে লাপ্লাস বৈজ্ঞানিক নিমিত্তবাদ (scientific determinism) নামক স্বীকার্য (postulate) মেনে নেন। তাঁর বক্তব্যের ইঙ্গিত ছিলঃ যে কোনো এক সময়ে মহাবিশ্বের গঠন জানা থাকলে মহাবিশ্বের বিবর্তন নির্দিষ্ট স্পষ্টরূপে (precisely) নির্ধারণ করে এরকম এক কেতা বিধির (set of laws) অস্তিত্ব থাকবে।

লাপ্লাসের নিমিত্তবাদের দুটি অসম্পূর্ণতা ছিল। এই নিমিত্তবাদ বলেনি কিভাবে বিধিগুলি বেছে নেওয়া হবে, তাছাড়া পৃথিবীর প্রাথমিক গঠন (configuration) কি রকম ছিল সেটাও নির্দিষ্টভাবে বলেনি। এগুলি ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল ঈশ্বরের উপর। ঈশ্বরই ঠিক করবেন পৃথিবী কিভাবে শুরু হয়েছিল এবং কি কি বিধি মহাবিশ্ব মেনে নিয়েছিল কিন্তু মহাবিশ্ব একবার শুরু হওয়ার পর তিনি আর হস্তক্ষেপ করবেন না। কার্যত যে সমস্ত অঞ্চল ঊনবিংশ শতাব্দীর বিজ্ঞানের বোঝার ক্ষমতার অতীত ছিল সেই সমস্ত অঞ্চলেই ঈশ্বরকে বন্দী করে রাখা হয়েছিল।

আমরা এখন জানি লাপ্লাসের নিমিত্তবাদের আশা বাস্তবায়িত হতে পারে না। অন্ততপক্ষে যে শর্তাবলী তাঁর মনে মনে ছিল সে শর্তাবলী অনুসারে তো নয়ই। কণাবাদী বলবিদ্যার অনিশ্চয়তার নীতির নিহিতার্থ হলঃ একটি কণার অবস্থান এবং গতিবেগের মতো কয়েকটি সংখ্যার জোড়ের (pairs of quantities) দুটি সম্পর্কে সম্পূর্ণ নির্ভুল ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়।

কণাবাদী বলবিদ্যা এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করে এক শ্রেণীর কণাবাদী তত্ত্বের মাধ্যমে। এই তত্ত্বগুলিতে কণাগুলির যথাযথ ভাবে নির্ধারিত অবস্থান এবং গতিবেগ থাকে না, এগুলির প্রতিনিধিত্ব করে একটি তরঙ্গ। এই কণাবাদী তত্ত্বগুলি নিমিত্তবাদী (deterministic) অর্থাৎ তারা কালের সঙ্গে তরঙ্গের বিবর্তনের বিধি প্রদান করে। সুতরাং একটি কালে তরঙ্গটিকে জানা থাকলে অন্য একটি কালে সেটিকে গণনা করা যেতে পারে। ভবিষ্যদ্বাণীর অতীত এলোমেলো উপাদান তখনোই আসে যখন আমরা চেষ্টা করি কণিকার অবস্থান এবং গতিবেগের বাগ্বিধিতে তরঙ্গকে ব্যাখ্যা করতে। হয়তো সেটা আমাদেরই ভুলঃ হয়তো কণিকার অবস্থান এবং গতিবেগ বলে কিছু নেই, আছে শুধু তরঙ্গ। আমরা তরঙ্গগুলিকে শুধুমাত্র আমাদের পূর্বকল্পিত অবস্থান এবং গতিবেগের ধারণার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে চেষ্টা করি। তার ফলে খাপ খাওয়ানোতে যে গোলমাল হয় সেটাই ভবিষ্যদ্বাণীর অতীত হওয়ার আপাতদৃষ্ট কারণ।

কার্যত আমরা বিজ্ঞানের কর্তব্য পুননির্ধারণ করেছি। সে কর্তব্য হল এমন বিধি আবিষ্কার করা যার সাহায্যে আমরা অনিশ্চয়তার বিধি দ্বারা নির্ধারিত সীমান্ত পর্যন্ত ঘটনাবলী সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারব। কিন্তু প্রশ্নটি থেকে যায়ঃ মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থা এবং বিধিগুলি বেছে নেওয়া হয়েছিল কি করে এবং কেন?

