বহু বিখ্যাত ও অখ্যাত সাধু-সন্ন্যাসী বা জীবন্ত ভগবানের সম্বন্ধে শুনেছি, তাঁরা অনেক দুরারোগ্য রোগ সারাতে পারেন। এমনকি যে সব ধরনের ক্যান্সারের চিকিৎসা আজও আবিষ্কৃত হয়নি, এইসভ সাধু জনেরা তাও আরোগ্য করতে সক্ষম। এই সব অবতারেরা যখন কঠিন রোগে আক্রান্ত হন, তখন শোনা যায় ভক্তের কঠিন রোগ গ্রহণ করার জন্যেই নাকি অবতারের এই অবস্থা।

গৌরাঙ্গ ভারতী একটা অদ্ভুত রোগে দীর্ঘ দিন ধরে অসুস্থ। হেঁচকি রোগ। যখন-তখন অনবরত হেঁচকি ওঠে। তিনি নিজেই আমাকে বলেছিলেন, অনেক বড়-বড় ডাক্তার দিয়ে নাকি চিকিৎসা করিয়েছেন। কিন্তু কোন ফল পাননি। জিজ্ঞেস করেছিলাম, “আপনি তো ভক্তদের যে কোন রোগই সারিয়ে দেন বলে শুনেছি, তবে কেন নিজে ভুগছেন?”

“রামকৃষ্ণ কি নিজের অসুখ সারাতে পারতেন না? তিনি কেন সারালেন না, কারণ একটাই। মা যখন রোগ-ভোগ দিয়েছেন তখন নিশ্চয়ই ভোগ করব। অন্যের হয়ে মায়ের কাছে বলার জন্য ওকালতনামা নিয়েছি। নিজের কিছু চাওয়ার জন্য নয়,” বলেছিলেন গৌরাঙ্গ ভারতী।

ওই ধরনের সুন্দর পাশকাটানো জবাব যেমন অনেকে দেন তেমনি সাঁইবাবা বা অনুকূলচন্দ্র ঠাকুরের মতো অনেকের সম্বন্ধেই ভক্তরা দাবি করেন- এঁদের অসুস্থতার কারণ ভক্তের রোগ গ্রহণ। সাঁইবাবার একবার অ্যাপেন্ডিসাইটিস অপারেশন করা হয়। ভক্তরা অনেকেই বিশ্বাস করেন, এক ভক্তের রোগগ্রস্থ অ্যাপেন্ডিক্সের সঙ্গে নিজের সুস্থ অ্যাপেনডিক্সের অদল-বদল করে নিয়েছিলেন সাঁইবাবা। হায় অন্ধ বিশ্বাস!

তাঁরা ভেবে নিলেন অলৌকিক ক্ষমতায় বিনা অস্ত্রোপচারেই অ্যাপেন্ডিক্স বদল হয়ে গেল। যিনি চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এতো বড় একটা অলৌকিক ঘটনা ঘটাতে পারলেন, তিনি নিজের অ্যাপেনডিক্সের সামান্য প্রদাহটুকু বন্ধ করতে পারলেন না, এটাই আমাকে আরও বেশি আশ্চর্য করেছে।

যিনি অন্যের রোগ সারাতে পারেন, তিনি কেন নিজের রোগ সারাতে পারেন না? ভক্তদের মনের এই প্রশ্ন ও সংশয়ের নিরসনের জন্যই বাবাজিদের এই সব রোগ গ্রহণের মতো গালগল্পের আশ্রয় নিতে হয়।

এর পরেও অবশ্য কেউ কেউ বলতে পারেন, অমুক সাধুর দেওয়া ওষুধে তাঁর অসুখ সেরেছে। আমি বলি, নিশ্চয়ই সারতে পারে। সাধু বলে কি তাঁর চিকিৎসা করার জ্ঞান থাকতে নেই? এর মধ্যে অলৌকিকত্ব কোথায়?

0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x