যে বিধিগুলি মহাকর্ষ নিয়ন্ত্রন করে এই বইয়ে সেই বিধিগুলির উপর আমি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছি। তার কারণ, চার জাতীয় বলের ভিতরে মহাকর্ষ সবচাইতে দুর্বল হলেও মহাকর্ষই বৃহৎ মানে (large scale) মহাবিশ্বের গঠন নির্ধারণ করে। প্রায় আধুনিক কাল পর্যন্ত ধারণা ছিল কালের সঙ্গে মহাবিশ্বের কোনো পরিবর্তন হয় না। এই চিন্তাধারার সঙ্গে মহাকর্ষীয় বিধি খাপ খায় না। মহাকর্ষ যে সব সময়ই আকর্ষণ করে এই ঘটনার অর্থঃ মহাবিশ্ব হয় প্রসারিত হচ্ছে নয়তো সংকুচিত হচ্ছে। ব্যাপক অপেক্ষবাদ অনুসারে অতীতে একটি অসীম ঘনত্বের অবস্থা নিশ্চয়ই ছিল এবং ছিল বৃহৎ বিস্ফোরণ (Big Bang)। সেটা হোত কালের কার্যকর আরম্ভ। একইভাবে বলা যায় সমগ্র মহাবিশ্ব আবার চুপসে গেলে ভবিষ্যতে আর একটি অসীম ঘনত্বের অবস্থা আসবে। সেটা হবে বৃহৎ সঙ্কোচন (big crunch) এবং সেটাই হবে সময়ের অন্ত। যদিও সমগ্র বিশ্ব আবার নাও চুপসে যায় তাহলে যে কোনো স্থানিক অঞ্চলে অনন্যতা দেখা দেবে এবং সেটা চুপসে গিয়ে কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি করবে। এই কৃষ্ণগহ্বরগুলির ভিতরে যারা পড়বে তাদের ক্ষেত্রে সেই পতন হবে কালের অন্তিম। বৃহৎ বিস্ফোরণে এবং অন্যান্য অনন্যতাগুলিতে সমস্ত বিধি ভেঙ্গে পড়ে সুতরাং কি ঘটেছিল এবং কিভাবে মহাবিশ্ব শুরু হয়েছিল সে ব্যাপারে ঈশ্বরের তখনো সম্পূর্ণ স্বাধীনতা থাকে।

কণাবাদী বলবিদ্যার সঙ্গে ব্যাপক অপেক্ষবাদ সংযুক্ত করলে এমন একটি সম্ভাবনা মনে আসে যে সম্ভাবনা আগে ছিল না। যেমনঃ স্থান এবং কাল একত্রে অনন্যতাবিহীন এবং সীমানাবিহীন অথচ সীমিত এবং চার মাত্রিক স্থান গঠন করতে পারে। সেটা হবে পৃথিবী পৃষ্ঠের মতো কিন্তু তার মাত্রা (dimension) হবে বেশি। মহাবিশ্বে যে সমস্ত অবয়ব পর্যবেক্ষণ করা যায় তার অনেকগুলিই মনে হয় সেই চিন্তন দিয়ে ব্যাখ্যা করা যায়- যেমন বৃহৎ মাত্রায় (large scale) সমরূপতত্ত্ব এবং স্বল্পতর মাত্রায় (small scale) সমরূপ তত্ত্ব থেকে বিচ্যুতি- যেম্ন নীহারিকা, তারকা এবং মানুষ। আমরা যে কালের তীর দেখতে পাই সেটাও হয়তো এই চিন্তন ব্যাখ্যা করতে পারে। কিন্তু মহাবিশ্ব যদি সম্পূর্ণ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়, যদি কোন অনন্যতা (singularities) কিম্বা সীমানা না থাকে এবং যদি একটি ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বের সাহায্যে তার বিবরণ দেওয়া যায়, তাহলে স্রষ্টা ঈশ্বরের ভূমিকা সম্পর্কে তার নিহিতার্থ হয় গভীর।

আইনস্টাইন একবার প্রশ্ন করেছিলেন- “মহাবিশ্ব গঠনে ঈশ্বরের কতটুকু স্বাধীনতা (choice)ছিল?” যদি সীমানাহীনতার প্রস্তাব নিরভু হয় তাহলে প্রাথমিক অবস্থা নির্বাচনে প্রায় কোনো স্বাধীনতাই তাঁর ছিল না। তা সত্ত্বেও অবশ্য যে বিধিগুলি মহাবিশ্ব মেনে চলবে সে বিধিগুলি নির্বাচনের স্বাধীনতা তাঁর থাকত কিন্তু বাস্তবে বেছে নেওয়ার এ স্বাধীনতাও হয়তো খুব বেশি একটা কিছু হতো না। হয়তো হেটারোটিক (heterotic) তন্তুতত্ত্বের মতো শুধুমাত্র একটি কিম্বা সামান্য কয়েকটি সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব থাকত, সেগুলির হয়তো অন্তর্নিহিত সামঞ্জস্য থাকত এবং সে তত্ত্ব হয়তো মানুষের মতো জটিল গঠনের জীবের অস্তিত্ব অনুমোদন করত। সে মানুষ এমন জীব যে তারা মহাবিশ্বের বিধি অনুসন্ধান করতে পারে এবং ঈশ্বরের ধর্ম (nature of God) নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে।

যদি একটিই সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব থাকে তাহলে সেটাও হবে কয়েক কেতা নিয়ম এবং সমীকরণ (set of rules and equations)। কি এই সমীকরণগুলিকে জীবনদান করে এবং তাদের জীবন দান করার জন্য মহাবিশ্ব সৃষ্টি করে? বিজ্ঞানের সাধারণ পদ্ধতি হল একটি গাণিতিক প্রতিরূপ গঠন করা। কিন্তু সে প্রতিরূপ এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে নাঃ প্রতিরূপ বিবরণ দিবে সেইজন্য একটি মহাবিশ্ব থাকবে কেন? অস্তিত্বের ঝামেলা মহাবিশ্ব কেন নিতে গেল? ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব কি এমনই ক্ষমতাশালী (compelling) যে সে নিজেরই অস্তিত্ব নিয়ে আসতে পারে? না কি এর জন্য একটি স্রষ্টা দরকার? তাই যদি হয় তাহলে মহাবিশ্বের উপর তাঁর আর কি অভিক্রিয়া থাকতে পারে? তাছাড়া তাঁকে কে সৃষ্টি করেছিল?

এখন পর্যন্ত অধিকাংশ বৈজ্ঞানিকরা মহাবিশ্বের প্রকৃতি নিয়ে তত্ত্ব গঠনে ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু কেন এই মহাবিশ্ব- এ প্রশ্ন করার সময় তাঁদের হয়নি। অন্যদিকে এ প্রশ্ন করা যাঁদের কাজ সেই দার্শনিকরা বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের অগ্রগতির সঙ্গে তাল রাখতে পারেন নি। অষ্টাদশ শতাব্দীতে দার্শনিকরা ভাবতেন বিজ্ঞান তথ্য সমগ্র জ্ঞান ভান্ডারই তাঁদের কর্মক্ষেত্র। তাঁরা এই ধরনের প্রশ্ন করতেনঃ মহাবিশ্বের কি কোন আরম্ভ ছিল? কিন্তু ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীতে বিজ্ঞান হয়ে দাঁড়াল অতিরিক্ত গাণিতিক এবং বিশেষ রকম প্রযুক্তিবিদ্যা ভিত্তিক। সেইজন্য কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ছাড়া দার্শনিক কিম্বা অন্য যে কোন মানুষের কাছেই সে বিজ্ঞান হয়ে দাঁড়াল অনধিগম্য। দার্শনিকরা তাঁদের অনুসন্ধানের ক্ষেত্র এতই কমিয়ে আনলেন যে এই শতাব্দীর সবচাইতে বিখ্যাত দার্শনিক উইটগেনস্টাইন (Wittgenstein) বলছেন- “দর্শনের কর্মক্ষেত্রের ভিতরে একমাত্র অবশিষ্ট ক্ষেত্র ভাষা বিশ্লেষণ”। অ্যারিস্টটল ও কান্টের বিরাট ঐতিহ্যের কি অধঃপতন।

কিন্তু আমরা যদি সম্পূর্ণ একটি তত্ত্ব আবিষ্কার করি তাহলে শুধুমাত্র কয়েকজন বৈজ্ঞানিকেরই নয়, কালে কালে সে তত্ত্ব বোধগম্য হওয়া উচিৎ সবার, অন্ততপক্ষে বোধগম্য হওয়া উচিৎ সে তত্ত্বের মূল রেখাগুলি। তাহলে আমরা, দার্শনিকরা, বৈজ্ঞানিকরা, এমন কি সাধারণ মানুষরাও এই আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারবঃ আমাদের এবং মহাবিশ্বের অস্তিত্বের কারণ কি? আমরা যদি এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই তাহলে সেটাই হবে মানবিক যুক্তির চূড়ান্ত জয়- তার কারণ তখন আমরা জানতে পারব ঈশ্বরের মন।

ঝগড়া বেড়ে চলছিল। সেই সময় লীবনিজ একটি ভুল করলেন। তিনি ঝগড়া মেটানোর জন্য অ্যাপীল করলেন রয়্যাল সোসাইটির কাছে, প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিউট্রন অনুসন্ধানের জন্য একটি ‘নিরপেক্ষ’ কমিটি গঠন করেন। ঘটনাচক্রে কমিটির সবাই ছিলেন নিউটনের বন্ধু। কিন্তু এটাই সব নয়। তারপর নিউটন কমিটির রিপোর্টটি নিজেই লেখেন এবং রয়্যাল সোসাইটিকে দিয়ে প্রকাশ করান। সরাসরিভাবে লিবনিজকে কুম্ভিলক (plagiarist) বলে অপরাধী সাব্যস্ত করা হয়। এতেও খুশী না হয়ে নিউটন রয়্যাল সোসাইটির নিজস্ব পত্রিকায় লেখকের নাম না দিয়ে ঐ রিপোর্টের একটি সমালোচনা প্রকাশ করেন। শোনা যায়, লীবনিজের মৃত্যুর পর নিউট্রন বলেছিলেন- “লীবনিজের মন ভেঙ্গে দিয়ে (breaking his heart) তিনি খুব খুশী হয়েছেন।

এই দুটি দ্বন্দ্বের আগেই নিউট্রন কেমব্রিজ এবং পণ্ডিত সমাজ ত্যাগ করেছেন। তিনি কেমব্রিজে এবং পরবর্তীকালে পার্লামেন্টে ক্যাথলিক বিরোধী রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। পুরস্কারস্বরূপ তাঁকে রাজকীয় টাঁকশালের (Royal Mint) ওয়ার্ডেন (Warden) পদ দেওয়া হয়। এই পদে প্রচুর অর্থাগমের সুযোগ ছিল। এই পদে থাকার সময় তিনি তাঁর কুটিলতা এবং তীব্র সাফল্যের সঙ্গে জালিয়াতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন এবং বেশ কয়েকজনকে প্রাণদন্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x